Blog

  • কুসুম্বা মসজিদ একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি

    কুসুম্বা মসজিদ একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি

    লেখক: মোঃ হায়দার আলী।। গত বুধবার আমার বন্ধু গোগ্রাম আদর্শ বহুমূখি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলামের সাথে গিয়েছিলাম নওগাঁর মান্দা কাজ শেষে কুসুম্বা মসজিদ দেখার জন্য গেলাম, সেখানে যোহরের নামাজ আদায় করলাম। আমাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন ওই এলাকার ওয়াই ফাই ও ডিস ব্যবসায়ী বাবলু ভাই এর আগে অনেক বার গিয়েছিলাম, এবার সেখানে কিছু সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজ চোখে পড়লো। দেখে খুবই ভাল লাগলো তাই তো এ সম্পের্কে লিখার খুব ইচ্ছা হলো। আল্লাহর নাম নিয়ে লিখা শুরু করলাম। কুসুম্বা মসজিদ (Kusumba Mosque) নওগাঁ জেলায় অবস্থিত প্রায় সাড়ে চারশত বছর পুরনো একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলাধীন ৮ নং কুশুম্বা ইউনিয়নের কুশুম্বা গ্রামে কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান। নওগাঁ থেকে মসজিদটির দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং মান্দা উপজেলা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। সুলতানি আমলের সাক্ষী কুসুম্বা মসজিদ এর ছবি বাংলাদেশের পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত আছে। কুসুম্বা মসজিদকে নওগাঁ জেলার ইতিহাস এবং মুসলিম স্থাপত্য শিল্পরীতির অনবদ্য নিদর্শন হিসাবে গন্য করা হয়। এ অঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্য শৈলীর প্রথম যুগের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ দেখতে সারাদেশ থেকে অসংখ্য লোকের সমাগম ঘটে।

    কুসুম্বা মসজিদ আত্রাই নদীর পশ্চিমতীরস্থ নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার অন্তর্গত কুসুম্বা গ্রামের নাম অনুসারে পরিচিত। প্রাচীর দিয়ে ঘেরা আঙ্গিনার ভেতরে মসজিদটি অবস্থিত। এ আঙ্গিনায় প্রবেশের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় একটি প্রবেশদ্বার যেখানে প্রহরীদের দাঁড়ানোর জায়গা রয়েছে। বাংলায় আফগানদের শাসন আমলে শূর বংশের শেষ দিকের শাসক গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহ-এর রাজত্বকালে জনৈক সুলায়মান মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি সম্ভবত একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন।

    পূর্বদিকের কেন্দ্রীয় প্রবেশদ্বারের উপরে স্থাপিত আরবিতে (শুধু নির্মাতা শব্দটি ফারসিতে) উৎকীর্ণ শিলালিপি অনুসারে এ মসজিদের নির্মাণকাল ৯৬৬ হিজরি (১৫৫৮-৫৯ খ্রি.)। মসজিদটি শূর আমলে নির্মিত হলেও এ মসজিদে উত্তর ভারতে ইতঃপূর্বে বিকশিত শূর স্থাপত্যের প্রভাব মোটেই দেখা যায় না, বরং এটি বাংলার স্থাপত্য রীতিতেই নির্মিত। ইটের গাঁথুনি, সামান্য বক্র কার্নিশ এবং সংলগ্ন অষ্টকোণাকৃতির পার্শ্ববুরুজ প্রভৃতি এ রীতির পরিচায়ক বৈশিষ্ট্যাবলি। এ মসজিদ ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত।

    ভূমি নকশা, কুসুম্বা মসজিদ
    মসজিদটির মূল গাঁথুনি ইটের তৈরী হলেও এর বাইরের দেওয়ালের সম্পূর্ণ অংশ এবং ভেতরের দেওয়ালে পেন্ডেন্টিভের খিলান পর্যন্ত পাথর দিয়ে আবৃত। এর স্তম্ভ, ভিত্তিমঞ্চ, মেঝে এবং পাশের দেওয়ালের জালি নকশা পাথরের তৈরী। আয়তাকার এ মসজিদ তিনটি ‘বে’ এবং দুটি ‘আইলে’ বিভক্ত। পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে প্রবেশপথ রয়েছে। কেন্দ্রীয় মিহরাবটি পশ্চিম দেওয়াল থেকে সামান্য অভিক্ষিপ্ত।

    অভ্যন্তরভাগের পশ্চিম দেওয়ালে (কিবলা দেওয়ালে) দক্ষিণ-পূর্ব দিকের এবং মাঝের প্রবেশপথ বরাবর মেঝের সমান্তরালে দুটি মিহরাব আছে। তবে উত্তর-পশ্চিম কোণের ‘বে‘তে অবস্থিত মিহরাবটি একটি উচু প্লাটফর্মের মধ্যে স্থাপিত। পূর্বদিকে স্থাপিত একটি সিঁড়ি দিয়ে এ প্লাটফর্মে উঠা যায়।

    কুসুম্বা মসজিদের কেন্দ্রীয় মিহরাবঃ
    মিহরাবগুলি খোদাইকৃত পাথরের নকশা দিয়ে ব্যাপকভাবে অলংকৃত। এগুলিতে রয়েছে বহুখাজ বিশিষ্ট খিলান। সূক্ষ্ম কারুকার্য খচিত পাথরের তৈরী স্তম্ভের উপর স্থাপিত এ খিলানগুলির শীর্ষে রয়েছে কলস মোটিফের অলংকরণ। স্তম্ভগুলির গায়ে রয়েছে ঝুলন্ত শিকল ঘন্টার নকশা। মিহরাবের ফ্রেমে রযেছে প্রায় সর্পিল আকারে খোদিত আঙ্গুর গুচ্ছ ও লতার নকশা। এ ছাড়া রয়েছে প্রায় বিন্দুর আকার ধারণকারী কলস, বৃক্ষলতা ও গোলাপ নকশা। প্লাটফর্মের প্রান্তেও রয়েছে আঙ্গুর লতার অলংকরণ। আর এ প্লাটফর্মের ভারবহনকারী খিলানের স্প্যান্ড্রিল এবং মসজিদের কিবলা দেওয়াল জুড়ে রয়েছে গোলাপ নকশা।

    বাইরের দেওয়ালে আস্তরণ হিসেবে ব্যবহূত পাথরগুলি অমসৃণ এবং এতে রয়েছে গভীর খোদাইকার্য। বাইরের দিকে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন অলংকরণ গুলি ছাঁচে ঢালা। এগুলি দেওয়াল গাত্রকে উচু নিচু অংশে বিভক্ত করেছে। এ ছাড়া বক্র কার্নিশ জুড়ে, পাশ্ববুরুজগুলিকে ঘিরে, কার্নিশের নিচে অনুরূপ অলঙ্করন বিস্তৃত। পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালের গায়ে আয়তাকার খোপ নকশাকে ঘিরে ফ্রেম হিসেবে ছাঁচে ঢালা অলংকরণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের খিলানের স্প্যান্ড্রিল ছোট ছোট কলস ও গোলাপ নকশায় পরিপূর্ণ। উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালে রয়েছে জালি ঢাকা জানালা।

    বাংলার প্রকৃতিতে এখন পৌষপার্বণ। বলা হয় যে, কোনো ভ্রমণের জন্য সেরা মৌসুম হচ্ছে শীতকাল।
    তাই শীতকালে দেশের পর্যটন শিল্প চাঙা হয়ে ওঠে।
    প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটনস্পট। একটু নির্মল আনন্দ ও বিনোদনের আশায় মানুষ ছুটে যাচ্ছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। প্রাণভরে উপভোগ করছেন সব নৈসর্গিক সৌন্দর্য। আমাদের সবুজ শ্যামল বাংলার এমনিতেই রূপের অভাব নেই। দেশের যে প্রান্তেই যান না কেন, আপনি প্রাণ ভরে পান করতে পারবেন এ দেশের রূপসুধা।

    ঘোরাঘুরি করতে চাইলে এদেশের ভেতরেই আছে অসংখ্য জায়গা। এই শীতে ঘুরে আসতে পারেন রাজশাহীর পাশের জেলা নওগাঁ শহরে। এখানে অনেক প্রাচীন স্থাপত্যের মধ্যে রয়েছে সুলতানি আমলের ঐতিহ্য ‘কুসুম্বা’ মসজিদ।

    রাজশাহী বিভাগের উত্তরেই নওগাঁ জেলার অবস্থান। এটি বিভাগের বরেন্দ্রীয় অংশ। ভারত সীমারেখা ঘেঁষে থাকা নওগাঁ জেলার মোট উপজেলার সংখ্যা ১১টি। এর মধ্যে মান্দা অন্যতম। কারণ প্রায় সাড়ে চারশ বছরের ঐতিহ্য ও স্মৃতি ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে ‘কুসুম্বা মসজিদ’। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের মান্দা ব্রিজের পশ্চিম দিকে ৪শ মিটার উত্তরে ঐতিহাসিক এই মসজিদের অবস্থান।

    নওগাঁ জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। স্থানীয়দের কাছে এর আরেক নাম কালাপাহাড়। কুসুম্বা মসজিদকে তাই নওগাঁ জেলার ইতিহাস ও মুসলিম ঐতিহ্যের উজ্জ্বল নিদর্শন বলা হয়। মসজিদের উত্তর-দক্ষিণ দিকে রয়েছে ৭৭ বিঘা বিশিষ্ট একটি বিশাল দিঘি। গ্রামবাসী ও মুসল্লিদের খাবার পানি, গোসল ও অজুর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এ দিঘিটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর পাড়েই তৈরি করা হয়েছে কুসুম্বা মসজিদ। কুসুম্বা মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা, চওড়া ৪২ ফুট।

    চারদিকের দেয়াল ৬ ফুট পুরু। মসজিদের সামনের দিকে রয়েছে তিনটি দরজা। এই কুসুম্বা মসজিদ সুলতানি আমলের একটি পুরাকীর্তি। চারদিকের দেয়ালের ওপর বাইরের অংশ পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

    মসজিদের সামনে থাকা তিনটি দরজার মধ্যে দু’টি বড়, একটি অপেক্ষাকৃত ছোট। দরজাগুলো খিলানযুক্ত মিহরাব আকৃতির। মসজিদের চার কোণায় রয়েছে চারটি মিনার। মিনারগুলো মসজিদের দেয়াল পর্যন্ত উঁচু ও আট কোণাকার। ছাদের ওপর রয়েছে মোট ছয়টি গম্বুজ। যা দু’টি সারিতে তৈরি। বাংলায় আফগানদের শাসন আমলে শূর বংশের শেষদিকের শাসক গিয়াস উদ্দিন বাহাদুর শাহর রাজত্বকালে জনৈক সুলাইমান মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। এ মসজিদের নির্মাণকাল ৯৬৬ হিজরি (১৫৫৮-৫৯ খ্রিস্টাব্দ)।

    ইতিহাসবিদদের মতে, কুসুম্বা মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যকলার এক অনুপম নিদর্শন। সবর খান বা সোলায়মান নামে ধর্মান্তরিত এক মুসলিম এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মূল প্রবেশপথে শিলালিপি থেকে প্রমাণিত হয় এ মসজিদটি ৯৬৬ হিজরি বা ১৫৫৮-৫৯ খ্রিস্টাব্দে শের শাহ’র বংশধর আফগান সুলতান প্রথম গিয়াস উদ্দিন বাহাদুরের শাসনামলে (১৫৫৪-১৫৬০) নির্মিত। সে হিসাবে মসজিদটির বর্তমান বয়স ৪৭৪ বছর। কেন্দ্রীয় মেহরাবের ওপরাংশ শেরশাহের শাসনামলে নির্মিত।

    বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রাজশাহী জেলা পরিষদের ওভারশিয়ার সুরেন্দ্র মোহন চৌধুরী কুসুম্বা গ্রামের প্রাচীন ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি শিলালিপি আবিষ্কার করেন। শিলালিপিটি বর্তমানে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বরেন্দ্র জাদুঘরে রয়েছে। যে কেউ জাদুঘরে গেলে শিলালিপিটি দেখতে পারবেন।

    ১৮৯৭ সালের এক ভূমিকম্পে কুসুম্বা মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষিত। মসজিদটির মূল গাঁথুনি ইটের তৈরি হলেও এর বাইরের দেয়ালের সম্পূর্ণ অংশ এবং ভেতরের দেয়ালে পেনডেন্টিভের খিলান পর্যন্ত পাথর দিয়ে আবৃত। এর স্তম্ভ, ভিত্তিমঞ্চ, মেঝে ও পাশের দেয়ালের জালি-নকশা পাথরের তৈরি। আয়তাকার এ মসজিদ তিনটি ‘বে’ ও দুটি ‘আইলে’ বিভক্ত। পূর্বদিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে প্রবেশপথ আছে।
    কেন্দ্রীয় মিহরাবটি পশ্চিম দেয়াল থেকে সামান্য অবিক্ষিপ্ত। মসজিদের অভ্যন্তরভাগের পশ্চিম দেয়ালে (কিবলামুখী দেয়ালে) দক্ষিণ-পূর্ব দিকের এবং মাঝের প্রবেশপথ বরাবর মেঝের সমান্তরালে দু’টি মিহরাব আছে। তবে উত্তর-পশ্চিম কোণে থাকা মিহরাবটি একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মের মধ্যে স্থাপিত। পূর্বদিকে স্থাপিত একটি সিঁড়ি দিয়ে এ প্ল্যাটফর্মে ওঠা যায়।

    মিহরাবগুলো খোদাই করা পাথরের নকশা দিয়ে ব্যাপকভাবে অলংকৃত। কারুকার্য খচিত পাথরের তৈরি স্তম্ভের ওপর স্থাপিত এ খিলানগুলোর শীর্ষে রয়েছে কলস মোটিফের অলংকরণ। স্তম্ভগুলোর গায়ে রয়েছে ঝুলন্ত শিকল ঘণ্টার নকশা। মিহরাবের ফ্রেমে রয়েছে প্রায় সর্পিল আকারে খোদিত আঙুরগুচ্ছ ও লতার নকশা। এছাড়া প্রায় বিন্দুর আকার ধারণকারী কলস, বৃক্ষলতা ও গোলাপ নকশা রয়েছে গা ঘেঁষে। প্ল্যাটফর্মের প্রান্তেও রয়েছে আঙুরলতার অলংকরণ। আর এ প্ল্যাটফর্মের ভারবহনকারী খিলানের স্প্যান্ড্রিল ও মসজিদের কিবলা দেয়ালজুড়ে রয়েছে গোলাপ নকশা। বাইরের দেয়ালে আস্তরণ হিসেবে ব্যবহৃত পাথরগুলো অমসৃণ।

    বর্তমানে বছরের যে কোনো উৎসবে বা শীত মৌসুমে দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক এই কুসুম্বা মসজিদ দেখতে যান। তবে মসজিদটি ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবে ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে ওঠেনি। রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর শীতের সময় অনেকে এ মসজিদ পরিদর্শনে আসেন।

    কুসুম্বা মসজিদকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা প্রশ্নে নওগাঁ জেলা প্রশাসক (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ জানান, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

    কীভাবে যাবেন কুসুম্বা মসজিদ
    রাজধানী ঢাকা থেকে প্রথমে রাজশাহী যেতে হবে। রাজশাহীর ওপর দিয়ে ছাড়া এখানে যাওয়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ঢাকা-রাজশাহীর বাস ভাড়া লাগবে ৬০০ টাকা। এরপর রাজশাহী মহানগরের গোরহাঙ্গা রেলগেট বাসস্টপেজ থেকে নওগাঁর বাসে উঠে ৫০ টাকা ভাড়ায় মান্দার ফেরিঘাটের আগে কুসুম্বা মোড়ে নামতে হবে। এখানে নেমে হেঁটে এক মিনিটের পথ কুসুম্বা মসজিদ। আর থাকার জন্য নওগাঁ শহরে রয়েছে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল। সেখানে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে এক হাজার টাকায় একদিনের জন্য রুম ভাড়া পাওয়া যাবে

    লেখক : মোঃ হায়দার আলী

  • রাজশাহী-১ ভাগ্য নির্ধারণ করবে আওয়ামী ‘ভোট ব্যাংক’

    রাজশাহী-১ ভাগ্য নির্ধারণ করবে আওয়ামী ‘ভোট ব্যাংক’

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে এবার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে এখন উত্তাপ ছড়াচ্ছে চায়ের দোকানে। চলছে নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
    বিএনপির একজন কর্মী বলেন, “১৭ বছর যাঁদের আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে দেখেছি, এখন তাঁদের আবার বিএনপির মিছিলে দেখছি। নেতারা মনে করছেন, জয় পেতে আওয়ামী লীগের ভোট লাগবে। আওয়ামী লীগের ভোটারগণ বলছে, তারা আগামিতে দিনেও ভালো থাকতে বিএনপির পক্ষ নিয়েছেন।
    তানোর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আখেরুজ্জামান হান্নান দাবি করেন, “আওয়ামী লীগের ভোটারদের ৮০ শতাংশ ভোট বিএনপি পাবে। একইভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভোটও আমাদের দিকে যাবে। ফলে এ আসনে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।”
    ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রাজশাহী-১ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এবার বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নামছে। বিশেষ করে, প্রায় ৭০ হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোটারের কারণে ‘আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত এই আসন। সব মিলিয়ে প্রার্থীর ভাগ্য এই ভোটেই নির্ধারিত হবে।
    চার প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ভোটের মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হল বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন ও জামায়াতের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। শরীফ উদ্দীন বিএনপির চেয়ারপারসনের সামরিক উপদেষ্টা ছিলেন। মুজিবুর রহমান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এবং ১৯৮৬ সালে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
    ১৯৯১-২০০১ সালে আসনটি সংসদ সদস্য হিসেবে দখল করেছিলেন শরীফ উদ্দীনের বড় ভাই আমিনুল হক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৬ ভোট। বিএনপির এম এনামুল হক পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৫০ ভোট।
    তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীর ইতিমধ্যে দুজন নেতা জামায়াতের সমর্থনে মঞ্চে উঠেছেন। দেবানন্দ বর্মন তানোর উপজেলার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি। তিনি দাঁড়িপাল্লাকে সমর্থন দিয়েছেন। তানোরের দর্শনাথ দাসও একইভাবে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।
    গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে অনেকেই এখনও দ্বিধাগ্রস্ত। পাঁঠাকাটার মোড়ের কর্মকার সম্প্রদায়ের এক নারী জানালেন, “আমরা কী করব বুঝতে পারছি না। যে দল হারবে, সে ভোটের পরে এসে অভিযোগ করতে পারে আমরা ভোট দিই নি।”
    গোদাগাড়ী উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতা তাদের ভোটারদের নাখোশ অবস্থা তুলে ধরেন। “আমাদের নামে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে, তবে আমরা জানিই না। এ সব মামলা করার পিছনে বিএনপি নেতাদের হাত রয়েছে। এই ক্ষোভে সাধারণ কর্মীরা জামায়াতকে ভোট দিতে পারে। গ্রামের অনেক কেন্দ্রে জামায়াত জিতলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।তবে আরেক নেতা বলেন,বিএনপির পরাজয় হলে পরবর্তীতে মামলার সংখ্যা বাড়তে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই আওয়ামী লীগের ভোটারগণ বিএনপির পক্ষে ঝুকছে।
    গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম জানান, “আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গেলে বিএনপিকেই ভোট দেবেন। ২০০৮ সালে ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে আমাদের ভোট কমানো হয়েছিল। এবার সেই ভোটেই জয় হবে।”
    গোদাগাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির নুমাউন আলী বলেন, “আমরা কারও নামে হয়রানিমূলক মামলা করি না। নির্বাচনে জিতলেও বা হারলেও কাউকে ক্ষতি করি না। আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”

  • তানোরে শরীফ পুত্রের গ-ণসংযোগ

    তানোরে শরীফ পুত্রের গ-ণসংযোগ

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
    রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনের বিজয় নিশ্চিত করতে জেলা যুবদলের সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের উদ্যোগে
    তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি)বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করা হয়েছে।
    এদিন গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি প্রার্থী মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনের দ্বিতীয় পুত্র অথৈয় জয় শরীফ, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ন-আহবায়ক ও তানোর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোতালেব হোসেন,তানোর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক ও কামারগাঁ ইউপি বিএনপি নেতা সুলতান আহম্মেদ মাস্টার,কামারগাঁ ইউপি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম মাস্টার, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কেন্দ্র পরিচালন কমিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন, কলমা ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রুবেল ইসলাম, কামারগাঁ ইউপি ছাত্রদল নেতা হৃদয় আক্তার সজীব, সুইট, রাজু, আকাশ, ফাহাত, অমিত ও রুমানপ্রমুখ।
    এদিন গণসংযোগে দলীয় নেতা ও কর্মী-সমর্থকের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ঢল নামে। এসময় সাধারণ ভোটারগণ ব্যারিস্টার আমিনুল হক পরিবারের উন্নয়নের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও নির্বাচনে তার পরিবারের সদস্য শরীফ উদ্দিনকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

  • সুজানগরে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে স্বাস্থ্য সেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ পেল হাজারের অধিক অসহায় রোগী

    সুজানগরে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে স্বাস্থ্য সেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ পেল হাজারের অধিক অসহায় রোগী

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ পাবনার সুজানগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় ফ্রি স্বাস্থ্য ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ড্যাব পাবনা জেলা শাখার আয়োজনে এবং সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও পাবনা-২ আসনের ড্যাব সমন্বয়ক ডাঃ ওয়াসিম খানের সার্বিক তত্ত্বাবধনে মঙ্গলবার উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের কামালপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এক হাজারের অধিক মানুষকে চিকিৎসাসেবা সেবা প্রদানের পাশাপাশি বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করা হয় । ফ্রি এ স্বাস্থ্য ক্যাম্পে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মাসুদুর রহমান প্রিন্স, ডাঃ হাসানুজ্জামান টুটুল,ডাঃ মেহেদী মোস্তফা, ডাঃ হারুন অর রশিদ ও ডাঃ মনিরুজ্জামানসহ ৩০জন চিকিৎসক। এ স্বাস্থ্য ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারীরা জানান, গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের খেয়ে পরে বেঁচে থাকাই তো দায়! আর চিকিৎসা বলতে খুব বেশি হলে বাজারের কোন ফার্মেসি থেকে বড় জোর দুয়েক পাতা ট্যাবলেট। জটিল কোন রোগেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের হাতের ছেঁায়া পায় না তারা। এমবিবিএস ডাক্তার তাদের কাছে যেন এক স্বপ্ন! এমন আমাদের মতো অসহায় চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দঁাড়ানোয় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ড্যাব পাবনা জেলা শাখার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন । এদিকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাওয়ায় নির্মল আনন্দ এনে দেয় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষদের । বুকে ব্যথা নিয়ে এদিন স্বাস্থ্য ক্যাম্পে এসেছিলেন আব্দুস সবুর অনেকদিন থেকেই ভুগছিলেন। তবে অর্থের অভাবে যেতে পারেননি কোনো হাসপাতালে। হাতের কাছে ডাক্তার পেয়ে তার অবস্থা যেন সোনায় সোহাগা! শুধু আব্দুস সবুরই নয়, এমন অনেক নানান আকুতি নিয়ে এসেছিলেন আরো অনেকে। সাজেদা খাতুন এসেছিলেন ঘুমের সমস্যা নিয়ে। চিকিৎসকের পরামর্শও মিলেছে। বেশ হাসিখুশি মনেই পা বাড়ান বাড়ির পথে। যাওয়ার আগে বলেন, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাইছি, এটাই আমার জন্য অনেক পাওয়া। মানুষের এমন ভালোবাসার অনেক অভিব্যক্তিই শোনা গেছে স্বাস্থ্য ক্যাম্পের এ আয়োজনে। সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও পাবনা-২ আসনের ড্যাব সমন্বয়ক ডাঃ ওয়াসিম খান জানান, স্বাস্থ্য ক্যাম্পের মাধ্যমে অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবা দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এখানে এসে আমরা মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছি। ইনশআল্লাহ আমাদের এ ধরণের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এদিকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ড্যাব এমন মহতী কর্মকাণ্ড প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বমহলে। স্বাস্থ্য ক্যাম্পে সুজানগরের বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • পাইকগাছায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সনাতনী সমাবেশে জনতার ঢল

    পাইকগাছায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সনাতনী সমাবেশে জনতার ঢল

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা ( খুলনা )

    সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি। সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সনাতনী সমাবেশে হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত সকল ধর্মের মানুষের দল বিএনপি। তাই তো হিন্দু সমাজের সুখে-দুঃখে সর্বদা পাশে আছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি সবসময় সকল ধর্মের মানুষের বন্ধু। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপি খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু একথা বলেন।

    ০৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বিকালে পাইকগাছা সরকারি কলেজ মাঠে হিন্দু বৌদ্য খ্রিস্টান কল্যান ঐক্য ফ্রন্ট পাইকগাছা উপজেলার আয়োজিত বিশাল সনাতনী সমাবেশ সংগঠনের সভাপতি প্রভাষক সুজিত কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক যোগেশ্বর সানা কার্তিকের সঞ্চালনায় পাইকগাছা সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

    তিনি আরও বলেন, ১৭ বছর জনগণের ভোট ছাড়া হাসিনা জোর করে ক্ষমতা ধরে রেখেছিল। হাসিনা হিন্দু-মুসলিম কারো স্বার্থও রক্ষা করেনি। এজন্যই স্যান্ডেল ফেলে হাসিনাকে পালাতে হয়েছে। আওয়ামীলীগ নেতারা বলেছিলেন, হাসিনার পতন হলে ২ লাখ মানুষ মারা যাবে, কিন্তু আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে কোন মানুষের উপর বিএনপি হামলা হতে দেয়নি। ধর্ম-বর্ন-নির্বিশেষে সবার অধিকার রক্ষায় বদ্ধ পরিকর তারেক রহমান। বক্তৃতার শেষে তিনি উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানান।

    খুলনা-৬ (কয়রা পাইকগাছা) বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী খুলনা জেলা বিএনপি সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অটুট বন্ধনকে সুসংহত করতে এই সমাবেশ এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আপনারা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ভোটারদের কাছে কাছে যাবেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যেই আপনারা ভোট কেন্দ্রে ভোট দিবেন ও রেজাল্ট নিয়ে বাসায় আসবেন। আমি আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে বাসযোগ্য অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবো।

    সনাতনী সমাবেশে বিশেষ অতিথি পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডাঃ মোঃ আব্দুল মজিদ (এমবিবিএস) জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শামিম কবির, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামূল হক সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি জাসাসের সহ-সভাপতি ও কণ্ঠশিল্প বিএম নাসিরউদ্দীন নাসির, পাইকগাছা পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব এস, এম, এ ইমদাদুল হক, পৌরসভা বিএনপি সাধারন সম্পাদক কামাল আহম্মেদ সেলিম নেওয়াজ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি জিএম আব্দুস সাত্তার।

    অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ শেখর চন্দ্র বিশ্বাস, ডাঃ নিরাঞ্চন মন্ডল, মেছের আলী, গোপাল চন্দ্র রায়, রীতা মন্ডল, কৃষ্ণ কর্মকার, লক্ষ্মীরানী গোলদার, রবেন্দ্রনাথ মন্ডল, জিতেন্দ্র মন্ডল, মুকুন্দ মোহন বৈদ্য পান্থ, রনজিতা বিশ্বাস, দেবেন ঘোষ, সাদ্দাম হোসেন, কলিঙ্গরাজ মন্ডল, নিলাদ্রী সরদার, সন্তোষ কুমার সরদার, কিশোর সানা, প্রণব কান্তি মন্ডল, তুষার কান্তি মন্ডল, সোলাদানা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিযুষ কান্তি মন্ডল, কিশোর কুমার মন্ডল, অধীর কৃষ্ণ মন্ডল, বিশ্বজিত কুমার সাধু, দীপংকর বাবুসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রেরক,
    ইমদাদুল হক
    পাইকগাছা,খুলনা

  • নেছারাবাদে ধানের শীষের পক্ষে পূজা উদযাপন ফ্রন্টসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশাল মি-ছিল ও আলোচনা সভা

    নেছারাবাদে ধানের শীষের পক্ষে পূজা উদযাপন ফ্রন্টসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশাল মি-ছিল ও আলোচনা সভা

    নেছারাবাদ প্রতিনিধি,পিরোজপুর।।

    পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যাপক অংশগ্রহণে এক বিশাল মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের পক্ষে শক্ত বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
    মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক টুটুল আইচের নেতৃত্বে উপজেলা চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমনের নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    মিছিল ও আলোচনা সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার-ফেস্টুনে মুখরিত এ কর্মসূচি স্থানীয় জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাফিজ সিকদার, পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. জসিম বাহাদুর, নেছারাবাদ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. আব্দুল্লাহ আল জুবায়েরসহ স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় সবসময় গণতন্ত্র, শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়েছে। তারা বলেন, ধানের শীষের প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন একজন উদারচিন্তার নেতা, যিনি সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। তার নেতৃত্বে নেছারাবাদে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
    বক্তারা আরও বলেন, দেশের বর্তমান সংকটময় সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমনকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার কোনো বিকল্প নেই।
    শেষে বক্তারা সকল ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

    আনোয়ার হোসেন।।

  • আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের অ-ভিযানে চো-র ও ছি-নতাইকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রে-ফতার

    আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের অ-ভিযানে চো-র ও ছি-নতাইকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রে-ফতার

    হেলাল শেখ: ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) পুলিশ।

    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ডিবি পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ শাহাদাৎ হোসেন সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন-আশুলিয়ার নয়ারহাট বেলতলার নয়ন খান (৪০), সাভারের তোফাজ্জল হোসেন (৪২), আশুলিয়া এলাকা থেকে মোঃ সবুজ শেখ (২৮) এবং মোঃ বদর শেখ (৪০)।
    ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে তারা সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই থানাধীন এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
    এছাড়াও আসামিদের সিডিএমএস পর্যালোচনায় দেখা যায়-১নং আসামীর বিরুদ্ধে ৩টি,
    ২নং আসামীর বিরুদ্ধে ২টি এবং
    ৪নং আসামীর বিরুদ্ধে ৩টিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

    ডিবি পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • ঢাকা-১৯ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাউদ্দিন বাবুর পক্ষে ভোট চেয়ে লি-ফলেট বিতরণ

    ঢাকা-১৯ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাউদ্দিন বাবুর পক্ষে ভোট চেয়ে লি-ফলেট বিতরণ

    হেলাল শেখঃ ঢাকা-১৯ আসনের (সাভার-আশুলিয়া) নির্বাচনী এলাকায় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ ভোটার। সেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে রাত দিন ভোট চাচ্ছেন ধানের শীষের এমপি পদপ্রার্থী ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু সাহেব ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে আশুলিয়া এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবুর পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন আশুলিয়া থানা তাঁতি দলের সহ-সভাপতি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব বকুল ভুঁইয়াসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

    লিফলেট বিতরণকালে বক্তারা বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা দাবি করেন, আগামী ১২ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসনে ধানের শীষ প্রতীক বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।

  • শার্শার বালুণ্ডায় মাটি খননকালে বো-মা বি-স্ফোরণে দুইজন আহ-ত,  হাসপাতালে ভর্তি 

    শার্শার বালুণ্ডায় মাটি খননকালে বো-মা বি-স্ফোরণে দুইজন আহ-ত,  হাসপাতালে ভর্তি 

    ​আজিজুল ইসলাম,বাগআঁচড়া (যশোর) সংবাদদাতা  যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানাধীন বালুণ্ডা গ্রামে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে গিয়ে পুতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে দুইজন মাটিকাটা শুমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে আটটার সময় বালুণ্ডা বাজার পাড়ার গণি ঢালীর ছেলে জাকির হোসেন ঢালির বাড়ির পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন বালুন্ডা গ্রামের আব্দুল বারিক এর ছেলে জাকির হোসেন (৩৫) ও একই গ্রামের নুর জামালের ছেলে আব্দুল কাদের (৪০)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেনের বাড়ির পাশে টয়লেট নির্মানের জন্য মাটি খননের কাজ করার সময় পুতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে দুইজন শ্রমিক দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে জাকির হোসেন ও আঃ কাদের গুরুতর আহত হন।

    ঘটনার পরপরই উপস্থিত লোকজন আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত দুইজনকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন সামান্য আহত হলেও তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতেই রয়েছেন।

    বেনাপোল পোর্ট থানার এস আই রাশেদ আলী জানান,  বালুন্ডা গ্রামে মাটি খননকালে বোমার বিস্ফোরণে দুইজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ।  কে বা কারা কি কারণে বোমা পুতে রেখেছিলো সেটা তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।

  • থানচির বলিবাজারে এনসিপি প্রার্থী আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনের গ-ণসংযোগ ও প্রচারণা

    থানচির বলিবাজারে এনসিপি প্রার্থী আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনের গ-ণসংযোগ ও প্রচারণা

    থানচি প্রতিনিধি:মথি ত্রিপুরা।
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বান্দরবান ৩০০ নং সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার ও গণসংযোগ  অংশ হিসেবে বান্দরবানের থানচিতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার সদর, বলিপাড়া বাজার ও বিভিন্ন পাড়া সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আয়োজিত এ পথসভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পথসভায় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায। ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং শাপলা কলি মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় বাজার এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
    প্রচারণাকালে আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন বলেন,
    “আমি নির্বাচিত হলে থানচি উপজেলার অবহেলিত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করবো। পরিবর্তন চাইলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিতে হবে।”
    এ সময় তাঁর সঙ্গে এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান।
    এলাকাবাসীরা জানান, প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রচারণা চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।