হেলাল শেখ।
বিশেষ প্রতিনিধিঃ ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় সরকারি প্রতিটি অভিযানে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। দালাল চক্র কর্তৃক অবৈধ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার কাহিনী। আশুলিয়ায় অভিযানে তিতাস গ্যাসের ৫ শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। সরকারের তহবিল থেকে প্রতিটি অভিযানে খরচ হয় প্রায় লক্ষাধিক টাকা, একই স্থানে ৭-৮ বার অভিযান করার নজির রয়েছে। তাহলে সরকারের কত টাকা খরচ ও কত টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে তার হিসেব নেই। তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে চলছে জমজমাট বাণিজ্য-সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।
বুধবার (৩ আগস্ট ২০২২ইং) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া মোল্লা পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছেন সাভার তিতাস কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি-পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ দেওয়ার পরিস্থিতি বা সক্ষমতা আপাতত নেই, তাই গ্রাহকদের আশায় ঝুলিয়ে না রেখে গ্যাস সংযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার জন্য সরকারি সিদ্ধান্তটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে-কথাগুলো বলেছেন, সাভার তিতাস কর্তৃপক্ষ ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া, ইউসুফ মার্কেট, তাজপুর, এদিকে জামগড়া গফুর মন্ডল স্কুল এলাকা, মীর বাড়ি, চিত্রশাইল এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগের ছড়াছড়ি। তথ্যমতে, এসব অবৈধ সংযোগ দাতারা হচ্ছে জামগড়া এরাকার নাজিমউদ্দিন, সোহেল মীর, সাঈদ মীর, শামীম, শরীফ, মোস্তফা, মদিনা হোটেলের সেলিমসহ ১৫-২০ জনের দালাল চক্র। অন্যদিকে সিরাজ, হানিফ, ফারুকসহ আরও অনেকেই তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ থেকে অগ্নিকান্ডে নারী ও শিশুসহ গত দুই বছরে সাভার ও আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, শতাধিক মানুষ দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এদিকে সিলিন্ডার গ্যাসের বোতলের দাম বেড়েই চলেছে, ওষুধের দোকান, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে দুই শ্রেণীর গ্রাহক সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন, এদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো রাজধানী ঢাকাসহ সাভার আশুলিয়ায় ও বিভিন্ন জেলা উপজেলা ও থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে এবং শহরের বাসা বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকেরা। আরেকটি হলো বিভিন্ন আবাসন কোম্পানিগুলো। তাদের মধ্যে অনেকেই গ্রাহকদের গ্যাসের পাইপলাইনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আবাসন কোম্পানির অনেকেই বলেন, এখন গ্যাসের সংযোগ না পেলে তাদের প্লট, জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে না। তারা অনেকেই দাবি করেন যে, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ব্যবসা বাণিজ্য ভালো না, এরপর বন্যায় মানুষের অভাব বাড়ছে। এর মধ্যে আবার গ্যাস সংযোগ নতুন করে আর কেউ পাচ্ছেন না, এতে গ্রাহকরা বেশি বিপাকে পড়েছেন।
জানা গেছে, ২০১৮ইং সালে এলএনজি আমদানি শুরুর পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গ্যাসের সংযোগ নতুন করে শুরু হওয়ার কথা নীতিনির্ধারণী মহলেও শুনা যাচ্ছিল। তখন ঢাকা ও সাভার, আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলায় অবৈধ সংযোগের সংখ্যা আরো বাড়িয়ে দেয় দালাল চক্র সিন্ডিকেটগুলো। গ্রাহকদের তারা আশ্বাস দেয়, কিছুদিন পরে গ্যাসের নতুন বৈধ সংযোগ দেওয়া শুরু করলে তারা এগুলোকে বৈধ করে দেবেন। কিন্তু এখন সব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পালায় এই গ্রাহকদের সংযোগও কাটা পড়ছে। জানা গেছে, সরকারি ভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেশ জোরেসোরেই মাঠে নেমেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ, একটি অভিযানে সরকারের লক্ষাধিক টাকা খরচ হচ্ছে, অভিযানের দুইদিন পর আবার সেখানে অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়, আবার অভিযান চালানো হয়, এতে সরকারের বেশি ক্ষতি হচ্ছে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোকে কিছুদিন আগে জ্বালানি বিভাগ উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়ে তা বাস্তবায়নের আদেশ দিয়েছে। সূত্র জানায়, ডিমান্ড নোট ইস্যু হওয়া এবং টাকা জমা দেওয়া গ্রাহকদের আবেদনও বাতিল করা হবে। তাদের অর্থ ফেরত দেবে সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিগুলো। বিতরণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নতুন সংযোগের জন্য ডিমান্ড নোট ইস্যু হওয়া এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দেওয়া গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখের মতো। গ্যাস ও খনিজ সম্পদ খাতের নেতৃত্ব প্রদানকারী সংস্থা পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, বৈধ অবৈধ নানা উপায়ে এই শ্রেণির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ হবে।
দেশে সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আলী ইকবাল মোঃ নুরুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে গত বৃহস্প্রতিবার মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। গৃহস্থালিতে আর গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না। যেসব গ্রাহক সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন এবং টাকা জমা দিয়েছেন, তাদের নাম আমাদের তথ্যভান্ডারে রয়েছে। আগামী রবিবার এ বিষয়ে আমরা একটি সভা করে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের রোডম্যাপ তৈরি করবো। বিঃ বা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। দেশে গ্যাস বিতরণে নিয়োজিত অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, পশ্চিমা ল গ্যাস কোম্পানি ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি। এই সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, আগামী সোমবার সভা করে তারা সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের রূপরেখা ঠিক করবেন। উক্ত ব্যাপারে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের অবৈধ সংযোগ কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। নানা প্রলোভন দেখিয়ে জনগণকে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ নিতে বাধ্য করে কিছু দালাল চক্র। আবার অনেক গ্রাহকও নানাভাবে তদবির-প্রচেষ্টায় অবৈধ সংযোগ নেন। এখন স্থায়ীভাবে আবাসিক সংযোগ বন্ধ হওয়ায় নতুন করে অবৈধ সংযোগ নেওয়া অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। জানা গেছে, ঢাকার প্রধান শিল্পা ল আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়িতে প্রায় লক্ষাধিক অবৈধ সংযোগ রয়েছে।
সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ ব্যবস্থাপক (জোবিঅ) প্রকৌশলী আবু সাদাৎ মোহাম্মাদ সায়েম এর কাছে জানতে চাইলে গত তিন বছরের অভিযানের বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সাভার ও আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসের বৈধ গ্রাহক সংখ্যা ৫২ হাজারের বেশি হবে। শিল্প গ্রাহক সংখ্যা ১৫০০। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী দালালদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় ৬টি ও আশুলিয়ায় ৪২টি মামলাসহ প্রায় ৫০টি মামলা করা হয়েছে। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে বলেও তিনি জানান। এক স্থানে ৬-৮ বার অভিযান করা হলেও আবার অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়। তাহলে সরকারের কত টাকা খরচ হচ্ছে এর হিসাব জানা দরকার। সরকার প্রতি বছরে কত কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে জানতে চায় সচেতন মহল।
Blog
-

দালাল চক্রের লাখ লাখ টাকার কারবার-অভিযানে গ্যাসের ৫ শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্চিন্ন
-

দিনাজপুরে বিবিডিএস’র উদ্দ্যেগে ভ্যানগাড়ী বিতরণ কর্মসূচীর
দিনাজপুর প্রতিনিধি ঃ দিনাজপুরের ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে ৩ আগষ্ট বুধবার বাংলাদেশ বেকারত্ব দূরীকরণ সমিতি (বিবিডিএস) বড়ইল, সদর, দিনাজপুর এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে দারিদ্রতা বিমোচনে ভ্যানগাড়ী বিতরণ কর্মসূচীর আওতায় মাস্ক, সোয়াবিন তেল, ডাল ও ১৫ টি ভ্যানগাড়ী বিতরণ করা হয়।
বিবিডিএস এর সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিবিডিএস এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ জিল্লুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে ভ্যানগাড়ী, তেল, ডাল, মাস্ক বিতরণ করেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ১নং চেহেলগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনিছুর রহমান বাদশা, প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আমির আলী, ইউপি সচিব হাসানুজ্জামান হাসান, ইউপি সদস্য জর্জিস সোহেল। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিবিডিএস এর প্রকল্প কর্মকর্তা কৃষিবীদ আল-ইমরান। সঞ্চালকের দায়িত্বা পালন করেন বিবিডএস এর কো-অর্ডিনেটর কৃষিবীদ মোঃ হামিম তানজিলুর রহমান।মোঃ নাজমুল ইসলাম (মিলন)
দিনাজপুর প্রতিনিধি। -

দিনাজপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২২ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালীর উদ্বোধন
দিনাজপুর প্রতিনিধি ঃ দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় দিনাজপুরে ১লা আগষ্ট থেকে সাত দিন ব্যাপী বিশ^ মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২২ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালীর উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
“মাতৃদুগ্ধ পান এগিয়ে নিতে, শিক্ষা ও সহযোগিতা হবে বাড়াতে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ^ মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন উপলক্ষে গত ৩রা আগষ্ট বুধবার বর্ণাঢ্য র্যালী উদ্বোধনের পর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের (নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের) সম্মেলন কক্ষে জেলা পযার্য়ের সংশ্লি®ট এনজিওর কর্মকর্তাবৃন্দ, স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অংশগ্রহনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত¦াবধায়ক ডাঃ ফজলুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন মায়ের শাল দুধ শিশুর প্রথম টিকা। মায়ের বুকের দুধ খাওয়ালে ৭০% ক্যানসার থেকে নিজেকে প্রতিরোধ করতে পারবে। মায়ের দুধ পর্যাপ্ত শিশুরা পেতে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে সচেতন হতে হবে। মায়ের দুধ শিশুরা না পান করলে অপুষ্টিতে ভুগবে এবং নানা সমস্যার সন্মুখীন হবে।
দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডাঃ এ.এইচ.এম বোরহান-উল-ইসলাম সিদ্দিকী এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোঃ মমিনুল করিম, সদর উপহেজলা ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আরোজউল্লাহ, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেজ্ঞ ডাঃ আবদুল কাইয়ুম। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহন করেন নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষিকা মাসুদা পারভীন, বেসরকাারি ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের রংপুর বিভাগের সভাপতি ডাঃ গোলাম মোস্তফা, এফপিএবির জেলা কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান শাহীন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মেঘলা মহিলা ও শিশুর উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আলেয়া বেগম সহ বিভিন্ন এনজিওর কর্মকর্তাবৃন্দ। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম।
উল্লেখ্য যে ১লা আগষ্ট থেকে ৭ই আগষ্ট বিশ^ মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে জনগনের সচেতনতার জন্য দিনাজপুর শহরে ও উপজেলায় মাইকিং এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। -

বীরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ
দিনাজপুর প্রতিনিধি – দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পূনর্বাসন/সাহায্য প্রদান উপলক্ষে ২৬ পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ করা হয়েছে।
৩ আগষ্ট বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিনাত রেহানা এর সভাপতিত্বে বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম।
এসময় ভাইস চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ গোবিন বর্মন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশ আক্তার বৃষ্টি, ৫ নং সুজালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম, ৭নং মোহাম্মদপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোপাল দেব শর্মা, ৮নং ভোগনগর ইউপি চেয়ারম্যান রাজিউর রহমান রাজু সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ পরিবারের মাঝে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বিতরণ করেন প্রধান অতিথি মো. আমিনুল ইসলাম। -

বীরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক ডিস ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত
দিনাজপুর প্রতিনিধি – দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান মতির বিরুদ্ধে নিবন্ধিত ক্যাবল ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ।
উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী এএসকে ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক স্বত্বাধিকারী মোঃ আরিফ রব্বানী ৩ আগষ্ট বুধবার জানায়, তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃক রেজি নং- ১৫০২ এর একজন নিবন্ধিত একজন ক্যাবল ব্যবসায়ী। তার কার্যক্রম চলাকালে অন্য উপজেলা কাহারোল হতে শতগ্রাম ইউনিয়নে লাইসেন্স বিহীন ক্যাবল ব্যবসায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিকভাবে তার এলাকায় ডিস সংযোগ লাগানোর ঘটনায় গত ১৬ মার্চ শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান মতির কাছে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে বিচার প্রার্থনা করেন। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিচার না করে বিভিন্নভাবে তালবাহানা করে কালক্ষেপন করে ঘুরায়। অপরদিকে অবৈধ ক্যাবল ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে সংযোগ প্রদান ও ব্যবসা প্রসারে সহযোগীতা করেন। বিচার না পেয়ে গত ২৬ জুলাই এএসকে ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক স্বত্বাধিকারী মোঃ আরিফ রব্বানী চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগটি ফেরত চাইলে ঝাড়বাড়ী বাজারে চেয়ারম্যান প্রকাশ্য জনসম্মুখে অশালীন ও অকথ্য ভাষায় গালী-গালাজ করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে লাথি মারেন, কিন্তু লাথিটি গায়ে না লেগে সামনে রক্ষিত টেবিলে লাগে।
ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মুঠোফোনে লাঞ্ছিতের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, আরিফ অভিযোগ দিয়েছে। চৌকিদারের মাধ্যমে বিপক্ষ দলের তার ধরে এনেছি।
ঘটনাটি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর ৩১ জুলাই রবিবার তিনি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিনাত রেহেনা (ইউএনও) মুঠোফোনে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য এসিল্যান্ডকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) মো. কামাল হোসেন জানান, আমি খুব শীঘ্রই সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য যাবো। তদন্ত রিপোর্টে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োাজনীয় ব্যবস্থাা গ্রহণ করা হবে।
বিঃ দ্রঃ – জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগের কপি ও শতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান মতির ছবি সংযুক্ত রইল। -

সুজানগরে মুখের মাস্কে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে দুই ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই
এম এ আলিম রিপনঃ পাবনার সুজানগরে মুখের মাস্কে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহারের মাধ্যমে দুই গরু ব্যবসায়ীকে অজ্ঞান করে ৯৭ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সুজানগরের চিনাখড়া- বেড়া মহাসড়কে ঘটনাটি ঘটে । এ ঘটনায় গুরুত্বর অসুস্থ দুই গরু ব্যবসায়ী সুজানগর পৌরসভার মানিকদীর গ্রামের মৃত রস্তম বিশ্বাসের ছেলে আমজাদ বিম্বাস(৪৩) ও একই এলাকার ফজেল হোসেনের ছেলে জাহেদ হোসেন (৩৫) বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গরু ব্যবসায়ী জাহেদ হোসেনের ভাই ডাঃ ইউনুস জানান, এদিন ওই দুইজন ব্যবসায়ী নিজ বাড়ী হতে গরু কিনতে বেড়া হাটের উদ্দেশে সিএনজি যোগে রওনা হন। পরে চিনাখড়া থেকে একটি যাত্রী পরিবহন বাসে উঠলে তাদের মুখে মাস্ক না থাকায় একজন অপরিচিত ব্যক্তি দুইটি মাস্ক নিয়ে এসে সেটি মুখে লাগিয়ে বাসের সিটে বসতে বললে ব্যবসায়ীরা মাস্ক পড়ে বাসের সিটে বসে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পরে অচেতন হয়ে পড়লে তাদের দুইজনের কাছ থেকে ৯৭ হাজার টাকা নিয়ে বাস থেকে নেমে যায় ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা। কিছুক্ষণ পরে বাসের কন্ডাক্টর ভাড়া নিতে আসলে দেখেন ওই দুইজন ব্যবসায়ী অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছেন । এ সময় কাশিনাথপুর নামক স্থানে অজ্ঞান অবস্থায় তাদেরকে নামিয়ে দিয়ে বাসটি তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরবর্তীতে ওই দুই গরু ব্যবসায়ীর স্বজনেরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে বুধবার থানার ওসি আব্দুল হাননান জানান,বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। এবং এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগও পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম এ আলিম রিপন
সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।। -

সুজানগরে গাঁজাসহ যুবলীগ নেতা আটক
এম এ আলিম রিপন ঃ পাবনার সুজানগর উপজেলার ভাঁয়না ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক প্রামানিককে (৪৫) গাঁজাসহ আটক করেছে পুলিশ। সে ভাঁয়না ইউনিয়নের চর চলনা(চরপাড়া) গ্রামের মৃত আনছার আলী প্রামানিকের ছেলে। সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাননান জানান, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আট গ্রাম গাঁজা সহ তাকে স্থানীয় চরপাড়া থেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হওয়ায় বুধবার পাবনা কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান জানান, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে মানিক প্রামানিকের বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম এ আলিম রিপন
সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।। -

পাথরঘাটার নতুন ইউএনও সুফল চন্দ্র গোলদারের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি: ৩ আগষ্ট বুধবার বেলা ১১টায় পাথরঘাটার নতুন ইউএনও সুফল চন্দ্র গোলদারের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার টিএম শাহ আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির, বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ খালেক,ওসি আবুল বাসার, পৌর মেয়র আনোয়ার আকন,হাজী জালাল উদ্দিন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন পাল, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অমল তালুকদার,বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অরুন কর্মকার,ঈমাম সমিতির মোঃ আবুল কালাম আজাদ, এডভোকেট মশিউর রহমান, মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম,মা: শিক্ষক সমিতির সভাপতি তরিকুল ইসলাম রেজা এবং প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছগীর হোসেন সহ অতিথি বৃন্দ।
এসময় অনুষ্ঠানের সভাপতি ও নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, আপনাদের সকল কাজে রাত কিংবা দিনে আমাকে পাবেন । কোনো ধরনের সমস্যা হলে সরাসরি আমার অফিসের নম্বরে ফোন দিবেন। আমাকে সহযোগিতা করবেন।
অমল তালুকদার।।
-

ভারতে প্রবেশের সময় মহেশপুর সীমান্তে ১৮ জন আটক
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
অবৈধ ভাবে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জুলুলী গ্রাম বুধবার ১৮ জন পরুষ, নারী ও শিশুকে আটক করেছে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি। এর মধ্যে ১০ জন পুরুষ, দুইজন শিশু ও ৬ জন নারী রয়েছে। ৫৮ বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক তসলমি মোঃ তারেক বুধবার দুপুরে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বুধবার সকাল ৬টার দিকে মহশেপুর ৫৮ ব্যাটালয়িনের অধিনস্ত মাটিলা বিওপির টহল দল জলুলী গ্রাম থেকে তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন, বরিশালের উজিরপুরের জামবাড়ি গ্রামের বীনা মজুমদার (৩৫), কয়ো মজুমদার (১৭), জয় মজুমদার (১৩), কালবিলা গ্রামের নগিম মজুমদার (২০), গোপালগঞ্জের সাতপাড়া গ্রামের মৃনাল কীত্তনীয়া (৩৭), প্রভাতী কীত্তনীয়া (৩০), মিষ্টি কীত্তনীয়া (১১), প্রান্ত কীত্তনীয়া (০৭), মোঃ সাতক্ষিরার মিঠাবাড়ি গ্রামের তানভীর হোসনে (২৫), নড়াইলের গোবরা গ্রামের মোঃ আজজিুর রহমান (৩৪), সুনামগঞ্জের রসুলগঞ্জের মোঃ সুজন মিয়া (৩৩), শার্শার অগ্রভুলোট গ্রামের নাওয়াজ শরীফ (১৯), যশোরের নওয়াপাড়ার দিয়াপাড়া গ্রামের মোঃ শরীফ (১৬), শার্শার গোগা গ্রামের মোঃ রইচ মোল্লা (২৫), ডুমুরিয়ার খামারবাটি গ্রামের প্রসেঞ্জিত হালদার (২৮), খুলনার খালিশপুরের গোয়ালপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম (৩৪), আফ্রদিী (৪) ও বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার বলভদ্রপুর গ্রামের বিল্লাল ফকির।ঝিনাইদহ
আতিকুর রহমান।। -

নড়াইলের কৃষকরা বর্ষা মৌসুম পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
নড়াইলের কৃষকরা বর্ষা মৌসুম পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না। নড়াইলের কৃষকরা পানির অভাবে পাট নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছেন। এ এলাকার কৃষকরা পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না। এখন বর্ষা মৌসুম তবুও ভারী বৃষ্টির দেখা নেই নড়াইলের তিনটি উপজেলায় কৃষকরা বৃষ্টির আশায় পাট কেটে জমিতে গাঁদি সাজিয়ে রেখেছেন।
এবার জেলার সদর লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার খাল, বিল ও জলাশয়ে তেমন পানি নেই। এলাকার কৃষকরা বলছেন খাল, বিল ও জলাশয়ে যে পানি আছে তা পাট পঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।এদিকে পাট রোদে পুড়ে মরে লালচে হয়ে যাচ্ছে ক্ষেতেই। তাই উপায় না পেয়ে অপরিস্কার অল্প পানিতে পাট জাগ দিতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে পানি পঁচে পাটের রঙ কালো হযে যাচ্ছে। এই কালো পাট বাজারে নিয়ে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন না।
এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাটবীজ জমিতে বোনা হয় মার্চ মাসের শেষদিকে। আর জুন মাসের শেষদিকে জমির পাট কাটা শুরু হয়। এই পাট কেটে জমি পরিস্কার করে জমিতে আমন ধানের চারা লাগানো হয়। উপজেলার যে সব নিচু এলাকা ও খাল-বিল রয়েছে সেখানে বৃষ্টির পানিতে ভোরে গেলে পাট জাগ দেওয়া হয়। এ বছর জুলাই মাস শেষ হতে চললেও তেমন কোন ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। খাল-বিলেও তেমন পানি নেই। তাই পানির অভাবে কৃষকরা পাট জাগ দিতে পারছেন না। প্রচন্ড রোদের তাপে পাট শুকিয়ে যাচ্ছে ক্ষেতেই।
সদর উপজেলার শেখহাটি গ্রামের কৃষক রাজু শেখ বলেন, আমি এক একর জমিতে পাটের চাষ করেছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছে। তবে পাট কেটে এখন বিপাকে পড়েছি। পানির অভাবে পাট পচানোর জায়গা নেই। তাই সড়কের পাশে ফেলে রেখেছি।
কালিয়া উপজেলার চোরখালি গ্রামের জিহাদুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য বছরগুলোতে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে প্রচুর বৃষ্টি হলেও এ বছর বৃষ্টি নেই। পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছি না। প্রচণ্ড রোদে কাটা পাট শুকিয়ে যাচ্ছে।
লোহাগড়া উপজেলার মরিচ পাশা গ্রামের মো. গোলজার মৃধা বলেন, এ বছর আমি ১৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি।আমার পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু খাল-বিলে পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে পারছি না। মো. গোলজার মৃধার মতো উপজেলার অধিকাংশ পাট চাষিদের একই অবস্থা।
ওই এলাকার কৃষকরা গত বছর পাটের দাম বেশি পাওয়ায় এ বছর পাট চাষে ঝুঁকে পড়েন। পাট চাষ নিরাপদে হলেও এখন কৃষকরা পাট কাটা ও জাগ দেওয়া নিয়ে মহা বিপদে আছেন। কৃষকরা পাট কাটতে না পারায় আমন চাষ পিছেয়ে যাচ্ছে। আমন চাষ পিছিয়ে গেলে রবিশস্য চাষও পিছিয়ে যাবে এমনটাই বলছেন লোহাগড়া উপজেলা কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগ জানায়, এ জেলায় ২২ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে। আবাদকৃত জমিতে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪১০ বেল পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা বয়েছে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে। আবাদকৃত জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮০ হাজার ৯০৩ বেল পাট।
লোহাগড়া উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে। আবাদকৃত জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮২ বেল পাট। কালিয়া উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। আবাদকৃত জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৭২৫ বেল পাট।
কৃষিস্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দীপক কুমার রায় বলেন, এ বছর পাট নিয়ে কৃষকরা মহা বিপদে আছেন। পাট কেটেই জমিতে আমনের চাষ করা হয়।তাই সময় মতো পাট কাটতে না পারলে আমন চাষ ব্যাহত হতে পারে। এজন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি দেরি না করে অল্প পানিতেই পাট জাগ দিযে পাটের ওপরে পলিথিন বিছিয়ে মাটি ও বালির বস্তা এবং ভারি কোন জিনিস দিয়ে পাট পানির নিচে ডুবিয়ে দিতে হবে। এছাড়া কৃষকদের কোনো উপায় নেই।