May 19, 2024, 3:36 pm

বিজ্ঞপ্তি :
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দ্বায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
শিরোনাম :
সুজানগরে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হলেন তেঁতুলিয়ার এসিল্যান্ড মাহবুবুল হাসান ঝিনাইদহে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আহত ২১ গোদাগাড়ীতে ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার স্থাপন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নাকে গণসংবর্ধনা আশুলিয়ায় সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা-কুপিয়ে এক যুবক আহত ও নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ ঝড়-বৃষ্টি আঁধার রাতে, জনগণ আছে শেখ হাসিনার সাথে- প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার তেঁতুলিয়ায় পুরোনো ইট দিয়ে বাজার সেড নির্মাণ নড়াইলে বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখির বাসা সাতক্ষীরার তালায় ট্রাক উল্টে ২ শ্রমিক নিহত আহত ১১
রাজশাহীর মন্ত্রী এমপিদের সম্পদ বেড়েছে কয়েকগুন

রাজশাহীর মন্ত্রী এমপিদের সম্পদ বেড়েছে কয়েকগুন

হায়দার আলী,
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সাধারন মানুষের মধ্যে খুব একটা আকর্ষন না থাকলেও সম্প্রতি জমা পড়া এমপিদের হলফনামা বিশ্লেষন ও সম্পদের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা চলছে। রাজশাহীর মন্ত্রী এমপিদের সম্পদের বিবরনে দেখা যাচ্ছে তারা নির্বাচিত হয়ে ক’বছরেই বিপুল ধন সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন। কারো রয়েছে বিশাল দৃষ্টি নন্দন দীঘি, বিলাসবহুল বাড়ী, মার্কেট, কারো অনেক জমি আর ব্যাংকের আমানতও কম নয়। সাথে রয়েছে দামি দামি গাড়িও। শুধু কি তাই কারও কারও স্ত্রী-সন্তানদের আয় বেড়েছে। রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের এমপিদের। আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা বিশ্লেষণ করে এমনটা দেখা গেছে। এতে দেখা যায়, রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের এমপিদের। আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা বিশ্লেষণ করে এমনটা দেখা গেছে।
এতে দেখা যায়, রাজশাহী-১ আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর পাঁচ বছর আগেও ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা ছিল না। এখন ব্যাংক হিসাবে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৯ কোটি টাকা। পরিবারের সদস্যদের নামেও জমি বন্ড গাড়ি স্বর্নলংকার রয়েছে ভালই।
রাজশাহী-২ আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশার ব্যাংকে টাকা বেড়েছে পাঁচ গুণ। ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেতা ২০১৮ সালে হলফনামায় দেখিয়েছিলেন, তাঁর ব্যাংক হিসাবে রয়েছে ২৫ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০ টাকা। এবারের হলফনামায় বলা হয়েছে, এখন তাঁর ব্যাংকে আছে ১ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার ২৪৫ টাকা। আগে সাড়ে ১৬ লাখ ও ৩৮ লাখ টাকার দুটি গাড়ি থাকলেও এখন একটি জিপের দামই ৭০ লাখ।
রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন কিনেছেন ৭৫ বিঘা জমি। এই জমির মূল্য দেখিয়েছেন ৩ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার ৩২৬ টাকা। এবার তিনি ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৮৮০ টাকায় রাজধানীর পূর্বাচলে তিন কাঠার একটি প্লটও নিয়েছেন। ২০১৩ সালে স্ত্রীর নামে কোনো ফ্ল্যাট ছিল না। এবার স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট দেখানো হয়েছে প্রায় ৮৬ লাখ টাকার। আওয়ামী লীগের এই এমপি এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালেও জমি ছিল। পৈতৃক সম্পত্তি পরে ভাগ হয়েছে। কিছু জমি কিনেছেনও।
রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এনামুল হক ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে টাকার পরিমাণ বেড়েছে। পাঁচ বছরে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি এনামুল হকের নগদ টাকা কমেছে। তবে বেড়েছে ব্যাংকের টাকার পরিমাণ। এনামুল হক ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার এই আসনের এমপি। তবে এবার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ২০১৮ সালে এনামুলের ব্যাংকে ছিল ৭ লাখ ৮৭ হাজার ১১৪ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর ছিল ৪ লাখ ২ হাজার ৩২৫ টাকা। এখন এনামুলের ব্যাংকে আছে ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬ টাকা। স্ত্রীর ব্যাংকে আছে ৩২ লাখ ১০ হাজার ৪৪ টাকা। এনামুল ও তাঁর স্ত্রীর আগের মতোই বন্ড আছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ও ৭ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার টাকার। প্রচারনা রয়েছে প্রদত্ত হিসাবের বাইরে রয়েছে আরো বিশাল সম্পদ এনা প্রপাটিজের এই মালিকের। রয়েছে গার্মেন্টস, কোল্ডস্টোরেজসহ অনেক কিছুরই মালিক।
রাজশাহী-৫ আসনের এমপি ডা. মনসুর রহমানের ব্যাংকে টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৬৬ গুণ। ২০১৮ সালে শিক্ষকতা, শেয়ার ও চাকরি থেকে মনসুর রহমান তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ১৪ লাখ ৯ হাজার ৯৬১ টাকা। এখন তাঁর বার্ষিক আয় ৯২ লাখ ৭০ হাজার ২৮৯ টাকা।
২০১৮ সালে সরকারদলীয় এমপি মনসুর রহমানের ব্যাংকে ছিল ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৪ টাকা। এখন ব্যাংকে আছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার ১৭৬ টাকা। আগে সঞ্চয়পত্র ছিল ৩৫ লাখ টাকার। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭৬৭ টাকা। ২০১৮ সালে স্থাবর সম্পদ হিসেবে মনসুরের ৩০ লাখ টাকার জমি ছিল। এবার তাঁর নামে সাড়ে ৩২ বিঘা কৃষিজমি ও ৬ বিঘা পুকুর দেখানো হয়েছে। এই জমি ও পুকুরের মূল্য দেখানো হয়নি।
রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের পাঁচ বছরে আয়
হলফনামায় দেখা গেছে, রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের এমপি শাহরিয়ার আলমের পাঁচ বছরে আয় বেড়েছে আড়াই গুণের বেশি। তিনি ২০০৮ সাল থেকে এই আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৩ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮৮ টাকা। এখন তাঁর বার্ষিক আয় ৭ কোটি ৯২ লাখ ৯১ হাজার ২৫৪ টাকা। ২০১৮ সালে নগদ ছিল ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৯ হাজার ৭০৬ টাকা। এখন আছে ২১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৯ হাজার ১৫৩ টাকা। বর্তমানে তাঁর শেয়ার আছে ৬৬ কোটি ৪১ লাখ ৩২ হাজার ৭০০ টাকার। এসব হিসাব দেখে সাধারন মানুষ বলছে আমরা না খেয়ে মরি আর ওরা ক্ষমতায় গিয়ে সম্পদ বাড়ায়। ওদের সম্পদ পাচ পুরুষ বসে খেলেও শেষ হবেনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী

Please Share This Post in Your Social Media






© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD