June 16, 2024, 1:53 am

বিজ্ঞপ্তি :
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দ্বায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
শিরোনাম :
ডাসার উপ‌জেলা বাসী‌কে প‌বিত্র ঈদুল আযহার শু‌ভেচ্চা জানা‌লেন কাতার প্রবাসী নাজমুল হাসান বেলাল পাইকগাছায় কোরবানি ঈদে চুইঝালের চাহিদা বেড়েছে পাইকগাছায় শেষ মূহুর্তে কোরবানীর পশুর হাট জমে উঠেছে সুন্দরগঞ্জে বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রা বিরতির দাবীতে মানববন্ধনে এমপি নাহিদ নিগার বরগুনায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত নিখোঁজের একদিন পর পুকুর থেকে কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার ঘাটাইলে এস কে এম এর শোরুম উদ্বোধন খ্রিষ্টান নারীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের নামে প্রতারণা, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এমপি আনিছ ইপিজেড থানা পুলিশের অভিযানে ৫০ লিটার দেশীয় তৈরী চোলাই মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
রাত পোহালেই মোংলায় জমিসহ নতুন ঘর পাচ্ছেন ৫৫ টি অসহায় পরিবার

রাত পোহালেই মোংলায় জমিসহ নতুন ঘর পাচ্ছেন ৫৫ টি অসহায় পরিবার

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, ভ্যানচালক, দিনমজুর ও অন্যের বাড়ীতে কাজ করা আয়া-বুয়ার মত অসহায় পরিবারের মানুষগুলোর কাছে জমি কিনে পাকা ঘর করে থাকাটা রীতিমত দু:স্বপ্নই। আর এ সকল মানুষের কাছে সেই দু:স্বপ্ন এখন কোন স্বপ্ন নয় বাস্ত্মবেই ধরা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরে স্বপ্নপূরণ হয়েছে অসহায় এসব মানুষগুলোর। যারা এক সময়ে সরকারী জায়গায়, ভাড়াবাড়ী, দয়ায় অন্যের রান্নাঘর ও বারান্দায় থাকতেন তারা এখন প্রত্যেকেই এক টুকরো জমি ও একটি আধাপাকা ঘরের মালিক। তারা এখন সেখানে ভবিষ্যৎতের নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরম্ন করেছেন। আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন এখন, তাই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কর্তৃজ্ঞতা জানাতে ভুলে যাননি তারা। মোংলা থেকে আবু হোসাইন সুমনের রিপোর্ট
মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে মোংলায় ৫৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পেয়েছেন শেখ হাসিনার উপহারের ঘর। প্রত্যেক পরিবারকে দেয়া হয়েছে দুই শতক জমিসহ আধাপাকা নতুন ঘর। ঘরে বিদু্যৎ সংযোগও রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় রয়েছে মিষ্টি পানির পুকুর, প্রত্যেক ঘরের সাথে তিন হাজার লিটারের পানির ট্যাংকি ও টিউবওয়েলও। উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মাছমারা-নারকেলতলা এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে এ ঘরগুলো। ঘরগুলো গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু মোংলা-ঘাষিয়াখালী আর্ন্ত্মজাতিক নৌ ক্যানেলের পাড়ে। উপজেলার চাঁদপাই, সোনাইলতলা ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঝখানে পড়েছে এ আশ্রয়ণ প্রকল্পটি। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩’শটি ঘর হস্ত্মান্ত্মর করা হয়েছে এখানকার দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে। আর তৃতীয় পর্যায়ে নতুন করে দেয়া হয়েছে আরো ৫৫টি ঘর। ইতিমধ্যে এ সকল ঘরে উঠে পড়েছেন সুবিধাভোগীরা। সমাজের খুবই নিচু স্ত্মরের অসহায় মানুষগুলোর চোখে মুখে এখন শান্ত্মির ছাপ। ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা সকলেই। সারাজীবন সাধনা করেও জমি ও ঘরের ব্যবস্থা করার সামর্থ্য যে নেই তাদের। তাই এতো খুশির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীকে কর্তৃজ্ঞতা জানাতে ভুলে যাননি তারা। তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় দফায় জমিসহ ঘর পাওয়া হাসিনা বেগম (৪৮) বলেন, আমি পরের বাড়ীতে কাজ (বুয়া, আয়া) করে খাই। কোনদিন চিন্ত্মাও করিনি জমিসহ একটি নতুন পাকা ঘর পাবো। খুব খুশি ও আনন্দ লাগছে ঘর পেয়ে। ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রীকে এবং তার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করি।
করিমন বেগম (৫০) বলেন, আমি ভিক্ষা করে খাই। সেই টাকা দিয়ে ভাড়া থাকতাম এর ওর রান্নাঘর ও বারান্দায়। তাদেরকে ভাড়ার টাকা ঠিক মতো দিতে না পারলে নামিয়ে দিতো। কাদতে কাদতে নেমে যেতে হতো। আমি ঘর পেয়ে খুব খুশি, যা বলার মতো না। এমন ঘর করার সামর্থ্য তো কোনদিন হতো না। সরকারের প্রতি শুকরিয়া, সরকার ভাল থাকুক দোয়া করি। শারিরীক প্রতিবন্ধী নজরম্নল ইসলাম (৪১) বলেন, আগে ভাড়া থাকতাম, অনেক কষ্ট হতো। এখন ঘর পেয়ে খুব খুশি, ধন্যবাদ ইউএনও স্যার ও প্রধানমন্ত্রীকে।
এদিকে এর আগে যারা আশ্রয়ণের জমিসহ ঘরে উঠেছেন তারাও এখন ঘুরে দাড়িয়েছেন। কারণ মুল আয় থেকে এখন আর ঘরভাড়া দিতে হয়না তাদের। বেচে যাওয়া সেই টাকা দিয়েই তারা তাদের ঘরের পাশের জমিতে সবজির চাষাবাদ ও পশুপালনও করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সরকারের দেয়া অনুদানের টাকা দিয়ে নতুন নতুন কাজের মধ্যদিয়ে আয় বাড়িয়ে এখন সুখে শান্ত্মিতেই আছেন তারা।
আশ্রয়ণের পুরানো বাসিন্দা ইউসুফ শেখ ও মো: মনির বলেন, আমাদের ঘরের চারপাশে সবজি চাষ, হাস-মুরগী ও ছাগল পালন করছি। আগের মত আর কষ্ট নেই। ঘরের মহিলারাও শেলাই মেশিন দিয়ে ও হাতের কাজ করে আয় করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমাদের জমি ও ঘর দিয়েছেন, তাই খেয়ে পরে ভাল আছি। আমরা আশ্রয়ণবাসী তার জন্য দোয়া করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, ঘরগুলো অত্যন্ত্ম সুন্দরভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। ভাল মানের মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে ঘরগুলোতে। জমির দলিল ও ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে তা তুলে দেয়া হচ্ছে সুবিধাভোগীদের হাতে। মুলত যাচাই বাছাই করেই ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, ভ্যানচালক, দিনমজুর, অন্যের বাড়ীতে কাজ করে এমন লোকজনকেই দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এ ঘরগুলো। ঘরগুলোতে রয়েছে বিদু্যৎ সংযোগ, ঘরের সাথে মিষ্টি পানি সংরÿণের তিন হাজার লিটারের পানির ট্যাংকিও দেয়া হয়েছে। আর আগে যারা আশ্রয়ণে গিয়েছেন তারাও ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন ঘর নিমার্ণ করা হচ্ছে, যা দেয়া হবে সমাজের অবহেলিত-অসহায় ভূমি ও গৃহহীনদের মাঝে। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার দেশের একটি মানুষও ভূমি ও গৃহহীন থাকা পর্যন্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media






© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD