সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ) ঃ বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন ভুল সংশোধন করা নিয়ে বিপাকে দেশের অনেক নাগরিক। বিভিন্ন ভাবে হয়রানির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। বেশিরভাগ নাগরিক তাদের নিজ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সেবা নিতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার (২৮ জুন ২০২৫ইং) জানা গেছে, বাংলাদেশের নাগরিকদের অনেকেরই জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম ও তারিখ এবং বয়স ভুল দিয়ে এগুলো সংশোধন করতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। এখন আবার ২০ জানুয়ারী ২০২৫ইং তারিখ থেকে বাড়ি বাড়ি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। যাদের জন্ম ০১/০১/২০০৮ সালের আগে, কিন্তু তারা ভোটার হন নাই তারাই এখন ভোটার হতে পারবেন। ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: ১। অনলাইন জন্ম সনদ, ২। জেএসসি/এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট (থাকলে) ৩। বাবা-মায়ের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, ৪। চেয়ারম্যান কতর্ৃক পরিচয়/ নাগরিকত্ব সনদ, ৫। স্থায়ী ঠিকানার প্রমানস্বরুপ বিদ্যুৎ বিলের কপি, এসব কাগজগুলো থাকলে কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই নিজে নিজেই নির্ভল ভাবে আবেদন করে ভোটার হতে পারবেন।
জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার আমিনপুর থানার সাগরকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সংশোধন করা নিয়ে এখনো অনেকেই বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার। জাতীয় সেবা পেতে জনগণ আর কত হয়রানির শিকার হবেন জাতি জানতে চায়। এ দিকে নতুন সরকার দেশ পরিচালনা করছেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর পুলিশের নতুন পোশাক তৈরি, আবারও ২০২৫ ইং ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে কিন্তু এবার যাতে ভুল না হয় সেইজন্য সচেতন হওয়া জরুরী। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করা নিয়ে এক নারী ঢাকার আদালতের সাহায্য সহযোগিতা নিতে হয়েছে, তারপরও সমাধান হয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন নিয়ে সমস্যার কারণে করোনা টিকা নিতে পারেননি অনেকেই।
পাবনা জেলার সুজানগরের এক শত বছরের বৃদ্ধ মানুষ জীবিত থাকলেও নথিপত্রে তাকে মৃত দেখানো হয়েছিলো। তার ভোটার আইডি নং ৭৬১৮ ৩৭৬৩৩৫৫২৬। নাম তার মোঃ লোকমান হোসেন মন্ডল, তিনি সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের গুপিনপুর গ্রামের মৃত উজির মন্ডলের ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল করার কারণে সূত্রমতে, সেসময় তার বয়স্ক ভাতা ৮মাস ধরে বন্ধ থাকে। এ রকম জীবিত মানুষ মৃত, নাম ভুল, বাবার নাম ভুল, মহিলাদের স্বামীর নাম ভুল এবং জন্ম তারিখ ভুলসহ জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন নিয়ে হয়রানির শেষ নেই ভুক্তভোগীদের এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে।
দেশের প্রতিটি নাগরিকের সরকারি জাতীয় সেবা পাওয়ার অধিকার আছে কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন ভুল সংশোধন করতে গিয়ে অনেক মানুষ হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়, এটি জাতীয় সমস্যা। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সহজ ভাবে সংশোধন করার দাবি জানান সচেতন মহল। জাতীয় পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) হারিয়ে ফেলেছেন, ফরম/স্লিপ নেই, আইডি নাম্বার মনে নেই, জন্ম তারিখ মনে নেই। ফেস ভেরিফাই হচ্ছে না, এরকম বিভিন্ন সমস্যার কারণে আইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন উত্তোলন করতে পারছেন না অনেকেই, এটি জাতীয় সমস্যা। এ নিয়ে সংশোধন করতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে সঠিকভাবে সেবা না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন অনেক নাগরিক।
রাজধানী ঢাকা ও সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার ইয়ারপুর ইউনিয়ন, শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদসহ দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন এর ব্যাপারে জনগণের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে কিছু তথ্যঃ এক কপি ছবি যাহার জন্ম নিবন্ধন তাহার। টিকা কার্ড। মা, বাবার ভোটার আইডি কার্ড এর ফটো কপি। মা, বাবার ডিজিটাল জন্ম সনদ এর ফটো কপি। ০১-০১-২০০১ এর আগে যার জন্ম তাহার মা, বাবার জন্ম সনদ লাগবে না। বিদ্যুৎ বিল ফটো কপি লাগবে। মোবাইল নাম্বারসহ আরও অনেক কিছু লাগবে শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজে ভর্তির সময়। এরকম পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের কদিম মালঞ্চী এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদে জনগণকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা নানারকম সমস্যার কথা বলে সেবাদানে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন।
অনেকেই জানান, জাতীয় সেবা এখন আপনার হাতের নাগালে এটা কথার কথা। জাতীয় পরিচয়পত্র-সমাধান কেন্দ্র নামের একটি সূত্র জানায়, আমরা সকল কাজে অগ্রিম পেমেন্ট নিয়ে থাকি, সেখানে ৪টি নাম্বার দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে একটি ০১৮১১৭৬২৩৬৯। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন জানান, আইডি কার্ড উত্তোলন, সংশোধন, নিবন্ধন, সকল কাজ খুব দ্রুত সময়ে র্নিভুল ভাবে করার জন্য নির্বাচন কমিশন সবসময় চেষ্টা করে আসছেন। মূলতঃ জন্মনিবন্ধন ও ভোটার আইডি কার্ডটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সম্পত্তি। এই বিষয়ে দায়িত্বে থাকা যদি কেউ অনিয়ম করে আর জনগণের সেবা না দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট উপর মহলের প্রশাসনের দাবী। তবে উক্ত ব্যাপারে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর জনসাধারণের হয়রানি কিছুটা কমেছে। অভিযোগ- যেকোনো ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা নাগরিক এর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। জানা গেছে, দেশের পোশাক কারখানায় যেসকল শ্রমিক কাজ করছেন অনেক শ্রমিকের ভুল ঠিকানায় চাকুরি নিয়ে কাজ করছেন, বা ঠিকানা সঠিক থাকলেও বয়স বাড়ানো কমানো রয়েছে। জাতি জানতে চায় উক্ত নাগরিক সমস্যা পুরোপুড়ি ভাবে সমাধান হবে কি?।###
Blog
-

সারাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সংশোধন করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ
-

নতুন বাংলাদেশে কি বৈ-ষম্য থেকে যাবে..?
সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ)ঃ বাংলাদেশ কোথায় ছিলো? পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিভক্ত-আলাদা করে “১৯৭১ইং সালে মু্ক্তিযুদ্ধের পর দেশ স্বাধীনতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন থেকে ২০২৪ ও ২০২৫ইং চলমান পরিস্থিতি কেমন এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে তার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের চাওয়া পাওয়ার হিসাব চলছে, নতুন বাংলাদেশে বৈষম্য কি থেকে যাবে???
বিশেষ করে ১। প্রজাতন্ত্র-বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যাহা “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নামে পরিচিত”। ২। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা-প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তভুর্ক্ত হইবে। ১৯৭১ সালের পর চলমান ঘটনার আড়ালে অনেক রহস্য। ১৭ বছর আগের পুলিশ প্রশাসন ও বর্তমান পরিস্থিতি আলাদা। দেশে সাংবাদিক, পুলিশ প্রশাসনসহ বেশিরভাগ মানুষ এখন সততার সাথে কাজ করছেন, সৎ ও সাহসীকতার সাথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে যারা কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরকে সবাই সহযোগিতা করা দরকার বলে মনে করেন অনেকেই। আপনারা জানেন যে, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব এবং ভুমিকা কি? এ নিয়ে আলোচনায় পরে আসি।
বাংলাদেশের ইতিহাসঃ তথ্য সুত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এক ছাত্র সভায়, তথ্যসূত্র-কমপিউটার বিসিএস প্রিলিমিনারী গাইড এর ৮৭নং পাতা। যার ডাকে বাংলার মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তিনিও আজ আমাদের মাঝে নেই। এখন আমরা স্বাধীনভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি, স্বাধীনভাবে পথ চলছি, একবারও কি তাদের আত্মার মাফেরাতের জন্য আমরা দোয়া করি? সবাই সবার জন্য দোয়া করা দরকার, এই দেশ আপনার আমার সবার, তাই কেউ আমরা দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। ১৯৭১ সালে যারা শহীদ হয়েছেন আনুমানিক ৩০ লাখ মানুষ আর দুই লাখ মা বোনের ইজ্জত হারিয়েছেন। ২০২৪ইং ৫ আগষ্টে শেখ হাসিনা দেশে থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে বা পরে ৩২০০ পুলিশ সদস্য ও ৬ শতাধিক ছাত্র-জনতার অকালে মৃত্যু হয়েছেন, এখনও মানুষ নিরাপদ নয় বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন।
বিশেষ করে আপনার আমার বা আমাদের পরিবার, সমাজ, দেশ ও দেশের সম্পদ রক্ষা করতে আমাদেরকেই সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। যে জাতি যতো সচেতন হবেন-সেই জাতি ততই উন্নতির দিকে যাবেন। আমরা কেউ কারো হিংসা ও নিন্দা না করি, বিবাদ সৃষ্টি না করি, যার যে কাজ ওই কাজের দায়িত্ব সঠিকভাবে গুরুত্বসহকারে করার চেষ্টা করবো। আমরা দুইদিনের মেহমান, আজ আছি, আগামীকাল হয়তো থাকবো না। খারাপ কাজ করা সহজ কিন্তু ভালো কোনো কাজ করে দেখাই যে, এই কাজটি আমরা মানবতার কল্যাণে করেছি। ভালো কিছু করতে বেশি অর্থ লাগেনা, ভালো মন মানুষিকতা হলেই চলে। হে মানুষ তোমার সবকিছুরই চাহিদা আছে সত্য কিন্তু যৌবনের চাহিদা আর পেটের খাবারের চাহিদা না থাকলে কোনো কাজ করার দরকার হইতো না। যৌবন মানব জীবনের এক শ্রেষ্ট সম্পদ তাকে অস্বীকার করা যায় না, দেহগত যৌবন আর মানুষিক যৌবন একরকম নয়। যৌবন অস্থায়ী আর মানুষিক আত্মার অভাব হলে সেই মানুষটি ভালো হতে পারবেন না। আমরা যে মানুষ, যে ধর্ম পালন করি না কেন, একদিন বিচারকের সামনে হাজির হতেই হবে। আমরা অন্যের জন্য সবকিছু করছি, নিজের জন্য কি সঞ্চয় করলাম তা কেউ ভাবছেন? বুঝতে পারলে সেই বুদ্ধিমান।
মানুষের জন্মের পর ধর্ম-কর্ম নিয়ে মানুষের জীবন। কারো মনে কষ্ট দিয়ে বা কারো ক্ষতি করে কেউ কি লাভবান হওয়া যায়? আসুন আমরা সত্যের সন্ধ্যানে মানবতার কল্যাণে কাজ করি। বাংলাদেশের মানুষ আমরা আমাদের সঠিক ইতিহাস জানা দরকার। অবশ্যই আইন মেনে কাজ করতে হবে, সেজন্য সচেতন মহল ও সাংবাদিকদেরকে বেশি বেশি আইনের বই পড়তে হবে। বাংলাদেশের সংবিধান মানতে হবে। সংবাদকর্মী বা সাংবাদিক হলে তার আগে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি বই পড়তে হবে। প্রতিদিন সংবাদ সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট মিডিয়াতে প্রকাশ করতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ম্যানুয়েল বই পড়তে হবে। জনগণের নাগরিক সমস্যা আছে কি-না তা সচেতন মহলকে দেখতে হয়। বাস্তবতা অনেক কঠিন, আশা করি সবাই বুঝতে পারছেন? আমাদের সবার জন্য সঞ্চয় দরকার, তবে সেই সঞ্চয় অর্থ বা সম্পদ নয়। সবকিছুরই হিসাব দিতে বাধ্য হবেন সবাই, আকাশের দিকে থুথু ফেললে নিজের শরীরে পড়তে পারে তাই সাবধানে চলতে হবে। ১৭ বছর আগের পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিক আর বর্তমান সময়ের পুলিশ প্রশাসন একরকম নয়। ২০২৫ইং চলমান পরিস্থিতি যেমনই হোক দেশে ধর্ষণ বাড়ছে, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই বাড়লেও তবে হত্যার সংখ্যা কম আর রাজনৈতিক জটিলতা বাড়তে শুরু করেছে-বাকিটা ইতিহাস। দেশের মানুষ কেমন আছেন তা জাতি জানতে চায় আর সবক্ষেত্রে কি বৈষম্য দূর হয়েছে? এমন কেউ বলতে পারেন যে, বৈষম্য থেকেই যাচ্ছে। দেশ কারো বাবার সম্পদ নয় এই দেশ প্রায় ১৮ কোটি জনগণের, আর সেই জনগণের দুহাই দিয়ে সবাই রাজনৈতিক বক্তব্য দেন কিন্তু জনগণের চিন্তা কে করেন??। -

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে নেছারাবাদে র্যালি ও আলোচনা সভা
নেছারাবাদ উপজেলা সংবাদদাতা।।
‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়, বন্ধ করতে এখনই সময়’ এই প্রতিপাদ্যে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে নেছারাবাদের স্বরূপকাঠিতে র্যালি, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালি শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলায় এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রশাসক মোঃ জাহিদুল ইসলাম, নেছারাবাদ উপজেলা যুব ফোরাম এর আহবায়ক সুর্বনা আক্তার এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, রুপান্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা সাহিদা বানু সোনিয়া, সুন্দরবন জার্নালিষ্ট ফোরামের নেছারাবাদ উপজেলা আহবায়ক সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, উপজেলার যুব ফোরামের সদস্য, রুমানা আক্তার, রনি, রিমি, তন্নি হেনা,ফাহিমা শায়লা,রিয়াদুল ইসলাম প্রমুখ।
মোঃ হারিসুল ইসলাম এর সঞ্চালনায়, সভায় বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা জরুরি। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা, তৃণমূল পর্যায় থেকে সবাই এগিয়ে এলে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব।
-

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কা-রাগারে মাদ-কের কু-ফল সম্পর্কে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী : “রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ” এ মিশন ভিশনকে বাস্তবায়ন করতে তারুণ্যের উৎসব–২০২৫ উদযাপন এবং সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ তরুণদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কারাগারে অন্তরীণ ও কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশই তরুণ। এই তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, তাদের মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সর্বোপরি মাদক ও ধূমপানের কুফল সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এই আয়োজনের অংশ হিসেবে গত ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মোঃ কামাল হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহী এর অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আলি আসলাম হোসেন। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোঃ শাহ আলম খান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের অমূল্য সম্পদ এই তরুণরা। মাদক থেকে দূরে রেখে তাদের যথাযথভাবে গড়ে তুললে তারা দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বন্দিদের মাঝে মাদকবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দিতে নাটক, গান ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অপরদিকে, (২৭ জুন ২০২৫) তারিখে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার ও কোকো স্মৃতি ক্লাবের তরুণ ফুটবলারদের অংশগ্রহণে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে উপস্থিত থেকে বিজয়ী দল কোকো স্মৃতি ক্লাব এবং বিজিত দলের মাঝে ট্রফি বিতরণ করেন কারা উপ-মহাপরিদর্শক মোঃ কামাল হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোঃ শাহ আলম খান, কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র প্রধান প্রশিক্ষক মোঃ তারেক কামাল, কারাগারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক নুর মোহাম্মদ মৃধা, জেলার আমানুল্লাহ ও অন্যান্য কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এই প্রীতি ম্যাচের মধ্য দিয়ে তরুণদের শরীরচর্চা, শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতার চর্চা যেমন হয়েছে, তেমনি তাদের মাঝে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও গড়ে উঠেছে।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের এধরনের প্রথম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কারাগারের আবদ্ধ পরিবেশে তরুণদের জন্য এমন সচেতনতা ও খেলাধুলার আয়োজন তাদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেশকিছু কয়দি, হাজতী, জামিনে ছাড়া কিংবা খালাস পেয়েছেন। বড় খানার পাশাপশি বন্দিদের জন্য অন্য অন্য সুবিধা ছিল। তবে ঈদে হাজতি ও কয়েদিদের সাথে যে সব আত্নীয় স্বজন দেখা করতে এসেছিলেন তাদের সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়
মিষ্টি মুখ করা হয়। এসব ভাল কাজের জন্য প্রশাংসায় ভাসছেন রাজশাহী কারাগার কতৃপক্ষ। এ ধরনের উদ্যোগ, ইতিপূর্বে কেউ গ্রহন করেন নি বলে জানান উপস্থিত অনেকে।সিনিয়র জেল সুপার মোঃ শাহ আলম বলেন, “রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ’’ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দেশের অন্যতম রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান, কবিতা, খেলাধূলার পাশাপাশি আগত বিপথগামী লোকদের সঠিক প্রেষণা প্রদানের মাধ্যমে তাদের কৃত ভুল বুঝতে সহায়তা করা ও সংশোধন করা এবং বর্তমান যুগের সথে তাল মিলিয়ে সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে কারা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছায় বন্দীদের আবাসন সমস্যা দূরীকরণ লক্ষে সমস্ত বন্দীর জন্য সুন্দর আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারাগারে আগত প্রতিটি নিরক্ষর বন্দীকে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও কারাগারে অন্তরীন থাকাকালীন বন্দীদের আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী বিভিন্ন ট্রেডে কারাগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী। -

র্যাব-৪ ও র্যাব-১৩ এর যৌথ অভি-যানে হ-ত্যা মাম-লার যাব-জ্জীবন সা-জাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফ-তার
হেলাল শেখঃ চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী মো. জিল্লুর রহমান ওরফে জিল্লুর (৫৫) কে সাভার থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
র্যাব-৪, সিপিসি-২ এবং র্যাব-১৩ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল শুক্রবার রাতে ঢাকার সাভার থানাধীন হেমায়েতপুর (পূর্বহাট) এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
শনিবার (২৮ জুন) র্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএন রায় নিয়তি গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই আসামী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছিলো। অবশেষে র্যাব-৪ এর অধিনায়কের নির্দেশনায় র্যাব-৪, সিপিসি-২ এবং র্যাব-১৩ এর সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম ছায়া তদন্ত শুরু করেন। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জিল্লুর রহমানকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে র্যাব জানায়।
-

সাফল্য সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবার বাংলাদেশের আম্রকাননে কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত
রংপুর থেকে বিভাগীয় প্রতিনিধি আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন। —
সাফল্য সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবার বাংলাদেশ রংপুর জেলা শাখার আয়োজনে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর শাহ আম্রকাননে গত শুক্রবার ২৭ জুন দিনব্যাপী আম্রকাননে কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সাফল্য সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবার বাংলাদেশ এর রংপুর বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ইন্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন রংপুরীর সভাপতিত্বে অতিথি বক্তব্য রাখেন কালচারাল একাডেমির পরিচালক, প্রকাশক, কবি ও সাহিত্যিক এমদাদুল হক, বিশিষ্ট কবি,সোশাল ইসলামি ব্যাংক এর কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, বিশিস্ট কবি ও সাহিত্য সংগঠক, অগ্রণী ব্যাংকের ডিজিএম আরিফুল ইসলাম ,শব্দপ্রেমি সাহিত্য সংসদ এর সভাপতি আব্দুল হাদী, হারাগাছ সাহিত্য পরিষদ এর সভাপতি এম এ শোয়েব দুলাল, সাফল্য সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবার বাংলাদেশ গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল কাদের, ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির সভাপতি ফজলে ফিরোজ, শাহ আম্রকানন এর প্রতিষ্ঠাতা কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চাপু্ল শাহ, এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক তুহিন শাহ প্রমুখ। স্বরচিত কবিতা ছড়া গল্প বলায় অংশগ্রহণ করেন আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন, দেলোয়ার হোসেন রংপুরী, এম এম জাকারিয়া, ফিরোজ কবির, আব্দুল হাদী, আহসানুল হাবিব মন্ডল, ইমদাদুল হক খান, হুসবান হাবিব লুব্ধক, খায়রুল আলম, নবীউল ইসলাম, আক্তারুজ্জামান সুলতান, হাফিজ রেদওয়ান, এসএম শোয়েব দুলাল, এসএম ইতি, দীপ শিখা, মুঈদ উল ইসলাম, নুশরাত উপমা, খেয়ালি মোস্তফা, জেসমিন আক্তার, সুফি জাহিদ হোসেন, রিয়াজুল হক সাগর, সুরাইয়া, আবুল কালাম আজাদ, মুসাফা আক্তার বাণু, আহসান হাবিব রবু, নাজিরা পারভীন, জিমান্ত, মারুফা আক্তার, অহিদুল ইসলাম, মোজাহারুল ইসলাম, ফজলে ফিরোজ, একেএম ফরহাদ হোসেন, এমদাদুল হক চৌধুরী, আরিফুল ইসলাম, শরিফা খাতুন, মুমতাহিন সিফাত, আব্দুল কাদের, শিল্পী সরকার, খায়রুজ্জামান দুদু, রাসেল আহাম্মেদ ডালিম কুমার, নাসরিন নাজ কবি প্রমুখ। কবিতা পাঠ শেষে উপস্থিত সকল কবি লেখক স্থানীয় শালবন, জমিদার বাড়ি, পুরাতন দিঘি ও মন্দির, শ্যামপুর চিনিকল পরিদর্শন করেন।
এবারের ব্যতিক্রমী আয়োজনে সকালে আম, কাঠাল ও মুড়ি দিয়ে বিশেষ ধরণের নাস্তা সকলেই আনন্দের সাথে উপভোগ করেন। এছাড়াও দুপুরের খাবারে ১৮ পদের ভর্তা, টাটকা আমের বিচিত্র আাঁচারসহ নানারকম আমের স্বাদ আস্বাদন সকলকে মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম এর উপর একটি বিশেষ সেমিনার এবং সাহিত্য সংস্কৃতি উৎসব এর আয়োজনসহ আগামী ৩১ অক্টোবর শুক্রবার দিনব্যাপী সাফল্য সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবার বাংলাদেশ এর ১০ ম বর্ষপূর্তী উৎসব ও কবি-লেখকদের সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আম্রকাননে কবিতা উৎসবের এ আয়োজনে রংপুর বিভাগের আট জেলা সহ ১৫ জেলার শতাধিক কবি লেখক অংশগ্রহণ করেন। -

উজিরপুরে বিএনপি নেতার মৃ-ত্যু বিভিন্ন মহলের শো-ক
উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের তিনবারের বিএনপি’র সাবেক সফল সভাপতি ও তিনবারের সাবেক জনপ্রিয় ইউপি সদস্য আলহাজ্ব মোবারক হোসেন কালু মেম্বার।
২৮ জুন শনিবার রাত ১:৩০ মিনিটে কিডনি সংক্রান্ত জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল (৮৫)। তিনি ৭ নং ওয়ার্ডের ধামসর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।মৃত্যুকালে তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্রসহ অসংখ্য গুনিগ্রহ রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উজিরপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, উজিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এস এম আলাউদ্দিন, বিএনপি’র সদস্য সচিব মোঃ হুমায়ুন খান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আ খ ম শামসুদ্দোহা আজাদ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ মুরাদ হোসেন রনি, বামরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন জুগলু, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, বিএনপির নেতা আলতাফ মাহমুদ মিলন হাওলাদার, সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিকেল জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানের দাফন করা হয়।
-

অষ্টধারে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় VWB কার্ড বিতরণে লটারির মাধ্যমে উপকারভোগী বাছাই
আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহের সদর উপজেলার অষ্টধার ইউনিয়নে দুস্থ অসহায় নারীদের জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ভালনারেবল উইমেন বেনেফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের আওতায় ১ জুলাই /২০২৫ হতে ৩০ জুন/২০২৭ চক্রের (ভিডব্লিউবি) প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন, খাদ্য ও কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করণে ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের মিলনায়তনে এ লটারির আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে লটারি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম প্রিন্স।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক সহযোগীতায় আয়োজিত লটারি কার্যক্রম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রিন্স জানান, অষ্টধার ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৫১০জন আবেদনকারী VWB কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। এদের মধ্য থেকে স্বচ্ছ লটারির মাধ্যমে ১৮৩ জন নারীকে উপকারভোগী হিসাবে বাছাই করা হবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই সরকারি সুবিধাগুলো প্রকৃত প্রাপকের হাতে পৌঁছাক। এজন্য উন্মুক্ত লটারি ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।”
কার্যকর প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে সেবা প্রণয়নে স্বচ্ছতা এবং তা বাস্তবায়নে জবাবদিহিতার বিকল্প নেই বলে জানিয়ে যাচাই বাছাই টিম সম্বন্বয়ক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজা বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার দিকে এগুচ্ছে। তাই সকল স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রচেষ্টাও অব্যাহত আছে। বিডব্লিউবি কার্যক্রমে প্রকৃত উপকারভোগী বাছাইয়ে লটারী কার্যক্রম তারই অংশ। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বচ্ছতা, আস্থা ও সরকারের প্রতি বিশ্বাস আরও জোরদার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অপরদিকে লটারির মাধ্যমে উপকারভোগী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় এলাকাবাসির প্রশংসা কুড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এতে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে উপকারভোগী নির্বাচিত হওয়ায় আবেদনকারীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন। উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ইউএনওর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। ভুক্তভোগী আবেদনকসরীরা জানান, “আমরা ভেবেছিলাম হয়তো সুপারিশ বা প্রভাব খাটানো হবে, কিন্তু ইউএনও স্যারের কারণে সব কিছু স্বচ্ছভাবে হয়েছে।
এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। যাচাই-বাছাই শেষে সচ্ছতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়ে ইউনিয়নের কয়েকজন উপকারভোগীরা লটারীর মাধ্যমে প্রকৃত গরীব অসহায়দের বিডব্লিউবি এর আওতায় সেবা পেতে সহযোগীতা করায় উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন-যাচাই-বাছাই সচ্ছতা নিশ্চিত করণে উপজেলা প্রশাসনের নিযোজিত সম্বন্বয় টিম প্রধান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল হক ফারুক রেজা, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের (ফিজিও থেরাপি) কনসালটেন্ট ডাক্তার গোলাম মোস্তফা, ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল বারেক (আরজু), ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) এর পরিচালক নাহিদ হাসান, ইউপি সদস্য/সদস্যগণ, ভিজিডি কার্যক্রমের ইউনিয়ন কমিটির সদস্যগণসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সম্মানিত নেতৃবৃন্দ।
-

খাল বিল পুকুরে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কচুরিপানা ফুল উত্তরাঞ্চলে এক সময়ের আ-পদ এখন সম্পদ
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ কচুরিপানার সঙ্গে পরিচিত নন, এমনটা খুঁজে পাওয়া ভার। এটি এমন একটি ভাসমান জলজ উদ্ভিদ, যা বিভিন্ন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। উচ্চ উৎপাদনশীলতা এবং দ্রুত প্রজনন ক্ষমতার জন্য এটি সুপরিচিত। এটা এখন সম্পদে পরিনত হয়েছে।
কচুরিপানা নিয়ে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস। পূর্ববঙ্গে একটা সময় কচুরিপানার প্রকোপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, এটি নিধনের জন্য বিশেষ আইনও প্রণয়ন করতে হয়েছে। গাণিতিক সমস্যা থেকে শুরু করে লোকগীতি, প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও কবিতাতেও স্থান করে নিয়েছে কচুরিপানা।
‘প্রবাসী’ (শ্রাবণ ১৩৬১) পত্রিকায় স্থান পেয়েছে কচুরিপানার সচিত্র প্রতিবেদন। শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মিত্র তো ‘কচুরি পানা’ শিরোনামে ৫৫ পৃষ্ঠার গোটা একখানা পুস্তিকাই রচনা করেছেন! সে কালের পাঠ্যবইতে সংযুক্ত ছিল কচুরিপানা নিয়ে অঙ্ক-‘একটি পুকুরে কচুরিপানা প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পায়। এভাবে ৬০ দিনে পুকুরটি কচুরিপানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। ১৫ দিনে পুকুরটির কত অংশ কচুরিপানায় পরিপূর্ণ হবে?’ এ গণনা সে সময়ে কচুরিপানার দ্রুত বিস্তারের বিষয়টিকেই মনে করিয়ে দেয়।প্রকৃতিতে এখন বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। বর্তমানে পুকুর, ডোবা, খাল, বিল, ঝিল, ক্যানেলসহ বিভিন্ন জলাশয় পানিতে ভরে উঠছে। এর মাঝেই গাঢ় সবুজ আবহ নিয়ে ভেসে আছে কচুরিপানা। গ্রাম বাংলার অতি পরিচিত একটি জলজ বহুবর্ষজীবি উদ্ভিদ এই কচুরিপানা ও তার ফুল! এ যেন প্রকৃতির আপন খেয়ালে বেড়ে ওঠা এক অবহেলিত শোভা।
এক সময়ের আপদ জলজ উদ্ভিদ কচুরিাপনাও এখন রাজশাহীর সম্পদ। কচুরিপানা গবাদিপশুর উৎকৃষ্ট খাবার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এই কচুরিপানা জলজ উদ্ভিদ। নদী ও পুকুর ভাঙ্গন এলাকায় এলাকায় বাঁশ দিয়ে আটকে রেখে ঢেউয়ের আঘাত থেকে ভিটেমাটি রক্ষায় ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া পানিতে স্তূপীকৃত পচা কচুরিপানার ওপরে ভাসমান নানা শাক-সবজিও ফলানো যায়। ফলে চাষিরা পানিতে ভাসমান কচুরিপানার স্তূপগুলোকে কৃষিকাজে ব্যবহার করে। কচুরিপানাকে শুঁকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যও তৈরি করা হয়। কচুরিপানা থেকে তৈরি হচ্ছে টব, ফুলদানি,পাটি, ট্রে, ফলঝুড়ি, ডিম রাখার পাত্র, পাপোশ, মোড়া, টুপি, আয়নার ফ্রেম, ডাইনিং টেবিলের ম্যাটসহ প্রায় ২০ ধরনের পণ্য। ’কচুরিপানা প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও অসাধারণ অনেক কিছু কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার এ প্রসঙ্গে জানান, কচুরিপানা গবাদিপশুর উৎকৃষ্ট খাবার, জৈবসার হিসেবে খুবই শক্তিশালী, এটা ব্যবহার করে কৃষকগণ ভাসমান শাক সবজির চাষ করে থাকে। পুকুর ও বিলে কাপ জাতীয় মাছের ভাল খাবার, রোদে শুকিয়ে জালনী হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এর ঔষধিগুন রয়েছে।
গোদাগাড়ী পৌরসভার কৃষক আব্দুল লতিফ এ প্রতিবেদককে বলেন, এটা গোবরের সাথে পঁচিয়ে কৃষি জমিতে ব্যবহার করলে ফসল উৎপাদন ভাল হয়।
উপসহকারী কৃষি অফিসার অতনু সরকার বলেন, কচুরিপানা কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিকভাবে এসব কচুরিপানা সংরক্ষণ করা হলে জৈব সার তৈরি করা যায়। এতে কৃষকরা ভালো ফলন পাওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হতে পারেন। কচুরিপানা খুব দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। এটি প্রচুর পরিমাণে বীজ তৈরি করে, যা ৩০ বছর পরও অঙ্কুরোদ্গম হতে পারে। পানি পেলে কচুরিপানার ফুল প্রায় সারা বছরই ফোটে। তবে বেশি দিন স্থায়ী হয় না। নাজুক এ ফুল কাণ্ড থেকে আলাদা করলে খুব দ্রুতই নুয়ে পড়ে। তাই এ ফুল জলাশয়ে যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণই মুগ্ধতা ছড়ায়।
মেডিক্যাল পড়ুয়া শিক্ষার্থী নাফিসা জিন্নাহ বলেন, রাজশাহীর বিভিন্ন পুকুর, নদী, খাল-বিলে প্রতি বছর বর্ষার পানিতে বিলের চারপাশ কচুরিপানায় ভরে যায়। এখন মুক্ত জলাশয়ে ফুটন্ত কচুরিপানা ফুল প্রকৃতিতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। এ অরূপ সৌন্দর্য মনকে মাতিয়ে যাচ্ছে। উষ্ণতা বয়ে আনছে প্রকৃতি প্রেমিদের হৃদয়ে।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী -

রাজশাহী নগরীতে পানিতে ডু-বে এক স্কুল ছাত্রের মৃ-ত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহী নগরীর মেহেরচন্ডী ফ্লাইওভার সংলগ্ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কবরস্থান জামে মসজিদ পুকুরে গোসল করতে নেমে ১৫ বছর বয়সী এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্র পানিতে ডুবে মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুর আনুমানিক একটার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
মৃত ছাত্রের নাম রাফসান রাব্বি। সে রাজশাহী অগ্রণী স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং নগরীর উপরভদ্রা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা শফিকুল ইসলাম। রাব্বি ওই এলাকায় পরিবারের একমাত্র ছেলে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাফসান রাব্বি তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কবরস্থান জামে মসজিদ সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে যায়। গোসলের সময় কিছুক্ষণ পর তার আর পানির উপরে দেখা মেলেনি। এরপর বন্ধুদের চেষ্টায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ততক্ষণে সে পানিতে ডুবে মারা গেছে।
এই দুর্ঘটনায় রাফসানের পরিবার এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও পরিচিতজনরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একমাত্র পুত্রের আকস্মিক চলে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়রা মসজিদ পুকুরের আশেপাশে সুরক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে।
মোঃ হায়দার আলী,
নিজস্ব প্রতিনিধি,
রাজশাহী।