February 15, 2025, 6:16 am
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মাজহারুল ইসলাম বরেন্দ্রভূমির ৭ বিঘা জমিতে দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ করেছেন । গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুর এলাকা এলাকায় বরেন্দ্রভূমির সাত বিঘা জমিতে দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ করেছেন মাজহারুল ইসলাম।
তিনি জানান, ‘কমলার গাছ লাগানো হলো। ফুল এল। ফলও ধরল। এর পর থেকে আমার বুক কাঁপতে লাগল। কমলায় রস হবে তো! মিষ্টি হবে? বরেন্দ্রের শুষ্ক মাটিতে এর আগে অনেকেই কমলা চাষের চেষ্টা করেছেন। তাঁদের কমলায় রস হয়নি, মিষ্টিও হয়নি। তবে এই দুর্ভাবনা এখন দূর হয়েছে। কমলায় রস হয়েছে, মিষ্টিও ভালো। একেকটি গাছে গড়ে ২০ কেজি করে কমলা ধরেছে।’ কমলার চাষ ও ফলন নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন চাষি মাজাহারুল ইসলাম।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুর গ্রামে মাজাহারুল ইসলামের বাগান। ৬ ডিসেম্বর গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মদ ওই বাগান পরিদর্শনে যান। তিনি বলেন, মাজাহারুলের বাগানে দার্জিলিং জাতের কমলা হয়েছে। কমলাগুলো বেশ রসাল। তিনি নিজে খেয়ে দেখেছেন। তাঁর কাছে এই জাতের কমলা চাষ খুবই সম্ভাবনাময় মনে হয়েছে। বাজারে একই মানের কমলা ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গোদাগাড়ীর সাড়ে তিন হেক্টর জমিতে দার্জিলিং জাতের কমলার চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মাজাহারুল ইসলামের কমলাগুলো ভালো হয়েছে।
মাজাহারুল উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ২০১২ সালে কোরিয়ান ভাষা শেখেন। ২০১৩ সালে তিনি লটারির মাধ্যমে সুযোগ পেয়ে কোরিয়ায় যান। সেখানে তিনি একটি কোম্পানিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হলে পাঁচ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি একটি সেন্টারে অন্যদের কোরিয়ান ভাষা শেখাতেন। সেখানে বেশ কিছু শিক্ষার্থী পেয়েছিলেন, কিন্তু করোনার মধ্যে তাঁর সব শিক্ষার্থী চলে যায়। কোনো উপায় না দেখে তিনি গ্রামে ফিরে কৃষিকাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি কমলার চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন। চুয়াডাঙ্গা থেকে কমলার চারা এনে সাত বিঘা জমিতে লাগান।
মাজাহারুল সাত বিঘা জমিতে কমলা চাষ করেছেন
মাজাহারুল সাত বিঘা জমিতে কমলা চাষ করেছেন।
১০ ডিসেম্বর মাজাহারুলের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে পাকা কমলা ঝুলছে। বাগানে বসে আয়-ব্যয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ২০২০ সালের জুন মাসের শেষের দিকে তিনি চারা রোপণ করেন। প্রতিটি গাছের দাম ২১৫ টাকা। প্রতি বিঘা জমির ইজারা মূল্য বছরে ১০ হাজার টাকা। এই আড়াই বছরের মধ্যে তিনি কমলাবাগানের মধ্যে সাথি ফসল হিসেবে বলসুন্দরী কুল চাষ করেছেন। দুবার কুল তুলেছেন। তাতে তাঁর কমলা চাষের খরচ উঠে গেছে। তবে কুলগাছের নিচে চাপা পড়ার কারণে এবার সব গাছে কমলা আসেনি। যেসব গাছে এসেছে, তাতে গড়ে ২০ কেজি করে কমলা ধরেছে। মাজাহারুলের বাগানের কমলায় রস হয়েছে, মিষ্টিও ভালো
মাজাহারুল আশা করছেন, আগামী বছর তাঁর সব গাছ ফল ধরার উপযোগী হবে। তাঁর কমলার আকার বড়। পাঁচ–ছয়টিতে এক কেজি হচ্ছে। বাগান থেকে ব্যবসায়ীরা ১৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর আশা, আগামী বছর তাঁর ৮০০ গাছে কমলা আসবে। ২০ কেজি করে কমলা ধরলে ১৬ হাজার কেজি কমলা হবে। দাম কমিয়ে ১০০ টাকা করে ধরলেও কমলা থেকে তাঁর ১৬ লাখ টাকা আসবে। এ থেকে বাদ দিতে হবে জমির ইজারা মূল্য ও পরিচর্যা খরচ বাবদ সাড়ে তিন লাখ টাকা।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।