April 6, 2025, 8:29 am
এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ প্রায় তিন মাস পূর্বে সম্পর্ক করে পরিবারের সম্মতি ছাড়াই গোপনে করেছিলেন বিয়ে। মেয়ের পরিবার এ বিয়ে মেনে না নিলেও ছেলের পরিবার মেনে নেওয়ায় ঈদের কয়েক দিন পূর্বে হৃদয় খানের হাত ধরে উঠেন স্বামীর বাড়িতে। স্বপ্ন দেখেছিলেন দুইজন সুখে দুঃখে সারাজীবন পাশে থাকার। নতুন বিয়ে এবং ঈদের আনন্দকে রাঙাতে স্ত্রী মৌ আক্তার ও তার স্বামী হৃদয় খান হাতে দিয়েছিলেন মেহেদি। সেই মেহেদির রঙ শুকায়নি এখনও। নকশা করা দাগগুলো এখনও উজ্জ্বল। মেহেদির রঙ উজ্জ্বল থাকলেও মৌ ও হৃদয় খানের দেহে নেই প্রাণ। পড়ে আছে নিথর দেহ। শারীরে মেহেদির সমস্ত চিহ্ন নিয়েই চলে গেলেন তারা না ফেরার দেশে। একটি দুর্ঘটনা নিশ্চিহ্ন করে দিল নবদম্পতি একটি পরিবার। এক ঘটনাই নব দম্পতি পরিবারের স্বপ্নগুলোকে মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিল। নিঃশেষ হয়ে গেল একটি পরিবারের সুখ-দুঃখের ইতিহাস। পাবনার সুজানগরে পদ্মা নদীতে নৌকা ডুবে শুক্রবার এ নবদম্পতির মৃত্যু হয়েছে। নৌকা ডুবে নিখেঁাজের ১৬ ঘণ্টা পর শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেনÑপাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের কোলচরি গ্রামের মো.দুলাল খানের ছেলে হৃদয় খান (২৪) এবং হৃদয় খানের স্ত্রী মৌ আক্তার (২০)। মৌ আক্তার পাবনার আতাইকুলা থানার আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকার মো.মনিরুজ্জামান মানিকের মেয়ে। হৃদয় খান পাবনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ২০২২ সালে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে সুজানগরে একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির শোরুমে কর্মরত ছিলেন এবং তার স্ত্রী মৌ আক্তার কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। জানাযায়, শুক্রবার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে হৃদয় খান তার ফুফুর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে সাতবাড়িয়া পদ্মা নদীতে বিকেলে নৌকায় উঠে ঘুরতে যান। এক পর্যায়ে তারাসহ ১৫ থেকে ২০ জন ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ওঠেন। নদীর মাঝখানে হঠাৎ করে পদ্মা নদীর স্রোতে ডুবে যায় নৌকাটি। সবাই সঁাতড়ে নদীর পাড়ে উঠতে পারলেও সঁাতার না জানায় হৃদয় খান ও তার স্ত্রী মৌ আক্তার পানিতে ডুবে নিখেঁাজ হন। এর পরপরই জেলেরাসহ স্থানীয় এলাকাবাসী এবং পরে খবর পেয়ে নাজিরগঞ্জ নৌ পুলিশ ফঁাড়ির সদস্য, সুজানগর দমকল বাহিনীর সদস্য ও রাজশাহী থেকে ডুবুরিদল এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে শনিবার সকাল ১০টার দিকে জেলেদের জালে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয় বলে সাইফুল আলম বিপুল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান। নাজিরগঞ্জ পুলিশ ফঁাড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত চন্দ্র দে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা শোনার পর সুজানগর দমকল বাহিনী,ডুবুরি দল ও নাজিরগঞ্জ নৌপুলিশ ফঁাড়ির সদস্য, জেলে ও স্থানীয়রা নিখেঁাজদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। পরে শনিবার নব দম্পতির মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ। এদিকে শনিবার বাদ আছর কোলচরি বাহিরচর ঈদগাহ মাঠে হৃদয় খানের এবং বনগ্রাম গ্রামে তার স্ত্রী মৌ আক্তারের জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদেরকে সমাহিত করা হয়।
সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।