Blog

  • রামগড়ে আন্তর্জাতিক দু-র্যোগ প্রশমন দিবস পালিত 

    রামগড়ে আন্তর্জাতিক দু-র্যোগ প্রশমন দিবস পালিত 

    এমদাদ খান রামগড় প্রতিনিধি 

    খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়- “ সমন্বিত উদ্যোগ প্রতিরোধ করি দুর্যোগ ” উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল র‍্যালী, আলোচনা সভা ও মহড়া প্রদর্শণ করা হয়।

    ১৩ অক্টোবর সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‍্যালী বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রামগড় পর্যটন পার্ক মাঠে শেষ হয়। র‍্যালীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শামীম এর নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও রা,স,উ,বি এবং রা,বা, উ, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালী ও মহড়া শেষে উপজেলা পরিষদে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী শামীম।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএমএ করিম, কৃষি কর্মকর্তা  সুমন মিয়া, রামগড় ফায়ার সার্ভিসের (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা বিশান্তর বিকাশ বড়ুয়া , রামগড় থানার এসআই নুর উদ্দিন, বা,বা,উ,বি এর প্রধান শিক্ষক কাজী নাজমুল হুদা, রামগড় প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি বাহার উদ্দিন – যুগ্ম- সাধারন সম্পাদক রতন বৈষ্ণব ত্রিপুরা- সদস্য মাসুদ রানা। পরে অতিথি ও শিক্ষার্থীসহ ফায়ার স্টেশনের প্রতিনিধিগণ মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন।

  • রামগড়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চলছে ক-র্মবিরতি

    রামগড়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চলছে ক-র্মবিরতি

    এমদাদ খান রামগড় প্রতিনিধি

    খাগড়াছড়ি’র রামগড়ে সারাদেশের ন্যায় এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ২০% এর দাবীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলা, অপদস্ত ও রক্তাক্তের প্রতিবাদে তৃণমূল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ ১৩ অক্টোবর থেকে চলছে কর্মবিরতি ( ক্লাসবর্জন)। এরই অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি’র রামগড় উপজেলার বিভিন্ন  উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষকরা ক্লাসবর্জনের মধ্যেদিয়ে কর্মবিরতি পালন করছে।

    জানা যায়, দেশের ৩০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত। তারা সরকারি বেতন স্কেলে মূল বেতনের পাশাপাশি মাত্র ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। আর উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের অর্ধেক। শতাংশ হিসেবে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত দাবিতে তারা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাড়িভাড়া ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে আদেশ জারি করে অর্থ বিভাগ। তবে শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে মাঠে রয়েছেন।

    এদিকে – রামগড় উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র শিক্ষক বাহার উদ্দিন এ প্রতিনিধিকে বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের দাবী দাওয়া পুরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসবর্জনসহ সকল কার্যক্রম এবং কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

  • মুন্সীগঞ্জে সদর থানা কমিটিতে আসছে নতুন চমক

    মুন্সীগঞ্জে সদর থানা কমিটিতে আসছে নতুন চমক

    লিটন মাহমুদ।।
    নিজস্ব প্রতিনিধি

    ১৫ই অক্টোবরে বাংলাদেশ জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখার কাউন্সিলর পর পরই মুন্সিগঞ্জ জেলা আওতাধীন সদর থানা কমিটির নতুন চমক আসছে।

    এই নিয়ে বাংলাদেশ জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের মুন্সীগঞ্জ জেলা আওতাধীন সদর থানা কমিটি নিয়ে শহর তথা জেলা জুড়ে আলোচনা চলছে।
    কে হবে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক

  • চারঘাটে স্কুল ছাত্রের আ-ত্মহত্যা

    চারঘাটে স্কুল ছাত্রের আ-ত্মহত্যা

    চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

    রাজশাহীর চারঘাটে মায়ের ওপর অভিমান করে ফাঁসিতে ঝুলে বখতিয়ার (১২) নামের এক স্কুল ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। বখতিয়ার উপজেলার মোক্তারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। রোববার (১২ অক্টোবর) রাত ৯ টার দিকে উপজেলার মোক্তারপুর মন্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকাল ৫ টার দিকে নিহত বখতিয়ার মোক্তারপুর মধ্যপাড়ায় তাঁর বড় বোন দিপ্তির বাড়িতে বেড়াতে যায়। এ নিয়ে তাঁর মা দিলারা বেগম বখতিয়ারকে বকাঝকা করেন। এর পর কোন কিছু না বলে বখতিয়ার মোক্তারপুর মন্ডলপাড়া মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়তে যায়। নামাজ শেষে বাড়িতে এসে নিজ ঘরে অবস্থান করছিল। এশার নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য তার বাবা শরিফুল ইসলাম ডাকতে গেলে দেখে ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। বাবা বার বার ডাকাডাকিতে ছেলের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচিয়ে বখতিয়ারের দেহ ঝুলছে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের সহযোগীতা বখতিয়ারকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। ছেলের এমন মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মা দিলারা বেগমসহ পরিবারের কেউ। বার বার মা মুর্ছা যাচ্ছেন মা।

    বোন দিপ্তি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, কে জানতো আমার বাড়ীতে এই যাওয়ায় আমার ভাইয়ের শেষ যাওয়া। মায়ের ওপর রাগ করে ভাইটি আমার চির বিদায় নিলো। কাকে ভাই বলে ডাকবো।

    বাবা শরিফুল ইসলাম বলেন, কে জানতো মায়ের বকুনি সহ্য করতে না পেরে আমার কলিজা এভাবে সবাইকে কাদিয়ে চলে যাবে।

    চারঘাট মডেল থানার (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

    মোঃ মোজাম্মেল হক
    চারঘাট, রাজশাহী ।।

  • বাগআঁচড়া প্রাইমারি স্কুলের পিছনে ময়লার ভাগাড়, দুর্গ-ন্ধে স্বাস্থ্য ঝু-কিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

    বাগআঁচড়া প্রাইমারি স্কুলের পিছনে ময়লার ভাগাড়, দুর্গ-ন্ধে স্বাস্থ্য ঝু-কিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

    আজিজুল ইসলামঃ যশোরের শার্শার বাগআঁচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে ময়লার স্তুপ গড়ে তোলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ও আবর্জনা ফেলার কারণে তা ময়লার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। ময়লা পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারিদিকে। স্থানীয় লোকজন সহ শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্য রয়েছেন। প্রায় ৫ শতাধিক শিশু বাগআঁচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। স্কুলের একেবারে পিছনেই গড়ে তোলা হয়েছে ময়লার ভাগাড়। প্রতিদিন বাজার ঝাড়ু দিয়ে এখানেই ময়লা ফেলা হয়। এছাড়াও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ ফেলা হয় এখানে। দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ফেলার কারণে এলাকায় পরিবেশ দুষন হচ্ছে।
    বাগআঁচড়া উজ্জ্বল পাড়ার শতাধিক পরিবার ও বিদ্যালয়ের ৫ শ শিক্ষার্থী সম্পুর্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে স্থানীয় চেয়ারম্যানরা ময়লার ভাগাড় স্থানান্তরের কোনো উদ্যোগ নেন নি। ফলে তী্র দুর্গন্ধের মাঝেও শতাধিক পরিবার অনিচ্ছা সত্বেও সেখানে বসবাস করে আসছেন।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন প্রায় দুইযুগ ধরে এখানে আবর্জনা ফেলা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি কেউ ভাবেনি। ভাগাড়ের পাশ দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ নাক টিপে ধরে চলাচল করলেও কেউ কখনো কোথাও অভিযোগ করেননি। বাজারে নির্দিষ্ট কোনো ময়লা ফেলার জায়গা না থাকায় ঝাড়ুদার ও স্থানীয়রা এখানেই নিয়মিত ময়লা ফেলে থাকেন।
    সোমবার দুপুরে বাগআঁচড়া প্রশাসক ও শার্শা উপজেলা পি আই ও জনাব শাহরিয়ার মাহমুদ রনজু এবং বাগআঁচড়া ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাঁন হাসান আরিফ সহ এলাকা বাসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসক শাহরিয়ার মাহমুদ ময়লার ভাগাড় পরিস্কার সহ এর স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন।

  • নদীমাতৃক বাংলার এক ভুলে যাওয়া ঐ-তিহ্যর নাম শাপলা শালুক

    নদীমাতৃক বাংলার এক ভুলে যাওয়া ঐ-তিহ্যর নাম শাপলা শালুক

    কুমিল্লা থেকে তরিকুল ইসলাম তরুন, বাংলাদেশের একসময় বাংলার বিল-হাওর ভরে থাকত এমন এক খাবারে যা ছিল ভাতের বিকল্প?
    যা শুধু খাবার নয়, ছিল গ্রামীণ জীবনের আনন্দ, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি র অংশ?
    হ্যাঁ, সেই ভুলে যাওয়া নামটি হলো— শালুক।

    বাংলাদেশের নদীমাতৃক অঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী খাদ্য একসময় ছিল গ্রামের মানুষের নিত্যসঙ্গী। নিচু অঞ্চলের দোআঁশ ও কাদামাটিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া শালুকের চারটি প্রধান জাত পাওয়া যেত। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সুনামগঞ্জ, মাধবপুর, বৈরব, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নরসিংদীর হাওর ও খালচর অঞ্চলজুড়ে ছিল এই শালুকের প্রাচুর্য— যেন আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত।

    ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক মাস এলেই দেখা যেত বিলে উৎসবের আমেজ। কৃষক ও দামাল ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার ফাঁকে দলে দলে যেত শালুক তুলতে। হাসি-আড্ডায় মুখর হতো চারদিক। তখন শালুক, শাপলা, বেট, উঠা—এসব ছিল গ্রামের ঘরে ঘরে নতুন খাবারের স্বাদ।

    শালুকেরও ছিল নানা জাত— গাইয়্যা, সিন্ধু, রামউঠা সবচেয়ে জনপ্রিয়, আর কিছু প্রজাতি শালুকের মতো দেখতে হওয়ায় তাদের বলা হতো উডা, যেগুলো থেকে হতো শাপলা।

    প্রতিটি শালুকের ওজন প্রায় ৪০–৭০ গ্রাম। এটি সেদ্ধ করে কিংবা আগুনে পুড়িয়ে ভাতের বিকল্প হিসেবে খাওয়া যেত। পুষ্টিগুণে ভরপুর শালুক হজমে সাহায্য করত— গ্রামের মানুষ ভালোবেসে বলত, “শালুক খেলে পেটও খুশি, মনও খুশি।”

    কিন্তু এখন?
    বর্ষার পানি কমে গেছে, বিল শুকিয়ে গেছে, আর সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে শালুকের দিনগুলোও।

    তবুও সব শেষ হয়নি।
    কুমিল্লার মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জে আজও কিছু মানুষ এই হারানো ঐতিহ্যটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। প্রায় বিশ বছর ধরে শালুকের ব্যবসা করছেন আবুল কাসেম, নারায়ণ, দীপ্ত সাহা, আবু মুছা ও সফিকসহ অনেকে।

    তারা সিলেটের সুনামগঞ্জ ও মাধবপুর হাট থেকে বারো মাস শালুক সংগ্রহ করে কুমিল্লার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করেন। পাইকারি দরে কেজি প্রতি ৫০–৮০ টাকা, খুচরায় ১৫০–২০০ টাকা। দীপ্ত সাহা বলেন, “প্রতিদিন ৫০ থেকে ৮০ কেজি শালুক বিক্রি হয়। এই ব্যবসাতেই আমাদের সংসার চলে, আর মনে হয় যেন একটা ঐতিহ্যকেও বাঁচিয়ে রাখছি।”

    আজকের প্রজন্ম হয়তো শালুকের নামও শোনেনি,
    কিন্তু এই মানুষগুলো প্রমাণ করছে—
    যে ঐতিহ্যকে ভালোবাসা যায়, তাকে সময়ের স্রোতও মুছে ফেলতে পারে না।

  • টুঙ্গিপাড়ায় নিজের ক্রয়কৃত জমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে এক মসজিদের ইমামের সংবাদ সম্মেলন

    টুঙ্গিপাড়ায় নিজের ক্রয়কৃত জমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে এক মসজিদের ইমামের সংবাদ সম্মেলন

    কে এম সাইফুর রহমান।।

    গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

    গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিজের ক্রয়কৃত জমি দখলমুক্ত ও ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক মসজিদের ইমাম।

    সোমবার (১৩ অক্টোবর ২০২৫) বেল ১১টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার দাউদকান্দি পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ও শ্রীরামকান্দি উত্তরপাড়ার শেখ জহির উদ্দিন জামে মসজিদের ইমাম মোঃ আজিজুল হক মোল্লা।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ আজিজুল হক মোল্লা জানান, তিনি দাউদকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার নজরুল হক মোল্লার ছেলে। ২০০৫ সালে
    গওহরডাঙ্গা মৌজার ১৪৫ নং খতিয়ান ও ৬১৫ নং দাগে ছুরাত আলী শেখ, হাফেজ আলী, আরব আলী ও তাদের মা খাতুন বিবির কাছ থেকে তিনি পৌনে পাঁচ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে ক্রয় করেন। চুক্তির পর বিক্রেতারা জমিটি তার দখলে দেন।

    এরপর তিনি উক্ত জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন এবং বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছপালা রোপণ করেন। কিছুদিন পর যখন তিনি জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করতে চান, তখন বিক্রেতারা নানা অজুহাতে দলিল দিতে টালবাহানা শুরু করেন।

    তিনি আরও বলেন, তারা আমার কাছ থেকে জমি বিক্রি করার পরও বিভিন্ন সময় আমাকে হয়রানি করতে শুরু করে এবং ওই জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য একাধিক মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে তাদের হয়রানিতে আমি বাধ্য হয়ে কিছুদিনের জন্য জায়গাটি ছেড়ে চলে আসি।

    পরে সরকার ঘোষণা দেয় যাদের বায়না চুক্তি আছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করতে পারবেন, নতুবা তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
    এই ঘোষণার পর আজিজুল হক আদালতে আবেদন করেন। আদালত তার মামলা গ্রহণ করেন।

    কিন্তু এরই মধ্যে বিক্রেতাদের চাচাতো ভাই ইয়াদ আলী একই জমি নিয়ে তার বিপক্ষে মামলা দায়ের করেন। ২০০৭ সালে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। পরে আজিজুল হক আপিল করলে ২০১০ সালে আদালত তার পক্ষে রায় দেন।

    কিন্তু সেখানে থেমে না থেকে, ইয়াদ আলী আবার হাইকোর্টে আপিল করেন, যা ২০১৫ সালে খারিজ হয়ে যায়।
    আজিজুল হকের দাবি, আদালতের একাধিক রায়ে তার মালিকানা প্রমাণিত হলেও ওই পক্ষ গোপনে বাটওয়ারা মামলা করে জমিটি নিজেদের নামে নামজারি করে নেয়।

    এরপর গওহরডাঙ্গা গ্রামের ইমরান শেখ ও ইয়াদ আলী মিলে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় ক্যাডার বাহিনী গঠন করে তার জমি জবরদখল করে নেয়। তারা জোরপূর্বক ওই জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করে তাকে প্রবেশে বাঁধা দেয় বলে অভিযোগ করেন আজিজুল হক।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
    আমি একজন গরিব মানুষ, মসজিদের ইমাম হিসেবে আল্লাহর ঘরে নামাজ পড়াই। আমার কোনো জনবল বা রাজনৈতিক পরিচয় নেই। আদালতের রায় আমার পক্ষে হলেও আমি আমার জমিতে যেতে পারছি না। যারা ক্ষমতার জোরে আমার জমি দখল করেছে, তারা এখন উল্টো আমাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি মামলার রায়ের কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় তিনি চরম হতাশায় ভুগছেন।

    আজিজুল হক মোল্লা বর্তমান সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন,
    যাতে আমি আমার বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি ফেরত পাই। আমি কোনো বেআইনি দাবি করছি না। কোর্টের রায় আমার পক্ষে আছে, তারপরও আমি দখল পাচ্ছি না। আমি চাই সরকার আমাকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করুক।

    সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান, তার জমি যাতে দ্রুত উদ্ধার করে দখল ফেরত দেওয়া হয় এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

  • নলডাঙ্গা উপজেলায় টাইফ-য়েড ভ্যাকসিন এর শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান শিক্ষক রহিদুল ইসলাম

    নলডাঙ্গা উপজেলায় টাইফ-য়েড ভ্যাকসিন এর শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান শিক্ষক রহিদুল ইসলাম

    এ,কে,এম, খোরশেদ আলম
    নাটোর জেলা প্রতিনিধি:

    নলডাঙ্গা উপজেলার ঠাকুর লক্ষীকোল উচ্চ বিদ্যালয়ে টাইফয়েড ভ্যাকসিন এর আনুষ্ঠানিক ভাবে শুভ উদ্বোধন করেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিদুল ইসলাম স্যার। অদ্য সোমবার সকাল ১০ ঘটিকায় নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৪নং পিপরুল ইউনিয়ন, ১নং ওয়ার্ড ঠাকুর লক্ষীকোল গ্রামের ঠাকুর লক্ষীকোল উচ্চ বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে টাইফয়েড ভ্যাকসিন এর শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন
    মিনি আক্তার (AHI) সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক,
    জান্নাতুন ফেরদৌস (FWA) পরিবার কল্যাণ সহকারী, মিরাজ সরকার (সেচ্ছাসেবী) ও শিক্ষকমন্ডলীসহ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী।

    ছাত্র ছাত্রীর সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সকল প্রোগ্রাম সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক রহিদুল ইসলাম স্যার বলেন, টাইফয়েড জ্বর সালমোনেলা টাইফি নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে হয়, যা দূষিত খাবার ও পানীয় গ্রহণের মাধ্যমে ছড়ায়।অস্বাস্থ্যকর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, অনিরাপদ জল এবং অপরিচ্ছন্ন কাঠামোর কারণে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

  • গোপালগঞ্জে স্বামীকে জা-মিনে মুক্ত করতে অসু-স্থ শিশু বাচ্চাকে কোলে নিয়ে দাড়ে দাড়ে ঘুর-ছে স্ত্রী সোনালী বেগম

    গোপালগঞ্জে স্বামীকে জা-মিনে মুক্ত করতে অসু-স্থ শিশু বাচ্চাকে কোলে নিয়ে দাড়ে দাড়ে ঘুর-ছে স্ত্রী সোনালী বেগম

    কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ 

    গোপালগঞ্জে গত ১৬ জুলাই এনসিপি’র সমাবেশকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত মামলায় (গোপালগঞ্জ জি.আর-২৭৮/২৫) অজ্ঞাত আসামী হিসেবে  কারাবন্দী (হাজতী আসামী) অসহায় ও হতদরিদ্র ভ্যানচালক আবু সাঈদ মোল্লা (২৩) কে জামিনে মুক্ত করতে অসুস্থ শিশু পুত্র (৯ মাস বয়সী) হুসাইনকে কোলে নিয়ে দাড়ে দাড়ে ঘুরছেন স্ত্রী সোনালী বেগম। 

    স্ত্রী সোনালী বেগম আক্ষেপ করে গণমাধ্যমকে বলেন, অসহায় দিনমজুর ভ্যানচালক আবু সাঈদ প্রকৃতপক্ষেই একজন ভ্যান চালক। গত ৫ আগস্ট গ্যারেজে ভ্যান ঠিক করার সময় পুলিশ তাকে আটক করে জেলে পাঠায়। সে কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয়-রোজগার হয় তা দিয়ে বয়স্ক অন্ধ মায়ের চিকিৎসা সহ আমি ও আমার তিন শিশু সন্তানের ভরণ পোষণ চালাতো। সে জেলে থাকায় আমাদের সংসার যে কিভাবে চলছে তা আল্লাহ পাক ছাড়া আর কেউ জানেন না। আমার স্বামী আবু সাঈদ জেলে যাওয়ার পরে অর্থাভাবে আমার যমজ দুধের শিশু হাসান গত ৪ অক্টোবর বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। পুজোর বন্ধ থাকায় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ডিসি স্যার ও এসপি স্যারের সহযোগিতায় সে দুই ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাছানের দাফন কাফন ও জানাজায় অংশ নিয়ে 
    পুনরায় কারাগারে ফিরে যায়। বর্তমানে আমার যমজ অপর শিশু বাচ্চা হুসাইন, সেও খুব অসুস্থ। এদিকে পুলিশের দায়ের করা মামলায় আমার স্বামী অজ্ঞাত আসামী হিসেবে জেল হাজতে রয়েছে। আমার কাছে তেমন কোন টাকা-পয়সা নেই যে আমি হাইকোর্টে গিয়ে স্বামীকে জামিনে মুক্ত করে আনবো। গোপালগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, জর্জ কোর্ট সব জায়গা ঘুরেছি  গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ স্যারের আদালতে (ক্রিঃ মিস কেস নং- ১৩৭৫/২০২৫) ধার দেনা ও অনেক কষ্ট করে জমিনের জন্য আবেদন করেছিলাম। স্যারেরা আমার স্বামীকে জামিনে মুক্তি দিলো না। আমার স্বামীতো এজাহারভুক্ত আসামীও নন। সাক্ষ্য প্রমাণে সে যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে সরকার তাকে যে শাস্তি দেওয়ার দিবে। তাতে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু এখন যদি তাকে দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা না করে সরকার তাহলে আমার নিষ্পাপ দুধের বাচ্চা হুসাইন এবং আমার অন্ধ শাশুড়িকে বাঁচানো কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, মাননীয় আইন উপদেষ্টা ও মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, মাননীয় প্রধান বিচারপতি স্যার সহ রাষ্ট্রের নিকট আমার স্বামীকে দ্রুত জামিনে মুক্ত করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। 

    এ বিষয়ে ভ্যান চালক (হাজতী আসামী) আবু সাঈদ মোল্লার আপন বড় ভাই রবিউল মোল্লা 
    তার নয় (০৯) মাস বয়সী ভাতিজা হাসান মোল্লার মৃত্যুর সংবাদে প্যারোলে দুই ঘন্টার জন্য মুক্তি দেওয়ায় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ে প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেই সাথে তিনি 
    সরকারের নিকট দ্রুত তার ভাইকে জামিনে মুক্ত করে দিতে অনুরোধ জানান। 

    উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জে গত ১৬ জুলাই এনসিপি’র সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (নিঃ) আহমেদ আলী বিশ্বাস (বিপি- ৮৬১৩১৫৬০৩৩) কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভুক্ত ৭৬ জন সহ অজ্ঞাত ৪৫০/৫০০ জনের বিরুদ্ধে (গোপালগঞ্জ সদর থানা মামলা নং-১৫/২৭৮, তারিখঃ ১৭/০৭/২০২৫ ইং – ধারা – ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী নিয়ন্ত্রণ আইন -এর ৬/৭/১০/১১/১২/১৩ তৎসহ পেনাল কোড ১৮৬/৩৩২/৩৩৩/ ৩৫৩/৪২৭/৪৩৬/৫০৬ ধারা মামলা রুজু হয়। উক্ত মামলায় পুলিশ আবু সাঈদকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

  • সেনবাগে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত হলেন নি-র্যাতিত নেতা আবদুল খালেক

    সেনবাগে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত হলেন নি-র্যাতিত নেতা আবদুল খালেক

    রফিকুল ইসলাম সুমন (নোয়াখালী)

    আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ,নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত হলেন কারা নির্যাতিত বিএনপি নেতা আবদুল খালেক। তিনি সেনবাগ উপজেলার ৪নং কাদরা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড (নিজ সেনবাগ) বিএনপির বর্তমান সভাপতি। আগামীর পথচলায় কারা নির্যাতিত বিএনপি নেতা আবদুল খালেক সকলের নিকট দোয়া ও দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।