Blog

  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ঢাকা-১৯ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বাবুর দিন-রাত প্র-চারণা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ঢাকা-১৯ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বাবুর দিন-রাত প্র-চারণা

    হেলাল শেখঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী ও সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু দিন-রাত ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    গত তিনদিন ধরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-১৯ আসনের সাভার ও আশুলিয়ার ইয়ারপুর, ধামসোনা ও শিমুলিয়া ইউনিয়নসহ প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হাট-বাজার, মার্কেট ও বাসাবাড়িতে গণসংযোগ করছেন তিনি। এ সময় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন ডা. সালাউদ্দিন বাবু। প্রচারণাকালে তিনি বলেন, “আমরা শতভাগ আশাবাদী-ধানের শীষ প্রতীক বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে, ইনশাআল্লাহ।” তিনি আরও বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে তিন মাসের মধ্যেই মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলবো। সাভার-আশুলিয়ায় মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের কোনো ঠাঁই হবে না।”

    উল্লেখ্য, দেশের অন্যান্য আসনের তুলনায় ঢাকা-১৯ আসনে ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ আসনে মোট ভোটার প্রায় সাড়ে সাত লাখ। এবারের নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষ ও শাপলা কলিসহ বিভিন্ন প্রতীকে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

  • ইউজিসির প্রশিক্ষণে মে-ধা তালিকায় প্রথম হলেন গোবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের  শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক

    ইউজিসির প্রশিক্ষণে মে-ধা তালিকায় প্রথম হলেন গোবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক

    কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য ‘প্রফেশনাল ডেভলপমেন্ট ট্রেনিং’-এ মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক।পিডিটি ট্রেনিং প্রাপ্ত শিক্ষদের মধ্যে তিনি একই সঙ্গে ইউজিসির বাস্তবায়নাধীন হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (এইচইএটি) প্রকল্পের আওতায় এটিএফ এসপিপি প্রাপ্ত বাংলাদেশের একমাত্র শিক্ষক।
    ইউজিসির বাস্তবায়নাধীন এইচইএটি প্রকল্পের আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত প্রায় ৬০ জন শিক্ষক প্রথম স্লটে এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
    ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেন গোবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিনি গবেষণায় আগ্রহী ও পারদর্শী একজন শিক্ষক। আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত তার কাজের সাইটেশন কাউন্ট বর্তমানে ৪০০ ছাড়িয়েছে।

    সমাপনী অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমির ভারপ্রাপ্ত রেক্টর ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুকের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন।

    এ পুরস্কার প্রাপ্তিতে মোহাম্মদ ফারুককে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ।

  • সাংবাদিকদের নি-রাপত্তা নেই, হা-মলা ও মা-মলার শি-কার হয়ে গণমাধ্যমের মহান পে-শা ছাড়ছেন অনেকেই

    সাংবাদিকদের নি-রাপত্তা নেই, হা-মলা ও মা-মলার শি-কার হয়ে গণমাধ্যমের মহান পে-শা ছাড়ছেন অনেকেই

    হেলাল শেখঃ বাংলাদেশে গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকদের কোনো নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত নৃশংস হামলা, মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। এর ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে মহান পেশা সাংবাদিকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন-যা দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

    সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির বিবেক, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। অথচ সেই সাংবাদিকদের-যাদের কলম সমাজের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলে-নির্বাক করার চেষ্টা করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। সত্য প্রকাশের অপরাধে আজ কলম সৈনিকরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
    এখনো সময় আছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ করে অবিলম্বে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা গেলে তবেই রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং দেশ ও জাতির প্রকৃত কল্যাণ সম্ভব হবে-ইনশাআল্লাহ। এমনই মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম জয়। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের উপর নৃশংস হামলা ও মামলা করা মানবাধিকার লঙ্ঘন আর মানবাধিকার লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধী যেইহোক না কেন তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার যায় সরকার আসে কিন্তু সাংবাদিকদের উপর হামলা মামলা বন্ধ হচ্ছে না কেন তা জাতি জানতে চায়।

  • গোদাগাড়ীর সাফিনা পার্কে ওয়াটার পুলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃ-ত্যু

    গোদাগাড়ীর সাফিনা পার্কে ওয়াটার পুলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃ-ত্যু

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহী গোদাগাড়ীর সাফিনা পার্কের ওয়াটার পুলে নেমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আবিদ আহানাফ সোয়াদের (১৫) মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের দিগ্রাম এলাকায় অবস্থিত সাফিনা পার্কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
    ওই শিক্ষার্থী বগুড়ার ইকরা মডেল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্র ও আবু হাসিব সোহরাওয়ার্দীর ছেলে। আবিদ বর্তমানে বগুড়া সদর থানার ঠনঠনিয়া এলাকায় বসবাস করলেও তার স্থায়ী ঠিকানা রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার মাছখড়িয়া মাধবপুর সৈয়দপুর গ্রামে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার আনন্দ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইকরা মডেল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সাফিনা পার্কে আসে। পরে আবিদ আহানাফ সোয়াদ তার সহপাঠীদের সঙ্গে ওয়েভ পুলে লাফ দিলে নাক, বুক ও মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয় ও পানিতে ডুবে যায়। সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রেমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    গোদাগাড়ী থানার ওসি হাসান বাসির বলেন, এঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দেয়নি। অপমৃত্যুর মামলা হবে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • নড়াইলে মাঠজুড়ে ফুলকপির বা-ম্পার ফলন

    নড়াইলে মাঠজুড়ে ফুলকপির বা-ম্পার ফলন

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলের মাঠজুড়ে এখন শুধুই সাদার হাতছানি। শীতের এ সময়ে জেলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে শোভা পাচ্ছে সারি সারি ফুলকপি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়ায় জেলার কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নড়াইল জেলাজুড়ে ২২৭ হেক্টর জমিতে ফুলকপির আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ। জেলার সদর উপজেলা, লোহাগড়া ও কালিয়া এই তিন উপজেলাতেই বাণিজ্যিকভিত্তিতে প্রচুর পরিমাণে ফুলকপির চাষ হয়েছে।
    সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ক্ষেত থেকে কপি সংগ্রহ ও তা বাজারজাত করতে। এবার স্নোবক্স ও হাইব্রিড জাতের কপির আবাদ বেশি হয়েছে। প্রতিটি কপির আকার ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় পাইকারি বাজারেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
    সদর উপজেলার কৃষক মো. আশরাফুজ্জামান জানান, আল্লাহর রহমতে এবার ফলন খুব সুন্দর হয়েছে। সময় মতো সেচ ও সার দেওয়ায় এবার বড় কোনো রোগবালাই আক্রমণ করতে পারেনি। খরচও তুলনামূলক কম হয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত বাজারের এই দাম বজায় থাকে, তবে কৃষকরা বড় অংকের লাভের মুখ দেখব।
    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া আর উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে নড়াইলে ফুলকপি চাষ এখন বেশ লাভজনক হয়ে উঠেছে। অনেক শিক্ষিত যুবকও এখন সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।

  • খুলনা-৬ আসনে জয়ের আশা বিএনপির; প্র-ত্যাবর্তন চায় জামায়াত

    খুলনা-৬ আসনে জয়ের আশা বিএনপির; প্র-ত্যাবর্তন চায় জামায়াত

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ কয়রা ও পাইকগাছা আসনে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। পুরোদমে চলছে প্রচার-প্রচারণা। এই আসনে এবার পাঁচজন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। নির্বাচনে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটাররা ধারণা করছে।নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আসাদুল্লাহ ফকির ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল।
    খুলনা-৬ কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় জোটবদ্ধ হয়ে রাজনীতির মাঠে থাকলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অতীতে বিএনপি সাধারণত জামায়াতে ইসলামীর জন্য আসনটি ছেড়ে দিত। তবে দীর্ঘদিনের জোট রাজনীতির সমীকরণ ভেঙে যাওয়ায় এবার বিএনপি ও জামায়াত আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় হারানো আসনটিতে প্রত্যাবর্তন করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে জামায়াত। আর বিএনপি চায় ভোটের জোয়ারে জয় পেতে।ভোটার ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আসনটিতে বিএনপি যদি পরিবর্তন আনতে পারে, সেটি হবে কেবল তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ফল। আর জামায়াতের যদি প্রত্যাবর্তন হয় তবে সেটি হবে বিএনপির অনৈক্যের কারণে। তবে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোট যেদিকে বেশি যাবে, শেষ পর্যন্ত জয় তারই হবে। সামান্য ব্যবধানও ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসনটিতে বিএনপি সর্বশেষ জয় পেয়েছিল ১৯৭৯ সালে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জয় পায় জামায়াত। অন্য নির্বাচনগুলোয় আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। এবার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।কয়রা উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সুজা উদ্দিন বলেন, খুলনা-৬ আসন জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে দুবার আমাদের প্রার্থী এমপি হয়েছেন। মানুষের যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে এবারো দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হবেন বলে আশা করছি।অবশ্য জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী স্থানীয় বিএনপির নেতারাও। কয়রা উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এমএ হাসান বলেন, এ এলাকায় বিএনপির নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে। জোটবদ্ধ রাজনীতির কারণে আগে ছাড় দিতে হয়েছে। এবার নিজস্ব প্রার্থী থাকায় আমরা সুফল পাব। দীর্ঘদিন পর আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারব বলে আশা করছি।নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে নারী ২ লাখ ৮ হাজার ৫২৪, পুরুষ ২ লাখ ১০ হাজার ২০৯ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন একজন।সরজমিনে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। অবহেলিত এ উপকূলীয় জনপদে এবার নতুন কোনো পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন ভোটাররা।

    এ আসনের ভোটারদের বড় অংশই সুন্দরবননির্ভর শ্রমজীবী মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে টিকে থাকতে হয় তাদের। তাদের কাছে নির্বাচনের মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে উপকূলের উন্নয়ন। পাশাপাশি তারা চান নির্বাচনে নতুন সরকার এলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির সংকট নিরসন, চিকিৎসাসেবার উন্নতি ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশ। যারা দীর্ঘদিনের এ বঞ্চনা দূর করে টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন, তাদেরই তারা বেছে নেবেন।বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বলেন, নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ঘরে ঘরে সুপেয় পানি সরবরাহ ও কয়রায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। কয়রা ও পাইকগাছায় বিচারিক আদালত স্থাপন এবং সব উন্নয়ন প্রকল্প স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে।জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগের জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতি ও নিষ্ক্রিয়তায় সরকারি বাজেট লুটপাট হয়েছে। নির্বাচিত হলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত ভবন নির্মাণ ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতি দূর করা হবে।

    প্রেরকঃ
    ইমদাদুল হক,

  • রাজশাহী ১ আসনে বিএনপি ও জামায়তের প্রার্থীর মাঝে হা-ড্ডাহাড্ডি দ্বি-মুখী লড়াই হবে

    রাজশাহী ১ আসনে বিএনপি ও জামায়তের প্রার্থীর মাঝে হা-ড্ডাহাড্ডি দ্বি-মুখী লড়াই হবে

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভিআইপি আসন হিসেবে খ্যাত রাজশাহী ১ আসনে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এবি পাটির প্রার্থীদের মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ, পথসভার, মিনি টুর্নামেন্ট, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, মসজিদ, নামাজের জানাজা মাঠের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে নির্বাচনী ভোটের হিসাব-নিকাশ। চলছে সমীকরণ, দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করাসহ প্রার্থীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন নিজ নিজ প্রার্থীর সমর্থনে নেতা, কর্মী সমর্থকগন।

    রাজশাহী জেলার একটি প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ উপজেলা গোদাগাড়ী। নবাব আলিবর্দী খাঁর শাসনামলে বর্গীয় হাঙ্গামায় অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে (১৭৪১-১৭৪৪) যখন দেশবাসী শঙ্কিত, উৎকণ্ঠিত তখন বৃদ্ধ নবাব আলিবর্দী খাঁ ডেপুটি গভর্নর নোয়াযেশ মুহাম্মদ খানের নেতৃত্বে ও তত্ত্বাবধানে নবাব প্রাসাদের মূল্যবান দ্রব্য সামগ্রী, অর্থসম্পদ, সোনাদানাসহ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার প্রয়োজনে এই গোদাগাড়ীতে স্থানান্তরিত করেছিলেন এবং গোদাগাড়ীর অদূরে বারুইপাড়া গ্রামে একটি শিবির ও কেল্লা নির্মাণ করে নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। জনশ্রুতি রয়েছে দূর অতীতে এখানে ‘গোদাবারি’ নামে একজন প্রভাবশালী ধোপা বসবাস করত। ধোপার স্ত্রী ছিলেন ব্যাভিচারিণী। গোদাবারি নামক এই ধোপা তারা স্ত্রীকে কাদায় গেড়ে (পুঁতে) ফেলেন। গোদা কর্তৃক তার স্ত্রীকে গেড়ে ফেলা থেকেই ‘গোদাগাড়ী’ নামকরণ হয়েছে ধারণা করা হয়। প্রশাসন গোদাগাড়ী থানা গঠিত হয় ১৮৬৫ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে। একই সময়ে তানোরও উপজেলার মর্যদা পেয়ে যায়।

    তানোর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আখেরুজ্জামান হান্নান দাবি করেন, “আওয়ামী লীগের ভোটারদের ৮০ শতাংশ ভোট বিএনপি পাবে। একইভাবে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভোটও আমাদের দিকে যাবে। ফলে এ আসনে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।”
    বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র এডভোকেট ব্যারিস্টার মোঃ মাহফুজুর রহমান (মিলন)।
    ​বক্তারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের হাসি হাসবে ধানের শীষ। উপজেলার সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পথসভাটি একটি বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়। পরিশেষে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা আগামী নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটানোর শপথ নেন।

    সভার শেষ পর্যায়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নেতা-কর্মীরা স্লোগান দেন এই মিলনমেলা, এই ঐক্য, এই হাসি, ১২ ফেব্রুয়ারি বিজয়ের হাসি।
    সভা শেষে বিভিন্ন ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ চালানো হয়।

    গোদাগাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির নুমাউন আলী বলেন, “আমরা কারও নামে হয়রানিমূলক মামলা করি না। নির্বাচনে জিতলেও বা হারলেও কাউকে ক্ষতি করি না। আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”

    সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিমধ্যে দুজন নেতা জামায়াতের সমর্থনে মঞ্চে উঠেছেন। দেবানন্দ বর্মন তানোর উপজেলার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি। তিনি দাঁড়িপাল্লাকে সমর্থন দিয়েছেন। তানোরের দশরথ দাসও একইভাবে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।

    রাজশাহী ১ আসনটি উপজেলা গোদাগাড়ী ও তানোর নিয়ে গঠিত। রাজশাহী – ১ (গোদাগাড়ী – তানোর) আসনটির মোট আয়তন ৭৬৭.৫৩ বর্গ কিলোমিটার।

    রাজশাহী-১ আসনের ২টি উপজেলা, ৪টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫২ রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯১০ জন। আর তানোর উপজেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৭০ জন। গোদাগাড়ীতে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩২ জন। আর নারী ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৫ জন। তানোরে পুরুষ ভোটার ৮৪ হাজার ৫৪৬ জন। কিন্তু নারী ভোটার সংখ্যা ৮৭ হাজার ৩২৪ জন। এ আসনের কিংমেকার’ হতে পারেন নারীরাই।বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক বড় অংশের বসবাস রয়েছে এ আসনে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা খুবই সাধারণ জীবন যাপন করে থাকেন। মাঠে ঘাটে কৃষি কর্মে তাদের সময় কাটে অধিক। তাদের বসে আনতেও চলছে নানা তৎপরতা। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন, শীর্ষ পর্যায়ের হেভিওয়েট বিএনপির এবং জামায়াতের নায়েবী আমির প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই

    চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের ধারণা-এ আসনে মূলত দ্বিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থী মাঝে।
    এ আসনে ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়ে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান। তিনি এবারেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তার বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী। পিতার নাম সেরাজুল ইসলাম। অপরদিকে, বরেন্দ্র বহুমূখি উন্নয়ন প্রকল্পের কর্ণধর, অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব মরহুম ড. আসাদুজ্জামান ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ সাবেক মন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সহোদর ভাই ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরিফ উদ্দিন নির্বাচন করছেন ধানের শীষ প্রতীকে। কিন্তু তিনি এর আগে কোন এমপি নির্বাচনে অংশ নেননি। তার বাড়ি গোদাগাড়ীর কেল্লাবাবুইপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম ফহিম উদ্দীন বিশ্বাস। কিন্তু তানোর উপজেলা থেকে এবারে এ আসনে কোন এমপি প্রার্থী দাঁড়াননি। এছাড়াও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন- গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মির মো. শাহজাহান। তার পিতার নাম মির মো. আজাহার। তিনি ট্রাক প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। বাড়ি রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকায়। অপরদিকে, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুর রহমান। তিনি ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন। তার বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার সারাংপুর রোডপাড়া শ্যামপুর এলাকায়। তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ আসনটি নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ২০০৮ এর পূর্বে বিএনপি তথা মরহুম ব্যারিষ্টার আমিনুল হকের দখলে ছিল। এখন দলীয় সমীকরণ বদলেছে, ভোটে আ.লীগ প্রার্থীর অংশগ্রহণ না থাকলেও মাঠে ফিরেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ। স্থানীয় ভোটারদের মতে, এবারের লড়াই মূলত বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মো. শরিফ উদ্দিন ও জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তাদের বাড়ি একই উপজেলার গোদাগাড়ীতে। বিশেষ করে এ দুই প্রার্থীর মধ্যে বিপুল সংখ্যক ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় প্রার্থীদের মাঝে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিক থেকে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি এবং জামায়াতও প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। জামায়ের প্রার্থী অভিজ্ঞ একবার নির্বাচন করে এমপি। নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    এদিকে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমিনুল হক রাজশাহী-১ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে একদলীয় নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, ১৯৯৬ সালের সপ্তম এবং ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনকালে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। সেইসাথে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।

    কিন্তু শরিফ উদ্দিন মরহুম ড. আসাদুজ্জামান ও ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সহোদর ভাই হবার সুবাদে তাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক ও বিএনপির নীরব সমর্থন রয়েছে বলে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছেন। নারী কর্মীদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি ও তার কর্মী সমর্থকরা। বিএনপির ভোট বিভক্ত হলে জামায়াত প্রার্থীর ভোট বাড়তে পারে- এমন ধারণাও শোনা যাচ্ছে। আর নিষিদ্ধ আ.লীগের ভোটার ও কর্মী সমর্থকরা নীরবে গোপনে যে দলের প্রার্থীর দিকে যাবে তিনি বেশ এগিয়ে যাবেন।
    তবে, গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মির মো. শাহজাহান ও এবি পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুর রহমান তাদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়াও তারা বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন না বলেই অধিকাংশ ভোটারের অভিমত। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটারদের মাঝে উত্তাপ ততই বাড়ছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের রায়ে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা রাজশাহী-১ আসনে এমপি হিসেবে ভোটাররা কাকে বেছে নেন সেটায় দেখার বিষয়।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • জিরবাড়ী আল-কুরআন মডেল মাদ্রাসার উদ্যোগে শীতকালীন উৎসব অনুষ্ঠিত

    জিরবাড়ী আল-কুরআন মডেল মাদ্রাসার উদ্যোগে শীতকালীন উৎসব অনুষ্ঠিত

    নেছারাবাদ প্রতিনিধি।।

    নেছারাবাদ উপজেলার জিরবাড়ী, রাজাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত জিরবাড়ী আল-কুরআন মডেল মাদ্রাসার আয়োজনে এক আনন্দঘন পরিবেশে শীতকালীন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার সকাল থেকে পিঠা উৎসবকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। শীতের আমেজে অনুষ্ঠানস্থলে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও আনন্দঘন আয়োজন।

    আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ ও উৎসাহ তৈরি করার পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।

    এ উৎসবে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    নেছারাবাদ প্রতিনিধি।।

  • বাগেরহাটের চার আসনে বিএনপি চাপে, সুবিধাজনক অবস্থানে জামায়াত

    বাগেরহাটের চার আসনে বিএনপি চাপে, সুবিধাজনক অবস্থানে জামায়াত

    এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির,বিশেষ প্রতিনিধি:

    ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার সমৃদ্ধিতে গড়া এক জনপদের নাম বাগেরহাট। ষাটগম্বুজ মসজিদের অনন্য স্থাপত্য, খান জাহান আলীর স্মৃতিবিজড়িত পথচলা আর বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের সবুজ বেষ্টনী এ জেলাকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। কাগজে-কলমে বাগেরহাট সম্ভাবনাময় জেলা হলেও বাস্তবতায় এখানকার মানুষ আজও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত।

    স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও জেলার সাধারণ মানুষের জীবনমান বদলায়নি প্রত্যাশিত মাত্রায়। সরকার বদলেছে, জনপ্রতিনিধি বদলেছে, প্রতিবারই শোনা গেছে উন্নয়নের আশ্বাস—কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার ব্যবধান আজও রয়ে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জেলার চারটি আসনেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে।

    বিদ্রোহে জর্জরিত বিএনপি, সুযোগে জামায়াত

    এবারের নির্বাচনে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১৮ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তিন জন। তবে আলোচনার কেন্দ্রে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ।

    চারটি আসনের প্রতিটিতেই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় চাপে পড়েছে বিএনপি। ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দলের প্রার্থীরা স্বস্তিতে নেই। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছে জামায়াতে ইসলামী।

    এম এ এইচ সেলিমের ‘ত্রিমুখী’ প্রার্থী হওয়া

    স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। তিনি একযোগে বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৩—এই তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই সিদ্ধান্ত বিএনপির ভোট সমীকরণে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

    অন্য দুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন—

    বাগেরহাট-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. শেখ মাসুদ রানা

    বাগেরহাট-৪ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী খাইরুজ্জামান শিপন

    কেন্দ্রীয় বিএনপি ইতোমধ্যে শেখ মাসুদ রানা ও কাজী খাইরুজ্জামান শিপনকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করলেও তারা মাঠে সক্রিয়ভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    আসনভিত্তিক চিত্র

    বাগেরহাট-১ আসন
    এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) বাংলাদেশের মহাসচিব ও অশ্বিনী সেবা আশ্রমের সভাপতি কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। তার বিপরীতে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও প্রকৌশলী মো. শেখ মাসুদ রানা। তাদের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মশিউর রহমান খান।
    মোট ভোটার: ৩,৭৫,৫৬০ জন।

    বাগেরহাট-২ আসন
    বিএনপির প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও জামায়াত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাত।
    মোট ভোটার: ৩,৩৮,০০৯ জন।

    বাগেরহাট-৩ আসন
    ধানের শীষের প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের পরিচিত মুখ ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম এবং জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
    মোট ভোটার: ২,৬৬,৮৬৪ জন।

    বাগেরহাট-৪ আসন
    বিএনপির নতুন মুখ, ভিএইচপি বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি সোমনাথ দে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী খাইরুজ্জামান শিপন এবং জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম।
    মোট ভোটার: ৩,৮০,৬৭৮ জন।

    বিএনপির আশঙ্কা, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

    জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোজাফ্ফর রহমান আলম বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়টি দলীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থীদের পরাজিত করতে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন।

    তিনি আরও জানান, জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সমন্বিতভাবে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি প্রতিদিন মনিটরিং করা হচ্ছে।

    শেষ কথা

    এক সময় যে বাগেরহাটে বিএনপির জয় সম্ভাবনা উজ্জ্বল মনে করা হচ্ছিল, সেখানে দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে পরিস্থিতি এখন অনিশ্চিত। এই সুযোগে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। শেষ পর্যন্ত ভোটের রায় কোন দিকে যায়—সেটিই এখন জেলার রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

  • ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ২ টি আ-গ্নেয়াস্ত্র উ-দ্ধার

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ২ টি আ-গ্নেয়াস্ত্র উ-দ্ধার

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ২ টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৬। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বটতলা বাজার এলাকা থেকে এ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।র‌্যাব-৬, সিপিসি-২ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের গুটিয়ানি বটতলা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হতে পারে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালায়। সেসময় কাউকে আটক করতে না পারলেও পরিত্যাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ১ টি বিদেশী পিস্তল, ১ ব্যারেলযুক্ত রিভোলভার ও ১ টি ম্যাগাজিন উদ্ধার। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র কালীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।