Blog

  • আগৈলঝাড়ার বাশাইলে ওহাব আলী মোল্লার জানাজা সম্পূর্ন

    আগৈলঝাড়ার বাশাইলে ওহাব আলী মোল্লার জানাজা সম্পূর্ন

    বি এম মনির হোসেনঃ-

    বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বড় বাশাইল নিবাসি মোঃ ওহাব আলী মোল্লা(৫৮) হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে শুক্রবার রাতে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি….রাজেউন)।
    মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৬ ছেলে, ৪ মেয়ে, নাতী-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।১৭-০৯ শনিবার সকাল ১০টায় বড় বাশাইল ঈদগাঁ ময়দানে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি মোঃ আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেনীর লোকজন। জানাজার নামাজ শেষে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বড় বাশাইল গ্রামের বাশাইল হাট সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

  • উপজেলা প্রশাসন এর আয়োজনে সামাজিক সম্প্রীতি সমাবেশ বরিশালে অনুষ্ঠিত

    উপজেলা প্রশাসন এর আয়োজনে সামাজিক সম্প্রীতি সমাবেশ বরিশালে অনুষ্ঠিত

    বি এম মনির হোসেনঃ-

    বাংলাদেশে রয়েছে অসাম্প্রদায়িকতার নজীর বিহীন উদাহরণ। শারদীয় দূর্গা উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারো অনুষ্ঠিত হলো বরিশালে সম্প্রীতি সমাবেশ বরিশালে রয়েছে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান, সকলের মাঝে আন্তরিকতার সেতুবন্ধন। আজ ১৭ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০ টায় বরিশাল সদর উপজেলা প্রশাসন বরিশালের আয়োজনে উপজেলা সহকারী চত্বরে সামাজিক সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক বরিশাল জসীম উদ্দীন হায়দার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরিশাল সদর মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরিশাল সদর তারিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান বরিশাল সদর উপজেলা এ্যাডভোকেট মোঃ মাহবুবুর রহমান মধু, যুগ্ম আহবায়ক বরিশাল মহানগর যুবলীগ মাহমুদুল হক খান মামুন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টানদের প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সুধী জন উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় অতিথিরা বাংলাদেশের সম্প্রীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে আলোচনা করেন।

  • সেনবাগে উপজেলা পর্যায়ে ২য় বারের মতো শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হলেন রোকেয়া বেগম

    সেনবাগে উপজেলা পর্যায়ে ২য় বারের মতো শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হলেন রোকেয়া বেগম

    রফিকুল ইসলাম সুমন (নোয়াখালী)

    নোয়াখালীর সেনবাগে উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের পাঠদান ইনোভেশন ও বাস্তবায়ন সহ সর্বমোট ২১ টি বিষয়ের উপর পর্যালোচনা করে, জাতীয় শিক্ষা পদক ২০২২ ইং ঘোষিত তালিকায় ২য় বারের মতো শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হলেন, উপজেলার ডোমনাকান্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রোকেয়া বেগম।
    ১৪ সেপ্টেম্বর,বুধবার সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে উক্ত ঘোষণা প্রদান করা হয়।এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভুমি) , উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা রিসোর্স কর্মকর্তা, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ও ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম কবির সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত রোকেয়া বেগম (এম এস এস, বিএড, সি ইন এড) চাকরি জীবনের প্রারম্ভে সেনবাগের চাচুঁয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর দ্বিতীয় কর্মস্থল ডোমনাকান্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২ দশকের ও বেশি সময় যাবত সততা ও নিষ্ঠার সহিত সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।তিনি তার নিজ কর্মগুনের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০১৯ সালে ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছিলেন।তারি ধারাবাহিকতায় এবার ও জাতীয় শিক্ষা পদক ২০২২ ক্যাটাগরীতে উপজেলা পর্যায়ে ২য়,বারের মতো শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হলেন রোকেয়া বেগম। তিনি উপজেলার মহিদীপুর গ্রামের মোঃ ইলিয়াছের জৈষ্ঠ্য কন্যা।তার এই সাফল্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। । অপরদিকে আগামী দিনগুলোতে সততা ও নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করে সমাজের আলোকবর্তিকা হয়ে বেঁচে থাকার জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন রোকেয়া বেগম।

  • পাইকগাছায় অনিয়মের অভিযোগে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলারকে জরিমানা

    পাইকগাছায় অনিয়মের অভিযোগে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলারকে জরিমানা

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।পাইকগাছায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগে ডিলারকে অর্থদন্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শেখ রায়হান পারভেজ ডিলার চাল বিক্রয়ে অনিয়ম করছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম বিক্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে অনিয়মের সত্যতা পান।
    পরে ডিলার শীপের অঙ্গীকার নামার ১০নং শর্ত ভঙ্গ করায় অনিয়মকৃত চাউলের দ্বিগুণ মূল্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট ডিলার শেখ রায়হান পারভেজকে ২৮ হাজার ৩৩৭ টাকা অর্থদন্ড করেন। অর্থদন্ডের টাকা আগামী রোববার সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য পত্রের মাধ্যমে ডিলারকে অবহিত করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাসিবুর রহমান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ট্যাগ অফিসার উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক আলতাফ হোসেন মুকুল, শিহাব বাবু ও আনসার সদস্য রাকিব

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা।

  • পাইকগাছায় বিশ্ব ওজোন দিবস পালিত

    পাইকগাছায় বিশ্ব ওজোন দিবস পালিত

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা।।
    পাইকগাছায় পরিবেশবাদী সংগঠণ বনবিবির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর রক্ষা দিবস দিবস পালিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর রক্ষা দিবস উপলক্ষ্যে পরিবেশবাদী সংগঠণ বনবিবির আয়েয়াজনে ১৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় পাইকগাছার নতুন বাজারস্থ কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা সংগঠণের সভাপতি সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায বক্তৃতা করেন,সপ্তদ্বীপা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাধুরী রানি সাধু, কবি সুশান্ত বিশ্বাস,রোজী সিদ্দিকী, হাসনা খাতুন সুমাইয়া, পরিবেশ কর্মি গনেশ দাশ, কার্তিক বাছাড়, শাহিনুর রহমান প্র্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বৈজ্ঞানিক গবেষনায় জানা যায়, বায়ু মন্ডলে ক্রমাগত ক্লোরোফ্লোরো কার্বন বা সিএফসি গ্যাস বৃদ্ধির ফলে ওজোন স্তর ক্ষয় হচ্ছে। আর মানুষের কর্মকান্ডে ক্রমাগত এই গ্যাস বেড়ে চলেছে। তাছাড়া বায়ু মন্ডলে পুঞ্জিভূত গ্রীনহাউজ গ্যাস উৎসারণের কারণে বৈষিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ওজোন গ্যাস সূর্যের তাপ ও অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে, ফলে এই স্তরের তাপমাত্রা খুব বেশি হয়। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে পৃথিবীকে জীবকুলের বসবাসের উপযোগী করে তোলে ও জীবজগৎকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে। তাই ওজোন স্তর রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

  • বৃষ্টিতে পাইকগাছাসহ উপকূল তলিয়ে গেছে; বেড়েছে জনদূর্ভোগ

    বৃষ্টিতে পাইকগাছাসহ উপকূল তলিয়ে গেছে; বেড়েছে জনদূর্ভোগ

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা।।

    টানা চার দিনের বৃস্টিতে তেমন প্রভাব না পড়লেও বৃহস্পতিবার ভোর বেলার প্রায় দুই ঘণ্টার প্রবল বর্ষণে পাইকগাছা সহ উপকুল তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ভোর বেলার প্রবল বৃস্টির সাথে মেঘের গর্জন আর বিদ্যুতের ঝলকানিতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।মেঘের গর্জন এতোটা তিব্র ছিলো প্রচণ্ড আওয়াজে মনে হয় আকাশ,মেঘ,বিল্ডিয়ের ছাদ ও গাছপালা ভেঙ্গে পড়ছে।
    পাইকগাছায় নিন্মচাপের প্রভাব ও টানা পাচদিনের ভারি বৃষ্টিতে পাইকগাছার নিন্মা ল তলিয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে।বৃস্টি আর জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে উপকূল। বিশেষ করে ভরাকটালের পূর্ণিমায় এমনটি বেশি ঘটছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ উপকূলের নদনদী এখন আর অমাবস্যা-পূর্ণিমার উঁচু জোয়ারের পানি ধারণ করতে পারছে না। পানি ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। এতে পুকুর-ঘেরের মাছ ভেসে যাচ্ছে; ফসলহানি ও জমিতে লবণাক্ততা এবং বাড়িঘর ডুবে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিন্ম চাপে পরিণত হওয়ায় মাঝারি ও ভারী বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়ায় উপকূল এলাকার জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। বেড়িবাঁধের ভিতর ও বাইরের শত শত চিংড়ি ঘের তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে।রোপা আমনক্ষেত তলিযে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনাবৃস্টি ও অতিবৃস্টি বারবার এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকরা ক্ষতির শিকার হচ্ছে। রবিবার সকাল থেকে বৃহষ্পতিবার পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষণে এলাকায় দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। দিনভর বৃষ্টি থাকায় রাস্তায় যানবহন ঠিকমত চলাচল করেনি। টানা বর্ষণের কারণে দিন মজুররা কাজ করতে পারেনি। এতে সংসারে টানাটানি পড়েছে। তাছাড়া সবচেয়ে বিপাকে পড়েন নিন্ম আয়ের দিন মজুর। সাধারণ মানুষের চলাফেরা এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম কিছুটা ব্যাহত হয়। রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিন্মচাপের প্রভাবে এলাকার নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি ও বৃস্টিতে পানির স্রোতে বাধ ভেঙ্গে গেছে। এতে অনেক এলাকায় ঝুঁকি বেড়েছে।ঝুকিপূর্ণ বাধগুলিতে স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করা হয়েছে। পৌর বাজার ও রাস্তা তলিয়ে চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক নিচু এলাকা পানিতে ভাসছে। বাইশারাবাদ বেড়ীবাধ ভেঙ্গে গেলে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।ভারি বৃস্টিতে বাড়ির উঠান তলিয়ে গেছে।কাচা ঘরবাড়ী ধসে পড়ায সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
    কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার চিংড়ি লীজ ঘেরে সদ্য রোপনকৃত আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে।নদীতে ভাটা সরলে পানি নেমে যাবে এতে ধানের কোন ক্ষতি হবেনা বলে জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জাহাঙ্গীর আলম্। লীজ ঘের গুলোতে আমন রোপন চলছে।তাছাড়া অন্য সকল ক্ষেত রোপন সম্পন্ন হয়েছে। এই বৃষ্টি লবণাক্ত এ এলাকার আমন আবাদে অনেক উপকার হবে। এলাকায় জোয়ার-ভাটা থাকায় বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি খুব তাড়াতাড়ি নেমে যাবে। এতে করে আবাদের কোন ক্ষতিতো হবে না আরো উপকার হবে।পাইকগাছা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাজু হাওলাদার জানান, এখন পূর্ণিমা ভারিবৃস্টি এবং বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ থাকায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানি উপকূলে বেড়ীবাধ উফছে পড়ে বিভিন্ন পোল্ডার প্লাবিত হয়েছে। পাইকগাছায় প্রায় ৩০ কি:মি: বেড়ীবাধ ঝুকিপুর্ণ রয়েছে।তবে বৃহষ্পিতিবারের ভারি বৃস্টি ও জোয়ারে বাইশারাবাদ বেড়ীবাধ ভেঙ্গে গেলে তা মেরামত করা হয়েছে। উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, ভারী বর্ষণে ২ হাজার ৯২৫টি চিংড়ি ঘের ও পুকুর জলাশয় তলিয়ে গিয়ে একাকার হয়ে যায়। এতে ১ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বীজতলা ও সবজি সহ কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান।
    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম জানান, বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাসনে খালের অবৈধ নেট-পাটা অপসারণ সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী তারা স্ব স্ব ইউনিয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

  • ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল ভায়া নড়াইল এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণে অর্থ প্রাপ্তি নেই

    ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল ভায়া নড়াইল এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণে অর্থ প্রাপ্তি নেই

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল ভায়া নড়াইল এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণে অর্থ প্রাপ্তি নেই। নড়াইলের মধুমতী নদীর ওপর নির্মিত দেশের প্রথম ৬ লেনের কালনা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কালনা সেতু নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। সেতু চালু হওয়ার পর এই অঞ্চরের কিন্তু ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল ভায়া নড়াইল এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণে অর্থ প্রাপ্তি নেই। ফলে গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট-খুলনা-যশোর হয়ে বেনাপোল পৌঁছাতে ৮৬ কিলোমিটার পথ বেশি পাড়ি দিতে হচ্ছে কলকাতাগামী যাত্রীসাধারণের। এতে অর্থ অপচয়সহ বাড়ছে ভোগান্তি।
    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত চার লেনে এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থ প্রাপ্তি না থাকায় ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল ভায়া নড়াইল এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক চার লেনের নির্মাণকাজ থমকে আছে। সওজ বলছে, ভাঙ্গা থেকে বেনাপোল ভায়া নড়াইল এক্সপ্রেসওয়ে সড়কের দূরত্ব ১৩০ কিলোমিটার। ১৩০ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ১১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থ প্রাপ্তি না থাকায় কাজ বন্ধ হয়ে আছে। এই সড়কটি উন্নীতকরণ হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বেনাপোল স্থলবন্দরসহ ভারতের কলকাতার যোগাযোগ অনেক সহজতর হবে। এতে ঢাকার সঙ্গে বেনাপোল স্থলবন্দরের দূরত্ব কমবে ৮৬ কিলোমিটার।
    ‘ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প’ শীর্ষক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ভূমির মৌজাভিত্তিক মূল্য, অধিগ্রহণ ব্যয়সহ অবকাঠামো, গাছপালা ইত্যাদির ক্ষতিপূরণ ব্যয় প্রাক্কলন প্রেরণ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক (সওজ), সড়ক ভবন ঢাকা থেকে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল এবং যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে ২০২০ সালের ১ অক্টোবর চিঠি দেন।
    প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য মোট ১১ হাজার কোটি টাকার ডিপিপি প্রণয়নের কাজসহ সড়কের নকশার কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এর মধ্যে ৫টি ফ্লাইওভার, নড়াইল এবং যশোর অংশে আলাদা ২টি বাইপাস সড়ক হবে।
    বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থায়নে ৯৫৯ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ লেনের কালনা সেতু নির্মাণসহ প্রকল্প এলাকায় আরও ৫টি ছয় লেনের ব্রিজের কাজ চলমান আছে। চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অর্থের বিষয়ে বর্তমানে জিটুজি (সরকার টু সরকার) আলোচনা চলছে।
    ট্রাকচালক শমসের শেখ জানান, বেনাপোল থেকে খুলনা-গোপালগঞ্জ হয়ে ঢাকার দূরত্ব ২৯০ কিলোমিটার। ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল ভায়া নড়াইল সড়ক হয়ে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ২০০ কিলোমিটার। ভাঙ্গা থেকে নড়াইল-যশোর হয়ে বেনাপোল পর্যন্ত পুরোনো এই সড়কের প্রশস্ত মাত্র ১৮ ফুট। কোথাও আবার ২৪ ফুট আছে। এই সড়কে ১০ থেকে ১৪ ফুট প্রশস্তের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু রয়েছে। এই সেতুর ওপর দিয়ে ৫ টনের বেশি ওজনের গাড়ি ওঠানো সরকারিভাবেই নিষেধ। সে জন্য তারা সড়কটি ব্যবহার না করে বেনাপোল থেকে খুলনা-গোপালগঞ্জ ঘুরে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা যাতায়াত করেন। নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল পৌরসভার প্যানেল চেয়ারম্যান কাজী জহিরুল হক বলেন, ‘ইতিমধ্যে পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে। মধুমতী নদীর ওপর নির্মিত কালনা সেতু উদ্বোধন হলে এই সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাবে। দ্রুত এই সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের দাবি জানাই।
    সওজ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর পর ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকার বিষয়টি অতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পদ্মা সেতু চালুর পর এই সড়কে গাড়ির চাপও অনেক বেড়ে গেছে। গাড়ির চাপ সামলাতে প্রাথমিকভাবে কালনা থেকে যশোর পর্যন্ত সড়কটি আরও ৬ ফুট চওড়া করার কাজ করা হচ্ছে। দেড় বছরের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে।’
    তিনি দাবি করে বলেন, ‘ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল ভায়া নড়াইল সড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হলে ৫ বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। সড়কটি নির্মাণ হলে বেনাপোলের সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব অনেক কমে যাবে। তখন পদ্মা সেতুর পুরোপুরি সফল পাবে এলাকার মানুষ।
    সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন পাঠান চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি কালনা সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেতু নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন।
    সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কয়েকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি কালনাঘাটে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেছিলেন, ‘কালনা সেতু পদ্মা সেতুরই একটা অংশ। পদ্মা এবং কালনা সেতুর মাধ্যমে বেনাপোল স্থলবন্দর-যশোর-নড়াইল-ভাপিয়াপাড়া-ভাঙ্গা-পদ্মা সেতু-মাওয়া-ঢাকা-সিলেট-তামাবিল সড়কের মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। প্রকল্প এলাকাসহ দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।

  • ঝিনাইদহসহ চার জেলার দায়িত্বে থাকা মৎস্য  উপ-সহকারী প্রকৌশলী যেন টাকার কুমির

    ঝিনাইদহসহ চার জেলার দায়িত্বে থাকা মৎস্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী যেন টাকার কুমির

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহসহ চার জেলার দায়িত্বে থাকা মৎস্য বিভাগের মহা দুর্নীতিবাজ উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহেল আহম্মেদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারী কাজ দেওয়ার নাম করে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পুকুর খনন বাবদ অনেক এক্সকেভেটর (ভেকু) মালিক তার কাছে টাকা পাবেন। ঝিনাইদহ জেলা মৎস্য বিভাগ তার সীমাহীন দুর্নীতির কারণে গত দুই বছর কোন প্রকল্প গ্রহন করেনি। এদিকে টাকা অদায়ে ব্যর্থ হয়ে ঝিনাইদহের বিভিন্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের একাধিক মামলা করেছেন ঠিকাদাররা। ঝিনাইদহ জেলা মৎস্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহেল আহম্মেদের দায়িত্ব ছিল ঝিনাইদ জেলার ৬ উপজেলায় স্কিম করা ও গৃহীত প্রকল্পসমুহ তদারকী করা। কিন্তু তিনি তার সরকারী দায়িত্বের বাইরে গিয়ে বেপরোয়া ভাবে ঠিকাদারী কাজে জড়িয়ে পড়েন। পুকুর খননের প্রল্পগুলো ঠিকাদারের কাছ থেকে নিয়ে তিনিই করে গেছেন। মৎস্য সেক্টরে তার এই একচ্ছত্র দৌরাত্ম্যে দেখে চার জেলার ঠিকাদাররা কোটি কোটি টাকা দিয়েছেন কাজ পাইয়ে দেবার জন্য। শেষ মুহুর্তে তিনি এই টাকা পকেটস্থ করে নাটোর জেলায় বদলী হয়েছেন। ঝিনাইদহ ছাড়াও তিনি কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কুষ্টিয়ায় তার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে একাধিক পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে খবর প্রচারিত হলেও বদলী ছাড়া তার কোন শাস্তি হয়নি। ঝিনাইদহ জেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কবির হোসেন ২০২১ সালের ১৯ আগষ্ট পাওয়ানা টাকা ফেরৎ পাবার জন্য আবেদন করেন। সদর উপজেলার কাজলী বিল খননের প্রকল্প করে দেওয়ার নাম করে কবির হোসেনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। সেই টাকা এখনো দেননি বলে কবির হোসেন এ প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করেন। এদিকে ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রয়ারি অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহ জেলা মৎস্য দপ্তরের সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহেল আহম্মেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রকল্প পরিচালক ও মহাপরিচারকের কাছে লিখিত চিঠি দেওয়া হয়। ঠিকাদার ও এক্সকেভেটর (ভেকু) মালিকদের অভিযোগ শুনতে শুনতে নাকাল ঝিনাইদহ জেলা মৎস্য অফিস ২০২২ সালের ৯ মার্চ উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহেল আহম্মেদকে এই জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যহতি প্রদানের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিলেও তাৎক্ষনিক ভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। হরিণাকুন্ডুর ইমারত হোসেন নামে এক ঠিকাদার জানান, তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহেল আহম্মেদের কাছে ঠিকাদারী কাজ পাবার জন্য ৬ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তিনি এক লাখ টাকা ফেরৎ দিয়েছেন। বাকি টাকার জন্য মাসের পর মাস ঘুরছেন। হরিণাকুন্ডু উপজেলার পোলতাডাঙ্গা গ্রামের ঠিকাদার আব্দুল গনি জানান, তিনি ৯ লাখ টাকা দিয়েছিলেন ঠিকাদারী কাজ পাবার জন্য। কিন্তু কাজও পাননি আবার টাকাও দেননি। ফলে টাকা উদ্ধার করতে না পেরে আদালতে দুইটি চেকের মামলা করেছেন, যার নং ১২৮/২২ ও ১৩৩/২২। ঝিনাইদহ শহরের লিমা এন্টারপ্রাইজের মালিক আশরাফুল আলম মফিজ জানান, তিনিও ঠিকাদারী কাজ পাবার আশায় ১৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহেল আহম্মেদ তাকে রুপালী ব্যাংকের দুইটি চেক দিয়েছিলেন, কিন্তু টাকা তুলতে পারেননি। তিনি চেক ডিজঅনারের মামলা করবেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ এলাকার তালহা এন্টারপ্রইজের মালিকসহ ঝিনাইদহের এক ক্ষমতাধর সংসদ সদস্যের ভাতিজাও উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহেল আহম্মেদের কাছে টাকা দিয়ে ধরা খেয়েছেন। এছাড়া অনেক এক্সকেভেটর (ভেকু) মালিক টাকার জন্য সোহেল আহম্মেদের পেছেনে ঘুরছেন। ঠিকাদারকের একটি সুত্র জানায়, ঝিনাইদহসহ চার জেলা থেকে কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহেল আহম্মেদ। সৎস্য বিভাগের মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকের আশ্রয় পশ্রয়ে সোহেল আহম্মেদ বেপরোয়া ভাবে অপকর্ম চালিয়ে গেলেও তার শাস্তি স্বরুপ চার জেলার দায়িত্ব থেকে নাটোর জেলায় বদলী করা হয়েছে। শাস্তির পরিবর্তে সাধারণ এই বদলীর ঘটনায় মৎস্য সেক্টরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ধুমায়িত হচ্ছে। ঝিনাইদহের সাবেক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও বর্তমান যশোরের বিল বাওড় প্রকল্পের পরিচালক আলফাজ উদ্দীন শেখ জানান, সোহেলের বিষয়ে একাধিক চিঠি সে সময় মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো হলেও তড়িৎ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। তবে কিছুদিন আগে তাকে নাটোর জেলায় বদলী করা হয়েছে বলে শুনেছি। ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা গ্রহনের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহেল আহম্মেদ বলেন, ইতিমধ্যে অনেকের টাকা ফেরৎ দিয়েছি। যারা চেক ডিজঅনারের মামলা করেছেন তাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। আমি সময় নিয়েছি। তিনি বলেন, কুষ্টিয়ায় থাকতে আমার বিরুদ্ধে বহু লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু আমার কিছুই হয়নি, ডিপার্টমেন্ট আমার পক্ষে আছে।

    ঝিনাইদহ
    আতিকুর রহমান।

  • নড়াইলের চাঁচুড়ী বিলে রূপসী বাংলার রূপের শাপলার রাজত্ব

    নড়াইলের চাঁচুড়ী বিলে রূপসী বাংলার রূপের শাপলার রাজত্ব

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলের চাঁচুড়ী বিলে রূপসী বাংলার রূপের শাপলার রাজত্ব।
    নড়াইলের কালিয়া উপজেলার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁচুড়ী বিলে প্রাকৃতিকভাবে শাপলার অবারিত রঙিন রূপ যে কোনো বয়সী মানুষকে শুধু মুগ্ধই নয়, স্তম্ভিত করে দেবে। শত বছরের পুরনো চাঁচুড়ী বিলের ফুটন্ত শাপলা দেখতে হলে যেতে হবে সকালে কিংবা বিকালে।
    সূর্যের স্নিগ্ধ আলো পড়া মাত্রই এক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয় চাঁচুড়ী বিল। নৌকায় করে শাপলা বিল বেড়ানো, পানির কল কল ধ্বনি আর তাজা শাপলা ফুলের হাসি মনে ভিন্ন এক অনুভূতির যোগায়। আর নয়নাভিরাম দৃশ্যে চোখ তো জুড়াবেই। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, শাপলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি খাবার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। ফলে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া শাপলা বিক্রি করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
    চাঁচুড়ী বিলটি বিশেষ করে বর্ষাকালে ‘শাপলা বিল’ নামেই বেশি পরিচিত হয়ে ওঠে। চারপাশে গাঢ় সবুজের পটভূমিতে এ যেন বাংলাদেশের এক ‘লাল স্বর্গ’। প্রাচীন এ বিলে হাজার হাজার হেক্টর জমি জুড়ে অসংখ্য মৎস্য ঘের গড়ে উঠলেও শাপলা ফোটায় বিন্দু মাত্র ভাটা পড়েনি। এই বিলে প্রাকৃতিকভাবেই শাপলা ফোটে।
    চাঁচুড়ী বিলের মধ্য দিয়ে এঁকে বেঁকে বয়ে চলেছে ‘লাইনের খাল’,‘নালের খাল’,‘ছোট খাল’,আর ‘বড় খাল’সহ নাম না জানা আরও অসংখ্য খাল। এই খালগুলোতেও রং-বেরংয়ের শাপলা ফুল ফুটেছে। যা এই বিলের সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণত জুন ও জুলাই মাস থেকে এই বিলে শাপলা ফুল ফোটে। তখন নৌকা নিয়ে এই বিলে বেড়াতে যাওয়া আরেক প্রাপ্তি।
    নড়াইল সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী ইউনিয়ন। ওই ইউনিয়নের উত্তরাংশে অবস্থিত পার্শ্ববর্তী লোহাগড়া ও সদর উপজেলার একাংশের কয়েকটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে এ বিল এখন স্থানীয়দের কাছে শাপলার বিল নামেই পরিচিতি লাভ করেছে। বিলের মোট আয়তন সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানা গেলেও কেউ কেউ বলেছেন হাজার হাজার হেক্টর নিয়ে এ বিল।
    চাঁচুড়ী বিলে ঠিক কতো বছর আগ থেকে এভাবে শাপলা জন্মাতে শুরু করেছে সে তথ্যও সঠিকভাবে দিতে পারেননি কেউ। তবে স্থানীয়রা বলছেন, শত বছর আগে থেকেই বছরের অধিকাংশ সময় জলমগ্ন এ বিলে লাল, সাদা ও বেগুনি রংয়ের তিন ধরনের শাপলা জন্মালেও সাদা ও লাল শাপলার আধিক্য বেশি থাকে। সূর্যের সোনালী আভা সহস্র লাল ও সাদা শাপলা পাতার ফাঁকে ফাঁকে বিলের পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় এর সৌন্দর্য।
    বিলের লাল শাপলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখে আপনা থেকে চোখ জুড়িয়ে যায়। মনোমুগ্ধকর এ বিলের শাপলা দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসু প্রকৃতিপ্রেমীরা। ফলে দিন-দিন দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠছে ‘শাপলার বিল’। বিলের যতো ভেতরে এগুতে যাবেন ততোই শাপলার আধিক্য।
    একসময় মনে হবে এটি যেন শাপলার রাজ্য। আর প্রকৃতিপ্রেমীরাও এ বিলে ছবি তুলতে মগ্ন থাকে। বছরের এই নির্দিষ্ট সময়জুড়ে এখানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
    এ বিলের শাপলা তুলে অনেক ছেলে বুড়োরা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ওইসব এলাকার অসংখ্য পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছেন।
    বিল সংলগ্ন গ্রামের একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, বছরের ছয় মাস তারা অনেকেই এই বিলের শাপলার ওপর নির্ভরশীল। তবে বাজারে সাদা শাপলার কদর বেশি। এভাবেই জীবিকা নির্বাহ করছেন ওই এলাকার শত শত পরিবার। এদের কেউ শাপলা তুলে,কেউবা বিল থেকে মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করেন। চাঁচুড়ী বিল সংলগ্ন ডহর চাঁচুড়ী গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াছ শেখ ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে প্রতিদিনই বিলের পানিতে মাছ শিকার ও শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করেন। শাপলার বিল হওয়ায় এখানে খাদ্যের বেশ যোগান থাকায় দেশী প্রজাতির মাছও ধরা পড়ে প্রচুর।স্থানীয়রা এই বিলটিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বিকশিত করার জন্য প্রশাসনের সুনজর কামনা করেছেন।
    নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) দীপক কুমার রায় জানান, সাধারণত শাপলা ৩ প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে সাদা, বেগুনী (হুন্দি শাপলা) ও অন্যটি লাল রংয়ের। সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ও লাল রঙ্গের শাপলা ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয়। শাপলা খুব পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি। সাধারণ শাক-সবজির চেয়ে এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। শাপলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম।

  • টাঙ্গাইলের মধুপুরে হা-ডু-ডু খেলা অনুষ্ঠিত

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে হা-ডু-ডু খেলা অনুষ্ঠিত

    মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি।

    টাঙ্গাইলের মধুপুরের ফাজিলপুর গ্রামে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের হা-ডু-ডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় হাসিল কাগচিতলা টেকিপাড়া দলকে হারিয়ে ফাজিলপুর দুর্গাপুর বালিয়াচড়া মির্জাপুর দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলাটি হাজার হাজার দর্শক উপভোগ করেন।
    খেলা শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল আসাদুল ইসলাম আজাদ। প্রধান অতিথি ছিলেন মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন মধুপুর পৌরসভার মেয়র মো. সিদ্দিক হোসেন খান। অন্যান্যের মধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টু, মির্জাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদিকুল ইসলামসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।