উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
নড়াইলে ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীর হাতে পুরস্কার বিতরণ। বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯৯ তম জন্মজয়ন্তী-২০২৩ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী, জেলা প্রশাসক, নড়াইল। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল)
প্রতি বছরের ন্যায় নড়াইল জেলায় অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াইয়ে ছিল হাজারও মানুষের ঢল। পুলিশ সুপার মোহাঃ মেহেদী হাসান অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে মঞ্চে বসে ষাঁড়ের লড়াই উপভোগ করেন। খেলা শেষে বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
এ সময় নড়াইল জেলার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীসহ জেলার সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
Category: দেশজুড়ে
-

নড়াইলে ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীর হাতে পুরস্কার বিতরণ
-

স্বরূপকাঠিতে ধর্ষনের অভিযোগে চেয়ারম্যানের ভাগনে গ্রেফতার
আনোয়ার হোসেন,
স্বরূপকাঠি উপজেলা প্রতিনিধি//স্বরূপকাঠিতে ধর্ষনের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাগনে মেহেদি হাসান বাপ্পি শেখ কে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে সমুদয়কাঠী ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন বেপারীর বাড়ীর পেছন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে থানায় নিয়মিত ধর্ষন মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতাকৃত বাপ্পিকে আদালতে প্রেরন করেন।
পুলিশ ধর্ষিতাকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর সিভিল সার্জন অফিসে প্রেরণ করেেছন।
নেছারাবাদ থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার জুলুহার গ্রামের জনৈক তালুকদার এর স্ত্রী তার দুই সন্তানকে ঘরে রেখে ছোট বাচ্চার জন্মনিবন্ধন করানোর জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যান। এ সুযোগে একই এলাকার মোঃ মজিবর রহমান শেখ এর ছেলে মেহেদি হাসান বাপ্পি শেখ ঘরে ঢুকে আমার বড় মেয়েকে ধর্ষন করে।
মা বাড়ীতে এসে মেয়েকে অসুস্থ দেখে প্রতিবেশীদের পরামর্শে মেয়েকে চিকিৎসা করানোর জন্য দ্রুত কাউখালী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিলে তারা প্রথমে কাউখালী থানায় যায়। ঘটনা স্বরূপকাঠির হওয়ায় তারস তাদেরকে নেছারাবাদ থানায় পাঠিয়ে দেয়। নেছারাবাদ থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেন। এর পূর্বে ঘটনার কথা জানতে পেরে নেছারাবাদ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং ধর্ষক বাপ্পি তার মামা হুমায়ুন চেয়ারম্যান এর বাড়ীতে আছে খবর পেয়ে পুলিশ চেয়ারম্যান বাড়ীতে গেলে ওই বাড়ী থেকে পালানোর সময় বাড়ীর পেছনের বাগান থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ইন্সপেক্টর এইচ এম শাহিন জানান, পুলিশ খবর দ্রুত সময়ের মধ্যে ধর্ষককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। নিয়মিত মামলা রুজু করে আসামী মেহেদি হাসান বাপ্পি শেখকে আদালতে এবং ধর্ষিতাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর সিভিল সার্জন অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে।
-

গোদাগাড়ীতে চাঁদাবাজি মামলায় প্রভাবশালী দলের দুই যুবক গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে দুই যুবক। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো উপজেলার প্রেমতলী কাঠালবাড়িয়া এলাকার মৃত্যু আব্দুল হামিদ বাবুর ছেলে হাফিজুর রহমান সনি (২৬) ও একই এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে জাহিদুল ইসলাম সোহাগ (২৮)।
ওই ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মাহাফুজ হোসেন মঙ্গলবার রাতে ৬ জন আসামীর নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ৩ জনের নামে গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং ৪৯। মামলার আসামীরা সকলেই ওই এলাকার স্থানীয় ও ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে জড়িত।
মামলার অন্য আসামীরা হলেন, আব্দুল হামিদ সাবুর ছেলে মোজাহিদুল রহমান শফিউর রহমান শুভ (৩০), আব্দুর বারী সরকারের ছেলে দিনার বারিক(, আব্দুল বারিকের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বদর ও তোফাজ্জলের ছেলে সোহলে রানা (৩৫)। মামলার বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, বরিশাল জেলার ‘রুপালি কনস্ট্রাকশন এ্যান্ড সাদ এন্টার প্রাইজ (জেবি) নামীয় কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ম্যানেজার গোদাগাড়ী থানাধীন গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (প্রেমতলী) এর নতুন বিল্ডিং নির্মান কাজ পরিচালনা করছি। “রুপালি কনস্ট্রাকশন এ্যান্ড সাদ এন্টার প্রাইজ (জেবি)” নামীয় প্রতিষ্ঠানের হয়ে নতুন বিল্ডিং নির্মান কাজ পরিচালনা করা কালীন বিভিন্ন সময় আসামীগণ আমার নিকট এসে বিভিন্ন অংকের চাঁদা দাবী করে আসছিল।
সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল সকাল অনুমান ১০ টার দিকে আসামীরা আমার নিকট এসে ২ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামী মোঃ শফিউর রহমান শুভ আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আরো লোক আনার জন্য চলে যায়। আমি জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর আসামীরা একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে আবার প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্মানাধীন ভবনে আসে এবং নিকট পুনঃরায় ২ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে।
চাঁদা দিতে পুনঃরায় অস্বীকার করলে শফিউর রহমান শুভ আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার গলায় চাপ দেয়। আমি গোঙ্গাইতে থাকি। আমাকে বাঁচানোর জন্য আমার সাইডের ম্যানেজার মাহাবুব ইসলাম মুন্না এগিয়ে আসেন। তখন আসামী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বদর আমার সাইডের ম্যানেজার মাহাবুব ইসলাম মুন্নাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গলা চেপে ধরে।
আমাদের গঙ্গানি গুণে কর্মরত অন্যান্য শ্রমিকরা এগিয়ে আসেন এবং আমাদের নিশ্চিত মৃত্যু হাত থেকে রক্ষা করেন। আসামী হাফিজুর রহমান সনি আমার পকেটে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা চাঁদা হিসেবে বাহির করে নেয় এবং বলতে থাকে যে, ‘আপাতত এই ১০ হাজার টাকা চাঁদা হিসেবে নিলাম, আমাদের চাঁদা না দিলে তোরা এলাকা ছেড়ে চলে যা, তারপর আমি ঠিকাদারকে দেখছি, ইত্যাদি।”
স্থানীয় লোকজন আসামী মোজাহিদুল রহমান সোহাগ ও মোঃ হাফিজুর রহমান সনিকে আটক করেন। আমরা প্রাণ ভয়ে ঘটনাস্থলের পার্শ্বেই আমার ভাড়া বাসায় (জনৈক মোঃ বাবুর বাড়ি) প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেই এবং পুনঃরায় জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল করি। তখন পুনঃরায় পুলিশ আসে।
পুলিশ আসামীমোজাহিদুল রহমান সোহাগ ও মোঃ হাফিজুর রহমান সনিকে গ্রেপ্তার করে। তাছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল হতে আসামীদের ব্যবহৃত TVS APACHE RTR 4V 160 CC মোটর সাইকেল ও চাঁদা হিসেবে গ্রহণকৃত নগদ ১০হাজার টাকা উদ্ধার করে।
একই দিনে বিকেলে আসামী শফিউর রহমান শুভর নেতৃত্বে অন্যান্য আসামীরা আমার ভাড়া বাসায় আসেন এবং ভাড়ার বাসার দরজা জানালা ভেঙ্গে অনুমান এক লাখ টাকার ক্ষতি করে বাসায় প্রবেশ করে শফিউর রহমান শুত আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পুনঃরায় আমার গলা চেপে ধরে। আমাদের ডাক-চিৎকারে আশে-পাশের লোকজন ও স্থানীয় পুলিশ এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে।
আসামীরা চাঁদা না দিলে ভবিষ্যতে আমাকে খুন করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেন, দায়েরকৃত মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী -

মরনবাধ ও ভারতের বৈরী আচরণের প্রভাবে মহানন্দা নদীর বেহাল দশা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফিরে মোঃ হায়দার আলী।। মরনবাঁধ ফারাক্কা ও ভারতের বৈরী আচরনে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন এলাকায় মহানন্দা নদী এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। নদী জুড়ে পানির বদলে এখন বালুর চর। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পূণর্ভবা-মহানন্দা নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। খনন না করায় পলি জমে ভরাট হয়ে নৌ-চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
ব্যবসা-বাণিজ্য ভাটা পড়ে দিন দিন অর্থনীতি পঙ্গু, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদনে দারুণ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়াতে আজ ৪টি উপজেলাবাসীর জন্য এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪টি উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী তাদের প্রধান সমস্যা পূণর্ভবা-মহানন্দা নদী সংস্কার; কিন্তু সংস্কারের কোন বাস্তব পরিকল্পনা নেয়া হয়নি। ফলে খাল-বিল শুকিয়ে যাচ্ছে। নলকূপে পানি না পেয়ে সেচের অভাবে উপজেলার হাজার হাজার একর জমির ফসল উঠাতে দ্বিগুন খরচ করে কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়।
পানির খরচ যোগাতে মহাজনদের নিকট চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কৃষকরা অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। অনেক কৃষক হালের বলদও বিক্রয় করে ঋণ পরিশোধ করে সংসার চালাচ্ছে। এভাবে পূণর্ভবা-মহানন্দা নদীর উপর নির্ভরশীল ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, নাচোল ও সদর উপজেলার অর্থনীতি দিনদিন ঝিমিয়ে পড়চ্ছে। ভোলাহাট, পোল্লাডাঙ্গা, মুশরীভূজা, দলদলী, আলমপুর, কাশিয়াবাড়ী, শামপুর, ব্রজনাথপুর, আলিনগর, মকরমপুর, গোমস্তাপুর, চৌডালা, মুল্লিকপুর, গোবরাতলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মহানন্দা নদী চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহনপুরে পদ্মা নদীতে গিয়ে মিশেছে। এদিকে মহানন্দা নদী দিয়ে বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে পলি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে পানি উপচিয়ে নদীর উভয় তীরের আবাদী ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
অপরদিকে, পলি ও বালি এসে ফসলি জমি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বালি চাপা পড়ে জমির ফসল অনাবাদী হয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ী ঢলের সাথে বালু এসে প্রায় ৪০ কিঃ মিঃ উত্তর-দক্ষিণ দিকে গোমস্তাপুর, মল্লিকপুর, চৌডালা, মকরমপুর, আলিসাহাপুর, ভোলাহাট পর্যন্ত পলি জমে মহানন্দা নদীর বিলীন হতে চলেছে। এদিকে, চলতি শুকনো মওসুমে রোকনপুর থেকে ১১ মাইল দীর্ঘ কাজিগ্রাম পর্যন্ত বর্ষাকালে লঞ্চ চলাচল করে। অন্য সময় উক্ত এলাকাবাসীর বিকল্প পথ হিসেবে বাসে যাতায়াত করে। মহানন্দা নদীতে পানির অভাবে ৪টি উপজেলার প্রায় হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মার খাচ্ছে। নদী দুটি শুকিয়ে যাবার কারণে পাওয়ার পাম্পগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, মরণ বাঁধ ফারাক্কার প্রভাবও কম দায়ী নয় বলে এলাকাবাসী জানান।
ফারাক্কা-তিস্তা আর মহানন্দা নদীর উজানে ভারতের বাঁধ সমগ্র উত্তরাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিণত করেছে। এছাড়াও ডাহুক, গোবরা,ভেরসা চাওযাই,করতোয়া, তিরনই, রনচন্ডি’র মত অনেক ছোট ছোট নদী এসেছে সরাসরি ভারত থেকে। সবগুলো নদীর মুখে বাঁধ দিয়ে আটকিয়ে দিয়েছে নদীর পানির ধারাকে। এর মধ্যে বড় নদী হল মহানন্দা আর করতোয়া। ছোট নদী গুলো একপ্রকার অস্তিস্থহীন হয়ে পড়েছে। আর বড় নদী মহানন্দা, তিস্তা আর করতোয়া পরিনত হয়েছে মরা খালে। এসব নদী থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্প পানিকে বাঁধ দিয়ে আটকিয়ে শত শত কিলোমিটার ক্যানেল তৈরী করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কৃষিতে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করেছে ভারত। পানি প্রবাহ না থাকায় পাহাড়ী কন্যা খ্যাত এই নদীতে ভেসে আসা পাথর উত্তোলন করে তেতুলিয়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষ জীবিকা করতো। কিন্তু ভারতের শিলিগুড়িতে মহানন্দা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রিত করায় এখন পাথর আসে না বললেই চলে। এ কারনে তেতুলিয়া সদর হতে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত নদীপথে দুরত্ব হচ্ছে প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এ নদী খনন করে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। এর আগে পানিতে ডুবে উত্তোলন করা হতো পাথর। আর বর্তমানে পানি না থাকায় বালু কেটে মাটি খনন করে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। এতেও গোস্বা বন্ধু প্রতিম বলে পরিচিত ভারত সরকারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। বাংলাদেশী অংশে পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিকদের উপর গুলি চালিয়ে পাথর উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি করে থাকে।
নদী তীরবর্তী প্রবীণরা বলেছেন এইতো ষাট সত্তর বছর আগের কথা যেখানে ছিল বিস্তৃত পানির ধারা। যার বিশাল স্রোতধারা আমাদের করতো সঞ্জিবিত সিক্ত। যা ছিল জীবন দায়িনী। কৃষি যোগাযোগ ,মৎস আর জীব বৈচিত্রতা ও আর্থিক উৎসের আধার। সব যেন কোথায় হারিয়ে গেল। কি ছিল আার কি হল। কি ভয়ংকর বৈপরিত্য। এক সময়ের চাঞ্চল্য চির যৌবনা আর দুরন্ত হয়ে ছুটে চলা মহানন্দা তিস্তা এখন মরা নদীর নাম। অথচ একদিন যেখানে ছিল ছড়িয়ে পড়া আদিগন্ত বিস্তৃত পানির ধারা। সারা বছর এ নদীতে একুল-ওকুল ভরা ছিল পানিতে। মহানন্দা নদীর মাছ ছিল খুবই প্রিয়। প্রতিদিন এলাকার মানুষ দুপুর বেলা গোসল করতে নামতো নদীতে। গোছল করতে গিয়ে শোল, বোয়াল, রুই কাতলা আরো দেশী মাছ ধরা পড়তো জালে। কিন্তু আজ সেই মাছ কোথায় জানি হরিয়ে গেছে। এখন যেখানে একই রুপের মরিচীকা সাদৃশ্য বালিচরের বিস্তার। চলতি শুস্ক মৌসুমে মহানন্দার পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় নদীটি ইতোমধ্যে মরা নদীতে পরিনত হয়েছে। ভরা বর্ষায় মাস তিনেক পানি থাকার পর ফের দ্রæত শুকিয়ে যাচ্ছে।কারন একটাই অন্যান্য নদীর মত মহানন্দা নদীর উৎস মুখ উপর ভারতের ফুলবাড়িতে ভারতের বিশাল ব্যরেজ নির্মাণ। এ ব্যরেজ দিয়ে বিশাল আকারে বাঁধ নির্মাণ করে নদীর গতিধারাকে একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে। এ নদীর পানি বিকল্প নদী খনন করে নিজ দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত করে আবার ভারতের অভ্যন্তর গিয়ে পানিকে নিস্কাশন করে । এতে করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে মূল নদী তা এখন বালুচরে পরিনত হয়ে গেছে।
ভারত তার পানি আগ্রাসী নীতিতে গঙ্গায় ফারাক্কা ব্যারেজ দিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলের পরিবেশের মহা বিপর্যয় ডেকে এনে ক্ষান্ত হয়নি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেও মহানন্দা নদীর উপর ব্যরেজ নির্মাণ করে পঞ্চগড় জেলাকে মরুভুমিতে পরিনত করে দিয়েছে। ভারতের হিমালয় থেকে বয়ে আসা মহানন্দা নদী বাংলাদেশের সর্বোত্তরে বাংলাবান্ধা জিরো লাইন ঘেষে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এ নদীর উৎস মুখে ভারতের অসংখ্য ব্যারেজ আর ড্যাম নির্মান করে পানি আটকানো হচ্ছে। সেই পানি ক্যানেলের মাধ্যমে সরিয়ে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিতে বিল্পব সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব বাঁধ ব্যরেজ পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে যে টুকু পানি এসেছে তার উপরও খড়গ বসাতে একটুও দ্বিধা করেনী বন্ধু প্রতিম নামক প্রতিবেশী ভারত। মানেনি কোন আন্তর্জাতিক আইন কানুন নীতি ও মানবাধিকারের বিষয়গুলো। প্রায় সীমান্তে ঘেষা মহানন্দার উপর ফুলবাড়ি এলাকায় ব্যরেজ দিয়ে পানি আটকে কয়েকটি শাখা নদী হত্যা করেছে। বাংলাদেশকে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলকে শুকিয়ে মারার চক্রান্ত নিয়ে এগিয়ে চলেছে। যার কু-প্রভাবে তেঁতুলিয়ার কয়েকটি নদী তার অস্তিত্বকে হারিয়েছে। সীমান্তের এলাকার লোকজনদের কখনো মাছ কিনে খেতে হতো না সে সময়। মহানন্দা নদীর মাছ এলাকার মাছের চাহিদা পুরণ করে বিক্রিও করতো এলাকার বাইরে জেলা শহরেও ।
এ ব্যাপারে পরিবেশবিদরা বলেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে ভারতের একগুয়েমী সিদ্ধান্ত। নদীর উপর ব্যরেজ নির্মাণ করে বাংলাদেশকে মরুভ’মিতে পরিনত করা। ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও রিতিনিতী এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে অভিন্ন নদীর পানি সরানোর অধিকার রাখেনা। পানি বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার। আইনী লড়াই করে যেমন সমুদ্র অধিকার আদায় করেছি। তেমনি নদীর উৎস্য সংশ্লিস্ট দেশগুলোর সাথে আলাপ করে নদীর পানির সমস্যার সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে অভিন্ন নদীগুলোর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। আর এমন দাবি এখন সর্বত্রই।
মহানন্দা: জেলার ভোলাহাট উপজেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মহানন্দা নদী রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরটি মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত। মহানন্দা নদী ভারত ও বাংলাদেশের একটি নদী। এর উৎপত্তিস্থল হিমালয় পর্বতের ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং জেলার অংশে। এখান থেকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর পর আবার পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায় প্রবেশ করে, ও পরে আবার বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জ জেলা শহরের কাছে প্রবেশ করে পদ্মা নদীর সাথে মিলিত হয়। বৃষ্টির পানি এই নদীর প্রবাহের প্রধান উৎস। ফলে গরম কাল ও শীতকালে নদীর পানি কমে যায়, আর বর্ষা মৌসুমে নদীর দুই কুল ছাপিয়ে বন্যা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মহানন্দা নদীর অংশটির দৈর্ঘ্য ৩৬ কিমি।
পৌরসভার সব ড্রেনের পানি গিয়ে পড়ছে মহানন্দা নদীতে; দূষিত হচ্ছে নদী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের খালঘাটে ফেলা হচ্ছে সমস্ত বর্জ্য। এতেও নদীর তীর দূষিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ ‘ক’ অনুচ্ছেদে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণ ও উন্নয়ন আইন-এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানের কথা।
এছাড়াও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন-২০১৩ নামে একটি আইন সংসদে পাস হয়। ওই আইনে উল্লেখ রয়েছে নদীর অবৈধ দখল, প্রানি ও পরিবেশ দূষন, শিল্প কারখানা কর্তৃক সৃষ্ট নদী দূষন, অবৈধ কাঠামো নির্মাণ ও নানাবিধ অনিয়মরোধকল্পে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পূনরুদ্ধারের বিধান। এছাড়াও নদীর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন এবং নৌ-পরিবহনযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনে একটি কমিশন গঠনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানের জলাধার সংরক্ষণ এবং নদী রক্ষা কমিশনের তৃতীয় অধ্যায়ের ১২ নম্বর ধারায় নদী অবৈধ দখলমুক্ত এবং পূনঃদখল রোধ করা, নদীতীর দূষনমুক্ত রাখা এবং বিলুপ্ত বা মৃতপ্রায় নদী খননের বিষয় সরকারকে সুপারিশ প্রদান করবে কমিশন। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংবিধানের ১৮ ‘ক’ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন-২০১৩ লঙ্ঘিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নদী রক্ষায় সকলেই সোচ্চার হওয়া প্রয়োজনমোঃ হায়দার আলী,
রাজশাহী। -

বাবুগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম খালেদ হোসেন স্বপন এর সমার্থনে সভা
রানা খান,
বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এসএম খালেদ হোসেন স্বপন এর সমার্থনে বিশেষ সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বিকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে ওই বিশেষ কর্মী সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মাষ্টার এর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুর রহমান খান এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মন্নান মাস্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার কামাল হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আনিচুর রহমান সিকদার, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল করিম হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্না সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ দপ্তর সম্পাদক পিন্টু সিকদার, প্রচার সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ রিপন, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খালেদা ওহাব, সহ দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম পিন্টু, সহ প্রচার সম্পাদক শামীম খান, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিকুর রহমান সুরুজ সিকদার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, কৃষক লীগের সভাপতি মফিজুর রহমান পিন্ট, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান সিকদার, কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরু আলম বেপারী, চাঁদপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন রাঢ়ী,উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রিফাত জাহান তাপসি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাহিদুল ইসলাম নয়ন,সদস্য মাসুম মাঝি, আগরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ খান, কেদাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর সালাম সিকদার, দেহেরগতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রশিদ মোল্লা, চাঁদপাশা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন , রহমতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী সভাপতি জালাল আহমেদ সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মল্লিক,মাধবপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সরদার হাফেজ আহমেদ স্বপন, ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক প্রসেনজিৎ দাস অপু , জহিরুল ইসলাম মুরাদ, ওবায়দুল হক জুয়েল, রাজু খন্দকার, আবির হোসেন, প্রমুখ।
এছাড়াও উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
-

নলছিটিতে আদালতের আদেশ অমান্য করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
নাঈম মল্লিক,
ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃঝালকাঠির নলছিটিতে বিরোধীয় জমিতে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে হোসেন আলি খান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে সরজমিনে গিয়েও মামলার বাদী পক্ষকে কাজ করতে দেখা গেছে। এতে স্থিতিবস্তা চাওয়া আরেক পক্ষের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, হোসেন আলি খান ও তার ছেলেরা প্রভাবশালী ভাড়াটে লোকজনের সহায়তায় আদালতের আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক রাতে ও দিনে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, জে.এল ৮৯, সরমহল পুনিহাট মৌজার এস.এ ৩৪৩ নম্বর খতিয়ানের ১০টি দাগে ৭৪ শতাংশ বিরোধীয় জমিতে ঘোষণামূলক ডিক্রির জন্য উপজেলার কুশঙ্গল ইউনিয়নের সরমহল গ্রামের হোসেন আলি খানসহ ৭ জন বাদি হয়ে সহকারি জজ আদালতে (নলছিটি) দেওয়ানি মোকদ্দমা (নম্বর ১৯/২০১৬) দায়ের করেন। মোকদ্দমায় একই এলাকার আ. আজিজ খানসহ ২৯ জনকে বিবাদি করা হয়। বিবাদিরা বিরোধীয় জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করলে আদালত গত ২ এপ্রিল উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু হোসেন আলি খান ও তার ছেলেরা আদালতে আদেশ অমান্য করে ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। নির্মাণাধীন ভবনের পাশেই ইট-বালু ফেলে রাখা হয়েছে। শ্রমিকেরা স্থাপনা নির্মাণের কাজ করছেন।বিবাদি আ. আজিজ খানের ছেলে জাহিদ খান জানান, বাদিরা আদালতের নির্দেশনা মানছেন না।তারা মামলা করে নিজেরাই আদালত অবমাননা করেছে।আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই
মামলার বাদি হোসেন আলি খানের ছেলে জহুরুল ইসলাম বলেন, ভবন নির্মাণের সময় আদালতের স্থিতাবস্থা ছিলনা। পরবর্তীতে তাঁরা আদালত থেকে স্থিতাবস্থা নিয়ে আসলে আমরা নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছি।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ আলি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ফের আদালতের আদেশ অমান্য করলে আমাকে অবিহিত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
-

ময়মনসিংহ সদরের কুষ্টিয়া ইউনিয়নে শত্রুতা করে ফসলের ক্ষতি করার অভিযোগ
ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহ সদরের পুর্ব পরিকল্পিতভাবে আবু বক্কর ছিদ্দিক নামে এক কৃষকের ৩২ শতাংশ জমিতে রোপিত করল্লা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষকের লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ২নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড চুয়ানিয়া গ্রামে । এঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার চুয়ানিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবু বক্কর ছিদ্দিক বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।ভুক্তভোগী কৃষক আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, তিনি পেশায় একজন কৃষক। পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া ৩২শাতাংশ জমিতে তিনি করল্লাসহ বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে আসছিলেন। চলতি মৌসুমে সেই জমিতে করল্লার চাষ করেছেন। প্রতিবছর করল্লা চাষের মাধ্যমে তিনি লক্ষ-লক্ষ টাকা আয় করে থাকেন। যার মধ্যে বেশির ভাগই থাকে সবজি। এ বছর ৩২ শতাংশ জমিতে করল্লার চাষ করলে দীর্ঘ পরিচর্যার পর গাছগুলো টালে যাওয়ার পর ফুল ও করল্লা আসতে শুরু করে। কিছু কিছু গাছে প্রচুর পরিমানে করল্লা ধরেছিল। এ পর্যন্ত তাঁর এই ক্ষেতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা, যার বেশির ভাগ তিনি ধারদেনা করে জোগাড় করেছেন। হঠাৎ গত ২২শে এপ্রিল বিকাল ৬ঘটিকায় তিনি ক্ষেতে গিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক পেলেও পরদিন ২৩এপ্রিল সকাল ৯টা গিয়ে তিনি তার করল্লা ক্ষেতের অধিকাংশ গাছ কাটা ও পাতা শুকনা অবস্থা দেখতে পান। এতে তার প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কারো সাথে কোন শত্রুতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান- তারা বংশগতভাবে মন্ডল গোষ্ঠী স্থানীয় হাজী গোষ্ঠীর সাথে ক্ষেতে পানি সরবরাহকে কেন্দ্র করে ইতি পুর্বে ঝগড়া বিবাদ হয়েছিলো, এনিয়ে দুপক্ষের মাঝে মামলা মোকদ্দমা আদালতে চলমান রয়েছে।তবে এলাকায় দুই পক্ষই শান্তি প্রিয়। আদালতে মামলা থাকলেও দুপক্ষের মাঝে স্থানীয়ভাবে কোন আক্রোশ নেই। স্থানীয় ডাঃ রেজাউল করিম,সুরুজ আলী,হুসেন আলী,আব্দুল মালেক,মন্টু আলী দাবী করেন- দুপক্ষের মাঝে মামলা মোকদ্দমান থাকার পরও এলাকায় কারো সাথে কোন ঝগড়া বিবাদ নেই। ফলে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে। এই শান্তিপুর্ণ অবস্থা কে অশান্ত করতেই হয়তো কোন তৃতীয় পক্ষ ফসলের ক্ষেত কেটে নষ্ট করেছে এমনটা হতে পারে।
তবে আশেপাশে আরো অনেক ফসলের ক্ষেত রয়েছে। সব ফসলের মাঝখানে ছিদ্দিকের ক্ষেত কাটার কি রহস্য রয়েছে এনিয়ে এলাকায় বিভিন্ন মহলের মাঝে চলছে সমালোচনা-কানাঘোষা। তবে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে সেজন্য সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীকে সনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানিয়েছেন বাদীসহ স্থানীয়রা। এই ঘটনায়- বাদী আবু বক্কর ছিদ্দিক,ছোট ভাই ইব্রাহিম খলিল সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিরাপত্তাহীণতার আশঙ্কা করছে।
-

তীব্র তাপদাহে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে ভালুকার ওসি কামাল
তীব্র তাপদাহে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ,চালক,যাত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শাহ কামাল আকন্দ। মানবিক সহায়তা হিসেবে ভালুকার বিভিন্ন পয়েন্টে তিনি খাবার স্যালাইন ও সুপেয় পানি বিতরণ করছে ওসি শাহ কামাল আকন্দ । জেলা পুলিশ সুপার মাসুম আহমেদ ভূঞার নির্দেশনার পর এই কার্যক্রম শুরু হয়।
বুধবার (২৪এপ্রিল) দিনব্যাপী ভালুকায় পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে এই কার্যক্রম। যা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ওসি শাহ কামাল আকন্দ ।
এ সময় তিনি সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ ও ভালুকাবাসীর সেবায় সকলকে পাশে থাকার আহবান জানান। এরপরই থানা পুলিশ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে ঠাণ্ডা পানির বোতল, ভ্রাম্যমান পানির ট্যাঙ্ক স্থাপন ও লেবু বা শরবত খেতে দিচ্ছেন।ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, প্রচণ্ড তাপদাহে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত তখন জেলা পুলিশের মানবিক পুলিশ সুপারের নির্দেশক্রমে ভালুকা মডেল থানা এলাকায় অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষ এবং চালক ও পথচারীদের মাঝে খাবার স্যালাইন ও পানির ব্যবস্থা করা হয়। তাপদাহ যতদিন চলবে আমরাও আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।’তিনি আরও বলেন, প্রচণ্ড তাপদাহে বিপর্যস্ত খেটে খাওয়া মানুষকে পানি ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে। অনেক সাধারণ মানুষ এতে উপকৃত হচ্ছেন।
এসময় ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. শাহ কামাল আকন্দ খাবার স্যালাইন বিতরণ করার পাশাপাশি তীব্র তাপপ্রবাহকালে করণীয় সম্পর্কে চালক ও সাধারণ জনগণকে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করেন।
-

সিরাজদিখান রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ নাছির উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম লিংকনের স্বেচ্ছাচারীতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটির সদস্যরা। বুধবার দুপুরে সিরাজদিখান প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি জাবেদুর রহমান যোবায়ের তার বক্তব্যে বলেন, একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সংবাদ সম্মেলন করতে হবে এটা কখনো আশা করিনি।আপনারা জানেন সম্প্রতি এ উপজেলায় “সিরাজদিখান রিপোর্টার্স ইউনিটি” নামে একটি সংগঠন আত্ম প্রকাশ করে। সেখানে আমাকেও সহ-সভাপতি রাখা হয়। এছাড়া সহকর্মী আজাদ বিন আজম নাদভীকে সাংগঠনিক সম্পাদক, আনিসুর রহমান নিলয়কে দপ্তর সম্পাদক, মো. আমির হোসেন ঢালীকে প্রচার ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, আব্দুল আউয়াল আশিককে শিক্ষা ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক, মেহেদী হাসান সুমনকে কার্যকরী সদস্য, আলী আহমেদ চৌধুরী ও কৌশিক মন্ডল আকাশ, নাদিম হায়দার সেন্টু, রোমান হাওলাদারকে সদস্য করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকে সভাপতি নাছির উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম লিংকনের নেতৃত্বে আমরা সংগঠনকে সুসংঘটিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেই। এই রিপোর্টার্স ইউনিটির ব্যানারে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি অনুষ্ঠান সফল করতে আমাদের সর্বাত্বক চেষ্টা এবং শ্রম ছিল। কিন্তু বর্তমানে গুছানো সংগঠনকে স্বেচ্ছাচারিতায় ও অনিয়মের রাজ্যে পরিনত করেছে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কর্মকান্ডের কথা অতি দুঃখের সাথে বলতে হয়,তাদের প্রতিটা কর্মকাণ্ড গঠণতন্ত্র বহির্ভূত। তাদের এহেন কর্মকাণ্ড আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। তাদের নানা একক সিদ্ধান্ত সংগঠনের ভিতরে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। কার্যকরী কমিটি থাকা সত্ত্বেও কোন ধরনের আলোচনা ছাড়াই সংগঠনের নিয়মবহির্ভূত নতুন নতুন সদস্য নিয়োগ দিচ্ছেন যারা কোন সংবাদকর্মী না। তারা দুজন আলোচনা ছাড়াই সংগঠনের নামে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে। সংগঠনের বিষয়ে কোন ধরনের জবাবদিহিতা নাই, চাইতে গেলে সংগঠন থেকে চলে যেতে বা অব্যাহতি নিতে বলেন। এও বলেন আমরা এভাবেই সংগঠন চালাবো কারো পছন্দ হলে থাকো না হলে চলে যাও। ইতোমধ্যে ঈদ পুনর্মিলনী ও বৈশাখ উদযাপন করা হয়। সে অনুষ্ঠানে সভাপতি তার বক্তব্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গে বলেন, আমরা সভাপতি -সাধারণ সম্পাদক দুজন
ছাড়া উপজেলার সকল সাংবাদিক মাটির বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছে। শুধু আমরাই মাটির পক্ষে ছিলাম। তার শিষ্টাচার বহির্ভূত এমন বক্তব্যে আমরাসহ এ উপজেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিকের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে ও পরে আয়ের উৎস কি বা ব্যায় কি,তা প্রকাশ করে না। এছাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকরা উপজেলায় অন্যান্য কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে সখ্যতা বা সুসম্পর্ক বজায় রাখতে নিষেধ করেন। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ বিন আজম নাদভী তার বক্তব্যে বলেন, আপনারা আরো অবগত আছেন, ইউনিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তারাও সিরাজদিখান প্রেসক্লাবের সদস্য। তারা বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেন। মূলত ইউনিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের একান্ত সিদ্ধান্তেই রিপোর্টার্স ইউনিটির সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং হবে। যা আমরা মেনে নিতে পারছি না। এ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিরাজদিখান রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে আমরা সম্পাদকীয় ৬ জনসহ মোট ১১ জন সদস্য স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিলাম এবং রিপোর্টার্স ইউনিটি কে বয়কট করলাম।আজকের পর থেকে রিপোর্টার্স ইউনিটির সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই। যদি তারা আমাদের নামে কোন অপকর্ম করে তার দ্বায় আমরা নিবো না। তাছাড়া আমাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার মিথ্যা তথ্য বা কোন ভাবে হেয় করতে চেস্টা করলে আইনগতভাবে তাদের বিরুদ্ধে জবাব দিবো। সিরাজদিখান রিপোর্টার ইউনিটির সভাপতি নাছির উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম লিংকনের নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দেন রিপোর্টার ইউনিটির প্রচার ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আমির হোসেন ঢালী ও দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমান নিলয়।সিরাজদিখান প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিরাজদিখান প্রেসক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন, সাবেক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম বাবুল, সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন সালমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদসহ সিরাজদিখান উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ।
-

কেশবপুরে বিএনপি নেতা পৌর কাউন্সিলর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৪ হাজার পিচ স্যালাইন বিতরণ
কেশবপুর প্রতিনিধিঃ
কেশবপুরে প্রচন্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে পেটের দায়ে কাজে বের হওয়া ভ্যানচালক, শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে পৌর কাউন্সিলর বিএনপি নেতা আব্দুল হালিম মোড়ল ওর স্যালাইন বিতরন করেন। ২৩ এপ্রিল দুপুরে তিনি শহরের বকুলতলা, পাইলট স্কুল মোড় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের শ্রমজীবীদের মাঝে এবং পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচটি মসজিদ ও তিনটি মন্দিরে প্রায় ৪ হাজার পিচ খাবার স্যালাইন বিতরণ করেন।
কেশবপুর পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম মোড়ল ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাবার স্যালাইন বিতরণ করেছেন বলে তিনি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান (আজিজ), পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, জজ আলী খান, শেখ শাহজাহান বাবু, ইসলাম মোড়ল, সোলায়মান হোসেন প্রমুখ। প্রচন্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে শ্রমজীবী মানুষ খাবার স্যালাইন পেয়ে অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করেন।