Category: দেশজুড়ে

  • ডিবি পুলিশের পৃথক অ-ভিযানে ইয়া-বা ট্যাবলেট ও চো-লাইমদসহ ৩ জন মা-দক ব্যবসায়ী গ্রে-ফতার

    ডিবি পুলিশের পৃথক অ-ভিযানে ইয়া-বা ট্যাবলেট ও চো-লাইমদসহ ৩ জন মা-দক ব্যবসায়ী গ্রে-ফতার

    হেলাল শেখঃ ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ঢাকা জেলার ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ শাহাদাৎ হোসেন সংগীয় অফিসার ও ফোর্স পৃথক অভিযানে মাদকসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬ইং) দুপুরে ডিবি পুলিশ জানায়, গত ২৫/০১/২০২৬ইং রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন পলাশবাড়ি এলাকা থেকে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ শাহ (৩৮) কে গ্রেফতার করে। সে আশুলিয়ায় সোহরাব মাস্টারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার কাছ থেকে ২০ (বিশ) লিটার চোলাইমদ জব্দ করা হয়েছে।

    অপর একটি অভিযানে এসআই (নিঃ) মোঃ আব্দুল মুত্তালিব সংগীয় ফোর্সসহ একই তারিখ রাত ১১ টার দিকে ধামরাই থানাধীন কায়েতপাড়া এলাকা থেকে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে বুচাই (৩৬) কে ৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করেন।

    পৃথক আরও একটি অভিযানে এসআই (নিঃ) মোঃ মতিউর রহমান সংগীয় ফোর্সসহ একই তারিখ রাত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাভার থানাধীন আমিনবাজার হিজলা এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী মোঃ আজগর আলী (৫৩) কে ১০০ (একশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়।

    উল্লেখ্য যে, মাদক ব্যবসায়ী আসামী সিডিএমএস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মোঃ আজগর আলী (৫৩) এর বিরুদ্ধে ০৮ টি মামলা রয়েছে।

    উক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে ডিবি পুলিশ জানায়।

  • আশুলিয়ায় সাব-কন্ট্রাকের পোশাক তৈরি করে না দিয়ে অর্থ ও মালামাল আ-ত্মসাতের অ-ভিযোগ

    আশুলিয়ায় সাব-কন্ট্রাকের পোশাক তৈরি করে না দিয়ে অর্থ ও মালামাল আ-ত্মসাতের অ-ভিযোগ

    হেলাল শেখ: ঢাকার প্রধান শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় সাব-কন্ট্রাকে গার্মেন্টসের পোশাক তৈরি করে দেওয়ার নামে নগদ অর্থ ও মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে আজিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

    ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তপন কুমার দাস গুপ্ত অভিযোগ করে জানান, আজিজুল ইসলাম তার কাছ থেকে প্যান্ট তৈরির জন্য ১৫০৪ গজ কাপড় গ্রহণ করেন এবং অগ্রিম মজুরি বাবদ ২০ হাজার টাকা নেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি তৈরি পোশাক বা কাপড় কোনোটিই ফেরত দেননি। পাওনা টাকা ও মালামাল চাইতে গেলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তপন কুমার দাস গুপ্ত আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ১৫৭৮, তারিখ ১৪/১২/২০২৫ ইং। বিষয়টি তদন্ত করছেন আশুলিয়া থানার (এএসআই) আমিনুর রহমান। তিনি জানান, জিডির তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বাদী চাইলে আইনগতভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং) গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তপন কুমার দাস গুপ্ত বলেন,
    “আমি আজিজুল ইসলামকে গত ২২/০৪/২০২৫ ইং তারিখে প্যান্ট তৈরির জন্য ১৫০৪ গজ কাপড় দিই। এখন পর্যন্ত সে কোনো প্যান্ট দেয়নি। আমার লাখ লাখ টাকার মালামাল আত্মসাৎ করেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”

    অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার না করে বিবাদী আজিজুল ইসলাম বলেন,“আমি কাপড় গ্রহণ করেছি এবং প্যান্ট তৈরি করা হয়েছিলো। তবে নিতে দেরি হওয়ায় শ্রমিকরা সেগুলো বিক্রি করে দিয়েছে।”

    এ বিষয়ে এলাকাবাসীর একাধিক ব্যক্তি জানান, এ ধরনের বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগেও শোনা গেছে, সে একজন খারাপ প্রকৃতির লোক।

  • যবিপ্রবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গোবিপ্রবি উপাচার্যের শুভেচ্ছা

    যবিপ্রবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গোবিপ্রবি উপাচার্যের শুভেচ্ছা

    কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এ শুভেচ্ছা বার্তা জানান গোবিপ্রবি উপাচার্য।

    দিবসটি উপলক্ষে রবিবার ক্যাম্পাসজুড়ে আয়োজন করা হয় আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটা, আলোচনা সভা ও পিঠা উৎসব, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, জুলাই কর্নার, দেশীয় লোকসঙ্গীত পরিবেশন প্রভৃতি।  
    সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ।পরে গোবিপ্রবি উপাচার্যকে ও অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে কেক কাটা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোবিপ্রবি উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান।

    এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেন।  
    দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যে সবচে’ আকর্ষণীয় ছিল পিঠা উৎসব।  
    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে যবিপ্রবিতে ৮টি অনুষদের অধীনে ২৭টি ডিপার্টমেন্টে ছয় হাজার ২১৩ শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছেন।

  • তানোরে বিশ্ব কু-ষ্ঠ দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

    তানোরে বিশ্ব কু-ষ্ঠ দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    ‘কুষ্ঠরোগ নিরাময়যোগ্য,সামাজিক কুসংস্কার প্রকৃত বাধা-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল র‌্যালি,আলোচনা সভা,রোগী সনাক্তকরণ সার্ভে প্রোগ্রাম ও মাইকিং।
    জানা গেছে, রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে দি লেপ্রসী মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এসব কর্মসূচির আয়োজন করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়।র‌্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দি লেপ্রসী মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর তানোর উপজেলা শাখার কমিউনিটি ফেসিলেটর, প্রবীর হাঁসদা সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা(টিএইচও) ডা: বার্নাবাস হাসদাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা ইসরাত জেরিন, মেডিকেল অফিসার ডিজিজ কন্ট্রোলার ডাঃ এ বি এম আসিফ আহমেদ।টিএলসিএ মো: মাহবুবুল আলম প্রমুখ।
    প্রধান অতিথি ডা: বার্নাবাস হাসদাক বলেন, কুষ্ঠ রোগ ছোঁয়াচে নয়,নিরাময় যোগ্য। চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ ভালো হয়। এই তথ্য প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। দি
    লেপ্রসী মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- এর তানোর উপজেলা শাখার কমিউনিটি ফেসিলেটর প্রবীর হাঁসদা বলেন,
    কুষ্ঠরোগ কোনো অভিশাপ নয়,এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য একটি রোগ। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন।তিনি আরও জানান, আমাদের দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। কিন্তু অনেক মানুষ এখনো এ বিষয়টি জানেন না। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে জানাতে হবে যে, কোনো খরচ ছাড়াই সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব। তিনি সকলকে কুষ্ঠরোগ সংক্রান্ত কুসংস্কার দূর করা,সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্তদের পাশে মানবিকভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এবং কুষ্ঠ রোগের উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে সাথে সাথে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা বক্ষব্যাধী ক্লিনিকে নিয়ে যেতে হবে।সেখানে বিনামূল্যে এই রোগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এ রোগ সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার থেকে সবাইকে সচেতন করতে পারলে দেশে কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ হবে বলে আশা করেন বক্তারা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মর্ত কর্মকর্তা কর্মচারী, গণমাধ্যম কর্মী, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি,কুষ্ঠ রোগী ও S HG দলের সদস্য।#

  • বঙ্গবন্ধুর প্রতি অ-সম্মানের প্র-তিবাদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি

    বঙ্গবন্ধুর প্রতি অ-সম্মানের প্র-তিবাদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    ৫ আগস্টের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অসম্মান, ভার্স্কয ভাংচুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ী ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট -২০২৬ উপলক্ষে গোপালগঞ্জ-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সিপন ভূঁইয়া।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন ২১৬ গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা ও কাশিয়ানী উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সিপন ভূঁইয়া। তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

    এর আগে ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি টুঙ্গিপাড়ার গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের কবরে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সেখানে গেলে গেট বন্ধ থাকায় ৩ নম্বর গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু সহ তাঁর পরিবারে নিহত সকলের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। এরপর সেখান থেকেই তিনি তার নির্বাচনী প্রতীক ঘোড়া নিয়ে প্রচারণার জন্য ভোটরদের দোয়া ও সমর্থন চান।

    স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী সিপন ভূঁইয়া আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, আমি সিঙ্গাপুর প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আমি অতীতেও কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অসম্মান, সারা দেশে তার ভাস্কর্য ভাঙচুর ও ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ী ভাঙচুর করে যা আমাকে ব্যথিত করেছে। হৃদয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তখন থেকেই চিন্তা করি আমি জনপ্রতিনিধি হবো এবং গোপাগঞ্জেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর তৈরি করবো।গোপালগঞ্জ-২ সংসদীয় আসন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন‌ তাই এই আসন থেকেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। এছাড়াও গোপালগঞ্জের মাটিতে শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী। তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।

    এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী সিপন ভূঁইয়ার কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিপন ভূঁইয়া সহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ও এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে মোট ১৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

  • ভালুকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণা কেন্দ্রে ধানের শীষের কর্মীদের অ-গ্নিসংযোগ হা-মলায় আহ-ত-৩০

    ভালুকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণা কেন্দ্রে ধানের শীষের কর্মীদের অ-গ্নিসংযোগ হা-মলায় আহ-ত-৩০

    স্টাফ রিপোর্টারঃ
    ময়মনসিংহের ভালুকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগসহ কর্মীসমর্থকদের উপর হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ বিএনপি দলীয় ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর সমর্থকরা। দফায়-দফায় হামলার ঘটনায়য় স্বতন্ত্র প্রার্থীর বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলার বাসস্ট্যান্ড ও হবিরবাড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলে।

    রোববার (২৫ জানুয়ারী) বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও উপজেলার আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীসমর্থকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগে জানা গেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের নিশিন্দা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলমের পক্ষে লিফলেট বিতরণকালে ফখর উদ্দিন বাচ্চুর সমর্থকরা হামলা চালায়। এতে অপু নামে এক কর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    সংঘর্ষ চলাকালীন ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আদি খান শাকিলের অফিসেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান আগুনের ঘটনায় ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে চারপাশ।

    অভিযোগ উঠেছে-দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ এবং নির্বাচনকালীন চরম আচরণবিধির লঙ্ঘন করে শনিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার ৯ নং কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোর বাজার এলাকায় প্রচারণাকালে ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর ক্যাডার সোহেল তালুকদারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলমসহ তার কর্মীসমর্থকদের উপর হামলা হামলা চালায়। এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কয়েকজন কর্মীকে একটি দোকানের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে লোহার রড ও দা দিয়ে নেতাকর্মীদের ব্যবহৃত ৮টি মোটরসাইকেল ও একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করে এবং কর্মীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়।

    স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলম জানান-প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে তার শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ফখর উদ্দিন বাচ্চুর সমর্থকরা।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ ও ১২৬ অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্ণ দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত। একইসাথে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) এবং নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কমিশনের’ মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদান’সহিংসতা রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ’ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা’সকল প্রার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার
    ক্ষমতা থাকা সত্বেও এইসব ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, এসব বিষয়কে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গুরুতর ব্যর্থতার শামিল বলে দাবী করে তিনি সংবিধান ও আইন দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে অবিলম্বে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহবান জানান। অন্যথায় তিনি কমিশনের এই নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংবিধানিক প্রতিকার গ্রহণে ব্যবস্থা নিবেন বলেও হুশিয়ারী করেন একই সাথে

    সন্ত্রাস ও প্রশাসনিক নির্লিপ্ততার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার দমনকে রুখে দাঁড়াতে ভালুকার সাধারণ জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মোর্শেদ আলম।

    তবে এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে থেমে থেমে এখনও সংঘর্ষ চলছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

  • আগৈলঝাড়ায় জহির উদ্দিন স্বপনের গণসংযোগে সংখ্যাল-ঘুদের ঢল

    আগৈলঝাড়ায় জহির উদ্দিন স্বপনের গণসংযোগে সংখ্যাল-ঘুদের ঢল

    কে এম সোহেব জুয়েল ঃ
    বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এম. জহির উদ্দিন স্বপন তার ধানের শীষ মার্কার পক্ষে সমর্থন ও ভোট চেয়ে রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের সংখ্যালঘু হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকায় গণসংযোগ করেছেন।
    এ সময় পথসভা ও গণ সংযোগস্থল গুলোতে সংখ্যালঘু হিন্দু,-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষের ফল নামে। উলুধ্বনি ও নানা প্রকার স্লোগান দিয়ে হিন্দু নারীরা জমির উদ্দিন স্বপনকে অভ্যর্থনা জানান।
    ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি আগৈলঝাড়া-গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ভালুকশী বাজার থেকে গণ সংযোগ শুরু করেন। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি ওই ইউনিয়নের মাগুরা বাজারে গণসংযোগ করেন। দুপুর ১২টায় তিনি মাগুরা বাজারে জড়ো হওয়া সংখ্যালঘু জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। দুপুর ১২ টায় তিনি বাহাদুরপুর বাজারে পথসভায় বক্তব্য রাখেন। এরপর তিনি বাটরা বাজারে জড়ো হওয়া স্থানীয় সংখ্যালঘু জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন, দুপুর ১টায় ও দুপুর দেড়টায় রামানন্দের আক বাজারের দুই প্রান্তে জড়ো হওয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পৃথক দুটি জনসমাগম স্থলে বক্তব্য রাখেন। দুপুর দুই টায় তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মারিয়া মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিকের সামনে জড়ো হওয়া খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন, বেলা আড়াইটায় তিনি রাজিহার বাজারে জড়ো হওয়া হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের অসংখ্য নারী পুরুষের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
    এ সময় তার সাথে ছিলেন বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ মিজানুর রহমান খান মুকুল, উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আ.ফ.ম রশিদ দুলাল, আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শিকদার হাফিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক, শাহ মোহাম্মদ বখতিয়ার, কার্তিক চন্দ্র বেপারী, এনায়েত খান মনু, শামসুল হক খোকন, আবুল হোসেন মোল্লা, বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মোঃ সাইয়েদুল আলম খান সেন্টু, বরিশাল উত্তর জেলা মহিলা দলের সদস্য বাহাদুর সাজেদা আক্তার, গৌরনদী উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক শামীম খলিফা, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মুন্সী প্রমূখ।
    গণসংযোগ ও পথসভা গুলোতে বক্তৃতাকালে স্থানীয় জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারেক রহমান ছাড়া দেশে আর কোনো অভিভাবক নেই। দেশের মানুষের এখন একমাত্র ভরসার স্থল তারেক রহমান। আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানালে এসে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। দেশ থেকে প্রতিহিংসার রাজনীতি দূর হবে। সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা নিরাপদে নির্ভয়ে জীবন যাপন করতে পারবে। এই আসন থেকে আপনারা আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে সংসদে পাঠালে আমি আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে উচ্চস্বরে আপনাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে পারবো। আপনারা যত বেশি ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবেন আমি তত উচ্চস্বরে জাতীয় সংসদে আপনাদের অধিকার আদায়ের দাবি জানাবো।

  • র‍্যাবের যৌথ অভিযানে রুপলাল ও প্রদীপ হ-ত্যা মা-মলার প্রধান আ-সামি মেহেদী ঢাকা থেকে গ্রে-ফতার

    র‍্যাবের যৌথ অভিযানে রুপলাল ও প্রদীপ হ-ত্যা মা-মলার প্রধান আ-সামি মেহেদী ঢাকা থেকে গ্রে-ফতার

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:

    রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রধান পলাতক আসামি মেহেদী হাসানকে (৩০) ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে র‍্যাব-১৩ (রংপুর) ও র‍্যাব-১০ (কেরাণীগঞ্জ)-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাসান তারাগঞ্জ উপজেলার ফরিদাবাদ গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে। র‍্যাব জানিয়েছে, তিনি ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট সংঘটিত আলোচিত অরূপ লাল ও প্রদীপ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ,দীর্ঘদিন ঢাকায় গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন ।

    জানা যায় ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুপলাল রবিদাস (৪০) মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর ছরান বালুয়া এলাকার বাসিন্দা ও তার ভাতিজিজামাই প্রদীপ লাল রবিদাস (৪৫)। তারা দুজন একটি ভ্যানযোগে রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে রুপলালের বাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।

    পথে স্থানীয় কিছু লোক তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও প্রদীপ দাসের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে। ওই ব্যাগে দুর্গন্ধযুক্ত একটি পানীয় (সম্ভবত মদ বা অনুরূপ কোনো তরল) পাওয়া যায়। দুর্গন্ধে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে উত্তেজিত জনতা তাদের বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে গণপিটুনি দেয়।

    গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় রুপলাল ও প্রদীপ দাসকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুপলাল দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত প্রদীপ দাস কে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর তিনিও মারা যান।

    এ ঘটনায় নিহত রুপলালের স্ত্রী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং গণপিটুনির ভয়াবহ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

    ঘটনার পর পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও মেহেদী হাসান দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন। সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ ও র‍্যাব-১০ যৌথ অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

    র‍্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ফলেই এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • নড়াইলে কৃষকের বোরো ধান রোপনের ধু-ম

    নড়াইলে কৃষকের বোরো ধান রোপনের ধু-ম

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে বোরো ধান রোপনের ধুম পড়েছে। কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বোরো ধান রোপনের ব্যস্ততা। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, বীজতলার পাশাপাশি সার ও সেচের কোনো সংকট নেই এই মুহূর্তে। বিগত তিন বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে এবার বেশি জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এদিকে কৃষকেরা জানান, বোরো মওসুমের শুরুতে শীত ও কুয়াশার দাপট থাকায় প্রথমদিকে ঠিকমত ধান লাগাতে পারেননি তারা। তবে, গত দুই সপ্তাহ আগে প্রকৃতির সেই বিরূপ পরিবেশ বদলে নড়াইলের আকাশে রৌদ্রজ্জ্বল পরিবেশ বিরাজ করছে। এমন মিষ্টি-মধুর শীতের আমেজ পেয়ে কৃষকেরা বোরো ধান রোপন করছেন পুরোদমে। সদর উপজেলার চৌগাছা গ্রামের ইব্রাহিম শেখ বলেন, আমি ১৮০ শতক জমিতে বোরো ধান রোপন করছি। আপাতত ধানের চারা বা পাতোর (নড়াইলের আঞ্চলিক ভাষায় চারাকে পাতো বলে) কোনো সংকট নেই। ওই গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, তিন একর জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। শীতের শুরুতে সমস্যা হলেও এখন খুব ভালো পরিবেশ। ৭৫ বছরের বাদশা শেখ বলেন, জমি চাষাবাদ করে মই দিয়ে সমতল করে ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। মোহাম্মদ মোরাদ বলেন, আগেরদিনে গরু দিয়ে চাষাবাদ করা হলেও এখন পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছে। এতে সময় কম লাগছে। তুলনামূলক খরচও কম। সাগর শেখ বলেন, ১৩৫ শতক জমিতে রডমিনিকেট ধান রোপন করছি। এ জাতের ফলন ও দাম ভালো। ভাত খেতেও মজাদার। বিছালি বা খড় খুব ভালো হয়। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা বলেন, বোরো মওসুমের শুরুতে সার, কীটনাশক ও বিদ্যুৎচালিত সেচের তেমন সংকট নেই। মওসুমের শেষ পর্যন্ত এইভাবে সবকিছু ঠিকঠাক এবং আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকদের কষ্ট সার্থক হবে, সোনালি ফসল ঠিকমত ঘরে উঠবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নড়াইলের উপ-পরিচালক বলেন, এ বছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ মওসুমে নড়াইলে ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ মওসুমে ৫০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল। এছাড়া ২০২৩-২৪ মওসুমে আবাদ হয়েছিল ৫০ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে। এক্ষেত্রে বিগত তিন বছরের ব্যবধানে নড়াইলে ৬৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, এ বছর ২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ আদর্শ বীজতলা রয়েছে। এক্ষেত্রে বীজতলারও কোনো সংকট নেই।

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।

  • ভোট কেন্দ্র পরি-দর্শন করছেন ময়মনসিংহ সদরের ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি

    ভোট কেন্দ্র পরি-দর্শন করছেন ময়মনসিংহ সদরের ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় কেন্দ্রে চলাচলের রাস্তা ঘাট সংস্কার কাজের প্রতিও নজর দিচ্ছেন যেন ভোট চলাকালে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলা করা সহজ হয়।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারী) সকাল থেকে দিনভর
    ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি উপজেলার চর খরিচা হাই স্কুল, চকশ্যামরামপুর প্রাইমারি স্কুল, চরশীরগলদি প্রাইমারি স্কুলসহ চর হাসাদিয়া এলাকার বিভিন্ন সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ও গ্রামীণ সড়ক ঘুরে দেখেন।
    জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোট কেন্দ্রগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি, অবকাঠামোগত অবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র যাচাই করতেই এই পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরিদর্শনকালে কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ, প্রবেশপথ, ভোটকক্ষ ও প্রয়োজনীয় সুবিধাসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

    ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী অফিসার গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী বলেন, একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব ও নিয়মাবলি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতেই এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য ঝুঁকি, কেন্দ্রভিত্তিক সমস্যা এবং ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে কি না—সে বিষয়ে মতামত গ্রহণ করেন। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, যাতায়াত সড়কের অবস্থা এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।

    এ সময় তাঁর সফর সঙ্গী হিসাবে ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজা, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহসহ সেনাবাহিনীর সদস্য, আনসার বাহিনীর প্রতিনিধিরা এবং পরানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রুবেল হাসান।

    ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি আরও বলেন, নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যেই মাঠপর্যায়ে এসব পরিদর্শন করা হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা, কেন্দ্রের পরিবেশ এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

    প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের দিন ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই আগাম প্রস্তুতি ও তদারকির ফলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া হবে উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল।