May 19, 2024, 1:34 pm

বিজ্ঞপ্তি :
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দ্বায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
শিরোনাম :
সুজানগরে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হলেন তেঁতুলিয়ার এসিল্যান্ড মাহবুবুল হাসান ঝিনাইদহে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আহত ২১ গোদাগাড়ীতে ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার স্থাপন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নাকে গণসংবর্ধনা আশুলিয়ায় সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা-কুপিয়ে এক যুবক আহত ও নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ ঝড়-বৃষ্টি আঁধার রাতে, জনগণ আছে শেখ হাসিনার সাথে- প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার তেঁতুলিয়ায় পুরোনো ইট দিয়ে বাজার সেড নির্মাণ নড়াইলে বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখির বাসা সাতক্ষীরার তালায় ট্রাক উল্টে ২ শ্রমিক নিহত আহত ১১
আজ ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা উঠছে , জেলেপল্লীতে চলছে মাছ শিকারের প্রস্তুতি

আজ ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা উঠছে , জেলেপল্লীতে চলছে মাছ শিকারের প্রস্তুতি

এস এম সাইফুল ইসলাম কবির:মা ইলিশের বাধাহীন প্রজননের জন্য সকল প্রকার মৎস্য আহরণে ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠতে বাকি আর মাত্র এক দিন। বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) রাত ১২টার পর থেকেই দেশের সকল নদ-নদী ও সাগরে আবার শুরু হবে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার মহোৎসব। সেই লক্ষ্য নিয়ে বাগেরহাটের শরণখোলার মৎস্য আড়ত ও জেলেপল্লীতে চলছে জোর প্রস্তুতি। জেলেরা দীর্ঘদিন অবসর সময় কাটিয়ে সাগরে যাওয়ার উদ্দেশে তাদের নিজ নিজ মহাজনের আড়ত ও ট্রলার মালিকের গদিতে ফিরেছেন।

তবে এবারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা (অবরোধ) নিয়ে মৎস্যসংশ্লিষ্টরা দিলেন ভিন্ন তথ্য। তাদের দাবি, এবার অবরোধের সময় নির্ধারণ সঠিক হয়নি। মা ইলিশ ডিম ছাড়ে পূর্ণিমা গোনে। কিন্তু এবার অবরোধ দেওয়া হয়েছে অমাবস্যার গোনে।
ইলিশের প্রজননের জন্য অবরোধ দেওয়া হলেও অর্ধেক মা ইলিশও ডিম ছাড়তে পারেনি। অবরোধের পরেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। এই অবরোধ ১১ অক্টোবরের পরিবর্তে আরো ১৫ দিন পিছিয়ে পূর্ণিমার গোনে দেওয়া উচিত ছিল বলে তারা মনে করেন।

বুধবার (১ নভেম্বর) দুপুরে শরণখোলার রাজৈর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য ট্রলার এসে ভিড়েছে ঘাটে।
জেটিতে জাল, তেলের ড্রামসহ বিভিন্ন মালামালের স্তূপ। জেলেরা সেগুলো তুলছেন ট্রলারে। আবার কেউ কেউ ঝুড়িতে করে বরফ নিয়ে ভরছেন ট্রলারের কুঠুরিতে। মহাজন, আড়তদার ও ট্রলরা মালিকরা নিজ নিজ গদিতে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত।

এ সময় জেলে-মহাজন ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নানা ক্ষোভ ও হতাশার কথা।
জেলে মোস্তফা, সুজন, আসাদুজ্জামান, কুদ্দুস হাওলাদারসহ অনেকেই জানান, তারা অবরোধেই শেষ হয়ে গেছেন। ছয় মাসের ইলিশ মৌসুমের তিন মাসই থাকে অবরোধ। তার ওপর দফায় দফায় দুর্যোগে সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। প্রত্যেকে জেলে হাজার হাজার টাকা দেনাগ্রস্ত হয়ে পেড়েছেন। অবরোধকালীন সরকার তাদের যে খাদ্য সহায়তা দেয় তা খুবই সামান্য। তারা সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানান সরকারের কাছে।

এফবি মা-বাবার দোয়া ট্রলারের মাঝি ছগির হোসেন, এফবি সল্লাহ ট্রলারের মাঝি ডালিম পহলান, এফবি রূপসা ট্রলারের মাঝি আলম মিয়া ও এফবি খায়রুল ইসলাম ট্রলারের মাঝি কবির হোসেন জানান, অবরোধের সময় ভারতের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় এসে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে দেশীয় জেলে-মহাজনরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছে ভিনদেশি জেলে-মহাজনরা। সরকার যদি শুধু ২২ দিনের অবরোধ (নিষেধাজ্ঞা) রেখে ৬৫ দিনের অবরোধ তুলে নেয় তাহলে তারা উপকৃত হতেন।

মৎস্য আড়তদার মজিবর তালুকদার ও কবির হাওলাদারের দাবি, মা ইলিশ মূলত পূর্ণিমার গোনে ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবারের ২২ দিনের অবরোধ (নিষেধাজ্ঞা) দেওয়া হয়েছে অমাবস্যার গোনে। পূর্ণিমার সময় ডিম ছাড়ার জন্য ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ সাগর থেকে শাখা নদ-নদীতে উঠে আসে। এবারের অবরোধ সফল হয়েছে বলে মনে করছেন না তারা। বিশেষজ্ঞরাই বা কী ভেবে অমাবস্যার গোনে অবরোধ দিলেন, তাও তাদের বোধগম্য হচ্ছে না।

এই মৎস্য আড়তদাররা হতাশা প্রকাশ করে আরো জানান, তারা একেকজন ট্রলার মালিক ও আড়তদার এই মৌসুমে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এ বছর ইলিশ কম ধরা পড়ায় তারা প্রত্যেকেই লোকসানে আছেন। তাদের এই লোকসানে পড়ার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, ভরা মৌসুমে যখন বেশি ইলিশ ধরা পড়ে এবং দামও ভালো পাওয়া যায়, ঠিক তখনই ৬৫ দিনের অবরোধ দেওয়া হয়। ওই সময় ভারতের জেলেরা এসে সমস্ত মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে দেশীয় জেলে-মহাজনরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই ৬৫ দিনের অবরোধ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, তাদের সমিতির আওতায় তিন শতাধিক ট্রলার রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার চারটি ডকে দেড় শতাধিক ট্রলার মেরামত করে সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তু রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকেই এসব ট্রলার সাগরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

শরণখোলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও শরণখোলার জেলে-মহাজনরা যথাযথভাবে নিষেধাজ্ঞা পালন করেছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার আরো বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার নিষেধাজ্ঞার সময়ে নির্ধারণ করেছে। সেভাবেই নিষেধাজ্ঞা সফলে আমরা কাজ করেছি।’

এস এম সাইফুল ইসলাম কবির
বাগেরহাট সংবাদদাতা:

Please Share This Post in Your Social Media






© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD