Category: ইতিহাস ঐতিহ্য

  • দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আত্রাইয়ের বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী

    দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আত্রাইয়ের বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী

    রওশন আরা শিলা, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ-

    নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন পন্য সামগ্রী,বাজারে প্লাষ্টিক, মেলামাইন ও স্টিলের তৈরি পণ্যের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে ওই পণ্য, ফলে এসব পেশার সাথে জড়িত মানুষগুলোকে আর্থিক অনটনের মধ্যে দিয়ে দিন অতিবাহিত করতে হচ্ছে, নিজ পেশার সাথে টিকতে না পেরে ভিন্ন পেশায় চলে গেছে উপজেলার পাঁচ শতাধিক শিল্পের কারিগর, পুঁজি স্বল্পতা, বাঁশ ও বেতের উৎপাদন হ্রাস, আর্থিক অসচ্ছতা, উপকরণের অভাবেই আজ বিলুপ্তির পথে।ঐতিহ্যবাহী বাঁশ বেত শিল্প, সারা দেশের মত একসময় ব্যাপক প্রচলন ছিল বাঁশের তৈরি কুলা,ঝুড়ি,চাটাই,হাঁস মুরগির খাঁচা, বেতের চেয়ার, ধামা,চালুনি, খলই, হাতপাখা, কিন্তু বাজারে প্লাষ্টিক, মেলামাই ও স্টিলের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রীর চাগিদা বেড়ে যাওয়ায় বাঁশ ও মাটির তৈরি জিনিষগুলো প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।উপজেলার কালিকাপুর, তিলাবাদতুরি,জামগ্রাম, নওদুলী,ঝনঝনিয়া, ব্রজপুরসহ আরও কয়েকটি এলাকর বংশপরস্পরায় বাঁশ ও বেত শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল প্রায় পাঁচশতাধিক পরিবার। কিন্তু বতমানে বেশিরভাগই পরিবারের সদস্যরাই পেশা বদল করে জীবিকা নিবাহ করছেন।নিত্য নতুন প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী তৈরি করে থাকেন যা উপজেলার বিভিন্ন হাচ-বাজারে এবং গ্রামগঞ্জে কাঁধে করে ফেরি করে বিক্রি করে থাখে, এমনকি তৈরি এসব কুটির শিল্প সামগ্রী বেশ কয়েকটি দেশে যাচ্ছে।বৃহস্পতিবার (20 জুলাই) আহসানগঞ্জ ইউপি’র ঐতিহ্যবাহি আহসানগঞ্জ হাট সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিংসাড়া গ্রামের আব্দুল জলিল,ভাদঘরপাড়া গ্রামের ইনতাজ আলী, মিজাপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম ও নওদুলী গ্রামের ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন জানান, এক সময় তাদের কাছে দশ-বারো করে বাঁশ ও বেত শিল্পের কারিগর ছিল। তধনকার দিনে একজন কারিগরের বেতন ছিল প্রতিদিন দুই শত থেতে আড়াইশত টাকা। এখনকার দিনে সে কারিগরের বেতন দিতে হয় চার’শ থেকে পাঁচ শত টাকা। তাও সিজনের সময় পাওয়া যায় না, তারা আরো জানান, কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। আগে একচি বাঁশের দাম ছিল পঞ্চাশ থেকে ষাইট টাকা, সেখানে এখন প্রতিটি বাঁশ কিনতে দুই শত থেকে তিনশত টাকায়, আর নির্বিচারে বন জঙ্গল উজার হওয়ার ফলে বেত গাছ খুব একটা চোখে পড়ে না। তাই এ শিল্পের সাথে জড়িত পরিবারগুলো আর্থিক অনাটনের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। উপজেলার নওদুলি হাট এলাকার শশীকান্ত জানান কয়েকবছর হলো পৈত্রিক পেশা ছেড়ে দিয়ে এখন দিন মজুরি কুরছেন।। তিনি বলেন বেত শিল্পে টাকা বিনিয়োগ করে খুব একটা লাভ হতো না। এখন গতর খেটে কাজ করি,দিনবাদে চার-পাঁচ’শ রোজগার হয়। পরিবার নিয়ে খেয়ে পড়ে চলছি। তবে যে দিন কাজ না থাকে সে দিন অনেক কষ্ট হয়। তবে আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি।
    ভস্পপপঃ-মিজাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম।
    ভস্পপপঃ-নওদুলী গ্রামের ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন।
    অস্পপপঃ- ভাদঘর পাড়া গ্রামের ইনতাজ আলী।

  • কালের বির্বতনে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে আত্রাইয়ের মৃৎশিল্প

    কালের বির্বতনে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে আত্রাইয়ের মৃৎশিল্প

    রওশন আরা শিলা. নওগাঁ প্রতিনিধি
    কালের বিবতনে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে নওগাঁর আত্রাইয়ের মৃতশিল্প। প্রয়োজনীয় অর্থ ও উপকরণের অভাবে আত্রাই উপজেলার মৃতশিল্প ঐতিহ্য হারাতে বসেছে,মৃৎ শিল্পীরা নিজ পেশা ছেড়ে এক প্রকার বাধ্য হচ্ছে অন্য পেশায় আত্ন নিয়োগ করতে। কালের বিবতন,প্রতিকুলতা আর প্রযুক্তির এ যুগে মেলামাইন শিল্পের বিকাশে মৃৎলিল্প বিলুপ্ত প্রায়। নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মৃৎশিল্পীদের হাতের তৈরি মাটিড় হাঁড়িপাতিল ও ভৈজসপত্রের প্রশংসা ছিল পুরো রাজশাহী বিভাগ জুড়ে।
    স্থানীয় কুমারদের হাতে তৈরি মাটির হাড়িপাতিল,কলস, প্রদিপ,খেলনার তৈজসপত্র আর ঘর ছাওনির টালি ছিল মানুষের নজর কাড়া।শহর অঞ্চলে মাটির তৈরিভৈজসপত্র ব্যবহার না থাকলেও এক সময় গ্রামঞ্চলে এগুলোর ব্যবহার ও চাহিদ ছিল প্রচুর,গ্রাামে বসবাসকারি বিভিন্ন পরিবারের মেয়েদের পয়সা সংগ্রহের জন্য মাটির তৈরি ব্যাংকের কথা সবার জানা।বিদ্যুৎ চলে গেলে গ্রামের বাড়িতে মাটির প্রদীপের চাহিদাও ছিল।যা বতমানে বিরল। তবে বিভিন্ন রোগ বালাই সারতে এখনও গ্রামের মানুষেরা ব্যবহার করে আসছে পিঠা তৈরীর বাসন, মাটির কলস,হাড়ি ও দই ভরানোর জন্য ছোট ছোট পাতিলসহ ইত্যাদিআর একারনেই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মির্জাপুর,পাঁচুপুর, সাহেবগঞ্জ, বিশা,হাটকালুপাড়া,কালিকাপুর পল্লীতে এখনও চাকা ঘুরছে। কিন্তু আগের মত জাঁকজমক আর নেই। দুদিনে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি,কষ্ট,হতাশায় যেন সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছে পল্লীগুলোতে। এক সময়ের নন্দিত মৃতশিল্প বিলুপ্তির পেছনে নানাবিধ সমস্যা বিরাজ করছে।কুমারদের শ্রমের মজুরি খুবই কম। প্রয়োজননীয় মাটি ও জ্বালানীয় অভাব,সমস্যা বাজারজাত করনেও। সবপরি আধুনিক মেলামাইন শিল্পের বিকাশের জন্য মৃতশিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। মঙ্গবার (4 জুলাই) সকালে মৃৎ শিল্পের সাথে জড়িত উপজেলার মির্জাপুর পালপাড়ায় গিয়ে কথা হয় শ্রী গজেন্দ্র নাথ পাল,শ্রী অমল চন্দ্র পাল,শ্রীমতি সম্পারানী পাল,শ্রীমতি ইতিরানী পাল, ম্রীমতি সুসমা রানী পালের সাথে তারা জানান, মাটির তৈরি জিনিসপত্ত্রের চাাহিদা কমে গেছে অনেকাংশে, প্রয়োজনীয় মাটির অবাবে,দ্রব্যমূল্য সহ বিভিন্ন কারনে তারা তাদের পুরাতনঐতিহ্য ধরে রাখতে পারছে,তাদের এ পাড়ায় এক সময় তিন’শ পরিবার ছিল এর মধ্যে সব পরিবার ভারতে চলে গেছে। বতমানে চল্লিশটি পরিবার রয়েছে। তারাই একমাত্র মৃৎশিণ্পের চাহিদা আবারো ফিরে আসবে বলে মনে করছেন। এবিষয়ে আত্রাই উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ সোহেল রানা বলেন, এই উপজেলার মৃতশিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে একটি প্রাথমিক জরিপ করা হয়েছে। তাদের পুজিঁ ব্যপারে অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। আশা করছি এবছরে মৃৎ শিল্পকে টিকিয়ে রাখকতে বিনা সুদে তাদের লোন দেয়া হবে।#

  • জ্যোতি বসুর পৈতৃক বসত ভিটা

    জ্যোতি বসুর পৈতৃক বসত ভিটা

    উজ্জ্বল রায়, নিজস্ব প্রতিবেদক :

    জ্যোতি বসুর পৈতৃক বসত ভিটা টি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়নের বারদী গ্রামের চৌধুরী পাড়ায় অবস্থিত।
    তাঁর জন্ম ৮ জুলাই ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে। জ্যোতি বসু ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি রাজনীতিবিদ। তিনি CPI (M) দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৭-২০০০ সাল পর্যন্ত একটানা তেইশ বছর জ্যোতি বসু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই ছিলেন ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী। জ্যোতি বসু পরিবারের আদিনিবাস ছিল বর্তমান এই বারদী গ্রামে।
    জ্যোতি_বসুর জন্ম পশ্চিমবঙ্গে হলেও, বারদীর চৌধুরী পাড়ায় কেটেছে তার শৈশবের কিছু সময়।
    জ্যোতি বসুদের এই বাড়িটি মূলত তার মায়ের বাবার বাড়ি ছিল। জ্যোতি বসুর নানা শরৎ চন্দ্র দাস ও নানী খিরদা সুন্দরীর একমাত্র সন্তান ছিলেন জ্যোতি বসুর মা হেমলতা বসু। বাবা-মার সূত্রে এই বাড়ির মালিক হন হেমলতা বসু। ডাক্তার নিশিকান্ত বসুর সঙ্গে হেমলতা বসুর বিয়ে হয়। বিয়ের সূত্রে স্ত্রীর সুবাদে এই বাড়ির মালিক হন জ্যোতি বসুর বাবা ডাক্তার নিশিকান্ত বসু।
    দুই একর চার শতাংশ জমির এক কোনে ছোটো ও সুন্দর এই দ্বিতল ভবন নির্মাণ করানো হয় ১৯২২ সালে। ভবনের এক পাশে একটি লেখা থেকে জানা যায় জ্যোতি বসুর বাবা মা এই বাড়িটি ১৩২৯ বাংলা সালের তের অগ্রহায়ণ পাঁচু ওস্তাগারকে দিয়ে তৈরি করিয়েছিলেন। ভবনের নিচ তলায় রয়েছে দুটি শোবার ঘর, একটি বৈঠকখানা ও দ্বিতীয় তলায় রয়েছে দুটি শোবার ঘর এবং প্রবেশ পথের উপরে একটি বারান্দা।
    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন জ্যোতি বসু ১৯৮৭ সালে ও ১৯৯৭ সালে তার পরিবার নিয়ে বারদীতে তার পৈতৃক ভিটা টি দেখতে এসেছিলেন।
    ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় জ্যোতি বসু তার এই পৈতৃক ভিটা টি পাঠাগারে রূপান্তরিত করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন । ৯৫ বছর বয়সে নিউমোনিয়া য় আক্রান্ত হয়ে ২০১০ সালে অসুস্থতায় তিনি মারা যান। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমানে ভবনটির পাশেই একটি পাঠাগার ও সুবিশাল সেমিনার হল তৈরি করা হয়েছে। কালচারাল মিনিস্ট্রি পুরাকীর্তি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হয়।
    শৈশবে জ্যোতি বসু তার পৈতৃক ভিটাতে থাকাকালীন তার দেখাশোনা করতেন আয়াতুন নেছা নামে এক মহিলা। পরবর্তী সময়ে বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্ব পান আয়াতুন নেছা ও তার ছেলে হাবিবুল্লা। বর্তমানে বাড়িটি দেখাশোনা করছেন আয়াতুন নেছার নাতি ইউসুফ আলী ও ফকির মাহামুদ। বাড়ির পিছনের দিকের দরজা তারা ব্যবহার করেন এখন। বারদী ইউনিয়নের বারদী গ্রামের চৌধুরী পাড়ায় অবস্থিত।
    তাঁর জন্ম ৮ জুলাই ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে।
    জ্যোতি বসু ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি রাজনীতিবিদ। তিনি CPI (M) দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৭- ২০০০ সাল পর্যন্ত একটানা তেইশ বছর জ্যোতি বসু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই ছিলেন ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী। জ্যোতি বসু পরিবারের আদিনিবাস ছিল বর্তমান এই বারদী গ্রামে।
    জ্যোতি_বসুর জন্ম পশ্চিমবঙ্গে হলেও, বারদীর চৌধুরী পাড়ায় কেটেছে তার শৈশবের কিছু সময়।
    জ্যোতি বসুদের এই বাড়িটি মূলত তার মায়ের বাবার বাড়ি ছিল। জ্যোতি বসুর নানা শরৎ চন্দ্র দাস ও নানী খিরদা সুন্দরীর একমাত্র সন্তান ছিলেন জ্যোতি বসুর মা হেমলতা বসু। বাবা-মার সূত্রে এই বাড়ির মালিক হন হেমলতা বসু। ডাক্তার নিশিকান্ত বসুর সঙ্গে হেমলতা বসুর বিয়ে হয়। বিয়ের সূত্রে স্ত্রীর সুবাদে এই বাড়ির মালিক হন জ্যোতি বসুর বাবা ডাক্তার নিশিকান্ত বসু।
    দুই একর চার শতাংশ জমির এক কোনে ছোটো ও সুন্দর এই দ্বিতল ভবন নির্মাণ করানো হয় ১৯২২ সালে। ভবনের এক পাশে একটি লেখা থেকে জানা যায় জ্যোতি বসুর বাবা মা এই বাড়িটি ১৩২৯ বাংলা সালের তের অগ্রহায়ণ পাঁচু ওস্তাগারকে দিয়ে তৈরি করিয়েছিলেন। ভবনের নিচ তলায় রয়েছে দুটি শোবার ঘর, একটি বৈঠকখানা ও দ্বিতীয় তলায় রয়েছে দুটি শোবার ঘর এবং প্রবেশ পথের উপরে একটি বারান্দা।
    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন জ্যোতি বসু ১৯৮৭ সালে ও ১৯৯৭ সালে তার পরিবার নিয়ে বারদীতে তার পৈতৃক ভিটা টি দেখতে এসেছিলেন।
    ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় জ্যোতি বসু তার এই পৈতৃক ভিটা টি পাঠাগারে রূপান্তরিত করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন । ৯৫ বছর বয়সে নিউমোনিয়া য় আক্রান্ত হয়ে ২০১০ সালে অসুস্থতায় তিনি মারা যান। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমানে ভবনটির পাশেই একটি পাঠাগার ও সুবিশাল সেমিনার হল তৈরি করা হয়েছে। কালচারাল মিনিস্ট্রি পুরাকীর্তি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হয়।
    শৈশবে জ্যোতি বসু তার পৈতৃক ভিটাতে থাকাকালীন তার দেখাশোনা করতেন আয়াতুন নেছা নামে এক মহিলা। পরবর্তী সময়ে বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্ব পান আয়াতুন নেছা ও তার ছেলে হাবিবুল্লা। বর্তমানে বাড়িটি দেখাশোনা করছেন আয়াতুন নেছার নাতি ইউসুফ আলী ও ফকির মাহামুদ। বাড়ির পিছনের দিকের দরজা তারা ব্যবহার করেন এখন।

  • কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ী

    কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ী

    মো.হাসমত উল্লাহ,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।

    লালমনিরহাট জেলায় কালের আবর্তে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘গরুর গাড়ী।গরুর গাড়ী এক সময় যাত্রী বান্ধব বন্ধু হিসেবে অনেকেই অখ্যায়িত করত।

    এক সময় গরুর গাড়ী নিয়ে ছুটে চলতেন গ্রামের পর গ্রামে।বৃদ্ধ থেকে শুরু করে যুবোগ ও মধ্যবয়সী সহ সবাই গরুর গাড়ী নিয়ে বের হতেন।গরুর গাড়ী নিজের কাজের পাশাপাশি ব্যবহার হতো বিভিন্ন মালা মল বাহনের কাজে। কিন্তু আধুনিকায়নে বিভিন্ন যানবহন বৈদ্যুতিক গাড়ী এলাকা ভরপুর।যার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে একমাত্র উৎস রত ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ী।

    সরেজমিনে কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়,তখনকার সময়ে গরুর গাড়ী মেরামতের জন্য হাট বাজারে দোকান দিয়ে বসত।এছাড়া অনেকে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে গরুর গাড়ী মেরামত করত।

    কিন্তু এখন আর গরুর গাড়ী ব্যবহার না করার ফলে গরুর গাড়ীর মিস্ত্রীদের এখন আর দেখা যায় না।কালীগঞ্জ উপজেলার বুড়িরহাট এলাকার গরুর গাড়ী চালক দেলবার হোসেন,বলেন এক সময় গরুর গাড়ী ছাড়া রাতে ও দিনে চলাচল করা যেত না।কিন্তু এখন এলাকায় কোম্পানির বিভিন্ন ধরনের যনবহন বের হওয়ায় এখন আর গরুর গাড়ী প্রয়োজন হয় না।

    শিক্ষক শাহ্ আলম বলেন, আগে রাতে ও দিনে বেরহলে গরুর গাড়ী ছারা অনন্য কোন যানবহন পাওয়া যেতনা। কিন্তু এখন ঘরে থেকে বেরহলে বিদ্যুৎতের গাড়ী ও অনন্য যানবহন পাওয়া যায় কারণে এখন আর গরুর গাড়ীর প্রয়োজন হয় না।

    চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাপারহাটের এক গরুর গাড়ীর মেকার জানায়,এক সময় নিজের হাতে অনেক গরুর গাড়ী মেরামত করেছি। কিন্তু এখন কার সময়ে বাড়ী গাড়ী থাকলেও তা কেউ ব্যবহার করে না।এতে মেরামতের কাজ হয় না।যার কারণে এই পেশা ছাড়তে হয়েছে।তিনি আরও বলেন,সময়ের আবর্তে এক সময় গরুর গাড়ীর দেখতে যেতে হবে জাদুঘরে। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেও না গরুর গাড়ীর ইতিহাস।

    হাসমত উল্লাহ।

  • পাইকগাছায় চৈত্র সংক্রান্তি মেলা ও বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

    পাইকগাছায় চৈত্র সংক্রান্তি মেলা ও বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা।।
    চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও বৈশাখকে কেন্দ্র করে পাইকগাছার মৃৎশিল্পীরা রং তুলিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাঙালীর প্রানের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর মাত্র এক দিন পরেই পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে মৃৎশিল্পীদের মধ্যে। মৃৎশিল্পীদের দম ফেলার ফুসরত নেই। হরেক রকমের মাটির বিভিন্ন রকম খেলনা পুড়ানো শেষ করে এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রঙের আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলতে। চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মৃৎশিল্পীদের কয়েকগুণ কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়।
    চৈত্র সংক্রান্তি বা চৈত্র মাসের শেষদিন। বাংলা মাসের সর্বশেষ দিনটিকে সংক্রান্তির দিন বলা হয়। একসময় বাংলায় প্রতিটি ঋতুরই সংক্রান্তির দিনটি উৎসবের আমেজে পালন করতো বাঙালি। কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে সে উৎসব। চৈত্রের শেষ আর বৈশাখের শুরু। বাঙালির সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব পালিত হয় এই দুই দিনে। তবে দুয়ের মধ্যে উৎসবের তালিকায় চৈত্র সংক্রান্তির পাল্লা ভারী। বাংলা বর্ষের সর্বাধিক উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে চৈত্র সংক্রান্তির দিনটি।
    সারা বছর তেমন আয় না হলেও বৈশাখী মেলায় মাটির তৈজসপত্র বিক্রি করে আয়ের মুখ দেখেন মৃৎশিল্পীরা। মৃৎশিল্পীদের ঐতিহ্য যে একে বারে ফুরিয়ে যায়নি তা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত থাকতে বুঝা যায়। এই মাসে মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করেন।বিভিন্ন তৈজসপত্র ও শিশুদের খেলনা তৈরি করেন।মৃৎশিল্পীদের হাতের কারুকাজ তৈজসপত্র গ্রামীণ মেলাতে মুগ্ধতা ছড়ায়। যা ছোট বড় সব বয়সীদেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
    পাইকগাছার বোয়ালিয়া পাল পাড়ায় প্রায ১৫টি পরিবার মৃৎশিল্পের কাজ করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বাড়ির উঠান জুড়ে মাটির জিনিস পত্র। ভোর থেকে শুরু করে মধ্যে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের এ ব্যস্ততা। নারী-পুরুষ সকলে মিলে বিভিন্ন রকমের শিশুদের খেলনা রং করেছেন। হাড়ি-পাতিল,মশার কয়েলদানি, সানকি, কলসি, ফুলের টপ থেকে শুরু করে শিশুদের খেলনা পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ূরপাখি, নৌকা,পাতিল, জগ, কলসি, চুলা বিভিন্ন খেলনা রং করতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। মৃৎশিল্পী তারক পাল বলেন, প্লাস্টিকের জন্য মাটির খেলনা আগের মতো বিক্রি হয় না। কিন্তু গদাইপুর মাঠে চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও পহেলা বৈশাখের গ্রামীণ মেলাতে মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র ও ছোটদের খেলনা চাহিদা প্রচুর। বেঁচাকেনা ভালো হয়। চৈত্র মাসের পুরো সময়টাতে কুমার পাড়ায় ব্যস্ত থাকে। একদিন পর পহেলা বৈশাখ। ছোটদের খেলনা রং করছি এই খেলনা মেলাতে বিক্রি করবো। মেলাকে কেন্দ্র করে প্রায এক শতটি খেলনা বানিয়েছি। মেলার আগে রংয়ের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
    মৃৎশিল্পী সাধনা রানী পাল বলেন, চৈত্র মাসের শুরু থেকে ১০ রকমের খেলনা তৈরি করেছি। পুতুল হাড়ি,পাতিল,চুলা,পাটা,পাখি,ঘোড়া বিভিন্ন মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও খেলনা কাজ শেষ করে এখন রং করছি। আমি আর আমার স্বামী মিলেই খেলনা তৈরি করেছি। ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত খেলনা রং করার কাজ করতে হচ্ছে। প্লাস্টিকের জিনিস বের হওয়াতে মাটির জিনিসের কদর কমে গেছে। শুধু গ্রামীণ মেলায় মাটির জিনিসের কদর থাকে। চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ৫০০ খেলনা তৈরি করেছি। ছোটদের খেলনা রং করতে ব্যস্ত হয়ে পরেছি। প্রতিটি ছোটদের খেলনা ১০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।
    মৃৎশিল্পী রামপদ পাল বলেন, আগের মতো মাটির জিনিস আর বিক্রি হয় না।তবে মাটির কিছু কিছু তৈজসপত্রের চাহিদা রয়েছে। আগে মাটির জিনিসের তৈজসপত্রের ভালোই চলতো,ভালো দাম পেতাম। এখন আর আগের মতো দাম পাই না।প্লাস্টিকের জিনিস বের হয়েছে তাই মাটির জিনিস চলে না। মেলায় মাটির জিনিসের কদর থাকে, ভালোই বিক্রি করা যায়। চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ছোটদের খেলনা তৈরি করেছি। সেই খেলনা পুড়ানো শেষ করে রং তুলিতে ফুটিয়ে তুলছি। চৈত্র মাসে কুমাররা ব্যস্ত সময় পার করে।বলতে গেলে সারা বছরের কাজ এই মাসে করে থাকি। গ্রামীণ মেলার জন্য টিয়া, ময়ূরপাখি, হাতি, ঘোড়া পুরানো শেষ করে রং করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেছি। প্রায় তিন শতটি ছোটদের খেলনা তৈরি করেছি। প্রত্যেকটি খেলনা ২৫-৪০ টাকা দরে মেলায় বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।
    চৈত্র এলেই মনটা কেমন যেন হয়৷ মনে পড়ে সেইসব ধূলিধুসর, রৌদ্রমাখা দিনগুলোর কথা৷ চারদিকে কেমন উৎসবের আমেজ৷ সব বয়সি মানুষ অপেক্ষা করে মেলার জন্য৷ মেলা আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটা অংশ। মেলাকেন্দ্রিক কিছু সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠান গড়ে উঠেছে৷ এগুলো আমাদের বিনোদনধারাকে উর্বর করেছে৷

  • ১লা বৈশাখ’কে সামনে রেখে আন্দিকুটের  সুনীলপাল মৃৎশিল্প তৈরীতে ব্যাস্ততায় দিনকাটাচ্ছেন

    ১লা বৈশাখ’কে সামনে রেখে আন্দিকুটের সুনীলপাল মৃৎশিল্প তৈরীতে ব্যাস্ততায় দিনকাটাচ্ছেন

    কুমিল্লা থেকে, মোঃতরিকুল ইসলাম তরুন,

    কুমিল্লার বাঙ্গরাবাজার থানাধীন আন্দিকুট আশ্রম সংলগ্ন সুনীল পাল,পিজুষপাল,সুমিতাপাল
    ১ লা বৈশাখ কে সামনে থেকে দিন রাত মৃৎশিল্পের নানা রকম প্রসাদনী তৈরীতে ব্যাস্ত দিন কাটাচ্ছেন।

    তারা মৃৎ শিল্পের বাচ্চা দের ও বাসার আসবাবপত্র সামগ্রীর মধ্যে তৈরী করতেছে যেমন হরা,ঘটি,পুতুল,বাংঙ্ক, পাটা পাতিল মালশা, তাওয়া, খেলনা ঘোড়া,গ্রামের বধু সহ নানা রকমের মৃৎশিল্প তৈরীতে সাফল্য অর্জন করেন।তাদের তৈরীকৃত সামগ্রী কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারা ক্রয় করে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করে।

    এ ব্যাপারে সুনিতা পাল জানান ১ লা বৈশাখ কে সামনে রেখে মাটির পুতুল, ঘটি,ডেগ,পাতিল,পুতুল হরা সহ,নানা রকম খেলনা তৈরীতে ব্যাস্ত আছেন তিনি, এই কাজ তিনি বিবাহের পূর্ব থেকেই করে আসছেন,তার বাবা বাড়ি একই উপজেলার কামাল্লা পাল বাড়ি। ত্রিঁশ বছর যাবত এই পেশায় নিয়োজিত। অন্যান্যদের একই পেশায় জীবন নির্বাহে চলছে মৃৎশিল্পী হয়ে পরিচিতি।
    ,তারা পৈরদাদার আমল থেকে এই পেশায় সময় কাটান,তারা আরো জানান বর্ষা মৌসুমে মাটি কিনে রেখেন,আর এই মাটি থেকে মৃৎশিল্প তৈরীকরে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান দেন,তাদের বাপ দাদার ব্যাবসা করে পরিবার নিয়ে ভালো ই দিন কাটাচ্ছেন।সুনীলপাল একই বক্তব্য দেন।

  • মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরে রে‌ডি‌মেট ঘরের-হাট

    মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরে রে‌ডি‌মেট ঘরের-হাট

    মুন্সীগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ

    শান্তির নীড় বলতে নিজের ঘরকে বোঝায়। সেই ঘর যদি হয় টিন-কাঠের তৈরি তাহলে তো কথাই নেই। টিনের চালে শরতের বৃষ্টির ফোঁটার রিমঝিম শব্দে মনে জাগে অন্যরকম শিহরণ।

    টিন-কাঠের এ বাড়ি মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্য। এ জেলার আদি নাম  বিক্রমপুর। সৌখিন কিংবা নিম্নবিত্ত- এ অঞ্চলের অধিকাংশ বাড়ি টিন-কাঠ দিয়েই তৈরি। বন্যা কবলিত অঞ্চল হওয়ায় ঘর স্থানান্তরের সুবিধার জন্য এসব উপকরণই বেশি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া পুরাতন ঘর বিক্রি করলেও খরচের প্রায় সমপরিমাণ মূল্য পাওয়া যায়। এতে ক্রেতা-বিক্রেতারাও লাভবান হন।

    জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জে প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস। তারা যে কতটা শৌখিন- তা টিন-কাঠের তৈরি দৃষ্টিনন্দন ঘরগুলো দেখলেই বোঝা যায়। কয়েক বছর ধরে মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গীবাড়ি, সিরাজদিখান ও লৌহজং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন নতুন দোচালা, তিনচালা, চৌচালা ও সাতচালা ঘর। এর মধ্যে শুধুমাত্র লৌহজং উপজেলাতেই প্রতি মাসে ১০০-১৫০টি নতুন ঘর নির্মিত হয়ে থাকে।

    নকশা, কাঠের ধরন ও আকার ভেদে ঘরের দাম ২ লাখ থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঘরগুলো তৈরি করার জন্য মিস্ত্রিরা আসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। অনেকে মিস্ত্রি ঘর তৈরিতে সুবিধার জন্য ৪-৫ বছর ধরে মুন্সিগঞ্জেই বসবাস করছে। প্রকারভেদে ঘরগুলো তৈরিতে তাদের মজুরি হয় ৩৫-৬০ হাজার টাকা।

    সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- ঘর তৈরিতে বাচালু, নাইজেরিয়া, শাল, সেগুন, ওকান ও লোহা জাতীয় কাঠ এবং উন্নত মানের ‘অরজিনাল প্লেন শিট ও ঢেউটিন’ ব্যবহার করা হয়। ঘরগুলো তৈরির জন্য কাঠ আনা হয় চট্টগ্রাম থেকে।

    স্থানীয় এক ঘর ব্যবসায়ী বলেন, লৌহজং উপজেলার সবচেয়ে বড় কাঠের ঘরের হাট ঘোড়দৌড় কাঠপট্টি। এখানে শত বছর ধরে ঘর বিক্রি হচ্ছে। আমাদের বাবা-দাদারা এ হাটেই ঘরের ব্যবসা করতেন। এখন আমরা করি। লৌহজংয়ে শতাধিক কাঠের দোকান আছে। অনেকে এসব দোকান থেকে কাঠ কিনে নিজেদের মতো ঘর তৈরি করেন, আবার অনেকে আমাদের তৈরি ঘর কিনে নিয়ে যান।

    ঘর ব্যবসায়ী আব্দুর রব ব্যাপারী বলেন, ঘোড়দৌড় কাঠপট্টি নামে পরিচিত আমাদের ঐতিহ্যবাসী এ কাঠের ঘরের হাট সারাবছর চলে। এখানে সব ধরনের কাঠের ঘর পাওয়া যায়। আমরা মাসে শতাধিক ঘর বিক্রি করি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের তৈরি কাঠের ঘর কিনতে ভিড় করে মানুষ।

    লৌহজংয়ের উপ‌জেলার নিবার্হী কর্মকর্তা আমা‌দের কে বলেন- এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘর একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে।  শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেতা হবে। ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘর নির্মাণের পরিবেশ ও পারিপার্শিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।

  • তাল গাছের কান্না

    তাল গাছের কান্না

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে তালগাছের কান্নায় পরিবেশ ভারী ও জনমনে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব মোকাবেলা ও বজ্রপাত প্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে বজ্রপাত প্রতিরোধে, রাস্তার ধারে তালগাছ রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কিন্ত্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন সম্প্রসারণ কাজে নির্বিচারে এসব তালগাছ হত্যা করা হয়। পরিবেশ বিদগণের ভাষ্য তালগাছ যদি হত্যা করা হবে, তাহলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তার ধারে তালগাছসহ বৃক্ষরোপণ কেনো ? স্থানীয়রা জানান, খড়ি বাণিজ্য করতে ঠিকাদারের লোকজন। প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে নির্বিচারে বিভিন্ন গাছের ডালাপালা কেটে, তা জ্বালানী হিসেবে বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
    সরেজমিন দেখা গেছে, তানোর-বায়া রাস্তায় আকচা, কাশিমবাজার, জিওল-কালীগঞ্জহাট এবং তানোর-তালন্দ প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তায় নির্বিচারে বিভিন্ন গাছের ডালাপালা কাটা ও খড়ি বিক্রি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিকাদারের অগোচরে সাইড ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন এবং মিস্ত্রী ফারুক হোসেন ডালপালা ও কোনো ক্ষেত্রে বড় গাছের অর্ধেক কেটে বিক্রি করছে। কিন্ত্ত পরিপত্র অনুযায়ী গাছ বা বড় আকারের ডাল কেটে বিক্রির কোনো সুযোগ নাই। প্রয়োজনের তাগিদে ছোট-বড় ডাল কাটা যাবে, তবে তা বিক্রি করা যাবে না, সেখানেই রাখতে হবে এলাকার জনসাধারণ এসব ডাল পালা ব্যবহার করতে পারবেন।
    প্রসঙ্গত, যশোর এলাকায় ৫০টি তালগাছে কীটনাশক প্রয়োগের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে গত ৩১ জানুয়ারি শাহরিয়ার আলমকে তলব করেন হাইকোর্ট। বাংলায় দেওয়া আদেশে আদালত বলেন, ‘খবরে উল্লেখিত ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। সবুজ বনায়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকার বিবেচনায় নিয়ে স্বপ্রণোদিত রুল দিচ্ছি।’
    এবিষয়ে ঠিকাদারের সাইড ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন জানান, প্রয়োজন ছাড়া ডালপালা কাটা হয়নি। আবার প্রয়োজনে ডাল কেন গাছ কাটারও হুকুম আছে। আর শ্রমিকদের খরচের জন্য কিছু ডালপালা বিক্রি করা হয়েছে। এসব ছোট বিষয়। এবিষয়ে মিস্ত্রী ফারুক হোসেন জানান, বিদ্যুতের লাইনের জন্য ডালপালা কেন গাছ কাটার কথাও বলা আছে। এবিষয়ে ঠিকাদার শাহিন জানান, প্রয়োজনে গাছ নয় ডাল কাটার কথা। তাল গাছের মাথা কাটায় গাছ মরে গেছে, আর কাটা ডাল পালা বিক্রি হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাছের ডাল কাটার পর মরে গেলে কি করার আছে। কিন্ত্ত কত কিলোমিটার, কত টাকার কাজ ও সিডিউল দেখতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এবিষয়ে তানোর নেসকো (পিডিবির) আবাসিক প্রকৌশলী কিবরিয়া জানান,প্রয়োজন ছাড়া ডালপালা কাটা যাবে না, তালগাছের মাথা কাটেনি, অন্য কারনে মরতে পারে, আার কাটা ডালপালা বিক্রির কোন সুযোগ নেই। যদি এমন হয়ে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।#

  • জৌলসে ফিরে জমে উঠেছে ২২৮ তম ঐতিহ্যবাহী সূর্যমনি মেলা

    জৌলসে ফিরে জমে উঠেছে ২২৮ তম ঐতিহ্যবাহী সূর্যমনি মেলা

    আব্দুল আউয়াল
    বানারীপাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধি:

    বরিশালের বানারীপাড়ায় সূর্য পূজাকে কেন্দ্র করে ২২৮ তম ঐতিহ্যবাহী সূর্য মনি মেলা জমে উঠেছে। গত ২৮ জানুয়ারি শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সূর্য দেবের পূজার মধ্য দিয়ে বেশ জমকালো ভাবে মেলা উদ্বোধনী শুরু হয়েছে। ইতিহাসটা বেশ পুরোনো। বর্তমান সূর্যমনি মেলার কোল ঘেঁষে যাওয়া ছোট্ট খালটি এক সময় ছিলো বেশ বড় । খালে চলাচল করত বড় বড় নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত বোট‌। তার কোল ঘেঁষেই অবস্থিত সূর্যমনি মেলা।
    মেলা প্রাঙ্গণ সেখানে গঙ্গু সরকারের চাষিরা চাষ করতে গেলে লাঙলের মাথায় উঠে আসে সূর্য দেবের এক বিশাল আকারের প্রতিমা যার উচ্চতা ছিলো চার ফুট ও পাশে ছিলো প্রায় দুই ফুট ,ওজনে প্রায় চার মনের মত যেটি ছিলো মুল্যবান কষ্টিপাথরের প্রতিমা। লাঙলের মাথায় বেধেঁ ওঠায় প্রতিমাটির এক কর্নারে কিছু যায়গা ভাঙে যায়। কিছুদিন পরে গঙ্গু সরকারের মা স্বপ্ন দেখেন প্রতিমাটি দিয়ে সূর্য পুজো দেয়ার, সেই থেকে মাগি সপ্তমীতে শুরু হয় সূর্য দেবের পুজো যা আজ ঐতিহ্যবাহী সূর্যমনির মেলা। প্রথমে সূর্য পুজো উপলক্ষে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসত ছোট আকারে একটি মেলা। তখনকার সময়ে কোন রকমের ছাপড়াঘরে পুজো হত যা আজ বেশ বড় মন্দিরে রূপান্তরিত হয়েছে। তখনকার সময়ে গঙ্গু সরকার ও তার পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক ছিলো। মৃত চেরাগআলী মোল্লার আর চেরাগআলী মোল্লা ছিলো মৃত খবির উদ্দিন মোল্লার পিতা। দেশ ভাগের সময়ে গঙ্গু সরকারের পরিবার চেরাগআলী মোল্লার সাথে সুসম্পর্ক থাকায় চেরাগআলী মোল্লাকে গঙ্গু সরকারের পরিবার তাদের স্থাবর অস্থাবর সবকিছু বিক্রি করে দিয়ে তারা ভারতে চলে যান। সেই থেকে এই সূর্য পুজার দ্বায়িত্ব পরে চেরাগআলী মোল্লার কাছে। মৃত চেরাগআলী মোল্লা সূর্য প্রতিমাটি রাখার জন্য বর্তমান হাতি রাখার জায়গায় ভিন্ন একটি ছাপড়াঘর তৈরী করেন এবং পুজো শেষ হলে সেখানেই প্রতিমাটি রাখতেন এবং পুজো শুরু হওয়ার পূর্বে বর্তমান যেখানে মন্দির স্থাপন করা হয়েছে সেখানে নিয়ে রাখতেন যদিও তখন ওখানে কোন মন্দির তৈরি হয়ে ওঠেনি। সেই থেকে আজও মোল্লাদের যায়গায় উৎসাহ উদ্দিপনায় মেলাটি গর্বের সহিত চলতেছে। মূলত চেরাগআলী মোল্লার পুত্র খবির উদ্দিন মোল্লা যে সময় থেকে এই পুজোটির দ্বায়ভার গ্রহন করে সেই থেকে মেলাটি বিস্তৃত হতে শুরু করে। প্রথমে একদিন মেলাটি হলেও পরে খবির উদ্দিন মোল্লা মেলাটিকে তিনদিন এবং সাতদিনে থেকে এক মাসে রুপান্তরিত করে রেখে যায়। স্বাধীনতার পরে ও পূর্বে মেলাটির উপর বিভিন্ন বাধা সৃষ্টি করে কিন্তু সব বাধা মোল্লারা শক্ত হাতে দমন করে এগিয়ে নেয় ঐতিহ্যবাহী এই সূর্য পুজোটি। উল্লেখ্য যে মোল্লা বংশোদ্ভূত কেহই কোনদিন মেলা কমিটিতে সম্পৃক্ত ছিলোনা। স্বাধীনতার পর পর সময়ে সূর্য দেবের প্রতিমাটি চুরি হয়ে যায় যদিও তারপরে মৃত খবির উদ্দিন মোল্লা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও প্রতিমাটির কোন হদিস করতে পারেননি পরে জানা যায় যে এই সূর্য পুজো বিরোধী লোকজনরা প্রতিমাটি চুরি করে নিয়ে যান যাতে ওখানে আর কোনদিন পুজো দিতে না পারে। কিন্ত সেই থেকে ঘট দিয়ে সূর্য পুজো হত তবে এখন সূর্য দেবের সাদৃশ্য একটি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে গড়ে উঠেছে বেশ বড় একটি মন্দির যেখানে গত ২৮ জানুয়ারি শুরু হয়েছে সূর্য দেবের পুজো বা সূর্য মনির মেলা। তবে মেলা কমিটির সভাপতি বাদাল কৃষ্ণ সাহা ও সাধারণ সম্পাদক ধ্রুব লাল সাহা জানান প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও পুজারী কৃষ্ণ কান্ত ভট্টাচার্য ২৮ জানুয়ারি শনিবার সকালে সূর্য পুজো দিয়ে মাসব্যাপী মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে তবে ভক্তগনরা মেলা চলাকালীন যে কোন সময়ে তারা পুজো দিতে পারবেন। মেলা ঘুরে দেখা যায় মেলায় প্রায় তিন শতাধিক দোকান রয়েছে যারা প্রতিবছরের নেয় পসরা সাজিয়ে বসে রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী লক্ষন দাস সার্কাস,পুতুল নাচ পার্টি,যাত্রাপালা, নাগর দোলা, কসমেটিকস, বাশ, বেত, লোহা,মাটি ও কাঠের আসবাবপত্রের দোকান এছাড়াও রয়েছে লোভনীয় সব খাবারের দোকান যেমন মিষ্টি ,চটপটি, চানাচুর, ফুসকা, মনখুশি,ঘুঘনি ও গরম গরম জিলেপী ও রয়েছে এক কেজি ওজনের একটি মিষ্টি এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রেষ্টুরেন্ট, ফল ও ফুলের দোকান। তবে এবারের মেলা খুবই সুশৃঙ্খল পরিবেশ বহন করছে। ঐতিহ্যবাহী সূূূূর্যমনি মেলা ঘিরে বানাড়ীপাড়া, উজিরপুর, সরুপকাঠী,বাবুগঞ্জ, ঝালকাঠির মানুষের মধ্যে দেখা গেছে ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও মেলা ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসব মুখর পরিবেশ। এই মেলার দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে সুব্যবস্থা ও কঠোর নিরাপত্তা।

    বি:দ্র: এছাড়াও রয়েছে প্রতি বছরের চমক র‍্যাফেল ড্র। এযাবৎ পর্যন্ত চার থেকে পাঁচটি মটর সাইকেল,গরু,স্বর্নের চেইন,কানের দুল ও পারিবারিক কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র প্রায় চারশ দর্শনার্থীরা জিতে গেছেন সূর্যমনির মেলা প্রঙ্গন দিয়ে। তাই আর বাসায় বসে থাকবেন না অতিসত্বর ঘুরে যান মেলা প্রাঙ্গনে।

  • বেতাগীতে ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে যুব রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে কলাপাতায় খেজুর রসের সিন্নি

    বেতাগীতে ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে যুব রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে কলাপাতায় খেজুর রসের সিন্নি

    বেতাগী বরগুনা প্রতিনিধি

    হাজার বছরের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে বেতাগীতে যুব রেড ক্রিসেন্ট বেতাগী উপজেলা শাখা কতৃক আয়োজনে অতিথিদের মাঝে কলাপাতায় রসের সিন্নি পরিবেশন করা হয়। গত ৩০শে জানুয়ারী সন্ধায় পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে মীরা বাড়িতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র এবিএম গোলাম কবির, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম পিন্টু, প্যানেল মেয়র মোঃ মাসুদুর রহমান খান, ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান হাওলাদার, যুবলীগ সভাপতি প্রভাষক জহিরুল ইসলাম লিটন, সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জনাব গোলাম মোস্তফা, বেতাগী প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুস সালাম সিদ্দিকী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সভাপতি সাইদুল ইসলাম মন্টু, নাগরিক ফোরাম (বিএনএফ) সভাপতি মোঃ শামীম শিকদার।

    আরো উপস্থিত ছিলেন যুব রেড ক্রিসেন্ট বেতাগী উপজেলা শাখার দলনেতা মো: সোহেল মীর, বিভাগীয় প্রধান জনসংযোগ ও পরিকল্পনা বিভাগ মোঃ খাইরুল ইসলাম মুন্না, উপ-প্রধান নাহিদ হাসান মাহিম, বিভাগীয় প্রধান সেবা ও স্বাস্থ্য ইসরাত জাহান লিমা, উপ-প্রধান মোঃ সুমন মিয়া, প্রশিক্ষণ বিভাগের উপ-প্রধান হাসান মাহমুদ পিয়াল, বিভাগীয় প্রধান রক্ত বিভাগ মোঃ ইমরান হোসেন, বন্ধুত্ব উপপ্রধান জান্নাতুল ফেরদৌসী ইমা, বিভাগীয় প্রধান ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিভাগ মোঃ আরিফুর রহমান, উপপ্রধান মো: হোসেন সিপাইী প্রমুখ।

    উল্লেখ যে, বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য শীতকালে খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে তা দিয়ে গুড় তৈরি, সিন্নি বা পায়েস এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠা খাওয়া। সভ্যতার বিবর্তনে আমাদের এই ঐতিহ্য আজ হুমকির মুখে খেজুর গাছ কেটে ফেলা, মানুষ যান্ত্রিক হওয়া, বাসায় কিছু তৈরি না করে কিনে খাওয়ার অভ্যাস এর অন্যতম কারণ।

    পরিশেষে অতিথিবর্গ এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে এমটাই প্রত্যাশা সকলের।