Blog

  • নোয়াখালীতে সেনবাগ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার উদ্দ্যোগে ২০০ (দুইশত) শীতার্তের মাঝে  শীতবস্ত্র বিতরণ

    নোয়াখালীতে সেনবাগ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার উদ্দ্যোগে ২০০ (দুইশত) শীতার্তের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

    রফিকুল ইসলাম সুমন (নোয়াখালী)
    নোয়াখালীর সেনবাগে অরাজনৈতিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন সেনবাগ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার উদ্দ্যোগে পৌর এলাকার ২০০ (দুইশত) শীতার্ত অসহায় নারী পুরুষের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ জানুয়ারী শনিবার সকাল ১০ টায় উপজেলার সেনবাগ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সৌদি প্রবাসী মহিউদ্দিন মহিন ও সংস্থাটির অনান্য প্রবাসী সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতায় ও সমাজসেবক শহিদুল্যাহ মিন্টুর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মালেক, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো,প্রবাসী কল্যান সংস্থার পরিচালক – সেচ্ছাসেবক মোজাম্মেল হোসেন, পরিচালক ও সেচ্ছাসেবক রফিকুল ইসলাম রবি, পরিচালক সাংবাদিক নুর হোসেন সুমন, পরিচালক সাংবাদিক মো: হারুন, পরিচালক সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হারুন, পরিচালক ওমর ফারুক, পরিচালক বাবলু মিয়া সহ অনেকেই।উল্লেখ্য সেনবাগ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা দীর্ঘদিন যাবত সেনবাগের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন,হতদরিদ্রদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন।

  • মুন্সীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান সুমন হত্যা মামলা পূন: তদন্তে প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

    মুন্সীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান সুমন হত্যা মামলা পূন: তদন্তে প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

    লিটন মাহমুদ।।
    মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :

    মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগিবাড়ি উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন হালদারকে (৪৫) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি পূন তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এই মামলায় ভূক্তভোগীরা। শুক্রবার বিকালে পাঁচগাঁও ইউনিয়নের মিলন চেয়ারম্যানের পুরান বাড়ির আঙ্গিনায় সংবাদ সম্মেলন করে নিহত ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন হালদারের চাচা মো. জাহানুর রহমান সওদাগর। তিনি সমুন হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামী। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে এইচ এম সুমন হালদারের চাচা মো. জাহানুর রহমান সওদাগর বলেন ২০২৪ সালে ৭ জুলাই সুমন হালদারকে  প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আমি জড়িত না আমার ভাইয়েরাও জড়িত না। তার পরও আমার ও আমার ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কে বা করা হত্যা করেছে তাও আমি জানি না। আমরা ঘটনাটি শুনেছি। যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে সিসি ফুটেজ রয়েছে ঘটনার সময় আমি বা যাদের জড়ানো হয়েছে কেউই ছিলো না। পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সুমন হালদার দূর্বৃত্তদের হতে নিহত হওয়ার কিছু দিন পর  ১৪ জুলাই আমার একটি বাড়ি ও আমার ভাইয়ের একটি  বাড়ি  জ¦ালিয়ে দেয় প্রয়াত চেয়ারম্যান সুমন হালদারের সমর্থক ডিপজল মোল্লা,রাজিব,ইমন,সোহেল,আর্দশ,বিপুল সহ আরো ২০ থেকে ৩০জন। এতে আমার প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষয় ক্ষতি হয়। এঘটনায় আমি টংগিবাড়ি থানায় মামলা দিতে গেলে সে সময়কার কর্তব্যরত ওসি আমার মামলাটি গ্রহন করেননি। পরে আমি কোর্টে গিয়ে মামলা করি। আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ভাবে এই মামলাটি সাজানো হয়েছে। এই মামলায় আমাকে ছাড়াও আমার ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলানুর রহমান মিলন, মো. সেকিনুরকে জড়ানো হয়।বর্তমানে সুমন হালদার হত্যা মামলায় আমরা সবাই জামিনে আছি। প্রয়াত চেয়ারম্যান সুমন হালদারের কতিপয় সমর্থক এখন আমাকে আমার গ্রামের বাড়ি আসতে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বিষয়টি আমি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছি। আমি সহ আমার ভাইদের ও আমাদের পরিবারের লোকজনকে হুমকি দিচ্ছে। আমি পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন হালদার হত্যার ঘটনার সুষ্ট তদন্ত দাবী করছি এঘটনায় প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি। পাশাপশি আমাকে ও আমার দুই ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলানুর রহমান মিলন, মো. সেকিনুর নামে যে মিথ্যা মামলাটি দায়ের হয়েছে তা সঠিক তদন্ত করে মামলার আসামী থেকে নাম প্রত্যাহার করার জোর দাবী জানাচ্ছি। আমাদের সাথে ভাতিজা প্রয়াত চেয়ারম্যান সুমনের সাথে কোন দ্বন্দ্ব ছিলো না একটি মহল সুমন হত্যা কান্ডে আমাদের জড়িয়েছে। আমি আর আমার ভাইয়েরা সে সময় আওয়ামীলীগের রাজনীতির প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে মিথ্যা মামলায় আসামী হয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা  মিলানুর রহমান মিলন, কামরুল ইসলাম,হাজি মো.খাকিনুর হাওলাদার,মো. সকিনুর ,লিটন হাওলাদার,হামিদ হাওলাদারসহ তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ।    
     
    প্রসঙ্গত, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন হালদারকে (৪৫) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রোববার বেলা পৌনে একটার দিকে ইউনিয়নের পাঁচগাঁও আলহাজ ওয়াহেদ আলী দেওয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের আঙিনায়। বিদ্যালয়টির
    ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে বলে  জানায় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিহত চেয়ারম্যান সুমন হালদার পাঁচগাঁও গ্রামের প্রয়াত পিয়ার হোসেন হালদারের ছেলে। তিনি ২০২৩ সালের মার্চে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন তিনি।

  • নোয়াখালীতে ভলান্টিয়ার ফর সেনবাগের শীতবস্ত্র বিতরণ ও নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা

    নোয়াখালীতে ভলান্টিয়ার ফর সেনবাগের শীতবস্ত্র বিতরণ ও নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা

    :
    রফিকুল ইসলাম সুমন (নোয়াখালী)

    নোয়াখালীর সেনবাগে অরাজনৈতিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টিয়ার ফর সেনবাগের উদ্দ্যোগে দেড় শতাধিক হতদরিদ্রের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ ও নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ জানুয়ারী শনিবার বিকেলে ভলান্টিয়ার ফর সেনবাগের নব-নির্বাচিত সভাপতি মনির আহমেদ জুলেটের সঞ্চালনায় ও প্রতিষ্ঠাতা উদ্দ্যোক্তা ফখরুল ইসলাম টিপুর সভাপতিত্বে
    আয়োজিত অনুষ্ঠানে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
    বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ আজিজুর রহমান মিশু।এসময় উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফাহিম, সদস্য মোহাম্মদ উল্ল্যাহ জহির, শহীদ, কাউসার, মোঃ শামসুল ইসলাম টিপু, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান,আবু শাকের সুমন, মোহাম্মদ আলমগীর মির্জা,মোশারফ হোসেন ও জীবন সহ আরো অনেকেই।অনুষ্ঠানে সেনবাগ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের দেড়শতাধিক অসহায় নারী পুরুষের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়।

  • নিত্যপণ্যের উপর নতুন অতিরিক্ত ভ্যাট ট্যাক্সের প্রতিবাদে ইনসানিয়াত বিপ্লবের সংবাদ সম্মেলন

    নিত্যপণ্যের উপর নতুন অতিরিক্ত ভ্যাট ট্যাক্সের প্রতিবাদে ইনসানিয়াত বিপ্লবের সংবাদ সম্মেলন

    মোঃ শহিদুল ইসলাম
    বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    নতুন অতিরিক্ত ভ্যাট ট্যাক্স জনজীবনে চলমান আর্থ-সামাজিক সংকট আরো ভয়াবহ করবে ।

    নিত্যপাণ্যের উপর নতুন করে অতিরিক্ত ভ্যাট ট্যাক্স আরোপের প্রতিবাদে ও প্রত্যাহারের দাবীতে ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ এর উদ্যোগে আজ শনিবার ১৮ই জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    ইনসানিয়াত বিপ্লবের ঢাকা গুলশানস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন,ইনসানিয়াত বিপ্লবের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত।

    নিত্যপণ্যের উপর নতুন করে ভ্যাট ও ট্যাক্স আরোপের প্রতিবাদে ও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় উর্ধগতি ও নজিরবিহীন মূল্যস্ফীতির মধ্যে জনজীবনে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে নতুন করে ভ্যাট আরোপ প্রতিটি পরিবার ভয়াবহ সংকটে পড়বে।

    অর্থবছরের মধ্যপথে নতুন করে ভোগ্যপণ্যের উপর অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপ অন্তবর্তী সরকারের দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা ও অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ এবং জনগণের উপর বিবেকহীন জুলুম বলে আল্লামা ইমাম হায়াত উল্লেখ করেন ।

    ধর্মের নামে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষার বিপরীত অধর্ম উগ্রবাদের পক্ষপাতদুষ্ট অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক দেশবিরোধী চরিত্রের কারণে দেশ সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় সকল দিকে মারাত্মক ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে উল্লেখ করে ইনসানিয়াত বিপ্লবের চেয়ারম্যান বলেন,ক্ষমতাসীনদের প্রতিহিংসামূলক জনবিরোধী পদক্ষেপের কারণে শত শত কলকারখানা শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে লক্ষ লক্ষ কর্মজীবী চাকরিচ্যুত হয়ে লক্ষ লক্ষ পরিবার মারাত্মক ধ্বংসের মধ্যে পড়ে গেছে ।

    ক্ষমতাসীনদের অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও দেশবিরোধী কার্যকলাপে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি এবং জনজীবনে চরম নিরাপত্তাহানিকর আতঙ্কজনক পরিস্থিতির কারণে দেশে বিনিয়োগ, উৎপাদন, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বন্ধ হয়ে গেছে উল্লেখ করে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, নতুন করে অতিরিক্ত ভ্যাট ট্যাক্স বৃদ্ধি প্রতিটি পণ্যের দাম আরো বৃদ্ধি পাবে এবং চুরি ডাকাতি লুটতরাজ অরাজকতা নিরাপত্তাহীনতা,আরো ভয়ংকর আকার ধারণ করবে।

    সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নিষ্ক্রিয় পুলিশের সামনেই ক্ষমতাসীন সমন্বয়ক চক্রের অংশ রাজাকার জামাত-শিবির জঙ্গিবাদের হিংস্র পাশবিক হামলাকে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদি সন্ত্রাস বলে ইনসানিয়াত বিপ্লবের চেয়ারম্যান তীব্র নিন্দা জানান।

    সকল স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদি জঙ্গিবাদি একক গোষ্ঠীবাদি সন্ত্রাসবাদি স্বৈররাজনীতির ধ্বংসাত্মক গ্রাস থেকে,জীবন-দেশ-ধর্ম-গণতন্ত্র-মানবাধিকার ও জননিরাপত্তা রক্ষায় জনগণকে মানবতার রাজনীতির ভিত্তিতে মানবতার
    রাষ্ট্রের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আল্লামা ইমাম হায়াত।

  • মাঠে মাঠে হলদে ফুলের চাদরে ঢাকা,  বরেন্ত্র অঞ্চলে সরিষার  কম আবাদ  হলেও  বাস্পার ফলন আশা করছেন কৃষক

    মাঠে মাঠে হলদে ফুলের চাদরে ঢাকা, বরেন্ত্র অঞ্চলে সরিষার কম আবাদ হলেও বাস্পার ফলন আশা করছেন কৃষক

    রাজশাহী থেকে মো. হায়দার আলী: রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ফসলের মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ছেঁয়ে গেছে। অগ্রহায়ণের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষকেরা । এক সাথে ফোটা ফল গুলো রোদ ঝলমল আলোয় প্রকৃতির মাঝে অপরুপ সৌন্দর্যর শোভা ছড়াচ্ছে। আর তা দেখতে ভীড় করছেন প্রকৃতি প্রেমীরা ।

    কৃষকরা আগে এসব জমিতে শুধু ইরি-বোরো এক ফসলী আবাদ করে হাজার হাজার হেক্টর জমি পতিত রাখত। কালের বিবর্তনের সাথে সাথে এ অঞ্চলের কৃষকদেরও কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটেছে।

    তারা বিগত দু, যুগ ধরে ইরি-বোরো, আমন, টমেটো করোলা. লাউ, পটল, শীম, ভূট্টা, তরমুজ আবাদের পাশাপাশি সরিষার আবাদেও ঝুঁকেছে। তাই এখন সরিষার হলুদ ফুলে ফুলে ঢাকা বরেন্দ্র অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠ।

    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলানসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে চলতি রবি মৌসুমে সরিষা আবাদ কম হয়েছে। । এবছর ৭৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। তবে আবাদ করা হচ্ছে ৬৫ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে। গেল বছর তেলবীজ জাতীয় ফসলটি আবাদ হয়েছিল ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে।

    রাজশাহী কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে, চাষের জমি কমলেও উৎপাদনে খুব একটা প্রভাব পড়বে না। এখন পর্যন্ত ছত্রাক বা রোগবালাই না থাকায় এবার উচ্চ ফলন পাওয়া যাবে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৬০ টন। এ বছর ফলন ৬০ হাজার টন উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সরিষা চাষে জমির উর্বরতা বাড়ে। প্রতি বিঘা জমি থেকে চলতি মৌসুমে গড়ে ছয়-সাত মণ সরিষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বীজ বপন থেকে ৭০-৭৫ দিনে ফসলটিতে তেমন সেচ দিতে হয় না। বপনের সময় মাটির নিচে সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার দিলেই চলে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে কম খরচ, কম শ্রম ও দ্রুত ফলন পাওয়া যায়। এ কারণে চাষিরা লাভ বেশি পান। ভোজ্যতেল হিসেবে সরিষার চাহিদা থাকলেও চলতি বছর চাষের জমি কমেছে।

    রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ ৯টি উপজেলায় সরিষার চাষ করা হচ্ছে। আমন ধান কাটার পর উপজেলার কৃষকরা বোরো মৌসুমের আগেই সরিষা চাষ করেছেন। চলতি বছর বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭, বিনা-৯, বিনা-৪, টরি-৭ জাতের সরিষা চাষ করেছেন তারা।

    সরেজমিন গোদাগাড়ী উপজেলার কমলাপুর, ভাজনপুর, রেলগেট বিল, বিলপাতিকলা, দুর্গাদহ বিল, রেলগেট বিল, সুশাডাং, বোগদামারী, কালিদীঘিসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে পুরো মাঠ। ভোরের কুয়াশা, সকালের মিষ্টি রোদ কিংবা বিকেলের শীতের স্নিগ্ধতার মধ্যে দিগন্তজোড়া হলুদ সরিষা ফুল এক অন্য রকম সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলছে মাঠে মাঠে। কোথাও কোথাও সরিষাখেতে মৌ-বক্স বসিয়ে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহের কাজ চলছে।

    গোদাগাড়ীর বালিয়াঘাট্টা গ্রামের চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই তিনি চার বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেন। এবার কৃষি কর্মকর্তারা আরও বেশি জমিতে চাষ করার পরামর্শ দেন। গত বছর ভালো লাভ হওয়ায় তিনি রাজি হয়ে যান। এবার চাষ করেছেন সাত বিঘা জমিতে। এই জমি থেকে ইতোমধ্যে দুই হাজার টাকার শাক বিক্রি করেছেন তিনি।

    চব্বিশনগর গ্রামের আব্দুল লতিফ মাষ্টার জানান, এবার তিনি নয় বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। গত বছর তিনি প্রতি বিঘায় সাত-নয় মণ ফলন পেয়েছিলেন। প্রতি মণ সরিষা শুরুতে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি করেছিলেন। এবারো তেমনটিই আশা করছেন।

    চাষী আব্দুল মাতিন জানান, সরিষা চাষে বিঘাপ্রতি খরচ ৫-৬ হাজার টাকা। চাষের ৭০-৭৫ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। গত বছর সরিষা বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। বাজারে এখনো ভালো মানের সরিষা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকা। কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন।

    রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার উচ্চ ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এবার চাষের জমি কমেছে। প্রতি হেক্টরে ফলন ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৬ টন। সে হিসাবে চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৭৫ হাজার টন সরিষা উৎপাদন হতে পারে।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • রাজশাহীতে গ্রেপ্তার ৩ ভূয়া সমন্বয়ক কারাগারে

    রাজশাহীতে গ্রেপ্তার ৩ ভূয়া সমন্বয়ক কারাগারে

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পরিত্যক্ত বাড়িতে এক কলেজছাত্রকে আটকে রেখে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগের তিনজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ নগরের উপশহরের এই পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে কলেজছাত্রকে উদ্ধারের পর তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা তিনজনই ছাত্র।

    এ ঘটনায় রাতেই বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মেহেদী মাসুদ।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, রাজশাহী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাদত হোসেন (২৫), বাংলাদেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম (২২) ও শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাহাসান হোসেন আকাশ (২১)। এদের মধ্যে শাহাদাতের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। অন্য দুজনের বাড়ি নাটোর সদরে।

    আর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ফাহিম হোসেন জীম (১৭)। তিনি রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

    ফাহিম হোসেন জীম বলেন, ‘আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার পদত্যাগ পর্যন্ত আমি আন্দোলনে ছিলাম। কিছুদিন ধরে আমাকে বার বার কল করা হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল, আমি নাকি ছাত্রলীগ করি। আমি নগর ভবনের সামনে ছিলাম। সেখান থেকে আমাকে তুলে আনা হয়েছে। আনার পরে মারধর করে। বলে, আমার সঙ্গে নাকি ছাত্রলীগের যোগাযোগ আছে। তারা আমার কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে আমি আমার দুজন বন্ধুকে ডাকলাম। আমার বন্ধুরা এসে লোকজন ডেকে আমাকে উদ্ধার করে।’

    জীমকে উদ্ধারে গিয়েছিলেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান কাফি। তিনি বলেন, ‘আমরা গিয়ে দেখি, ওই ছাত্রকে গ্যারেজে অন্ধকারের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। আমি ওই তিনজনের পরিচয় জানতে চাই। তখন তারা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দেয়। বলে, ওপরের নির্দেশ আছে এই ছেলেকে ধরার জন্য। তার বন্ধু ছাত্রলীগ করে। একে ধরলে তার বন্ধুকে পাওয়া যাবে। আমি তাদের কাছে ওপরের নির্দেশটিই দেখতে চাই। কিন্তু তারা কোনো নির্দেশনা দেখাতে পারেনি। এরই মধ্যে পুলিশ চলে আসে। পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।’

    কাফি আরও বলেন, ‘এরা যে ছেলেটিকে ধরে আনে সে ছাত্রলীগ না। মোবাইলে ছবি দেখলাম সে নিজেই আন্দোলনে ছিল। ছেলেটির কাছে প্রথমে দেড় লাখ এবং পরে এক লাখ টাকা দাবি করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই তিনজন নিজেদের তাহাস নূর নামে একজনের লোক বলে পরিচয় দেয়। তাহাস ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে নগর ভবন পাহারার দায়িত্বে ছিলেন।’

    তাহাস নূর রাজশাহী কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি। ওই তিনজন আন্দোলনের সময় আমার সাথে ছিল। আমরা একসঙ্গে নগর ভবন পাহারা দিয়েছি। তারা আমাকে জানায় যে, তারা একজন ছাত্রলীগকে ধরেছে। আমি তাকে পুলিশে দেওয়ার জন্য বলেছিলাম। পরে কী হয়েছে সেটা আমি বলতে পারব না।’

    বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মেহেদী মাসুদ বলেন, ‘সমন্বয়ক পরিচয়ে এক কলেজছাত্রকে সাবেক মেয়রের পরিত্যক্ত বাসায় আটকে রাখার খবর পেয়ে সেখানে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করে এবং তিনজনকে থানায় নিয়ে আসে। থানায় জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তিপন দাবির কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি ফাহিম হোসেন জীম থানায় মামলা করেছে। সে মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • দোয়ারাবাজার সীমান্তে ভারতীয় দুই নাগরিক আটক

    দোয়ারাবাজার সীমান্তে ভারতীয় দুই নাগরিক আটক

    দোয়ারাবাজার (সুনামঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের বাংলাবাজার সীমান্তে দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
    শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার মৌলারপাড় এলাকা থেকে টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করেন।

    আটককৃতরা হলেন- ভারতের শিলংয়ের ইস্ট খাসিয়া হিল জেলার সাইগ্রাম থানার ডালিয়াবস্তি গ্রামের ভূপেন্দ গারোর দুই ছেলে মালুছ গারো ও করল গারো। সম্পর্কে তারা আপন দুই ভাই।

    বিজিবি-৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় দুই নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তারা দুই ভাই বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আটকৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কাজ চলছে।

  • পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ভুয়া ডিবি চক্রের দুই সদস্য আটক

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ভুয়া ডিবি চক্রের দুই সদস্য আটক

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ভুয়া ডিবি পুলিশ চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয়রা।

    শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় করতোয়া সেতুর পশ্চিম পাড়ে এশিয়ান হাইওয়েতে এ ঘটনা ঘটে।

    এ সময় ভুক্তভোগী ও ফরিদপুর থেকে ব্যবসায়িক কাজে আসা খন্দকার অহিদুর রহমান ও তার ছেলে খন্দকার রিফাত রহমানকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

    ডিবি পরিচয় দেওয়া আটক দুই ব্যক্তি হলেন- ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া গোপালপুর এলাকার নুর আলমের ছেলে রেজাউল ইসলাম ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ডাকেশ্বরী এলাকার আজিজুল হকের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম।

    ভুক্তভোগী দুইজন জানান, ফরিদপুর সদরের কানাইপুর বাজারে তাদের ওয়ার্কশপ আছে। যেখানে জুট মিলের পুরনো যন্ত্রাংশ নিয়ে সেগুলো মেরামত করে পুনরায় বিক্রি করা হয়। ঠাকুরগাঁওয়ে নিরাব আলী নামে এক ব্যক্তির জুট মিলের পুরনো যন্ত্রাংশ বিক্রি হবে জানিয়ে অহিদুর রহমানকে ঠাকুরগাঁওয়ে আসতে বলেন। পরে অহিদুর ও তার ছেলে রিফাত গত মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ে এসে একটি আবাসিক হোটেলে উঠেন। আসার পর তাদের বলা হয় যিনি যন্ত্রাংশ বিক্রি করবেন তিনি ঢাকায় গেছেন। তাই শুক্রবার পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে। এ কথা শুনে হোটেলে নিজেদের জিনিসপত্র রেখে তারা ফরিদপুরে ফিরে যান। বৃহস্পতিবার ফরিদপুর থেকে রওনা হয়ে শুক্রবার সকাল ৭টায় ঠাকুরগাঁওয়ে নামেন বাবা-ছেলে। এরপর প্রথমে হোটেলে কিছুক্ষণের জন্য গিয়ে পরে ইরাব আলীর সাথে বের হন পুরনো যন্ত্রাংশ দেখবেন বলে। ঠাকুরগাঁও বাইপাস সড়ক হয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ করে চারজন ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে তাদের পথরোধ করেন। এরপর সাথে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর বাবা-ছেলেকে হাতকড়া পরায়। এ সময় তাদের দুইটি স্মার্টফোনও নিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। পরে হাতকড়া খুলে দুইটি মোটরসাইকেলে তাদের তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু থানায় না নিয়ে ভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে বাবা-ছেলের হাতে ডলার ও ইয়াবা দিয়ে ছবি তোলেন তারা। পরে কোথাও অভিযোগ না দেওয়ার শর্তে তাদের দেবীগঞ্জে নামিয়ে দিতে আসে। কিন্তু দেবীগঞ্জে নামিয়ে দেওয়ার সময় অহিদুরের ছেলে রিফাত কৌশলে একটি মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় দুইজন পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। এ সময় মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

    দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সোয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যেহেতু ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনা তাই সেখানে মামলা হবে। আমরা কথা বলেছি সেখানে।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

    গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে সিসিবিভিও-রাজশাহী ও রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সহযোগিতায়, বন্ধু আমরা সংগঠনের আয়োজনে গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ফার্সাপাড়া রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের সমাজ গৃহ প্রাঙ্গণ ও সিসিবিভিও শাখা কার্যালয় কাকনহাটে বয়োজ্যৈষ্ঠ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শীতার্তদের মধ্যে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

    শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন “বন্ধু আমরা” সংগঠনের মাহফুজুল ইসলাম লিটন, নাসিমা জাহান নীরু, শফিকুল ইসলাম শিবলী, খালেদা হোসেন, আরিফ কামাল ইথার, বাবুল ইসলাম, ইসমত আরা লাকী, মিজানুর রহমান রিপন।

    এছাড়াও সিসিবিভিওর প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, নিরাবুল ইসলাম, পৌল টুডু, সবিতা রানী, ইমরুল সাদাত, সুদক্ষন টপ্প্য, কাথারিনা হাঁসদা, রঞ্জিত সাওরীয়া, রাজকুমার রাজেয়াড়।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • পুলিশ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করছে একটি সুবিধাবাদী মহল

    পুলিশ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করছে একটি সুবিধাবাদী মহল

    হেলাল শেখ: বাংলাদেশ পুলিশ ও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করছে একটি সুবিধাবাদী  মহল। পুলিশ অফিসার ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ মানবাধিকার কর্মীদের অভিমত দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।

    বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাব’ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ) বলেন, পুলিশ কাউকে আটক বা গ্রেফতার করলেই তখন সেই পুলিশ সদস্যকে খারাপ বলা হয় আর সাংবাদিক কারো পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচার প্রচারণায় সংবাদ প্রকাশ করলেই সেই সাংবাদিক ভালো না। দুর্নীতিবাজদের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা, রাজনৈতিক সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার কারণে বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করছে, সেই সাথে অনেক সাংবাদিকের উপর হামলা মামলা করছে একটি মহল। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা হলে তা মেনে নেয়া যায় না। তিনি আরো বলেন, “সাংবাদিকদের অসম্মান করার অধিকার কারো নেই” যারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন বিভিন্ন মিডিয়ায় তাদের কোনো ভয় নাই। কোনো প্রকৃত সাংবাদিক কারো বিরুদ্ধে বদনাম বা অপপ্রচার করে না।

     বিশেষ করে যারা মানুষের ভালো কিছু করা দেখতে পারে না, দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে, মানুষের বদনাম ছড়ায় তাদেরকে শনাক্ত করে আটক করার পর আইনের আওতায় আনা দাবী জানান সচেতন মহল। কলম সৈনিকরা কখনো কারো মিথ্যা সংবাদ লিখে প্রকাশ করেন না। যারা কলম হাতে নিয়ে মিথ্যা কোনকিছু লিখে তা অপপ্রচার করে তারা দেশ ও জাতির শক্র। অপরাধী সে যেইহোক না কেন তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হোক বলে অভিমত প্রকাশ করেন সাংবাদিক নেতারা। পুলিশ বা সাংবাদিকরা বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৬৪ দিন ভালো কাজ করে আর ১দিন যদি একটা ছোট ভুল করেন তখন তাদেরকে গালি দিয়ে বলা হয় খারাপ। অনেকেই নিজেদের বড় মনে করেন, নিজেদের স্বার্থের জন্য শক্রতা সৃষ্টি করেন আর একজন অন্যজনের ক্ষয়ক্ষতি করার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন এটা ঠিক নয়। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার মধ্যে আনন্দ আছে। আমাদের লেখার মধ্যে বা দায়িত্ব পালনে ভুল হতে পারে এরজন্য হামলা, মামলার শিকার হতে হবে কেন।

    সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার আদর্শলিপি পড়া দরকার। বিশেষ করে “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিক দেশ ও জাতির বিবেক, ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন,বিশেষ সম্মান অর্জন করার জন্য কিন্তু সম্মান অর্জন না হয়ে আরও বদনাম হয় কেন। শুধুমাত্র মানুষের সুখ, দুঃখ, আনন্দ বেদনা, দুর্ঘটনাসহ সকল বিষয়ে জাতির কাছে তুলে ধরতে সাংবাদিকরা কাজ করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের অবশ্যই চোখ কান খোলা রেখে কাজ করতে হয়।

    সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেও কারো মন জয় করতে পারেন না। ছোট একটি ভুল করলেই সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা করা হয়, এমনকি হত্যার শিকার হতে হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবাইকে বলা হয় সাংবাদিকদের সহযোগিতা করবেন কিন্তু তার উল্টো দেখা যায়, পুলিশ সাংবাদিক কি কখনো বন্ধু হতে পেরেছেন? কেউ কি খবর নিয়েছেন যে, সাংবাদিকরা কেমন আছেন? কোনো সহযোগিতা লাগবে কি না?। সাংবাদিকরাই আজকাল মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জনগণের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকেন সাংবাদিকরা, এর বিনিময়ে কি পাচ্ছেন? নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অনেক সাংবাদিক, হয়রানিমূলক মামলার শিকার হচ্ছেন অনেকেই, যার কোনো হিসাব নেই। পুলিশের অস্ত্র ও পোষাক দেখে অপরাধীরা ভয় পেয়ে থাকে কিন্তু সাংবাদিকের উপর হামলা করতে কেউ ভয় করে না।  

    বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৮কোটি জনগণ, সেই তুলনায় আইনশৃঙ্খা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকের সংখ্যা অনেক কম। ধন্যবাদ জানাই তাদেরকে যারা মানুষের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। পুলিশ, সাংবাদিক, আইনজীবি এই ৩টি শব্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলো “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিক”। বিশেষ করে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি’র বেশিরভাগ শব্দ আছে যা সাংবাদিকদের জন্য জানা অতি জরুরি-যেমনঃ সংবাদের উৎসহের মত সংবাদের উপাদান কি? মানুষ এবং প্রকৃতি, মানুষের আশা-আকাঙ্খা, আনন্দ, বেদনা, সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনাই সংবাদের মূল প্রতিপাদ্য। এর সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয়ই সংবাদের উপাদান। যেমনঃ কুকুর যদি মানুষকে কামড়ায় তা কোনো সংবাদ নয়, আর মানুষ যদি কুকুরকে কামড়ায় বা অপ্রত্যাশিত আর কিছু অপকর্ম করলে তা সংবাদ হয়। নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটনা, অন্যায় অবিচার, যা মানুষের অধিকারকে হরণ করে, এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন, মানবাধিকার লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সাংবাদিকদের তথ্য জানার অধিকার আছে, তবে কারো সাথে বিবাদ বা শক্রতা করে সাংবাদিকতায় সাফল্য আসতে পারে না। সাংবাদিকরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, এতে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা সহজ হবে বলে অনেকেরই অভিমত। সাংবাদিক নেতারা অনেকেই জানান, সাংবাদিক শব্দ ছোট হলেও এটি একটি মহান পেশা। সাংবাদিকতা অনেক সম্মানজনক, তবে প্রকৃত সাংবাদিক হতে হলে অবশ্যই সাংবাদিককে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি পড়তে হবে, সেই সাথে সর্বশেষ সংশোধনীসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ম্যানুয়েল বই এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বইসহ বেশি বেশি বই পড়তে হবে। অনেকেই জানেন না যে, ১/ সাংবাদিক মানে জাতির বিবেক। ২/ সাংবাদিক মানে দেশ প্রেমিক। ৩/ সাংবাদিক মানে কলম সৈনিক। ৪/ সাংবাদিক মানে জাতির দর্পণ। ৫/সাংবাদিক মানে জাতির সেবক। ৬/সাংবাদিক মানে শিক্ষিত জাতি। ৭/সাংবাদিক মানে স্বাধীনভাবে কাজ করা। ৮/সাংবাদিক মানে সম্মানিত জাতি। ৯/ সাংবাদিক মানে তদন্তকারী। ১০/ সাংবাদিক মানে আইন বিষয়ে জানা। ১১/ সাংবাদিক মানে সিস্টেম পরিবর্তন করা। ১২/ সাংবাদিক মানে সকল বিষয়ে জানা।

     তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে আঙ্গল দিয়ে দুই লাইন লিখে পোস্ট করলেই সাংবাদিক হওয়া যায় না, বর্তমানে ফেসবুক লেখক ও সাংবাদিকরা কিছু নেতাদের ফেসবুক নেতায় পরিণত করেছে যা জাতির জন্য খুবই লজ্জাজনক। দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পেলেও সাংবাদিকরা কিন্তু কোনো প্রকার সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ৫ আগষ্ট ২০২৪ইং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন, ছাত্র-জনতার উপর হামলা ও গুলি করে হত্যা ও মানুষের লাশ পোড়ানো মামলায় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, কিছু বিএনপি’র নেতাকর্মী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের নাম দিয়ে ফায়দা নিচ্ছে একটি চক্র। কিছু পুলিশ সদস্যও আসামী হয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। শুধু জামায়াতে ইসলামের কেউ মামলার আসামী হয়নি এবং তাদের কেউ গ্রেফতার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ঢাকার আশুলিয়ায় সায়েব আলী ও আব্দুল জলিলসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী বিএনপি সেজে ভুয়া বাদী হয়ে একাধিক মামলা করে অনেক মানুষকে হয়রানি করার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বিএনপির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশ গিয়েছেন, আর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন পলাতক রয়েছেন, সবমিলে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাদের পরিবারের কেউ দেশে নেই, ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ইং পর্যন্ত দেশের ভিতরে বাইরে অনেক ঘটনা ঘটছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে চেয়ে আছেন পুরো ১৮ কোটি জনগণ। যতদিন যাচ্ছে ততই পরিস্থিতি একরকম খারাপ ও জটিলতা বাড়ছে, অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেন যে, দেশের পুলিশ ও সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির জন্য কি করছেন, তাদেরকে বুঝতে হবে এক দুইজন ভুল করছে তাদের দায় অন্যরা নিবে কেন জাতি জানতে চায়। বিশেষ করে সাংবাদিক ও পুলিশ মাঠে না থাকলে কি হয় তা সবাই জানেন কিন্তু স্বীকার করতে লজ্জা লাগে তাইতো?।