Category: দেশজুড়ে

  • নড়াইলে গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রনেতা সুব্রত সাহা মানিকের স্মৃতিস্তম্ভ ও চয়ন মল্লিকের ম্যুরাল ভাঙচুর

    নড়াইলে গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রনেতা সুব্রত সাহা মানিকের স্মৃতিস্তম্ভ ও চয়ন মল্লিকের ম্যুরাল ভাঙচুর

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলে ছাত্রনেতা সুব্রত সাহা মানিকের স্মৃতিস্তম্ভ ও চয়ন মল্লিকের ম্যুরাল ভাঙচুর। নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের শহীদ মিনার ও পূর্বপাশের ফটকের পাশে ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রনেতা সুব্রত সাহা মানিকের স্মৃতিস্তম্ভ ও চয়ন মল্লিকের ম্যুরাল ভাঙচুরের করেছে দুর্বৃত্তরা। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালের দিকে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
    কলেজ সূত্রে জানা যায়, শনিবার কলেজ বন্ধ থাকায় তেমন লোকজনের উপস্থিতি ছিল না। স্মৃতিস্তম্ভের ওই পাশটিতে লোকজনের চলাচল কম ছিল। এ সুযোগে সকালের দিকে কয়েকজন কলেজের পূর্ব পাশ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে মানিকের স্মৃতিস্তম্ভ ও চয়নের ম্যুরাল ভাঙচুর করে চলে যায়। তাদের সবার হেলমেট পরা ছিল।
    এদিন সন্ধার দিকে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদ লতীফ বলেন, আমি নড়াইলের বাইরে থাকায় একটু আগে জানতে পেরেছি। শুনেছি হেলমেট পরে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এটা পরিকল্পিতভবেই করা হয়েছে। প্রশাসনকে জানানো এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে।
    এ বিষয়ে জানতে নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। কলেজের পাশে অবস্থিত রুপগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে কথা বলতে বলেন।
    এদিকে রুপগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলিমুজ্জামানকে ফোন করা হলে তিনিও এ ব্যাপারে অবগত নন বলে জানান।
    উল্লেখ্য, কলেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে মানিক ও চয়ন প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। আন্দোলন অংশ নিয়ে মানিক ১৯৯০ সালের ৩০ নভেম্বর এবং চয়ন মল্লিক ১৯৯২ সালের ১৬ অক্টোবর প্রাণ হারান। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • পাইকগাছায় আম গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা

    পাইকগাছায় আম গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা, (খুলনা)।।
    মাঘের শীতে আম গাছের পল্লবে মুকুল বের হতে শুরু করেছে। আম চাষীরা গাছের প্রাথমিক পর্যায়ের পরিচর্যা শেষ করে দ্বিতীয়বার ঔষধ প্রয়োগ করছে।।
    পাইকগাছা উপজেলার আম বাগানের গাছে মুকুল ধরা শরু করেছে। হপার পোকা দমনে আম চাষীরা গাছের প্রাথমিক পর্যায়ের পরিচর্যা শেষ যে সব গাছে মুকুল বের হয়েছে তার পরিচর্যা চলছে। ভালো ফলন পেতে বাগান মালিক ও আম চাষীরা আম বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছে আম চাষী ও বাগান মালিকরা। পাইকগাছা বড় আম বাগানের মালিক বিরাশির অখিলবন্ধু ঘোষ, সনাতন কাঠির আমিন সরদার, মোমিন সরদার, গদাইপুরের সামাদ ঢালী, মোবারক ঢালী, গোপালপুরের আবুল হোসেন জানান, তাদের রুপালী, বোম্বাই লতা ও হিম সাগর জাতের গাছের সংখ্যা বেশি। বাগানের আম গাছে গাছে মুকুল এসেছে এবং পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। তারা ভালো ফলনের আশা করছে।

    পাইকগাছার কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুুনি, রাড়ুলী ও পৌরসভা ছাড়া বাকী ইউয়িনগুলিতে একেবারে সীমিত আমের গাছ রয়েছে। উপজেলায় ৫৮৫ হেক্টর জমিতে মোট আম গাছের সংখ্যা ১৪ হাজার ১শ ৮০ টি। তাছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়ানো ছিটানো আম গাছ আছে। আম বাগান থেকে ২২ হাজার ১৮০ মেট্রিকটন আমের ফলন পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন জানান, আম গাছে মুকুল ধরা শুরু করেছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক আম চাষী ও বাগান মালিকদের আমগাছ পরিচর্যায় পরামর্শ দিচ্ছে। ভালো ফলন পেতে বাগান মালিক ও আম চাষীরা আম বাগান পরিচর্যা করছেন। বড় কোন ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে, তিনি আমের ভালো ফলন আশা করছেন।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় চারজন ডাক্তার

    পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় চারজন ডাক্তার

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা, (খুলনা)।।

    খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), অর্থোপেডিক, পেডিয়াট্রিক্স, ইএনটি, সাভারি, কার্ডিওলজি, ওগো, অপথালমোলজি, চর্ম ও যৌন, অ্যানেসথেটিস্ট, ইনডোর মেডিকেল অফিসার, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক শূন্য রয়েছে।

    হাসপাতালে ২৪ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও আছে মাত্র সাতজন। বাকি ১৭ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। সাতজন চিকিৎসকের মধ্যে অন্য হাসপাতালে সংযুক্তিতে তিনজন কর্মরত। চারজন ডাক্তার প্রায় ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন ।
    দক্ষিণ অঞ্চলের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী ও ব্যস্ততম হাসপাতাল পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি জনবল সংকটে নিজেই এখন রোগীতে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ডাক্তার দেখাতে না পেরে বাধ্য হয়ে শহর বা ক্লিনিক মুখো হচ্ছে। প্রতিদিন আউটডোরে চার শত থেকে সাড়ে চারশত রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। একশত জন রোগী ভর্তি থাকে।
    উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। পাইকগাছার সাথে পাশের উপজেলাগুলির যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় পাশের জেলা সাতক্ষীরার আশাশুনি ও তালা, খুলনার দাকোপ উপজেলা থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে অনেক রোগী আসেন। এতো বিপুল সংখ্যক জনগণের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিমশিম খেতে হয়।
    জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভার অন্তত চার লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল এটি। ২০১৫ সালের ৫ মার্চ ৩১ শয্যার হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেবার মান বাড়েনি। দেওয়া হয়নি চাহিদা মতো জনবল।
    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তায় পদে রয়েছে একজন। জুনিয়র কনসালট্যান্টের পদ ৪টি, রয়েছে ৩টি; আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তার পদ ১টি, যা শূন্য; মেডিকেল কর্মকর্তার পদ ৩টি, রয়েছে ১টি; নার্সিং সুপার ভাইজারের পদ ১টি, যা শূন্য, সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদ ৩২টি, রয়েছে ২৩টি। মিডওয়াইফ-এর পদ ৪টি, রয়েছে ৩টি; মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদ ৭টি, রয়েছে ৩টি; ফার্মাসিস্টের পদ রয়েছে ২টি, রয়েছে ২টি; স্যালমো পদ ২টি, রয়েছে ২টি; স্বাস্থ্য পরিদর্শকের পদ ৪টি, রয়েছে ১টি; সহ স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদ ১৩টি, রয়েছে ৮টি; কার্ডিওগ্রামার পদ ১টি, রয়েছে ১টি; ড্রাইভারের পদ ১টি, রয়েছে ১টি; স্বাস্থ্য সহকারীর পদ সংখ্যা ৬৫টি, রয়েছে ৪৫টি; হারবাল অ্যাসিসট্যান্টের পদের সংখ্যা একটি, রয়েছে ১টি; অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদের সংখ্যা ৪টি, রয়েছে ২টি; টিএলসি এর পদের সংখ্যা ১টি, রয়েছে ১টি; কুক/মশালটির পদের সংখ্যা ২টি, রয়েছে ১টি; অফিস সহায়ক পদের সংখ্যা ৭টি, রয়েছে ১টি। এছাড়া কম্পিউটার অপারেটর ১টি, প্রধান সহকারীর পদ একটি, হেলথ অ্যাডুকেটরের পদ ১টি, ক্যাশিয়ারের পদ ২টি, প্রধান সহ. কাম কম্পিউটার অপারেটর পদ ১টি, পরিসংখ্যানবিদ ১টি, স্টোর কিপারের পথ ২টি, সহ. নার্সের পদ ১টি, কম্পাউন্ডার পদ ১টি, নিরাপত্তা প্রহরী পদ ১টি, জুনিয়র মেকানিকের পদের সংখ্যা ১টি, মালির পদের সংখ্যা ১, আয়া পদের সংখ্যা ২, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ ৪ শূন্য আছে ৪ জনের পদ।
    এ ছাড়া স্বাস্থ্য সহকারীর বেশিরভাগ পদ দীর্ঘদিন শূন্যসহ আল্ট্রাস্নোলজিস্ট, মালি না থাকায় বাগানের পরিচর্যা করতে পারছে না। অত্র কমপ্লেক্সের যেখানে মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ রয়েছে ২৩৭, সেখানে রয়েছে ১৪০ জন, পদ শূন্য রয়েছে ৯৭ জনের। দীর্ঘদিন শূন্যপদ রয়েছে ১৫টি। এ ছাড়াও সার্জারি যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, অপরিচ্ছন্নতা, ওয়ার্ডে পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত বাথরুম, খাবারে অনিয়মসহ নান্য সমস্যায় জর্জরিত হাসপাতালটি।
    এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাহবুবর রহমান বলেন, ৩০ শয্যার হাসপাতালটি ৫০ শয্যার উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো হয়নি। হাসপাতালের ডাক্তার, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকট রয়েছে। অপ্রতুল সীমাবদ্ধতার সত্ত্বেও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। জরুরি ভিত্তিতে শূন্যপদের জনবল পূরণ, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগীর চাপ, তাতে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করি, কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নেবেন।

  • গোদাগাড়ীতে টমেটো চাষে বিপ্লব। বানিজ্য হয় ১৫শ কোটি টাকা। হয়  ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান

    গোদাগাড়ীতে টমেটো চাষে বিপ্লব। বানিজ্য হয় ১৫শ কোটি টাকা। হয় ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী।। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রতিবছরের ন্যয় এবারও টমেটো চাষে বিপ্লব ঘটেছে। কাঁচা পাঁকা টমেটো ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে । মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দাম ভাল থাকায় জমজমাটভাবে চলছে টমেটোর কারবার। গোদাগাড়ী হেলিপ্যাড, সিএন্ডবি, রেলগেট, হাবাসপুর, গোপালপুর, কাঁকনহাট, মহিশালবাড়ী, বসন্তপুর, রেলগেট, চর আষাড়িয়াদহ, পিরিজপুরসহ বিভিন্ন এলাকা পরিণত হয়েছে পাঁকানোর কারবার, টমেটো পাঁকাতে টমেটো রোদে শুকানো হচ্ছে। আবার কোনো কোনোগুলো স্তুপ করে রেখে খড় দিয়ে ঢেঁকে রাখা হয়েছে।
    যেগুলোতে প্রায় পুরোপুরি লাল রং ধারণ করবে, সেগুলো আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে বাজারজাত করণ হবে। এই টমেটোগুলোই চলে যাবে নাটোর, বগুড়া, নওগা, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
    এভাবে টমেটো প্রক্রিয়াজতের মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়।

    বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে অস্থায়ী বাড়ি করে বা বাড়ি ভাড়া নিয়ে ফাঁকা জমি বর্গা নিয়ে সেখানে কাঁচা টমেটো পাঁকিয়ে বাজারজাত করছেন। এভাবে গোদাগাড়ীর অন্তত ৫০টি স্থানে চট্রগ্রাম, সিলেট, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এই টমেটো ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। গত প্রায় একমাস ধরে এবারকার মৌসুমের টমেটো বেচাকেনা শুরু করে অব্যাহতভাবে চলছে। এই দুই মাস টমেটোর চরণভূমি বলে খ্যাত গোদাগাড়ীতে শুধুমাত্র টমেটো মৌসুমে প্রায় ১৫ শ থেকে ১৮ শ কোটি টাকার। অস্থায়ীভাবে ৮ থেকে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে।

    পদ্মা নদীর ওই পার চরাঞ্চলের কৃষকরা দিন দিন টমেটো চাষের দিকে ঝুঁকছে। প্রতি বছর চরাঞ্চলে বাড়ছে টমেটোর চাষ। চরাঞ্চলের জমি পলিমাটি হওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলের চাইতে টমেটোর সাইজ বড় হচ্ছে এবং দাম বেশী পাচ্ছে এ অঞ্চলের টমেটো চাষিরা।

    রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গোদাগাড়ীতে টমেটোর আবাদ হয় ২ হাজার ৬শ” ৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ৫৮ হাজার ৫শ” ৯৫ মেট্রিক টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আবাদ হয়েছিল ২ হাজার ১শ” ৫০ হেক্টর, উৎপাদন হয়েছিল ৪৯ হাজার ৫শ” ২৫ টন; ২০২০-২১ অর্থবছরে আবাদ হয়েছিল ২ হাজার ৪শ” ৬০ হেক্টর, উৎপাদন হয়েছিল ৫৯ হাজার ৪০ টন; ২০২১-২২ অর্থবছরে আবাদ হয়েছিল ২হাজার ৮শ” ৫০ হেক্টর, উৎপাদন হয়েছিল ৭১ হাজার ২শ” ৫০ টন; ২০২২-২৩ অর্থবছরে আবাদ হয়েছিল ৩ হাজার ১৫ হেক্টর, উৎপাদন হয়েছিল ৮৭ হাজার ৪ শ” ৩৫ টন; ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আবাদ হয়েছিল ২ হাজার ২শ” ৪৫ হেক্টর; উৎপাদন হয়েছিল ৬৫ হাজার ১শ” ৫ টন এবং সবশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে টমেটোর আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৬ শ”৭০ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৪ হাজার ৭৬০ টন।
    এ উপজেলায় ১৭-২০ জাতের টমেটোর চাষ হয়। যার মধ্যে বেশিরভাগই হাইব্রিড। তবে অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে টমেটো চাষ অত্যন্ত লাভজনক। তবে ভালো ফলন, বীজ ও দাম নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে কোনো বছর চাষের হার বেড়েছে আবার কোনো বছর কমেছে। এসব টমেটো চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রায় ১৫ হাজার কৃষক ও কৃষি শ্রমিক।

    গোদাগাড়ী উপজেলার মাদারপুর এলাকার বড় টমেটো চাষী সুমন আলী বলেন, ‘এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে, দামও ভাল পাচ্ছি, চাঁদাবাজি নেই। ব্যবসায়ীরা জমিতে থেকেই টমেটো কিনে নিচ্ছে। ৮ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছি গত বছরের চেয়ে বেশী ইনকাম হয়ে গেছে।

    টমেটো ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম জানান, এবার ভালো টমেটো আছে। ভালো দাম আছে। প্রতিদিন এক ট্রাক করে টমেটো ঢাকায় পাঁঠায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লায় যাচ্ছে এসব টমেটো। দাম কমে গেল ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছ।

    উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, এই অঞ্চলে দুবার টমেটোর চাষ হয়। এরমধ্যে গ্রীষ্মকালীন টমেটো রয়েছে। এই টমেটোর বেশি দাম পান চাষিরা। এবছর এই টমেটো ১৫-১৬০ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হয়েছে।
    শত শত কোটি টাকার এখানে বানিজ্য হয়। শুধু তাই নয়, টমেটো বেচাকেনাকে কেন্দ্র অস্থায়ীভাবে ৯ থেকে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • মহেশপুর থেকে সরকারী কম্বল চুরি করে পালানোর সময় অডিটোরিয়ামের কেয়ারটেকার সোহেল রানা আটক

    মহেশপুর থেকে সরকারী কম্বল চুরি করে পালানোর সময় অডিটোরিয়ামের কেয়ারটেকার সোহেল রানা আটক

    শহিদুল ইসলাম,
    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা:
    ২০২২/২৩ অর্থ বছরের এলাকার অসহায় মানুষের জন্য আনা সরকারী কম্বল (শীতবস্ত্র) এবং শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ক্যাপ ও বিভিন্ন খেলার সামগ্রী ঝিনাইদহের মহেশপুর জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে রাখেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ¦ শফিকুল আজম খান চঞ্চল। সেখান থেকে ১০ বস্তার অধিক কম্বল গোপনে ভোর রাতে আলমসাধু যোগে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় অডিটোরিয়ামের সাবেক কেয়ারটেকার সোহেল রানা(৪৫) কে মহেশপুর থানা পুলিশ আটক করেছে।

    কম্বলসহ আটক কৃত সোহেল রানা জানায়, সে কম্বল গুলো আলমসাধু যোগে নিয়ে কোটঁচাঁদপুরে যাচ্ছিলো। অডিটোরিয়াম থেকে বের হবার পরই পুলিশ তাকে কম্বলসহ আটক করে বলেও জানান অডিটোরিয়ামের সাবেক কেয়ারটেকার সোহেল রানা।
    বর্তমান মহেশপুর অডিটোরিয়ামের কেয়ার টেকার মাজেদুল ইসলাম জানান, আমি ২০২৪ ইং সালের ২৬ ডিসেম্বর এখানে যোগদান করেছি। যোগদানের আগে এখানে কি ছিলো আমার জানা নেই। আমি শুক্রবার একটি মিটিং শেষ করে স্যারদের বলে বাড়ীতে গিয়েছিলাম চাউল আনার জন্য। আজ এসে দেখি এখান থেকে কম্বল চুরি করে পালানোর সময় এই অডিটোরিয়ামের সাবেক কেয়ার টেকার সোহেল রানাকে পুলিশ আটক করেছে । তবে আমার একটি ইলেকট্রিক চুলা চুরি হয়ে গেছে।
    পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন সকালে মর্নিং ওয়ার্ক করতে যাওয়ার সময় দেখি জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের ভিতর থেকে ঢপ ঢপ কম্বল আলমসাধুতে উঠানো হচ্ছে। এবং সেখানে কয়েকজন হিন্দু মহিলা কম্বল দিয়ে ঝগড়া ঝাটি করছে , আমি এটা দেখার পর জিঙ্গাসা করলে তারা প্রথমে স্বীকার করতে চাননি। একটু জোরে কথা বললে তারা কম্বল গুলো কোটচাঁদপুর নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন কম্বল গুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চলের পি এস সুফল কুমার আমাকে রিকেষ্ট করে।
    থানার একটি সুত্রে জানাগেছে, ১০ বস্তার অধিক কম্বল চুরি করে অডিটোরিয়ামের সাবেক কেয়ারটেকার সোহেল রানা আলমসাধু যোগে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে অডিটোরিয়ামের ভিতরের একটি কক্ষ থেকে পুলিশ আরো ৪ ঢপ কম্বল, ফুটবল,কেরামবোর্ড ,শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত টুপি ও খেলার বিভিন্ন সমগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
    মামলার বাদি জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনারুল আলম জানান, আমার অডিটোরিয়াম থেকে কম্বলসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যাচ্ছিলো তাই আমি বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছি।

  • নড়াইলে পুলিশের অভিযানে বিস্ফোরক মামলার আসামী গ্রেফতার

    নড়াইলে পুলিশের অভিযানে বিস্ফোরক মামলার আসামী গ্রেফতার

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে//

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় একটি বিস্ফোরক মামলায় ইয়াসিন শিকদার জনি (৩০) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে কালিয়া থানা পুলিশ।গ্রেফতারকৃত ইয়াসিন শিকদার জনি উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামের মোঃ রেজাউল শিকদারের ছেলে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে কালিয়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং ২৬ জানুয়ারি বেলা ১১ টায় জেলা আদালতে প্রেরণ করলে আদালতের বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
    কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রাশেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ দিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টিম ইয়াসিন শিকদার জনি কে নজর দারিতে রাখার পর গত ২৫ তারিখ রাতে, কালিয়া থানার মামলা নাম্বার (জি,আর,১২৪) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ২৫ ডি, তৎসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক উপাদানবলি আইনের ৩/৬ ধারায় গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আন্তর্জাতিক কাস্টমস্ দিবস পালিত

    পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আন্তর্জাতিক কাস্টমস্ দিবস পালিত

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ ‘কাস্টমস সেবায় প্রতিশ্রুতি, দক্ষতা নিরাপত্তা প্রগতি’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস।

    এ উপলক্ষে রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকালে বাংলাবান্ধা জিরো লাইনে বাংলাদেশের বাংলাবান্ধা কাস্টমস ও ভারতের ফুলবাড়ি কাস্টমসের মধ্যে শুভেচ্ছা ও মিষ্টি বিনিময় করা হয়। শুভেচ্ছা ও মিষ্টি বিনিময়ের সময় ফুলবাড়ি কাস্টমসের সহকারী কমিশনার টিও শার্পা, কাস্টমস সুপারেনটেনডেন গোপাল কৃষ্ণ দাস উপস্থিত ছিলেন।

    শুভেচ্ছা ও মিষ্টি বিনিময় শেষে স্থলবন্দরের কনফারেন্স রুমে স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় বাংলাবান্ধা স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার মো. ইসাহাকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ্ব মো. শরিফ হোসেন।

    এছাড়াও স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মইনুল হাসান, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তুহিন চৌধুরী, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেড ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ, পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শাহাদাত হোসেন রঞ্জু, সোহেল রানা মানিক প্রধান, সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইবনে সফি নাসিনুল হাসান, সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, স্থলবন্দর আমদানি রফতানি গ্রুপের কোষাধ্যক্ষ মোজাফফর হোসেন, ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ কবির, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ সহ বন্দরের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • মুন্সীগঞ্জে খামারির ১১টি ভেড়া কুপিয়ে হত্যা 

    মুন্সীগঞ্জে খামারির ১১টি ভেড়া কুপিয়ে হত্যা 

    লিটন মাহমুদ,
    মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

    মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমে বিসমিল্লাহ ডেইরি এন্ড ভি ফ্যাটেনিং নামে একটি খামারে কুপিয়ে ও গলায় তার পেঁচিয়ে ১১টি ভেড়া হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। 

    শনিবার (২৬ জানুয়ারি) রাতের কোনো এক সময় মিরকাদিম পৌরসভার চন্দনতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    বিসমিল্লাহ ডেইরির শ্রমিক মামুন জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে এলাকার কয়েকজন মাদকসেবী খামারে ঢুকে মাদক সেবন করে আসছে। তাদের মধ্যে চব্দনতলা গ্রামের খালেক মিয়ার ছেলে লিখনও ছিল। তাদেরকে নিষেধ করার পর তিন-চার দিন ধরে আর আসেনি। আজকে সকালে ভেড়াকে খাবার খাওয়াতে গিয়ে ১১টি ভেড়া রক্তাক্ত-মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

    খামার মালিক মোহাম্মদ আশিক বলেন, “শ্রমিকের মাধ্যমে জানতে পারি আমার খামারের ১১টি ভেড়া মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে তিনটা ভেড়ার বাচ্চা পেটে আছে। আমার খামারে গরু-ছাগল ও মাছের পাশাপাশি ভেড়াও পালন করি। আমার সাথে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। কে বা কারা করেছে সেটাও জানি না। যারা এই অমানবিক কাজ করেছে আমি তাদের বিচার চাই।”

    মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাক্তার মোর্শেদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “কয়েকটি ভেড়া কুপিয়ে মারা হয়েছে। বেশ কয়েকটি ভেড়াকে লিকুইড পদার্থ পুশ করে মারা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
    খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন হাতিমারা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, “একটি ঘরের মধ্যে ১১টি ভেড়া মরে পড়ে ছিল। মনে হচ্ছে শত্রুতা করে মেরে ফেলা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে আদালত চত্বর ছাড়ল বৈষম্যবিরোধীরা

    পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে আদালত চত্বর ছাড়ল বৈষম্যবিরোধীরা

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী প্রীতি মনোভাবের অভিযোগ তুলে চার বিচারকের অপসারণের দাবিতে জেলা জজ কোর্ট ঘেরাও এবং রাস্তা অবরোধ করেছে পঞ্চগড়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

    রোববার (২৬ জানুয়ারি) বেলা সোয়া দুইটায় আদালতের সকল ফটকে তালা দিয়ে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। পরে রাত ৮ টায় জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা।

    অভিযুক্ত ওই বিচারকরা হলেন- পঞ্চগড়ে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ গোলাম ফারুক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মন্ডল, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুজ্জামান ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হেনা সিদ্দিকী।

    গত বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজসহ চার বিচারকের অপসারণের দাবিতে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে তারা। ওই দিন বিক্ষোভে এই চার বিচারককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের সময়সীমা বেঁধে দেন আন্দোলনকারীরা। বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষোভকারীরা।

    এসময় আদালত চত্বরের ভেতরে থাকা বিচারপ্রার্থী, আইনজীবীসহ আদালত–সংশ্লিষ্ট লোকজন বিকেল সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত আটকা ছিলেন।

    পরে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী আদালত চত্বরে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত হতে কিছুটা সময় লাগে। তবে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্তটা আইন মন্ত্রণালয়ে সামারি হয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে যায়। সিদ্ধান্ত হলো, অভিযোগ ওঠা চারজন বিচারক আগামীকাল থেকে পঞ্চগড় আদালতে কোনো বিচারকাজ করবেন না এবং তাঁরা এখান থেকে চলে যাবেন। আর আপনাদের যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা লিখিত আকারে আমার কাছে দেবেন, আমি সেগুলো মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠাব। জেলা প্রশাসকের ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা আদালত চত্বর ত্যাগ করেন।

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

  • লালমনিরহাট সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদ এর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

    লালমনিরহাট সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদ এর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

    মো.হাসমত উল্লাহ,লালমনিরহাট।।।

    লালমনিরহাট সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদ এর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী-২০২৫ জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা স্পার-২ তে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলার শতাধিক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুরাগী ও গুণী মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি, গান, পালাগান পরিবেশন করেন অনেকেই। আনন্দমূখর পরিবেশে গুণীজন সম্মাননা, সংগঠনের ৫ম প্রকাশনা সংকলন গ্রন্থ ‘স্ফুরণ’ এর মোড়ক উন্মোচন এবং নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। 

    এতে ২০২৪ জুলাই-আগষ্টের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে লালমনিরহাট জেলার প্রথম শহীদ মিরাজ খান ও রংপুরের শহীদ আবু সাঈদসহ দেশ বিনির্মাণে আত্মোৎসর্গকারী সকলকে উৎসর্গ করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন রংপুরী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট কবি ও কথাসাহিত্যিক ড. মো. হাসানুজ্জামান জুয়েল, কবি হাই হাফিজ, মঞ্জুরুল হক, আতাউর মালেক, মুসতাক মুকুল, সহযোগী অধ্যাপক শফিকুর রহমান, আনিছুর রহমান লাডলা, খান মুজাহিদ, ইরশাদ জামিল, আই টি এম অন্তর, নাজিরা পারভীন, জুলফিকার আরাফাত পরশ, জান্নাতুল ফেরদৌস শিল্পী, আব্দুস সালাম, ইয়ামিন বসুনিয়া, আব্দুল লতিফ সরকার, সাহিদুল আমিন দুলাল, আঃ লতিফ মৃধা, ছড়াকার শ. ম. শহীদ, ইব্রাহিম সরদার,  তহমিনা বেগম ইলা, আহেদুল ইসলাম আদেল, ডা. মো. আজমল হক,  নিরব রায়হান, জেসমিন খুশি, ঈশা শাহীন, আশরাফুল ইসলাম, তরণী কান্ত অধিকারী, গোলাপ হোসেন রতন, মাহবুবার রহমান, মোঃ আনোয়ার সাদাত পাটোয়ারী, ফেরদৌস আহমেদ কোয়েল, নুরন্নবী, মেরিনা সুলতানা সম্পা, জেসমিন নাহার, শাহনাজ পারভীন, দিগন্ত আহমেদ, আসমাউল হুসনা, আসমাউল হুরায়রা, মিজানুর রহমান মিলন, ইসমত আরা, মনিরুজ্জামান, সিরাজুন মনিরা, মুকুল দাস, জাহাঙ্গীর হোসেন, সরমিন বীথি, আজমেরী পারউইন লাবনী, আনাজিরা জাহান, ড. রুমা রায়, সাহানারা বেগম, আজিজুর রহমান, সৈয়দ মূলক চাঁদ সবুজ, মোকলেছার রহমান খান, তাসনিম আহমেদ নির্ঝর, ডালিম কুমার প্রমূখ। নতুন কমিটির সভাপতি আতাউর মালেক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সরমিন বীথির নাম অনুমোদন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, সংগঠনের সহসভাপতি ইরশাদ জামিল। লাকী কুপন ড্র এবং সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

    হাসমত উল্লাহ।।