Author: desk

  • তেঁতুলিয়ায় শহীদ মিনার নেই ৮৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

    তেঁতুলিয়ায় শহীদ মিনার নেই ৮৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম,তেঁতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় জেলাধীন তেঁতুলিয়া উপজেলার ১১৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮৯টিতেই শহীদ মিনার নেই। একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে স্বীকৃত হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই দিনটি পালনের নির্দেশনা থাকলেও হাতেগোনা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কলাগাছ, কাপড় ও বাঁশের কি দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে পালন করে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলেই দেখা যায়, শহীদ মিনার না থাকায় অনেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ দিবসটিতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষকরা ছুটি ভোগ করেন। তেঁতুলিয়া উপজেলায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মাত্র কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকার ঘোষিত কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার না থাকায় তাঁরা ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারে না।
    উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নে ৫টি কলেজ, ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১১টি মাদ্রাসা (তন্মধ্যে ২টি ফাযিল মাদ্রাসা) বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে তেঁতুলিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ, ভজনপুর ডিগ্রি কলেজ, কালান্দিগঞ্জ ফাযিল মাদ্রসা, সিপাইপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, সিপাইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফকিরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, শালবাহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেঁতুলিয়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, রনচন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়, আজিজনগড় উচ্চ বিদ্যালয়, শালবাহান উচ্চ বিদ্যালয়, ভি.পি উচ্চ বিদ্যালয়, মাঝিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, হারাদিঘী দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়, গিতালগছ উচ্চ বিদ্যালয়, বেগম খালেদা জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দেবনগড় দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়, আমজুয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়, বোদা ময়নাগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, ভজনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধাইজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রওশনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-১, খয়খাটাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাথাফাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভজনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।
    তেঁতুলিয়া উপজেলায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪ এর মধ্যে শুধু ৭টিতে শহীদ মিনার আছে। মোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৬ এর মধ্যে ১৭টিতে শহীদ মিনার আছে, মোট ১১টি মাদ্রাসার মধ্যে শুধু ১টিতে শহীদ মিনার আছে এবং ৫টি কলেজের মধ্যে শুধু ২টিতে শহীদ মিনার আছে বলে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি তেঁতুলিয়া, প গড় শাখার সভাপতি ও আমজুয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওমর আলী জানান, ২১ শে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অথচ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। আজকে ছাত্র ছাত্রীরা কথায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন, কিভাবে সেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলোনের কথা স্মরণ করবেন এমনটি বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। তবে আমাদের (স্কুলের শিক্ষকদের) উচিত সবাই সম্মেলিতভাবে ভাষা শহীদদের কথা স্মরণে নিজেদের উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণের চেষ্টা করা। তিনি আরোও বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এবং উপজেলা প্রশাসন মহোদয়ের সহযোগিতায় যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো শহীদ মিনার হয়নি তা অচিরেই স্থাপনা করার দাবি জানিয়েছেন।

    এদিকে আয়ুব উল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল হক বলেন, আমরা কলা গাছের শহীদ মিনার নির্মাণে মামলা খেয়েছি তবুও এখন পর্যন্ত কোন শহীদ মিনার নির্মাণের ব্যবস্থা হয়নি। সেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলোনের কথা স্মরণে একটি শহীদ মিনারসহ স্কুলের বাউন্ডারী ওয়াল চেয়ে প গড় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

    উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনাায় উদ্বুদ্ধ করতে শহীদ মিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গভীর শ্রদ্ধাভরে যদি দিবসটি পালন করা হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাধীনতার চেতনার মুল্যবোধে জাগ্রত হবে। শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাপ্ত পত্র পেয়েছিলেন যাতে নতুন আঙ্গিকে এবং আদর্শ অবকাঠামোতে শহীদ মিনার তৈরি করা হবে নির্দেশনা ছিল তবে এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি। শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক সুস্পষ্ট নির্দেশনা পেলেই যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই সেগুলোতে কাজ করার চেষ্টা করবেন। তাছাড়া যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই ওইসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় যদি শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেয়া হয় তাহলে খুবই ভাল হতো। কেননা এসব এলাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব অর্থায়নে শহীদ মিনার নির্মাণ করার সামর্থ্য নেই। যেহেতু শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায় না। তবে আমরা যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের স্থানীয় সরকার (ইউপি চেয়ারম্যান) এর সহযোগিতা নিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছি।

    সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইউনুস আলী জানান, উপজেলায় ৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে এককভাবে ৭টিতে শহীদ মিনার রয়েছেন। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের শহীদ মিনার তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। যেসব প্রতিষ্ঠান সরকারি সেগুলোতে সরকারিভাবেই শহীদ মিনার করা হবে। প্রজন্মের কাছে মাতৃভাষার অর্জন-ইতিহাস উপস্থাপন করার জন্য অবশ্যই শহীদ মিনার নির্মাণ করা জরুরি। আর যেসব এমপিও ভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে শহীদ মিনার নেই সেসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চাহিদা দিলে সরকারি বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

  • রাজধানীতে নব্বই ভাগই নকল হিজড়া’ চাঁদাবাজি করছে লাখ লাখ টাকা

    রাজধানীতে নব্বই ভাগই নকল হিজড়া’ চাঁদাবাজি করছে লাখ লাখ টাকা

    মোঃ রাসেল সরকার//
    দুই সন্তানের জনক! আপাদমস্তক সুস্থ! অথচ বেশ ধারণ করেন হিজড়ার! শুধু চাঁদাবাজি নয়, অপহরণ করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের মাধ্যমেও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে কাজল ওরফে সজনি হিজড়া চক্রের বিরুদ্ধে।

    গত শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চক্রটির প্রধান কাজল ওরফে সজনি হিজড়া। তার আসল নাম সোহাগ। দুই সন্তানের জনক সোহাগের রয়েছে সাত থেকে আটজনের চক্র। তারা চাঁদাবাজিসহ মানুষকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন। 

    যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নকল হিজড়া চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তা্র করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের সবাই পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। অথচ তারাই হিজড়া সেজে রাস্তায় বের হন চাঁদাবাজি করতে।

    পুলিশ জানিয়েছে, সজনি হিজড়া তার মতো আরও ৭ থেকে ৮ জনকে নিয়ে তৈরি করেন নকল হিজড়া গ্রুপ। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট থেকে শুরু করে যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছিলেন তারা।

    দেশে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে হিজড়া বলা হয়। সত্যিকার অর্থেই যারা তৃতীয় লিঙ্গের তাদের অভিযোগ, রাজধানীতে অনেক নকল হিজড়া আছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ‘রাজধানীতে নব্বই ভাগই নকল হিজড়া। শুধু রাস্তায় বা বাসায় চাঁদাবাজি নয়, অপহরণের মাধ্যমেও সোহাগের চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। এমনকি চাঁদাবাজির টাকা চড়া সুদে খাটানোরও প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

  • সুজানগরে জাতীয় ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইন ২০ ফেব্রুয়ারী

    সুজানগরে জাতীয় ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইন ২০ ফেব্রুয়ারী

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ বাংলাদেশ থেকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নিমূল, অপুষ্টিজনিত শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোমবার ২০ ফেব্রুয়ারী-২০২৩ সারা দেশের ন্যায় পাবনার সুজানগরেও জাতীয় ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইন পালন করা হবে। এ উপলক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে রবিবার অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয় । উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ সানজিদা মুজিব এর সভাপতিত্বে ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সেলিম মোরশেদ এর স ালনায় অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন। অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল জব্বার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, শিশুদের রাতকানা, হাম, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া, মারাত্মক অপুষ্টি থেকে রক্ষা করতে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন পালন করছে সরকার। আগামী প্রজন্মকে সুস্থ সবলভাবে বেড়ে উঠতে সরকারের এ কার্যক্রম সফল করতে হবে। কোন শিশু যেন এ কার্যক্রমের আওতায় বহির্ভূত না থাকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ সানজিদা মুজিব জানান, এ দিবসে ৬-১১ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১টি নীল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল ও ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়া সুজানগর উপজেলায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন সুষ্ঠ ও সফলভাবে বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • তানোরে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরে ভুমিহীনের সুন্দর জীবনযাপন

    তানোরে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরে ভুমিহীনের সুন্দর জীবনযাপন

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে বাঙালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন-পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়। উপজেলায় আশ্রায়ণ প্রকল্পে ১ম, ২য় এবং ৩য় পর্যায়ে মোট ৩২৩টি গৃহহীন পরিবারের মাঝে এসব ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩২৩টি ঘরের জন্য প্রায় ২০ বিঘা সরকারি খাস জমি ব্যবহার করা হয়েছে, টাকার অংকে এসব জমির মুল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। এছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি বীর নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে চতুর্থ ধাপে আরো প্রায় ৩০০টি ঘরের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে
    জানা গেছে, বিগত ২০২১ সালের ২০ জুন রোববার উপজেলা অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ২য় পর্যায়ে আশ্রায়ণ প্রকল্পের একযোগে ১০৫টি ভুমিহীন পরিবারের মাঝে বিনামুল্যে জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। এই সরকারের সময়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে উপজেলায় মোট ৩২৩টি গৃহহীন পরিবার তাদের ছেলে-মেয়ে ও পরিবার নিয়ে এসব দুর্যোগ সহনীয় সেমি পাকা ঘরে সুন্দর ভাবে জীবন যানপন শুরু করেছেন। এছাড়াও চতুর্থধাপে আরো প্রায় ৩০০টি ঘরের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
    এদিকে এসব ঘরের পাশে বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশলী অধিদপ্তরের মাধ্যমে হাতের কাছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা পেয়ে বেশ খুশি উপকারভোগীরা। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এসব ঘরের পাশে সৌচাগার রাখা হলেও ছিলনা পানির ব্যবস্থা।এতে বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেক উপকারভোগী বিপাকে পড়ে। এদিকে দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতায় তানোরে আশ্রায়ণ প্রকল্প-১ এর আওতায় ৫৭টি পরিবারের জন্য ১২টি সাবমার্সিবল পাম্পের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ২য় পর্যায়ের বাঁকি ১০৫টি বাড়িতে সাবমার্শিবল পাম্প স্থাপন প্রক্রয়াধীন রয়েছে। এদিকে প্রতিটি পাম্পের গোড়া পাকা এবং পানির ট্র্যাঙ্কি স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্দেশ ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার সার্বিক সহযোগীতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে পৃথক পৃথক স্থানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ইতমধ্য আশ্রায়ণ প্রকল্পে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।
    জানা গেছে, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ-১ ২ ও ৩ প্রকল্পের আওতায় পাওয়া ঘরে এসব গৃহহীন পরিবারগুলো সুন্দর জীবন যাপন করছেন। প্রতিটি ঘরে দুইটি কক্ষ, একটি টয়লেট, রান্নাঘর, কমনস্পেস, একটি বারান্দা এবং বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির সুব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব গৃহ প্রত্যেক পরিবারের জন্য আলাদা করে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে নিচু জমি ভরাট করে নতুন মাটিতে ঘর নির্মাণ ও বর্ষার কারনে দুই একটি ঘরে সামান্য সমস্যা দেখা দিয়েছিল সেগুলোও মেরামত করা হয়েছে।
    উপজেলার বাঁধাইড় ইউপির জুমারপাড়া ও পাঁচন্দর ইউপির তাতিহাটি নবনবী গ্রামের উপকারভোগীরা জানান, তারা প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরে উঠে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করছেন। এসব ঘর নির্মাণ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নাই, এসব উপকারভোগীরা বলেন, এক সময় তাদের কোন মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না, অন্যর জমিতে কুড়ে ঘর করে কোন রকম দিন যাপন করতেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাদের এসব ঘর করে দেওযায় পর থেকে তাদের থাকার আর কোন অসুবিধা হয় না। তারা আরো বলেন, এসব ঘরে টয়লেট, বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানি সুব্যবস্থা থাকায় তাদের কোন রকম ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। বিদ্যুৎতের আলোয় ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনাও করাতে পারেন। তাই তারা আমরা খুশি। তারা বলেন, আমরা দোয়া করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে আমাদের মত অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করেছেন আল্লাহ যেন এভাবেই তার উপকার করেন। সংশ্লিস্ট সুত্র জানায়,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ-১, ২ ও ৩ ধাপে প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় মোট ৩২৩টি পরিবারকে ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত পৃর্বক, কবুলিয়ত ও নামজারিসহ এসব ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব ঘর নির্মানে প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে মাঠ পর্যায়ে সরকারের কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে ইউএনও পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ পিআইও প্রকৌশলী তারিকুুুল ইসলামের ভুমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রী যে লক্ষ নিয়ে এসব গৃহহীন ও ভুমিহীনদের ঘর হস্তান্তর করছেন সেই লক্ষ পূরনে সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাগণ এখানো নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এবিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, এমপি মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন যৌথভাবে আশ্রায়ণ প্রকল্পের কাজ দেখভাল করছেন। তিনি বলেন, কাজের মাণ খুবভাল হয়েছে, এনিয়ে কারো কোনো অভিযোগ নাই। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ জানান, ইতমধ্যে ১২টি সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনে আশ্রায়ণ প্রকল্পের কমপক্ষে ৫৭টি পরিবারে সুপেয় পানির ব্যবস্থা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে বাকিগুলোতেও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, পানির ব্যবস্থা হওয়ায় পরিবারগুলো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম বলেন, আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণে তানোর মডেল, এখানকার একটি ঘর নিয়েও কারো কোনো অভিযোগ নাই।

  • সুজানগর স্বজন সমাবেশের উদ্যোগে শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

    সুজানগর স্বজন সমাবেশের উদ্যোগে শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধিঃ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে ভাষার মাসে সুজানগর স্বজন সমাবেশের আয়োজনে কোমলমতি শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সভাপতি অধ্যক্ষ নাদের হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেত বাচ্চুর স ালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনও মো.তরিকুল ইসলাম। অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন আ.লীগ নেতা আব্দুল জলিল বিশ্বাস, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, আবুল কাশেম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সানজিদা ইয়াসমিন টুম্পা, সহকারী অধ্যাপক আবুল হাশেম,আসলাম উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন,যায়যায়দিন উপজেলা প্রতিনিধি এম.মনিরুজ্জামান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেহেদী মাসুদ,রাকিবুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, পৌর কাউন্সিলর জায়দুল হক, কানাডা প্রবাসী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, শ্রী জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, স্বজন সমাবেশের ক্রীড়া সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, পাঠচক্র সম্পাদক আলামিন শেখ,সবুজ ও আব্দুস সবুর । স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক যুগান্তরের সুজানগর উপজেলা প্রতিনিধি ও স্বজন সমাবেশের উপদেষ্টা এম এ আলিম রিপন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি

  • র‌্যাব-১২’র অভিযানে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ৪৯ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী সুমন গ্রেফতার; প্রাইভেট কার জব্দ

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ৪৯ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী সুমন গ্রেফতার; প্রাইভেট কার জব্দ

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    ১। র‌্যাব-১২ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি মাদক দ্রব্য উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারসহ নেশার মরণ ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করার জন্য র‌্যাবের জোড়ালো তৎপরতা অব্যাহত আছে। এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ মারুফ হোসেন পিপিএম অধিনায়ক, র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিক নির্দেশনায় ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ খ্রিঃ দুপুর ১২.১৫ ঘটিকায় র‌্যাব-১২’র স্পেশাল কোম্পানীর একটি চৌকষ আভিযানিক দল সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানাধীন হাটিকুমরুলস্থ বগুড়া টু ঢাকা মহাসড়কের পাশে খান আবাসিক হোটেলের সামনে পাকা রাস্তার উপর এক মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪৯ কেজি গাঁজাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তাহার সাথে থাকা মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও বহনের কাজে ব্যবহৃত ০১ টি প্রাইভেটকার এবং ০১ টি মোবাইল জব্দ করা হয়।

    ২। গ্রেফতারকৃত আসামীঃ মোঃ সুমন মিয়া(৩৫), পিতাঃ মোঃ শাহজাহান মিয়া, সাং- দক্ষিন পৈরতলা, থানাঃ বি-বাড়িয়া সদর, জেলাঃ কুমিল্লা।

    ৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামী দীর্ঘদিন যাবৎ লোক চক্ষুর আড়ালে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় মাদক ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিলো।

    ৪। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

    এ ধরণের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে র‌্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।

    র‌্যাব-১২ কে তথ্য দিন – মাদক , অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।

    স্বাক্ষরিত…….

    মোঃ এরশাদুর রহমান

    সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার

    ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার

    সিপিএসসি, সিরাজগঞ্জ,র‌্যাব-১২

    মোবা-০১৭৭৭-৭১১২৫৫

  • গোপালগঞ্জে প্রাইভেটকারের চাপায় রোলার চালক নিহত

    গোপালগঞ্জে প্রাইভেটকারের চাপায় রোলার চালক নিহত

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে প্রাইভেটকারের চাপায় বিভূতি ঢালী (৩৫) নামে এক রোলার চালক নিহত হয়েছে।

    আজ রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার তাড়াইল পূর্বপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    নিহত বিভূতি ঢালী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকার মৃত মণীন্দ্রচন্দ্র ঢালির ছেলে।

    ওসি খান শরিফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সড়ক ঠিক করার জন্য রোলার নিয়ে গোপালগঞ্জ শহর থেকে কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা যাচ্ছিলেন।

    এ সময় ঢাকামুখি দ্রুতগামী একটি প্রাইভেটকার রোলারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটির সামনে অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং রোলার থেকে ছিটকে মহাসড়কের উপর পড়ে মারাত্মক আহত হন বিভূতি।

    পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিভূতিকে মৃত ঘোষণা করে চিকিৎসক।

    মারাত্মক আহত প্রাইভেটকারের তিন যাত্রিকে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিস্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। #

  • নড়াইলে মধুর উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেনা চাষীরা

    নড়াইলে মধুর উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেনা চাষীরা

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইলে উৎপাদন বাড়লেও মধুর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেনা চাষীরা। স্বল্প বিনিয়োগে ভালো লাভ ও অনুকূল পরিবেশ থাকায় নড়াইলে মৌচাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতি বছরই এ জেলায় বাড়ছে মধু উৎপাদন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর মধু উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল মৌসুমের অর্ধেক সময়ের মধ্যেই সে লক্ষ্য ছুঁয়েছেন জেলার মৌ-খামারিরা। সব ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ মধু উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরিষা খেত থেকে মধু সংগ্রহ করায় ফলনও বেড়ে গেছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান,
    উৎপাদন বাড়লেও স্থানীয় চাষীরা মধুর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। খামারিদের অভিযোগ, খেত থেকে পাইকাররা মধু কিনে নিয়ে গেলেও দাম কম দিচ্ছেন। সরকারিভাবে মধু সংগ্রহ করার দাবি জানিয়েছেন মৌ-খামারিরা।
    বিসিক সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে (২০১৮ সালে) নড়াইলে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র দুই টন। প্রতি বছরই মধু উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৬ টন। এ বছর মৌসুমের অর্ধেক সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে গেছে। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে বর্তমানে মৌ-খামারির সংখ্যা শতাধিক। আর নিবন্ধনকৃত খামারির সংখ্যা ৭০। খামারির সংখ্যাও প্রতি বছর বাড়ছে।
    খামারি বসির আহমেদ জানান, ১০০টি মৌ-মাছির বাক্স থেকে চলতি মৌসুমের তিন মাসে ৫৪ মণ মধু সংগ্রহ করেছেন। আগামী তিন মাসে আরো অন্তত ৫০ মণ মধু সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা তার।
    আরেক খামারি মো. জুয়েল বলেন, ‘আমার ৫০টি বাক্স থেকে এরই মধ্যে ৩০ মণ মধু সংগ্রহ করেছি। অনুকূল পরিবেশ থাকলে বাকি সময়ে আরো ২০-২৫ মণ মধু উৎপাদন করতে পারব।’ পৌরসভার পুরাতন বাজার এলাকার মধুচাষী খন্দকার মাকসুদ হাসান জানান, এ বছর পাইকাররা প্রতি মণ মধু ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দাম দিচ্ছেন। এত কম টাকায় মধু বিক্রি করলে তাদের কোনো লাভ হয় না। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত তার ৮৩ মণ মধু সংগ্রহ হয়েছে। এরই মধ্যে ৪ হাজার ২০০ টাকা দরে দুই টন মধু পাইকারি বিক্রি করেছেন। তিনি সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্যে মধু সংগ্রহ করার দাবি জানান
    আকাশ শেখ নামে এক খামারি অভিযোগ করে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মধুর দাম কম দিচ্ছেন। লাভের অংশ পুরাটাই ব্যবসায়ীদের পকেটে যাচ্ছে। অথচ নড়াইল শহরের বিভিন্ন দোকানে ৪০০-৫০০ টাকা কেজি দরে মধু বিক্রি হচ্ছে।’
    জানা গেছে, মধু আহরণের মৌসুম নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত। এ ছয় মাসে মৌ-খামার নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটতে হয় মৌ-চাষীদের। যেখানেই ফসলের মাঠজুড়ে সরিষা, মসুর, খেসারি, তিল, তিসি, ধনিয়াসহ নানা ফুলের হাতছানি সেখানেই মধু আহরণে আস্তানা গাড়েন মৌ-চাষীরা। নভেম্বরে সরিষা, মসুর, খেসারি, ধোনে ফুলসহ বিভিন্ন রবি ফসলে ফুল এলে নড়াইলসহ পাশের মাগুরা ও ফরিদপুর জেলায় মধু সংগ্রহ শুরু করেন তারা। লিচু ফুল থেকে মধু আহরণ করতে গাজীপুর, পাবনা, যশোরেও চলে যান তারা। এভাবে সর্বশেষ মে মাসে সুন্দরবনে গেওয়া, গরান, খলিষা, বাইন, কেওড়া ফুলের মধু আহরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় মধু সংগ্রহের মৌসুম
    খলিষা, বাইন, কেওড়া ফুলের মধু আহরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় মধু সংগ্রহের মৌসুম।
    মৌ-চাষীরা জানান, বর্ষার আগমনে মধু আহরণ মৌসুম শেষ হয়। বর্ষাকালীন মৌ-খামার পরিচর্যার জন্য নড়াইল অত্যন্ত উপযুক্ত স্থান। এ সময় প্রকৃতিতে বিশেষ কোনো ফুল না থাকলেও এ অঞ্চলে নারিকেল, সুপারি গাছের প্রাচুর্যের ফলে বর্ষায় এর ফুল থেকে আহরণকৃত মধু মৌমাছির জীবন ধারণ ও বংশবিস্তারে অত্যন্ত সহায়ক। তাই বর্ষাকালে পাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও চাষীরা খামার নিয়ে নড়াইলে চলে আসেন। জুন-নভেম্বর—এ ছয় মাস প্রকৃতিতে ফুল তথা মধুর সংকটে মৌমাছিদের খাদ্য হিসাবে চিনিমিশ্রিত পানি সরবরাহ করা হয়।
    মৌ-চাষী নাসিম শেখ জানান, উদ্যোগের অভাবে বাজার সম্প্রসারিত না হওয়ায় উৎপাদিত মধু বিক্রি করতে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। উপরন্তু বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানির মধু দেশে আমদানি করা হয়। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে কষ্টার্জিত মধু বিক্রি করতে হয় কখনো নামমাত্র মূল্যে কখনো বাকিতে। তা না হলে প্রচুর মধু অবিক্রীত থেকে যায়। ফলে মধুর ন্যায্যমূল্যপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মৌ-চাষীরা। তার দাবি সরকারিভাবে চাষীদের কাছ থেকে মধু সংগ্রহ করা হোক।
    বিসিক নড়াইল জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সোলায়মান হোসেন বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছরের চেষ্টায় মৌ-চাষের একটা ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বিসিক আধুনিক প্রযুক্তিতে মৌচাষ প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে মৌচাষীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। জেলায় মৌ-চাষীদের উন্নয়নে স্বল্পসুদে ঋণ দেয়া হয়েছে। আগামীতে আরো কিছু খামারিকে ঋণ দেয়ার পরিকল্পনা আছে। তাদেরকে মৌ-বাক্সসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে নতুন নতুন মৌচাষী তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করছি অল্পদিনের মধ্য নড়াইল জেলা মৌচাষে একটা উদাহরণ তৈরি করবে।’

  • নড়াইলের তাঁরক গোঁসাইয়ের বাড়ি মতুয়া অনুসারীদের হরিবোল ধ্বনিতে মুখরিত

    নড়াইলের তাঁরক গোঁসাইয়ের বাড়ি মতুয়া অনুসারীদের হরিবোল ধ্বনিতে মুখরিত

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইলের তাঁরক গোঁসাইয়ের ১০৮তম তীরোধান দিবসে জয় ঢংকার ছান্দসিক শব্দ আর হাজার হাজার মতুয়া। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর গ্রামের ‘গোঁসাই বাড়ি’ একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থক্ষেত্র। গোঁসাইবাড়ি দেশের মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছে অতি পরিচিত ও পূজনীয় নাম। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে লোহাগড়ার জয়পুর সাধক কবি তাঁরক গোঁসাইয়ের ১০৮তম তীরোধান দিবস পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে লোহাগড়ার জয়পুর কবিধামে দুদিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে।
    এমন কোনো মতুয়া খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি লোহাগড়ার জয়পুর গ্রামের গোঁসাই বাড়ি দর্শন করেননি। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জীবন্ত কিংবদন্তি এই গোঁসাই বাড়ি। জয় ঢংকার ছান্দসিক শব্দ আর হাজার হাজার মতুয়া অনুসারীদের হরিবোল ধ্বনিতে মুখরিত হচ্ছে জয়পুর কবিধাম। এ বছর লক্ষাধিক মতুয়া অনুসারী কবিধামে উপস্থিত হয়েছেন বলে আয়োজকরা ধারণা করছেন।
    ইতিহাস থেকে জানা যায়, সাধক পুরুষ তাঁরক গোঁসাই নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জয়পুর গ্রামে বাংলা ১২৫২ সালের ১৫ অগ্রহায়ণ জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কাশীনাথ সরকার, মা অনপূর্ণা দেবী। কাশীনাথ ছিলেন একজন পেশাদার কবিয়াল। কবি গান গেয়েই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।
    সন্তান না হওয়ায় পুত্রেষ্টী যজ্ঞ করে তিনি পুত্র সন্তান তাঁরককে লাভ করেন। পার্শবর্তী ছাতড়া গ্রামের পাঠশালায় তিনি শিক্ষা লাভ করেন। তাঁরক গোঁসাই বহু অলৌকিক কর্মের অধিকারী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবার মতো কবিগান রপ্ত করেন এবং পরবর্তীতে কবিগান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
    তিনি কবিগান পরিবেশনের পাশাপাশি কবিতা লিখতেন। তার রচিত প্রায় ৮শ কবিতা রয়েছে। তিনি মতুয়া ধর্ম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ‘হরিলীলামৃত’ গ্রন্থ রচনা করে গেছেন। বাংলা ১৩২১ সালের ফাল্গুন মাসের শিব চতুর্দশী তিথিতে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। জয়পুর পরশ মনি মহাশ্বশানে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
    শ্রী তাঁরক চাঁদ মতুয়া সংঘের কতৃপক্ষ জানান, তাঁরক গোঁসাইয়ের ১০৮তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে ২ দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৮ ফেব্রুয়ারি অধিবাস, ১৯ ফেব্রুয়ারি মহোৎসব, ২০ ফেব্রুয়ারি মীন মহোৎসব। তাঁরক গোঁসাইয়ের ১০৮তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কবিধাম সেজেছে অপরূপ সাজে।
    এ দিকে, লক্ষ্মীপাশাস্থ শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা মন্দিরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রুপক মুখার্জী বলেন, তাঁরক গোঁসাইয়ের ১০৮তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে লক্ষ্মীপাশাস্থ শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা মন্দিরও জয়পুর পরশমনি মহাশ্বশ্মানের অনুরুপ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
    এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য আইনশৃঙ্গলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশা করছি সুন্দরভাবেই অনুষ্ঠান শেষ হবে।

  • ঈদগাঁওতে অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা অস্ত্রসহ গ্রেফতার

    ঈদগাঁওতে অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা অস্ত্রসহ গ্রেফতার

    মোঃ কাউছার উদ্দীন শরীফ ঈদগাঁওঃ

    কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগড়-বাইশারী সড়কে দু’যুবকের অপহরণের ঘটনায় সুমন প্রকাশ সালেক ৩৫ নামে অপহরণকারী চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় একটি দেশীতৈরী অস্ত্র ও তাদের ব্যবহৃরিত সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।

    রবিবার ১৯ ফেব্রুয়ারী রাত ৩ টার দিকে ঈদগাঁও ইউনিয়নের তেতুলতলী এলাকায় থানার পুলিশের অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।আটককৃত যুবক ঈদগাঁও ইউনিয়নের দরগাহ পাড়া এলাকার মৃত গফুর প্রকাশ মদ গফুরের ছেলে বলে জানা গেছে।

    জানা যায়, ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ গোলাম কবিরের নির্দেশনায় এস আই গোলাম মহি উদ্দীনের নের্তৃত্বে এস আই মোঃ জুয়েল সরকার এসআই মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,এসআই মোঃ নোমান সিদ্দিকী এসআই মোঃ সফিকুল ইসলাম,এএস আই মোঃ আব্দুর রহিম এএসআই (নিঃ) মোঃ আব্দুর রশিদ,এএস আই রাসেল কাজী এএস আই (নিঃ) মোঃ শামশুল ইসলাম,এএসআই মোঃ নাজির হোসেন,এএসআই মোঃ রাকিব হোসাইন সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান পরিচালনা বর্ণিত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এবিষয়ে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ গোলাম কবির বলেন,বাইশারী এলাকার দু’যুবক অপহরণের ঘটনায় থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারী চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার অপর সহযোগীরা পালিয়ে যায় অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান।