জি.এম স্বপ্না,সিরাজগঞ্জ :
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা মসজিদে নামাজ আদায় শেষে অটোরিকশা না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বয়োজ্যেষ্ঠ অটোরিকশাচালক নুর হোসেন গাদু (৭০) ভাই।গতকাল বিকেলে মসজিদের সামনে অটোরিকশা রেখে আসরের নামাজে গেলে নামাজ শেষে এসে সেটি আর খুঁজে পাননি।দীর্ঘদিন ধরে অটোরিকশা চালিয়েই তাঁর চার সদস্যের সংসার চলত। একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে তিনি চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছেন।গাদু ভাই সলঙ্গা সদরের বনবাড়িয়া গ্রামের মৃত মনসের আলীর ছেলে। সৎ জীবনযাপন ও নিয়মিত নামাজ আদায়ের কারণে এলাকায় তিনি সবার কাছে শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।নামাজ আদায় করতে গিয়ে জীবনের একমাত্র আয়ের উৎস হারানো গাদু ভাই আজ অসহায়। বৃদ্ধ বয়সেও তিনি সৎভাবে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিছুদিন আগে ধারদেনা করে অটোরিকশার ব্যাটারি কিনে আবার কাজে ফিরলেও আজ সেই অটোরিকশাটিই হারিয়ে গেছে।
থানা মসজিদের মুসল্লিসহ স্থানীয়রা সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছেন,এই প্রবীণ,সৎ ও নামাজি মানুষটির পাশে দাঁড়ান।একটি নতুন অটোরিকশা কিনে দিয়ে তাঁর আয়ের পথ আবারও খুলে দিতে সহযোগিতা করুন।মানবতার হাত বাড়ালেই গাদু ভাইয়ের মুখে আবার হাসি ফোটানো সম্ভব।
Category: দেশজুড়ে
-

নামাজ আদায় করতে গিয়ে রিক্সা হা-রালেন গাদু ভাই
-

পঞ্চগড়ে ধানের শীষের মি-ছিল
মোহাম্মদ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় :
পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের পক্ষে পঞ্চগড়ে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল সারে ৪টায় পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু করেন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক ও তাঁতীদলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি পঞ্চগড় জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হয়ে জজ কোর্ট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও তাঁতী দলের প্রায় সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের ছোট ভাই, নির্বাচনী এজেন্ট, বিশিষ্ট লেখক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার নওফল জমির।
এ সময় মিছিলে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় “১২ তারিখ শুভ দিন, ধানের শীষে ভোট দিন”, “তারেক রহমানের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন”, “পঞ্চগড়ের মার্কা ধানের শীষ মার্কা”, “গণতন্ত্রের মার্কা ধানের শীষ মার্কা”।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ব্যারিস্টার নওফল জমির বলেন, আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় মানেই গণতন্ত্রের বিজয় এবং পঞ্চগড়ের আপামর জনসাধারণের বিজয়। আমরা নির্বাচিত হলে পঞ্চগড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে পঞ্চগড়কে দেশের একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকল নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
-

ড্রামট্রাকের থা-বাই সড়কে স্কুলছাত্রী নিহ-ত
নাজিম উদ্দিন রানা :
লক্ষ্মীপুর শহরের এলজিইডি কার্যালয় এলাকায় ড্রাম ট্রাকের থাবাতে গেল আফরিন (১০) নামে আরেক স্কুলছাত্রীর প্রাণ। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক রাজু গুরুতর আহত হন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর-চৌমুহনী আঞ্চলিক মহাসড়কে লক্ষ্মীপুর এলজিইডি কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আফরিন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ মজুপুর এলাকার মো. আক্তার পাটোয়ারীর মেয়ে। সে শহরের কাকলী শিশু অঙ্গন স্কুলের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে নোয়াখালীর দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ড্রাম ট্রাক লক্ষ্মীপুর-চৌমুহনী আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর এলজিইডি অফিসের সামনে একটি অটোরিকশাকে পেছন দিক থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা শিশু আফরিন গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আফরিনকে মৃত ঘোষণা করেন।আহত অটোরিকশাচালক রাজুর অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানান,দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,নিহত শিশুটিকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আহত অটোরিকশা চালককে একই হাসপাতালে ভর্তির পর কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করেন।ড্রাম ট্রাকটির চালক ঘটনার পর পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ড্রাম ট্রাকটি জব্দ করা হয়।
-

আশুলিয়ার ছয়তলা ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় গো-লাগুলি, আজাদ নামে এক স-ন্ত্রাসী গু-লিবিদ্ধ
হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ার ছয়তলা ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় ঝুট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আজাদ নামের এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জামগড়া ছয়তলা ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার সাবেক সেট ফ্যাশন পোশাক কারখানা সংলগ্ন রাস্তায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আজাদ গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ আজাদকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এর তিনদিন আগেও জামগড়া গফুর মন্ডল স্কুল রোডে শতাধিক মুখোশধারী সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ঘর ভাংচুর লুটপাট করে। উক্ত গুলাগুলির ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
-

তানোরে বিএনপি প্রার্থী শরিফ উদ্দিনের গ-ণসংযোগ
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী (ধানের শীষ প্রতিক) মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) বিভিন্ন ওয়ার্ডের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। এসব পথসভায় বিএনপির নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।জানা গেছে, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর থেকে ইউপির মাদারিপুর,ভবানীপুর,কামারগাঁ, হরিপুর, কচুয়া, হাতিশাইল ও মালশিরাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন।
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার, রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান, তানোর উপজেলা বিএনপি আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান, সাবেক সম্পাদক মফিজ উদ্দিন, পৌর বিএনপির আহবায়ক একরাম আলী মোল্লা,উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মাস্টার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শরিফ উদ্দিন মুন্সী, সুলতান আহম্মেদ, রবিউল ইসলাম,খলিলুর রহমান, ডায়মন্ড, ইউসুফ আলী,রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক রবিউল ইসলাম অরন্য কুসুম, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জুল হোসেন তোফা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাহাবুব মোল্লা, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা ওবাইদুর রহমান,ডাঃ মিজানুর রহমান মিজান, ও ছাত্রদল নেতা শাহীন সরকারপ্রমুখ। এছাড়াও বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এসময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ মোটা দাগে ব্যারিস্টার পরিবারের দুটি বিষয় একটি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কৃষি উন্নয়নে অবদান, অপরটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তানোরের যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ সুবিধার কথা তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ব্যারিস্টার পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।#
-

মহেশপুর সীমান্তে ৫৮ বিজিবির বড় অ-ভিযানে বিপুল পরিমাণ মা-দক ও যৌ-ন উত্তেজক ট্যাবলেট উ-দ্ধার
শহিদুল ইসলাম
মহেশপুর (ঝিনাইদাহ) সংবাদদাতাঃ-ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) পৃথক চারটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। গত ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি সীমান্ত এলাকায় অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মহেশপুর ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিবির দেওয়া তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত মালামালের তালিকায় রয়েছে ভারতীয় মদ, ফেন্সিডিল জাতীয় সিরাপ এবং ভায়াগ্রা ট্যাবলেট।
প্রথম অভিযান ২৬ জানুয়ারি সকাল ৮ টায় মাধবখালী বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সিংনগর হালদারপাড়া গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে ৩৪ বোতল ভারতীয় মদ এবং ৯৫ বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ (Win Cerex ও Fairdyl) উদ্ধার করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযান একই দিন সকাল ১০ টায় শ্যামকুর বিওপি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাইলবাড়িয়া গ্রামের একটি কাঁচা রাস্তা থেকে ৪৯৬ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
তৃতীয় অভিযান গত ২৫ জানুয়ারি রাত ২০:৪০ ঘটিকায় জীবননগর বিওপি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোয়ালপাড়া গ্রামের পাকা রাস্তা থেকে ৩৮ বোতল ভারতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
চতুর্থ অভিযান ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় রাজাপুর বিওপি এলাকার সিংনগর হালদারপাড়া গ্রামের একটি আম বাগান থেকে ৫২৮ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করে বিজিবি।
বিজিবি জানায়, প্রতিটি অভিযানেই মাদক ও ট্যাবলেটগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে এই ঘটনায় কোনো পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত মালামাল পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় বা কাস্টমসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ৫৮ বিজিবি’র এ ধরনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।শহিদুল ইসলাম
মহেশপুর ঝিনাইদহ।। -

বিদেশে বসে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের দিন শে-ষ: সারজিস আলম
মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড়:
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের শরিক দল থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, বিদেশে বসে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের দিন আর নেই। শেখ হাসিনা ভারতে বসে কিংবা দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশ বা এজেন্সি বসে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেবে সে সময় এখন আর নেই।সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, এই তরুণ প্রজন্ম হচ্ছে অভ্যুত্থানের প্রজন্ম, বিপ্লবী প্রজন্ম। তারা এখনও ঘুমিয়ে যায়নি, তারা জেগে আছে। প্রয়োজনে যেকোনো সময় তারা মাঠে নামবে। বাইরে বসে অনেক কিছু বলা যায়, সাহস থাকলে বাংলাদেশে এসে বলুক।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনসহ অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব পক্ষই একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ নির্বাচন চায়। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পঞ্চগড়ের তরুণদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, যারা বিগত এক বছরে জুলুম করেছে, চাঁদাবাজি করেছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করেছে তাদের হাতে দেশ তুলে দেওয়া হবে নাকি যারা ইনসাফের পক্ষে লড়াই করেছে, সিদ্ধান্ত এখন তরুণদের। তিনি আরও বলেন, যারা তিনবার শুধু কথা দিয়ে গেছে, নির্বাচনের পর হারিকেন ধরেও যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাদের ওপর আবার আস্থা রাখা হবে নাকি যারা দুঃখে-কষ্টে মানুষের পাশে থেকেছে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি দাবি করেন, মাঠপর্যায়ে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ১১ দল নিয়ে গঠিত ঐক্যবদ্ধ জোটের প্রতি মানুষের আস্থার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এই ১১ দল অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানুষের ওপর জুলুম করেনি, চাঁদাবাজি করেনি, মামলা বাণিজ্য করেনি। মানুষ বলছে, ভোটের দিন ব্যালটের মাধ্যমেই তারা তাদের জবাব দেবে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন সারজিস আলম। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফেস্টুনের নির্ধারিত মাপ লঙ্ঘনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসনের নির্দেশের পরও সেগুলো অপসারণ করা হয়নি।
এ সময় তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে যদি সমানভাবে আইন প্রয়োগ করা না যায়, তাহলে দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। তবে নিজের দলের বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনের আশ্বাস দেন তিনি।বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, সংখ্যালঘু ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এসব আচরণকে তিনি স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ধমকি দিয়ে ভোট আদায় করার সময় শেষ। মানুষ এবার ইনসাফের পক্ষে থাকবে, জুলুমের বিরুদ্ধে থাকবে। -

গোবিপ্রবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা অ-নুষ্ঠিত
কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তোলার লক্ষ্যে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) ‘বাংলাদেশ ইন গ্লোবাল পলিটিক্স: নেভিগেটিং পাওয়ার, সিকিউরিটি এন্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক পোস্টার প্রেজেন্টশন প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ এই অন্তঃবিভাগ পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিভাগটির রেজিস্ট্রেশনকৃত ৫৯ জন শিক্ষার্থী ২৯টি পোস্টার উপস্থাপন করে। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করে সুরভী আক্তার ও আদনান সাকিব, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে মোহনা হামিদ মুমু, জেমিমা আলম জুঁই ও আফিফাতুন জান্নাত এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে তাপসী রাবেয়া হায়দার, মো. মেহেদী হাসান ও সুস্মিতা দাস বর্ণা।
বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ৫০১ নং কক্ষে সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। নেভিগেটিং পাওয়ার, সিকিউরিটি, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট, প্রতিটি বিষয় বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের জন্য সমান গুরুত্ব রাখে। যার ওপর দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে। সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার এই বিষয়কে কেন্দ্র করে পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আমি প্রত্যাশা করছি, এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে করা হবে। এবং এই প্রতিযোগিতা শুধু নিজেদের মধ্যে নয়, বরং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়ে করা দরকার। যা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্যারিয়ার গঠনে ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, যাদের মাথায় শিক্ষার্থীদের এভাবে গ্রুমিং করার চিন্তা এসেছে আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। কেননা এসব প্রক্রিয়াই শিক্ষার্থীদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। একটা বড়ো পরিসরের বিষয়কে অতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করার মধ্যে যে স্মার্টনেস আছে, শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে গেলে তা অনুধাবন করতে পারবে। আজকে কে বিজয়ী হলো, কে হলো না, তার চেয়েও বড়ো বিষয় এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের সাহস জুগিয়েছে। শিক্ষার্থীদের জানা বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
পরে বিজয়ীদের হাতে সনদ তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান।
বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া হাসান মুনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি মাহবুবা উদ্দিন ও সহযোগী অধ্যাপক মো. বদরুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
-

রাজশাহী ১ আসনে বিএনপি ও জামায়তের হেবিওয়েট প্রার্থীর মাঝে দ্বিমুখী ল-ড়াই হবে জমজমাট
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভিআইপি আসন হিসেবে খ্যাত রাজশাহী ১ আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এবি পাটির প্রার্থীদের মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ, পথসভার, মিনি টুর্নামেন্ট, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, মসজিদের অনুষ্ঠান, মাহাফিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। মাঠে চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। চলছে সমীকরণ, দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করাসহ প্রার্থীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন নিজ নিজ প্রার্থীর সমর্থনে নেতা, কর্মী সমর্থকগন।
রাজশাহী জেলার একটি প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ উপজেলা গোদাগাড়ী। নবাব আলিবর্দী খাঁর শাসনামলে বর্গীয় হাঙ্গামায় অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে (১৭৪১-১৭৪৪) যখন দেশবাসী শঙ্কিত, উৎকণ্ঠিত তখন বৃদ্ধ নবাব আলিবর্দী খাঁ ডেপুটি গভর্নর নোয়াযেশ মুহাম্মদ খানের নেতৃত্বে ও তত্ত্বাবধানে নবাব প্রাসাদের মূল্যবান দ্রব্য সামগ্রী, অর্থসম্পদ, সোনাদানাসহ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার প্রয়োজনে এই গোদাগাড়ীতে স্থানান্তরিত করেছিলেন এবং গোদাগাড়ীর অদূরে বারুইপাড়া গ্রামে একটি শিবির ও কেল্লা নির্মাণ করে নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। জনশ্রুতি রয়েছে দূর অতীতে এখানে ‘গোদাবারি’ নামে একজন প্রভাবশালী ধোপা বসবাস করত। ধোপার স্ত্রী ছিলেন ব্যাভিচারিণী। গোদাবারি নামক এই ধোপা তারা স্ত্রীকে কাদায় গেড়ে (পুঁতে) ফেলেন। গোদা কর্তৃক তার স্ত্রীকে গেড়ে ফেলা থেকেই ‘গোদাগাড়ী’ নামকরণ হয়েছে ধারণা করা হয়। প্রশাসন গোদাগাড়ী থানা গঠিত হয় ১৮৬৫ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে। একই সময়ে তানোরও উপজেলার মর্যদা পেয়ে যায়।
রাজশাহী ১ আসনটি উপজেলা গোদাগাড়ী ও তানোর নিয়ে গঠিত। রাজশাহী – ১ (গোদাগাড়ী – তানোর) আসনটির মোট আয়তন ৭৬৭.৫৩ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা মোট ৫২২২৫৪ জন এর মধ্যে পুরুষ ২২৯০৩৩ জন নারী ২৩৬৯৭৬ জন।
রাজশাহী-১ আসনের ২টি উপজেলা, ৪টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫২ রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯১০ জন। আর তানোর উপজেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৭০ জন। গোদাগাড়ীতে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩২ জন। আর নারী ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৫ জন। তানোরে পুরুষ ভোটার ৮৪ হাজার ৫৪৬ জন। কিন্তু নারী ভোটার সংখ্যা ৮৭ হাজার ৩২৪ জন। এ আসনের কিংমেকার’ হতে পারেন নারীরাই।বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক বড় অংশের বসবাস রয়েছে এ আসনে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা খুবই সাধারণ জীবন যাপন করে থাকেন। মাঠে ঘাটে কৃষি কর্মে তাদের সময় কাটে অধিক। তাদের বসে আনতেও চলছে নানা তৎপরতা। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন, শীর্ষ পর্যায়ের হেভিওয়েট বিএনপির এবং জামায়াতের নায়েবী আমির প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই
চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের ধারণা-এ আসনে মূলত দ্বিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এ আসনে ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়ে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান। তিনি এবারেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তার বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী। পিতার নাম সেরাজুল ইসলাম। অপরদিকে, বরেন্দ্র বহুমূখি উন্নয়ন প্রকল্পের কর্ণধর, অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব মরহুম ড. আসাদুজ্জামান ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ সাবেক মন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সহোদর ভাই ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরিফ উদ্দিন নির্বাচন করছেন ধানের শীষ প্রতীকে। কিন্তু তিনি এর আগে কোন এমপি নির্বাচনে অংশ নেননি। তার বাড়ি গোদাগাড়ীর কেল্লাবাবুইপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম ফহিম উদ্দীন বিশ্বাস। কিন্তু তানোর উপজেলা থেকে এবারে এ আসনে কোন এমপি প্রার্থী দাঁড়াননি। এছাড়াও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন- গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মির মো. শাহজাহান। তার পিতার নাম মির মো. আজাহার। তিনি ট্রাক প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। বাড়ি রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকায়। অপরদিকে, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুর রহমান। তিনি ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন। তার বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার সারাংপুর রোডপাড়া শ্যামপুর এলাকায়। তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ আসনটি নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ২০০৮ এর পূর্বে বিএনপি তথা মরহুম ব্যারিষ্টার আমিনুল হকের দখলে ছিল। এখন দলীয় সমীকরণ বদলেছে, ভোটে আ.লীগ প্রার্থীর অংশগ্রহণ না থাকলেও মাঠে ফিরেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ। স্থানীয় ভোটারদের মতে, এবারের লড়াই মূলত বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মো. শরিফ উদ্দিন ও জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তাদের বাড়ি একই উপজেলার গোদাগাড়ীতে। বিশেষ করে এ দুই প্রার্থীর মধ্যে বিপুল সংখ্যক ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় প্রার্থীদের মাঝে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিক থেকে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি এবং জামায়াতও প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। জামায়ের প্রার্থী অভিজ্ঞ একবার নির্বাচন করে এমপি। নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এদিকে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমিনুল হক রাজশাহী-১ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে একদলীয় নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, ১৯৯৬ সালের সপ্তম এবং ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনকালে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। সেইসাথে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।
কিন্তু শরিফ উদ্দিন মরহুম ড. আসাদুজ্জামান ও ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সহোদর ভাই হবার সুবাদে তাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক ও বিএনপির নীরব সমর্থন রয়েছে বলে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছেন। নারী কর্মীদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি ও তার কর্মী সমর্থকরা। বিএনপির ভোট বিভক্ত হলে জামায়াত প্রার্থীর ভোট বাড়তে পারে- এমন ধারণাও শোনা যাচ্ছে। আর নিষিদ্ধ আ.লীগের ভোটার ও কর্মী সমর্থকরা নীরবে গোপনে যে দলের প্রার্থীর দিকে যাবে তিনি বেশ এগিয়ে যাবেন।
তবে, গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মির মো. শাহজাহান ও এবি পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুর রহমান তাদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় এখনো দেখা যায়নি। এছাড়াও তারা বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন না বলেই অধিকাংশ ভোটারের অভিমত। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটারদের মাঝে উত্তাপ ততই বাড়ছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের রায়ে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা রাজশাহী-১ আসনে এমপি হিসেবে ভোটাররা কাকে বেছে নেন সেটায় দেখার বিষয়।মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী। -

সহকারী শিক্ষককে শারীরিক নি-র্যাতনের অভিযোগ, প্রশাসনের হ-স্তক্ষেপ কামনা
নেছারাবাদ প্রতিনিধি (পিরোজপুর)।।
নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ কৌরিখাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক সহকারী শিক্ষকের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কৌরিখাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ বেলাল হোসেন জানান, একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ জাহিদ কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ‘আনিছা’ নামের এক শিক্ষার্থীর রোল নম্বর দেখতে বলেন। রোল নম্বর দেখতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় মোঃ জাহিদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন।ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারেন, যা একজন শিক্ষকের জন্য চরম অপমানজনক ও নিন্দনীয় আচরণ। এ ঘটনায় তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে মোঃ বেলাল হোসেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ জাহিদ জানান, আছিনা দীর্ঘ অসুস্থ থাকায় স্কুলে আসতে পারেনায় সে কোরআন তেলওয়াত প্রতিযোগিতায় নাম দিবে সেজন্য রোল নম্বটটি দেখতে পরেছিলাম এতেই সে উত্তেজিত হয়ে হাজিরাখাতা ছুড়ে মেয়ে স্কুল থেকে বের হয়ে যায় এবং বলে আমি শিক্ষা অফিসে আভিযোগ দিতে যাই। তিনি প্রায় সময় অন্যান্য শিক্ষকের সাথে খারাপ আচরণ করে এমনকি তার পরিবারও বলে তার মাথায় একটু সমস্যা আছে।
এ বিষয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম বলেন, বেলাল হোসেন হাজিরা খাতাটা ছুড়ে ফেলে দেয়ায় শিক্ষক জাহিদ একটু উত্তেজিত হয়ে যায় এবং দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। আমি দুজনকে ছড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। আসলে একটা দুঃখ জনক আমাদের শিক্ষকদের আরো সকল বিষয়ে ল ধৈর্যশীল হওয়া উচিত।আনোয়ার হোসেন।।