“সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানটি নিজের দলীয় শ্লোগান দাবী করে শ্লোগানটি নিজ দলীয় ভাবে ব্যবহার করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একসঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমঝোতায় আসার আহবান জানিয়েছেন শ্লোগানটির নির্মাতা দাবীকারী ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি – এফডি পার্টির প্রেসিডেন্ট ও বনানীস্থ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ এ অবস্থিত প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর ড.এ আর খান।
শুক্রবার (১৩ফেব্রুয়ারী) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক খোলা চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপির চেয়ারম্যানকে এই আহবান জানান তিনি। খোলা চিঠিতে ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি – এফডি পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর এ আর খান দাবী দাবী করেন-সবার আগে বাংলাদেশ” নামক যে স্লোগানটি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন সেটি তার রাজনৈতিক দল, ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি – এফডি পার্টির দলীয় স্লোগান। গত ২০১৯ সালে দলটি প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে এই স্লোগানটি তিনি তার রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছেন।বিগত ২০১৯ সালে “সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগানটি যখন তিনি ব্যবহার করতে শুরু করেন তার পূর্বে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে দেখেছেন, বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল কিংবা কোন ব্যক্তি বা কোন গোষ্ঠী “সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগানটি ব্যবহার করছেন কিনা। যাচাই-বাচাইয়ে তিনি এটা তিনি কোথাও খুঁজে পাননি। সেই থেকে তিনি “সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগানটি তার দল ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি – এফডি পার্টির শ্লোগান হিসাবে
দলের প্রত্যেকটি লেখায়, প্রত্যেকটি বক্তব্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছেন যা তার ফেসবুক পেইজে গত ২০১৯ সাল থেকে প্রত্যেকটি লেখায় আপনি পাবেন বলেও তারেক রহমানের অবগত করেন। তিনি আরও বলেন আমার জানা মতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী – বিএনপি সহ বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল “সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগানটি ২০১৯ সালের আগে কিংবা পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগ পর্যন্ত কেউ ব্যবহার করেনি একমাত্র আমি এবং আমার রাজনৈতিক দল ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি – এফডি পার্টি ছাড়া।
চিটিতে তিনি উল্লেখ করেন- এই খোলা চিঠিতে দেওয়া নিয়মনীতি পুরণ না হলে তার, এই স্লোগানটির মালিকানা স্বত্ব নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আমার আর অন্য কোন বিকল্প পথ থাকবে না বলেও জানান তিনি-
শ্লোগানটি উদ্ধারে তারেক রহমানকে দেওয়া খোলা চিঠি পাঠকদের অবগতির জন্য নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো-
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপির চেয়ারম্যান, জনাব তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি।
১৩, ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রাপক,
জনাব তারেক রহমান
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি
গুলশান, ঢাকা।
বিষয়: “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানটির ব্যবহার প্রসঙ্গে।
জনাব তারেক রহমান,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয়ে আপনাকে জানাই বিজয়ের প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
আপনার এই ভূমিধ্বস বিজয়ে আমিও একজন ক্ষুদ্র অংশীদার।
“সবার আগে বাংলাদেশ” নামক যে স্লোগানটি আপনি আপনার নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন, আপনি হয়তো নিজেও জানেন না যে, এই স্লোগানটি আমার রাজনৈতিক দল, ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি – এফডি পার্টির দলীয় স্লোগান।
২০১৯ সালে দলটি প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে এই স্লোগানটি আমি আমার রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছি।
২০১৯ সালে “সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগানটি যখন আমি ব্যবহার করতে শুরু করি, তার পূর্বে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে দেখেছি যে, বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল কিংবা কোন ব্যক্তি বা কোন গোষ্ঠী “সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগানটি ব্যবহার করছেন কিনা। আমি খুঁজে পাইনি।
২০১৯ সাল থেকে “সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগানটি আমি আমার দলের প্রত্যেকটি লেখায়, প্রত্যেকটি বক্তব্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছি যা আমার ফেসবুক পেইজে আপনি ২০১৯ সাল থেকে প্রত্যেকটি লেখায় আপনি পাবেন।
আমার জানা মতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী – বিএনপি সহ বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল “সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগানটি ২০১৯ সালের আগে কিংবা পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগ পর্যন্ত কেউ ব্যবহার করেনি একমাত্র আমি এবং আমার রাজনৈতিক দল ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি – এফডি পার্টি ছাড়া।
২০১৯ সাল থেকে দলটি প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে, টকশোতে এই শব্দটি ব্যবহার করার ফলে বিশেষ করে আপনার দলের অনেক নেতা কর্মী যারা আমার সঙ্গে টকশোতে অংশগ্রহণ করেছেন তারা এই স্লোগানটি সম্বন্ধে অবহিত হন এবং যেভাবেই হোক না কেন, স্লোগানটি আপনার কাছে পৌঁছায়।
বিশেষ করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি, মালেক ভাইয়ের সঙ্গে একটি টকশোতে অংশগ্রহণ করার পর থেকেই এই স্লোগানটি সম্ভবত আপনার কাছে পৌঁছায়।
আপনি নিজে লক্ষ্য করে দেখুন। আপনার কোন বক্তব্যে ২০২৪ সালের আগে আপনি কখনোই “সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগানটি ব্যবহার করেননি।
আমি লক্ষ্য করেছি ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই এই স্লোগানটি আপনি এককভাবে ব্যবহার করা শুরু করেছেন, যার কারণে গোটা বাংলাদেশে এখন আপনার দলীয় স্লোগান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
যা সম্পূর্ণ অন্যায়, অবিচার এবং অগণতান্ত্রিক।
অন্য একটি দলের রাজনৈতিক স্লোগান, হতে পারে ছোট একটি রাজনৈতিক দল, সেই দলটির স্লোগান এইভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি, বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারে কিনা, সেটি আপনার কাছে আমার প্রশ্ন।
এই স্লোগানটি যদি আপনার ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে আপনার উচিত হবে আমার সঙ্গে বসে এই বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।
আমি “সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগানটির মালিকানা স্বত্ব নিয়ে মাঝখানে একবার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে চেয়েছিলাম কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর পর আপনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মহান মৃত্যুতে আমি আইনি প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে এসেছি।
নির্বাচন এখন শেষ হয়েছে। আপনারা একটি ভূমিধ্বস বিজয় পেয়েছেন। অবশ্যই আমি বলবো যে “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানটি মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে করেছে এবং আপনাদের এই ভূমিধ্বস বিজয়ে একটি বড় ভূমিকা ছিল এই স্লোগানটির।
অতএব, আপনার কাছে আমার বিনীত আহ্বান থাকবে। “সবার আগে বাংলাদেশ” আমার এই স্লোগানটি যদি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি ব্যবহার করতেই চায়, তাহলে অবশ্যই যেন আমার সঙ্গে বসে একটি সমঝোতায় এসে তারপর এই স্লোগানটি ব্যবহার করেন।
অন্যথায়, এই স্লোগানটির মালিকানা স্বত্ব নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আমার আর অন্য কোন বিকল্প পথ থাকবে না।
অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আপনি হয়তো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিবেন। এই কথাটিও আমি ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিভিন্ন টকশোতে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলাম।
যাইহোক, আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। আপনি সবসময় ভালো থাকবেন এবং আশা করি, আপনার নেতৃত্বে নতুন এক বাংলাদেশ আমরা দেখতে পাবো। ঐক্যবদ্ধ এক বাংলাদেশ দেখতে পাবো। বৈষম্যহীন, কাঙ্খিত এক স্বপ্নের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে পাবো।
ধন্যবাদান্তে,
প্রফেসর এ আর খান
প্রেসিডেন্ট
ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি – এফডি পার্টি
সবার আগে বাংলাদেশ
মোবাইল এন্ড হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার:
+৮৮ ০১৭১৬৫১৬০৬৭









