Blog

  • নড়াইলের তুলারামপুরে বৃটিশ শাসনামলে নির্মান হয় দক্ষিনপাড়া জামে মসজিদ

    নড়াইলের তুলারামপুরে বৃটিশ শাসনামলে নির্মান হয় দক্ষিনপাড়া জামে মসজিদ

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    বৃটিশদের শাসনামলে নির্মিত হয় তুলারামপুর সরদারভিটা জামে মসজিদ। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, তুলারমপুর ইউনিয়নের দ্বিতীয় পুরাতন মসজিদ এটি । এ আগে এ ইউনিয়নে তরফদার বাড়ি জামে মসজিদটি নির্মান হয় । যা শের শাহ শাসনামলে । তরফদার বাড়ি জামে মসজিদ নির্মানে অনুপ্রানিত হয়ে তুলারামপুর গ্রামের ধার্মিক ব্যক্তিত্ব দলিল উদ্দিন মোল্য ১৮৮৯ সালে ৪ শতক জমির উপর উপরে খড় ও চার পাশে মাটির ওয়াল করে ছোট পরিসরে এ মসজিদটি নির্মান হয় । পরবর্তীতে পাকিস্তান শাসনামলে স্থানীয় গ্রামবাসিদের সহযোগিতায় উপরে টিন এবং পাকা ওয়াল দিয়ে মসজিদটি সম্প্রসারণ করা হয় ।
    এ সময় মসজিদটিতে ইমামসহ ২৭জন মুসল্লি নামায আদায় করতে পারতেন। তৎকালিন সময়ে জনবসতি কম থাকায় ২৭জন মুসল্লিকে শুক্রবার বাদে পাওয়া যেত না বলে এলাকার প্রবীনরা জানিয়েছেন। তারা আরো বলেছেন, ঘন বন জঙ্গলে ভরা এলাকাতে নির্মিত সে সময়কার মসজিদে মুসল্লিরা নামায আদায় করতে আসবেন এটা ভাবাই যেত না। পাকিস্তান শাসনামলে থেকে এ গ্রামে বসতি বাড়তে থাকে । বাড়তে থাকে মসজিদে এসে নামায আদায় করা মুসল্লিদের সংখ্যা । আবারও ২০০০ সালের দিক স্থাণীয় গ্রামবাসি মসজিদের প্রয়োজনীতা অনুভব করে সিদ্ধান্ত নেন মসজিদটি পূণঃনির্মানের জন্য । গ্রামবাসিদের সাহায্য-সহযোগিতায় ও পরে আরো ৩ শতক জমি বাড়িয়ে ৭শতক জমির উপর মসজিদটি একতলা ভবন নির্মান করা হয় ।
    সর্বশেষ ২০১৮ সালের শুরুতে স্থাণীয় জনগন আবারও মসজিদটি দ্বিতল ভবন নির্মান কাজ করে । বর্তমানে মসজিদটির একতলার ফ্লোরে এবং বাইরের ওয়ালসহ বিভিন্ন স্থানে টাইলস স্থাপন করা হয়েছে । ইতিমধ্যে দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু হয়েছে । মসজিদটি দ্বিতল ভবনের ওয়ালে চলছে টাইলস এর কাজ । মসজিদটির নির্মান কাজ শেষ এটি দর্শনীয় হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা জানান ।
    তুলারামপুর দক্ষিনপাড়ার বাসিন্দা ব্যাংকার ইমদাদুল ইসলাম বলেন, আমাদের পুর্ব পুরুষ ছিলেন মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা । মসজিদটি নির্মানের সময় এখানে অল্প জনবসতি ছিল । শুধু তাই নয় বর্ষা মৌসুমে পানিতে থৈথৈ করতো । এ কারনে উচু ভিটার উপর মসজিদটি নির্মান করা হয় । তিনি আরো বলেন মসজিদটি তুলারামপুর ইউনিয়নের দ্বিতীয় মসজিদ । মসজিদটির দ্বিতল ভবন নির্মান সম্পন্ন হলে ১’শ মুসল্লি এক সাথে নামায আদায় করতে পারবেন । বর্তমানে আমাদের ইউনিয়নে ৯টি মসজিদ নির্মান হলেও আমাদের মসজিদটি প্রতিষ্ঠাতা হয়ে বৃটিস শাসনামলে । আমার বাবা ও দাদা এ মসজিদে নামায আদায় করে গেছেন । আমি ও আমার সন্তান বর্তমানে নামায আদায় করছি । যা ভাগ্যের ব্যপার ।
    তুলারামপুর ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান বুলবুল আহম্মেদ বলেন, আমাদের বাড়ির পাশেই এ মসজিদটি নির্মিত হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় এর উন্নয়নে স্থানীয়দের নিয়ে কাজ করে আসার সৌভাগ্য আমার হয়েছে । এর আগে আমার পিতা আব্দুর রাজ্জাক মোল্যাও এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন । তিনিও মসজিদ উন্নয়নে কাজ করেছেন । স্থানীয়দের সাহয্য সহনুভুতির মাধ্যমে মসজিদটির নির্মান কাজ শেষ করছি । মসজিদটি বাইরে ও ভিতরে টাইলস দিয়ে দর্মনীয় করে তোলার হয়েছে।

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে

  • সুজানগরে সেলিম রেজা হাবিবের নেতৃত্বে  বিএনপি’র রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ

    সুজানগরে সেলিম রেজা হাবিবের নেতৃত্বে বিএনপি’র রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ

    এম এ আলিম রিপন, সুজানগর : বিএনপি’র রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাবনার সুজানগরে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।পাবনা -২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এ,কে,এম সেলিম রেজা হাবিবের নেতৃত্বে রবিবার সুজানগর পৌর বাজারে এ লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেট বিতরণ কালে পাবনা -২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এ,কে,এম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, দীর্ঘ ১৫বছরের স্বৈরাচারী শাসক যখন দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, বাংলাদেশকে গুম-খুন আর লুটের রাজ্যে পরিণত করেছিল তখন ২০২৩ সালের ১৩ জুলাইয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩১ দফা ঘোষণা করেন-যেখানে গণতন্ত্র ফিরে পাবে তার হারানো কণ্ঠ, আর নাগরিকগণ ফিরে পাবে রাষ্ট্রে তার আত্মমর্যাদা।বিএনপি’র ৩১ দফা বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক ঘোষণা নয় বরং এটি এক জাতির আকাঙ্ক্ষার ভাষা। যেখানে আছে ন্যায়বিচারের কথা, প্রশাসনের জবাবদিহিতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, আর মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার। বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন, নির্বাচন হবে স্বচ্ছ আর রাষ্ট্র হবে সবার জন্য সমান। এ দফাগুলোতে আছে কৃষক, শ্রমিক, সংখ্যালঘু, নারী ও শিশুদের স্বপ্ন-যারা প্রান্তিক হয়েও রাষ্ট্রের প্রাণ। দুর্নীতির নাগপাশ ছিন্ন করে, এক ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ডাক যেন প্রতিটি শব্দে বাজে।এই ৩১ দফা কোনো দলীয় মঞ্চে বঁাধা নয়। এটি একটি জাতির সম্ভাবনার মানচিত্র। এটি যদি বাস্তবায়ন হয় তবে এ দেশ আবার জেগে উঠবে-নতুন আলোয়, ন্যায়বোধে আর মানুষের ভালোবাসায় এটিই বিএনপি’র প্রত্যাশা।লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন, সুজানগর পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল মোনায়েম, বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী প্রামানিক লাটু, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন, ডাক্তার আব্দুস সালাম, মানিকহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, মোহাম্মদ আলী টুকু, সিদ্দিক প্রাং, আব্দুস সাত্তার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু রহমান পিন্টু, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রিয়াজ মন্ডল, সুজানগর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক শফিউল আলম বাবু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, হারুন মন্ডল, তোফাজ্জল হোসেন তোফা, ভঁায়না ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সান্টু, উপজেলা তঁাতিদল নেতা আসাদুজ্জামান রোকন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক শফিউল আযম শফি, আবু জাকারিয়া তরঙ্গ, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান ফজলু, যুগ্ন আহ্বায়ক ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ, পৌর যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক সাহেব আলী মন্ডল, রতন বিশ্বাস, হালিম শেখ, সন্টু খঁা, জিয়া বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবকদল সুজানগর পৌর শাখার আহ্বায়ক সুজাউদ্দিন সুজা, সদস্য সচিব বিপুল প্রামানিক, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রমজান মন্ডল, উপজেলা ছাত্রদল নেতা গাজী মাজাহারুল ইসলাম, আফতাব উদ্দিন, আলম শেখ, আব্দুস সবুর জয়সহ বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • মউশিক: শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ সদর উপজেলা শাখার কমিটির গঠন

    মউশিক: শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ সদর উপজেলা শাখার কমিটির গঠন

    এস মশিউর,
    হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।
    গতকাল দুপুরে মউশিক: শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ হবিগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার কমিটি গঠন উপলক্ষে হবিগঞ্জ পোদ্দার বাড়িতে রেজভীয়া খানকাহ শরিফে হযরত মাওলানা মো :দিদার আলী রেজভীর সভাপতিত্বে ও মোহাম্মদ নায়েব হোসাইন এর পরিচালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, হযরত মাওলানা মো:আবু তৈয়্যব মোজাহিদি, সভাপতি-মউশিক: শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখা
    বিশেষ অতিথি ছিলেন, হযরত মাওলানা মো : তাফাজ্জল হক, সাধারণ সম্পাদক- মউশিক: শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখা হযরত মাওলানা মো :মোজাহিদ ইসলাম মানিক, সাংগঠনিক
    সম্পাদক-মউশিক: শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখা,হযরত মাওলানা মো :আব্দুর রহমান, অর্থ সম্পাদক-মউশিক: শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখা, হযরত মাওলানা মো :আমিনুল হক আলকাদরীএতে সর্ব সাধারন উপস্থিতির মতামতের ভিওিতে,হবিগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার কমিটির গঠন করা হয় সভাপতি,মাও:মো :দিদার
    আলী রেজভী,সহ-সভাপতি,মাও: মো:গোলাম মস্তোফা,মাও:সামছু উদ্দিন
    সাধারণ সম্পাদক,মোহাম্মদ নায়েব হোসাইন,
    যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মাও:মো:নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাও:মোশাররফ হোসেন
    সাংগঠনিক সম্পাদক,মাও: মো:আব্দুল আহাদ
    সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মাও:মো:নাজমুল ইসলাম,
    অর্থ সম্পাদক, মাসুম বিল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক, মাওলানা হাবিবুর রহমান প্রচারসম্পাদক, মহিউদ্দিন আহমেদ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক :মাও:ইমরান আহমেদ এতে আরো বক্তব্য রাখেন, মাও:জাফর আলীমাও:রুহুল আমীন, মাও:আব্দুল কাইয়ুম, হাফেজ আ:শহিদ,মাও:মাহবুব হোসেন, মাও:আবু ইউসুফ,মাও:ফখরউদ্দিন খান রেজা, মাও:বজলুর রহমান, মাও:আবুবক্কর সহ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি,সা:সম্পাদক সাংগঠনিক সম্পাদক সহ প্রমূখ।

  • তেঁতুলিয়ায় সরকারি চাল জ-ব্দ, গুদাম সি-লগালা 

    তেঁতুলিয়ায় সরকারি চাল জ-ব্দ, গুদাম সি-লগালা 

    বাবুল হোসেন,

    পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

    তেঁতুলিয়ায় সরকারি চাল জব্দ, গুদাম সিলগালা, থানায় মামলা 

    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের সরকারি চাল জব্দ করেছে প্রশাসন।একইসঙ্গে গুদামঘরে সিলগালাসহ এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে৷

    এদিকে জব্দের একদিন পর রোববার (১৫ জুন) দুপুরে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় গুদামের ম্যানেজার মো. সাদেকুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    এর আগে শনিবার (১৪ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েক শতাধিক বস্তা চাল, খালি বস্তা, মোড়ক পরিবর্তনের সরঞ্জামাদি, মোবাইল ফোন এবং সেলাই মেশিন জব্দ করা হয়। এককইসঙ্গে গুদামঘরে সিলগালা করা হয়।

    অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরুর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেন উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. রুবেল হোসেন এবং তেঁতুলিয়া মডেল থানার একটি টিম।

    অভিযান সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের আজিজ নগর এলাকার ফিরোজা বেগমের চাতাল ও গুদামঘর এবং তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারের মেসার্স সহিদুল রাইস এজেন্সির গুদামে এই অভিযান চালানো হয়। এসময় সরকারি প্রকল্পের শতাধিক বস্তা চাল, খালি বস্তা ও চালের মোড়ক জব্দ করা হয়। স্থানীয়া বলছেন গুদামঘরগুলো ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম চাল,ধান,গম,ভূ্ট্টাসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য ব্যবসা করে আসছেন৷

    তবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্প সভাপতিদের কাছ থেকে সরকারি বরাদ্দের চাল কিনে বৈধভাবে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে সংশ্লিষ্টরা চাল বিক্রি করে থাকেন এবং তিনিও বৈধভাবে কাগজপত্র দেখে ক্রয় করেন।

    এবিষয়ে সহিদুল ইসলাম নামে ওই ব্যবসায়ী জানান,সরকারী প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হওয়া চাল প্রকল্পের সভাপতি ও জনপ্রতিনিধিরা পাওয়ার পর বিক্রি করে তারা প্রকল্প বাস্তবায়নাহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করেন। আর আমরা তাদের কাছে বৈধ ভাবে ক্রয় করে পরে খুচরা ও পাইকরী বিক্রি করি। আমাদের কাগজপত্র,সরকারী লাইসেন্স রয়েছে৷

    তেঁতুলিয়া উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. রুবেল হোসেন বলেন, অভিযান চালিয়ে সরকারী চালসহ একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটকসহ গুদামের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, “অভিযানে গিয়ে সরকারি চালসহ বিপুল পরিমাণ খালি বস্তা ও মোড়ক পরিবর্তনের আলামত পাওয়া গেছে। গুদামের মালিক বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় গুদামগুলো সিলগালা করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন,তেঁতুলিয়ায় বরাদ্দ হওয়া টিআর,কাবিখাসহ বিভিন্ন বরাদ্দের চাল ও গম সিন্ডিকেট করে প্রভাব দেখিয়ে ও কম দামে ক্রয় করে পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। আর এর সাথে জড়িত উপজেলা পিআইও অফিসের দুই একজন কর্মচারী।

  • সলঙ্গা হাটে পকে-টমারের উপদ্র-প 

    সলঙ্গা হাটে পকে-টমারের উপদ্র-প 

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের প্রাচীনতম সলঙ্গা হাটে ইদানিং পকেটমারের ঘটনা ব্যাপক হারে বেড়েছে।সপ্তাহের সোমবার ও বৃহ:বার হাটে বিভিন্ন দোকান পট্রিতে হাটুরেদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট,টাকা হাতিয়ে নেয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসলেও হাট কমিটির রহস্যজনক নীরবতার কারণে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। হাটুরেদের অভিযোগে জানা গেছে,সর্বশেষ সলঙ্গার সাপ্তাহিক বড় হাট সোমবার (১৬ জুন)  বিকেলে কদমতলা তরকারি হাটায় হাটুরেদের পাঞ্জাবীর পকেট হতে মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে।এর আগে কোরবানীর ঈদে গরু হাটা,ভুষাল হাটা,ডিমহাটা ও তরিতরকারি হাটায় হাটুরেদের পকেট কেটে নগদ টাকাসহ বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় পকেটমারেরা। 

    শুধু তাই নয়,সুযোগ বুঝে দোকানীদের দোকান থেকেও টাকা চুরি করে এসব ছিচকে চোরেরা।হাট ইজারাদার মতিয়ার রহমান সরকার জানান,ঐতিহ্যবাহী হাটের নাম সলঙ্গা।পকেটমার ঢুকে এ হাটের বদনাম হবে,তা কখনই হতে দেব না।হাটে পকেটমারের সন্ধান পেলে কোন অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবে না।    

    এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ওসি হুমায়ন কবির জানান,চুরি- ছিনতাই ও পকেটমার রোধে আমিসহ আমার পুলিশের সকল সদস্য কঠোর ও তৎপর।নিদ্রিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    জি,এম স্বপ্না,সিরাজগঞ্জ।

  • সলঙ্গায় জামা-য়াতে ইসলামীর ২০০ ফুটবল বিতরণ

    সলঙ্গায় জামা-য়াতে ইসলামীর ২০০ ফুটবল বিতরণ

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : আধুনিকতার ছোয়ায় দেশের যুব সমাজ যখন নেশা ও মোবাইল আসক্ত হয়ে  বিপথগামী,ঠিক এমনি মুহুর্তে সমাজ থেকে মাদক,সন্ত্রাস,চাঁদাবাজ,কিশোর গ্যাং রুখতে ফুটবল খেলাকে উজ্জীবিত করতে যুবকদের হাতে ফুটবল তুলে দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।গত কয়েক দিন ধরে সলঙ্গা ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডের যুবকদের মাঝে প্রায় ২০০ টি ফুটবল বিতরণ করলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল  মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল

    মাও: রফিকুল ইসলামের পক্ষ হতে  ফুটবল বিতরণ করেন, সলঙ্গা থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর রাশেদুল ইসলাম শহিদ।অন্যান্যদের মধ্যে সাথে ছিলেন,সলঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর কে,এম হারুনর রশীদ। ইসলামী ছাত্রশিবির সলঙ্গা থানা শাখার সভাপতি গাজী মোহসীন আলম।
    ৮নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি সবুজ মিয়া। 

    ৭নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা মোস্তফা কামাল ছাড়াও জামায়াত,শিবির, শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • বিরামপুরে উচ্ছে-দ অভি-যানে ঘরবাড়ি হারা মানুষের পাশে এবি পার্টি নেতা ব্যারিস্টার সানী

    বিরামপুরে উচ্ছে-দ অভি-যানে ঘরবাড়ি হারা মানুষের পাশে এবি পার্টি নেতা ব্যারিস্টার সানী

    দিনাজপুর, প্রতিনিধি:

    দিনাজপুরের বিরামপুর পশুহাটে গত বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বসবাসকারী ভূমিহীন ৬২টি পরিবারের প্রায় তিন শতাধিক অধিবাসীদের বিনা নোটিশে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যার ফলে আকস্মিক এই ঘটনায় বাস্তুহারা পরিবারগুলো এখন খোলা জায়গায় প্রয়োজনীয় খাদ্যের অভাবে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছে। এছাড়াও বিকল্প পূনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে।

    সেবা ও সমস্যা সমাধানের বার্তা নিয়ে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় বাস্তুচ্যুত এলাকা পরিদর্শন করেন ও তাদের দাবী-দাওয়া এবং সমস্যাগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই সমাজ ব্যবস্থার ভিত্তিমূলে রয়েছে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের সক্ষমতা অর্জন। এর মধ্যে মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল একটি। বাসস্থানের নিশ্চয়তা না থাকলে একটি পরিবার কখনো স্বাবলম্বী হতে পারে না। তাই ভূমিহীনদের মাঝে সরকারী ভাবে বাসযোগ্য স্থান বরাদ্দের মাধ্যমে তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব।’

    এরপর এবি পার্টি নেতা ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে টেলিফোনে কথা বলে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পূনর্বাসনের দাবীর বিষয়টি কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।

    পরিদর্শনকালে এবি পার্টির দিনাজপুর জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার, নবাবগঞ্জ উপজেলার সদস্য সচিব ওয়াহেদুজ্জামান, সহকারী সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম, হাকিমপুর উপজেলার সদস্য সচিব আনোয়ার মাহফুজ, এবি যুব পার্টির সদস্য তানভীর আহমেদ সহ বাস্তুহারা ৬২টি পরিবারের সদস্যবৃন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • বীরগঞ্জে বৈদ্যুতিক শ-ক লেগে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রের মৃ-ত্যু

    বীরগঞ্জে বৈদ্যুতিক শ-ক লেগে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রের মৃ-ত্যু

    দিনাজপুর প্রতিনিধি- দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বৈদ্যুতিক শক লেগে ৮ম শ্রেনীর এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে ১৫ জুন রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টায় সুজলপুর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামে।

    নিহত শিশুটি মদনপুর গ্রামের মোবারক মাস্টারের নাতি ও মাহফুজুর রহমান (বাবুর) মেজো ছেলে আরাফ (১৩)। সে আমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র।

    নিহত আরাফ এর চাচা আইনুল হক জানায়, নিজ বাসায় শোয়ার ঘরের বেড সুইচ এর তার লেগে শখ খায়। তাকে দ্রুত বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নবী হোসেন জানায়, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

    আমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব আহসান হাবীব বলেন, আরাফ ছাত্র হিসেবে খুবই ভালো। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

    বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল গফুর বলেন, এ ব্যাপারে কোন সংবাদ আমি পাইনি।

    স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবু সাঈদ রয়েল জানায়, ১৬ জুন সোমবার সকাল ১০ টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

  • কাঁকনহাট পৌরসভায় বিভিন্ন পদে নিয়োগের ত-দন্ত করবেন দুদক,  প্রশাসক বললেন চিঠি পাইনি

    কাঁকনহাট পৌরসভায় বিভিন্ন পদে নিয়োগের ত-দন্ত করবেন দুদক, প্রশাসক বললেন চিঠি পাইনি

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌরসভায় চাকরির নিয়োগ নিয়ে ওঠা বিতর্কিত অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় দেড় বছর আগে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে, যা এখন বাস্তবে রুপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন অভিযোগকারীগন।

    গত ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে কাঁকনহাট পৌরসভা ছয়টি পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। পদগুলো ছিল-স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, স্টোর কিপার, সহকারী কর আদায়কারী, সার্ভেয়ার, কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক। আবেদনের শেষ সময় ছিল একই বছর ৩ ডিসেম্বর। নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ এবং আর্থিক লেনদেনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

    এ সময় পৌরসভার দায়িত্বে ছিলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও তৎকালীন মেয়র একেএম আতাউর রহমান খান। সেই সময় সহকারী কর আদায়কারী পদে চাকরির আবেদনকারী সানজিদা শেখ সরাসরি মেয়র এবং তৎকালীন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দেন।

    সানজিদা শেখ, যিনি সাবেক প্যানেল মেয়র গোলাম মর্তুজা শেখের কন্যা, গত ২৬ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে পদের প্রার্থীদের সম্ভাব্য নাম প্রকাশ করেন। তার ভাষ্যমতে, “নিয়োগের আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে কে কোন পদে চাকরি পাবেন।” সংবাদ সম্মেলনের পর তিনি মারধর ও হুমকির শিকার হন বলেও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

    নাম প্রকাশিতদের তালিকায় ছিলেন-স্টোর কিপার পদে শিহাব উল্লাহ (মেয়রের নাতি), সহকারী কর আদায়কারী পদে মহাসিনা আক্তার, সার্ভেয়ার পদে ইফতেহাদ আহম্মেদ স্বপন, কম্পিউটার অপারেটর পদে হিমেল ও অফিস সহায়ক পদে মেহেদী হাসান। পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার ‘বিশেষ প্রার্থী’ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদের জন্য নির্ধারিত বলেও তিনি দাবি করেন।

    চলমান বিতর্কের মধ্যেই গত ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, সানজিদার পূর্বানুমান অনেকটাই মিলে গেছে-স্টোর কিপার পদে শিহাব উল্লাহ, সহকারী কর আদায়কারী পদে মহাসিনা আক্তার এবং সার্ভেয়ার পদে ইফতেহাদ আহম্মেদ স্বপন চাকরি পান। তবে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পান শিহাব আলী ও অফিস সহায়ক হিসেবে শরিফুল ইসলাম।

    সানজিদার বাবা গোলাম মর্তুজা শেখ অভিযোগ করেন, শিহাব উল্লাহ ছাড়া বাকি সবাই মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে পাস করেছেন। তার দাবি, “প্রতি পদে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নিয়োগের আগে থেকেই ১০ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।”

    তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে নিয়োগপ্রাপ্ত আসাদুল ইসলাম ও শিহাব আলী বলেন, তারা কোনো ধরনের ঘুষ দেননি।

    এ ঘটনায় তৎকালীন পৌর মেয়র ও নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন। রাজশাহীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন জানান, “ঈদের ছুটির আগেই তদন্তের নির্দেশনা এসেছে, ছুটি শেষে কাজ শুরু করব।”

    কাঁকনহাট পৌরসভার বাসিন্দা মানসুরুর রহমান বলেন, ঘুষ অবশ্যই লেনদেন হয়েছে, যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।

    কাঁকনহাট পৌরসভার সফল প্রশাসক ও গোদাগাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শামসুল ইসলাম বলেন, আমি শুনেছি বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোন চিঠি পাই নি। চিঠি পেলে দেখা যাবে।

    কাঁকনহাট পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবইল রিসিভ করেন নি তাই বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

    কাঁকনহাট পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজাহার আলীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে শুরু করা সাথে ব্যস্ততা দেখিয়ে মোবাইল কেটে দেন।

    উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র আতাউর রহমান বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। অপরদিকে রেজাউল করিম হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে থাকায় তার প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক।

  • রাজশাহীর  যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ফার্মেসী। সিভিল সার্জন বললেন সবাইকে সচেতন হতে হবে

    রাজশাহীর যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ফার্মেসী। সিভিল সার্জন বললেন সবাইকে সচেতন হতে হবে

    নিজস্ব প্রতিবরদক, রাজশাহী : রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ফার্মেসি। ওই সব ফার্মেসীর অনেক মালিক নিজের নামটি লিখতে কলম ভাঙ্গে অথচ ডাক্তার সেজে ঔষুধ ও ব্যবস্থা পত্র দিয়ে থাকেন। রোগ মুক্তি নয় ওষুধ বিক্রি যেন তাদের মুখ্য উদ্দ্যেশ্য।

    অনেক সময় এমবিবিএস ডাক্তারগণ রোগীর অবস্থা ” নামীদামী কোম্পানীর ঔধুষ প্রেসক্রিপশনে লিখলেও ওই সব অর্ধশিক্ষিত, অপ্রশিক্ষিত ওষুধ বিক্রেতারা বেশী লাভের আশায় ডাক্তারের লিখা ওষুধ পরিবর্তনও করে দিচ্ছেন অহরহ। ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে আশাংকাজনকভাবে।

    ওষুধ প্রশাসনের আইনে বলা হয়েছে, দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ কোনও ওষুধ বিক্রি বা মজুদ রাখা যাবে না। ড্রাগ সার্টিফিকেট টানানো থাকবে হবে। ওষুধ বিক্রয়ের সময়ে ক্রেতাদের প্রতিটি ওষুধের নাম মূল্যসহ ক্যাশ মেমো প্রদান করতে হবে। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনও ওষুধ বিক্রি করা যাবে না। দেশীয় ওষুধ ব্যতীত বিদেশি ওষুধ বিক্রি করা যাবে না। এসব নিয়ম থাকলেও মানছেন না বেশির ভাগ ফার্মেসি।

    ফার্মেসীর মালিকগণ ঔষধকে মনে করেন খাদ্যদ্রব্য, আলু, পটল কিংবা বেকারী পুন্য। বিক্রি করতে পারলেই হয়। অনেক মেয়াদ উর্ত্তীন ওষুধ, স্যাম্পল রেখে বিক্রি করা হচ্ছে দেদারসে। এমনকি কোম্পানীর নির্ধারিত মূল্যের উপর ওভার রাইটিং করে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কলম দিয়ে লিখে বিক্রি করা হচ্ছে ।

    এদিকে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনার খবর পৌছা মাত্রই গোদাগাড়ী পৌরসভার গোদাগাড়ী,, হাটপাড়া, সুলতানগজ্ঞ, মহিশালবাড়ী, সিএন্ডবি, রেলবাজার, মাওলানার গেট, উপজেলার রেলগেট, হাজীরমোড, হরিসংকরপুর, পিরিজপুর, বিদিরপুর, প্রেমতলী, কুমুরপুর, রাজাবাড়ী, কাঁঠালতোলা, কামারপাড়া, বাসুদেবপুর, বালিয়ঘাটা, কাঁকনহাট, ২৪নগর প্রভূতি এলাকার ২ শতাধিক ফর্মেসীর মলিক দোকান লাগিয়ে পালিয়ে যায় বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। যতক্ষন অভিযান চলে ততক্ষুন দোকান বন্ধ থাকে। এচিত্র অন্য উপজেলা ও পৌরসভা এলাকার।

    কোম্পানী ওষুধের দাম বৃদ্ধি না করলেও ফার্মেসীর মালিকগন ইচ্ছা মাফিক দাম হাকাচ্ছেন, প্রশ্ন করলে ওষুধ বিক্রি নেই বলে তখন ক্রেতা সাধারন উপায়হীনভাবে কোম্পানীর নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। আইন থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগ না থাকায় কিংবা শাস্তির বিধান কম হওয়ায় এ সব অবৈধ কারবার চলছে দেদারসে।

    রাজশাহী জেলার সিভিল সর্জন ডা. এস.আই. এম. রাজিউল করিম এ প্রসঙ্গে বলেন, ফার্মেসীর মালিক ঔষধের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ঔষধ প্রদানের বিষয়টি করতে পারেন না। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর তাদেরকে ফার্মেসীর লাইসেন্স প্রদান করে থাকে বিষয়টি তারাই তদারকি করেন। এ ব্যপারে আমাদের কিছু করার নেই। তবে নিন্মমানের ঔষধ, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ, বেশী মূল্যে ঔষধ বিক্রির বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। কেউ অভিযোগ করলে তাৎক্ষিন, উপজেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকারকে সাথে আমরা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এটা আমাদের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আর এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, এটা জাতীয় ইস্যু, রোগি দেখার সময়, অফিস আওয়ারের মধ্যে বিভিন্ন কম্পানীর প্রতিনিধি /রিপ্রেজেন্টটিভ/ কর্মকর্তা কোনভাবে ভিজিট করতে পারবেন না। কোন উপঢৌকন, গিফট প্রদান, গ্রহন করতে পারবেন না। তবে সপ্তাহে ২ দিন রোগি দেখা ও অফিস আওয়ারের বাইরে কম্পানীর প্রতিনিধি/রিপ্রেজেন্টটিভ/ কর্মকর্তাগন ডাক্তারের সাথে সাক্ষাৎ করতে করে তাদের নতুন প্রডাক্টের ব্যপারে কথা বলতে পারেন। তিনি বলেন, কোন মেডিকেল এ্যাসিটেস্ট জেলা সদর, উপজেলা সদর, পৌরসভার মধ্যে কোনভাবে রোগি দেখতে পারবেন না। সাইনবোর্ডে, ব্যবস্থাপত্রে নামের আগে ডা. ব্যবহার করতে পারবেন না। শুধু মাত্র তারা গ্রাম্য এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করতে পারবেন।
    মানুষকে ঔষধ সেবন, গ্রহনের ক্ষেত্র সচেতন হতে হবে। কোনা রেজিষ্টার ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র, পরামর্শ ছাড়া ঔষধ সেবন, ক্রয়বিক্রয় করতে পারবেন না।

    রাজশাহীর ঔষধ অধিদপ্তরের তত্বাবধায়ক মোঃ শরিফুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ড্রাগ লাইসেন্স ব্যতিত কেউ ফার্মেসী চালাতে পারবে। রাজশাহীতে প্রায় ৪ হাজার ৩৫ টি লাইসেন্সকৃত ফার্মেসী রয়েছে। এছাড়া গোদাগাড়ীতে ২৬৩ টি, তানোরে ১৭৮ টি লাইসেন্সকৃত ফার্মেসী রয়েছে। প্রতিবছর প্রতিবছর ৭ শ থেকে ৮শ ফার্মেসীর মালিক লাইসেন্স নাবায়ন করেন না। শ্রেণীভেদে ১৮ শ থেকে ২৫ শ টাকা নবায়ন ফি এর সাথে ১৫ ভাগ ভ্যাট যুক্ত হয়। যে সব ফার্মেসীর মালিক লাইসেন্স ছাড়া ঔষধ বিক্রি, মেয়াদ উত্তীর্ণ , নিন্মমানের ঔষধ বিক্রি করেন তাদের বিরুদ্ধে আমাদের নিজস্ব জনবল নিয়ে ঔষধ ও কসমেটিক আইন ২০২৩ অনুযায়ী, অভিযান পরিচালনা করা হয়। যারা ড্রাগ লাইসেন্স নিয়ে আর নবায়ন করেন না তারা আইনের চোখে বড় অপরাধী।

    গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাসানুল জাহিদ বলেন, ফার্মেসীর মালিকগণ কোনভাবে রেজিস্টার ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া রোগিকে ঔষধ দিতে পারবেন না। নিজে কোনভাবে ব্যবস্থাপত্র, ঔষুধ দিতে পারবেন না। মেয়াদ উর্ত্তীন ওষুধ, স্যাম্পল রেখে বিক্রি করতে পারবেন না।
    কোম্পানীর নির্ধারিত মূল্যের উপর ওভার রাইটিং করে বেশী দামে বিক্রি করতে পারবেন না। এটা আইনগতভাবে অপরাধ। এদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকারকে সাথে নিয়ে অভিযান চলছে।

    নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ফার্মেসীর মালিক জানান, মুদিখানা, চায়ের দোকান, পান সিগারেট এর দোকানে ঔষধ, সেলাইন বিক্রি হচ্ছে, গোদাগাড়ীতে অনেকের ড্রাগ লাইসেন্স নেই এবং লাইসেন্স থাকলেও নবায়ন নেই। ফার্মাসিস্টের প্রশিক্ষণ সনদ নেই। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি করা একেবারেই উচিৎ নয়।

    একজন নিয়মিত ঔষধ ক্রেতা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ওষুধ বিক্রেতা ও ক্রেতাকে বুঝতে হবে ওষুধ কোন খাদ্য দ্রব্য নয় এটি মূলত এক ধরনের বিষাক্ত দ্রব্য। নিয়মমাফিক ব্যবহার না করলে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক হুমর্কী হয়ে দাঁড়ায়। এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার স্বীকার হচ্ছে অনেক রোগী। একজন মানুষ ১ পাতা ঘুমের ঔষধ নিতে আসলেও রেজিষ্টার ডাক্তারের ব্যবস্থা পত্র দিয়ে দেন এটা কিন্তু উচিত নয়। ফার্মেসী ব্যবসায়ীদের আরও সচেতন হতে হবে।

    ডাক্তারী পরামার্শ ছাড়া এক রোগের ঔষুধ খেতে গিয়ে অন্য একটি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। গোদাগাড়ীর বিভিন্ন ফার্মেসী গুলিতে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঔষুধ বিক্রির কাজে জড়িতদের শতকরা ৯০ ভাগেরই ওষুধ সম্পর্কে ভাল ধারনা নেই। ফলে ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রোগীরা ধারনা পায় না। তারা ডাক্তারী প্রেসক্রিপশন চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভাব করে না। ক্রেতা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে নাম উল্লেখ করে ঔষধ চাইলে ফার্মেসীর মালিকগণ ওষুধ বিক্রি করে থাকেন। আবার অনেক দিনের মেয়াদোর্ত্তীর্ন পুরানো প্রেসক্রিপশন নিয়ে অনেক রোগী ফার্মেসীতে আসলে প্রেসক্রিপশনের তারিখ ওষুধ সেবন করার সময়সীমা দেখার প্রয়োজনবোধও করেন না বিক্রেতাগন।

    এদিকে বেশীর ভাগ ডাক্তারগণ কোম্পানীগুলোর বিভিন্ন রকমারী দামী উপঢোকনের (দামী উপহার সামগ্রী) কারণে রোগী দেখার চেয়ে বেশী সময় ব্যয় করে থাকেন কোম্পানী রিপ্রেজেন্টিভদের (প্রতিনিধিদের) সাথে। রোগী অসুখে কিংবা, পেট ব্যথায় ছটপট করলেও ডাক্তারদের মন এতোটুকু গলে না এখানে রোগী গৌন আর ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি মূখ্য শুধু মাত্র দামী উপহার সামগ্রীর কারণে। গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, সততা ইসলামী হাসপাতালে দীর্ঘ লাইনে ঔষুধ কম্পানী গুলির প্রতিনিধিদের উপহার সামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যান। এছাড়া ডাক্তারের রুম থেকে রোগির স্বজনেরা বের হওয়ার মাথে সাথে প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেন, ছবি তুলেন, কোন কম্পানীর ঔষুধ নিখেছেন, তারটা আছে কিনা, এ যেন রোগির লোকজন ও ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের এক সংঘর্ষ।

    অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও বাস্তব সত্য ডাক্তারী রোগী দেখা ফি এর উপর সরকার যে ভ্যাট বসিয়েছেন সেটির টাকাও রোগীদের নিকট থেকে গ্রহন করা হচ্ছে। এ অবৈধ কারবারটি জেলা শহর, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা শহরের নামীদামী ডাক্তারগণও করছেন নিজেদের খেয়াল খুশি মতো। শুধু কি তাই ডাক্তারদের সিরিয়্যাল দেওয়ার জন্য উৎকোচ দিতে হচ্ছে ১শ ৫০শ থেকে ২ শ টাকা। ভুক্তভোগী সচেতন মহলের দাবী জরুরী ভিক্তিতে এদের বিরুদ্ধে এদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের।

    মোঃ হায়দার আলী,
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।