Category: দেশজুড়ে

  • ধানের শীষের প্রার্থী ও তার সমর্থকদের কারণ দর্শনোর নো-টিশ

    ধানের শীষের প্রার্থী ও তার সমর্থকদের কারণ দর্শনোর নো-টিশ

    কে এম সোয়েব জুয়েল।।
    গৌরনদী প্রতিনিধিঃ

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া) আসনের ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানের নির্বাচনী প্রচারনার সময় সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত ও অব্যাহত হুমকির ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রমানসহ বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবরে পৃথকভাবে তিনটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ওই আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন ও তার হামলাকারী সমর্থকদের বিরুদ্ধে তিনটি লিখিত কারণ দর্শনোর নোটিশ পাঠিয়েছেন।

    যার অনুলিপি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট আট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারী করে তার প্রতিবেদন অত্র কার্যালয়ে প্রেরণের জন্য গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল-১ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত লিখিত কারণ দর্শনোর নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে নির্বাচনি অভিযোগের ভিত্তিত্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম গ্রহণ অথবা যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বরাবর প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবেনা, সেই বিষয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটায় প্রার্থীকে (স্বপন) স্বশীরে অথবা উপযুক্ত কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে নিম্ন স্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে (বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, তৃতীয় আদালত) লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

    অপর নোটিশপ্রাপ্তদের একইদিন (৮ ফেব্রæয়ারি) সকাল নয়টায় একই কার্যালয়ে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।

    বরিশাল-১ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনকে দেওয়া লিখিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে তার (স্বপন) নির্দেশে সমর্থকগণ ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সোবহানের নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তার (আবদুস সোবহান) ও তার নেতাকর্মীদেরকে বাঁধা প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করেছে।

    অপর নোটিশপ্রাপ্ত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থীর সমর্থক সরিকল গ্রামের মৃত কবির প্যাদার ছেলে বিপ্লব প্যাদা, একই গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর মৃধার ছেলে রুহুল আমিন মৃধা, বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল গ্রামের ইয়াকুব আলী সিকদারের ছেলে সেন্টু সিকদার, ইসমাইল সিকদারের ছেলে মশিউর সিকদার, কিনাই খানের ছেলে সুমন খান, সাদ্দাম বাজার এলাকার মুনসুর আলী হাওলাদারের ছেলে রাসেল হাওলাদার, ধানডোবা গ্রামের গফুর ফকিরের ছেলে শাহজাহান ফকিরকে দেয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে একই আসনের ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সোবহানের নির্বাচনি গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে তার কর্মীদেরকে বাঁধা প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারপিট করে শারিরীকভাবে আহত করেছেন। যা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার বিধান লঙ্ঘন করায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

  • ন্যায়–ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন – আব্দুল আলীম

    ন্যায়–ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন – আব্দুল আলীম

    এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির,বিশেষ প্রতিনিধি
    নির্বাচনী উত্তাপে সরগরম বাগেরহাট–৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসন। সেই উত্তাপের মধ্যেই মোরেলগঞ্জে জামায়াত ইসলামীর আয়োজিত এক বিশাল জনসভা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। সভায় দলটির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
    শুক্রবার বিকেল ৫টায় উপজেলার ১৬ নম্বর খাওলিয়া ইউনিয়নের এসপি রাশেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনী জনসভায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম বলেন, জামায়াত ইসলামী নির্বাচিত হলে একটি ন্যায়–ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, “হিন্দু ভাই–বোন ও মায়েরা তাঁদের ইজ্জত, সম্ভ্রম ও নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন—যেমন একটি শিশু তার মায়ের কোলে নিরাপদ থাকে।”
    তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, জমি দখল, ঘের লুট এবং সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুণ্ঠনের মতো অপরাধ চলে আসছে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জনগণ আর লুটেরাদের হাতে নেতৃত্ব দেখতে চায় না এবং সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যেই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
    আগামী দিনের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি নেতৃত্ব চাই, যা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলবে। হিন্দু–মুসলিম–বৌদ্ধ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা তথা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জনপদে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
    সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত প্রার্থী বলেন, ছাত্র–জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে। তবে সুবিধাভোগী একটি গোষ্ঠী সেই স্বপ্ন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, এতে স্থানীয় রাজনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
    উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম বলেন, নির্বাচিত হলে সন্ন্যাসী–কলারন ফেরি চালু এবং সন্ন্যাসী থেকে পল্লী মঙ্গল পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
    ডা. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হাফেজ সুলতান আহমেদ, উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমির মাওলানা শাহাদাৎ হোসেন, নায়েবে আমির মাস্টার মনিরুজ্জামান, সেক্রেটারি মাওলানা মাকসুদ আলী খান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান খান, পৌর জামায়াত সভাপতি মাস্টার রফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ তালুকদার ও যুব জামায়াতের উপজেলা সভাপতি শফিউল আজমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • আশুলিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ডা-কাতি: সাড়ে ১২ টন রড উ-দ্ধার, ৪ জন গ্রে-ফতার

    আশুলিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ডা-কাতি: সাড়ে ১২ টন রড উ-দ্ধার, ৪ জন গ্রে-ফতার

    হেলাল শেখঃ পুলিশ পরিচয়ে মহাসড়কে ট্রাক থামিয়ে প্রায় ১৩ টন রড লুন্ঠনের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং) ডাকাতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভার ও কেরানীগঞ্জের পৃথক অভিযানে লুন্ঠিত রডের বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর জাঙ্গল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিএসআরএমের ১৩ টন রড টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের ‘আনোয়ার অ্যান্ড ব্রাদার্স’ প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। রডের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা এবং ট্রাকের মূল্য প্রায় ৪৬ লাখ টাকা।

    (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) ভোরে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় ঢাকা-চন্দ্রা মহাসড়কে পৌঁছালে ৭-৮ জনের একটি ডাকাত দল নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ট্রাকসহ রড লুন্ঠন করে নিয়ে যায়।

    ঘটনার তদন্তে নেমে আশুলিয়া থানার এসআই (নিঃ) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সাভার এলাকা থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মোঃ সোহেল (২৬), মোঃ বিজয় (২৮), মোঃ মানিকুল (৪১), মোঃ সাইদুল ইসলাম (৩৫)।

    ডাকাতদের তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের সোলাই মার্কেট, কান্দি ভাকুতা বাজারস্থ “মেসার্স জাকারিয়া এন্টারপ্রাইজ” থেকে ৫, ৩০০ কেজি এবং ৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে কেরানীগঞ্জের বড়াইকান্দি এলাকার একটি পরিত্যক্ত কলমি ক্ষেত থেকে ৭,২০০ কেজি রড উদ্ধার করা হয়। মোট উদ্ধারকৃত রডের পরিমাণ ১২, ৫০০ কেজি।

    গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বাকি মালামাল উদ্ধার ও অন্য সহযোগীদের শনাক্তে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান।

  • কুসুম্বা মসজিদ একটি ঐতিহাসিক পু-রাকীর্তি। সাড়ে ৪০০ বছরের পুরাতন

    কুসুম্বা মসজিদ একটি ঐতিহাসিক পু-রাকীর্তি। সাড়ে ৪০০ বছরের পুরাতন

    লেখক: মোঃ হায়দার আলী।। গত বুধবার আমার বন্ধু গোগ্রাম আদর্শ বহুমূখি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলামের সাথে গিয়েছিলাম নওগাঁর জেলার মান্দায় কাজ শেষে কুসুম্বা মসজিদ দেখার জন্য গেলাম, সেখানে যোহরের নামাজ আদায় করলাম। আমাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন ওই এলাকার ওয়াই ফাই ও ডিস ব্যবসায়ী বাবলু ভাই এর আগে অনেক বার গিয়েছিলাম, এবার সেখানে কিছু সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজ চোখে পড়লো। দেখে খুবই ভাল লাগলো তাই তো এ সম্পের্কে লিখার খুব ইচ্ছা হলো। আল্লাহর নাম নিয়ে লিখা শুরু করলাম। কুসুম্বা মসজিদ (Kusumba Mosque) নওগাঁ জেলায় অবস্থিত প্রায় সাড়ে চারশত বছর পুরনো একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলাধীন ৮ নং কুশুম্বা ইউনিয়নের কুশুম্বা গ্রামে কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান। নওগাঁ থেকে মসজিদটির দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং মান্দা উপজেলা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। সুলতানি আমলের সাক্ষী কুসুম্বা মসজিদ এর ছবি বাংলাদেশের পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত আছে। কুসুম্বা মসজিদকে নওগাঁ জেলার ইতিহাস এবং মুসলিম স্থাপত্য শিল্পরীতির অনবদ্য নিদর্শন হিসাবে গন্য করা হয়। এ অঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্য শৈলীর প্রথম যুগের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ দেখতে সারাদেশ থেকে অসংখ্য লোকের সমাগম ঘটে।

    কুসুম্বা মসজিদ আত্রাই নদীর পশ্চিমতীরস্থ নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার অন্তর্গত কুসুম্বা গ্রামের নাম অনুসারে পরিচিত। প্রাচীর দিয়ে ঘেরা আঙ্গিনার ভেতরে মসজিদটি অবস্থিত। এ আঙ্গিনায় প্রবেশের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় একটি প্রবেশদ্বার যেখানে প্রহরীদের দাঁড়ানোর জায়গা রয়েছে। বাংলায় আফগানদের শাসন আমলে শূর বংশের শেষ দিকের শাসক গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহ-এর রাজত্বকালে জনৈক সুলায়মান মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি সম্ভবত একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন।

    পূর্বদিকের কেন্দ্রীয় প্রবেশদ্বারের উপরে স্থাপিত আরবিতে (শুধু নির্মাতা শব্দটি ফারসিতে) উৎকীর্ণ শিলালিপি অনুসারে এ মসজিদের নির্মাণকাল ৯৬৬ হিজরি (১৫৫৮-৫৯ খ্রি.)। মসজিদটি শূর আমলে নির্মিত হলেও এ মসজিদে উত্তর ভারতে ইতঃপূর্বে বিকশিত শূর স্থাপত্যের প্রভাব মোটেই দেখা যায় না, বরং এটি বাংলার স্থাপত্য রীতিতেই নির্মিত। ইটের গাঁথুনি, সামান্য বক্র কার্নিশ এবং সংলগ্ন অষ্টকোণাকৃতির পার্শ্ববুরুজ প্রভৃতি এ রীতির পরিচায়ক বৈশিষ্ট্যাবলি। এ মসজিদ ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত।

    ভূমি নকশা, কুসুম্বা মসজিদ
    মসজিদটির মূল গাঁথুনি ইটের তৈরী হলেও এর বাইরের দেওয়ালের সম্পূর্ণ অংশ এবং ভেতরের দেওয়ালে পেন্ডেন্টিভের খিলান পর্যন্ত পাথর দিয়ে আবৃত। এর স্তম্ভ, ভিত্তিমঞ্চ, মেঝে এবং পাশের দেওয়ালের জালি নকশা পাথরের তৈরী। আয়তাকার এ মসজিদ তিনটি ‘বে’ এবং দুটি ‘আইলে’ বিভক্ত। পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে প্রবেশপথ রয়েছে। কেন্দ্রীয় মিহরাবটি পশ্চিম দেওয়াল থেকে সামান্য অভিক্ষিপ্ত।

    অভ্যন্তরভাগের পশ্চিম দেওয়ালে (কিবলা দেওয়ালে) দক্ষিণ-পূর্ব দিকের এবং মাঝের প্রবেশপথ বরাবর মেঝের সমান্তরালে দুটি মিহরাব আছে। তবে উত্তর-পশ্চিম কোণের ‘বে‘তে অবস্থিত মিহরাবটি একটি উচু প্লাটফর্মের মধ্যে স্থাপিত। পূর্বদিকে স্থাপিত একটি সিঁড়ি দিয়ে এ প্লাটফর্মে উঠা যায়।

    কুসুম্বা মসজিদের কেন্দ্রীয় মিহরাবঃ
    মিহরাবগুলি খোদাইকৃত পাথরের নকশা দিয়ে ব্যাপকভাবে অলংকৃত। এগুলিতে রয়েছে বহুখাজ বিশিষ্ট খিলান। সূক্ষ্ম কারুকার্য খচিত পাথরের তৈরী স্তম্ভের উপর স্থাপিত এ খিলানগুলির শীর্ষে রয়েছে কলস মোটিফের অলংকরণ। স্তম্ভগুলির গায়ে রয়েছে ঝুলন্ত শিকল ঘন্টার নকশা। মিহরাবের ফ্রেমে রযেছে প্রায় সর্পিল আকারে খোদিত আঙ্গুর গুচ্ছ ও লতার নকশা। এ ছাড়া রয়েছে প্রায় বিন্দুর আকার ধারণকারী কলস, বৃক্ষলতা ও গোলাপ নকশা। প্লাটফর্মের প্রান্তেও রয়েছে আঙ্গুর লতার অলংকরণ। আর এ প্লাটফর্মের ভারবহনকারী খিলানের স্প্যান্ড্রিল এবং মসজিদের কিবলা দেওয়াল জুড়ে রয়েছে গোলাপ নকশা।

    বাইরের দেওয়ালে আস্তরণ হিসেবে ব্যবহূত পাথরগুলি অমসৃণ এবং এতে রয়েছে গভীর খোদাইকার্য। বাইরের দিকে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন অলংকরণ গুলি ছাঁচে ঢালা। এগুলি দেওয়াল গাত্রকে উচু নিচু অংশে বিভক্ত করেছে। এ ছাড়া বক্র কার্নিশ জুড়ে, পাশ্ববুরুজগুলিকে ঘিরে, কার্নিশের নিচে অনুরূপ অলঙ্করন বিস্তৃত। পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালের গায়ে আয়তাকার খোপ নকশাকে ঘিরে ফ্রেম হিসেবে ছাঁচে ঢালা অলংকরণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের খিলানের স্প্যান্ড্রিল ছোট ছোট কলস ও গোলাপ নকশায় পরিপূর্ণ। উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালে রয়েছে জালি ঢাকা জানালা।

    বাংলার প্রকৃতিতে এখন পৌষপার্বণ। বলা হয় যে, কোনো ভ্রমণের জন্য সেরা মৌসুম হচ্ছে শীতকাল।
    তাই শীতকালে দেশের পর্যটন শিল্প চাঙা হয়ে ওঠে।
    প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটনস্পট। একটু নির্মল আনন্দ ও বিনোদনের আশায় মানুষ ছুটে যাচ্ছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। প্রাণভরে উপভোগ করছেন সব নৈসর্গিক সৌন্দর্য। আমাদের সবুজ শ্যামল বাংলার এমনিতেই রূপের অভাব নেই। দেশের যে প্রান্তেই যান না কেন, আপনি প্রাণ ভরে পান করতে পারবেন এ দেশের রূপসুধা।

    ঘোরাঘুরি করতে চাইলে এদেশের ভেতরেই আছে অসংখ্য জায়গা। এই শীতে ঘুরে আসতে পারেন রাজশাহীর পাশের জেলা নওগাঁ শহরে। এখানে অনেক প্রাচীন স্থাপত্যের মধ্যে রয়েছে সুলতানি আমলের ঐতিহ্য ‘কুসুম্বা’ মসজিদ।

    রাজশাহী বিভাগের উত্তরেই নওগাঁ জেলার অবস্থান। এটি বিভাগের বরেন্দ্রীয় অংশ। ভারত সীমারেখা ঘেঁষে থাকা নওগাঁ জেলার মোট উপজেলার সংখ্যা ১১টি। এর মধ্যে মান্দা অন্যতম। কারণ প্রায় সাড়ে চারশ বছরের ঐতিহ্য ও স্মৃতি ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে ‘কুসুম্বা মসজিদ’। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের মান্দা ব্রিজের পশ্চিম দিকে ৪শ মিটার উত্তরে ঐতিহাসিক এই মসজিদের অবস্থান।

    নওগাঁ জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। স্থানীয়দের কাছে এর আরেক নাম কালাপাহাড়। কুসুম্বা মসজিদকে তাই নওগাঁ জেলার ইতিহাস ও মুসলিম ঐতিহ্যের উজ্জ্বল নিদর্শন বলা হয়। মসজিদের উত্তর-দক্ষিণ দিকে রয়েছে ৭৭ বিঘা বিশিষ্ট একটি বিশাল দিঘি। গ্রামবাসী ও মুসল্লিদের খাবার পানি, গোসল ও অজুর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এ দিঘিটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর পাড়েই তৈরি করা হয়েছে কুসুম্বা মসজিদ। কুসুম্বা মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা, চওড়া ৪২ ফুট।

    চারদিকের দেয়াল ৬ ফুট পুরু। মসজিদের সামনের দিকে রয়েছে তিনটি দরজা। এই কুসুম্বা মসজিদ সুলতানি আমলের একটি পুরাকীর্তি। চারদিকের দেয়ালের ওপর বাইরের অংশ পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

    মসজিদের সামনে থাকা তিনটি দরজার মধ্যে দু’টি বড়, একটি অপেক্ষাকৃত ছোট। দরজাগুলো খিলানযুক্ত মিহরাব আকৃতির। মসজিদের চার কোণায় রয়েছে চারটি মিনার। মিনারগুলো মসজিদের দেয়াল পর্যন্ত উঁচু ও আট কোণাকার। ছাদের ওপর রয়েছে মোট ছয়টি গম্বুজ। যা দু’টি সারিতে তৈরি। বাংলায় আফগানদের শাসন আমলে শূর বংশের শেষদিকের শাসক গিয়াস উদ্দিন বাহাদুর শাহর রাজত্বকালে জনৈক সুলাইমান মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। এ মসজিদের নির্মাণকাল ৯৬৬ হিজরি (১৫৫৮-৫৯ খ্রিস্টাব্দ)।

    ইতিহাসবিদদের মতে, কুসুম্বা মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যকলার এক অনুপম নিদর্শন। সবর খান বা সোলায়মান নামে ধর্মান্তরিত এক মুসলিম এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মূল প্রবেশপথে শিলালিপি থেকে প্রমাণিত হয় এ মসজিদটি ৯৬৬ হিজরি বা ১৫৫৮-৫৯ খ্রিস্টাব্দে শের শাহ’র বংশধর আফগান সুলতান প্রথম গিয়াস উদ্দিন বাহাদুরের শাসনামলে (১৫৫৪-১৫৬০) নির্মিত। সে হিসাবে মসজিদটির বর্তমান বয়স ৪৭৪ বছর। কেন্দ্রীয় মেহরাবের ওপরাংশ শেরশাহের শাসনামলে নির্মিত।

    বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রাজশাহী জেলা পরিষদের ওভারশিয়ার সুরেন্দ্র মোহন চৌধুরী কুসুম্বা গ্রামের প্রাচীন ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি শিলালিপি আবিষ্কার করেন। শিলালিপিটি বর্তমানে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বরেন্দ্র জাদুঘরে রয়েছে। যে কেউ জাদুঘরে গেলে শিলালিপিটি দেখতে পারবেন।

    ১৮৯৭ সালের এক ভূমিকম্পে কুসুম্বা মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষিত। মসজিদটির মূল গাঁথুনি ইটের তৈরি হলেও এর বাইরের দেয়ালের সম্পূর্ণ অংশ এবং ভেতরের দেয়ালে পেনডেন্টিভের খিলান পর্যন্ত পাথর দিয়ে আবৃত। এর স্তম্ভ, ভিত্তিমঞ্চ, মেঝে ও পাশের দেয়ালের জালি-নকশা পাথরের তৈরি। আয়তাকার এ মসজিদ তিনটি ‘বে’ ও দুটি ‘আইলে’ বিভক্ত। পূর্বদিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে প্রবেশপথ আছে।
    কেন্দ্রীয় মিহরাবটি পশ্চিম দেয়াল থেকে সামান্য অবিক্ষিপ্ত। মসজিদের অভ্যন্তরভাগের পশ্চিম দেয়ালে (কিবলামুখী দেয়ালে) দক্ষিণ-পূর্ব দিকের এবং মাঝের প্রবেশপথ বরাবর মেঝের সমান্তরালে দু’টি মিহরাব আছে। তবে উত্তর-পশ্চিম কোণে থাকা মিহরাবটি একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মের মধ্যে স্থাপিত। পূর্বদিকে স্থাপিত একটি সিঁড়ি দিয়ে এ প্ল্যাটফর্মে ওঠা যায়।

    মিহরাবগুলো খোদাই করা পাথরের নকশা দিয়ে ব্যাপকভাবে অলংকৃত। কারুকার্য খচিত পাথরের তৈরি স্তম্ভের ওপর স্থাপিত এ খিলানগুলোর শীর্ষে রয়েছে কলস মোটিফের অলংকরণ। স্তম্ভগুলোর গায়ে রয়েছে ঝুলন্ত শিকল ঘণ্টার নকশা। মিহরাবের ফ্রেমে রয়েছে প্রায় সর্পিল আকারে খোদিত আঙুরগুচ্ছ ও লতার নকশা। এছাড়া প্রায় বিন্দুর আকার ধারণকারী কলস, বৃক্ষলতা ও গোলাপ নকশা রয়েছে গা ঘেঁষে। প্ল্যাটফর্মের প্রান্তেও রয়েছে আঙুরলতার অলংকরণ। আর এ প্ল্যাটফর্মের ভারবহনকারী খিলানের স্প্যান্ড্রিল ও মসজিদের কিবলা দেয়ালজুড়ে রয়েছে গোলাপ নকশা। বাইরের দেয়ালে আস্তরণ হিসেবে ব্যবহৃত পাথরগুলো অমসৃণ।

    বর্তমানে বছরের যে কোনো উৎসবে বা শীত মৌসুমে দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক এই কুসুম্বা মসজিদ দেখতে যান। তবে মসজিদটি ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবে ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে ওঠেনি। রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর শীতের সময় অনেকে এ মসজিদ পরিদর্শনে আসেন।

    কুসুম্বা মসজিদকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা প্রশ্নে নওগাঁ জেলা প্রশাসক (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ জানান, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

    কীভাবে যাবেন কুসুম্বা মসজিদ
    রাজধানী ঢাকা থেকে প্রথমে রাজশাহী যেতে হবে। রাজশাহীর ওপর দিয়ে ছাড়া এখানে যাওয়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ঢাকা-রাজশাহীর বাস ভাড়া লাগবে ৬০০ টাকা। এরপর রাজশাহী মহানগরের গোরহাঙ্গা রেলগেট বাসস্টপেজ থেকে নওগাঁর বাসে উঠে ৫০ টাকা ভাড়ায় মান্দার ফেরিঘাটের আগে কুসুম্বা মোড়ে নামতে হবে। এখানে নেমে হেঁটে এক মিনিটের পথ কুসুম্বা মসজিদ। আর থাকার জন্য নওগাঁ শহরে রয়েছে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল। সেখানে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে এক হাজার টাকায় একদিনের জন্য রুম ভাড়া পাওয়া যাবে

    লেখক : মোঃ হায়দার আলী।।।

  • আমরা দুর্নী-তি করব না, কোনো দুর্নী-তিবাজকে প্রশ্রয়ও দেব না, জামায়াত আমির ডাঃ শফিকুর

    আমরা দুর্নী-তি করব না, কোনো দুর্নী-তিবাজকে প্রশ্রয়ও দেব না, জামায়াত আমির ডাঃ শফিকুর

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতের স্মরণকালের সর্ববৃহৎ নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয়ও দেব না। সকলের জন্য ন্যয় বিচার হবে, এখানে কেউ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। জুলাই সনদ এবং সংস্কারের সমস্ত প্রস্তাব মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের ওয়াদা করতে হবে। এই তিন শর্তে যারা একমত হয়েছে তারা আমরা ১১ দলে একত্রিত হয়েছি। আমাদের ১১ দলে কোনো প্রার্থীর মাঝে কোনো ব্যাংক ডাকাত নাই। চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি, মামলাবাজ, নারী নির্যাতনকারী, মানুষের অধিকার হরণকারী নাই। আমরা বেছে বেছে গুণে গুণে চেষ্টা করেছি। আমরা আগামীতে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
    বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ (মহিষালবাড়ি) মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডি হ্যাক করে পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ করা হচ্ছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জামায়াতের আমির ডা শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত কয়েক দিনে আমার ওপর ‘মিসাইল’ (রাজনৈতিক আক্রমণ) নিক্ষেপ করা হয়েছে, তার জবাবে ‘এন্টি-মিসাইল’ ছুঁড়ব না। বরং আমি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম। তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে গোলাম করে রাখতে চায় তারাই এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে জামায়াতের সাইবার টিম শনাক্ত করেছে এবং জড়িতদের আটকও করা হয়েছে।
    তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি জাতির বাক পরিবর্তন এবং জাতিকে সঠিক পথে উঠানোর নির্বাচন। বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা এই নির্বাচন পেয়েছি। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে চব্বিশ এনে দিয়েছিল আমাদেরকে, তাদের অনেকে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাই আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমরা সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায় বিচার চাই। এই বাংলাদেশ হবে নতুন বাংলাদেশ।’
    জামায়াত আমির বলেন, ‘তাহলে কি এই সীমানা বড় হয়ে যাবে নাকি এখন ? না, সীমানা ঠিক থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশকে বাংলাদেশের মতো করে সাজানো হবে। অনেকে বলে, এটা সিঙ্গাপুর হবে, কানাডা হবে। আমরা বলি না, এটা উত্তম বাংলাদেশ হবে। যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ বলবে- আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন বাংলাদেশী। আরও সহজভাবে বলবে আমিই বাংলাদেশ।
    তিনি বলেন, ‘আমরা সে বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে শিশু, বৃদ্ধ, আবাল বনিতা সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। যে বাংলাদেশে আমার মায়েরা ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে নিরাপদ থাকবে, সমাজ তাদের মর্যাদা দেবে সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি। আমরা সেই শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেই শিক্ষাব্যবস্থা লড়াকু একজন সৈনিক তৈরি করবে যে দেশটাকে গড়ে দেবে। আমাদের যুবকেরা কারও কাছে বেকার ভাতা চায় না।আমরা ওয়াদাবদ্ধ। আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে পাল্টে দেব।’
    অপরাধ করলে সবার সমান সাজা হবে, এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘এমন বিচারব্যবস্থা আমরা চাই, যে বিচারে একজন সাধারণ মানুষের কোনো অপরাধ করলে যে শাস্তি হবে; দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি যদি একই অপরাধ করে; বিচার তাকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না। একই শাস্তির আওতায় তাকে আনা হবে। আনতে বাধ্য করা হবে। ন্যয়বিচার যখন প্রতিষ্ঠিত হবে, জনগণ সকল ক্ষেত্রে তাদের অধিকার পেয়ে যাবে। এই বাংলাদেশে কোনো অভদ্র, কোনো দুষ্টু, কোনো বেয়াদব আমার মায়েদের দিকে বাঁকা চোখে তাকানোর সাহস পাবে না। ওই বাংলাদেশ যেখানে ধর্মবর্ণ, জাত-পাতে ভেদাভেদ করে বাংলাদেশটাকে আর টুকরো টুকরো করতে দেব না। এই বাংলাদেশ হবে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।’
    তিনি বলেন, ‘কর্মস্থলে যে সমস্ত মায়েরা বোনেরা কাজ করেন; তাদের জন্য বেবি কেয়ার, ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে জায়গায় জায়গায়। শিল্প এবং ঘন এলাকায় তাদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। রাষ্ট্রকে তারা দিয়েই যাবে, আর তাদের মূল্যায়ন রাষ্ট্র করবে না এটা হতে পারে না। এই রাষ্ট্র শ্রমিকদের দাবি আদায়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি করবে না। শ্রমিক না চাইতেই তার দাবি পৌঁছে দিতে হবে। এই নীতিমালার ভিত্তিতে আমরা দেশটাকে গড়তে চাই।’
    জনসভায় হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রথম ভোট হবে হ্যাঁ। দ্বিতীয় ভোট দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক বাংলাদেশের জন্য ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা।’
    জনসভায় তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক। এতে গোদাগাড়ী-তানোরের নেতা ও কর্মীসমর্থকগন অংশ নেন। এই জনসভায় নারী কর্মীদের জন্যও বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।#

  • তানোরের হাতিশাইল রাস্তা নির্মাণ সহজ হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা

    তানোরের হাতিশাইল রাস্তা নির্মাণ সহজ হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) হাতিশাইল স্কুল পাড়া গ্রামে প্রায় কিলোমিটার পাকা রাস্তা নির্মাণের সুফল পেতে শুরু করেছে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার এবং হাতিশাইল উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে সহজ হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
    অথচ কিছুদিন আগেও ভাঙাচোরা এই রাস্তায় চলাচল করা ছিল স্থানীয়দের জন্য নিত্য ভোগান্তি।বৃষ্টির দিনে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পানি কাঁদা জমায় হেঁটে যাওয় ছিলো দুর্বিষহ। গাড়ি চলাচল করা ছিল চরম ঝুঁকিপুর্ণ অনেকে বাধ্য হয়ে পাঁযে হেটে যেতো। তবে রাস্তাটি পাকা করায় অবশেষে সেই দুর্দিন কাটিয়ে এলাকায় বইছে স্বস্তির হাওয়া।
    সম্প্রতি রাস্তা পাকাকরণ কাজ শেষ হয়েছে। এই রাস্তা যেনো নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে গ্রামবাসীর জন্য। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতের সুযোগ পেয়ে কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মুখে এখন হাসি।
    জানা গেছে,উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) হাতিশাইল গ্রামে প্রায় সহস্রাধিক পরিবারের বসবাস।কিন্ত্ত মাত্র এক কিলোমিটার রাস্তা পাকা না হওয়ায় এসব মানুষের দুর্ভোগের অন্ত ছিলো না।বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কৃষকেরা মাঠ থেকে খেতের ফসল তুলতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতেন।এছাড়াও স্কুলের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ছিলো নিত্যদিনের।
    সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) হাতিশাইল স্কুল পাড়া গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণে প্রায় ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করেন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। রাজশাহী শহরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স র‍্যাবেল এন্টারপ্রাইজ।
    এদিকে কাজের শুরু থেকেই উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার নিজে কাজের মাণ দেখভাল করেন।ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজে কোনো অনিয়মের সুযোগ পায়নি। উপজেলা প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে সিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়েছে।কাজের মান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাগণ খুশি।
    স্থানীয় অটো চালক আব্দুর রশিদ বলেন, তিনি বাড়ি থেকে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে অটো নিয়ে যান।
    কাচা রাস্তার কারণে অনেক কষ্ট করতে হতো। এখন সুদিন ফিরেছে, চলাচল অনেক সহজ হয়েছে।”
    অটোরিকশা চালক আলম জানান, আগে রাস্তা খারাপ থাকায় যাতায়াতে সময় ও ব্যাটারির চার্জ খরচ বেড়ে যেত। এখন যাত্রীদেরও আরাম, আমাদেরও স্বস্তি।
    স্থানীয়রা মনে করছেন, এই সড়ক এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সাধারণ মানুষের কর্মজীবনে আসবে নতুন গতি ও স্বাচ্ছন্দ্য।
    স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান আহম্মেদ বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর তৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মতো।রাস্তার কাজের মান নিয়ে তারা পরম খুশি।তিনি বলেন,নিয়ম মাফিক কাজ হয়েছে। স্কুল শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন,এলাকার মানুষ রাস্তার কাজের মান নিয়ে খুশি।তিনি বলেন,স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে রাস্তার কার্পেটিং কাজ করা হয়েছে।
    এবিষয়ে জানতে চাইলে তানোর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নুর নাহার বলেন, কাজের মান নিয়ে কোনো আপোষ নাই। সিডিউল মোতাবেক নিয়মমাফিক কাজ বুঝে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকতাগণ কাজের মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রাস্তার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, কার্পেটিংসহ সব কিছুই সঠিক পাওয়া গেছে। #

  • হরিণাকুণ্ডুতে নি-খোঁজের পর ভুট্টাক্ষেত থেকে যুবকের ম-রদেহ উদ্ধার

    হরিণাকুণ্ডুতে নি-খোঁজের পর ভুট্টাক্ষেত থেকে যুবকের ম-রদেহ উদ্ধার

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
    ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে জসিম উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে টেংরাখালির মাঠের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জসিম দৌলতপুর গ্রামের মোক্তার আলীর ছেলে।​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে মাঠ থেকে ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন জসিম। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত ১১টার দিকে টেংরাখালির মাঠের নির্জন এক ভুট্টাক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসী।এলাকার বাসিন্দা মতিয়ার রহমান জানান, মরদেহটির গলায় ফাঁস লাগানো ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর গুরুতর জখম লক্ষ্য করা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
    ​এদিকে জসিমের এমন মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। দুই সন্তান খুশি ও শামীমকে নিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন স্ত্রী রেশমা খাতুন। তিনি বিলাপ করে বলেন, “আমার ছোট ছোট বাচ্চাগুলো এই বয়সেই এতিম হয়ে গেল। আমি এখন কার কাছে বিচার চাইব?”​হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রকিয়া করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি, দ্রুতই অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।

  • গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী -সাদুল্লাপুর) আসনে একজন ব্যা-তিক্রম ধর্মী প্রার্থী আজিজার রহমান বিএসসি

    গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী -সাদুল্লাপুর) আসনে একজন ব্যা-তিক্রম ধর্মী প্রার্থী আজিজার রহমান বিএসসি

    মিজানুর রহমান মিলন,
    স্টাফ রিপোর্টার :

    মুখে অনেকেই টাকাকে উরিয়ে দিলেও দেখা যায় যে,টাকা না থাকিলে সাংসারিক, সামাজিক, পারিবারিক জীবনে সন্মান, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা কোনটাই পাওয়া যায় না, জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত এমনকি মৃত্যুর পরেও টাকার প্রয়োজন হয় । এই সারাংশের সাথে বাস্তব জীবনে হুবহু মিলে গেছে আসন্ন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা -৩ (পলাশবাড়ী -সাদুল্লাপুর) আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী আজিজার রহমান বিএসসির ।
    ঢেঁকি মার্কা নিয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি ইতিপূর্বে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং সংসদ নির্বাচনেও অংশ গ্রহন করেছিলেন। তার কোন দল বা কর্মী বাহিনী না থাকায় এবং অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বিগত একটি নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করতে পারেননি। তিনি একাই বাই সাইকেলে চালিয়ে তার নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন ।
    তাকে সবাই চিনে এবং প্রতিটি এলাকায় তাকে নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সমালোচনা ও হাসাহাসি হয়। জিততে না পারলেও এটাইবা কম কিসে।
    আসলে আজকাল আবেগ দিয়ে কিছু হয়না তবুও তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আশায় বুক বেঁধে ।

  • নি-রপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য  নির্বাচন উপহার দিতে সরকার ও প্রশাসন কাজ করছে: ময়মনসিংহে ডিসি

    নি-রপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সরকার ও প্রশাসন কাজ করছে: ময়মনসিংহে ডিসি

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অবাদ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য সরকার ও জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাইফুর রহমান এ কথা বলেন।

    বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জেলার গফরগাঁও উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট, ঢাকার সহযোগিতায়, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় ময়মনসিংহের আয়োজনে গফরগাঁও খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হল রুমে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাগণের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার,
    সাইফুর রহমান। এছাড়াও একই দিনে নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন এলাকায় পথসভা বক্তব্য দেওয়াসহ গফরগাঁও থানা এলাকায় যৌথ মহড়ায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

    এ সময় তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ও গণভোট আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য সরকার ও জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) —সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ।

    কর্মশালায় সম্মানিত অতিথিবৃন্দ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্ণিং কর্মকর্তা।

    এছাড়াও গফরগাঁও উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ ও গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত পথসভায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন।

    একই দিনে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং জনমনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এক যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এই যৌথ মহড়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, সংশ্লিষ্ট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, নান্দাইল থানার অফিসার ইনচার্জ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, আনসারসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জেলা পুলিশ ময়মনসিংহের পক্ষ হতে গণভোটের প্রচারণার পাশাপাশি সর্বসাধারণকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে উদাত্ত আহবান জানান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

  • আশুলিয়ায় ছয় লা-শ পো-ড়ানোসহ সাত হ-ত্যা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ছয়জনের মৃ-ত্যুদণ্ড

    আশুলিয়ায় ছয় লা-শ পো-ড়ানোসহ সাত হ-ত্যা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ছয়জনের মৃ-ত্যুদণ্ড

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়টি মরদেহ পোড়ানো ও একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুইজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক এএফএম সায়েদ রনি (পলাতক), সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা (পলাতক), এসআই আব্দুল মালেক এবং কনস্টেবল মুকুল চৌকিদার।
    যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম (পলাতক), ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন (পলাতক), সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান (পলাতক), সাবেক পুলিশ পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস (পলাতক), ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম এবং পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।
    এছাড়া এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামকে কয়েকটি অভিযোগে পৃথকভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেন। একইসঙ্গে তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন আদালত।