Blog

  • প্রকাশিত সাংবাদের ভিন্নমত

    প্রকাশিত সাংবাদের ভিন্নমত

    আব্দুল আউয়াল,
    বানারীপাড়া প্রতিনিধি।

    গত ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের শিরোনামে আমি সঞ্জয় দেবনাথ আমার বন্ধন সঞ্চয় সমিতির গ্রাহকদের টাকা নিয়ে অন্যরকম সংবাদ প্রকাশ করে যার আমি ভিন্নমত প্রকাশ করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

    আমি সঞ্জয় দেবনাথ বিগত ৯ বছর যাবৎ সম্মানের সাথে সমিতির কাজ কর্ম পরিচালনা করে আসছি। বিগত করোনা ভাইরাস কোভিড ১৯ এর সময় আমার বন্ধন সঞ্চয় সমিতি বানারীপাড়াতে এক নজির স্থাপন করেছে তা সবারই দৃষ্টি গোচড় হয়েছে। তখনকার সময়ে কয়েক বছরে বানারীপাড়ায় অন্য এলাকা থেকে আসা অসংখ্য সমিতি গ্রাহকের টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমি খুব শীঘ্রই সকল গ্রাহকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং গ্রাহকরা যাতে তাদের পাওনা টাকা তাড়াতাড়ি পায় তার জন্য আমি নিজেই পদক্ষেপ গ্রহন করেছি। এজন্য আমি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

  • জীবননগরে পুরাতন মোটরসাইকেলের হাট উদ্বোধন

    জীবননগরে পুরাতন মোটরসাইকেলের হাট উদ্বোধন

    আল আমিন মোল্লা 

    জীবননগর ব্যুরো প্রধান।

    শনিবার (২৫ জানুয়ারি)  বেলা ১১টার দিকে

     জীবননগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের পাশে

     মনোহরপুর বটতলায় এই হাটের উদ্বোধন করা হয়।

     

    এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে হাটের উদ্বোধন করেন 

    জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন। 

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন

     জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর,

     সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু,

     জীবননগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন ময়েন। 

    জীবননগর পুরাতন মোটরসাইকেল 

     হাট পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন

     জীবননগর পৌর যুবদলেন যুগ্ম আহ্বায়ক 

    মোঃ আজমত আলী ও সাইফুল ইসলাম 

    জীবননগর পুরোতন মোটরসাইকেল 

     হাটে মোটরসাইকেল যদি বিক্রি হয়

     তাহলে ক্রেতাকে ৫০০ টাকা  এবং

     বিক্রেতাকে ৫০০ টাকা হাট কর্তৃপক্ষেকে দিতে হবে।

     তবে বিক্রি না হলে কোনো প্রকার টাকা দেওয়া লাগবে না। আমরা হাটে  আনা

     সকল মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই করে তারপর হাটে ঢুকবে। এখানে কোনো দুই নাম্বারি  গাড়ি হাটে বিক্রয় করতে পারবে না।

     ক্রেতা-বিক্রেতাদের আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্ত দেব এবং সর্বপ্রকার সহযোগিতা করব।

  • মেডিকেলে চান্স পাওয়া তামান্নার দায়িত্ব নিলেন ভিপি নুরুল হক নুর

    মেডিকেলে চান্স পাওয়া তামান্নার দায়িত্ব নিলেন ভিপি নুরুল হক নুর

    মুহাম্মদ মুনতাসীর মামুন, গলাচিপা উপজেলা প্রতিনিধি :

    পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলাধীন গোলখালী ইউনিয়নের বড় গাবুয়া গ্রামের মেয়ে তামান্না আক্তার পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে।
    আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে তার মেডিকেল এ পড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ার একটি সংবাদ প্রচার হওয়ায় নুরুল হক নুরের দৃষ্টিগোচর হয়।
    জানা যায় ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর নির্দেশনায় গলাচিপা উপজেলার নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে তামান্না আক্তারের বাড়িতে শুভেচ্ছা জানানের জন্য যায় তামান্নার লেখাপড়া দায়িত্ব নুরুল হক নুর নিজে নিবেন বলে তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।
    একই সাথে তার পরিবার কিছু এনজিওর ঋণের সমস্যা কথা জানালে সে বিষয়গুলো সুরাহা করার জন্য আশ্বস্ত করেন।
    এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ সভাপতি মো. আবু নাঈম, গণঅধিকার পরিষদ গলাচিপা উপজেলার আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব মো. জাকির মুনসী, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. রাসেল ও সদস্য সচিব মো. আবুল হোসাইন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মো. আমির হোসেন সহ ছাত্র যুব শ্রমিক ও গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

  • সুজানগরে  টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী

    সুজানগরে  টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি :  সুজানগরে টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী কঁাচারীপাড়া স্টেডিয়াম মাঠে শুক্রবার দুপুর ৩টায় কঁাচারীপাড়া যুব ক্রীড়া সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় আতাইকুলা থানার লক্ষীপুর ইউনিয়নকে  পরাজিত করে সুজানগর পৌরসভার চর ভবানীপুর ক্রিকেট  একাদশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। পরে কাচারী পাড়া যুব ক্রীড়া সংগঠনের সভাপতি আব্দুস সোবাহানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাবিল হোসেনের সঞ্চালনায় টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুজানগর উপজেলা শাখার নায়েবে আমীর  ফারুক-ই আযম,উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনিছুর রহমান খোকন, পৌর বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক ইয়াকুব আলী প্রামানিক, সুজানগর থেকে প্রকাশিত একমাত্র পত্রিকা সাপ্তাহিক পল্লীগ্রাম এর সম্পাদক আব্দুর শুকুর, দৈনিক যুগান্তরের সুজানগর উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলিম রিপন , উপজেলা পোস্ট মাস্টার আফজাল হোসেন, জামায়াত নেতা মোস্তাক,কেরামত আলী, ছাত্র প্রতিনিধি দ্বীপ মাহবুব, অন্তু, শেখ রাফি, মানিক,স্থানীয়দের মধ্যে ফিরোজ রানা, বাদশা, ছাত্রদল নেতা আব্দুস সবুর প্রামানিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।খেলায় প্রধান আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন ক্রীড়া সংগঠক শাহীন এবং সহকারী আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চঞ্চল। ধারা বর্ণনায় ছিলেন পিন্টু।

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • নড়াইলে কুড়ানো শামুকে কর্মসংস্থানের হয়েছে কয়েক হাজার নারী-পুরুষের

    নড়াইলে কুড়ানো শামুকে কর্মসংস্থানের হয়েছে কয়েক হাজার নারী-পুরুষের

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে//

    নড়াইলে শামুক কুড়িয়ে ২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। নড়াইল জেলার বিল অঞ্চলে শামুক কুড়ানো থেকে আয় হচ্ছে বছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার শামুক পাড়ি দিচ্ছে যশোর, খুলনা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায়। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, মৌসুমি এ কাজে সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে ২ হাজারেরও বেশি মানুষের।
    কৃষি প্রধান জেলা নড়াইলে প্রায় ৮ লাখ মানুষ বসবাস করা এই জেলা বিল ও মাছের ঘের দিয়ে বেষ্টিত। প্রতি বছরের মতো এবারও বিল থেকে শামুক কুড়িয়ে মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে কয়েক হাজার নারী-পুরুষের। নারী-পুরুষ মিলে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা আয় করে সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা। শামুকের ভেতরের অংশের পাশাপাশি খোলারও বাড়ছে ব্যাপক চাহিদা। যা এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে এনেছে নতুন গতি।
    নড়াইল শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বিল অঞ্চলের হুগলাডাঙ্গা গ্রামের নারী-পুরুষ প্রতিদিন ভোরের আলো ফুটতেই ছোট নৌকা নিয়ে যান শামুক কুড়াতে। কুড়িয়ে আনা শামুকের ভেতরের অংশ বের করে বিক্রি করেন মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে এবং খোলাটা বিক্রি করেন খোলা ব্যবসায়ীদের কাছে।
    প্রতিদিন একেকজন নারী-পুরুষ ২০ থেকে ২৫ কেজি শামুক বিক্রি করে। তাদের আয় হয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
    শুধু হুগলাডাঙ্গা গ্রামে নয়, জেলার লোহাগড়া, কালিয়া এবং সদর উপজেলার শোলপুর বিল, ইছামতি বিল, কলোড়াসহ ১২টি বিলের শামুক কুড়িয়ে একেকজন প্রতিমাসে আয় করছেন প্রায় ১৫ হাজার টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার শামুক যাচ্ছে যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, মাগুরাসহ বেশ কয়েকটি জেলায়।
    নড়াইল সদর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, পড়া লেখার পাশাপাশি সে বর্ষার মৌসুমে প্রতিদিন সকালে বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি করে থাকে।
    কালিয়া উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের দিনমজুর কালু মিয়া শেখ জানান, সংসার চালানোর জন্য তিনি বিল-খাল থেকে শামুক সংগ্রহ করে মৎস্য চাষিদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। এতে তার প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকা আয় হয়ে থাকে। যা দিয়ে তিনি সংসারের ব্যয় নির্বাহ করে থাকেন।
    নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, মাছের খাদ্য হিসেবে শামুকের ব্যবহারকে আমরা নিরুৎসাহিত করে থাকি মৎস্য চাষিদের। কারণ কাঁচা শামুক খাওয়ানোর ফলে মাছের শরীরে রোগ জীবাণুর এবং গ্যাসের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ওই মাছ খেলে মানুষের শরীরেও নানা রোগ জীবাণু ছড়ায়। শামুক মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। খাল বিলে বেশি পরিমাণ শামুকের বিচরণ থাকার কারণে পানি
    ও মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। শামুক মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার না করার জন্য ঘের মালিকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • কুসুম্বা মসজিদ একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি

    কুসুম্বা মসজিদ একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি

    লেখক: মোঃ হায়দার আলী।। কুসুম্বা মসজিদ (Kusumba Mosque) নওগাঁ জেলায় অবস্থিত প্রায় সাড়ে চারশত বছর পুরনো একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলাধীন ৮ নং কুশুম্বা ইউনিয়নের কুশুম্বা গ্রামে কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান। নওগাঁ থেকে মসজিদটির দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং মান্দা উপজেলা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। সুলতানি আমলের সাক্ষী কুসুম্বা মসজিদ এর ছবি বাংলাদেশের পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত আছে। কুসুম্বা মসজিদকে নওগাঁ জেলার ইতিহাস এবং মুসলিম স্থাপত্য শিল্পরীতির অনবদ্য নিদর্শন হিসাবে গন্য করা হয়। এ অঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্য শৈলীর প্রথম যুগের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ দেখতে সারাদেশ থেকে অসংখ্য লোকের সমাগম ঘটে।

    কুসুম্বা মসজিদ আত্রাই নদীর পশ্চিমতীরস্থ নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার অন্তর্গত কুসুম্বা গ্রামের নাম অনুসারে পরিচিত। প্রাচীর দিয়ে ঘেরা আঙ্গিনার ভেতরে মসজিদটি অবস্থিত। এ আঙ্গিনায় প্রবেশের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় একটি প্রবেশদ্বার যেখানে প্রহরীদের দাঁড়ানোর জায়গা রয়েছে। বাংলায় আফগানদের শাসন আমলে শূর বংশের শেষ দিকের শাসক গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহ-এর রাজত্বকালে জনৈক সুলায়মান মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি সম্ভবত একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন।

    পূর্বদিকের কেন্দ্রীয় প্রবেশদ্বারের উপরে স্থাপিত আরবিতে (শুধু নির্মাতা শব্দটি ফারসিতে) উৎকীর্ণ শিলালিপি অনুসারে এ মসজিদের নির্মাণকাল ৯৬৬ হিজরি (১৫৫৮-৫৯ খ্রি.)। মসজিদটি শূর আমলে নির্মিত হলেও এ মসজিদে উত্তর ভারতে ইতঃপূর্বে বিকশিত শূর স্থাপত্যের প্রভাব মোটেই দেখা যায় না, বরং এটি বাংলার স্থাপত্য রীতিতেই নির্মিত। ইটের গাঁথুনি, সামান্য বক্র কার্নিশ এবং সংলগ্ন অষ্টকোণাকৃতির পার্শ্ববুরুজ প্রভৃতি এ রীতির পরিচায়ক বৈশিষ্ট্যাবলি। এ মসজিদ ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত।

    ভূমি নকশা, কুসুম্বা মসজিদ
    মসজিদটির মূল গাঁথুনি ইটের তৈরী হলেও এর বাইরের দেওয়ালের সম্পূর্ণ অংশ এবং ভেতরের দেওয়ালে পেন্ডেন্টিভের খিলান পর্যন্ত পাথর দিয়ে আবৃত। এর স্তম্ভ, ভিত্তিমঞ্চ, মেঝে এবং পাশের দেওয়ালের জালি নকশা পাথরের তৈরী। আয়তাকার এ মসজিদ তিনটি ‘বে’ এবং দুটি ‘আইলে’ বিভক্ত। পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে প্রবেশপথ রয়েছে। কেন্দ্রীয় মিহরাবটি পশ্চিম দেওয়াল থেকে সামান্য অভিক্ষিপ্ত।

    অভ্যন্তরভাগের পশ্চিম দেওয়ালে (কিবলা দেওয়ালে) দক্ষিণ-পূর্ব দিকের এবং মাঝের প্রবেশপথ বরাবর মেঝের সমান্তরালে দুটি মিহরাব আছে। তবে উত্তর-পশ্চিম কোণের ‘বে‘তে অবস্থিত মিহরাবটি একটি উচু প্লাটফর্মের মধ্যে স্থাপিত। পূর্বদিকে স্থাপিত একটি সিঁড়ি দিয়ে এ প্লাটফর্মে উঠা যায়।

    কুসুম্বা মসজিদের কেন্দ্রীয় মিহরাবঃ
    মিহরাবগুলি খোদাইকৃত পাথরের নকশা দিয়ে ব্যাপকভাবে অলংকৃত। এগুলিতে রয়েছে বহুখাজ বিশিষ্ট খিলান। সূক্ষ্ম কারুকার্য খচিত পাথরের তৈরী স্তম্ভের উপর স্থাপিত এ খিলানগুলির শীর্ষে রয়েছে কলস মোটিফের অলংকরণ। স্তম্ভগুলির গায়ে রয়েছে ঝুলন্ত শিকল ঘন্টার নকশা। মিহরাবের ফ্রেমে রযেছে প্রায় সর্পিল আকারে খোদিত আঙ্গুর গুচ্ছ ও লতার নকশা। এ ছাড়া রয়েছে প্রায় বিন্দুর আকার ধারণকারী কলস, বৃক্ষলতা ও গোলাপ নকশা। প্লাটফর্মের প্রান্তেও রয়েছে আঙ্গুর লতার অলংকরণ। আর এ প্লাটফর্মের ভারবহনকারী খিলানের স্প্যান্ড্রিল এবং মসজিদের কিবলা দেওয়াল জুড়ে রয়েছে গোলাপ নকশা।

    বাইরের দেওয়ালে আস্তরণ হিসেবে ব্যবহূত পাথরগুলি অমসৃণ এবং এতে রয়েছে গভীর খোদাইকার্য। বাইরের দিকে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন অলংকরণ গুলি ছাঁচে ঢালা। এগুলি দেওয়াল গাত্রকে উচু নিচু অংশে বিভক্ত করেছে। এ ছাড়া বক্র কার্নিশ জুড়ে, পাশ্ববুরুজগুলিকে ঘিরে, কার্নিশের নিচে অনুরূপ অলঙ্করন বিস্তৃত। পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালের গায়ে আয়তাকার খোপ নকশাকে ঘিরে ফ্রেম হিসেবে ছাঁচে ঢালা অলংকরণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের খিলানের স্প্যান্ড্রিল ছোট ছোট কলস ও গোলাপ নকশায় পরিপূর্ণ। উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালে রয়েছে জালি ঢাকা জানালা।

    বাংলার প্রকৃতিতে এখন পৌষপার্বণ। বলা হয় যে, কোনো ভ্রমণের জন্য সেরা মৌসুম হচ্ছে শীতকাল।
    তাই শীতকালে দেশের পর্যটন শিল্প চাঙা হয়ে ওঠে। প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটনস্পট। একটু নির্মল আনন্দ ও বিনোদনের আশায় মানুষ ছুটে যাচ্ছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। প্রাণভরে উপভোগ করছেন সব নৈসর্গিক সৌন্দর্য। আমাদের সবুজ শ্যামল বাংলার এমনিতেই রূপের অভাব নেই। দেশের যে প্রান্তেই যান না কেন, আপনি প্রাণ ভরে পান করতে পারবেন এ দেশের রূপসুধা।

    ঘোরাঘুরি করতে চাইলে এদেশের ভেতরেই আছে অসংখ্য জায়গা। এই শীতে ঘুরে আসতে পারেন রাজশাহীর পাশের জেলা নওগাঁ শহরে। এখানে অনেক প্রাচীন স্থাপত্যের মধ্যে রয়েছে সুলতানি আমলের ঐতিহ্য ‘কুসুম্বা’ মসজিদ।

    রাজশাহী বিভাগের উত্তরেই নওগাঁ জেলার অবস্থান। এটি বিভাগের বরেন্দ্রীয় অংশ। ভারত সীমারেখা ঘেঁষে থাকা নওগাঁ জেলার মোট উপজেলার সংখ্যা ১১টি। এর মধ্যে মান্দা অন্যতম। কারণ প্রায় সাড়ে চারশ বছরের ঐতিহ্য ও স্মৃতি ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে ‘কুসুম্বা মসজিদ’। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের মান্দা ব্রিজের পশ্চিম দিকে ৪শ মিটার উত্তরে ঐতিহাসিক এই মসজিদের অবস্থান।

    নওগাঁ জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। স্থানীয়দের কাছে এর আরেক নাম কালাপাহাড়। কুসুম্বা মসজিদকে তাই নওগাঁ জেলার ইতিহাস ও মুসলিম ঐতিহ্যের উজ্জ্বল নিদর্শন বলা হয়। মসজিদের উত্তর-দক্ষিণ দিকে রয়েছে ৭৭ বিঘা বিশিষ্ট একটি বিশাল দিঘি। গ্রামবাসী ও মুসল্লিদের খাবার পানি, গোসল ও অজুর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এ দিঘিটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর পাড়েই তৈরি করা হয়েছে কুসুম্বা মসজিদ। কুসুম্বা মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা, চওড়া ৪২ ফুট।

    চারদিকের দেয়াল ৬ ফুট পুরু। মসজিদের সামনের দিকে রয়েছে তিনটি দরজা। এই কুসুম্বা মসজিদ সুলতানি আমলের একটি পুরাকীর্তি। চারদিকের দেয়ালের ওপর বাইরের অংশ পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

    মসজিদের সামনে থাকা তিনটি দরজার মধ্যে দু’টি বড়, একটি অপেক্ষাকৃত ছোট। দরজাগুলো খিলানযুক্ত মিহরাব আকৃতির। মসজিদের চার কোণায় রয়েছে চারটি মিনার। মিনারগুলো মসজিদের দেয়াল পর্যন্ত উঁচু ও আট কোণাকার। ছাদের ওপর রয়েছে মোট ছয়টি গম্বুজ। যা দু’টি সারিতে তৈরি। বাংলায় আফগানদের শাসন আমলে শূর বংশের শেষদিকের শাসক গিয়াস উদ্দিন বাহাদুর শাহর রাজত্বকালে জনৈক সুলাইমান মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। এ মসজিদের নির্মাণকাল ৯৬৬ হিজরি (১৫৫৮-৫৯ খ্রিস্টাব্দ)।

    ইতিহাসবিদদের মতে, কুসুম্বা মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যকলার এক অনুপম নিদর্শন। সবর খান বা সোলায়মান নামে ধর্মান্তরিত এক মুসলিম এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মূল প্রবেশপথে শিলালিপি থেকে প্রমাণিত হয় এ মসজিদটি ৯৬৬ হিজরি বা ১৫৫৮-৫৯ খ্রিস্টাব্দে শের শাহ’র বংশধর আফগান সুলতান প্রথম গিয়াস উদ্দিন বাহাদুরের শাসনামলে (১৫৫৪-১৫৬০) নির্মিত। সে হিসাবে মসজিদটির বর্তমান বয়স ৪৭৪ বছর। কেন্দ্রীয় মেহরাবের ওপরাংশ শেরশাহের শাসনামলে নির্মিত।

    বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রাজশাহী জেলা পরিষদের ওভারশিয়ার সুরেন্দ্র মোহন চৌধুরী কুসুম্বা গ্রামের প্রাচীন ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি শিলালিপি আবিষ্কার করেন। শিলালিপিটি বর্তমানে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বরেন্দ্র জাদুঘরে রয়েছে। যে কেউ জাদুঘরে গেলে শিলালিপিটি দেখতে পারবেন।

    ১৮৯৭ সালের এক ভূমিকম্পে কুসুম্বা মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষিত। মসজিদটির মূল গাঁথুনি ইটের তৈরি হলেও এর বাইরের দেয়ালের সম্পূর্ণ অংশ এবং ভেতরের দেয়ালে পেনডেন্টিভের খিলান পর্যন্ত পাথর দিয়ে আবৃত। এর স্তম্ভ, ভিত্তিমঞ্চ, মেঝে ও পাশের দেয়ালের জালি-নকশা পাথরের তৈরি। আয়তাকার এ মসজিদ তিনটি ‘বে’ ও দুটি ‘আইলে’ বিভক্ত। পূর্বদিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে প্রবেশপথ আছে।
    কেন্দ্রীয় মিহরাবটি পশ্চিম দেয়াল থেকে সামান্য অবিক্ষিপ্ত। মসজিদের অভ্যন্তরভাগের পশ্চিম দেয়ালে (কিবলামুখী দেয়ালে) দক্ষিণ-পূর্ব দিকের এবং মাঝের প্রবেশপথ বরাবর মেঝের সমান্তরালে দু’টি মিহরাব আছে। তবে উত্তর-পশ্চিম কোণে থাকা মিহরাবটি একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মের মধ্যে স্থাপিত। পূর্বদিকে স্থাপিত একটি সিঁড়ি দিয়ে এ প্ল্যাটফর্মে ওঠা যায়।

    মিহরাবগুলো খোদাই করা পাথরের নকশা দিয়ে ব্যাপকভাবে অলংকৃত। কারুকার্য খচিত পাথরের তৈরি স্তম্ভের ওপর স্থাপিত এ খিলানগুলোর শীর্ষে রয়েছে কলস মোটিফের অলংকরণ। স্তম্ভগুলোর গায়ে রয়েছে ঝুলন্ত শিকল ঘণ্টার নকশা। মিহরাবের ফ্রেমে রয়েছে প্রায় সর্পিল আকারে খোদিত আঙুরগুচ্ছ ও লতার নকশা। এছাড়া প্রায় বিন্দুর আকার ধারণকারী কলস, বৃক্ষলতা ও গোলাপ নকশা রয়েছে গা ঘেঁষে। প্ল্যাটফর্মের প্রান্তেও রয়েছে আঙুরলতার অলংকরণ। আর এ প্ল্যাটফর্মের ভারবহনকারী খিলানের স্প্যান্ড্রিল ও মসজিদের কিবলা দেয়ালজুড়ে রয়েছে গোলাপ নকশা। বাইরের দেয়ালে আস্তরণ হিসেবে ব্যবহৃত পাথরগুলো অমসৃণ।

    বর্তমানে বছরের যে কোনো উৎসবে বা শীত মৌসুমে দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক এই কুসুম্বা মসজিদ দেখতে যান। তবে মসজিদটি ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবে ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে ওঠেনি। রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর শীতের সময় অনেকে এ মসজিদ পরিদর্শনে আসেন।

    কুসুম্বা মসজিদকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা প্রশ্নে নওগাঁ জেলা প্রশাসক (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ জানান, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

    কীভাবে যাবেন কুসুম্বা মসজিদ
    রাজধানী ঢাকা থেকে প্রথমে রাজশাহী যেতে হবে। রাজশাহীর ওপর দিয়ে ছাড়া এখানে যাওয়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ঢাকা-রাজশাহীর বাস ভাড়া লাগবে ৫০০ টাকা। এরপর রাজশাহী মহানগরের গোরহাঙ্গা রেলগেট বাসস্টপেজ থেকে নওগাঁর বাসে উঠে ৫০ টাকা ভাড়ায় মান্দার ফেরিঘাটের আগে কুসুম্বা মোড়ে নামতে হবে। এখানে নেমে হেঁটে এক মিনিটের পথ কুসুম্বা মসজিদ। আর থাকার জন্য নওগাঁ শহরে রয়েছে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল। সেখানে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে এক হাজার টাকায় একদিনের জন্য রুম ভাড়া পাওয়া যাবে

    মোঃ হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

  • জাকিরের যন্ত্রণায় জনজীবন অতিষ্ঠ, প্রশাসন নির্বিকার

    জাকিরের যন্ত্রণায় জনজীবন অতিষ্ঠ, প্রশাসন নির্বিকার

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরের সীমান্ত সংলগ্ন নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুর ইউনিয়নের (ইউপি)কুঁচড়া গ্রামে পুকুর সংস্কার এবং সেই মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করে কাঁচাপাকা রাস্তা নস্ট ও পরিবেশ দুষণ করা হচ্ছে। গ্রামবাসী বলেন, মেম্বার জাকিরের যন্ত্রণায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও প্রশাসন নির্বিকার। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনকে জানালে উল্টো বিপদে পড়তে হচ্ছে।
    এদিকে নিয়ামতপুর উপজেলা সীমান্তে পুকুর খনন করা হলেও তানোর উপজেলার চৌবাড়িয়া, কাদিপুরসহ বিভিন্ন ইট ভাটায় মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি পাকা-কাঁচা রাস্তা নষ্ট এবং ভেকুঁ ও ট্রাক্টরের বিকট শব্দের পাশাপাশি ধুলা-বালিতে পরিবেশ দুষণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
    অন্যদিকে ফসলি জমি ভরাট বা মাটি বিক্রি দুটোই দন্ডনীয় অপরাধ।অথচ এই অপরাধমুলক কাজ করা হচ্ছে প্রকাশ্যে দিবালোকে ? কিন্ত্ত অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন নিরব ?
    স্থানীয়দের অভিযোগ,উপজেলা প্রশাসনের একশ্রেণীর কর্মকর্তাকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে এসব অবৈধ মাটি বাণিজ্য করা হচ্ছে। স্থানীয়রা
    বলেন, ট্রাক্টরে কাঁদা মাটি পরিবহণ
    করায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি কাঁচা-পাকা রাস্তা-ঘাট।মাটিবাহী অবৈধ গাড়ির বেপরোয়া গতির কারণে ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ পথচারিরা। এছাড়া প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। আবার এসব মাটি বাহী ট্রাক্টর গাড়ি চালাচ্ছেন অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর।

    অভিযোগ উঠেছে,রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় একশ্রেণির এক্সেভেটর (ভেকু) ব্যবসায়ীরা চুক্তিভিত্তিক মাটি বাণিজ্যে করছে। আর সমাজের কিছু অসাধু ব্যক্তির পকেট ভরাতে গিয়ে রাস্তা-ঘাট নষ্ট হচ্ছে,এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা নিমিষেই বানের জলে ভেসে যাচ্ছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খোলা ট্রাক্টরে পুকুরের মাটি এনে বিভিন্ন জায়গা ভরাট করা হচ্ছে।মাটিবাহী গাড়ির কাদামাটি পড়ে কাঁচাপাকা রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। সেই কাদামাটি সরানোর কাজে শ্রমিকদের নিয়োজিত রেখেছেন ভেকু ব্যবসায়ীরা। কোদাল দিয়ে মাটি সরাতে গিয়ে পাকা সড়কের পাথর ও উপরের প্রলেপ বিটুমিন উঠিয়ে ফেলা হচ্ছে। মকবুল, কাদের ও মিজানুর বলেন, ভেকুর বিকট শব্দ ও ধুলাবালিতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বলেন,বিষয়টি ইউএনও এবং বাহাদুর ইউপির বিট অফিসারকে জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি।

    এবিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা প্রশাসক (ডিসি) বলেন, ইউএনও সাহেবকে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে। এবষিয়ে জানতে চাইলে পুকুর মালিক জাকির মেম্বার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অনুমতি নিয়ে পুরাতন পুকুর পুনঃখনন করা হচ্ছে তাতে সমস্যা কি ? তিনি বলেন, অল্প কিছু মাটি ইট ভাটায় দেয়া হয়েছিল,কিছু মাটি এলাকায় দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, রাস্তার কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
    এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, রাস্তার বিটুমিনের শত্রু হচ্ছে কাদামাটি। নিয়ম না মেনে মাটি পরিবহন করায় রাস্তায় কাদামাটি পড়ে রাস্তাঘাট দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এবিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মুঠোফোনে বলেন, আমাকে ভিডিও ফুটেজ ও লোকেশান দেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    এবিষয়ে ভেকুঁ দালাল আলমগীর বলেন,তার গাড়ী জাকির মেম্বার ভাড়া নিয়েছে,সে সব কিছু ম্যানেজ করে পুকুর পুনঃখনন ও মাটি বিক্রি করছে।#

  • ইউএনওর  উদ্যোগ বদলে গেছে গৌরনদীর নাগরিক সেবার চিত্র

    ইউএনওর উদ্যোগ বদলে গেছে গৌরনদীর নাগরিক সেবার চিত্র

    কে এম সোয়েব জুয়েল,বরিশাল
    সাধারণ মানুষের মুখে অনেক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শোনা যায়। কিন্তু বরিশালের গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আবদুল্লাহ খান সেই তালিকার বাইরে। তার ‘জনসেবার’ মানসিকতার ফলে বদলে গেছে উপজেলার নাগরিক সেবার চিত্র। দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা। এই কর্মকর্তার ব্যবহারেও খুশি উপজেলার বাসিন্দারা।

    আবু আবদুল্লাহ খান ২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগ দেন। তিনি যোগদানের পর থেকেই সততা ও ন্যায়ের সঙ্গে কাজ সামলে যাচ্ছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর ‘নানা কারণে মাঠ প্রশাসনে কাজের চাপ বেড়েছে। উপজেলা প্রশাসন সামলানোর পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, পৌরসভায় দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদে থাকার কারণে ইউএনওদের ব্যস্ততা আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু চাপ থাকলেও এ উপজেলার নাগরিক সেবার মান কমেনি। বরং আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আর সেটা ইউএনও আবু আবদুল্লাহ খানের ভূমিকায়।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ‘পতনের পর মাঠ প্রশাসনে অস্থিরতা দেখা দেয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন ইউএনও আবু আবদুল্লাহ। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ন্যায্যমূল্যের ‘বিপণন কেন্দ্র ও কৃষি কর্নার স্থাপন করেন তিনি, যা বেশ প্রশংসা পায়। এ ছাড়া উপজেলা মডেল
    পাঠাগার, গৌরনদী ক্লাব অ্যান্ড সোসাইটি চালুকরণ, শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ডিবেটিং ক্লাব, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ক্লাব ও বিজ্ঞান ক্লাব স্থাপনের উদ্যোগ তিনি। নিয়েছেন

    ভূমি সেবায়ও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। এ উপজেলায় সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার এক দিনের মধ্যে নামজারি কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে ইউএনওর নির্দেশনায়, যা বেশ সাড়া ফেলেছে। এ ছাড়া পরিবেশ রক্ষা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে খাল-নালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
    এসব বিষয়ে ইউএনও আবু আবদুল্লাহ খান বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। যেখানেই চাকরি করেছি, সবসময় নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নাগরিকদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, যেদিন এখানে যোগদান করেছি, সেদিনই বলেছি এ উপজেলা আমার। যতদিন আছি এভাবে সেবা দিয়ে যেতে চাই। সবার সহযোগিতায় গৌরনদীকে একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

    বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ইউএনওরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সবার সহযোগিতায় আমরা সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারব।

  • চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ হালিশহরে জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াতী‌ সভায় মহানগর নায়েবে আমির নজরুল ইসলাম

    চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ হালিশহরে জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াতী‌ সভায় মহানগর নায়েবে আমির নজরুল ইসলাম

    মোঃ শহিদুল ইসলাম
    বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন ৩৯নং ওয়ার্ডস্থ দক্ষিণ হালিশহর সাইট পাড়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক ওয়ার্ডের উদ্যোগে দাওয়াতী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ বছর দোসর ও জালেমী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের এদেশের রাজনৈতিক ভাবে আর প্রতিষ্ঠিত করতে দেওয়া হবে না,কেউ যদি স্বৈরাচারী সরকারের ন্যায় ওদের সহযোগিতা করতে চাইলে জনরোষের মাধ্যমে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসরদের প্রতিরোধে জনমত গঠন করে রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার করে তার পর রাজধানীর মাঠে নামতে পারেন..!
    অন্যথায় জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক ভাবে সর্বশক্তি দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
    সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সভাপতি মোঃ আঃ রহিম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও ডাঃ মোঃ কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নগর সদস্য ও ইপিজেড থানা জামায়াতের আমীর মোঃ আবুল মোকাররম, আলোচকদের বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও ৩৯ নং ওয়ার্ড জামায়াতের নেতা এড, মোঃ শাহেদ ।দাওয়াতী সভায় আরো সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ মামুনুর রশিদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মোঃ মুজিবুল হক বকুল, জামায়াত নেতা মোঃ ওসমান গনি, মোঃ শফিউল আলম শফি, মোঃ ইউনুছ, ডাঃ মোঃ আলী, আঃ মান্নান, মাওলানা মুহাম্মদ বখতিয়ার হোসেন,যুব সংগঠক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ ও দায়িত্বশীল সংগঠক গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
    ২৪ জানুয়ারি, শুক্রবার সন্ধ্যায় নারিকেল তলাস্থ মেইনরোড সংলগ্ন এলাকায় সাংগঠনিক দাওয়াতী সভায় শতশত গণমানুষ এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
    পরিশেষে বিশেষ মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন ।

  • ঘাটাইলে উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে

    ঘাটাইলে উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে

    ঘাটাইল প্রতিনিধি মোঃ রায়হান মিয়া

    রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখার অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ের মানুষদের মাঝে তুলে ধরতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার বিকেলে পাকুটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

    জনসভায় ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. কাজী আব্দুল বারী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ।

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনূল ইসলাম।

    এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ খ ম রেজাউল করিম, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয়, উপজেলা, পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।