August 31, 2025, 9:01 pm
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন দুই তরুণ আইনজীবী।
তারা হলেন- বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য ব্যারিস্টার সালেকুজ্জামান সাগর। ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসন থেকে এবং ব্যারিস্টার সালেকুজ্জামান সাগর রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।
বয়সে তুলনামূলক তরুণ এই দুই ব্যারিস্টার বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে রাজনীতির মাঠে ইতোমধ্যেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। নিজ নিজ এলাকায় রয়েছে তাদের পারিবারিক রাজনৈতিক প্রভাব ও জনসম্পৃক্ততা।
দলীয় নেতাকর্মীদের আইনগত সহায়তা প্রদান এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তারা বিএনপির হাইকমান্ডেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই দুই ব্যারিস্টারই পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে রাজনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে আগামী সংসদ নির্বাচনে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জানা গেছে, ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলনের বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি শিবসাগর এলাকার। তিনি বিএনপির প্রয়াত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ফুপাতো বোনের ছেলে। ছাত্রজীবন থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। তিনি যখন তখন এলাকায় এসে দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকদের নিয়ে গোদাগাড়ী তানোর উপজেলার পাড়া মহল্লায় চুষে বেড়াচ্ছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন বলেন, ‘‘আমি রাজনীতিকে দায়িত্ব ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকার হিসেবে দেখি। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি। এখন আইনজীবী হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াচ্ছি। আমার বিশ্বাস, দলের দুর্দিনে মাঠে থাকার মূল্যায়ন করবেন হাইকমান্ড।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী। জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি এই অঞ্চলের মানুষের মৌলিক অধিকার, উন্নয়ন ও ন্যায্যতার জন্য কাজ করবো।’’
এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মিলন বলেন, ‘‘গোদাগাড়ী-তানোরে কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বৈষম্য প্রকট। পাশাপাশি মাদক, দখল ও হয়রানিমূলক মামলার সংস্কৃতি জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছে। এসব প্রতিকূলতা দূর করে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে চাই।’’
অপরদিকে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য ব্যারিস্টার সালেকুজ্জামান সাগর। দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়ে ইতোমধ্যে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের আস্থা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় আটক ও কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ব্যারিস্টার সাগর বাগমারা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও গনিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জুর পুত্র। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম অধ্যাপক মকলেছুর রহমানের ভাতিজা। ছাত্রজীবন থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
মনোনয়ন প্রত্যাশা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সালেকুজ্জামান সাগর বলেন, ‘‘আমি বিএনপির ঘরের ছেলে। রাজনীতির পাশাপাশি দলের হয়রানি মামলার শিকার নেতাকর্মীদের পাশে সবসময় থেকেছি। আশা করি হাইকমান্ড আমার কাজ ও দলীয় অবদান বিবেচনা করে আমাকে মনোনয়ন দেবেন।’’
সাংসদ নির্বাচিত হলে এলাকায় বিদ্যমান সামাজিক বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার অগ্রাধিকার থাকবে- বাগমারার সাধারণ মানুষ যেন আর কখনও প্রতিহিংসার শিকার না হন। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সকল অপকর্ম বন্ধে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এছাড়াও বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা দাবির মধ্যে যেসব দফা জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, সেগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমি ইতোমধ্যে জনস্বার্থ মামলার মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’’
বাগমারা আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ব্যারিস্টার সাগরের আবির্ভাব ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।