June 15, 2024, 8:27 am

বিজ্ঞপ্তি :
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দ্বায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
শিরোনাম :
ঘাটাইলে এস কে এম এর শোরুম উদ্বোধন খ্রিষ্টান নারীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের নামে প্রতারণা, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এমপি আনিছ ইপিজেড থানা পুলিশের অভিযানে ৫০ লিটার দেশীয় তৈরী চোলাই মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সুজানগর পৌরসভার ৪৬২১ জন দরিদ্র ব্যক্তি পেল ভিজিএফের চাল তীব্র গরমে পুকুরের পানিতে উপকূলীয় শিশুদের দুরন্তপনা পাইকগাছায় আবাসনের দরিদ্র পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ নড়াইলের হাওয়াইখালি ব্রিজে মোটরসাইকেল দু*র্ঘটনায় কিশোর নিহ*ত নড়াইলে পুলিশ সদস্যের ‘বিশেষ অঙ্গ’ কেটে দেয়া সেই ডলির বিরুদ্ধে মামলা
আশুলিয়ায় সরকারি নয়নজুলি’ খালসহ ৮টি খাল প্রভাবশালীদের দখলে-জলাবদ্ধতায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ

আশুলিয়ায় সরকারি নয়নজুলি’ খালসহ ৮টি খাল প্রভাবশালীদের দখলে-জলাবদ্ধতায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ

হেলাল শেখঃ ঢাকা জেলার আশুলিয়ায় শত বছরেও নয়নজুলি খালসহ ৮টি খাল উদ্ধার করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। প্রভাবশালীদের দখলে থাকলেও খালগুলো উদ্ধার না হওয়ার কারণে বিভিন্ন রাস্তার বেহাল অবস্থা, বর্ষাকালে বৃষ্টি হলে পূর্বের চেয়ে আরো বেশি জলাবদ্ধতায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা জেলার আশুলিয়ায় অবস্থিত সরকারি নয়নজুলি খালসহ বিভিন্ন খালগুলোর অবকাঠামোগত সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিকবার এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও কোনো ফায়দা হয়নি, এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারি খাল উদ্ধারসহ জনগণের চলাচলের রাস্তা-ঘাট সংস্কার করার জন্য। এর আগে “চির তারণ্য সমাজকল্যাণ সংগঠন” এবং জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন করার পরও নয়নজুলি খালসহ সরকারি ৮টি খাল শত বছরেও উদ্ধার হয়নি।
জনগণের অভিযোগ-সামান্য বৃষ্টি হলে ময়লা পানিতে রাস্তা দেখা যায় না, পুরো এলাকার ড্রেনের বেহাল অবস্থা, রাস্তার পানিতে জলাবদ্ধতা চোখে পড়ার মতো। এর কারণে এলাকায় বসবাসরত লাখ লাখ মানুষের চরম দূর্ভোগ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া থেকে নয়নজুলি খালটি জিরাবো পুকুরপাড় দিয়ে গেছে আর আমান স্প্রিনিং মিলের রাসায়নিক পানি, বর্জ্যগুলোর কারণে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকায় বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানা ও স্থাপনার মালিক কর্তৃক নয়নজুলি খালটি অবৈধ ভাবে দখল করার কারণে বৃষ্টির পানি ও ময়লা আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এর কারণে উক্ত এলাকায় বসবাসকারী গার্মেন্টেসের লাখ লাখ শ্রমিক ও জনসাধারণের চরম ভোগান্তি হলেও কেউ কোনো ভাবে এ সমস্যার সমাধান করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
উক্ত এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য জিরাবো পুকুরপাড় বাজার সংলগ্ন ব্রিজের উপরে নয়নজুলি খালের পানি নিস্কাশনের দাবিতে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন একাধিকবার কিন্তু এতে কোনো সুফল হয়নি। স্থানীয় আব্দুল রশিদ কাজী জানান, এলাকাবাসীর এই সমস্যাটি নিয়ে বেশ কয়েকবার সাবেক ঢাকা-১৯ আসনের এমপি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমানের কাছে স্বারকলিপি পেশ করেছি কিন্তু তা আমলে নেননি। আমরা মানববন্ধনের মাধ্যমে এমপি মন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করতে চাই। তিনি বলেন, আশা করি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে। বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় এলাকাবাসীর দূর্ভোগ দেখে জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী সাথে সম্মিলিতভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে এসে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন চির তারণ্য সমাজকল্যাণের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, এর আগে এমন দূর্ভোগ চোখে পড়েনি। তিনি আরও বলেন, এই এলাকার শিল্পকারখানা “লোসাকা গ্রুপ ও আমান স্প্রিনিং মিলের মালিক অবৈধভাবে দখল করে তাদের রাসায়নিক ক্ষতিকর বর্জ্য ফেলছেন। ৬ফিট পাইপ লাইনের মাধ্যমে তাদের রাসায়নিক পানি নিস্কাশনের ধারণ ক্ষমতা না থাকায় উল্টো পানি পেছনের দিকে চলে যায়। এর কারণে বৃষ্টিপাত হলেই এলাকার শত শত বাড়ি ঘর ও রাস্তা প্লাবিত হয়ে যায়।এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লোসাকা গ্রুপের “এমডি” শফিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে আমরা পানি নিস্কাশনের কাজ করেছি। তাদের মধ্যে এলাকার স্থানীয় মোঃ আফজাল মেম্বারকে সাথে নিয়েই আমরা কাজ করেছি। অবৈধভাবে দখলের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রশাসন ও ভূমি অফিস থেকে পাস এনেছি। নয়নজুলি খালের লিজিং দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও তার দাবির প্রেক্ষিতে কোনো লিখিত কাগজপত্র প্রমাণ দেখাতে পারেননি। অথচ কাদের দেওয়ান মোল্লা বাজার এলাকায় নয়নজুলি খাল দখল করে রেখেছেন।
আশুলিয়ায় নয়নজুলি খালসহ সরকারি ৮টি খাল প্রভাবশালীদের দখলে-এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব ভুমিকায় থাকার কারণে এসব খাল উদ্ধার করা যায়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। একদিন বৃষ্টি হলে রাস্তায় হাটু পানি হয়, সেই পানি ৭-১০দিনের বেশি জলাবদ্ধতা থাকে। সেই সাথে পোশাক কারখানার ময়লা আবর্জনা বর্জ্যরে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকলেও এ ব্যাপারে কারো কোনো মাথা ব্যথা নাই। এর কারণে জনসাধারণের চরম দূর্ভোগ ও ভোগান্তি হয়। অপরিকল্পিত বাসা বাড়ি ও ঘর নির্মাণ করায় রাস্তা নিচু হয়ে গেছে। বাসা বাড়িসহ শিল্পকারখানার নোংরা পানি ও বর্জ্যে পরিবেশ দূর্ষণ করছে। বিভিন্ন রাস্তা গর্তের সৃষ্টি হয়ে এখন তা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মাঝে মধ্যে ভাঙ্গা রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হয় অনেক মানুষ। সূত্রমতে, আশুলিয়ার জামগড়া হইতে পুরাতন আশুলিয়া তুরাগ নদী পর্যন্ত নয়নজুলি খাল ৭কি. মি.। নলীর খাল, ক্যান্টনমেন্ট হইতে বংশাই নদী পর্যন্ত ৬ কি. মি.। ডগরতলীর খাল, ডগরতলী হইতে বারল খাল পর্যন্ত ৪ কি. মি.। বারল খাল, চক্রবর্তী হইতে বংশাই নদী পর্যন্ত ৬ কি. মি.। কন্ডার খাল, কন্ডা হইতে সুগন্ধী পর্যন্ত ৩ কি. মি.। গাজীবাড়ি খাল, নন্দনপার্ক হইতে সুবেদী পর্যন্ত ৫ কি. মি.। ভারারিয়ার খাল, শিমুলিয়া হইতে নলাম পর্যন্ত ৪ কি. মি. গাজারিয়ার খাল, ইয়ারপুর হইতে মনসস্তোষ তুরাগ পর্যন্ত ৫ কি. মি.। সর্বমোট প্রায় ৪০ কিলোমিটার খালগুলো প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে এসব খালের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। বাসা বাড়ির ময়লা পানি রাস্তায় ছেড়ে দেওয়াসহ বর্জ্যরে দুর্গন্ধে মানুষ নাক ধরে রাস্তায় চলাচল করেন। দূষিত পানিতে এলাকায় বসবাসকারী মানুষগুলো চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। শিল্পা ল আশুলিয়ায় হাইওয়ে রোড থেকে শুরু করে শাখা রোডগুলোর বিভিন্ন রাস্তার বেহাল অবস্থা-সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় হাটু পানি হয়। সেই সাথে উচু বাসা বাড়ির পানি রাস্তায় ফেলার কারণে তা মানুষের শরীরে লেগে চর্মরোগসহ নানারকম রোগ হয়। এতে পোশাক শ্রমিকসহ লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।
ঢাকা জেলার ৮বার শ্রেষ্ঠ করদাতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তানভীর আহমেদ রোমান ভুঁইয়া বলেন, রাতে রাস্তা ভালো থাকে সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখি রাস্তায় হাটুপানি, একদিন বৃষ্টি হলে হেয়ন গার্মেন্টস রোডসহ আশপাশের রাস্তায় ময়লা পানিতে জলাবদ্ধতা দেখা যায়। আমি ব্যবসায়ী তাই কাউকে কিছু বলতে পারিনা, তবে এলাকার উন্নয়নমূলক যেকোনো কাজে আমি সহযোগিতা করতে চাই, নয়নজুলি খাল উদ্ধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ সবার সাথে আছি থাকবো ইনশাল্লাহ।
ঢাকা আশুলিয়ার জামগড়া ভুঁইয়া বাড়ির কৃতিসন্তান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোর্শেদ ভুঁইয়া বলেন, সরকারি নয়নজুলি খালটি উদ্ধার করতে আমাদের ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ সুমন ভুঁইয়া ও ঢাকা-১৯ আসনের এমপি জনাব মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে জানানো হয়, তারা এ ব্যাপারে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন। তবে সরকারি কাজে সহযোগিতা করবেন এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ সবার সাথে থেকে উন্নয়নমূলক কাজ করবেন বলে জানান।
আশুলিয়া থানা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ সুমন ভুঁইয়া জানিয়েছেন যে, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ঘোষবাগ, নরসিংহপুর, তেঁতুলতলা রোড, জামগড়া হেয়ন মোড় থেকে মোল্লাবাড়ি মসজিদ সড়কটির কাজ করেছি, পর্যায়ক্রমে আমাদের ইউনিয়নের রাস্তার কাজসহ ড্রেনের কাজ করা হবে। সেই সাথে আমাদের ঢাকা-১৯ আসনের এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মহোদয়ের সাথে নয়নজুলি খালটি উদ্ধারের ব্যাপারে কথা হয়েছে, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সবাইকে নিয়ে খালটি উদ্ধার করে জনগণের সমস্যা সমাধান করার জন্য।
ঢাকা-১৯ আসনের এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী লক্ষ লক্ষ শ্রমিকসহ এলাকাবাসী। উক্ত নয়নজুলি খালসহ নদী ও খালের বিষয়ে ধামসোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সফল সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এমপি বলেছেন, সরকারি নদী, খাল উদ্ধারসহ এলাকায় মাদক সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, জমি দখলকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, অপরাধীর সংখ্যা কম, আমরা সবাই মিলে অপরাধ দমন করবো ইনশাআল্লাহ।

Please Share This Post in Your Social Media






© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD