Blog

  • উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সরকারী ইউজার আইডি ভাড়া নিয়ে প্রধান শিক্ষকের রমরমা বানিজ্য

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সরকারী ইউজার আইডি ভাড়া নিয়ে প্রধান শিক্ষকের রমরমা বানিজ্য

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    বিশ্বাস করুন আর নাই করুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আইডি এখন ভাড়া খাটছে। আইডি ভাড়া নিয়ে সদর উপজেলার পুর্ব তেঁতুল বাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুজ্জামান সাধারণ শিক্ষকদের ফাঁদে ফেলে রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের ইউজার আইডিতে প্রবেশ করে তাদের গুরুত্বপুর্ন তথ্য নয়ছয় করছেন। আবার কোন কোন তথ্য মুছেও দিচ্ছেন। আর এই চক্রের তত্বাবধানে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনে বদলী নিয়ে ব্যপক জালিয়াতি করা হয়েছে। এ নিয়ে বদলিচ্ছু শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে। পেশায় জুনিয়র জনৈক এক শিক্ষা কর্মকর্তার স্ত্রীকে বদলির সুযোগ করে দিতে অন্য শিক্ষকদের আইডি থেকে গুরুত্বপুর্ন তথ্য মুছে দিয়ে ভুল ও মিথ্যা তথ্য সন্নিবেশিত করা হয়েছে। ফলে জেলার অন্তত ১৩জন সিনিয়র শিক্ষকের বদলি আবেদন বাতিল হয়ে গেছে। এদিকে অনলাইনে আবেদন বাতিল হওয়া বদলিচ্ছু শিক্ষকরা এ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অনলাইনে এই বদলি জালিয়াতির তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়ায় পুরো জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
    অনুসন্ধান করে জানা গেছে, শিক্ষকদের বদলির সার্ভার খুলে দেওয়ার পর জেলার ৬৮৮টি শুন্য পদের বিপরীতে ৩৭৮ জন শিক্ষক অনলাইনে আবেদন করেন। এরমধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুরাট ও মাওলানাবাদ ক্লাস্টারে মহা জালিয়াতির তথ্য ফাঁস হয়ে পড়ে। মাওলানাবাদ ক্লাস্টারে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এটিইও শাহজাহান রিজুর স্ত্রী সুরাইয়া পারভিন। তাকে ঝিনাইদহ শহরে বদলি করে আনার জন্য একাধিক সিনিয়র শিক্ষকদের অনলাইনে বদলির আবেদন ঢালাও ভাবে বাতিল করা হয়েছে। ফলে ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে জুনিয়র শিক্ষকদের বদলীর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
    অভিযোগ উঠেছে, অনলাইনে বদলীর সরকারী সার্ভার উন্মুক্ত হওয়ার ১৫ দিন আগে এটিইও রিজুর স্ত্রী সুরাইয়া পরভিনের আসল তথ্য তার আইডি থেকে ডিলিট করে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য সন্নিবেশিত করা হয়, যাতে তার স্কোর বৃদ্ধি পায়। আর এই কাজটি ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার খালেকুজ্জামানের পরামর্শে করেন পুর্ব তেঁতুল বাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুজ্জামান। তিনি নিজেও সুরাট ক্লাস্টার থেকে অনলাইন জালিয়াতির মাধ্যমে বদলি হয়ে ঝিনাইদহ শহরে এসেছেন। একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, শিক্ষক তৌহিদুজ্জামানের কাছেই মুলত সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের আইডি থাকে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে তৌহিদুজ্জামান উপজেলা শিক্ষা অফিসেই পড়ে থাকেন। শিক্ষা অফিসারদের দাপ্রীক কাজ তিনিই করে থাকেন। এক্ষেত্রে তাকে স্কুলে যেতে হয়না বলেও অভিযোগ। এই তৌহিদুজ্জামান বিভিন্ন প্রধান শিক্ষকের আইডিতে প্রবেশ করে গুরুত্বপুর্ন তথ্য ডিলিট করে দিয়ে টাকা দাবী করে থাকেন বলে কথিত আছে।
    অভিযোগ আছে শিক্ষা কর্মকর্তার স্ত্রী সুরাইয়ার আইডিতে স্কুলের দুরত্ব ছিল ১৩ কিলোমিটার। কিন্তু অনলাইনে বদলীর আবেদনের সময় সেখানে দেখানো হয় ২৭ কিলোমিটার। সেশন স্কোর বাড়ানোর জন্য প্রকৃত তথ্য গোপন করা হয়। সুরাইয়া পারভিনের আইডিতে পুর্ববর্তী কর্মস্থল ছিল বাকড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু স্কোর বৃদ্ধির জন্য পুর্বের কর্মস্থলের তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়। এতে তিনি ২৫ এর মধ্যে ২৫ পেয়ে নজীর সৃষ্টি করেন। সুরাট ক্লাস্টারের একাধিক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, তাদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তাদের ‘ভাড়’ হিসেবে পরিচিত পূর্ব তেঁতুল বাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুজ্জামান এসব অপকর্ম করে থাকেন বলে অভিযোগ। তার কাছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার খালেকুজ্জামানের আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকার কারণে শিক্ষকদের হয়রানী করেন হরহামেশা। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের টিইও শাহাজান রিজু বলেন, তার স্ত্রীকে যথাযথ আইন মান্য করেই বদলীর পক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অনলাইন জালিয়াতির যে তথ্য অন্যান্য শিক্ষকরা করছেন তা সত্য নয় বলে তিনি জানান। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনন্দ কিশোর সাহা, জানান এ বিষয়ে তিনজন শিক্ষকের আবেদন পেয়েছি। আমি যাচাই বাছাইয়ের জন্য উপজেলায় পাঠিয়েছি। সেখান থেকে মতামত আসার পরই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক মসলেম উদ্দীন, ভুয়া ও জালিয়াতি তথ্য দিয়ে স্কোর বাড়ানোর কথা আমি শুনেছি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার অনুমোদন গ্রহনের আগেই অনেক শিক্ষক বদলির ম্যাসেজ পেয়ে যান কি ভাবে তাই আমি বুঝতে পারিনা। তিনি বলেন ঝিনাইদহের বদলি নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ আমি পেয়েছি। বিষয়গুলো সুক্ষ ভাবে দেখা হচ্ছে। কেউ যদি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকে তবে তার বদলির আদেশ বাতিল করা হবে বলেও তিনি জানান।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ

  • ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মা নদী এখন  বিলে পরিনত হয়েছে

    ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মা নদী এখন বিলে পরিনত হয়েছে

    রাজশাহী থেকে মো. হায়দার আলী : নদীর দেশ বাংলাদেশে বর্তমানে নদীর বেহালদশা। পদ্মা নদীসহ শ শ নদী মরে যাচ্ছে, অস্তিত্ব বিলীন হয়ে য দেশে জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে । এখন শুধু ইতিহাসের পাতায় লেখা একটি নদীর নাম পদ্মা । এটা কি নদী ? বিশ্বাস করা যায় না । পদ্মার সেই খরস্রোত নেই কেন ? এমন সব প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে একালের শিশু-কিশোর, ছাত্র-ছাত্রীসহ কোন আগন্তুককে । বিশাল-বিস্তৃত ধুধু বালুচর আর পানির ক্ষীণ বিল কিংবা লেকের মতো পদ্মার ঐতিহ্য অস্তিত্বকে এতটা বিপন্ন করেছে।

    ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মিত হয়েছে আবহমানকাল ধরে প্রবাহিত গঙ্গা-পদ্মা নদীর ভারতের অংশ ফারাক্কায় । ১৯৬৮-১৯৬৯ সালে ফরাক্কা ব্যরেজটি একতরফাভাবে নির্মাণ করে ভারত। কিন্তু ভারত কৌশলগতভাবে ব্যারেজটি তখনই চালু করেনি । তখন পাকিস্থানে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথানের ১৯৭০ সালের জেনারেল ইয়াহিয়া সামরিক শাসন জারি এবং সবশেষে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বধীনতা অর্জনের কাল। তারপরেও ভারত অপেক্ষা করে এবং অবশেষে ১৯৭৫ ইং সালের ২১ এপ্রিল ভারত ফারাক্কা চালু করার পর থেকে অব্যাহতভাবে মরণদশা শুরু হয়েছে ।

    নদী আছে পানি নেই, বালু আছে কিন্তু কোথায় যেন কোন মাটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পদ্মার কোলে জেগে উঠা চরে সবুজ ফসল ফলানো সম্ভাব হচ্ছেনা । প্রতি বছর বালু জমতে জমতে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে । পদ্মার ভয়াবহ রুপ দিনে দিনে হারিয়ে ফেলেছে । বিগত বছরগুলোতে এ নদীর ক্ষীণ স্রোতধারা থাকলেও এ বার তাও নেই । একটা বিলে পরিণত হয়েছে । এখন রেলবাজার ঘাটের সামনে মানুষ সাঁতার দিয়ে নদী পার হতে পারছেন। কয়েক বছর পর নৌকার পরিবর্তে গরুর গাড়ী, বাইক কিংবা সাইকেলে নদী পার হওয়া যাবে বলে সচেতন মহলের ধারণা।
    ফারাক্কা ব্যরেজের সব কয়টি গেট বন্ধ করে নদী শাসন করে মেরে ফেলা হয়েছে অসংখ্য নদ নদীকে, জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে পরিবেশ জীবন জীবিকায় নেমে এসেছে প্রচন্ড ধ্বস। দেশের এক তৃতীয়াংশ এলাকা ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে । গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নীচে নেমে যাওযায় উত্তাঞ্চলের বেশীর ভাগ নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায় । দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট । উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবনে অভিশাপ বয়ে এনেছে এই ফারাক্কা ব্যারেজ; এসব এলাকার মানুষ যাকে মরণ ফাঁদ বলে জানে ।

    এ ব্যারেজ চালু হওয়ার সময় বলা হয়েছিল এটি উভয় রাষ্টের কল্যাণের প্রতীক। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভরতের বিমাতাসুলভ আচারণের কারণে আজ এ ব্যারেজ দেশের মানুষের জন্য অকল্যাণ। একতরফা পানি প্রত্যাহার করে ভারত তাদের বন্দর, কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখলেও এদেশের কৃষি, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ, জীবন-জীবিকাকে ঠেলে দিয়েছে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে । বিভিন্ন সময়ে পদ্মার পানি বন্টন নিয়ে অনেক আলোচনা মাপজোঁক আর পর্যবেক্ষণ হয়েছে । চুক্তি হয়েছে, চুক্তি নিয়ে সংসদে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়ছে। কিন্ত বাংলাদেশের ভাগ্যে কখনই চুক্তি মোতাবেক পানি জুটেনি । তবে পানি এসেছে সংসদে, টেলিভিশন, রেডিও, প্রিন্ট মিডিয়া, অন লাইন পত্রিকায়, টেলিফোনে। এর ফলে শুধু পদ্মা নয় অভিন্ন ৫৪টি নদ-নদীর পানি ভারত একতরফা প্রত্যাহার করে চলেছে । ফলে এপারের নদ-নদীগুলো মরে যাচ্ছে ।
    পদ্মা নদী মরে যাওয়ার সাথে সাথে শাখা নদী বড়াল, মরাবড়াল, নারোদ, মুছাখান, ইছামতি, চিকনাই, নাগর, ধলাই, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, হিসলা, কাজলা, চিত্রা, সাগোরখালি, চন্দনা, কপোতাক্ষ মরে যাচ্ছে। কালিগঙ্গা, বেলাবত এসব নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে । বর্ষা মৌসুমে কিছু দিনের জন্য এসব নদীতে পানি থাকলেও প্রায় সারা বছর থাকে পানিশূন্য । তাছাড়া এসব নদী মরে যাওয়ার সাথে সাথে দু পার্শ্ব অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে । সরকারী দলের তথা কথিত যারা বালিখোর, টিআর গোর, টেন্ডার বাজ, সরকারী খাদ্য গুদামে গমখোর, খাস পুকুরখোর, তারা ড্রেজার, টলি, ট্রাক, লরি প্রকাশ্যে নামিয়ে নদী থেকে দেদারসে বালি মাটি নিয়ে গিয়ে ইটভাটা, ভরাটসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজ করায় পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীর পাড়, কোটি কোটি টাকার নির্মিত বাঁধ নষ্ট করে দিচ্ছে । দেশের নদী এতটা বিপন্ন হয়েছে যেন এখন এসব নদীর নাম বইয়ের পাতায় কিংবা মানচিত্রে স্থান পেয়েছে ।

    জলবায়ুর উপর দেখা দেয় বিরুপ প্রভাব। এর অন্যতম প্রধান কারণ মরণ বাঁধ ফারাক্কা । মৃত. মৌলানা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানী ফারক্কা ব্যারেজের বিরুদ্ধে ব্যারেজমূখি ফারাক্কা লং মার্চ করেছিলেন, ব্যরেজটির মারাত্বক পরিণতির কথা বিবেচনা করে । বাংলাদেশ ভাটির দেশ হয়ে এবং তুলনামূলকভাবে ভারতের চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র দেশ হওয়ার কারণে কখনোই তাদের অভিযোগ স্পষ্ট করে বলতে পারেনি। ফারাক্কা ব্যারেজ উজানে পানি প্রত্যাহারের প্রকল্প নয়। এটি একটি শত-সহস্র বছর ধরে প্রবাহমান আন্তজাতিক নদীর গতিপথের সম্পূর্ণ পরিবর্তন যা আন্তজাতিক আইন কানুনের পরিপন্থী।
    প্রতিবছরের মত এবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় একাধিক দফায় হয়েছে। বন্যায় অনিবার্য ছিল নদীভাঙন। বন্যা ও নদীভাঙনে অসংখ্য বাড়ি-ঘর, স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। রাস্তাঘাট, বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসলাদি বিনষ্ট হয়েছে। বন্যা ও নদীভাঙনের কবলে পড়ে লাখ লাখ মানুষ দুঃখ-দুর্ভোগ, বিপদ-বিপন্নতার শিকার হয়েছে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি, জমিজিরাত হারিয়ে পথের ভিখারিতে পরিণত হয়েছে এবং কিছুটা ব্যতিক্রমও দেখা গেছে। যখন বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হয়েছে, তখন কোনো কোনো এলাকায় অনাবৃষ্টি ও খরার প্রকোপ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈপরীত্যের কারণ, জলবায়ুর পরিবর্তন। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রতিক্রিয়া বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি। একই দেশে একই সময়ে বৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজাত ফল। এটা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে বৃষ্টি হয়েছে সেখানে খুব বেশি হয়েছে। যেখানে হয়নি সেখানে একেবারেই হয়নি। অতীতে এরকমটি কখনো দেখা যায়নি।

    অতীতে আমরা দেখছি, পদ্মার পানির ওপর নির্ভরশীল গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প তিস্তার পানির ওপর নির্ভরশীল তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ অন্যান্য সেচ প্রকল্প তাদের কমান্ড এরিয়ার সামান্য অংশেই কেবল সেচসুবিধা দিতে পারে। বেশিরভাগ জমি সেচ সুবিধার বাইরে থেকে যায়। জমির মালিকরা তাদের মতো করে আবাদ করতে পারলে করে, না পারলে জমি পতিত থাকে। এভাবে সেচ প্রকল্পাধীন এলাকায় চাষাবাদ প্রতি বছরই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং উৎপাদন সম্ভবনা কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। নদীতীরবর্তী এলাকায় নদীর পানি সেচের জন্য ব্যবহার করার কোনো সুযোগ থাকে না, নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ায়। এর বাইরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভও করে যে সেচব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাও অনেক ক্ষেত্রে ব্যাহত হয়। মাত্রাতিরিক্তি পানি তোলার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আর আগের অবস্থানে নেই, বহু নিচে নেমে গেছে। দিনে দিনে পনির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে। অনেক সময় পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তাও আর্সেনিক বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রিত থাকে, ফসলের জন্য যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। বলা যায়, শুকনো মওসুমে ফসলের আবাদ-উৎপাদন ক্রমেই সংকটাপন্ন ও অসম্ভবপর হয়ে উঠছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারনে , ভূগর্ভস্থ পানিতে যখন টান পড়ে তখন খালবিল, জলাশয়, পুকুর ডোবায়ও কোনো পানি থাকে না। পানির জন্য দেশজুড়েই হাহাকার পড়ে যায়। এতে আবাদ-উৎপাদনই শুধু ব্যাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, এমনকি পান ও ব্যবহারযোগ্য পানিরও প্রকট অভাব দেখা দেয়। পানির দেশে পানির এই আকাল একইসঙ্গে অকল্পনীয় এবং উদ্বেগজনক।

    কেন এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দেশ ও দেশের মানুষ পতিত হয়েছে, তা কারো অজানা নেই। প্রথমত, নদীনালা, খালবিল, জলাশয়, পুকুর ডোবা ভরাট হয়ে পানি ধারণক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিন্ন ৫৪টি
    নদীর উজানে ভারত অসংখ্য বাঁধ, প্রতিবন্ধক নির্মাণ করে পানি সরিয়ে নেয়ায় দেশের শত শত নদী এখন শুকনো মওসুমে পানি শূন্যতার শিকারে পরিণত হয়েছে। পানি না দিয়ে বাংলাদেশকে শুকিয়ে মারার ভারতীয় অভিসন্ধির কারণে নদী স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতাধিক ছোট নদী মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। বড় নদীগুলোর অস্তিত্বের সংকটও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। প্রথমেই বলেছি ভাটির দেশ বাংলাদেশ, ভাটির দেশের ক্ষতি হয়, এমন কিছু উজানের দেশের না করার নীতি-বিধানের তোয়াক্কা না করেই ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে পানি সরিয়ে নিচ্ছে।

    গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এ যাবৎ দুটি চুক্তি হলেও বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী পানি পায়নি। চলমান ৩০ সালা চুক্তি বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। ফলে পানিবঞ্চনা আরো বেড়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খোলাখুলি বক্তব্য, “শুকনো মওসুমে তিস্তার পানি প্রবাাহ এত কমে আসে, যে, তা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োজনই মেটে না, বাংলাদেশকে আমরা পানি দেবো কিভাবে?”

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপক ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং সব নদীকে পানি সংরক্ষণাগারে পরিণত করা অত্যাবশ্যক। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ করা দরকার। গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের কথা এদেশের মানুষ দশকের পর দশক ধরে শুনে আসছে। ব্যারাজটি এখনও নির্মাণ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের তরফে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের কথা বার বার বলা হলেও এখন শোনা যাচ্ছে, ভারতের বিরোধিতার কারণে সরকার দ্বিধায় পড়ে গেছে। সরকার ভারতের সহযোগিতা নিয়ে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ চায় বলে জানানো হয়েছে। তাতেও কোনো ফলোদয় হয়নি।

    গঙ্গা-পদ্মা অভিন্ন নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে, এ কথাটি আমরা স্পষ্ট করে বলতে পারিনা কেন ? আমাদের বলা উচিৎ নয় কি ?

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • র‌্যাব-১২’র অভিযানে ভিকটিম উদ্ধার ও প্রধান আসামি গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে ভিকটিম উদ্ধার ও প্রধান আসামি গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানাধীন চন্দনগাঁতী এলাকা হতে মামলা রুজুর ০৬ ঘন্টার মধ্যে অপহরণকৃত ভিকটিম উদ্ধার ও প্রধান আসামি গ্রেফতার।

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন, এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ১। ভিকটিম মোঃ তামিম হোসেন (০৭), এর পিতা মোঃ সুন্নত আলীর (৩৫) সাথে অনুমান ০২ মাস পূর্বে আসামি মোঃ আল-আমিনের সক্ষতা (বন্ধুত্ব) গড়ে ওঠে। এই বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে সুকৌশলে আসামি মোঃ আল-আমিন ইং ১৭/০৪/২০২৪ তারিখ বিকাল অনুমান ০৩.০০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা থানাধীণ হানুরবাড়াদি গ্রামস্থ বাদীর বাড়ির পিছনে পাঁকা রাস্তার উপর থেকে ভিকটিম মোঃ তামিম হোসেন (০৭) কে ফুসলিয়ে অপহরণ করে। উক্ত ঘটনাটি ঘটার পরে ভিকটিমের পিতা সুন্নত আলী বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। যাহার প্রেক্ষিতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার মামলা নং-১৭, তারিখ-১৮/০৪/২০২৪ খ্রিঃ, ধারা- ৭/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সং/২০২০) রুজু হয়।

    ২। এরই ধারাবাহিকতায় উক্ত ঘটনার বিষয়টি জনাব মোঃ মারুফ হোসেন বিপিএম, পিপিএম, অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ মহোদয় অবগত হওয়ার পর তার সার্বিক দিকনির্দেশনায় র‌্যাব-১২ এর একটি অভিযানিক দল জনাব মোঃ উসমান গণি, সহকারী পুলিশ সুপার এর নেতৃত্বে অদ্য ইং ১৮/০৪/২০২৪ তারিখে মামলা রুজু হওয়ার ০৬ ঘন্টার মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানাধীণ চন্দনগাঁতী দক্ষিনপাড়া গ্রাম হতে অপহৃত ভিকটিম মোঃ তামিম হোসেন (০৭) কে উদ্ধার পূর্বক উক্ত ঘটনার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মোঃ আল-আমিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

    ৩। গ্রেফতারকৃত আসামি ১। মোঃ আল-আমিন (২৯), পিতা- মোঃ আব্দুল কাদের, সাং- মেষতলী বাজার, থানা- চৌদ্দগ্রাম, জেলা- কুমিল্লা।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হস্তান্তর করার আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন ।

    র‌্যাবের এ ধরণের চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার অপহৃত ভিকটিম উদ্ধার ও পলাতক আসামি গ্রেফতার অভিযান কার্যক্রম চলমান থাকবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরণের তৎপরতা বাংলাদেশকে একটি অপরাধ মুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

  • নড়াইলে চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুইজন গ্রেফতার

    নড়াইলে চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুইজন গ্রেফতার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য মোঃ রুহুল শেখ ওরফে জীবন (৩০) ও মোঃ সোহাগ শেখ (৩০) নামের দুইজন চোরকে গ্রেফতার করেছে জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট (সিসিআইসি) ও নড়াইল সদর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ রুহুল শেখ ওরফে জীবন (৩০) ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার মোঃ দুলাল শেখের ছেলে এবং মোঃ সোহাগ শেখ (৩০) একই থানার পূর্ব গাঁড়াখোলা গ্রামের মোঃ আক্কাস শেখের ছেলে। নড়াইল সদর থানাধীন আলাদাতপুর সাকিনস্থ দুখুর দোকানের সামনে মোঃ কিবরিয়ার বাসার গেটের সামনে হতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান এর ব্যবহৃত পালসার লাল কালো রংয়ের ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল, যার রেজি নং-যশোর ল-১৫-৭৫৬২, ইঞ্জিন নং-DHYWHE-47964, চ্যাসিস নং MD2A1ICYRHWE99919 অজ্ঞাতনামা চোরেরা চুরি করে চম্পট দেয়। এ সংক্রান্তে নড়াইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি চুরির মামলা রুজু করা হয়। নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ মেহেদী হাসান’র নির্দেশে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার ও চোর গ্রেফতারে মাঠে নামে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা সিসিআইসি টিম। এরই ধারাবাহিকতায়। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল’) সকালে নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) সাইফুল ইসলাম ও জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট (সিসিআইসি) এর এসআই (নিঃ) মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে রাজবাড়ীর জেলা কারাগারের প্রধান গেইটের সামনে হতে আসামিদের গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের নিকট হতে চোরাই মোটরসাইকেল (যার রেজি নং-যশোর-ল-১৫-৭৫৬২) উদ্ধার পূর্বক বিধি মোতাবেক জব্দতালিকা মূলে জব্দ করে হেফাজতে গ্রহণ করেন। আসামিদেরকে বিজ্ঞ আদালতের সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ রুহুল শেখ ওরফে জীবন (৩০) এর নামে গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় ১৬ টি মামলা রয়েছে।

  • জাহাঙ্গীর আলমের গণসংযোগে জনতার ঢল

    জাহাঙ্গীর আলমের গণসংযোগে জনতার ঢল

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, আদর্শিক নেতৃত্ব, কর্মী-জনবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি
    ইমেজ সম্পন্ন, তরুণ, মেধাবী, জননন্দিত নেতা জাহাঙ্গীর আলমের প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিচ্ছে। তিনি বিপুল সংথ্যক নেতাকর্মী নিয়ে তার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে পথসভা, কর্মীসভা, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন।
    জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল বুধবার এবং ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌরসভা, পাকড়ি ও গোদাগাড়ী ইউনিয়নের (ইউপি) বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। এ সময় উপজেলা এবং পৌরসভা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল
    ইউনিটের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্যর শুরুতেই উপস্থিত নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার অজান্তেই তার বা তার সংগঠনের কারো আচরণে যদি কোনো মানুষ কষ্ট পেয়ে থাকেন
    তাহলে তাদের পক্ষ থেকে তিনি তাদের
    কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, আমি
    অপনাদেরই এলাকার সন্তান আমাকে ক্ষমা সুন্দর দৃস্টিতে দেখবেন এবং আমাকে আবারো নির্বাচিত করে জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ
    হাসিনা ও তার প্রতিনিধি এমপি ফারুক
    চৌধূরীর হাতকে শক্তিশালী করে এলাকার উন্নয়ন বুঝে নিবেন। তিনি বলেন, রাজনীতি থেকে তিনি কিছু নিতে আসেননি রাজনীতির মাধ্যমে উপজেলার মানুষকে কিছু
    দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাকে বিজয়ী করে
    নৌকাবিরোধীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে প্রমাণ করতে হবে অতীতে আওয়ামী লীগের বাইরে গিয়ে রাজনীতি করে কেউ সফল হতে পারেনি, বর্তমানেও হয়নি ভবিষ্যতেও হবে না।
    এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর
    আলমের গণসংযোগে দলমত
    নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের স্বঃঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আসলে এক জন রাজনৈতিক নেতা কি পরিমাণ কর্মী-জনবান্ধব ও জনপ্রিয় হলে গণসংযোগে সাধারণ মানুষের এমন ঢল নামে সেটা
    জাহাঙ্গীরের গণসংযোগ না দেখলে যে কারো পক্ষে বিশ্বাস করা কঠিন।
    আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতা এবং কর্মী-সমর্থকেরা জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে এসব প্রচার-
    প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশগ্রহণ করেন।

  • গোদাগাড়ীতে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী উদ্বোধন

    গোদাগাড়ীতে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী উদ্বোধন

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার সময় উপজেলা পরিষদ চত্তরে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০ টার সময় কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্বোধন করেন। প্রাণি সম্পদে ভরবো দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ এ নীতিব্যাক্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেনারি হাসপাতালের আয়োজনে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী ২০২৪ অনুষ্ঠিত এ সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজশাহী ১ আসনে সংসদ, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ব্যস্ত থাকার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেন নি।

    উপজেলা পরিষদ অডিটারিয়ামে গোদাগাড়ী প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক এবিএম কামরুজ্জামান বকুলের সঞ্চালনায়
    উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ২০২৪ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ডা. শায়লা শারমিন স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। রাজাবাড়ী গবাদিপশু উন্নয়ন খামারের উপ-পরিচালক ডা. ইসমাইল হক, রাজবাড়ী ছাগল উন্নয়ন খামারের ম্যানেজার ডা. সিরাজুল ইসলাম প্রমূখ।

    বক্তাগন বক্তব্যে বলেন, করোনা কালীন সময়ে খামারীদের কোটি কোটি টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। সরকার আদিবাসীদের উন্নতমানের বকনা দিয়েছেন, তারা ওই গাভী পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। প্রাণিসম্পদের বৃদ্ধি, দুধ উৎপাদন ৭ গুন, মাংশ উৎপাদন ৮ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে, মুরগি ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুন বেশী। খামারীগণ তাদের গবাদিপশু নিয়ে এসেছেন, প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী অনেক ভাল হয়েছে । এ প্রদর্শনীতে গবাদিপশু, পাখি, ঘোড়া, পশু খাবার, উন্নত ঘাস, ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের ৩৫ টি স্টল স্থান পেয়েছে। এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গবাদিপশু যেন বৃদ্ধি তার জন্য দূরদুরান্ত থেকে নিয়ে আসা গবাদিপশুর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পেরেছি। মানুষ গবাদিপশু পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। তাই জনগনকে আমরা সঠিক সেবা দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করচ্ছি। আপনারা সাংবাদিক সমাজের দর্পন, আমরা ভালকিছু করলে লিখবেন, খারাপ কিছু করলে অবশ্যই লিখবেন, আপনাদের লেখনী আমাদের উপকারে আসবে ইনশাল্লাহ।

    সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল ইসলাম বলেন,
    শিক্ষিত লোকজন গবাদিপশুর খামার করতে এগিয়ে আসছেন। এখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদে বিপ্লবে ঘটেছে। কিছু দিন আগেও ভারত থেকে গরু মহিষ আসতো এখন গবাদিপশুর ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় আর গবাদিপশু আনতে হয় না। কুরবানীর সময় চাহিদা অনুযায়ী খামারীগণ গবাদিপশু রেডি করেন। মাংশের চাহিদার বৃদ্ধির সাথে সাথে উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে আপনাদের মত খামারীদের জন্য। একদিন আপনাদের হাত ধরে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ইনসাল্লাহ।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • ব্রাকের “প্রবাস বন্ধু  ফোরাম ” সদস্যদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    ব্রাকের “প্রবাস বন্ধু ফোরাম ” সদস্যদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    এস মিজানুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি।। মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল থেকে দুই ব্যজে
    ব্রাকের “প্রবাস বন্ধু ফোরাম( প্রত্যাশা -০২) ” সদস্যদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ইম্প্রুভড সাসটেনেইবল রিইন্টেগ্রেশন অব বাংলাদেশী রির্টানি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-০২) প্রকল্পের প্রবাস বন্ধু ফোরামের ৫টি উপজেলার ১৫ সদস্য কমিটি প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করে। ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন ভূক্ত দেশ থেকে বিভিন্ন কারনে ফেরত বাংলাদেশীদের সহযোগিতা করা হবে। ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন আর্থিক সহযোগিতা এবং ব্রাক এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এজন্য “প্রবাস বন্ধু ফোরাম ” ব্রাককে সার্বিক সহযোগিতা করবে। বরিশাল জেলার বানারীপাড়া, আগৈলঝাড়া, বাকেরগঞ্জ, মুলদী এবং বরিশাল সদরের প্রবাস বন্ধু ফোরাম সদস্যরা অংশ নেন।প্রশিক্ষক ছিলেন দেবানন্দ মন্ডল, এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর, এস. এম. সুদিপ্ত শাহীন, সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সেলর, নাজনীন আক্তার নীপা, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার, বাকেরগঞ্জ এবং মোঃ রাকিব হোসেন, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার, বরিশাল সদর।#

    এস মিজানুল ইসলাম ।

  • খাগড়াছড়িতে য়াকবাকসা ক্লাবে কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

    খাগড়াছড়িতে য়াকবাকসা ক্লাবে কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

    রিপন ওঝা, বিশেষ প্রতিনিধি

    খাগড়াছড়ি সদর কুমারধনপাড়া য়াকবাকসা ক্লাব কর্তৃক আজ ১৮এপ্রিল-২৪ বৈসু ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার পুরস্কার বিতরণ এবং কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে।

    উক্ত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে ঐক্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রগতি মূলমন্ত্রে আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের পরিচয় প্রতিপাদ্য প্রধান অতিথি খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য মাচাং খোকনেশ্বর ত্রিপুরা উপস্থিতিতে ও য়াকবাকসা ক্লাবের সভাপতি মাচাং নিবারাই ত্রিপুরার সভাপতিত্ব করেন।

    আজকের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরা,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পরিমল ত্রিপুরা, অনন্ত কুমার ত্রিপুরা, তাপস কুমার ত্রিপুরা, খগেন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা
    ধনেশ্বর ত্রিপুরা সহ স্থানীয় জনগণ, কৃতি শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন

  • খাগড়াছড়িতে নদীতে ডুবে  সাদিয়া নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

    খাগড়াছড়িতে নদীতে ডুবে সাদিয়া নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

    মামা-মামী ও মামাতো ভাইবোনের সাথে চেংগী নদীতে গোসল করতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন সাদিয়া আক্তার (৯) নামের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী । সে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের শফিকুল ও রুবি আক্তারের মেয়ে।

    বৃহস্পতিবার (১৮’এপ্রিল) বেলা দেড়টার দিকে মোহাম্মদপুর এলাকার পাশে চেংগী নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা যায়, মামাতো ভাই ইমরান (১৩), মামাতো বোন সানজিদা ইসলাম (৬) ও মামা-মামীর সাথে সাদিয়া চেংগী নদীতে গোসল করতে গিয়ে মাছ ধরায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু সবার অজান্তে জমে থাকা পানির একটি বড় গর্তে সাদিয়া পড়ে যায়। সাদিয়াকে বাঁচাতে মামাতো ভাই-বোন দু’জনেও গর্তে পড়ে চিৎকার করতে থাকে। মামা শফিকুল দ্রুত ছুটে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করলেও সাদিয়া ও সানজিদাকে গুরুতর আহত অবস্থায় গ্রামবাসী মিলে পানছড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসে।

    জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.বিদুর্শী চাকমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষনা করেন। সানজিদাকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি দিলেও ইমরান পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • বরিশালের বাবুগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত – ৫

    বরিশালের বাবুগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত – ৫

    :কে এম সোহেব জুয়েল ঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা হতে কুয়াকাটাগামী এনা প‌রিবহন এর একটি যাত্রীবাহী বাস দূর্ঘটনা কবলিত হয়ে ৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বরিশালর্্যাব – ৮ এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    গতকাল ১৭ এপ্রিল বুধবার বেলা ৪ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা হতে কুয়াকাটার উদ্দেশ্য ছেরে আসা এনা প‌রিবহন ঢাকা মে‌ট্টো ব-১৫-৪৯০০ নম্বর সংযুক্ত যাত্রীবাহী বাস‌টি আনুমা‌নিক ১৫/২০ জন যাত্রী নি‌য়ে আসার সময় রহমতপুর এয়ার‌পোট মো‌ড়ে রাস্তার বাম পা‌র্শ্বে পুকু‌রে প‌ড়ে গিয়ে ঘটনা স্হানে ৪/৫ জন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হয় স্থানীয় লোকজন তা‌দের উদ্ধার করে শে‌রে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।