শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দ্বায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
শিরোনাম:
জন্মাষ্টমীর আলোচনা সভায় এমপি বাবু; অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন ঝড় হাওয়া, বৃষ্টিতে গোদাগাড়ীর মোশড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাসহ ঘরবাড়ীর ব্যপক ক্ষতি রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত পথে দিয়ে আসছে মাদক বিনিময়ে যাচ্ছে সোনা। আহম্মদপুরে আওয়ামীলীগের নতুন অফিস উদ্বোধন সুজানগরে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত জনতার দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা,ময়মনসিংহে ওসি কামালের সফলতার ১বছরে খুশী সেবা গ্রহীতারা ময়মনসিংহে বিদায়ী পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান কে কোতোয়ালি পুলিশের সংবর্ধনা।। শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে তৃর্ণমুল থেকে দলকে শক্তিশালী করতে চান সোমনাথ সাহা।। সামাজিক সংগঠন “সেইভ দ্যা হাঙ্গার পিপল” এর কার্যকরী কমিটি গঠিত ত্যাগীরাই পারবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে; সুবিধাবাদীরা নয়
নড়াইলের কৃষকরা বর্ষা মৌসুম পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না

নড়াইলের কৃষকরা বর্ষা মৌসুম পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

নড়াইলের কৃষকরা বর্ষা মৌসুম পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না। নড়াইলের কৃষকরা পানির অভাবে পাট নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছেন। এ এলাকার কৃষকরা পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না। এখন বর্ষা মৌসুম তবুও ভারী বৃষ্টির দেখা নেই নড়াইলের তিনটি উপজেলায় কৃষকরা বৃষ্টির আশায় পাট কেটে জমিতে গাঁদি সাজিয়ে রেখেছেন।
এবার জেলার সদর লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার খাল, বিল ও জলাশয়ে তেমন পানি নেই। এলাকার কৃষকরা বলছেন খাল, বিল ও জলাশয়ে যে পানি আছে তা পাট পঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।এদিকে পাট রোদে পুড়ে মরে লালচে হয়ে যাচ্ছে ক্ষেতেই। তাই উপায় না পেয়ে অপরিস্কার অল্প পানিতে পাট জাগ দিতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে পানি পঁচে পাটের রঙ কালো হযে যাচ্ছে। এই কালো পাট বাজারে নিয়ে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন না।
এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাটবীজ জমিতে বোনা হয় মার্চ মাসের শেষদিকে। আর জুন মাসের শেষদিকে জমির পাট কাটা শুরু হয়। এই পাট কেটে জমি পরিস্কার করে জমিতে আমন ধানের চারা লাগানো হয়। উপজেলার যে সব নিচু এলাকা ও খাল-বিল রয়েছে সেখানে বৃষ্টির পানিতে ভোরে গেলে পাট জাগ দেওয়া হয়। এ বছর জুলাই মাস শেষ হতে চললেও তেমন কোন ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। খাল-বিলেও তেমন পানি নেই। তাই পানির অভাবে কৃষকরা পাট জাগ দিতে পারছেন না। প্রচন্ড রোদের তাপে পাট শুকিয়ে যাচ্ছে ক্ষেতেই।
সদর উপজেলার শেখহাটি গ্রামের কৃষক রাজু শেখ বলেন, আমি এক একর জমিতে পাটের চাষ করেছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছে। তবে পাট কেটে এখন বিপাকে পড়েছি। পানির অভাবে পাট পচানোর জায়গা নেই। তাই সড়কের পাশে ফেলে রেখেছি।
কালিয়া উপজেলার চোরখালি গ্রামের জিহাদুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য বছরগুলোতে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে প্রচুর বৃষ্টি হলেও এ বছর বৃষ্টি নেই। পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছি না। প্রচণ্ড রোদে কাটা পাট শুকিয়ে যাচ্ছে।
লোহাগড়া উপজেলার মরিচ পাশা গ্রামের মো. গোলজার মৃধা বলেন, এ বছর আমি ১৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি।আমার পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু খাল-বিলে পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে পারছি না। মো. গোলজার মৃধার মতো উপজেলার অধিকাংশ পাট চাষিদের একই অবস্থা।
ওই এলাকার কৃষকরা গত বছর পাটের দাম বেশি পাওয়ায় এ বছর পাট চাষে ঝুঁকে পড়েন। পাট চাষ নিরাপদে হলেও এখন কৃষকরা পাট কাটা ও জাগ দেওয়া নিয়ে মহা বিপদে আছেন। কৃষকরা পাট কাটতে না পারায় আমন চাষ পিছেয়ে যাচ্ছে। আমন চাষ পিছিয়ে গেলে রবিশস্য চাষও পিছিয়ে যাবে এমনটাই বলছেন লোহাগড়া উপজেলা কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগ জানায়, এ জেলায় ২২ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে। আবাদকৃত জমিতে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪১০ বেল পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা বয়েছে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে। আবাদকৃত জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮০ হাজার ৯০৩ বেল পাট।
লোহাগড়া উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে। আবাদকৃত জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮২ বেল পাট। কালিয়া উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। আবাদকৃত জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৭২৫ বেল পাট।
কৃষিস্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দীপক কুমার রায় বলেন, এ বছর পাট নিয়ে কৃষকরা মহা বিপদে আছেন। পাট কেটেই জমিতে আমনের চাষ করা হয়।তাই সময় মতো পাট কাটতে না পারলে আমন চাষ ব্যাহত হতে পারে। এজন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি দেরি না করে অল্প পানিতেই পাট জাগ দিযে পাটের ওপরে পলিথিন বিছিয়ে মাটি ও বালির বস্তা এবং ভারি কোন জিনিস দিয়ে পাট পানির নিচে ডুবিয়ে দিতে হবে। এছাড়া কৃষকদের কোনো উপায় নেই।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD