বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১১:৩১ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দ্বায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
শিরোনাম:
পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে এক কৃষকের মৃত্যু শাহীনুজ্জামানের হাত ধরে সুজানগরে বিএনপির ৪ শতাধিক নেতাকর্মীর আ.লীগে যোগদান মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ, জেলে পল্লীতে হাহাকার পাইকগাছায় জাতীয় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন দিবসের আলোচনা সভা পাইকগাছায় বিদ্যুতায়িত হয়ে দোকানদারের মৃত্যু নওগাঁর আত্রাইয়ে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা সুজানগর পৌরসভার উদ্যোগে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালিত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে জেলার সেরা সুজানগর পৌরসভা স্বরূপকাঠির সম্ভাবনাময় জাহাজ শিল্প পাইকগাছায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত মানবিক সহায়তা চেক বিতরণ
হাইওয়ে রোডে দিনে অটোরিক্সাসহ অবৈধ গাড়ি আটক-রাতের আঁধারে রমরমা বাণিজ্য

হাইওয়ে রোডে দিনে অটোরিক্সাসহ অবৈধ গাড়ি আটক-রাতের আঁধারে রমরমা বাণিজ্য

হেলাল শেখ।
বিশেষ প্রতিনিধিঃ ঢাকা জেলার সাভার হাইওয়ে থানাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড় তিন চাকা ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের দখলে। বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ কর্তৃক অভিযানে দিনে তিন চাকা অটোরিক্সা আটক করে রাতের আঁধারে তা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে রমরমা বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
সাভার হাইওয়ে থানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগের থেকে অনেক কম অটোরিক্সা রয়েছে, প্রায় প্রতিদিন অভিযানে যেসকল অবৈধ গাড়ি ও অটোরিক্সা আটক হচ্ছে, তা যাচ্ছে কোথায়?। পুলিশের দাবি-অটোরিক্সা আটক করলেই বিভিন্ন মহল থেকে তদবির করা হয়, কিছু গাড়ি ছেড়ে দিতে হয়, অটোরিক্সা আটকের পর রাতের আঁধারে বিক্রির বিষটি সঠিক না বলে পুলিশ দাবি করছে, মহাসড়কে দুর্ঘটনার মূল কারণ ধীর গতির যানবাহন, তাই এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা রোড, বাইপাইল-টঙ্গী রোড ও ঢাকা-টাঙ্গাইল রোডের শ্রীপুর, জিরানি বাজার, চন্দ্রা গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তিন চাকা অটোরিক্সা মাহিন্দ্রাসহ অবৈধ যানবাহন হাইওয়ে রোড দখল করে রেখেছে। সাভারের আশুলিয়ার শ্রীপুরের অটোরিক্সা চালক মেহেদী হাসান জানান, আমার একটি অটোরিক্সা দুই মাসে ৩ বার পৃথক ভাবে এক হাজার করে ৩ হাজার টাকা দিয়েছি পুলিশকে, আর একবার হাইওয়ে থানা পুলিশ আমার গাড়ি থানার ভেতরে নিয়ে যায়, তখন দালাল ধরে ১৫হাজার টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছি। জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তর ও দৈনিক চৌকস পত্রিকাসহ একাধিক মিডিয়ায় গত ৯ ও ১০ সেপ্টম্বর ২০১৯ইং তারিখে সংবাদ শিরোনাম হয়, “সাভার ও আশুলিয়ায় দিনে অটোরিক্সা আটক করে রাতের আঁধারে বিক্রির অভিযোগ”। ওই সময়ে রাতের আঁধারে আটককৃত অটোরিক্সা বিক্রির সময় অটোরিক্সা ও পুলিশের একটি মোটরসাইকেলসহ তিনজন ব্যক্তি জনতার হাতে আটক হয়, এর সাথে একজন ছিলো সাভার হাইওয়ে থানার এক সোর্স।
হাইওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ যন্ত্র চালিত কোনো অটোরিক্সা ও ভ্যান ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উঠলেই তা আটক করছে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে প্রায় প্রতিদিন আটক করা হয় ২০-২৫টি অটোরিক্সা বা তার চেয়ে বেশি অবৈধ যানবাহন, কিছু গাড়ি রেকার বিল দিয়ে ছাড়া হলেও বাকি গাড়ি সিস্টেমে ছাড়া হয়। সাভার হাইওয়ে থানার আগের ওসি মোঃ গোলাম মোর্শেদ তালুকদার থাকা অবস্থায় সিস্টেম ছিলো ভিন্নরকম, আর বর্তমান ওসি আসার পর থেকে সিস্টেম পাল্টেছেন বলে অনেকেই জানান।
ভুক্তভোগী এক অটোরিক্সা চালক হাসান জানান, তিনি গত ১৫ বছর ধরে রিক্সা চালান, তার অটোরিক্সা আশুলিয়ার হাসেম প্লাজার সামনে থেকে আটক করে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ। সে সময় তিনি ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অটোরিক্সাটি ছাড়িয়ে নিয়ে যান। ওইদিন শুক্রবার আবার একই স্থান থেকে তার অটোরিক্সাটি আবার আটক করা হয়। পূর্বের গাড়ি ছাড়ানোর সিস্টেম ও সূত্র ধরে হাসান দুই তিন দিন হাইওয়ে থানায় চেষ্টা করেও গাড়ি ছাড়াতে পারছিলেন না। ওইদিন শনিবার দিবাগত রাত গভীর হলে বাসায় ফেরার পথে তিনি দেখেন, সাভার হাইওয়ে থানা থেকে একটি অটোরিক্সা ও একটি ভ্যান নিয়ে যাচ্ছেন থানার কয়েকজন লোক, এসময় তাদের সাথে পুলিশের স্টিকার লাগানো একটি মোটরসাইকেলও ছিলো। তার সন্দেহ হলে তাদের সামনে গিয়ে পথ আটকে দাঁড়ান। এসময় একজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনজনকে আটক করেন উপস্থিত জনতা।
প্রত্যক্ষদশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাটি তখন আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানালে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মামুন হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি অটোরিক্সা, একটি ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত যানবাহন পরে সাভার হাইওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে থানা পুলিশ জানান। হাইওয়ে থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটির মালিক হাইওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলাম। আটককৃত শরিফুল ইসলাম (সোর্স) গভীর রাতে তার নিবন্ধনকৃত মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করার কারণ জানতে চাইলে উপ-পরিদর্শক এএসআই মমিনুল বলেন, শরিফুল তার মামাতো ভাই। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ও শরিফুলের মতো অনেকেই আছে যারা এখনও দিনে অটোরিক্সা আটক করে রাতের আঁধারে বিক্রি করে থাকেন।
এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ওসি আজিজ বলেন, গাড়ির হিসাব নিবে আদালত, হাইওয়ে থানা কিছু সাংবাদিক দলবেঁধে আসে কারণে অকারণে এতে সমস্যায় মনে করেন তিনি। পুলিশ জানায়, একটি গাড়ি আটক করলে অনেকেই তদবির করতে আসেন, হাইওয়ে থানার ভেতরে কতগুলো গাড়ি আটক আছে? এবং আটককৃত অটোরিক্সার সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। গণমাধ্যম কর্মী ছবি তুলতে চাইলে, ছবি তুলতে দেওয়া হয়নি।
গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপারসহ পুলিশের উপর মহলের একাধিক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে, তারা বলেন, হাইওয়ে রোডে কোনো প্রকার তিন চাকা যানবাহন চলবে না, থানা থেকে যানবাহন বিক্রি করার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, অপরাধী সে যেইহোক না কেন তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে পুলিশের উপর মহলের কর্মকর্তারা জানান।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD