August 31, 2025, 4:06 pm
খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
একটা গরু দিয়ে শুরু করেছিলেন স্বপ্ন দেখা দিনমজুর মেনারুল ইসলাম। ভেবেছিলেন, একটু একটু করে গড়ে তুলবেন নিজের একটা ছোট গরুর খামার, যা দিয়ে সংসার চলবে, ছেলেমেয়েরা মানুষ হবে। সেই সাফল্য ধরাও দিয়েছিল, একটি থেকে ৪টি গাভি আর তিনটি বাছুর হয়েছিল। দুধ বিক্রির টাকায় সংসার, সন্তানদের পড়ার খরচও চলত। কিন্তু এক রাতেই সবকিছু যেন ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল চোরেরা।
বহু কষ্টে গড়া তার ছোট গরুর খামারটি এখন প্রায় শূন্য। গতকাল রোববার গভীর রাতে চোরেরা তালা ভেঙে তার গোয়ালঘর থেকে ৬টি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। একমাত্রা অবলম্বনগুলো হারিয়ে মেনারুল দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মেনারুলের বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ঝাঁকুয়াপাড়া গ্রামে।
পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঝাঁকুয়াপাড়া গ্রামের এমাজ উদ্দিনের ছেলে মেনারুল ইসলাম পেশায় দিনমজুর। তাঁর একার আয়ে চলে ৬ সদস্যের সংসার। জমিজমা বলতে পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগে পাওয়া বসতভিটার ১৫ শতক জমি। ৫ বছর আগে একটি গাভি কিনে পালন শুরু করেন। ধীরে ধীর ৪টি আর তিনটি বাছুরের খামারে পরিণত হয়। দিনমজুরি আর গাভির দুধ বিক্রির টাকায় ভালোয় চলছিল সংসার। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে খামারে গাভিগুলোকে খাবার দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মেনারুল ইসলাম। সকাল বেলা উঠে দেখেন দরজার তাঁলা কাটা। ভেতরে গিয়ে দেখেন গোয়ালে গরু নেই।
মেনারুল ইসলাম বলেন, ‘কষ্ট করে গরুগুলা লালনপালন করছি। দুধ বেচে ছেলে-মেয়েক স্কুলে পাঠাইছি, ওদের বই কিনছি। এত কষ্ট করছি। এখন সব শেষ। যারা নিয়া গেছে, তারা জানে না, গরুগুলা আমার সন্তান ছিল। সন্তান নেই আছে শুধু সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা।
তার চোখে জল, গলায় কাঁপন, পাশে বসা স্ত্রীও নির্বাক। মেনারুলের স্ত্রী লাইলী বেগম বলেন, ‘চোরেরা ফকির বানে দিল হামাক। বাচি থাকার সম্বল কোনা চুরি করি নিল। চোখে এখন আন্ধার দেখছি।’
স্থানীয়রা বলছেন, এমন চুরি গ্রামে নতুন নয়। তবে এই চুরিতে একজন মানুষের বুকভরা আশা যেন চুরি হয়ে গেছে।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ ফারুক বলেন, ঝাঁকুয়াপাড়ায় খামার থেকে গরু চুরি ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের একটি টিম সেখানে গিয়েছে। গরু উদ্ধারে চেষ্টা করা হচ্ছে।