Author: desk

  • তারুনণ্যের মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি ছাত্র ছাত্রীদের প্রশ্ন উত্তরে হুইপ- স্বপন

    তারুনণ্যের মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি ছাত্র ছাত্রীদের প্রশ্ন উত্তরে হুইপ- স্বপন

    এস এম মিলন জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি
    তরুণদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা, দেশ ও সমাজ নিয়ে তাদের ভাবনাসহ স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নগুলো নিয়ে তারুণ্যের মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার সকাল ১১ টায় জয়পুরহাট জেলা ষ্টেডিয়ামে জয়পুরিয়ান ট্রাস্ট আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার পাঁচ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ক প্রশ্নের জবাব দেন জাতীয় সংসদের হুইপ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি।
    আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি তারুণ্যের মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি” আয়োজন সম্পর্কে বলেন,স্মার্ট বাংলাদেশের সুফলভোগী হচ্ছে বর্তমানের তরুণ সমাজ। তরুণদের স্বপ্ন পূরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে স্মার্ট বাংলাদেশ। শেষ থেকেই শুরু করতে হবে। আজকে তরুণ শিক্ষার্থীদের হাতেই আছে আগামীর স্বপ্ন।
    জয়পুরহাট সরকারি কলেজের অর্থনীতির চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আশিক হোসেন প্রশ্নে বলেন,জয়পুরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষক সংকট রয়েছে,তার কারনে ঠিকমত ক্লাস হয় না।
    প্রশ্ন উত্তরে জনপ্রতিনিধি এমপি বলেন,আমি বিষয়টি শুনেছি এবং শিক্ষামন্ত্রীকে বিষয়টি জানাবো।
    ক্ষেতলাল উপজেলার স্কুলের একজন ছাত্রী বলেন,স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিটা শ্রেণিকক্ষে প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান করলে ভালো হয়।এই ব্যাপারে আপনার কোন চিন্তাভাবনা আছে কিনা?
    প্রশ্ন উত্তরে হুইপ বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে,অবশ্যই সেটা সম্ভব হবে।
    তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরাই পারবে তোমাদের পারতে হবে। তিনি এসময় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও চাকরি বিষয়ে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি আগামীতে শিক্ষকদের নিয়ে আলাদা সমাবেশ করার ঘোষনাও দেন।
    এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড নুর উদ্দিন নয়ন এমপি, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড খায়রুল আলম সেলিম, জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এড মোমিন আহম্মেদ চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন, পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক প্রমুখ।

  • ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করার সময় তিন ভারতীয় নাগরিক আটক করেছে  বিজিবি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করার সময় তিন ভারতীয় নাগরিক আটক করেছে বিজিবি

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করার সময় তিন ভারতীয় নাগরিক আটকসহ ১২লক্ষ টাকা, ৭টি স্মাট ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করেছে বিজিবি। আজ শনিবার সকালে সীমান্ত এলাকার মাটিলা থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় স্বামী- সাগর দাউদ বিশ্বাস-স্ত্রী প্রাদনিয়া ও কন্যা শিশু মিষ্টিকে আটক করে ৫৮ বিজিবি। তারা ভারতের মুম্বাই শহরের বাহারাট নগরের বাসিন্দা।৫৮ বিজিবির পরিচালক লেঃ কর্ণেল মাসুদ পারভেজ রানা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে মহেশপুর উপজেলার মাটিলা ক্যাম্পের বিজিবির সদস্যরা সীমান্তে অভিযান চালায়। অভিযানকালে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তিন ভারতীয় নাগরিক ও একই পরিবারের দম্পত্তি সাগর দাউদ বিশ্বাস, প্রাদনিয়া ও মিষ্টিকে আটক করে। এ সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ব্যাগ তল্লাসী চালিয়ে বাংলাদেশী ১২লক্ষ টাকা, ৭টি স্মাট ফোন, ২টি হাত ঘড়ি ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করে। তাদের বিরুদ্ধে মহেশপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, দালালের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশে এ পন্যগুলো নিয়ে এসেছিলো।

  • তারাগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্ত জেলা ডাকাত দলের দুই সদস্য গ্রেফতার

    তারাগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্ত জেলা ডাকাত দলের দুই সদস্য গ্রেফতার

    খলিলুর রহমান খলিল নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    রংপুরের তারাগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বৃহষ্পতিবার রাতে ডাকাত চক্রের মূল হোতা তুহিন ও সহযোগী আরিফুলকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার করেছে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ।

    পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে কুর্শা ইউনিয়নের জিগারতল টিবিএম কলেজের সামনের রাস্তা থেকে ইকরচালী ইউনিয়নের দোহাজারী এলাকার খাদেমুল ইসলামের ছেলে তুহিন ইসলাম (২৮) ও রংপুর জেলার কোতোয়ালি থানার আমজাদ হোসেনের ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩১) কে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ছুরি, রশি, টেপ , লাঠি, টর্চলাইট ও একটি এপাচি মোটরসাইকেলসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় । তারা আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ ডাকাত ও মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য ও নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল । পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যান্য ডাকাত সদস্যরা পালিয়ে যায়।

    এই মামলার বাদী এসআই তোহাকুল ইসলাম জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত পরস্পরের যোগসাজসে রংপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ হয়ে ডাকাতি ও মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল। তাদের নামে সৈয়দপুর, নীলফামারী সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান বলেন , আমরা চুরি , ডাকাতি, মাদকের রিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি। আমি যোগদানের পর থেকে বেশ কয়েকটি চঞ্চল্যকর অভিযান পরিচালনা ও দাগী আসামিদের গ্রেফতার করেছি । আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • দারুল ইরফান একাডেমীর বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

    দারুল ইরফান একাডেমীর বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

    বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল ইরফান একাডেমীর ২ দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আজ ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ইং দুপুর ১২টায় চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা বি ব্লক মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
    দারুল ইরফান একাডেমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪নং চান্দগাও ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসরারুল হক।
    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চান্দগাও বি ব্লক কল্যাণ সমিতির সভাপতি এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইসমাঈল, এ ব্লক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল মনছুর, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালেয়র প্রফেসর ড. আতহার উদ্দিন, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিক। উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ মিসেস হাসিনা ইয়াসমিন, মাষ্টার নুরুচ্ছালাম, প্রকৌশলী জয়নুল আবেদীন। ক্রীড়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ক্রীড়া শিক্ষক মুহাম্মদ ইউসুফ।
    প্রধান অতিথি শিক্ষার পাশাপশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ সাধনের জন্য সাংস্কৃতি অবশ্যই দরকার তবে সেই সংস্কৃতি হতে হবে নৈতিকতা সম্পন্ন। ক্রীড়ার মাধ্যমে যুব সমাজকে অনৈতিক ও মাদকের হাত থেকে বাচাতে হবে। দারুল ইরফান একাডেমী যুগউপযোগী সাংস্কৃতি চর্চা এবং ক্রীড়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশ প্রেমিক নাগরিক তৈরীতে যে ভুমিকা রেখে যাচ্ছে তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
    অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ বলেন, অসুস্থ ও দিক ভ্রান্ত সাংস্কৃতিক ধারা নয়। সুস্থ ও সুন্দর সাংস্কৃতিক ধারা সৃষ্টি করার মাধ্যমে যুব ও তরুন প্রজন্মকে অনৈতিক ও সমাজ গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে। ক্রীড়াঙ্গনকে সরব রাখার মাধ্যমে মেধা ও মননের বিকাশে লেখা পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার দিকে ধাবিত করতে হবে।

  • তরুণদের ভাবনা গুলোকে কাজে লাগিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার: হুইপ স্বপন

    তরুণদের ভাবনা গুলোকে কাজে লাগিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার: হুইপ স্বপন

    স্টাফ রিপোর্টার: নিরেন দাস

    জাতীয় সংসদের হুইপ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেছেন, তরুণদের ভাবনা গুলোকে কাজে লাগিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার।

    তরুণদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা, দেশ ও সমাজ নিয়ে তাদের ভাবনা ও স্বপ্নগুলো নিয়ে শনিবার(০৪ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত ‘তারুণ্যের মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ স্বপন এসব কথা বলেন।

    জয়পুরহাট স্টেডিয়ামে আয়োজিত দিনব্যাপী তারুণ্যের মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জয়পুরিয়ান ট্রাস্ট।

    সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ডিস্ট্রিক্ট স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেডিসাব)।অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জয়পুরহাট জেলা শাখা।

    প্রধান অতিথি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। এর সুফল মানুষ এখন ভোগ করছে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ শুরু করেছে সরকার। আর স্মার্ট বাংলাদেশের সুফলভোগী হবে এ দেশের বর্তমান তরুণ সমাজ। স্মার্ট বাংলাদেশ মানে শিক্ষিত ও দক্ষতা সম্পন্ন জাতি। সে কারণে তরুণদের ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চায় বর্তমান সরকার।

    তরুণদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা, দেশ ও সমাজকে তাদের ভাবনাসহ স্মার্ট বালাদেশের স্বপ্নগুলো তুলে ধরতেই আয়োজন করা হয়েছে তারুণ্যের মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি অনুষ্ঠানের।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন,পাঁচবিবি পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন হুইপ স্বপন।

    সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম সোলায়মান আলী, জয়পুরহাট পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান, পাঁচবিবি উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল শহিদ মুন্না, কালাই উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আরিফুর রহমান রকেট, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনসহ জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরাও এতে অংশগ্রহণ করেন, তরুণদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। জেলার তরুণ সমাজ বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ঐ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

  • শহীদ স্মৃতি একাডেমীর অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমানকে “সুবর্ণজয়ন্তী” সম্মাননা স্মারক প্রদান

    শহীদ স্মৃতি একাডেমীর অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমানকে “সুবর্ণজয়ন্তী” সম্মাননা স্মারক প্রদান

    দোয়ারাবাজার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

    বহুমাত্রিক প্রতিভার কর্ণধার শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখায়, শহীদ স্মৃতি একাডেমির অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমানকে শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রাখায় নেপাল বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এসোসিয়েশন কতৃক”সুবর্ণজয়ন্তী”সম্মাননা স্মারকে ভূষিত করা হয়েছে।

    সম্প্রতি দিনদয়া রিজাম প্রেসিডেন্ট,এনবিএফএ কাঠমুন্ড, নেপাল বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এসোসিয়েশন প্রদত্ত শিক্ষা সংস্কৃতিতে সুবর্নজয়ন্তী সম্মাননা স্মারক লাভের গৌরব অর্জন করেছেন। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত শহীদ স্মৃতি একাডেমির সত্ত্বাধিকারী ও অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান। ‘সময়ের সাথে সত্যের পথে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্বল্পসময়ে ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত হয়েছেন তিনি। এছাড়াও তিনি সমাজের একজন আলোকিত মানুষ” মানুষ গড়ার কারিগর। নিজ অর্থায়নে, নিজস্ব ভূমিতে অজপাড়াগাঁয়ে শিক্ষার আলো ছড়াতে নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন শহীদ স্মৃতি একাডেমী স্কুল।

    নেপাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে বিচারপতি নাজমুল হক নাসিম এর কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে “সুবর্ণজয়ন্তী” ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

  • মুন্সীগঞ্জ‌ে খোলাবাজারে পেট্রোল-অকটেন, প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতা, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

    মুন্সীগঞ্জ‌ে খোলাবাজারে পেট্রোল-অকটেন, প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতা, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

    লিটন মাহমুদ,

    মুন্সীগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ

    মুন্সীগঞ্জ জেলা জুড়ে চলছে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির মহাউৎসব। মহাসড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারের  পাওয়া যায় অকটেন ও পেট্রোল। রাস্তার পাশে সারি সারি সাজানো কোমল পানীয় বোতলের বাহারি রং দেখলে মনে হবে সরকারি অনুমোদন নিয়েই পরিকল্পিত ব্যবসায় ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। আসলে বাস্তবে ভিন্ন কারন সঠিক পেট্রোল তাদের দোকানগুলোতে কম  বিভিন্নভাবে ভেজাল মেশানোর কারণে জ্বালানি তেলের রঙের পরিবর্তন হয়। আর এই ভেজাল তেল ব্যবহারকারী যানবাহনগুলো দ্রুত ইঞ্জিলের সমস্যা সৃষ্টি হয়। লাইসেন্স ছাড়া বিস্ফোরক দ্রব্য আইন-১৯০৮ অনুযায়ী খোলাবাজারে গ্যাস, অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ সরকারি এসব নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই মুন্সীগঞ্জ সদর ,টঙ্গীবাড়ী ,সিরাজ‌দিখান লৌহজং
    উপজেলায় সর্বত্র ছোট-বড় বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে দাহ্য পদার্থ। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণভাবে এভাবেই খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে অকটেন ও পেট্রোল। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা  রয়েছে।

    টঙ্গীবাড়ী উপ‌জেলার ছোট কেওয়ার এলাকার কয়েকজন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করে বলেন, আলদী দিঘীড়পাড় রোডের সংযোগ মুখে তিন থে‌কে চার‌টি মুদি দোকানে পেট্রল অকটেন প্রায় ৫ বছর যাবত বিক্রি করে আসছে। জ্বালানি তেল বিক্রির মূল্যতালিকা পর্যন্ত টানানো নেই দোকানে। এছাড়ার ক্রেতাদের মাপে তেল কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

    এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ সদর উপ‌জেলার মুন্সীহাট বাজারে সড়কের পার্শ্বে উপর টেবিলে বিভিন্ন কালারের বোতল ভড়া জ্বালানি তেল বিক্রেতা বলেন, আমরা ছোট ব্যবসায়ী। সারা দিনে অল্প কয়েক লিটার তেল বিক্রি করি। এ আইন সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। লোকজনের চাহিদা থাকায় বরিশালের এক এজেন্টদের কাছ থেকে তেল নিয়ে এসে বিক্রি করি।

    সরেজমিনে, ‌গি‌য়ে মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী ও সিরাজ‌দিখান উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, মুদি দোকান, সারের দোকান হতে শুরু করে চায়ের দোকান, বিকাশ রিচার্জ লোডের দোকান, প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান, টিনের দোকান, স্যানিটারি দোকান, কাপড়ের দোকানেও চলছে অকটেন, ডিজেল, পেট্রোল ও কেরোসিন বিক্রিসহ রাস্তার পাশে অকটেন পেট্রোল সারিবদ্ধভাবে রেখে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এসব দোকানের কোনটিরও পেট্রোল বিক্রি করার মতো অনুমোদনপত্র নেই।

    যানতে চাওয়া হয় পেট্রোল লিটার কত টাকা তিনি বলেন সরকার তো ১২৫ টাকা করে দাম নির্ধারন করেছে কিন্তু আমরা খুচরা বিক্রি করি বরিশাল এক এজেন্টদের থেকে এনে তাই ১৩০ /১৩৫ টাকা করেই বিক্রি করি।

    জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস এবং বিস্ফোরক অধিদফতরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল, অকটেন। কোনো রকম নিয়ম না মেনে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আবার কেউ অনুমোদন ও অগ্নিনির্বাপক ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়াই এ জ্বালানি ও পেট্রোল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দোকানে নেই আগুন নির্বাপক যন্ত্র। দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকারও জানা নেই এসব ব্যবসায়ীদের। জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবেই এসব ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

    একই সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতায় সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ, আর ঝুঁকিতে থাকছে খোদ স্থানীয় প্রশাসন। কারণ খোলা বাজারে অনুমোদনহীন দোকান থেকে পেট্রোল কিনে সরকারের বিরুদ্ধে অপশক্তিরা কিংবা দুর্বৃত্তরা ঘটাতে পারে যে কোনো অঘটন। এছাড়া অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি করায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত সরকার। তবে এখন তৎপর হওয়া সময় এসেছে প্রশাসনের। কারন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে দিন দিন। বিগত দিনগুলতে দেখা গেছে রাজনৈতিক সহিংসতায় পেট্রোল বোমা ব্যবহার করেছে দুর্বৃত্তরা।

    কয়েকজন ক্ষুদ্র পেট্রোল ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে তারা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, আমাদের ফায়ার সার্ভিস-এর ছাড়পত্র ও অনুমোদন আছে। অনেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ অনুমোদন ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে জ্বালানি তেলের ব্যাবসা চালাচ্ছে কারন প্রশাসনিক কোন ঝামেলা পোহাতে হয় না তাদের।

  • ধর্মপাশায়  ফেসবুকে সাংবাদিকের নামে মানহানিকর পোস্ট থানায় লিখিত অভিযোগ

    ধর্মপাশায় ফেসবুকে সাংবাদিকের নামে মানহানিকর পোস্ট থানায় লিখিত অভিযোগ

    শান্ত তালুকদার প্রতিনিধি:
    সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় এক সাংবাদিকের নামে ফেসবুকে মানহানিকর তথ্য দিয়ে অনলাইন পোর্টালে নিউজ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো, ইমাম হোসেন ও রাজু ভূইয়া নামে দুই কতিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে।
    এ ঘটনায় ভুক্তভুগি সাংবাদিক মো. মিঠু মিয়া বাদি হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের বাসিন্দা দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি মো. মিঠু মিয়ার নামে শুক্রবার সন্ধ্যায় ৭টার দিকে ইমাম হোসেন ও রাজু ভূইয়া নামের দুই ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুকে মানহানিকর মিথ্যা বানোয়াট নিউজ পোস্ট দেয়। নিউজের পোস্টে তাঁরা লিখেন, ‘যায়যায়দিন ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি মো. মিঠু মিয়া প্রতারনার মাধ্যমে একাধিক নারীকে বিয়ে করা, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অফিস আদালতে দালালী ও তদবির করে এলাকার সাধারন মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এতে করে চরমভাবে মানহানি হয়েছে উলেস্নখ করে পোস্টদাতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে ধর্মপাশা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সাংবাদিক মো. মিঠু মিয়া।

    বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক মো. মিঠু মিয়া বলেন, মো. ইমামাম হোসেন ও রাজু ভূইয়া ওরা দুইজন কথিত সাংবাদিক। সাংবাদিকতার আঁড়ালে সে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়। মাদক সেবন ও কেনা-বেচার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব বিষয় নিয়ে আমি নানা সময় প্রতিবাদ করি। এসসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারনেই হয়তো আমার প্রতি হিংসাপরায়ন হয়ে এমন মানহানিকর মিথ্যা ও বানোয়াট নিউজ পোস্ট দিয়েছে। আমি আইন অনুযায়ী তার শাস্তির দাবি করছি।

    ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ইমাম হোসেন ও রাজু ভূইয়া নামে দুই ব্যক্তি দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সাংবাদিক মো. মিঠু মিয়া এর নামে ফেসবুকে অনলাইনে পোর্টালে মানহানিকর পোস্ট দিয়েছেন। যার কারনে মিঠু মিয়া বাদি হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

    শান্ত তালুকদার
    মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ

  • প্রকৃতি রাঙানো বসন্তের রুপকন্যা শিমুল বিলুপ্তপ্রায়

    প্রকৃতি রাঙানো বসন্তের রুপকন্যা শিমুল বিলুপ্তপ্রায়

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কালের বিবর্তনে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলা আগুন ঝরা ফাগুনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত বসন্তের রুপকন্যা শিমুল বিলুপ্তপ্রায়। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে অনেক ফুল ফোটলেও এখন আর তেমন চোখে পড়েনা রক্তলাল নয়নাভিরাম শিমুল ফুল। বিগত ২যুগ আগেও রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে কানাচে বা রাস্তার পাশে অনেক শিমুল গাছ দেখা গেলেও এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না। এক সময় প্রতিটি গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুলই স্মরণ করিয়ে দিতো বসন্তের আগমন।

    শীতের পরেই ঋতুরাজ বসন্ত আগমনের সাথে সাথে প্রকৃতিতে লেগেছে তার ছোঁয়া। প্রতিটি গাছেই আসতে শুরু করেছে নতুন পাতা। প্রকৃতিতে দক্ষিণা বাতাসে আম্রমুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণে মুগ্ধ চারিদিক। কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতালে ফাগুনের উত্তাল বাসন্তী হাওয়া দিচ্ছে দোলা। গাছে গাছে জেগে উঠেছে সবুজ পাতা। মুকুল আর শিমুল ফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে এসেছে ফাগুন।

    শিমুল গাছের শাখাগুলো বসন্তের আগমনে লাল শাড়ির ঘোমটা পরা গ্রাম্য নববধূর সাজে সজ্জিত হতে দেখা যায়, যা দর্শনে হতাশ প্রেমিকের মনেও জাগিয়ে তোলে আশা। অন্যান্য গাছের তুলনায় শিমুল গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় বহু দূর থেকে এ মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। জোয়ার এনে দেয় কবির কল্পনার জগতে। কেবল সৌন্দর্যই বিলায় না শিমুল গাছের রয়েছে নানা উপকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব।

    প্রাকৃতিক ভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ। এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজগুণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা এখনো নানা রোগের চিকিৎসায় এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে। শিমুল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম “বোমবাক্স সাইবা লিন”। এটি বোমবাকাসিয়াক পরিবারের উদ্ভিদ। বীজ ও কান্ডের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। রোপণের ৫-৬ বছরের মধ্যে শিমুল গাছে ফুল ফোটে। ৯০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। সেই তুলনায় বেশ মোটাও হয় । নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে শিমুল গাছ দেড়শ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। শীতের শেষে পাতা ঝরে পড়ে।

    বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সাথে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। অন্যান্য গাছের মত এ গাছ কেউ শখ করে লাগায় না। নেওয়া হয়না কোন যত্ন। অযত্ন আর অনাদরে প্রাকৃতিকভাবেই গাছ বেড়ে ওঠে। এ গাছের প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর ছাল, পাতা ও ফুল গবাদিপশুর খুব প্রিয় খাদ্য। বালিশ, লেপ ও তোষক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই। অথচ বর্তমানে মানুষ এ গাছকে তুচ্ছ মনে করে কারণে অকারণে কেটে ফেলছে। অতীতে ব্যাপকহারে নির্মাণ কাজ, টুথপিকসহ নানা ধরনের প্যাকিং বাক্স তৈরি ও ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি। ফলে আজ বিলুপ্তির পথে। শিমুল গাছ উজাড় হওয়ার ফলে পরিবেশের উপরে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।

    এ গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় কাক, কোকিল, চিল, বকসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি বাসা বেঁধে বসবাস করত। এ গাছ উজাড় হওয়ার ফলে এসব পাখিরা আবাসস্থল হারিয়ে পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। গাছ না থাকায় আবাসস্থলের অভাবে ধীরে ধীরে এসব পাখিরাও হারিয়ে যাচ্ছে।

    গোদাগাড়ী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মহিশালবাড়ী মহল্লার প্রবীণ সোলেয়মান আলী বলেন, গ্রামে প্রচুর শিমুল গাছ ছিল। এই শিমুল ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিষফোঁড়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে এ গাছের মূল ব্যবহার করত। একই মহল্লার আলহাজ্ব আফসার আলী বলেন, ‘একটি বড় ধরনের গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে ৫-১০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আগের তুলনায় এখন শিমুলের তুলার দাম অনেক বেড়ে গেছে। এর পরও এই গাছ নিধন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।’

    রাজাবাড়ী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ সেলীম রেজা বলেন, এ গাছের প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর ছাল, পাতা ও ফুল গবাদি পশুর খুব প্রিয় খাদ্য। বালিশ, লেপ ও তোষক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই। অথচ বর্তমানে মানুষ এ গাছকে তুচ্ছ মনে করে কারণে অকারণে কেটে ফেলছে। অতীতে ব্যাপক হারে নির্মাণ কাজ, টুথপিকসহ নানা ধরনের প্যাকিং বাক্স তৈরি ও ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি।
    শিমুল গাছ রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে এক সময় উপকারী গাছের তালিকা থেকে এ গাছটি হারিয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না বাংলার মাটিতে শিমুল নামের কোন গাছ ছিল। এগাছ রক্ষায় সরকারিভাবে পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী। একই মন্তব্য করেন, দেওপাড়া ইউপির সফল চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দিন সোহেল ও গোগ্রাম আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • পঞ্চগড়ে ভুয়া উত্তরাধিকার সনদে একযুগের ভোগান্তি

    পঞ্চগড়ে ভুয়া উত্তরাধিকার সনদে একযুগের ভোগান্তি

    পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
    পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় এক ইউপি চেয়ারম্যানের দেয়া ভুয়া উত্তরাধিকার সনদের কারণে আইনি জটিলতায় প্রায় একযুগ ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন খায়রুল ইসলাম তপন ও কায়ছার আলম নামের দুই সহোদর ভাই।
    উপজেলার রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহেদ ওই ভুয়া উত্তরাধিকার সনদ প্রদান করেছেন। তার ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেননা এমন মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারদের সনদ দেয়ায় দুর্ভোগের সূচনা বলছেন ভুক্তভোগিরা।
    তাদের দাদা সামছুল হুদা সরকার। উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নেই জন্ম-মৃত্যু তার। তার মৃত্যুর ৩০ বছর পর ওয়ারিশগণ বিভক্ত হন দুই পক্ষে। সম্পত্তি ভাগ বণ্টনের জন্য আদালতে বাটোয়ারা মামলাও হয়। ২০০৭ সালে দেয়া মামলার রায়ে সামছুল হুদা সরকারের ওয়ারিশ হিসেবে স্বীকৃতি পায় তিন ছেলে এবং ৩ মেয়ে। তারা হলেন- মৃত ইউসুপ আলী, মৃত মাহাতাব উদ্দীন, মৃত মমতাজ উদ্দীন, মৃত আজিজা খাতুন, মৃত লুৎফা বেগম, মোছাঃ তাহেরা বেগম এবং মৃত খাজিরন নেছা।
    এদিকে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের যেন ইতি ঘটছেনা। মামলার প্রয়োজনে ২০১২ সালের দিকে মাহাতাব উদ্দীনের ছেলে মামুনসহ একটি পক্ষ ওঠে পড়ে লাগে ভুয়া উত্তরাধিকার সনদের জন্য। সনদটি পেতে সক্ষম হয়েছেন। তবে দাদা সামছুল হুদা সরকারের বাড়ি তৌড়িয়া ইউনিয়নে হলেও সেখান থেকে নয়, মনগড়া উত্তরাধিকার সনদটি দিয়েছেন পাশের রাধানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু জাহেদ। যেখানে ওয়ারিশ দেখানো হয়েছে ৭ জনের স্থলে ৮ জনকে।
    ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভুতভাবে অন্য ইউনিয়নের ওয়ারিশদের এই বানোয়াট উত্তরাধিকার সনদটি দিয়েছেন চেয়ারম্যান আবু জাহেদ।
    তারা বলেন, সামছুল হুদা সরকারের বাড়ি আটোয়ারী উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের ঝেপড়াঝার গ্রামে হলেও চেয়ারম্যান আবু জাহেদের দেয়া ভুয়া উত্তরাধিকার সনদে উল্লেখ করা হয়েছে রাধানগর ইউনিয়নের ছোটদাপ গ্রাম। যা সম্পূর্ণ জালিয়াতি। এই মিথ্যা তথ্যের উত্তরাধিকার সনদের কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি ১৯৬৯ সালে মারা যান। যা তোড়িয়া ইউনিয়নের মৃত্যু রেজিস্ট্রার বইয়ে লিপিবদ্ধ আছে। সে অনুযায়ী মৃত্যু সনদও দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ।
    এ বিষয়ে রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহেদ বলেন, সামছুল হুদা সরকারের ওয়ারিশগণের বাড়ি আমার ইউনিয়নে হওয়ায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমি এই সনদ দিয়েছি। কোন কিছু ভুল হলে সংশোধন করে দেয়া যাবে।