বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
ময়মনসিংহে ওসি কামালের নেতৃত্বে পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার-১৩ জাতীয় তরুণ পার্টি ফুলবাড়িয়া পৌর শাখার আহবায়ক কমিটির অনুমোদন।। কেন্দুয়ায় ধানের পোকা চিহ্নিত করতে ‘আলোক ফাঁদ’ স্থাপন হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতু নির্মাণের দাবীতে বিশাল মানব বন্ধন ও জনসভা ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির জানাজায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অমিত তারাকান্দায় ৫৩ পূজামন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস -ইউএনও’র।। ঝিনাইদহে অফিসিয়ালি তদারকি ছাড়া ৮৮ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ হচ্ছে! নড়াইলে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত নাচোলে তাল গাছের বীজ বপন মহাসংকটে স্বরূপকাঠি সমিতি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির অনিয়মের পাহাড়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির অনিয়মের পাহাড়

শিমুল খান, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যয় পর্যালোচনা করে জানা যায়, চলতি শিক্ষা বর্ষে ভর্তিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ব্যয় হয়েছে ১৫/১৬ হাজার টাকা, যা ক্রমবর্ধমান বলে জানা যায়। এ ব্যায় প্রাক্তন ভিসির আমলে ছিল মাত্র ৪/৫ হাজার টাকা। যা এখন কয়েকগুন বেড়েছে। এ ভাবে প্রতিটা শিক্ষাবর্ষে সীমাহীন শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করার ফলে অনেক মেধামী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন যেন অধরাই রয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে এত টাকা খরচ হওয়ার জন্যে আমার মত অনেক গরীব ছেলে-মেয়েকে সাহায্য করতে বিভিন্ন সংগঠন থেকে টাকা তুলে যত দূর পারি তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা করি। কিন্তু এ ভাবে কয়জন কে পারা যায় বলুন।

এছাড়া ব্যাপক অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যাধিক শিক্ষা ব্যয়। প্রতিটা সেমিষ্টার ফি, বেতন, রেজিস্ট্রেশন ফি প্রভৃতি অত্যাধিক। যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে। যদিও সরকার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যথেষ্ট পরিমান সাহায্য ও সহযোগিতা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্রীয় কমন রুম, ছাত্র সংসদ ফি আদায় করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এ গুলো কোন অস্তিত্ব নেই। এছাড়াও ছাত্রদের কাছ থেকে কম্পিউটার, চিকিৎসা, বিএনসিসি, ছাত্র কল্যাণ ফি আদায় করা হলেও সেবার মান খুবই নগণ্য। কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ফি নেয়া হলেও খেলার মাঠ গুলো অনুপযুক্ত ও জলাবন্ধ। প্রত্যেক ছাত্রের নিকট হতে বিপুল পরিবহন ফি আদায় করা হলেও খুলনাগামী বিশ্ববিদ্যালয় বাসে প্রতিটি শিক্ষার্থীদের নিকট হতে পরিবহন টিকিটের দ্বারা ৬০ টাকা যাতায়াত ভাড়া আদায় করা হয়। আবাসিক হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট হতে প্রতি মাসে সিট ভাড়া ১৫০ টাকা এবং সংস্থাপন চার্জ ২০০ টাকাসহ মোট ৩৫০ টাকা আদায় করা হয় যা বাংলাদেশে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক বেশি। সংস্থাপন চার্জ দু’শ হলেও হলে সেবার মান অনেক নিম্নমানের।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সব অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে নেমেছে। দমন-পীড়ন নীতি হিসেবে অনেক কে আজীবন বহিষ্কারসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। যা বর্তমানে সময়ে আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। কোন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন কিংবা তার অনুগত কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কিংবা অন্য কোথাও কিছু লিখলেই তাকে বহিষ্কার নতুবা কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ক্যাম্পাসে বাঁশি বাজানো এবং ক্লাসের ব্রেক টাইমে গান গাওয়ার অপরাধে শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ধারা ৪৭ এর উপদফা ৮ এর ক্ষমতা বলে ভিসি যে কোনো সময় যে কোন শিক্ষক, কর্মচারীকে বিভিন্ন অজুহাতে চাকুরী হতে খুব সহজে অপসারণ বা পদচ্যুত করতে পারেন। যার কারনে ভয়ে শিক্ষক মন্ডলী স্বাধীন ভাবে কিছু বলতে বা লিখতে পারেন না। এমনকি তারা এতদিন বিশ্ববিদ্যালয় ‘শিক্ষক সমিতি’ পযর্ন্ত গঠন করতে পারেননি। আর এই সুযোগেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন শিক্ষক নিয়োগ একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার পূর্বক ইতোমধ্যে মোটা অংকের টাকার লেনদেনের ভিত্তিতে অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবির সমর্থিত শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ক্যাম্পাসে নেই কোন শক্ত ছাত্র সংগঠনও। ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন বিভিন্ন জেলা এবং ছাত্র কল্যান সংগঠনের সকল কার্যক্রম ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এর কারণ হিসেবে ধারণা করা হয় শিক্ষক বা শিক্ষার্থী বৃন্দ যাহাতে তার বিরুদ্ধে সুসংগঠিত হতে না পারেন। তাছাড়া যে সকল শিক্ষক ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে কখনো কথা বলেন তাদের বিরুদ্ধে প্রমোশন আটকানো, ডরমিটরি প্রদান না করাসহ নানা দমন-পীড়ন নীতি গ্রহন করা হয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ভিসি তার আস্থাভাজন একজন জুনিয়র শিক্ষককে এসোসিয়েট প্রফেসর পদে প্রমোশন দিয়েছেন। এছাড়া তাকে এক সঙ্গে রিজেন্ট বোর্ড সদস্য, প্রোক্টর, মানবিক অনুষদ, পরিবহন বিভাগের পরিচালকসহ প্রভৃতি দায়িত্ব অর্পণ করছেন। যেখানে আরো দক্ষ সিনিয়ার এবং মেধামী শিক্ষক মন্ডলী আছেন তাদের নেই কোন প্রমোশন বা দায়িত্ব।

এ ছাড়া আরো জানা যায়, যারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের আস্থাভাজন তাদের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন সর্বদা ম্যানেজ করে রাখেন। যার প্রমান পাওয়া যায় ঝিলিকের সংবাদ সম্মেলন পরবর্তী তাদের সম্মানী গ্রহণ এবং ভিসিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর মাধ্যমে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাপারে তাদের অবহিত করা হলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন না। কথিত আছে সাবেক এ জামায়ত-শিবির সমর্থক ভিসি সুকৌশলে সব ম্যানেজ করে নিতে জানেন বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ধারা ৪৯ এর উপদফা ২ বার্ষিক হিসাব প্রসঙ্গে উল্লেখ আছে। বার্ষিক হিসাব, নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অনুলিপিসহ, মঞ্জুরী কমিশনের মাধ্যমে সরকারের নিকট পেশ করতে হবে। কিন্তু আদৌ এ ধারা কতটুকু পূরণ হচ্ছে বা হলেও কি ভাবে পূরণ হচ্ছে তা সকলে মনে বিস্ময়!

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণ বঙ্গবন্ধু তনয়া গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিনীত ভাবে অনুরোধ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের সকল অনিয়ম তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পিতার পবিত্র পূন্যভূমিতে প্রতিষ্ঠিত তাঁর নামাঙ্কিত বিদ্যানিকেতনকে রক্ষা পূর্বক তাকে তার সুমহান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। যাহাতে তার পিতার নামাঙ্কিত এ বিদ্যাপীঠ সারা বিশ্বব্যাপি আলাদা গৌরব অর্জনে সক্ষম হয়। কোন অযোগ্য বা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যেন তার পিতার এ স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানকে হাজার বছর পিছিয়ে দিতে না পারে। কোন অযোগ্যের আশ্রয়স্থল যেন এ বিদ্যাপীঠ না হয়।

মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ দ্রæত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন। তারা আশা করেন প্রধানমন্ত্রী তার ব্যাক্তিগত গোযেন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুর কমিশন দ্বারা সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। কোন অপশক্তিই যেন তার পিতার সমাধিসৌধের পাশে অধিষ্ঠিত তার স্বপ্নের এ বিদ্যানিকেতনের মর্যাদা ভূলুন্ঠিত করার ষড়যন্ত্রে সফল করতে না পারে। জাতির পিতার পূন্যভূমির ধূলিকণা সিক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এ বিশ্ববিদ্যালয় যেন বিশ্বের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD