Category: দেশজুড়ে

  • নির্বাচনী খর-চ না পেয়ে দায়িত্ব ছাড়লেন বিএনপির নারী নেত্রী সুলতানা রাজিয়া

    নির্বাচনী খর-চ না পেয়ে দায়িত্ব ছাড়লেন বিএনপির নারী নেত্রী সুলতানা রাজিয়া

    নেছারাবাদ সংবাদদাতা, (পিরোজপুর):

    নির্বাচনী খরচ না পাওয়ায় ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন পিরোজপুর জেলা মহিলা দলের সদস্য সুলতানা রাজিয়া।
    তিনি পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে জলাবাড়ি, সুটিয়াকাঠি ও গুয়ারেখা ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ৩ নম্বর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    ফেসবুক স্ট্যাটাসে সুলতানা রাজিয়া লেখেন,
    “জলাবাড়ি, সুটিয়াকাঠি ও গুয়ারেখা ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলাম। সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করেছি, এখন আর ক্ষমতা নেই। কারো কোনো সহযোগিতা পাইনি। নেছারাবাদ থানার পুলিশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে বিএনপি নিধনে মাঠে নেমেছে, আর বিএনপির নেতারা চুপচাপ দেখছেন। এটাই জামায়াতের নীল নকশা।”

    এ বিষয়ে সুলতানা রাজিয়া বলেন,
    “আমি নিজের টাকা-পয়সা খরচ করে নির্বাচন পরিচালনার কাজ করেছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। আমাদের কোনো খরচ দেওয়া হচ্ছে না। তাই অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে স্বেচ্ছায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালাম। তবে যতদিন বেঁচে আছি, বিএনপি করে যাব।”

    এ প্রসঙ্গে নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দীন তালুকদার বলেন, “সে সৈকত সাহেবের লোক। আমি এতটা পারি না।”

    অন্যদিকে নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত বলেন, “সব ইউনিয়ন থেকে মহিলা নেত্রীদের একটি তালিকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এরপর ন্যূনতম একটি সেন্টারের খরচ দেওয়া হবে। হয়তো কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিষয়টি আমরা দেখছি।”
    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেছারাবাদে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

    আনোয়ার হোসেন
    নেছারাবাদ সংবাদদাতা, পিরোজপুর।

  • নড়াইলে প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের শেষ স্মৃতি চিহ্নটুকু হারিয়ে যেতে যেতে বসেছে

    নড়াইলে প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের শেষ স্মৃতি চিহ্নটুকু হারিয়ে যেতে যেতে বসেছে

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইলে প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের শেষ স্মৃতি চিহ্নটুকু হারিয়ে যেতে। যেতে বসেছে। ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯১১ সালের (৬ জুন) তাঁর পিতা সত্যরঞ্জন গুপ্তের কর্মস্থল কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মস্থান কলকাতায় হলেও তাঁর পৈত্রিক নিবাস নড়াইলের লোহাগড়ার উপজেলার ইত্না গ্রামে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, চরম অবহেলায় নিমজ্জিত প্রখ্যাত এই বাঙ্গালি সাহিত্যিকের পৈত্রিক বাড়িটি এখনও অরক্ষিত। ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের শেষ স্মৃতি চিহ্নটুকু হারিয়ে যেতে বসেছে।
    ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে, ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্ত চাকরিজীবী পিতার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কালেই গাইবান্ধা হাইস্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্কুলে তিনি পড়াশুনা করেন। অবশেষে ১৯৩০ সালে তিনি কোন্ন নগর হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরবর্তীতে কৃষ্ণনগর কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই তিনি আই. এস. সি পাস করে ডাক্তারি পড়ার জন্যে কারমাইকেল মেডিকেল কলেজে (বর্তমানে আর. জি. কর মেডিকেল কলেজ) ভর্তি হন।
    ডাক্তারী পাস করে বেশ কিছুদিন তিনি চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত হন। অতঃপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনীর ডাক্তার হিসেবে যোগ দেন। চাকরি জীবনের বাধ্যবাধকতা তাঁর কাছে বিরক্তিকর মনে হওয়ায় তিনি এ চাকরি ত্যাগ করে কলকাতায় ব্যক্তিগত ভাবে আবার ডাক্তারী শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কলকাতায় বিশেষ পরিচিত হয়ে ওঠেন।
    নীহাররঞ্জন গুপ্তের সাহিত্যে হাতে খড়ি হয়ে ছিল সুদূর শৈশবেই। ষোল বছর বয়সেই তাঁর প্রথম লেখা উপন্যাস ‘রাজকুমারী’ পত্রিকায় ছাপা হয়। ডাক্তার নীহাররঞ্জন গুপ্ত পেশায় চিকিৎসক হলেও মানব মানবীর হৃদয়ের ঘাত-প্রতিঘাত ও মানবিক দ্বন্ধ-সংঘাতের একজন সুচারু রূপকার ছিলেন। রহস্য উপন্যাস লেখায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। কেবলমাত্র রহস্য উপন্যাস নয়, তাঁর সামাজিক উপন্যাস গুলি সুখপাঠ্য যা-পাঠককুলের হৃদয় আকৃষ্ট করে।
    তাঁর লিখিত উপন্যাসের সংখ্যা দুইশতেরও অধিক। তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস গুলির মধ্যে ‘মঙ্গলসূত্র’, ‘উর্বশী সন্ধ্যা’, ‘উল্কা’, ‘বহ্নিশিখা’, ‘অজ্ঞাতবাস’, ‘অমৃত পাত্রখানি’, ‘ইস্কাবনের টেক্কা’, ‘অশান্ত ঘূর্ণি’, ‘মধুমতি থেকে ভাগীরতী’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘অহল্যাঘুম’, ‘ঝড়’, ‘সেই মরু প্রান্তে’, ‘অপারেশন’, ‘ধূসর গোধূলী’, ‘উত্তর ফাল্গুনী’, ‘কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী’, ‘কা লোভ্রমর’, ‘ছিন্নপত্র’, ‘কালোহাত’, ‘ঘুম নেই’, ‘পদাবলী কীর্তন’, ‘লালু ভুলু’, ‘কলঙ্ককথা’, ‘হাসপাতাল’, ‘কজললতা’, ‘অস্থি ভাগীরথী তীরে’, ‘কন্যাকুমারী’, ‘সূর্য তপস্যা’, ‘মায়ামৃগ’, ‘ময়ূর মহল’, ‘বাদশা’, ‘রত্রি নিশীথে’, ‘কনকপ্রদীপ’, ‘মেঘকালো’, ‘কাগজের ফুল’, ‘নিরালাপ্রহর’, ‘রাতের গাড়ী’, ‘কন্যাকেশবতী’, ‘নীলতারা’, ‘নূপুর’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘মধুমিতা’, ‘মুখোশ’, ‘রাতের রজনী গন্ধা’ ও কিশোর সাহিত্য সমগ্র উল্যেখযোগ্য।
    ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের লিখিত বহু উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। আমাদের চলচ্চিত্র জগৎকে তিনি সুসমৃদ্ধ করেছে। তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘লালুভুলু’ পাঁচটি ভাষায় চিত্রায়িত হয়েছে। ১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি বাংলাদেশেও চিত্রায়িত হয় এবং দর্শক কুলের প্রশংসা অর্জন করে। নীহার রঞ্জনের অনেক উপন্যাস থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস উল্কা দীর্ঘদিন ধরে থিয়েটারের দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে।
    চিকিৎসক হিসেবে অতি কর্ম চঞ্চল জীবনযাপনের মধ্যেও নীহার রঞ্জন রেখে গেছেন অসংখ্য সাহিত্যধর্মী সৃষ্টি,যা আপন সত্তায় ভাস্কর হয়ে থাকবে। নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯৮৬ সালের ২০ জানুয়ারী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • নেছারাবাদে যৌথ অ-ভিযানে দু-র্ধর্ষ স-ন্ত্রাসী পরিতোষ মিস্ত্রি ওরফে কলিঙ্গ গ্রে-প্তার

    নেছারাবাদে যৌথ অ-ভিযানে দু-র্ধর্ষ স-ন্ত্রাসী পরিতোষ মিস্ত্রি ওরফে কলিঙ্গ গ্রে-প্তার

    প্রতিনিধি নেছারাবাদ,পিরোজপুর।

    নেছারাবাদে গতকাল ২৬ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নেছারাবাদ আর্মি ক্যাম্পের অফিসার আল আরাফ এর নেতৃত্বে পুলিশের সহায়তায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী পরিতোষ মিস্ত্রি (৬৩) কে পূর্ব জলাবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    নির্ভযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী পরিতোষ মিস্ত্রির অবস্থান নিশ্চিত করে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, তার কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র—রিভলভার, শটগান ও গোলাবারুদ থাকার তথ্য ছিল। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। পূর্বে সে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে গুরুতর আহত করার ঘটনাতেও জড়িত ছিল বলে জানা যায়।
    জিজ্ঞাসাবাদে পরিতোষ মিস্ত্রি ক্যাম্প কমান্ডারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে এবং অস্ত্রধারী অন্যান্য অপরাধীদের নাম নিজ মুখে প্রকাশ করে।

    পরবর্তীতে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করে সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
    প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে,

    নেছারাবাদ সেনা ক্যাম্প অফিসার জানান, শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্তে ভবিষ্যতে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

    আনোয়ার হোসেন ।।

  • র‌্যাব-১২ এর অ-ভিযানে ১৯ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁ-জাসহ ২ জন আ-টক

    র‌্যাব-১২ এর অ-ভিযানে ১৯ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁ-জাসহ ২ জন আ-টক

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি।।

    র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে তাডাশ থানা এলাকা হতে ১৯.৪০০ কেজি গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়াড়ি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

    ১। এরই ধারাবাহিকতায় অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ, বিকাল ১৫.৪৫ ঘটিকায় র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল “সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ থানাধীন মান্নান নগর বাজারস্থ জনৈক হাজী দলিল উদ্দিন সরকারের মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ এর সামনে মান্নান নগর হতে রানীর হাটগামী পাঁকা রাস্তার উপর” একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ১৯.৪০০ কেজি গাঁজাসহ ০২ জন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তাদের সাথে থাকা মাদকদ্রব্য গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় কাজে ব্যবহৃত ০৩টি মোবাইল ফোন, নগদ ১৫,৮০০/- টাকা এবং ০১টি ট্রাক জব্দ করা হয়।

    ২। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় ১। মোঃ ছাইফুল ইসলাম (৪২), পিতা- মৃত ছইরুদ্দিন, ২। মোঃ নয়ন আলি (৩৩), পিতা- মৃত নজরুল ইসলাম, উভয় সাং- খামারনাচকৈড় (০৩ নং ওয়ার্ড গুরুদাসপুর পৌরসভা), থানা- গুরুদাসপুর, জেলা- নাটোর।

    ৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামীদ্বয় দীর্ঘদিন যাবৎ লোকচক্ষুর আড়ালে নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য গাঁজা ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় ক্রয় বিক্রয় করিয়া আসছিল।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে তাড়াশ থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এ ধরণের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে র‌্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।

    র‌্যাব-১২ কে তথ্য দিন – মাদকমুক্ত, বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।

  • জা-লিমের সঙ্গে কখনো আপোষ নয় খালেদা জিয়ার আদর্শেই আগামীর বাংলাদেশ- মনিরুল হক চৌধুরী

    জা-লিমের সঙ্গে কখনো আপোষ নয় খালেদা জিয়ার আদর্শেই আগামীর বাংলাদেশ- মনিরুল হক চৌধুরী

    তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা থেকে, 

    কুমিল্লা নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর হোচ্ছামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা–৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী।

    যুবদল নেতা মহিউদ্দিন হোসেন ও সাইফুল ইসলাম রনির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজীব, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বপন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান ছুটিসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    দোয়ার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “গণতন্ত্রের মা, আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মুক্তিকামী জনগণের প্রকৃত নেত্রী। তিনি কখনো জালিমের সঙ্গে আপোষ করেননি। তাঁর ইস্পাত-কঠিন নেতৃত্বের অনুপ্রেরণায় বিএনপি আগামীর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।”

    তিনি এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।

  • আশুলিয়ায় গু-লাগুলির ঘটনায় স-ন্ত্রাসীদের আড়াল করতে অ-পপ্রচার সংবাদ সম্মেলন করলেন বকুল ভুঁইয়া

    আশুলিয়ায় গু-লাগুলির ঘটনায় স-ন্ত্রাসীদের আড়াল করতে অ-পপ্রচার সংবাদ সম্মেলন করলেন বকুল ভুঁইয়া

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ায় সাম্প্রতিক গুলাগুলির ঘটনায় পিস্তল ব্যবহারকারী প্রকৃত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব বকুল ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে অপপ্রচারকারীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬ইং) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে আলহাজ্ব বকুল ভুঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, গুলাগুলির ঘটনায় জড়িত উভয় পক্ষই সন্ত্রাসী। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে-তিনি নাকি সন্ত্রাসী আজাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোক পাঠিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি আরও বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। যেকোনো ব্যক্তি অপরাধী হলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।” একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    উল্লেখ্য, সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন জামগড়া ছয়তলা ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার সাবেক সেট ফ্যাশন পোশাক কারখানা সংলগ্ন রাস্তায় দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলাগুলির সময় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় আজাদ নামের এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদ কিছুদিন আগে সেনাবাহিনীর অভিযানে একটি পিস্তল, অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব বিরোধের জের ধরে অন্য একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের গুলিতে তিনি আহত হয়েছে।

    উক্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আশুলিয়া পুলিশ ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যগণ।

  • বার-বার হা-মলা, ভা-ঙচুর ও অ-গ্নিসংযোগ- ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন অ-ভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর

    বার-বার হা-মলা, ভা-ঙচুর ও অ-গ্নিসংযোগ- ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন অ-ভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    নির্বাচনী প্রচারে ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম।

    সোমবার (২৬শে জানুয়ারী) বিকেলে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের জামিরদিয়া এলাকার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমন অভিযোগ তুলেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অভিযোগ করেন- প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়াছে প্রতিপক্ষ বিএনপি দলীয় প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলেও অভিযোগ তুলেন তিনি।

    এসব ঘটনার জন্য তিনি ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করে সংবাদ সম্মেলনে মোর্শেদ আলম আরও জানান, গত রোববার বাটাজোর বাজারে প্রচার শুরু করলে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে হরিণ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় যানবাহন ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেওয়া হয়। এতে কয়েকটি মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন পুড়ে যায় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। তিনি আরও বলেন, রবিবার সকালে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর এক সমর্থককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নে নারী কর্মীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হয় এবং প্রচারের সরঞ্জাম আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি আরও দাবি করেন, এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর সহযোগিতা পাচ্ছেন না। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
    সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছারুয়ার জাহান এমরান, সদস্য সিরাজুল ইসলাম ঢালী, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, মহিলা দলের বহিষ্কৃত নেত্রী খালেদা নার্গিসসহ নেতাকর্মীরা।

  • ঐতিহাসিক সলঙ্গা বি-দ্রোহ দিবস আজ

    ঐতিহাসিক সলঙ্গা বি-দ্রোহ দিবস আজ

    জি.এম স্বপ্না,সিরাজগঞ্জ :
    ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ ২৭ জানুয়ারি। ১৯২২ সালের এ দিনে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে সলঙ্গার হাটে বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনের কর্মীসহ সাড়ে ৪ হাজার সাধারণ হাটুরে জনতা শহীদ হন।ব্রিটিশ শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনে জনতা উদ্বেলিত হয়ে বিলেতি পণ্য বর্জন করে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের সংগ্রাম শুরু করেছিলেন।এমনি একটি আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সলঙ্গায়।সে সময় তৎকালীন পাবনা জেলার এবং বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গায় একটি ব্যবসায়ীক জনপদ হিসেবে সপ্তাহে ২দিন হাট বসতো।
    ১৯২২ সালের ২৭ শে জানুয়ারি শুক্রবার ছিল বড় হাট বার।মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা হাটে নামেন বিলেতি পণ্য কেনা-বেচা বন্ধ করতে।আর এ স্বদেশি আন্দোলনের কর্মীদের রুখতে ছুটে আসে পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর.এন দাস জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রসাশক এসকে সিনহাসহ ৪০ জন সশস্ত্র লাল পাগড়ীওয়ালা পুলিশ।
    সলঙ্গার গো হাটায় ছিল বিপ্লবী স্বদেশি কর্মীদের অফিস।পুলিশ কংগ্রেস অফিস ঘেরাও পূর্বক গ্রেফতার করে মাওলানা আব্দুর রশিদকে।সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্ত করতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিদ্রোহে ফেটে পড়ে সলঙ্গার সংগ্রামী জনতা।জনতার ঢল ও আক্রোশ দেখে ম্যাজিস্ট্রেট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি চালাতে নির্দেশ দেয়।শুরু হয়ে যায় বুলেট বৃষ্টি।৪০টি রাইফেলের মধ্যে মাত্র ১টি রাইফেল থেকে কোনো গুলি বের হয়নি।এ রাইফেলটি ছিল একজন ব্রাহ্মণ পুলিশের।
    হত্যাকাণ্ডে হতাহতের সরকারি সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার দেখানো হলেও বেসরকারি বিভিন্ন মতে এর সংখ্যা ১০ হাজারেরও অধিক বলে জানা যায়। মাওলানা আব্দুর রশিদ সলঙ্গা বিদ্রোহ উপনিবেশিক শাসনের ভিত লড়িয়ে দিয়েছিলেন।সলঙ্গার রক্তসিক্ত বিদ্রোহ শুধু বাংলার মাটিকে সিক্ত করেনি,সিক্ত করেছে সমগ্র উপমহাদেশ।যে রক্তে ভেজা পিচ্ছিল পথে অহিংস,অসহযোগ আন্দোলনে যা কিছু অর্জিত হয়েছে তা সলঙ্গা বিদ্রোহেরই ফসল।
    দিবসটি পালন উপলক্ষে সলঙ্গায় মাওলানা আব্দুর তর্কবাগীশ পাঠাগার, বেগম নূরুন্নাহার তর্কবাগীশ ডিগ্রী কলেজ,সলঙ্গা সমাজ কল্যাণ সমিতি, তর্কবাগীশ মহিলা মাদরাসা,তর্কবাগীশ উচ্চ বিদ্যালয়,মাওলানা তর্কবাগীশ গবেষণা কেন্দ্র ও সলঙ্গা ফোরাম পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা সভা,ক্রীড়া প্রতিযোগিতা,রেলী ও পুরস্কার বিতরণসহ নানা কর্মসুচীর আয়োজন করেছে।

  • জুলাই আন্দোলনে পঞ্চগড়ের শ-হীদ সাগরের পিতা ভোট চাইলেন ধানের শীষে

    জুলাই আন্দোলনে পঞ্চগড়ের শ-হীদ সাগরের পিতা ভোট চাইলেন ধানের শীষে

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় :
    ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণআন্দোলনে পঞ্চগড়ের শহীদ সাগরের পিতা রবিউল ইসলাম ক্ষতি বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে হবে ধানের শীষ প্রতীকে। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা দিতে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের রত্নিবাড়ী বাজারে ধানের শীষের পক্ষে পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহত সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, আমার ছেলে সাগর কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য জীবন দেয়নি, সে জীবন দিয়েছে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আজ সেই অধিকার আবার হুমকির মুখে।

    তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারছে না, নির্বাচন মানেই এখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং গণতন্ত্রকামী শক্তির পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। শহীদ সাগরের পিতা বলেন, যদি শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি না করতে চাই, তাহলে ধানের শীষেই ভোট দিতে হবে।

    পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা আমাদের কাছে একটি ঋণ রেখে গেছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ঋণ। এই ঋণ শোধ করতে হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চগড়ের মানুষ যদি ধানের শীষে ভোট দেন, তাহলে শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা হবে এবং বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরবে।

    তিনি আরও বলেন, শহীদ সাগরের মতো তরুণদের আত্মত্যাগ আমাদের লড়াইয়ের শক্তি। এই দেশ আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন মেনে নেবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ দেখিয়েছেন। তারা বলেন, শহীদ সাগরের আত্মত্যাগ পঞ্চগড়বাসী কখনো ভুলবে না। আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

    পথসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, ছাত্রসমাজ, সাধারণ মানুষ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • রূপলাল প্রদীপ লাল হ-ত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মেহেদী হাসান দুই দিনের রি-মান্ডে

    রূপলাল প্রদীপ লাল হ-ত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মেহেদী হাসান দুই দিনের রি-মান্ডে

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি :
    রংপুরের তারাগঞ্জে গণপিটুনিতে রূপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ লাল (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

    গতকাল সোমবার বিকেলে তাঁকে তারাগঞ্জ আমলী আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারাগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মো. আশিকুজ্জামান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    পুলিশ জানায়, গত শনিবার বিকেলে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে মেহেদী হাসান (৩০)কে আটক করা হয়। তিনি তারাগঞ্জ উপজেলার ফরিদাবাদ এলাকার ইছাহাক আলীর ছেলে। এ নিয়ে মামলায় মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। প্রাথমিক তদন্তে মেহেদী হাসান হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বলে জানা গেছে।

    তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, “মেহেদীকে আদালতে তোলা হলে পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।”

    থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৯ আগস্ট রাতে মিঠাপুকুর উপজেলার ছড়ান বালুয়া এলাকা থেকে ভ্যান নিয়ে তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রামে রূপলাল দাসের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রদীপ লাল। পথ ভুলে গেলে তাঁকে আনতে যান রূপলাল। রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁরা সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে পৌঁছালে চোর সন্দেহে স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে। পরে দফায় দফায় মারধরের একপর্যায়ে দুজনের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় পরদিন ১০ আগস্ট রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ৭০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলা তুলে নিতে বাদি ভারতীয় রানী ও তাঁর ছেলেকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে গতকাল সোমবার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    ঘটনার সময় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মেহেদী হাসান রূপলাল ও প্রদীপ লালের ভ্যানে থাকা একটি বস্তা থেকে স্পিডের বোতল বের করে তা নাকের কাছে নেন এবং অচেতন হয়ে যাচ্ছেন বলে চিৎকার করেন। এরপরই ভ্যানে থাকা রুপলাল ও প্রদীপলারের ওপর হামলা শুরু হয়।

    উল্লেখ্য, এর আগে একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ‘আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি’র তারাগঞ্জ উপজেলা সদস্যসচিব ইউনুস আলীকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে।