Blog

  • শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

    শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

    একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার রাত ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাতে শরিক হন প্রধানমন্ত্রীসহ শহীদ মিনারে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষ।

    মোনাজাত শেষে মন্ত্রিসভার সদস্য ও নিজের উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর শ্রদ্ধা জানান বিএনপির নেতারা। পরিবারের সদস্যদের নিয়েও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান।

    এরপর শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন।

    তিন বাহিনীর প্রধানের পর শ্রদ্ধা জানান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াত জোট থেকে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা।

    এরপর শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা। তাদের পরে বেদীতে ওঠেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনার।

  • ঢাকা-১৯ এর এমপি সালাউদ্দিন বাবু অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহী/দদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

    ঢাকা-১৯ এর এমপি সালাউদ্দিন বাবু অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহী/দদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

    হেলাল শেখঃ সাভার ও আশুলিয়ার মা-মাটি-গণমানুষের নেতা, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অমর একুশের প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা ০১ মিনিটে) ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। তিনি সাভার উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

    এ সময় সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
    পরবর্তীতে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাভার-আশুলিয়া বিএনপির পক্ষ থেকে পুনরায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

  • একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদন

    একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদন

    বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া হয়।

    পরে বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গকে নিয়ে শহীদ মিনারে পুনরায় পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

    এর পরেই মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিবারের সদস্যবর্গকে নিয়ে শহীদ মিনারে পুনরায় পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

  • চৌধুরী মিনি সুপার মার্কেটে ভ-য়াবহ অ-গ্নিকাণ্ডে রাত ২টা ১৫ মিনিটে আ-গুন,একাধিক দোকান ভ-স্মীভূত

    চৌধুরী মিনি সুপার মার্কেটে ভ-য়াবহ অ-গ্নিকাণ্ডে রাত ২টা ১৫ মিনিটে আ-গুন,একাধিক দোকান ভ-স্মীভূত

    মোঃ শহিদুল ইসলাম
    বিশেষ সংবাদদাতাঃ

    চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইপিজেড মোড়ে অবস্থিত চৌধুরী মিনি সুপার মার্কেটে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটের দিকে মার্কেটের পেছনের অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একাধিক দোকানে, সৃষ্টি হয় চরম আতঙ্ক।

    স্থানীয়রা দ্রুত খবর দিলে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকানের বিপুল পরিমাণ মালামাল, আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

    প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ধারণা করছেন। যদিও আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

    শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলম। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সহযোগী সংগঠন যুব জামায়াতে ইসলামীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড নেতা মোঃ সাহেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

    পরিদর্শনকালে শফিউল আলম ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তিনি ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মার্কেট এলাকায় আধুনিক অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌধুরী মিনি সুপার মার্কেটের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা জানান,

    ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং নিরাপদ বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলেন, অনেকেই ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। হঠাৎ এ অগ্নিকাণ্ডে তাদের স্বপ্ন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন।

    ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, ইপিজেডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইনের তদারকি, ফায়ার সেফটি মহড়া এবং জরুরি সরঞ্জাম নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে।

  • পবিত্র রমজান মানে ভ্যানচালকের পাশে মানবিক এসিল্যান্ড

    পবিত্র রমজান মানে ভ্যানচালকের পাশে মানবিক এসিল্যান্ড

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাজশাহীর পুঠিয়ার মানবিক সহকারী কমিশনার (ভুমি) শিবু দাশ।
    উপজেলার খুটিপাড়া গ্রামের জনৈক ভ্যানচালকের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি। এ সময় উপস্থিত স্থানীয়রা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং প্রশংসা করে এমন উদ্যোগ চলমান রাখার অনুরোধ করেন।
    জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি রিক্সাভ্যান চালিয়ে পরিবারের জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আয়ের ঘাটতি ও শারীরিক কিছু জটিলতার কারণে তিনি চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে (এসিল্যান্ড) ও পৌর প্রশাসক শিবু দাশ তার পাশে দাঁড়ান।
    এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও পুঠিয়া পৌর প্রশাসক শিবু দাশ বলেন, “রমজান আত্মশুদ্ধি ও সহমর্মিতার মাস। সমাজের অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তার মতো পরিশ্রমী মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে পারলে সেটাই হবে রমজানের প্রকৃত শিক্ষা বাস্তবায়ন।”
    স্থানীয়দের মতে, এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করে। রমজানের প্রথম দিনেই এই সহমর্মিতার বার্তা এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে।তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আশার আহবান জানিয়েছেন।#

  • গোদাগাড়ীতে সজনে ফুলের অপরুপন দৃশ্য দেখে মন প্রাণ জু-ড়িয়ে যাবে

    গোদাগাড়ীতে সজনে ফুলের অপরুপন দৃশ্য দেখে মন প্রাণ জু-ড়িয়ে যাবে

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ শীতের শেষে বসন্তের আগমনে বাংলার প্রকৃতিতে গাছে গাছে শোভা ছড়াচ্ছে শ্বেতশুভ্র সজনে ফুল। ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এই ফুল গ্রামীণ প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণও অপরিসীম। এই শ্বেতশুভ্র ফুলগুলো রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামের পথে-প্রান্তরে এক মনোরম দৃশ্য তৈরি করে এবং প্রকৃতিতে ভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু প্রকৃতিতে ভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছেনা , বরং উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ, যা স্থানীয়ভাবে সুস্বাদু সবজি হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়।

    সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় সজনে গাছে সাদা ও হলুদাভ ফুলে ছেয়ে গেছে, যা প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য তৈরি করেছে। সজনে গাছ সম্পূর্ন বিনা পরিচর্চায় জেলার সকল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিভিন্ন বাড়িতে, পরিত্যক্ত জায়গায়, অনাবাদি জায়গায় সজনে গাছ রয়েছে।

    এছাড়া কিছু এলাকায় সজনে ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতি রঙিন হয়ে উঠেছে। সজনে ফুলের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেকেই সকাল-বিকেল হাঁটার সময় বা সড়কে যাতায়াতের সময় সজনে ফুল দেখে থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন চোখজুড়ানো এই প্রাকৃতিক শোভা। গাছের নিচে পড়ে থাকা ঝরা ফুল কুড়িয়ে নিচ্ছেন শিশু-কিশোররা।

    সজনের কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয় এবং এর পাতা শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এটি ডাল ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলেও আমাদের দেশে সাধারণত ডালের মাধ্যমে বা অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে এটির বংশবিস্তার করানো হয়। সজনে ফুলেরও ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। সজনে ফুলে আছে এমন ওষুধি গুণ যা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়াও এই ফুলে আছে ভরপুর পুষ্টিগুণ যা নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এর ফল শরীরে প্রোটিনের জোগান দেয়। এই গাছের বিভিন্ন অংশে আছে ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি৩, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপকারী উপাদান।

    উপজেলার গোগ্রাম আদর্শ বহুমূখী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলরন, প্রকৃতিতে ফোটা এই সজনে ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এ গাছ একটি উপকারী ভেষজ ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ গাছ। এর পাতা, ফল ও ফুল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি খুব পরিচিত একটি গাছ। এই বিষয়ে কথা হয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মদের সাথে। যদিও প্রকৃতির নিয়ে বেড়ে ওঠে সজনে গাছ।কিন্তু এটা মানব দেহের জন্য একটি ঔষধি গাছ। তবে কৃষির আদলে এটা চাষের আওতায় আনলেও কৃষকরা লাভবান হতে পারেন।

    উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, সজিনা ফুল একটি পুষ্টি ও সুস্বাদু খাবার। এই ভাজি করে খাওয়া যায়। খেতে খুবই সুস্বাদু। সজনে একটি ঔষধি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা ওলিফেরা। এটি মরিঙ্গাসিয়া পরিবারের মরিঙ্গা গণের একটি গাছ। এটি খরা সহিষ্ণু ও গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের একটি উদ্ভিদ। মাঝারি আকারের এই গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি পদে আলোচনায় শুচি

    সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি পদে আলোচনায় শুচি

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত আসনে তৃণমুলের পচ্ছন্দের শীর্ষে রয়েছেন
    জাতীয়তাবাদী মহিলা দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক শুচি।সাধারণ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সুচি মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছিলেন।কিন্ত্ত দল, নেতা ও নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে, তার বিজয়ী হবার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকার পরেও, তিনি দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। তার এই ত্যাগ তাকে সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হবার দৌড়ে অন্যদের থেকে তাকে এগিয়ে রেখেছে। সংরক্ষিত সংসদীয় আসন-৪৪ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) নির্বাচনে বিএনপির তৃণমূল শুচিকে প্রার্থী করার জোর দাবি করেছেন।
    জানা গেছে, ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাপ্ত আসনের বিপরীতে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। বিএনপির শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
    জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন কেউ কেউ। অনেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। কে কোন আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলছে জোর আলোচনা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে। এখন সবার নজর সেই ঘোষণার দিকেই।
    সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। আরপিও অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি। এছাড়া স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্ররাও সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন।
    সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
    বিএনপি সূত্রে জানা যায়, এবারের সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির নেত্রীরা। কয়েকজন ছাড়া বেশির ভাগ নেত্রীই এবার মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এবার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন তাদের মধ্যে শুচি এগিয়ে আছেন।
    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক শুচি বিএনপির রাজনীতিতে তৃণমুল নেতাকর্মীদের কাছে আস্থা ও ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তিনি একজন প্রচন্ড সাহসী, ত্যাগী ও আদর্শবান নেতৃত্ব যিনি রাজনীতিকে কখনোই ব্যক্তিস্বার্থ বা পদ-প্রাপ্তির হাতিয়ার হিসেবে দেখেননি, বরং জনগণের সেবা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করে যাচ্ছেন। তার জন্ম একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তিনি রাজনৈতিক সচেতন পরিবারের
    সন্তান হিসেবে শৈশব থেকেই সংগ্রামী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা মাসউদা আফরোজ হক শুচির। ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন রাজনীতি মানে জনগণের পাশে থাকা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, দুর্বল ও অসহায় মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়া। তার পিতা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় রাজনীতির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় শুচি ছোট থেকেই রাজনীতি ও সমাজসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, “রাজনীতি মানে মানুষের কল্যাণে কাজ করা—এই মনোভাবই একজন নেতাকে সত্যিকারের নেতা করে তোলে।পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ, ন্যায়পরায়ণতা ও সততার মূর্ত প্রতীক তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাজনীতির মাঠে শুচি একজন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ সম্পন্ন নারী নেতৃত্ব হিসেবে সুপরিচিত। তার চরিত্র, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য সর্বস্তরের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করে।
    ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে তিনি সর্বদা স্বচ্ছ, সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। কোনো প্রকার হিংসা, লোভ বা স্বার্থপরতা তার রাজনীতিতে জায়গা পায়নি। তার কাছে রাজনীতি মানেই দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে শুচি ছিলেন প্রথম সারির কর্মী ও নেতৃত্বের ভূমিকায়। যখনই দল বা দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে,তখনই তিনি রাজপথে থেকে সাহসিকতার সঙ্গে আওয়াজ তুলেছেন। উপজেলা, জেলা, বিভাগ এমনকি কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতেও তার বলিষ্ঠ উপস্থিতি তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি কখনো ভয় পাননি, কখনো আপোস করেননি বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জে ছিলেন দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী।
    জনগণের সেবায় নিবেদিত জীবন শুচি শুধু রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন সমাজসেবক। নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, বয়স্ক ও বিধবা নারীদের সহায়তা এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি নিয়মিত সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন জনগণের সেবায় নিয়োজিত জীবনই সবচেয়ে বড় রাজনীতি।” তার প্রতিটি পদক্ষেপেই জনগণকে কেন্দ্র করে চিন্তা করেন তিনি।#

  • মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারী জাতীয় জীবনে একটি স্মরণীয় দিন

    মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারী জাতীয় জীবনে একটি স্মরণীয় দিন

    মোঃ হায়দার আলীঃ মহান ও নিবেদিত পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়।
    এ জন্যই সমাজে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, শিক্ষার্থীরাও যুগে যুগে স্মরণ রাখেন। বেসরকারী শিক্ষক সমাজের ৫০ ভাগ ঈদ বোনাস, ১৫ ভাগ টাকা বাড়ীভাড়াসহ নানাবিধ সমস্যা নিয়ে কলাম লিখার চিন্তা ভাবনা করছিলাম। তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছিলাম। কিন্তু মহান শহীদ দিবস ও আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস দরজায় কড়া নাড়ছে, জানান দিচ্ছে তাই থিম পরিবতর্ন করে এবিষয়ে লিখা শুরু করলাম।

    মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৫২ সালের এই দিনে আমাদের মাতৃভূমীর সাহসী সন্তানেরা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছিলেন। তখন থেকে দিনটিকে আমরা ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে উদয্পন করে আসছি। ১৯৯৯ সালে ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

    প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি ভূখণ্ডের দুটি ভিন্ন ভাষার জাতিসত্তাকে মিলিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম থেকেই মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করে সূচনা হয়েছিল আন্দোলনের। আর এই ভাষা আন্দোলনকেই বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির পথে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে এই দিনটিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হতো। এই ইতিহাস বাংলাদেশের অনেকেরই জানা। কিন্তু এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরির পেছনে রয়েছে আরও অনেক সংগ্রামের ইতিহাস।
    ভাষা থেকে যেভাবে আন্দোলনের সূচনাঃ
    ১৯৪৭ সালে যখন দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়েছিল তার আগেই আসলে শুরু হয়েছিল ভাষা নিয়ে বিতর্ক। ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন ও আহমদ রফিক তাদের ভাষা আন্দোলন-ইতিহাস ও তাৎপর্য বইয়ে লিখেছেন, “প্রথম লড়াইটা প্রধানত ছিল সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ”।

    এই বইটির বর্ণনা অনুযায়ী দেশভাগের আগেই চল্লিশের দশকের শুরুতেই সাহিত্যিকরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। সেসময় বাঙালী মুসলমান সাহিত্যিক, শিক্ষক, রাজনীতিবিদদের মধ্যে বাংলা, উর্দু, আরবি ও ইংরেজি এই চারটি ভাষার পক্ষ-বিপক্ষে নানান মত ছিল।

    আবদুল মতিন ও আহমদ রফিক লিখেছেন, “ভাষা আন্দোলন বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়।…….এর সূচনা মূল আন্দোলন শুরু হওয়ার কয়েক দশক আগেই এবং বাঙালি মুসলমানের সেকুলার জাতিয়তাবোধ এর পেছনে কাজ করেছে।”

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটঃ পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠন নিশ্চিত হওয়ার পর উর্দু-বাংলা বিতর্ক আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সেসময়কার গুরুত্বপূর্ন ‘মিল্লাত’ পত্রিকায় এক সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিল, “মাতৃভাষার পরিবর্তে অন্য কোন ভাষাকে রাষ্ট্রভাষারূপে বরণ করার চাইতে বড় দাসত্ব আর কিছু থাকিতে পারে না।”

    অবিশ্বাসের বীজ বপনঃ ১৯৪৭ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর জিয়াউদ্দিন আহমেদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করেছিলেন। তখন ভাষা নিয়ে বিতর্ক আবারো জেগে উঠেছিলো। ততদিনে মুসলিম বাঙালীদের আত্ম-অন্বেষণ শুরু হয়ে গিয়েছিলো। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের কয়েক মাসের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রথম মুদ্রা, ডাকটিকেট, ট্রেনের টিকেট, পোস্টকার্ড ইত্যাদি থেকে বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দু ও ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়। পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের এই ঘোষণায় পর ঢাকায় ছাত্র ও বুদ্ধিজীবীদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    কমিশনের বাঙালী কর্মকর্তারা সরকারি কাজে বাংলা ভাষার প্রয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছিলেন। পাকিস্তান গঠনের সময় পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী, পরবর্তীতে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৪৮ সালে আইন পরিষদের অধিবেশনে বলেছিলেন, ভাষা সম্পর্কিত বিতর্ক শুরু হওয়ার আগেই এসব ছাপা হয়ে গেছে। যদিও তার এই বক্তব্য সবাই গ্রহণ করেনি।

    রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনঃ সেসময় বুদ্ধিজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে মাতৃভাষার পরিবর্তে উর্দু চাপিয়ে দিলে বাংলাভাষী পরবর্তী প্রজন্ম অশিক্ষিত হয়ে পড়বে, বাংলা ভাষার সত্ত্বা ঝুঁকিতে পরবে। স্বাধীনভাবে মাতৃভাষার চর্চার ক্ষেত্রে এটিকে বড় আঘাত বলে মনে করা হয়েছে। এসব বিষয়ে বাঙালির মনে ক্ষোভের অনুভূতি তখন থেকেই দানা বাঁধতে থাকে। সেই সালেই শেষের দিকে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।

    জিন্নাহ ও তার অনমনীয় অবস্থানঃ তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাংলাভাষীরা উর্দুভাষীদের চেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। তারপরও ১৯৪৮ সালের ২১শে মার্চ পূর্ব পাকিস্তান সফরে এসে রেসকোর্স ময়দানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এক সমাবেশে স্পষ্ট ঘোষণা করেছিলেন যে ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা’।

    সেই সমাবেশেই উপস্থিত অনেকেই সাথে সাথে প্রতিবাদ করে ওঠেন। এই ঘোষণাকে বলা যেতে পারে নতুন রাষ্ট্র সম্পর্কে বাঙালীর স্বপ্নভঙ্গের সূচনা। জিন্নাহ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে শুরু থেকে অনমনীয় মনোভাব প্রকাশ করেছেন। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পেছনে বাঙালীদের উপর রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রভুত্ব কায়েম করা ও শোষণের অভিসন্ধি বলে মনে করা হয়েছিল। বাঙালীদের মনে পাকিস্তানের প্রতি অবিশ্বাসের ভীত তৈরি হয়েছিল।

    ভাষা ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য আরও জোরালোভাবে প্রতীয়মান হচ্ছিল। ধর্ম নয় বরং বাঙালী জাতিয়তাবাদের ধারনা স্পষ্ট হতে শুরু করেছিল। অন্যদিকে তখনকার উর্দুভাষীরা বাঙালীর সংস্কৃতিকে ‘হিন্দুয়ানী’ বলে মনে করাটা বাংলা ভাষার প্রতি তাদের বিতৃষ্ণার আরেকটি কারণ।

    ভয়ঙ্কর অগ্নি স্ফুলিঙ্গের জন্মঃ জিন্নাহ’র মৃত্যুর পরও রাষ্ট্রভাষা নিয়ে নানা রকম প্রস্তাব, পাল্টা প্রস্তাব চলতে থাকে। দেশভাগের পর থেকে ১৯৫২ সালের শুরু পর্যন্ত বাঙালীরা জোরালোভাবে রাষ্ট্রভাষা উর্দু সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধ মনোভাব ব্যক্ত করে গেছেন।
    প্রতিক্রিয়া হিসেবে থেমে থেমে আন্দোলন চলেছে। তবে এই আন্দোলনে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অগ্নি স্ফুলিঙ্গের জন্ম হয় যখন বায়ান্নর ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের অ্যাসেম্বলিতে উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।

    পূর্ব-বঙ্গের অধিবাসী হওয়া সত্ত্বেও ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় সফরে এসে খাজা নাজিমুদ্দিন পল্টনে এক সমাবেশে জিন্নাহ’র কথাই পুনরাবৃত্তি করেন। সেসময়ও একইভাবে জোরালো প্রতিবাদে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগান ওঠে।

    একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটিতে যা ঘটেছিলঃ
    বলা হয়ে থাকে রাজনৈতিক কারণে নেয়া খাজা নাজিমুদ্দিনের অবস্থান ও তার বক্তব্য ভাষা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। তার ঘোষণায় পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের মনে বঞ্চনার অনুভূতি আরও জোরালো হয়ে জেগে ওঠে। খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে পরদিন থেকে পূর্ব-পাকিস্তানে শুরু হয় স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল। যাতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    ভাসানীর নেতৃত্বে সম্মেলনে অংশ নেন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, সংস্কৃতিকর্মী এবং পেশাজীবী সম্প্রদায়ের মানুষজন। ২১শে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ধর্মঘট ঘোষণা করা হয়েছিল। ধর্মঘট প্রতিহত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিলো। যা লঙ্ঘন করেই জন্ম হয়েছিল শহীদ দিবসের।

    ১৯৫২ সালের সেই দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র হিসেবে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্মরত ছিলেন মুহাম্মদ মাহফুজ হোসেন। বছর তিনেক আগে বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাতকারে তার বর্ণনায় ফুটে উঠেছে সেদিনকার চিত্র।

    সেই সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি দুপুরে গুলিবিদ্ধ তিনজনকে হাসপাতালে গ্রহণ করি আমি। কপালে গুলিবিদ্ধ রফিককে দেখেই মৃত ঘোষণা করা হয়, আর উরুতে গুলিবিদ্ধ বরকত মারা যান রাতে, আমার চোখের সামনেই।”
    ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছেই গুলিবর্ষণ হয়েছিল শিক্ষার্থীদের উপর।

    তিনি বলছিলেন, “আমরা তখন বাইরে থেকে বহু আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমরা শুনেছিলাম বহু মানুষ গুলিতে আহত হয়েছে। মুহূর্তেই ইমারজেন্সি ওয়ার্ড পূর্ণ হয়ে যায়। আহতদের অনেকেই মুমূর্ষু, তাদের সঙ্গে আসা মানুষজন আর চিকিৎসকে ঠাসাঠাসি হয়ে যায় জরুরী বিভাগ।”

    ভাষা আন্দোলনে কতজন শহীদ হয়েছিলেন সেবিষয়ে সঠিক সংখ্যা এখনো পাওয়া যায় না। সেদিন এবং পরদিন পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এবং শফিউর ছাড়াও আরো অনেকে শহীদ হয়েছিলেন বলে ভাষা আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন বইয়ে উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বীজ বপনঃ এই হত্যাকাণ্ড মাতৃভাষার অধিকারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে দমিয়ে দেয়নি। এই আন্দোলনেই পরিষ্কার হয়ে উঠেছিল যে দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি ভূখণ্ডের দুটি ভিন্ন ভাষার জাতিসত্তাকে মিলিয়ে সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের অধিবাসীদের মনে এক হওয়ার অনুভূতি সম্ভবত জাগ্রত হবে না।

    তবে এই ঘটনার পরও দুই বছরের বেশি সময় পরে, ১৯৫৪ সালের ৭ মে পাকিস্তান সংসদ বাংলাকে একটি রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকার করে প্রস্তাব গ্রহণ করে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি কার্যকর হতে লেগেছিল আরও দুই বছর। মাতৃভাষা নিয়ে এই আন্দোলনেই বীজ বপন হয়েছিল পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের। পৃথিবীতে কোন জাতিকে ভাষার জন্য শহীদ হতে হয়নি, রক্তঝরাতে হয়নি। তাই আমরা আমাদের ভাষার জন্য গর্ববোধ করি।

    লেখক: মো. হায়দার আলী।

  • আশুলিয়া ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ডিইপিজেড রাস্তায় দীর্ঘ যানজটে পথচারীদের ভো-গান্তি

    আশুলিয়া ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ডিইপিজেড রাস্তায় দীর্ঘ যানজটে পথচারীদের ভো-গান্তি

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক-এর ডিইপিজেড সংযোগ রাস্তায় দীর্ঘ যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পোশাক শ্রমিকসহ সাধারণ পথচারীরা। স্থানীয়দের দাবি, এ যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

    জানা গেছে, পবিত্র রমজান শুরুর পর থেকেই শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মহাসড়ক ও শাখা সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশ হকারদের দখলে চলে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের অর্ধেকের বেশি জায়গায় দোকান বসিয়ে চলছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। এতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    এ বিষয়ে ঢাকা-১৯ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি চাঁদাবাজদের মোবাইল নম্বর চেয়ে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর এ ঘোষণাকে অনেকেই সাধুবাদ জানালেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাদের দাবি, রাস্তা দখলমুক্ত না হওয়ায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট লেগে থাকছে।
    হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু চাঁদাবাজ ও অবৈধ দখলদারের কারণে মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

    এদিকে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, দ্রুত ফুটপাত হকারমুক্ত করতে অভিযান চালানো হবে এবং চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    এলাকাবাসীর দাবি, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এই সমস্যা থেকে স্থায়ী সমাধান মিলবে না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • আশুলিয়ায় ইন্টারনেট ব্যবসা দ-খল নিতে অফিস ভা-ঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ: এলাকায় আত-ঙ্ক সৃষ্টি

    আশুলিয়ায় ইন্টারনেট ব্যবসা দ-খল নিতে অফিস ভা-ঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ: এলাকায় আত-ঙ্ক সৃষ্টি

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া বাগবাড়ি রোডের পাকার মাথা এলাকায় মাদবর ইন্টারনেট ব্যবসা দখল নিতে অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক দলর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানসহ তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

    শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ইং) দুপুরে ১৫-২০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ মাদবরের বাড়ির ভাড়াটিয়া নিরবের পরিচালিত ইন্টারনেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের উদ্দেশ্যে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

    ভুক্তভোগী ইন্টারনেট ব্যবসায়ী নিরব গণমাধ্যমকে জানান, তার প্রায় ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম ও নেটওয়ার্ক সামগ্রী লুটপাট ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিল্লুর রহমান ও তার লোকজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র‍্যাব জানায়, আশুলিয়ায় একের পর এক নেট ব্যবসা ও ঝুট ব্যবসা নিয়ে গুলাগুলি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, মামলা রেকর্ড হলে আমরা ব্যবস্থা নিবো। এ ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে এলাকাবাসী জানায়।

    এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে জানান আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার।