উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
নড়াইলে দেশের প্রথম ৬ লেনের মধুমতি কালনা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনন্দের জোয়ারে ভাসছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ
দীর্ঘ দিন পর আরেকটি অপেক্ষার অবসান হলো। স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতু’র পর
‘মধুমতি সেতু’র দ্বারও উন্মোচন হলো। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর আরেকটি
স্বপ্নপূরণ হলো। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, দুপুর ১টা ১০ মিনিটের সময় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি
মধুমতি সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতুটি উদ্বোধনে
দেশের ১০ জেলা তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর আরেকটি স্বপ্নপূরণ হলো।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রীর
কার্যালয়ের মূখ্য সচিব ড.আহম্মদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় নড়াইলের লোহাগড়ায়
সেতুর পশ্চিমপ্রান্তে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত
ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার জিল্লুর রহমান চৌধুরী, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি
ড. খন্দকার মুহিত উদ্দিন,নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি,
নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফি বিন মোর্তুজা, নড়াইলের জেলা প্রশাসক
মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান,পুলিশ সুপার মোসাঃ সাদিরা খাতুন, প্রকল্পের
পরিচালক শ্যামল ভট্টাচার্য, সওজ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ
আশরাফুজ্জামান,নড়াইল জেলা আওয়ামীরীগের সভাপতি এ্যাড. সুবাস চন্দ্র বোস,
সাধার সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলু, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ
আজগর আলী, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান
রুনু,উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুন্সি আলাউদ্দিন, সাধারন সম্পাদক সৈয়দ
মসিয়ূর রহমান প্রমুখ।
সোমবার (১০ অক্টোবর) নড়াইল পাড়ে উপস্থিত এনামুল কবীর টুকু জানান, এটি
অবশ্যই আনন্দের সংবাদ। মধুমতি সেতুটি এশিয়ান হাইওয়ের একটি অংশ; যা
রাজধানীকে দেশের বৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের
সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এর ফলে রাজধানীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ
হয়ে যাবে। এর চেয়ে আর আনন্দের সংবাদ কি হতে পারে!
অপেক্ষার অবসান হলো সেতু কর্তৃপক্ষসহ গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, নড়াইল, যশোর,
বেনাপোল, সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার কোটি কোটি
মানুষ। আনন্দে আছেন যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন সংশ্লিষ্টরা। সড়ক
ও জনপথ অধিদপ্তরের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের
আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে কালনা সেতু নির্মিত হয়েছে।
মধুমতি সেতু চালু হওয়ায় নড়াইল, যশোর, বেনাপোল, নোয়াপাড়া শিল্পনগর,
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরসহ আশেপাশের কয়েকটি জেলার লোকজন পদ্মা সেতুর
সরাসরি সুফল পাবেন। কারণ, কালনাঘাটে এসে ফেরি পারাপারের বিড়ম্বনায় পড়তে
হতো সব ধরণের যানবাহনকে। সেতু কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয়রা জানান, এপারে
নড়াইলের কালনাঘাট। ওপারে গোপালগঞ্জের শংকরপাশা। মাঝ দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি
নদী। এ নদীর ওপরই নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ছয় লেনের মধুমতি সেতু।
মধুমতি সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) নড়াইলের
নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান বলেন, কালনা দেশের প্রথম ছয় লেনের সেতু।
নেলসন লোস আর্চ টাইপের (ধনুকের মতো বাঁকা) সেতু এটি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬৯০
মিটার এবং প্রস্থ ২৭ দশমিক ১ মিটার। উভয় পাশে ছয় লেনের সংযোগ সড়ক প্রায়
সাড়ে ৪ কিলোমিটার। সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা। এশিয়ান
হাইওয়ের ওপর অবস্থিত এটি। সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সিলেটের তামাবিল হয়ে
ঢাকা, ভাঙ্গা, নড়াইল, যশোর, বেনাপোল, কোলকাতা পর্যন্ত সরাসরি ভূমিকা
রাখবে। তবে এতোদিন কালনা পয়েন্টে মধুমতি নদী ধারা বিছিন্ন ছিল। সেতু
নির্মাণের ফলে সেই বিছিন্নতা আর রইল না। মধুমতি সেতু চালুর ফলে জাতীয়
ক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। ভারত, কোলকাতা, আসামসহ
দেশের মধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর, বেনাপোল ও নোয়াপাড়া নদীবন্দরের
মধ্যে যোগাযোগের মাইলফলক রচিত হবে। নড়াইলের লোহাগড়ায় ইপিজেড (রপ্তানি
প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) চালুসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও ব্যাপক
কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
কালনাঘাটে স্থাপিত নামফলক থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘কালনা সেতু’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কালনাঘাট থেকে ঢাকার দুরত্ব মাত্র ১০৮ কিলোমিটার। ফলে ঢাকার সঙ্গে নড়াইল,
বেনাপোল, যশোর, খুলনাসহ আশেপাশের সড়ক যোগাযোগ কোথাও ৮৬ কিলোমিটার কমে
যাবে। তবে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’ নির্মাণ
করা হলেও ভাঙ্গা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত এ ধরণের সড়ক নির্মিত হয়নি। ফলে এখন
থেকে‘এক্সপ্রেস ওয়ে’র সুফল পাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশ।
ভাঙ্গা থেকে নড়াইল-যশোর-বেনাপোল পর্যন্ত বর্তমানে দুই লেন সড়ক চালু আছে।
এই অংশে ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি প্রকল্পাধীন বলে জানিয়েছেন
মধুমতি া সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক আশরাফুজ্জামান। তিনি বলেন, মধুমতি
সেতু চালুর ফলে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাবে। তাই আপাতত যশোরের মনিহার সিনেমা
হল চত্বর থেকে নড়াইলের কালনাঘাট পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার
উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে সড়কটি ১৮ফুট প্রশস্ত থাকলেও তা বাড়িয়ে ২৪
ফুট করা হবে। দরপত্রের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দরপত্র অনুমোদন হলে দুই
সপ্তাহের মধ্যে ওয়ার্কঅডার দিব। নড়াইল অংশে প্রায় ৪৭ কোটি এবং যশোর অংশে
৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক প্রশস্তকরণ করা হবে। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করা
হবে। এ লক্ষ্যে সড়কের দুই পাশে গাছকাটার কাজ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী লোহাগড়ার সন্তান অ্যাডভোকেট
ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, পদ্মা সেতুর সঙ্গে মধুমতি সেতুর অবিচ্ছেদ্য
সম্পর্ক রয়েছে। এ দু’টি সেতু (পদ্মা ও মধুমতি ) রাজধানী ঢাকার সঙ্গে
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। ফেরিঘাটের
অপেক্ষা আর যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে না। যাত্রীসাধারণের পাশাপাশি কৃষিপণ্য
বেচাকেনার ক্ষেত্রেও সহজ হবে। পাশাপাশি পদ্মা ও কালনাঘাট এলাকায়
শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠবে। ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চালকেরা জানান, ফেরিঘাট মানেই ভোগান্তি। তাদের
আশা মধুমতি সেতু চালু হওয়ায় সেই কষ্ট আর থাকবে না।
‘নড়াইল জেলার অতীত ও বর্তমান’ গ্রন্থের লেখক সিনিয়র সাংবাদিক
আকরামুজ্জামান মিলু বলেন, মধুমতি সেতুর জন্য নড়াইল, লোহাগড়া, গোপালগঞ্জের
কাশিয়ানী, যশোর ও বেনাপোলের সড়ক যোগাযোগ, কৃষিপণ্য, শিল্পকলকারখানার
ব্যাপক গুরুত্ব বেড়ে গেছে। অনেক উদ্যোক্তা এখনই কালনাঘাট এলাকায় শিল্প
প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন। এ লক্ষ্যে অনেকে জমিও
কিনেছেন।
লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি
সিকদার আব্দুল হান্নান রুনু বলেন, সরকারের উন্নয়ন ধারাবাহিকতার বড় সাফল্য
পদ্মা সেতু। সেই সঙ্গে মধুমতি সেতুও। সড়ক পথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ
অঞ্চলের মানুষের নদ-নদীর আর কোনো প্রতিবন্ধকতা রইল না। ফলে দেশের
অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে মধুমতি সেতু। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।
যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সড়ক
পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির যুগ্মসাধারণ
সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু বলেন, মধুমতি সেতু চালুর ফলে যশোর, বেনাপোল,
সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, মাগুরাসহ পাশের জেলাগুলোর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা
বদলে যাবে। খুব সহজেই রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যাতায়াত করা যাবে।আমরা ভীষন খুশি।
উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।
Author: desk
-

নড়াইলে দেশের প্রথম ৬ লেনের মধুমতি সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনন্দের জোয়ারে ভাসছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ
-

নড়াইলে এস এম সুলতান সংগ্রহশালা ও ঘাট চার বছরেও নির্মিত হয়নি
উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
নড়াইলে অর্থের অভাবে এস এম সুলতান সংগ্রহশালা ও ঘাট নির্মাণ থমকে আছে। চার বছরেও নির্মিত হয়নি ঘাটটি। এছাড়া সুলতান সংগ্রহশালা পর্যটনবান্ধব করতে নানামুখী উদ্যোগও কার্যকর হচ্ছে না অর্থের অভাবে।
উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, জেলা প্রশাসন ও সুলতান ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে স্মৃতিসংগ্রহশালার পাশে চিত্রা নদীর পাড়ে সুলতানের দ্বিতলা নৌকা তথা ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গকে আরো টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন করতে ‘সুলতান ঘাট’ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১৮ সালের জুনে ঘাট নির্মাণের কাজ শুরু হলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি সুলতান সংগ্রহশালাসহ পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়ন কাজও ঝুলে আছে। এসব উন্নয়ন কাজের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। তবে তিন বছরেও তা বরাদ্দ হয়নি।
এদিকে, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে দুই বছরে বেশি সময় পরে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর সুলতান সংগ্রহশালা। শিশুদের কলকাকলিতে জমজমাট শিশুস্বর্গও। এখানকার শিক্ষার্থী মায়মুরা সুলতানা, মেঘনাথ দাস ও সৃষ্টি জানায়, তারা শিশুস্বর্গে নিয়মিত ছবি আঁকা শিখছে। ফুল, প্রকৃতি, নদীসহ বিভিন্ন প্রতিকৃতি আঁকতে পারে তারা।
চারুপীঠ যশোরের শিশু শিক্ষার্থী সোহা ও লাবিবাসহ অন্যরা বলে, এস এম সুলতানের বাড়ি এসে খুব ভালো লেগেছে। তার ব্যবহৃত পোশাক, ছবি, দ্বিতলা নৌকাসহ ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখেছি। সুলতান দাদুর মতো সুন্দর ছবি আঁকতে চাই আমরা।
মানিকগঞ্জ জেলা থেকে আগত দর্শনার্থী পাপিয়া, সোনিয়া ও পরশ বলেন, সুলতানের চিত্রকর্ম ও ফুল-প্রকৃতি দেখে আমরা খুবই মুগ্ধ। তবে জায়গাটি বড় পরিসরে হলে পর্যটকদের আরো ভালো লাগবে। দ্বিতলা নৌকাটিও সংস্কার করা প্রয়োজন। এস এম সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জী বলেন, এখানে এস এম সুলতানের মূল ছবি আছে ২৩টি এবং রেপ্লিকা ৫১টি। সংগ্রহশালার উন্নয়নে সরকার আরো কাজ করবে, এটাই আমাদের চাওয়া।
সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, এসএম সুলতান তার জীবদ্দশায় যে ঘরটিতে বসবাস করতেন, সেই একতলা ঘরটি সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছে। এস এম সুলতানের ব্যবহৃত খাটসহ অন্যান্য জিনিসপত্রও সুরক্ষিত হয়েছে। এই ঘরটিতেই গত ১০ আগস্ট উদ্বোধন করা হয়েছে-‘ফিরে দেখা সুলতান’ ভিডিওচিত্রের কার্যক্রম। এখানে প্রায় ১৩ মিনিটের ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে পর্যটকদের দেখানো হচ্ছে সুলতানের জীবনাদর্শ ও চিত্রকর্ম বিষয়ে। এই ভিডিওচিত্র দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। এটি বেশ সাড়া ফেলেছে।
এছাড়া সুলতান সংগ্রহশালার ঘাট নির্মাণ, দ্বিতলা নৌকা সংস্কারসহ এলাকাটি পর্যটনবান্ধব করতে প্রায় ২০ কোটি টাকার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।
এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রিয় জন্মভূমি নড়াইলের কুড়িগ্রাম এলাকায় সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সুলতান।
চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার পেয়েছেন। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে। -

ঝিনাইদহে গৃহবধূকে অপহরণ করল নামধারী সাংবাদিক
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ধর্ম আত্মীয়তা করে পরিবারের সাথে সখ্যতা করে অবশেষে সেই পরিবারের সন্তান হিনা বিবাহিত মেয়েকে গর্ভে সন্তান দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গৃহবধূ অপহরণ করলেন এক নামধারী সাংবাদিক। ঘটনার প্রেক্ষিতে ঝিনাইদহ আদালতে আদালতে মামলা করলেন গৃহবধূর মাতা। এই নামধারী সাংবাদিকের নাম ইনসার আলী। গ্রামের বাড়ি উপজেলার যাদবপুর গ্রাম। বর্তমানে ঝিনাইদাহ শহরের আরাপপুরের জামতলা নামক জায়গায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করে। সে নিজেকে দৈনিক আশ্রয় কন্ঠ, দৈনিক আরশিনগর ও অপরাধ কণ্ঠের পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকতা করে বেড়ান। মামলা বিবরণ থেকে জানা যায় বিগত চার বছর আগে হরিনাকুন্ডু উপজেলার মন্দিরা গ্রামের আশরাফ উদ্দিন বেপারীর মেয়ে মিম খাতুন( ২৪ )এর বিবাহ হয় একই গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে দিপু হোসেনের সাথে। তাদের চার বছরের বিবাহিত জীবনে কোন সন্তানাদি হয়নি। মিমের সন্তানাদি না হওয়া দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইনসান আলী তাকে প্রলোভন দেখায় যে আমি ঝিনাইদহে এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তার সন্তান হবে। এই কথা বলে ঘটনার কিছুদিন আগে ঝিনাইদহে নিয়ে এসে তাকে জোহান পার্কে নিয়ে যায়। এই পার্কে নিয়ে তার কে প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং দুজনের অন্তরঙ্গ ছবি উঠায়। তাকে বলে যে তার সাথে গোপনে মেলামেশা করলে তার গর্ভে সন্তান আসবে কেউ জানতে পারবে না । তারই প্রস্তাবে মিম রাজি হয় না। তারপরে প্রায়ই ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাকে ঝিনাইদহ নিয়ে যায়। শুধু তাই নয় তাকে সন্তান দেয়ার কথা বলে বিভিন্নভাবে তার নিকট থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতে থাকে। অবশেষে তার অভিলাষ যখন পূরণ হচ্ছিল না তখন মিমকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করে। ঘটনাটা ঘটায় গত ৩রা সেপ্টেম্বর সেপ্টেম্বর ইনসার একটি মহেন্দ্র নিয়ে তার সাথে আরও ৩-৪ জন লোক নিয়ে মিমের বাপের বাড়িতে হাজির হয়। বলে যে তোমাকে একজন ভালো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে তাই বলে তাকে বুঝায় এবং বলে টাকা পয়সা নিয়ে এসো। এই সময়ে তার ঘরে থাকা গরু বিক্রির ৯০ হাজারটাকা সহ ব্যবহারকৃত স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল নিয়ে ডাক্তারের কাছে যায়। তারপর রাতে অপেক্ষা করার পরে যখন আর মিম ফিরে না আসে তখন পরের দিন তারা তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। না পেয়ে অবশেষে ১৮ই সেপ্টেম্বর মেয়ের মা বাদী হয়ে ঝিনেদা আদালতে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। ঘটনা একমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত আসামী ইনসান আলী গ্রেপ্তার হয়নি।ঝিনাইদহ
আতিকুর রহমান। -

রাঙ্গাবালীতে দুই মুখওয়ালা মহিষের বাচ্চা জন্ম
রফিকুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী পটুয়াখালী
মাথা একটি। কিন্তু মুখ দুটি! দুই মুখ ওয়ালা এমন একটি মহিষের বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। শুনতে অবাক লাগলেও এমন ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে।
রোববার বিকেলে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চর বেষ্টন গ্রামের কৃষক কাঞ্চন সিকদারের একটি মহিষ দুই মুখওয়ালা একটি বাচ্চা প্রসব করে।
দুই মুখ ওয়ালা বিরল এই মহিষের বাচ্চাটিকে দেখতে কৃষক কাঞ্চনের বাড়িতে ভিড় জমিয়েছে উৎসুক জনতা।
তবে বাচানো গেলোনা মহিষের বাচ্চাটি। রাত ১২টার দিকে শাবকটির মৃত্যু হয়।কৃষক কাঞ্চন সিকদার জানান, তার গোয়ালে বর্তমানে ৭টি মহিষ রয়েছে। এর মধ্যে একটি মহিষ গর্ভধারণ করে। রোববার বিকেলে মহিষটি বাচ্চা প্রসব করে। এভাবে দুথমুখো মহিষের বাচ্চা আমার বাড়িতে জন্ম নেবে এটা কখনো ভাবিনি। বাচ্চাটির পা, কান, চোখ এবং শরীর স্বাভাবিকই ছিলো। শুধু মুখ ছিলো দুটি এবং নাখ ছিলো চারটি। তবে মহিষের বাচ্চাটিকে বাচানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা ব্যর্থ হলাম।
চর বেষ্টনি গ্রামের বাসিন্দা কবির হাওলাদার বলেন, মহিষের দুমুখো বাচ্চা হয়েছে শুনে আমরা কাঞ্চন সিকদারের বাড়িতে যাই। মহিষের বাচ্চাটি উঠে দাঁড়াতে পারছিলো না। তবে ভালোভাবেই শ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছিলো। দুই মুখওয়ালা মহিষের বাচ্চা জন্ম নেওয়ার ঘটনা এই প্রথম দেখলাম। এর আগে এমন ঘটনা কখনো শুনিনি।
রফিকুল ইসলাম
রাঙ্গাবালী পটুয়াখালী সংবাদদাতা। -

র্যাব-১২’র অভিযানে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ৯৮ পিচ টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক
প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন, এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী গ্রেফতারে র্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।
এর ধারাবাহিকতায় ১০/১০/২০২২ ইং তারিখ রাত ০০:৩০ ঘটিকায় গোপন সাংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২ এর স্পেশাল কোম্পানীর একটি চৌকষ আভিযানিক দল সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানাধীন হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ধোপাকান্দি গ্রামস্থ হাটিকুমরুল গোলচত্তরের সামনে রাস্তার উত্তর পার্শ্বে হাজী ইমান আলী মার্কেটের সামনে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে ৯৮(আটানব্বই) পিচ টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীঃ মোঃ নাজমুল(১৯), পিতা-মোঃ আছেদ আলী, সাং-চরসাত করিয়া, থানা-উল্লাপাড়া, জেলা-সিরাজগঞ্জ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, এই মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন যাবৎ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল।
গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করত উদ্ধারকৃত আলামতসহ তাহাকে সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ধরণের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে র্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।
র্যাব-১২ কে তথ্য দিন – মাদক , অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।
স্বাক্ষরিতঃ
মোঃ আবুল হাসেম সবুজ
লেফটেন্যান্ট
স্কোয়াড কমান্ডার
র্যাব-১২, সিপিএসসি, সিরাজগঞ্জ।
মোবা-০১৭৬৯-৭৬৩০৬৬
-

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি //
পিরোজপুরে নেছারাবাদে “স্বরূপকাঠি গ্রন্থাগার” এর উদ্যোগে আগষ্ট মাসের বিষয় ভিত্তিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে “বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ” বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার সকাল ১১টায় গ্রন্থাগারের হল রুমে প্রধান অতিথি নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন উপস্থিত থেকে এ পুরস্কার বিতরণ করেন।
এ সময় গোলাম হাফিজ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেছারাবাদ থানা অফিসার ইনচার্জ আবির মোহাম্মদ হোসেন, আমিনুল ইসলাম তালুকদার, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, সরকারী স্বরূপকাঠী পাইলট মডেল মা: বি: ও আজীবন সদস্য,
স্বরূপকাঠী গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জনাব মো: মনিরুল ইসলাম রনি, আব্দুল কাদের জিলানি,রাজিব,
লিটন,মাসুম,নাসির, মৃত্যুঞ্জয় ঘোষ এবং পুরস্কার বিজয়ী বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা।
পুরস্কার বিতরণ শেষে স্বরূপকাঠী গ্রন্থাগারের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষ্যে কেক কাটা। -

গোদাগাড়ীতে র্যাব-৫ এর অভিযানে হেরোইনসহ আওয়ামীলীগ নেতার স্ত্রী মাদক কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী মুক্তি আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড আওয়ালীগের ২ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান কাজলের স্ত্রী কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে
র্যাব-৫ এর চৌকুসদল। বিষয়টি গোদাগাড়ীর টক অফ দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। মাদক সম্রাজ্ঞীর গ্রেফতারের বিষয়টি ব্যপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।র্যাব-৫ একটি সূত্র জানায়, গোদাগাড়ী মডেল থানার মহিষালবাড়ী বাজার এলাকায় অবস্থানকালে ০৯/১০/২০২২ তারিখ রাত্রী-১২.২০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানিতে পারে যে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানাধীন মাদারপুর গ্রামের মোছাঃ আমেনা বেগম মুক্তি (৩৭) স্বামী মোঃ নুরুজ্জামান কাজল, ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাদারপুর, গোদাগাড়ীর রাজশাহীর এর বসতবাড়িতে মাদকদ্রব্য হেরোইন রহিয়াছে।
অফিসার সংঙ্গীয় ফোর্সের সন্ধান ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষী ১। মোঃ জহিরুল ইসলাম মেম্বার (৩৯) সাং চরআলাতলী থানা+জেলাঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ গ্রামঃ মাদারপুর, থানাঃ গোদাগাড়ী জেলাঃ রাজশাহী ২। নয়মুদ্দিন (৫০) পিতা- মৃত সৈয়দ আলী, সাং মাদারপুর থানাঃ গোদাগাড়ী রাজশাহীসহ আরো অনেকের উপস্থিতিতে আটককৃত মহিলাকে বসতবাড়ীর ২য়. তলার ছাদে । আটককৃত মহিলার নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসাবাদ করিলে মহিলাটি উপরোক্ত নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ধৃত মক্কিলা প্রকাশ্য বলে ও স্বীকার করে যে, ০১ টি কাঠের তৈরী বাক্সের বক্ষিত অবৈধ মাদকদ্রব্য হেরোইন আছে এবং উক্ত অবৈধ মাদকদ্রব্য হেরোইন যাহার স্বামী মোঃ নুরুজ্জামান কাজল (৩৭) অজ্ঞাতনামা স্থান থেকে নিয়া আসিয়াছে। উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে নারী র্যাব সদস্য সহায়তায় শালিনতার প্রতি দৃষ্টি রাখিয়া ধৃত মহিলা আসামীর দেহ তল্লাশী করেন। তাহার স্বীকারোক্তি মোতাবেক হাতে বাহির করিয়া দেন।
আটককৃত আসামী ১। মোছাঃ আমেনা বেগম মুক্তি (৩৭), স্বামী মোঃ নুরুজ্জান কাজল, সাং মাদারপুর, থানাঃ গোদাগাড়ী জেলার রাজশাহী এবং পলাতক আসামী ২। মোঃ নূরুজ্জামান কাজল (৪০), পিতা- মৃত স্থাসাং-মহিশালবাড়ী ফকিরাপাড়া বর্তমান সাং-মাদারপুর, খান গোদাগাড়ী, জেলাঃ রাজশাহী সহ এবং ১নং আসামীর ২য় তলা বিশিষ্ট বসতঘরের ছাদের উত্তর পূর্ব কোন উদ্ধারকৃত জন্ম তালিকায় বর্ণিত আলামত (ক) ০১ টি কাঠের তৈরী বাক্সের ভিতর রক্ষিত অবৈধ মাদকদ্র হেরোইন ০২ প্যাকেট, যাহার প্রত্যেক প্যাকেটের ওজন ১০০ গ্রাম, মোট (১০০+১০০)= ২০০ আম ( আমাদের সাথে থাকা ডিজিটাল পরিমাপক যন্ত্র যারা এখানকৃত)। যাহার মূল্য আনুমানিক (২০০x১০০০ সর্বমোট ২০,০০,০০০/-(বিশ লক্ষ) টাকা ও ১ নং আসামীর বসতঘরের ২য় তলার দক্ষিণ পার্শ্বের শোন রুমে উত্তরমুখী স্টীলের ঘাটের তোষকের নিচে রক্ষিত উদ্ধারকৃত জন্ম তালিকায় বর্ণিত আলামত (খ) অ মাদকদ্রব্য হেরোইন ০২ প্যাকেট। যাহার ০১ টির ওজন ৯০ গ্রাম মূল্য অনুষ্ঠান – ৯,০০,০০০/- ( লক্ষ) টাকা এবং অপরটির ওজন ১০ গ্রাম (যাহা আমাদের সাথে থাকা ডিজিটাল পরিমাপক যন্ত্র যারা ওজনকৃত যাহার মূল্য অনুমান ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা এবং খাটের নিচে থাকা (গ) ০১ টি KINGSTA SEALER PFS-200 CE প্যাকেটিং মেশিন, উক্ত ঘরের ভিতরে পশ্চিম পার্শ্বে কাঠের টেবিলের উপর হ পাওয়া (ঘ) মাদক কারবারী কাজে ব্যবহৃত ০৩ টি ফোন। ০১ টি পুরাতন iPhone, যাহার সহিত ০১ সিম সংযুক্ত; ০১ টি পুরাতন Redmi Note ৪স্মার্ট ফোন, যাহার সহিত ০২ টি সিন সংযুক্ত এবং ০১ পুরাতন VEGA V7 বাটন ফোন যাহার সহিত ০১ টি সিম সংযুক্ত। (3) মাদক কারবারী কাজে ব্যবহৃত টি প্লাস্টিকের কৌটার ভিতর রক্ষিত ১৬ টি বিভিন্ন কোম্পানীর সিম কার্ডসহ থানায় হাজির হইয়া আসামী এবং পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে এই মর্মে এজাহার দায়ের করা হয়।গোদাগাড়ী মডেল থানার মামলা নং-৩০ ধারা: ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ৩৬ (১) এর ৮(গ) (৪১) ধারায় আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। র্যাব-৫ এর সদস্যগণ জানান, মোছাঃ আমেনা বেগম মুক্তি ও নূরুজ্জামান কাজল দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসা করে শূন্য থেকে আঙ্গুলফুলে কলাগাছ তারপর বটবৃক্ষ হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। নুরুজ্জামান কাজল ২ নং ওয়ার্ড় আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হওয়ার পর থেকে মাদকের ব্যবসা বেপরোয়া গতিতে শুরু করেন, প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে মাদকের দালালীও শুরু করেন বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী। -

তানোরে হতদরিদ্রদের চাল বিতরন বন্ধ করে দিলো পিআইও
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপির) জিআর প্রকল্পের ১০ কেজি করে হতদরিদ্রদের চাল বিতরন বন্ধ করে দিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্য সব ইউনিয়নে এক দেড় মাস আগে বিতরন হলেও কলমা ইউপি চেয়ারম্যান কে বিতরন করতে দেন নি। ফলে গরীবের চাল নিয়ে পিআইওর চালবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ইউপিবাসী। এতে করে উপকার ভোগীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরী জানান, প্রথম থেকেই চাল বিতরন নিয়ে নানা খেলা শুরু করেন কর্তৃপক্ষ। এর পর আমি তালিকা জমা দিলে চাল উত্তোলনের ডিও আমাকে না দিয়ে কামারগাঁ খাদ্যগুদামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সে মোতাবেক গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে গত বৃহস্পতিবারে বিতরন করব। ঠিক তার আগ মুহুর্তে পিআই তারিকুল ইসলাম চাল বিতরন করতে নিষেধ করেন। তার কাছে কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন তালিকা সঠিক হয় নি। তালিকা সঠিক না হলে তিনি ডিও কিভাবে দিলেন, আর তিনি কিভাবে বুঝলেন তালিকা সঠিক না। তিনি কি তালিকা ধরে বাড়িবাড়ি তদন্ত করেছেন। আসলে কিছুই না আমি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান এজন্য এত প্রতিহিংসা।
তিনি আরো জানান, প্রতিটি ইউপিতে এক দেড় মাস আগে বিতরন হয়ে গেছে। যাদের তালিকায় নাম আছে তারা প্রায় দিন ইউনিয়ন পরিষদে আসছেন কবে কখন চাল দেওয়া হবে? সরকার গরীর অসহায় ব্যক্তিদের কথা চিন্তা করে এসব করছেন আর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সেই মহৎ কাজ প্রশ্ন বিদ্ধ করতে মরিয়া।
পিআইও তারিকুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি জানান, তালিকার সমস্যা এজন্য বিতরন বন্ধ করা হয়েছে। কতদিন আগের বরাদ্দ আর তালিকা সঠিক না হলে ডিও কিভাবে পেল প্রশ্ন করা হলে তিনি দাযসারা গোছের উত্তর দিয়ে পরে কথা বলা হচ্ছে বলে এড়িয়ে যান এই কর্মকর্তা।
জানা গেছে, তানোর উপজেলাটি কৃষির উপর নির্ভর। বছরে এসময়টা তেমন কাজ থাকে না। সেই সাথে লাগামহীন বাজার চড়া, অর্থনৈতিক মন্দা এসব বিবেচনায় প্রান্তিক জনসাধাররনের কথা ভেবে সরকার বিনা মুল্যে জিআর প্রকল্প থেকে মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু সরকারের এসমস্ত মহৎ কাজ প্রশ্নবিদ্ধ করছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কিছু রাজনৈতিক নেতারা। যার কারনে এতকিছু করার পরেও এসব ব্যক্তিদের জন্য সরকারের ভাবমুর্তি চরম ভাবে নষ্ট হয়ে পড়েছে।
চেয়ারম্যান আরো জানান, ১১০০ ব্যক্তির বিপরীতে ১১ হাজার কেজি চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।হায়দার আলী।
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী। -

আজমিরীগঞ্জে গুচ্ছগ্রাম স্থানান্তরের দাবিতে স্মারকলিপি
আজমিরীগঞ্জ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।
আজমিরীগঞ্জে গুচ্ছগ্রাম স্থানান্তরের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারক লিপি দিয়েছে কৃষকরা১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে আজমিরীগন্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারুল হোসেনের নেতৃত্বে পরিষদের মেম্বার কৃষক সহ শতাধিক গ্রামবাসি জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারক লিপি দিয়েছে।
জানা যায়, জনপ্রসশান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী গুচ্ছ গ্রাম সিভিআরপি প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় ঘর তৈরি করে ভূমিহীনদের দেওয়া হয়েছে। গৃহহীনদের জন্য গ্রোথ সেন্টার, নলকূপ, পুকুর খননসহ সবধরনের ব্যবস্হা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা সালেহা সুমি, সহকারী কমিশনার ভূমি শফিকুল ইসলাম ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্ম কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বিগত ৬-৯-২২ তারিখে আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিরাট ভাটিপাড়া গ্রামের অদূরে খাস জমি পরিদর্শন করে প্রকল্প এলাকা চুড়ান্ত করা হয়। উল্লেখ্য ৪থ পর্যায়ে ১৩০ টি ঘর তৈরি করা হবে বলে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া গৃহীত হয়। কিন্তু গুচ্ছ গ্রাম স্থাপনের জায়গায়টির আশপাশের গ্রামের ৫ শতাধিক কৃষক পরিবারের একটি গোচরনভূমি ও গুরুত্বপূর্ণ মাঠ। ঐ মাঠে ধান মারাই, শুকনো খর শুকানোসহ কৃষকদের বেচে থাকার অবলম্বন। এছাড়া তরুণ প্রজন্মের ও যুবকের একমাএ খেলার মাঠ বিকল্প কোন খেলার মাঠ নেই। জেলা প্রশাসক মহোদয় এর নিকট আকুল আবেদন গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্পটি অন্য জায়গায় স্থানান্তর করতে। নতুবা ৫ হাজার কৃষক পরিবার নানান অসুবিধার সমূখিন হবে। বিরাট ভাটিপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের তরুণ প্রজন্ম ও যুবকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের নিকট আকুল আবেদন।
-

আজমিরীগঞ্জে বন্যায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ ১২ লাখ টাকার চেক বিতরণ
আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি াা আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বন্যায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে উপজেলার ৪’শ পরিবারকে ৪’শ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ ও ১২ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
২ অক্টোবর শনিবার সকালে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বন্যায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ ধরণের উপজেলার ৪’শ পরিবারকে ঢেউটিন ও জনপ্রতি ৩ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। সরকারের ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্হাপনা মন্ত্রণালয়য়ের অধীনে এ ত্রান বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা সালেহা, সুমি। প্রধান অতিথি ছিলেন, বানিয়াচং -আজমিরীগঞ্জ আসনের মাননীয় সাংসদ আলহাজ্ব এডভোকেট আব্দুল মজিদ খাঁন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান মর্তুজা হাসান, এ ছাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল হোসেন মোবারুল জলসুখা ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজ আহম্মেদখেলু শিবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান নলিউর রহমান নলি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।