আলিফ হোসেন, তানোরঃ
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) ভিআইপি এই সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক সহাবস্থানের প্রবর্তক, সৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিকৃতি ও বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী,শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক সামরিক সচিব,উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সহোদর মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই, রাজশাহী অঞ্চলের দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ। পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ, পারিবারিক ঐতিহ্য-সামাজিক পরিচিতি, আর্থিক স্বচ্ছলতা, কর্মীবাহিনী, রাজনৈতিক দূরর্শীতা, সাংগঠনিক তৎপরতা, আদর্শিক ও বিশ্বস্তত নেতৃত্ব হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও টেকনোক্রেট মন্ত্রী
হবার মতো সব ধরণের যোগ্যতা রয়েছে। এদিকে এই জনপদের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে শরীফ উদ্দিনকে মন্ত্রী না করায়।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দলের ভিতর এবং বাইরের নানা ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, প্রতিহিংসা ও গুজবের বহু অন্ধকার গলিতেও তিনি পথ হারাননি এবং গতানুগতিক রাজনীতির স্রোতে গা ভাসিয়ে দেননি।নিজস্ব, স্বকীয়তা ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন অমায়িক ব্যবহার ও প্রচণ্ড সাহসী নেতৃত্বের লৌহমানব এই মানুষটি ছাত্র রাজনীতির সীমানা অতিক্রম করে ধীরে ধীরে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার পুরুষে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার প্রতি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার যে বহিঃপ্রকাশ তাতে তিনি না চাইলেও এই অঞ্চলের মানুষ তাকেই তাদের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে, এখানে তার কোনো বিকল্প নাই। কারণ সাধারণ মানুষের নিখাদ ভালবাসার চেয়ে বড় কোন শক্তি নাই। তাকে টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই এসব মানুষ এটা এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত,প্রয়াত
ব্যারিস্টার আমিনুল হকের জীবদ্দশায় তার মুল্য যেমন বুজতে পারেনি এঅঞ্চলের মানুষ,তেমনি মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনের মুল্য বুঝতে পারেনি।যদিও সাধারণ মানুষ তাকেই তাদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।কিন্ত্ত দলের ভেতরের কিছু বিপদগামী উচ্চাভিলাষী প্রাষাদ ষড়যন্ত্র করে তাকে নির্বাচনে বিজয়ী হতে দিলো না।এছাড়াও এদের সঙ্গে যুক্ত ছিলো মাদক সিন্ডিকেট চক্র, যে চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে একশ্রেণীর শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ,চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
দেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ মাদকপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত গোদাগাড়ী। কিন্ত্ত শরিফ উদ্দিন গোদাগাড়ী ও তানোরকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এই চক্র শরিফ উদ্দিনের বিজয় ঠেকাতে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছেন।তাদের ঐক্যবদ্ধ কুটকৌশল ও ষড়যন্ত্রে বিএনপির দুর্গে বিএনপি হারলো। অন্যদিকে বিএনপির সুবিধাবাদী কিছু মতলববাজ উচ্চাভিলাষীর ধারণা এখানে শরিফ উদ্দিনের পরাজয় হলে আগামিতে তাদের ভাগ্য খুলবে এবং বিএনপিতে ব্যারিস্টার পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্যর অবসান হবে, এই আশায় তারা তাদের অনুগতদের নিয়ে গেম খেলেছে।কিন্ত্ত এরা রাজনৈতিক অর্বাচীন,এক শরিফ না থাকলে ব্যারিস্টার পরিবারে আরো অসংখ্য শরিফ রয়েছেন যারা যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে এমপি নির্বাচন করার সক্ষমতা রাখে।তাই তারা যে আশা নিয়ে গেম খেলেছেন তাদের সে আশা কখানোই পুরুণ হবে না। একারণে তারা বিএনপির আদর্শিক নেতাকর্মীদের কাছে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকলো।
এদিকে অভিজ্ঞ মহল বলছে, শরিফ উদ্দিনের সামরিক অভিজ্ঞতা বা দুরদর্শিতা দেশের কাজে লাগাতে তাকে মন্ত্রী পদমর্যাদা সম্পন্ন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বা টেকনোক্রেট মন্ত্রী করা হোক। এতে বিএনপির দুর্গ রক্ষার পাশাপাশি এসব ষড়যন্ত্রকারিদের স্বপ্ন পুরুণ ব্যর্থ, মাদকপ্রবণ গোদাগাড়ীর মাদক সিন্ডিকেট ধ্বংস এবং প্রয়াত ব্যারিস্টারের অসমাপ্ত উন্নয়ন উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হবে।অন্যদিকে প্রমাণ হবে এই জনপদের মানুষের ভাগ্যর উন্নয়নে ব্যারিস্টার পরিবারের কোনো বিকল্প নাই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির এক জৈষ্ঠ নেতা বলেন,এরকম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজের নেতৃত্ব পাওয়া ভাগ্যর ব্যাপার।কিন্ত্ত দলের ভেতরের কিছু ষড়যন্ত্রকারি ও মাদক সিন্ডিকেটের কারণে তীরে এসে তৈরী ডুবেছে। এতে অন্ধের দেশে আয়না বিক্রির গল্প মনে পড়ে যায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে বির্তকিত নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে আদর্শিক,পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত্ব নেতৃত্ব শরিফ উদ্দিনকে স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই এই জনপদের মানুষ। রাজশাহী অঞ্চলে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি শরিফ উদ্দিন যেকোনো রাজনৈতিক দলের কাছে একটি বিশাল সম্পদ তায় তারা এই সম্পদ ধরে রাখতে আগামি দিনে তাকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও টেকনোক্রেট মন্ত্রী করার জন্য দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন করছেন।#
Blog
-

শরিফ উদ্দিনকে টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই
-

প্রবীণ নেতাকে সা-হায্য করে প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আসাদ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বয়োজ্যেষ্ঠ একজন মন্ত্রীকে শহীদ মিনারে উঠতে সহযোগীতা করে প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।জানা গেছে,অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যের নিয়েও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। শহীদ বেদিতে ওঠার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রবীণ সদস্য ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদকে হাত ধরে শহীদ বেদিতে উঠতে সাহায্য করছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) রেহান আসিফ আসাদ। এই ভিডিও ভাইরাল হতেই রেহান আসিফ আসাদকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন নেটিজেনরা। তার এই আন্তরিকতা নেটিজেনদের হৃদয় জয় করেছে।
এদিকে দলের অন্যতম প্রবীণ নেতার প্রতি তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে নবীন-প্রবীণের সৌহার্দ্যের অনন্য প্রতিচ্ছবি হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ ছাড়া বয়োজ্যেষ্ঠের সঙ্গে তরুণদের এমন মেলবন্ধনই তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা নিয়ে আশান্বিত করছেন নেটিজেনরা।
উল্লেখ্য, রেহান আসিফ আসাদকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। -

পাবনা ২ আসনের নবনির্বাচিত এমপি সেলিম রেজা হাবিবকে ইউএনওর ফুলেল শুভেচ্ছা
এম এ আলিম রিপন,সুজানগর : বিপুল ভোটে নির্বাচিত পাবনা ২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এ. কে. এম সেলিম রেজা হাবিব সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবার পর প্রথমবারের মতো গতকাল শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ে আসেন। এ সময় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এ. কে. এম সেলিম রেজা হাবিবকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ । সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসানসহ উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।নবনির্বাচিত এমপিকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সব সময় সহযোগিতা করবে।নতুন এমপি অ্যাডভোকেট এ. কে.এম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, পাবনা-২ আসনের সার্বিক উন্নয়নে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে কাজ করতে চান। এ সময় তিনি উপজেলার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে খেঁাজ-খবর নেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
-

সুজানগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আলোচনা স-ভা
সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি : মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করেছে সুজানগর উপজেলা প্রশাসন। ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার সুজানগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন থানা অফিসার ইনচার্জ ফইম উদ্দিন,উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আসাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আযম আলী বিশ্বাস, সুজানগর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র কামাল হোসেন বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক অধ্যক্ষ নাদের হোসেন, উপজেলা জামায়াত নেতা ওয়ালিউল্লাহ বিশ্বাস ও সাংবাদিক এম, এ আলিম রিপন প্রমুখ।সভায় ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষার চর্চা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি রচনা করেছে। শহিদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে মাতৃভাষার অধিকার।
-

গোদাগাড়ীতে নারী – পুরুষদের সংগঠন ও উন্নয়ন বিষয়ে প্র/শিক্ষন অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে বাংলাদেশ সাউথ ইষ্ট কমবাইন্ড ওয়ার্কাস ফেডারেশন রেজি নং ০৮ খুলনার আয়োজনে সংগঠন ও উন্নয়ন বিষয়ে এক প্রশিক্ষন কর্মশালার অয়োজন করা হয়।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়। শ্রমিক অধিকারের উৎসগুলি কি কি? এবং সেমিনার সম্পর্কে আলোচনা করেন বিএসসিডাবলুএফ এর সভাপতি ওয়ারিশ আহম্মেদ, সকাল ১০ টা থেকে সকাল ১১ পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করেন মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ নূর উদ্দীন বাবু, সকাল ১১ টা থেকে সকাল ১২ পর্যন্ত সংগঠন সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা কি কি এবং উত্তরনের কৌশল গুলি তুলে আলোচনা বিস্তর আলোচনা করেন মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের, প্রধান শিক্ষক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, গোদাগাড়ী শাখার সাধারণ সম্পাদক, কলামিস্ট মোঃ হায়দার আলী।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২৫ নারী – পুরুষ প্রশিক্ষনে অংশ গ্রহন করেন।
দুপুর ১২ টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রশ্ন উত্তর পূর্বের আয়োজন করা হয়। অংশ গ্রহনকারীদের গ্রুপভিক্তিক আলোচনা হয় সাড়ে ১২ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত। ১ টা ৫ মিনিট থেকে ২ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত ও উপস্থাপন করেন গ্রুপ লিডার গণ।প্রশিক্ষনে আলোচনা করা হয় মানুষকে আল্লাহ রাববুল আলামীন সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। তাদের এই শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে আল্লাহ আসমানী কিতাবসহ অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। এ বিধিবিধান আপনা আপনি বাস্তবায়ন হবে না এর জন্য প্রয়োজন হয় আন্দোলনের হয় সংঘবদ্ধ জনসমষ্টির এবং সংগঠিত জনগণকে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় সংগঠনের। সংগঠনের গতিশীলতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হ’লে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না। একটি সংগঠনকে গতিশীল করতে যে সমস্ত কারণ বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং তা হতে উত্তরণের উপায় কি কি
পরিকল্পনার অভাব: সঠিক ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাবে কাজের গতি কমে যায়
যোগাযোগের ঘাটতি: দায়িত্বশীলদের সাথে অধঃস্তন কর্মীদের নিয়মিত যোগাযোগের অভাব।অযোগ্য ও অদক্ষ নেতৃত্ব : প্রকৃত অর্থে আদর্শহীন সংগঠন কোন সংগঠন নয়। আল্লাহ প্রদত্ত অহি-র বিধান ও রাসূল (ছাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতি অনুযায়ী যে সংগঠন পরিচালিত হয়, সেটাকেই আদর্শ সংগঠন বলা যায়। এ ধরনের সংগঠনের অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধা হ’ল অযোগ্য নেতৃত্ব। অযোগ্য ও অদক্ষ ড্রাইভার যেমন একটা মোটর গাড়িকে গন্তব্যে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়, তেমনি একজন অযোগ্য ও অদক্ষ নেতা সংগঠনের গতিশীলতায় কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। সেজন্য প্রয়োজন একজন যোগ্য ও দক্ষ নেতার। ]
মূল্যায়নের অভাব: যোগ্য কর্মীদের যথাযোগ্য মূল্যায়ন না করা । ব্যক্তিগত স্বার্থ ও বিভেদ: সংগঠনের স্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা স্বার্থের গুরুত্ব দেওয়া । নেতৃত্বের প্রতি কর্মীদের আনুগত্যহীনতা সংগঠনের গতিশীলতা ও অগ্রগতিতে চরম অন্তরায় সৃষ্টি করে। যে সংগঠনের কর্মীরা নেতার প্রতি যত আনুগত্যশীল সে সংগঠন তত বেশী মজবুত ও গতিশীল।
নেতার উত্তম ব্যবহারের অনুপস্থিতি :কর্মীদের প্রতি নেতার ব্যবহার যদি ভাল না হয়, তাহ’লে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। নেতা ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। নেতার রূঢ় আচরণে কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। সেজন্য নেতাকে উত্তম আদর্শ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হ’তে হয়। এ বিষয়ের প্রতি নেতার সর্বদা দৃষ্টি রাখা দরকার।
সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকা : সকল পর্যায়ের কর্মী ও দায়িত্বশীলদের সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে সংগঠনের অগ্রগতি আদৌও সম্ভব নয়। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাবে যে কোন সময় যে কোন কর্মী ও দায়িত্বশীল সংগঠন থেকে নিমিষেই ছিটকে পড়তে পারে। তাই বিশেষ করে সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, মূলনীতি ও কর্মসূচী সম্পর্কে প্রত্যেকেরই স্পষ্ট জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
দায়িত্বশীলদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা : সংগঠনের মধ্যে দায়িত্বশীলদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা হ’লে সংগঠনের অগ্রগতি সম্ভব হয় না। দায়িত্বশীলদের মধ্যে সকলের সমান যোগ্যতা ও মেধা থাকে না। তাদের যোগ্যতা ও মেধানুযায়ী সংগঠনের প্রতি আন্তরিক হয়ে দায়িত্ব পালন করলে তার যথাযোগ্য মূল্যায়ন করা দরকার। তাতে কর্মীদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পায় এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকে। ফলে সংগঠনের অগ্রগতি সাধিত হয়। সাথে সাথে দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করাও প্রয়োজন।
যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব প্রদান না করা :
কর্মীদের যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব প্রদান না করলে সংগঠনের অগ্রগতি সম্ভব নয়। যোগ্য কর্মীকে বাদ দিয়ে অযোগ্য কর্মীকে দায়িত্ব দিলে মানুষ হিসাবে যোগ্য কর্মীর মন ভেঙ্গে যায়। ফলে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়।ধৈর্য ধারণে অভ্যস্ত না হওয়া : ছবর বা ধৈর্য হ’ল সফলতার চাবিকাঠি। তাই সংগঠনের সকল পর্যায়ের কর্মী ও দায়িত্বশীলদের ধৈর্য ধারণের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। সুখ-শান্তি, দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদে এক কথায় সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের লক্ষণ। ধৈর্যের গুণে গুণান্বিত হতে না পারলে কোন কাজ করা সম্ভব নয়। তাই সংগঠনের অগ্রগতিতে অর্পিত দায়িত্ব ধৈর্য
অহংকার ও প্রশংসার আকাংখী হওয়া :
অহংকার ধ্বংসের মূল। সকল অসৎগুণের মধ্যে সবচেয়ে বড় অসৎগুণ হচ্ছে অহংকার ও অন্যের প্রশংসার প্রত্যাশী হওয়া। যা শয়তানের কাজ ছাড়া অন্য কিছু নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন,لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَحَدٌ فِى قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ مِنْ كِبْرِيَاءَ ‘যার অন্তরে সরিষাদানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না’।
মানুষের যত প্রকার ত্রুটি আছে তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় ত্রুটি হ’ল নিজেকে বড় মনে করা। আর এটা যখন কারো মধ্যে জাগ্রত হয়, তখন সে নিজকে খুব বড় জ্ঞানী ও গুণসম্পন্ন মনে করে ও অন্যরা তাকে সর্বাপেক্ষা বড় জ্ঞানী ও যোগ্য মনে করুক এটা প্রত্যাশা করে এবং এর থেকে মুক্ত হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়। নেতা ও কমীদের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক না থাকা :
যে সমস্ত কাজ নেতা ও কর্মীদের মধ্যকার সুদৃঢ় বন্ধন নষ্ট করে দেয় সে সকল কাজ পরিহার করা সংগঠনের অগ্রগতির জন্য খুবই প্রয়োজন। নেতা সর্বদা নিজ দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করবেন এবং কথা ও কাজের মধ্যে মিল রাখার জন্য সচেষ্ট হবেন। সাথে সাথে কর্মীদেরকেও নেতার আস্থাশীল হওয়ার জন্য অর্পিত দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। তাহ’লে উভয়ের মাঝে সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে ও সংগঠনের অগ্রগতি সাধিত হবে। কোন অবস্থাতেই তৃতীয় পক্ষ চক্রান্ত করে উভয়ের মধ্যে যেন ফাটল সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।সাংগঠনিক শৃংখলা বজায় না রাখা : বিশৃংখলভাবে কাজ করার মধ্যে সংগঠনের ক্ষতি অনিবার্য। ঊর্ধ্বতন থেকে অধঃস্তন অনুরূপ অধঃস্তন থেকে ঊর্ধ্বতন সকল ক্ষেত্রে নিয়ম-শৃংখলা (Chain of Command) মেনে কাজ না করলে সংগঠনের অগ্রগতি কোনভাবে সম্ভব নয়। তাই সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও কর্মীদের সর্বাবস্থায় সাংগঠনিক শৃংখলা মেনে চলা একান্ত কর্তব্য।
ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করা : দব্যর্থতার দায় কেউ স্বীকার করতে চায় না। এটা মানুষের স্বভাব। সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনায় সর্বদা সফলতা আশা করা ঠিক নয়। কখনো কখনো ব্যর্থতাও থাকে। একজন কর্মীর বড় সফলতা হ’ল ব্যর্থতার দায় স্বীকার করা ও এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা। আর কুরআন-হাদীছ মোতাবেক পরিচালিত সংগঠনের প্রত্যেক স্তরের নেতা-কর্মীর উচিৎ সংগঠনের অগ্রগতির স্বার্থে খালেছ নিয়তে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাজ করা। আর সফলতার দায়িত্ব আল্লাহর উপর ন্যস্ত করা। তাতে মনে কোন গ্লানি থাকে না বরং প্রশান্তি আসে।
উত্তরণের কৌশল:
পরিকল্পিত কর্মপন্থা: সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা ।
যোগ্যতানুযায়ী কাজ: জনশক্তির মান ও প্রবণতা অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা ।নিয়মিত প্রশিক্ষণ: জনশক্তির মান বজায় রাখতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রোগ্রামের আয়োজন ।
মানসিক বন্ধন: কর্মীদের খোঁজ-খবর রাখা এবং ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক সমস্যার সমাধান করা ।
তদারকি জোরদার: কাজের ত্রুটি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ।
সংগঠনকে মজবুত করতে তৃণমূল বা স্থানীয় কার্যক্রম শক্তিশালী করা এবং যেকোনো প্রতিকূলতায় হতাশ না হয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোঃ রোকনুজ্জামান ও শামীমা আক্তার।মোঃ হায়দার আলী
গোদাগাড়ী,রাজশাহী।। -

বানারীপাড়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শ/হীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞা-পন
সাব্বির হোসেন, বানারীপাড়া //
মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বরিশালের বানারীপাড়ায় একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ তখন পরিণত হয় শোক, ভালোবাসা ও গর্বের মিলনমেলায়।
এসময় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বায়েজিদুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি.এম.এ মুনিব, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান, বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ মৃধা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জুয়েল, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মঞ্জু খান, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, উপজেলা যুবদলের সভাপতি ছাব্বির আহমেদ সুমন হাওলাদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইদুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন, বানারীপাড়া প্রেসক্লাব, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
শহীদ মিনার প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল নীরবতা ও শ্রদ্ধার আবহ। মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২ সালের সেই অমর আত্মত্যাগ আজও বাঙালির চেতনায় অনির্বাণ প্রেরণা হয়ে আছে। বানারীপাড়ার এই শ্রদ্ধাঞ্জলি যেন নতুন প্রজন্মকে ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানায়।মোঃ সাব্বির হোসেন ।।
-

সারা দেশের মত গোদাগাড়ীতে শহিদ দিবস ও আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি ভূখণ্ডের দুটি ভিন্ন ভাষার জাতিসত্তাকে মিলিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম থেকেই মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করে সূচনা হয়েছিল আন্দোলনের। আর এই ভাষা আন্দোলনকেই বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির পথে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে এই দিনটিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হতো। এই ইতিহাস বাংলাদেশের অনেকেরই জানা। কিন্তু এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরির পেছনে রয়েছে আরও অনেক সংগ্রামের ইতিহাস।
ভাষা থেকে যেভাবে আন্দোলনের সূচনাঃ
১৯৪৭ সালে যখন দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়েছিল তার আগেই আসলে শুরু হয়েছিল ভাষা নিয়ে বিতর্ক। ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন ও আহমদ রফিক তাদের ভাষা আন্দোলন-ইতিহাস ও তাৎপর্য বইয়ে লিখেছেন, “প্রথম লড়াইটা প্রধানত ছিল সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ”।এই বইটির বর্ণনা অনুযায়ী দেশভাগের আগেই চল্লিশের দশকের শুরুতেই সাহিত্যিকরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। সেসময় বাঙালী মুসলমান সাহিত্যিক, শিক্ষক, রাজনীতিবিদদের মধ্যে বাংলা, উর্দু, আরবি ও ইংরেজি এই চারটি ভাষার পক্ষ-বিপক্ষে নানান মত ছিল।
এ উপলক্ষ্যে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গোদাগাড়ী উপজেলা শহীদ মিনারে রাত ১২ টা ১ মিনিটে ভাষা শদীদের ফুল দিয়ে স্মরণ করা হয়।
সূর্য্যদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারী, বেসরকারী, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনির্মিত করা হয়। সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ নতুন অডিটারিয়ামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুস সাদাত রত্নের সভাপতিত্বে এক আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শামসুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহম্মেদ, আফজি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান, প্রমূখ। অনুষ্ঠানের শেষে চিত্রাংকন, রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।দিবসটি উপলক্ষে অনুরুপ কর্মসূচি পালন করেন, গোদাগাড়ী সরকারী কলেজ, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, , গুনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, গোগ্রাম আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গোদাগাড়ী সরকারী স্কুল এন্ড কলেজ, রাজাবাড়ী ডিগ্রী কলেজ, দিগরাম উচ্চ বিদ্যালয়, কাশিমপুর একে ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রাজাবাড়ী হাট উচ্চ বিদ্যালয়, রাজাবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গোগ্রাম স্কুল এন্ড কলেজ, গোগ্রাম আদর্শ বহুমূখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান চিত্রাংকন, রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচ পালন করে বলে জানা গেছে। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী। -

রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীতে নির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে নগরীর সোনাদিঘির পাড়ে এক একর জমির ওপর নির্মিত নতুন শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
এর আগে তিনি শহীদ মিনার চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিললুর রহমান ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, নগরীর সোনাদীঘি মোড়ের জেলা পরিষদের জায়গায় প্রায় এক একর জমির উপর নির্মিত হয়েছে স্থায়ী এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে এটি তৈরি করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপু।
এদিকে, যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদকের স্মরণ করে রাজশাহীর মানুষ একুশের প্রথম প্রহরে নবনির্মিত শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনেকেই খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে স্মরণ করেন। পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে ছিল শোক, গর্ব ও আত্মমর্যাদার এক অনন্য আবহ।
এদিকে এবার প্রথমবারের মত শহীদ মিনারে ফুলে দিতে পেরে উচ্ছ্বাসিত রাজশাহীবাসী। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘এতদিন রাজশাহী কলেজে গিয়ে সাধারণ মানুষকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হতো, এতে ভোগান্তিও পোহাতে হতো। স্থায়ীভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চালু হওয়ায় এই সমস্যার সমাধান হলো এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানার জন্য এমন একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’’
বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীর সর্বস্তরের পেশাজীবী ছাত্র-জনতার গৌরবময় ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাস এলাকায়। কিন্তু এই শহীদ মিনারের মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তবে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হলো রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। নতুন নির্মিত শহীদ মিনারটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের দৃষ্টি কেড়েছে।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী। -

ঝিনাইদহে যথাযোগ্য মর্যাদায় শ-হীদ দিবস পালিত
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
ঝিনাইদহে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস পালিত হচ্ছে। একুশের প্রথম প্রহরে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামে। খালি পায়ে হাজারো মানুষের সুনশান নিরবতা ভেঙ্গে ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন শুরু হয়। একুশের প্রথম প্রহরে শহিদ বেদীতে প্রথমে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার , এরপর একে একে জেলা বিএনপি, প্রেস ক্লাব, ইলেকট্রনিক মিডিয়া রিপোটার্স অ্যাসেসিয়েশন, এসএসসি ব্যাচ ১৯৯৪, মহিলা পরিষদ ঝিনাইদহ জেলা শাখা সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পমাল্য অর্পন করেন। এসময় ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর একুশের চেতনা বাস্তবায়নের শপথ নেন সব শ্রেণী পেশার মানুষ। এছাড়াও জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বইমেলার সহ বিভিন্ন কর্মসূচী আয়োজন করেছে।আতিকুর রহমান
ঝিনাইদহ -

নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে ৪৫ জন কর্মীর পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মা/নবেতর জীবনযাপন
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি;
নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে কর্মরত ৪৫ জন কর্মী গত সাত মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় বেতন না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব সাধারণ শ্রমিক। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নড়াইল টাউন মেডিকেল সার্ভিস লিমিটেডের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে এসব কর্মীর জীবন এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আউটসোর্সিং কর্মীদের পদভেদে মাসিক ১৬ হাজার ১৩০ টাকা থেকে ১৭ হাজার ৬৩০ টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়ার কথা এবং তা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার নিয়ম। তবে কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বেতন তাদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয় না; বরং আগেই চেক বইয়ের পাতায় সই করিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের প্রাপ্য বেতনের পরিবর্তে মাত্র ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা করে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাকি টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কৌশলে আত্মসাৎ করছে।
এদিকে চাকরিতে যোগ দিতে গিয়েও কর্মীদের বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ বাকচি নামে এক আউটসোর্সিং কর্মী জানান, তিনি নড়াইল জেলা হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স অঞ্জনার মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে এই চাকরিতে ঢুকেছেন। এ বিষয়ে নার্স অঞ্জনা টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি টাকা নিয়ে আউটসোর্সিংয়ের ঠিকাদারকে দিয়েছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন কর্মী জানান, ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিয়েও তারা আজ দিশাহারা। তারা ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন না। এখন তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে চাকরি হারানোর ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘নড়াইল টাউন মেডিকেল সার্ভিস লিমিটেডের মালিক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, তিনি কোনো কর্মীর কাছ থেকে টাকা নেননি। তবে ৪৫ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৭৬ জন কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি এক অদ্ভুত যুক্তি দেন। তিনি বলেন, ৪৫ জনের বেতনের টাকা ৭৬ জনকে ভাগ করে দেওয়া হয় বলেই কর্মীদের প্রাপ্য কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জটিলতার কারণে বেতন দিতে দেরি হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
হাসপাতালের কর্মীদের এই মানবেতর অবস্থা এবং চলমান দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নড়াইল জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল গফফার কোনো প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি।উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।