Category: দেশজুড়ে

  • জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও জোয়ার ভাটা হ্রাস পাওয়ায় বরিশাল বিভাগের ২০ নদীর পানিতে বাড়ছে লবণাক্ততা

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও জোয়ার ভাটা হ্রাস পাওয়ায় বরিশাল বিভাগের ২০ নদীর পানিতে বাড়ছে লবণাক্ততা

    কে এম সোহেব জুয়েল,বরিশাল
    জলবায়ু পরিবর্তন ও জোয়ার ভাটা হ্রাস পাওয়ায় বরিশালের নদীর পানিতে বাড়ছে লবণাক্ততা। ১০ বছর আগে ৪ নদী লবণাক্ত থাকলেও এ পরিস্থিতি এখন বিভাগের ২০ নদীতে। এতে ৮ লাখ ২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ৫২ ভাগ ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে লবণাক্ততায়। এতে ফসল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে যাওয়ার শঙ্কা চাষিদের। সেচের জন্য নদীর পানিতে শূন্য দশমিক ৭ ডিএস প্রো মিটার ও মাটিতে ২ ডিএস নিচে লবণাক্ততা সহনীয়। তবে বরিশাল মৃত্তিকা ইন্সটিটিউটের গবেষণায় এসেছে ভয়াবহ চিত্র। পানিতে ১৫ থেকে ২০ ডিএস পার মিটার ও মাটিতে ২৫ ডিএস পার মিটার লবণাক্ততা পাওয়া গেছে।

    ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা একীম মামুন বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে লবণ পানি ঢুকে যাচ্ছে। আপনারা হয়ত জানেন যে ২০২১ সালে আমাদের যে কীর্তনখোলা নদী, যে নদীতে আমরা সাধারণত ভেবে থাকি যে লবণাক্ততা থাকার কথা না। সেখানে ক্ষতিকর মাত্রার চেয়েও লবণাক্ততা চলে এসেছে।
    পটুয়াখালী মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘লবণাক্ততা সহিষ্ণু যে জাতগুলো আছে সেগুলো চাষ করতে হবে। কিছু আছে মুগডাল, সূর্যমুখী বা ভুট্টা এগুলো চাষ করতে হবে। আর এরপর যদি ১০ বা ১২ ক্রস করে তাহলে আমাদের জমিগুলো ফসল চাষের অনুপযোগী হয়ে যায়।’ ১০ বছর আগে আন্ধারমানিক, বিষখালীসহ ৪টি নদীতে শুকনো মৌসুমে লবনাক্ততা পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে কীর্তনখোলা ও ভোলার একাংশসহ ২০টি নদীর পানিতে লবণাক্ততা পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে গবেষণায়। এতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কায় এ ২০ নদী পাড়ের চাষিরা। ফসলের জমিতে লবণাক্তার বিষয়টি স্বীকার করেছে কৃষি বিভাগ। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলছেন, পরীক্ষার জন্য মাটি ও পানির নমুনা নেয়া হয়েছে।
    বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মুরাদুল হাসান বলেন, ‘বৃষ্টিপাত বেশি হলে নদী ও মাটিতে লবণাক্ততার পরিমাণ কিছু কমে এবং বৃষ্টি কম হলে আবার বেড়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও রাংগাবালীর চরমোন্তাজ স্থায়ী লবণাক্ততার দিকে যেতে শুরু করেছে। এমন হলে এসব এলাকায় সাধারণ ফসল চাষ করা যাবে না, তখন সেখানে লবণ সহনশীল জাতের ফসলের চাষ করতে হবে।’ বরিশাল মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুষমা রানী হালদার বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা এখানে মাটি ও পানি বিশ্লেষণ করে যেটা দেখতে পাচ্ছি তা হলো শুকনো মৌসুমে, নভেম্বর মাস থেকে এখানে লবণাক্ততা বাড়তে থাকে। এতে করে এখানে পানি ও মাটির গুণাগুণ হ্রাস পাচ্ছে। আমরা পরীক্ষার পর এ খবর কৃষকদের জানিয়ে দিচ্ছি।’ বরিশাল বিভাগে ৮ লাখ ২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ৪ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে লবণাক্ততা পাওয়া গেছে।

  • ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কে জিম্মি করে হত্যার চেষ্টা অভিযোগে অ্যাম্বুলেন্স চালক শাহাদাৎ আটক

    ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কে জিম্মি করে হত্যার চেষ্টা অভিযোগে অ্যাম্বুলেন্স চালক শাহাদাৎ আটক

    রিপোর্ট : ইমাম বিমান

    ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কে জিম্মি করে হত্যার চেষ্টা অভিযোগে অ্যাম্বুলেন্স চালক শাহাদাৎকে আটক করেছে থানা পুলিশ। ১২ জানুয়ারী রবিবার দুপুর আনুমানিক ১টার সময় তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার শামীম আহমেদকে কথা আছে বলে পাশের রুমে নিয়ে মারধর করে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে রুমে তালা লাগিয়ে দেয় অ্যাম্বুলেন্স চালক শাহাদাৎ ।

    এ বিষয় তত্ত্বাবধায়ক বলেন, শাহাদাৎ হোসেন আমাকে বলেন, স‍্যার আপনার সাথে আমার কথা আছে একটু শুনেন। তখন আমি পাশের রুমে গেলে রুমের দরজা আটকে আমাকে হেনস্থা করে এবং হত‍্যার হুমকি দেয়।

    এ বিষয় তত্ত্বাবধায়ক কে প্রশ্ন করা হলে কেন আপনার কর্মচারী অ্যাম্বুলেন্স চালক আপনাকে হত্যার হুমকি দিবে ? জবাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কে ডা: শামীম আহমেদ বলেন,
    ড্রাইভার এর চাকরি চুক্তি ভিত্তিক থাকায় তার মেয়াদ শেষ হয়েছে এছাড়াও গত ১৪ ডিসেম্বর সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের টুলবক্স থেকে ডিবি পুলিশ ৩৭পিস ইয়াবা উদ্ধার করে কিন্তু অজ্ঞাত কারণে চালক শাহাদাৎকে আটক করেনি।
    তার কাছ থেকে অ্যাম্বুলেন্স রেখে দেওয়া হয়েছে। তাই সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর হামলা চালায় এবং হত্যার হুমকি দেয়।

    তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার শামীম আহমেদ থানায় লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে তার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তার নিকট পাওনা এম্বুলেন্স পরিবহন বাবদ সরকারি ইউজার ফি জমা প্রদানের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে তিনি দুই মাস পর্যন্ত সরকারি টাকা জমা দেননি।
    হাসপাতালে অফিসার্স কোয়াটার অবৈধভাবে রুম দখল করিয়া মাদক সেবন ও মাদকের কর্মকাণ্ড করেন যাহা তাহার কর্মকাণ্ডে ও চলা প্রায় সন্দেহ হয়েছে। ইতিপূর্বে তিনি পুলিশের নিকট ইয়াবাসহ ধরা পড়েন, গত ১১ জানুয়ারি আমাকে হুমকি প্রদান করেন এবং আমার সরকারি বাসভবনের বিভিন্ন স্থাপিত সিসি ক্যামেরা নষ্ট করেন যা তার আচরণে প্রমাণিত হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার শামীম আহমেদ হাসপাতালে যে কক্ষে অ্যাম্বুলেন্স চালক শাহাদাৎ ছিলেন সেই রুমে তিনি সিলগালা করে দেয়।

    এ বিষয় পুলিশ হেফাজতে থাকা সদর হাসপাতালের সাবেক অ্যাম্বুলেন্স চালক মাদকসেবি ও মাদকব্যবসায়ী শাহাদাৎ বলেন, আমার কাছ থেকে তত্ত্বাবধায়ক অ্যাম্বুলেন্সের চাবি নিয়ে গিয়ে আমাকে বলে তোমার চাকরি নেই। দুইবছর ধরে আমাকে মানষিক টর্চার করে। আমি তাকে রুমের মধ্যে নিয়ে তাকে বুঝাতে গেলে আমাকে হাসপাতালের স্টাফ মিলে মারধর করে। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, আমি সরকারের পার্সনাল একজন ব্যক্তি আমি সরকারকে ইনকাম করে দিচ্ছি। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক আমাকে গ্রেফতার করিয়েছেন।

    অপরদিকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবা গত বুধবার থেকে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিত পরে জনগণ সরকার নির্ধারিত ৪০০ টাকার ভাড়া থাকলেও বিপদগ্রস্তরা রোগী নিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে দিতে হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা।
    অ্যাম্বুলেন্স বন্ধের বিষয় তত্ত্বাবধায়ক বলেন ড্রাইভারের চাকরি নেই আর আমার এখানে অন্য কোন ড্রাইভার নেই তাই অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি খুব দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে এবং ড্রাইভার আসবে।
    পাশাপাশি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের বলছি আপনারা জনগণকে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ নিবেন না।

  • নলছিটির ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদে শীতবস্ত্র, টিসিবির স্মার্ট কার্ড বিতরণ ও তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে কর্মশালা

    নলছিটির ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদে শীতবস্ত্র, টিসিবির স্মার্ট কার্ড বিতরণ ও তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে কর্মশালা

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি : মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ০১ নং ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদে তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উপলক্ষে ১২ জানুয়ারি রবিবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে কর্মশালা,চিত্রাঙ্কন,কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    এতে ইউনিয়নের প্রেমহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়,ষাটপাকিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। এসময় তারা নতুন দেশ গড়তে তরুনদের ভাবনা বিষয়ক কর্মশালায় নিজেদের নানান ভাবনা তুলে ধতে।

    এছাড়াও জুলাই গনহত্যা এবং গন অভ্যূত্থানের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের চিত্রাঙ্কন করেন এবং একটি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।প্রতিযোগীদের মধ্যে পাচটি গ্রুপে ভাগ করে আলোচনা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।এবং প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ইভেন্টে একএকটি গ্রুপকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
    ভৈরবপাশা ইউনিয়নে নিযুক্ত প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জনাব ওয়াহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো নজরুল ইসলাম।এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় শিক্ষক,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    পুরস্কার বিতরণ শেষে ইউনিয়নের দরিদ্রদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ ও স্মার্ট টিসিবি কার্ড বিতরন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো নজরুল ইসলাম।

  • গোড়লে ১০০বোতল ফেনসেডিল’সহ সাইফুল ইসলাম, গ্রেফতার

    গোড়লে ১০০বোতল ফেনসেডিল’সহ সাইফুল ইসলাম, গ্রেফতার

    মো.হাসমত উল্লাহ,লালমনিরহাট।।

    লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার গোড়ল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০০বোতল ফেনসেডিল’সহ ০১ জন মাদক কারবারি গ্রেফতার। 

    গত ১২জানুয়ারী ২০২৫ইং জেলা পুলিশ সুপার মো.তরিকুল ইসলাম, এর দিকনির্দেশনায় কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম মালিক, এর নেতৃত্বে গোড়ল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ইনচার্জ এসআই মোস্তাকিম ইসলাম,ও সঙ্গীয় ফোর্স সহ গোড়ল  ইউপির গোড়ল পাইকারী মৌজার রহমানপুর জামে মসজিদ এর পুর্ব পাশে থাকা পাকা রাস্তায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪ টি প্লাস্টিকের লাল রঙের জালী বস্তার পোটলার ভিতর হইতে ১০০বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল সহ ১জন মাদক কারবারি গ্রেফতার করেন গোড়ল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ। 

      গ্রেফতারকৃত আসামী হলেন  সাইফুল ইসলাম (২০),লালমনিরহাট জেলা কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা নিথক ( হলমোড়), গ্রামের  নজরুল ইসলাম, এর ছেলে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম মালিক,জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোড়ল ইউনিয়নের পাইকারী মৌজার রহমানপুর জামে মসজিদ এর পুর্ব পাশে থাকা পাকা রাস্তায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০০বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল সহ ১জন মাদক কারবারি গ্রেফতার করেন গোড়ল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ। 

    হাসমত উল্লাহ ।।

  • সুজানগরের অসহায় শীতার্তদের মাঝে সচেতন নাগরিক ফোরামের শীতবস্ত্র বিতরণ

    সুজানগরের অসহায় শীতার্তদের মাঝে সচেতন নাগরিক ফোরামের শীতবস্ত্র বিতরণ

    এম এ আলিম রিপনঃ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে পাবনা জেলার অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদ। সুজানগর কাচারীপাড়া স্টেডিয়াম মাঠে শনিবার বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক ফোরাম কেন্দ্রীয়  সংসদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহরিয়ার আলম জর্জ এর সভাপতিত্বে  শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক ফোরাম কেন্দ্রীয়  সংসদের উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম পাবনা জেলা শাখার সভাপতি এড. আরশেদ আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদ উপদেষ্টা হাসানুজ্জামান পলাশ, পাবনা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান প্রিন্স, বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদ বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি  সাদ্দাম হোসেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল সুজানগর উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সুজানগর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনিছুর রহমান খোকন এবং  সাবেক ছাত্রনেতা কামরুল হাসান শান্ত।  সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদের মহাসচিব   ইঞ্জিনিয়ার  সুজাউল ইসলাম সুমন। অনুষ্ঠানে ছাত্রদল নেতা আলম মন্ডল, গাজী মাজহারুল ইসলাম ও শাকিল খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশে সারা বাংলাদেশে সচেতন নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় পাবনা জেলায় অসহায় শীতার্ত মানুষদের মাঝে আমরা কম্বল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছি। 

    এম এ আলিম রিপন।।

  • সুজানগরে মার্কেটে আগুন, দুই দোকান পুড়ে ছাই

    সুজানগরে মার্কেটে আগুন, দুই দোকান পুড়ে ছাই

    এম এ আলিম রিপন : সুজানগর উপজেলার দুলাই বাজারের মিয়া মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।সঁাথিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক উজ্জল হোসেন জানান, ৩/৪ মাস পুর্বে এ মার্কেটে নতুন স্বপ্ন নিয়ে ব্যবসা শুরু করে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসার ছয় মাস না যেতেই অগ্নিকান্ডের এ ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে গেলেন ব্যবসায়ীরা। জানা যায়, শুক্রবার রাতে  নৈশ্যপ্রহরী ও থানা পুলিশের টহল টীম ওই মার্কেটের ভিতরে আগুন দেখতে পায়। পরে তারা কাশিনাথপুর দমকল বাহিনীকে খবর দিলে তারা স্থানীয়দের সহায়তায়  যৌথ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এর আগেই আরিফ কুকারিশ ও নুর সুইটস নামক দুটি দোকান আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়।আরিফ কুকারিশের মালিক আরিফ হোসেন জানান, আমি অল্প কিছু দিন হলো ব্যবসা শুরু করে ছিলাম। অগ্নিকান্ডে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে তার প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে জানান।ক্ষতিগ্রস্থ অপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নুর সুইটসের প্রায় দুই লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে জানা গেছে। আগুনে মার্কেটেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে জানান মিয়া মার্কেটের মালিক রফিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ।কাশিনাথপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সর্ট সাকিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হতে পারে ।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর পাবনা।

  • তানোরে পল্লী বিদ্যুতের দুর্নীতিতে হুমকির মুখে পানির স্তর

    তানোরে পল্লী বিদ্যুতের দুর্নীতিতে হুমকির মুখে পানির স্তর

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে পল্লী বিদ্যুতের একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নেপথ্যে মদদে সেচ কমিটির অনুমোদন ব্যতিত অবৈধ মটরে চলছে জম্পেশ সেচ বাণিজ্যে। এসব মটরে নির্বিচারে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে।এতে উপজেলায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর হুমকির মধ্যে পড়েছে। একই সঙ্গে
    বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ সেচ প্রকল্প হুমকির মূখে পড়েছে। সেচ নীতিমালা অনুযায়ী বিএমডিএর গভীর নলকুপ ও অনুমোদিত সেচ মটর ব্যতিত আবাসিক বা শিল্প সংযোগ থেকে সেচ দেয়ার কোনো সুযোগ নাই।স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বাঁধাইড় ইউনিয়নের (ইউপি) বড় বাঁধাইড় গ্রামের আব্দুল হকের পুত্র আশিকুল ৮০ বিঘা,মেসের আলীর পুত্র লালচান ৪০ বিঘা, রতন বর্মণ ৩০ বিঘা ও মমিন ২৫ বিঘা জমিতে সেচ দিচ্ছেন অবৈধ মটর থেকে। এসব মটর রয়েছে বিএমডিএর গভীর নলকুপ কমান্ড এরিয়ায়। তারা বিঘা প্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা করে সেচ চার্জ নিচ্ছেন।

    জানা গেছে,প্রচন্ড খরাপ্রবণ বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলের বিশাল এলাকা জুড়ে ভূ-গর্ভের পানির স্তর তলানিতে ঠেকেছে।পানির স্তর এতটাই নিচে নেমেছে যে এখন বরেন্দ্রভূমির রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আট উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন (ইউপি) এলাকায় ১৭০ ফুট খনন করেও পানি উঠছে না গভীর নলকূপে। এসব এলাকার হাজারও হস্তচালিত নলকূপ এক দশক আগেই অচল হয়েছে। অব্যাহত পানি সংকট মোকাবিলা ও ভূ-গর্ভের পানির স্তর রক্ষায় নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)।এদিকে ভু-গর্ভের পানির স্তর ধরে রাখতে, সেচ নির্ভর বোরো চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত ও কম সেচ লাগে এমন ফসলের চাষাবাদ করাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অথচ তানোরে পল্লী বিদ্যুতের একশ্রেণীর কর্মকর্তার যোগসাজশে আবাসিক ও শিল্প অবৈধ মটর থেকে নির্বিচারে সেচ বাণিজ্যে করে ভু-গর্ভ স্তরের পানি অপচয় করা হচ্ছে। এতে বিএমডিএর নেয়া ভূ-গর্ভস্থ পানি ধরে রাখার উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে,এর দায় নিবে কে ? এসব কারণে কৃষিবান্ধব প্রতিষ্ঠান বিএমডিএর ভবিষৎ নিয়ে কৃষকেরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এলাকার হাজার হাজার কৃষকের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

    জানা গেছে,একটি গভীর নলকুপ ভূ-গর্ভস্থ স্তর থেকে যে পরিমাণ পানি উত্তোলন করে তার প্রায় ৯০ ভাগ সেচ কাজে ব্যবহার ও ১০ ভাগ অপচয় হয়। অথচ একটি মটরে যে পরিমাণ পানি উত্তোলন হয় তার মাত্র ৪০ ভাগ সেচ কাজে ব্যবহার ও প্রায় ৬০ ভাগ অপচয় হয়। ফলে অবৈধ মটরে উত্তোলন করা পানির বিপুল পরিমাণ অপচয় হওয়ায় গভীর নলকুপগুলো ভূগর্ভস্থ পানির লেয়ার ফেল করছে।

    বিএমডিএর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী বলেন,তানোরে অবৈধ মটর দিয়ে যেভাবে নির্বিচারে ভূ-গর্ভস্থ স্তরের পানি উত্তোলন করা হচ্ছে,তাতে এটা বন্ধ করা না গেলে,আগামি দেড়-দুশক পর এলাকার মানুষ খাবার পানির ভয়াবহ সংকটে পড়বে। একই সঙ্গে পরিবেশ বিপর্যয়, জীববৈচিত্র এবং প্রাণীকুল হুমকির মুখে পড়বে।

    জানা গেছে, উপজেলায় বিএমডিএ’র ৫৩৬টি ও ব্যক্তিমালিকানা ১৬টি মোট ৫৫২টি গভীর নলকুপ রয়েছে।এছাড়াও
    অগভীর নলকুপ বিদ্যুৎ চালিত ৪১১টি ও ডিজেল চালিত ৫০টি, এলএলপি বিদ্যুৎ চালিত ৩টি, ডিজেল চালিত ৩৫০টি, মোট এক হাজার ৩৬৬টি সেচ পাম্প রয়েছে।
    উপজেলায় আবাদযোগ্য কৃষি জমি রয়েছে ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর, সেচের আওতায় ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর। সেচ বহির্ভুত জমি রয়েছে এক হাজার ৬৬২ হেক্টর। একফসলী জমি ৩৪৪ হেক্টর, দুই ফসলী ৪ হাজার ৫৪০ হেক্টর, তিনফসলী ১৯ হাজার ১০৯ হেক্টর, নীট ফসলী জমি ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর, নিবিড়তা ২৭৮ শতাংশ ভূমি ব্যবহার ৮২ শতাংশ। উচুঁ জমি ২০ হাজার ৩৮৬ হেক্টর, মাঝারি উচুঁ জমি এক হাজার ৫৭৮ হেক্টর, মাঝারি নিচুঁ জমি এক হাজার ৫৫৩ হেক্টর ও নিচু জমি ৪৭৬ হেক্টর রয়েছে।

    অন্যদিকে তানোরে পল্লী বিদ্যুতের মোট গ্রাহক রয়েছে ৫২ হাজার ৪০৮ জন। এর মধ্যে আবাসিক ৪৩ হাজার ৯৭৫ জন, বাণিজ্যিক ২ হাজার ৭২৩টি,শিল্প ৫২০টি, সেচ ৮৭৮টি ও দাতব্য ৯৫৮টি এবং বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ২৫ মেঘাওয়াট। দেড় হর্স পাওয়ার মটর থেকে বাড়ি সংলগ্ন জমিতে স্বল্প পরিসরে সেচ দেয়া যাবে, তবে তা হতে হবে গভীর নলকুপ স্কীমের বাইরে। কিন্ত্ত গভীর নলকুপ স্কীমের মধ্যে ও বাসাবাড়িতে অবৈধভাবে ৩ থেকে ৪ হর্সপাওয়ার মটর স্থাপন করা হয়েছে। আবার আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পল্লী বিদ্যুৎ এসব অবৈধ মটরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। সুত্র জানায়, এসব অবৈধ মটরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ করতে না পারলে, আগামিতে এই অঞ্চলে সেচ তো দুরের কথা মানুষকে খাবার পানি কিনে পান করতে হবে।
    এবিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ তানোর জোনের ডিজিএম রেজাউল করিম বলেন, তারা সংযোগ দিয়েছেন,এখন কেউ যদি অবৈধভাবে সেচ দেন সেটা সেচ কমিটি দেখবেন। তিনি উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।#

  • তানোরে আহম্মদ চ্যারিটি সেন্টারের শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

    তানোরে আহম্মদ চ্যারিটি সেন্টারের শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে আহম্মদ চ্যারিটি সেন্টারের উদ্যোগে উচ্চ পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
    জানা গেছে, এ উপলক্ষে চলতি মাসের ১১জানুয়ারী শনিবার উপজেলার নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আহম্মদ চ্যারিটি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা আমেরিকা প্রবাসী আহম্মদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শিক্ষা (প্রতিমন্ত্রী) প্রফেসর ড.আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকিব, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম, স্বর্ণপদক প্রাপ্ত আদর্শ কৃষক কৃষি বিজ্ঞানী নূর মোহাম্মাদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন ও নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলীপ্রমুখ। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন রাজশাহী বেতারের ধারা ভাষ্যকার সোহেল মাহমুদ।
    অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ ও ১৫ জনকে ৬ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়।

  • বিএমডিএ ভবন আকুন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত

    বিএমডিএ ভবন আকুন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত

    আলিফ হোসেন,
    রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(বিএমডিএ)ভবন আকুন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি আর লুটপাটের কারণে কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকের উপকারে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান বিএমডিএ ভবন বেহাল। খাল খনন থেকে শুরু কেনাকাটা-সবখানে লুটপাটের বিস্তর অভিযোগ। এসব নিয়ে অডিট আপত্তি উঠলেও তা আমলে নেয় নি কর্তৃপক্ষ। ফলে লুটপাট বাড়ছে।এতে মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কায় বিএমডিএ বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

    জানা গেছে, ২০১৯-২০২৪ অর্থবছরে ৩০০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে শুষ্ক মৌসুমে চাষিদের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে খাল খনন করে বিএমডিএ। সংশ্লিষ্ট এলাকার চাষিদের অভিযোগ,নামেমাত্র খাল খননের মাধ্যমে টাকার অপচয় করেছে বিএমডিএ। বিএমডিএ সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা দূর করতে ও নদীর পানি সেচের কাজে লাগাতে বিএমডিএ রাজশাহীর চার উপজেলায় খাল খননে প্রকল্প নেয়। বিগত ২০২২ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে শাহাপুর-কাটাখালী-ছত্রগাছা পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৯২ কিলোমিটার খালটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অনেকের বাড়ি ভেঙে গেছে।
    কাটাখালী মোল্লাপাড়ার নাসির উদ্দিন জানান, অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করায় অনেকের বাড়িঘর ভেঙে গেছে।
    অনেকে ঝুঁকির মধ্যে আছেন। জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। উল্টো মানুষ বসতি হারিয়েছে। এখন মানুষ দৈনন্দিন কাজের বর্জ্য ফেলছেন ওই খালে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এমন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

    এদিকে নাটোরে খাল খনন করা হলেও তাতে বর্ষা মৌসুম ছাড়া পানি থাকে না।
    যে সেতু করা হয়েছে, সেটি দিয়ে গরুরগাড়িও নেওয়া যায় না। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের খালটি ৩০ ফুট থাকার কথা থাকলেও সেটি ৮-১০ ফুটে গিয়ে ঠেকেছে। প্রকল্প পরিচালক নাজিরুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেছেন, কাজ প্রথমে ঠিকভাবে করেননি ঠিকাদার। পরে কাজ ভালো হয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৪ লাখ তালগাছের হদিস নেই। দরপত্র ছাড়াই কোটেশনে কেনাকাটা, তাও নিম্নমানের। কেনাকাটায় পকেট ভরছে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি)। কৃষকদের যেসব সেবা দেওয়ার কথা, তা দিচ্ছে না বিএমডিএ। টাকা চুরির প্রমাণ লোপাটে দেওয়া হয়েছিল অফিসে আগুন। নিজ স্কেলের চেয়ে বেশি বেতন নিয়েছেন ৭৩ কর্মকর্তা। সেচ থেকে প্রকল্প, সবখানে চলে লুটপাট।

    স্থানীয়রা জানান, কোথাও কোথাও গর্ত খুঁড়ে তালবীজ লাগানো হয়েছিল। আবার কোথাও কোথাও না লাগিয়েই তড়িঘড়ি করে বীজ ফেলে পালিয়ে যান ঠিকাদার। ঠিকমতো বীজ না লাগানোর কারণে পবা উপজেলা দর্শনপাড়ার খাড়িধার এলাকায় ঠিকাদারের লোকজন গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়েছিল। বরেন্দ্র এলাকায় তালবীজ রোপণ কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক ও বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রকল্পের সব তালগাছ নেই। কোথায় আছে আর কোথায় নেই তাও বলা যাচ্ছে না। তবে বিভিন্ন উপজেলার কমিটি গণনা শেষে প্রতিবেদন দেওয়ার পর বিল পেয়েছেন ঠিকাদাররা। শুধু তালগাছ নয়, কেনাকাটায় অনিয়ম করে শত কোটি টাকা পকেটে ঢুকিয়েছেন প্রকল্প পরিচালকরা। প্রকল্প পরিচালক শহিদুর রহমান শত কোটি টাকার প্রকল্পে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করায় তা ফেটে যায়। এ নিয়ে তদন্ত হয়। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজ না করেই বিল প্রদান এবং নিম্নমানের পাইপ ও গেট ভাল্ব কেনাকাটায় নয়ছয় করা হয়েছে। হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা।

    অপরদিকে বিএমডিএ-এর ‘ভূগর্ভস্থ সেচনালা বর্ধিতকরণের মাধ্যমে সেচ এলাকার সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পে বরাদ্দ আছে ৩২৯ কোটি টাকা। প্রকল্প পরিচালক শহিদুর রহমান সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সম্প্রসারণের জন্য ১০০ কোটি টাকার ইউপিভিসি পাইপ এবং গেট ভাল্ব কিনেছেন। প্রকল্প পরিচালকের নিম্নমানের পাইপ ও গেট ভাল্ব কেনার বিষয়টি ওই প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তা বিএমডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল লতিফের নজরে আসে। এরপর আবদুল লতিফ প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে গত ১৮ ডিসেম্বর নির্বাহী পরিচালকের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। এ ছাড়া রাইজার ভাল্ব কেনায়ও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ১৫ কেজির ভাল্বের পরিবর্তে কেনা হয়েছে ১২ কেজি ওজনের। প্রকল্পটিতে গভীর নলকূপ স্থাপনের ক্ষেত্রে এমএস হাউজিং পাইপ এবং এসএস স্টেইনার ব্যবহারের বিষয়টি শিডিউলে উল্লেখ আছে। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক শহিদুর রহমান নিম্নমানের প্লাস্টিকের হাউজিং এবং স্টেইনার দিয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। সম্প্রতি কাজের ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে শহিদুর রহমানকে তার অফিস কক্ষে গিয়ে মারধরও করেন ঠিকাদারদের একটি অংশ।তবে প্রকৌশলী শহিদুর রহমান বলেন, প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগটি ভিত্তিহীন। কাজ না করে বিল দেওয়ার অভিযোগটিও বানোয়াট। এ ছাড়া নিম্নমানের পাইপসহ অন্য মালামাল কেনায় অনিয়মের যে অভিযোগটি করা হচ্ছে তাও মিথ্যা।

    এছাড়া বেতন স্কেল জালিয়াতি করে ধরা পড়েছেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ৭৩ কর্মকর্তা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি এই সংস্থাাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু এ সংস্থার ৭৩ জন প্রকৌশল কর্মকর্তা জালিয়াতি করে নিজেরাই বাড়িয়ে নিয়েছেন নিজেদের বেতন স্কেল। সংস্থার হিসাব বিভাগকে ম্যানেজ করে মাসের পর মাস বাড়তি বেতন তুলছিলেন এরা। এই কান্ডে জড়িত ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী ১৩ জন, সহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) আটজন, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ৩২ জন ও উপসহকারী প্রকৌশলী ২০ জন। তারা বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অঞ্চল ও জেলার মাঠপর্যায়ে কর্মরত। বিষয়টি ২০১৭ সালে বাণিজ্যিক নিরীক্ষায় প্রথমে ধরা পড়ে।

    এদিকে বিএমডিএর পানির ফাঁদে পড়ে যখন কৃষকদের আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে, তখন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যস্ত অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটে। ২০১৮-২০১৯ থেকে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক প্রকল্পে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য উঠে আসে বাংলাদেশ কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কৃষি ও পরিবেশ অডিটে। বরেন্দ্রর অনিয়মের ফিরিস্তিও বেশ লম্বা। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হিসাব শাখা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অডিট আপত্তি উঠেছে চার অর্থবছরে দরপত্র ছাড়াই পণ্য কেনায় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা, রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ১২ কোটি টাকা, বেসরকারি ব্যাংকে ডিপোজিট ১০০ কোটির বেশি, চেক টেম্পারিংয়ে আত্মসাৎ ৫৫ লাখের বেশি, সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি প্রায় ৫৩ লাখ টাকা, অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য কেনা ৩৩ লাখ টাকা, পাতকুয়া নির্মাণে অনিয়ম সাড়ে ৯ কোটি টাকা, অনিয়মিত ব্যয় প্রায় ৭ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে নিয়ম না মেনে সোয়া ১১ কোটি টাকা খরচ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পে প্রায় ৬৭ লাখ টাকার অনিয়ম, বিভিন্ন মালামাল কেনা ও মেরামত কাজে অনিয়ম ৬৯ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছর ছাড়াও বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোনে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৮০টি চেক জালিয়াতির ঘটনায় প্রকৌশলী জি এফ এম হাসানুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেনের জড়িত থাকার বিষয়টিও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    এবিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিএ চেয়ারম্যান ড. এম আসাদুজ্জামান জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এসব অডিট আপত্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়গুলো জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে একজন প্রকল্প পরিচালককে বদল করা হয়েছে।#

  • দোয়ারাবাজারে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ

    দোয়ারাবাজারে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ

    দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:: দোয়ারাবাজারে সিলেট সেনানিবাসের উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলা সদরের পশ্চিম মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দেড় শতাধিক মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এ-সময় উপস্থিত ছিলেন,মেজর আল জাবির আসিব,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেহের নিগার তনু, সিনিয়ার ওয়ারেন্ট অফিসার সেলিম রেজা, দোয়ারাবাজার থানার ওসি জাহিদুল হক,
    এসআই আতিয়ার রহমান,সার্জেন্ট আলমগীর, কর্পোরাল মামুন, ল্যান্স কর্পোরাল রেজাউল, সৈনিক বরকত উল্লাহ, সৈনিক বাঁধন, সৈনিক আমির, সদর ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভুট্রো, ইউপি সদস্য হাজেরা বেগম, সাংবাদিক মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, হারুন অর রশিদ, আলা উদ্দিন, বজলুর রহমান, শাহজাহান আকন্দ, এনামুল কবীর মুন্না, মাসুদ রানা প্রমুখ।