Blog

  • পীরগঞ্জে  শীতার্তদের পাশে আমেরিকা প্রবাসি

    পীরগঞ্জে শীতার্তদের পাশে আমেরিকা প্রবাসি

    পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ঃ “আসুন শীতার্ত দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াই” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে পীরগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষন একাডেমী এবং বি.সি.ই। বুধবার বিকেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমেরিকা প্রবাসীর অর্থায়ণে পীরগঞ্জ পৌর শহরের তরিকুল টাওয়ারে বি.সি.ই কার্যালয়ে এ সব শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
    এ সময় পীরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবুল, সাবেক সভাপতি মেহের এলাহী, সহ- সভাপতি বুলবুল আহম্মেদ, সাধারন সম্পাদক নসরতে খোদা রানা, সৈয়দপুর সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক আসাদুজ্জামান আসাদ, কারিগরি প্রশিক্ষন একাডেমীর পরিচালক নুরন নবী রানা, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি বিষ্ণুপদ রায়, উপজেলা জাপার যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজল হক হিরা, পীরগঞ্জ অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি বাদল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু তারেক বাঁধন সহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

    এন এন রানা
    পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

  • ধামইরহাটে অমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    ধামইরহাটে অমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    আবুল বয়ান, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

    নওগাঁর ধামইরহাটে অমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন ধামইরহাট এপি’র সহযোগিতায় সাবুবুর রহমান সাবুর সঞ্চালনায় ১৭ জানুয়ারি বুধবার বেলা ১১ টায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম। শিক্ষার মান উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা খাতুন। আরও বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরদার, ওয়ার্ল্ড ভিশন প্রোগ্রাম অফিসার নাথন চৌকিদার প্রমূখ। বিদ্যালয়ে চলাচলের কর্দমাক্ত রাস্তা সংস্কার চেয়ে অভিভাবকের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ফাইমা খাতুন ও রবিউল ইসলাম। এর প্রেক্ষিতে সরকারি বরাদ্দ সাপেক্ষে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা খাতুন।

    আবুল বয়ান
    ধামইরহাট নওগাঁ প্রতিনিধ

  • লক্ষ্মীপুরে গুলি ও  বিদেশি পিস্তলসহ দুই বন্ধু পুলিশের হাতে আটক

    লক্ষ্মীপুরে গুলি ও বিদেশি পিস্তলসহ দুই বন্ধু পুলিশের হাতে আটক

    লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ঃ
    লক্ষ্মীপুরে গুলি ও বিদেশি পিস্তল বিক্রি করতে এসে ফরহাদ হোসেন ফাহিম (২৩) ও হাছান গাজী শাকিল (২২) নামে দুই যুবক আটক হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের চরমন্ডল গ্রাম থেকে পুলিশ তাদের আটক করে।

    আটক ফাহিম রামগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে ও শাকিল চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের জাহাঙ্গীর গাজীর ছেলে।

    পুলিশ জানায়, আটক ফাহিম অস্ত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থল আসে। শাকিল পিস্তলটি বিক্রি করিয়ে দেবে বলে তাকে নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে তারা বিষয়টি স্বীকার করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করা হয়।

    লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, পিস্তলটি বিক্রির উদ্দেশ্যে আটক যুবকরা ঘটনাস্থল আসে। তাদেরকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • রংপুরে হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’র কম্বল বিতরণ

    রংপুরে হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’র কম্বল বিতরণ

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি
    তীব্র শীতে কাঁপছে সারা দেশব্যাপী অসহায় হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষ। উত্তরাঞ্চলে একটানা শীতের প্রকোপে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ছিন্নমূল মানুষ। শীতজনিত রোগের প্রকোপও বেড়ে গেছে। সূর্যের দেখা মেলেনি বেশ ক’দিন ধরেই, ঘন কুয়াশায় ঢাকা আকাশ। ফলে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা চড়ম আকার ধারণ করেছে। এদিকে আবহাওয়া অফিস বলছে এই অবস্থা চলবে এমাস জুড়েই। দেশব্যাপী অসহায় হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের পাশে সমাজের সকল বিত্তবান সহ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সদস্যদের প্রতি সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক ফরিদ খান। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৭ জানুয়ারী ২০২৪ ইং বুধবার বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রংপুর বিভাগ, জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে দ্বিতীয় বারের মতো অসহায় হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ রংপুর টাউনহল চত্বরে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এরই ধারাবাহিতায় ১৭ জানুয়ারি বুধবার আবারও দ্বিতীয় বারের মতো রংপুর মহানগরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে হত দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রংপুর বিভাগীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক এনামুল হক স্বাধীন, মহানগর শাখার সভাপতি জুয়েল মাজহারুল, সহ সভাপতি শফিকুল ইসলাম সাগর সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল ইসলাম প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান সহ সংগঠনের অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।
    সকল বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়ে রংপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান মুন বলেন, সমাজের অর্থশালী মানুষ যদি এই মানবিক কাজে সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসেন তাহলে আমাদের এই সোনার বাংলায় কোন হত দরিদ্র মানুষ শীতে বা ক্ষুদার জ্বালায় কষ্ট পাবেনা। সবার সহযোগীতা পেলে এমন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। মোঃ শফিকুল ইসলাম সাগর, মহানগর শাখার সহ-সভাপতি বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। তাই আমাদের সকলের এই সমাজে বাস করা হত দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো দরকার। মহানগর শাখার সভাপতি মাজহারুল জুয়েল বলেন, সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডে সকলের সহযোগীতায় অনেক অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
    দশের লাঠি একের বোঝা উল্লেখ করে,
    বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এনামুল হক স্বাধীন বলেন, এরকম মহৎ কাজে সমাজের সকল বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিৎ।

  • নড়াইলে কারামুক্তদের পুনর্বাসন করতে সেলাই মেশিন,ভ্যান প্রদান

    নড়াইলে কারামুক্তদের পুনর্বাসন করতে সেলাই মেশিন,ভ্যান প্রদান

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি//

    নড়াইলে কারামুক্ত কয়েদী ও প্রবেশনে মুক্তিপ্রাপ্তদের পুনর্বাসন করতে সেলাই মেশিন,ভ্যান ও কাঁচামাল প্রদান করা হয়েছে। আয়বর্ধক উদ্যোগের অংশ হিসেবে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, বুধবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসন ও প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়, নড়াইলের আয়োজনে অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির উদ্যোগে সুবিধাভোগীদের মাঝে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
    কারামুক্ত ২কয়েদী ও প্রবেশনে মুক্তিপ্রাপ্ত ৭ জনের মধ্যে ৫ জন নারীকে ৫টি সেলাই মেশিন, ২ জনকে কাঁচামাল ব্যবসায়ের জন্য ১০ হাজার টাকা মূল্যের আলু, রসুন, পিয়াজসহ কাঁচামাল সামগ্রী ও ২ জন কারামুক্তকে ২টি প্যাডেলভ্যান প্রদান হয়।
    জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে পুনর্বাসন সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমাতুল মোর্শেদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) শাশ্বতী শীল, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রতন কুমার হালদার,জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা বাপ্পী কুমার সাহা, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ সুজাউদ্দিন, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও এপিপি অ্যাডভোকেট আলমগীর সিদ্দিকী, এপিপি অ্যাডভোকেট সঞ্জিব কুমার বসুসহ সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

    দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলী।। একটা সময় এ দেশের মানুষকে বলা হতো মাছে-ভাতে বাঙালি। সে সময় গ্রামাঞ্চলোর জলাশয়গুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। বাড়িতে যদি ভাত নাও থাকত, তবুও মাছের কমতি ছিল না। অনেকের এমনও দিন গেছে যে, ভাত না খেয়ে শুধু মাছ খেয়ে থাকতে হয়েছে তাদের। মৎস্য আহরণ ছিল সহজ ব্যাপার। সেই সময় প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যেত। আজ আমরা এসব মাছ খুব বেশি দেখতে পাই না। যদিও কালেভদ্রে দেখা যায়, সেগুলোর অধিকাংশই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। ফলে দেশি মাছের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না।

    নদী মাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদী, খাল-বিল-নালা, পুকুর ডোবা, হাওর-বাঁওড়, ধানক্ষেত, পানিবদ্ধ বিলগুলো হচ্ছে- দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রধানতম উৎস। এসব উৎস ধ্বংস, অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং নানাভাবে পরিবেশ দূষণের ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। ট্যাংরা, টাকি, চান্দা, মহাশোল, সরপুঁটি, টাটকিনি, বাগাড়, রিটা, পাঙাশ আর চিতল এসব মিঠা পানির মাছের প্রজাতিগুলো চরম হুমকিতে রয়েছে। গত কয়েক দশকে বেশ কয়েক প্রজাতির পরিচিত দেশীয় মাছ এখন আর বাজারে দেখা যায় না। বর্তমানে দেশের ১১৮ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে বিলুপ্ত প্রায় মিঠা পানির মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৬৪টি।
    গত কয়েক দশক ধরে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলাশয়গুলোর আয়তনে সংকোচন, নদী-নালা, খাল-বিল, ডোবার পানির অপরিমিত ব্যবহার, ডোবা-নালা ভরাট করা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশকে পানির দূষণ এবং অপরিকল্পিতভাবে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে মাত্রাতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের সংখ্যা অনেক কমছে। গত কয়েক বছরে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    বর্তমান প্রজন্ম আজ অনেক দেশি জাতের মাছের কথা ভুলে গেছে। তাদের সঙ্গে যখন দেশি মাছের কথা আলোচনা করা হয়, তখন তারা এমন ভাব করে যেন নামগুলো এই প্রথম শুনছে।
    এখন প্রশ্ন হলো, কিভাবে এই মাছগুলো বিলুপ্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে? আসলে এই মাছগুলো এমনি এমনি বিলুপ্ত হচ্ছে না, বরং বিলুপ্ত করা হচ্ছে। আজ আমরা অধিক ফলনের আশায় জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করছি। এসব কীটনাশক বৃষ্টির পানির মাধ্যমে খাল ও বিলে গিয়ে পৌঁছায়। এর ফলে ওইসব খাল-বিলের মাছ মরে যায়। অন্যদিকে অনেক মাছ ডিম ফুটে বাচ্চা বের করার সময় আহরণ করা হচ্ছে। এর ফলে ওই মাছগুলো ডিমসহ ধরা পড়ছে। এভাবে মাছ ধরার কারণে অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অতি মাত্রায় পোনা মাছ আহরণ করা হয়, যার ফলে ওই মাছগুলো নিশ্চিত বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে। তাই মানুষকে এভাবে মাছ আহরণ থেকে বিরত রাখা সময়ের দাবি।

    দেশি মাছ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসা উচিত। ইতোমধ্যে কিছু দেশি প্রজাতির মাছ গবেষণার মাধ্যমে বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা গেছে। অন্য যেসব মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে, সেসবও রক্ষার পদক্ষেপ নিতে হবে। মাছ আমাদের অন্যতম সম্পদ। পৃথিবীতে মাছ উৎপাদনে আমরা বিশেষ স্থান অধিকার করে আছি। এ ধারা ধরে রাখতে হবে। বিশেষ করে আমাদের দেশি প্রজাতির মাছের উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে বেশি। গবেষকরা এ ব্যাপারে অবদান রাখতে পারেন। সরকারকেও এ কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
    বাংলাদেশে প্রায় বিলুপ্তির পথে ১০০ প্রকারের বেশি দেশীয় মাছ থাকলেও এখনো কোন মাছকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়নি আইইউসিএনের এ সংক্রান্ত নিয়মটি হচ্ছে, সর্বশেষ কোন একটি প্রজাতির মাছের দেখা পাবার পর পরবর্তী ২৫ বছরে যদি সেই প্রজাতির অস্তিত্বের কোন প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে সেটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক হোসেন বলছিলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে নান্দিল নামে এক সময় একটি মাছ দেখা যেত, কিন্তু গত ২০ বছরে সেটির অস্তিত্বের কোন প্রমাণ দেখা যায়নি। আবার সিলেট অঞ্চলের পিপলা শোল নামে একটি মাছ দেখা যেত, যা এখন আর দেখা যায় না। গত ১০ বছরে দেখা যায়নি এই মাছ। “দেখা যায়নি, কিন্তু তবু বিলুপ্ত ঘোষণা করার আগে আরো কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। “যদি এর মধ্যে বিপন্ন মাছেদের অস্তিত্বের ব্যপারে কোন তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে হয়ত আইইউসিএনের পরবর্তী জরিপে এগুলোর ব্যপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থাকতে পারে।”

    আইইউসিএনের ২০১৫ সালের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী কয়েকটি শ্রেণীতে মোট ৬৪ প্রজাতির মাছকে রেড লিস্ট বা লাল তালিকাভুক্ত করেছে, এর মানে হচ্ছে এসব প্রজাতির মাছ হয় প্রায় বিলুপ্ত, মহাবিপন্ন ও বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

    ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘আপডেটিং স্পেসিস রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রকল্পের অধীনে এই তালিকা করা হয়। এ সংক্রান্ত প্রথম জরিপটি হয়েছিল ২০০০ সালে, সে সময় ৫৪টি প্রজাতিকে রেড লিস্টভুক্ত করা হয়েছিল। জরিপে মূলত স্বাদু পানির এবং আধা লোনা পানির মাছকেই গণনায় ধরা হয়েছিল।

    বাংলাদেশে বিপন্ন মাছের মধ্যে রয়েছে—পাঙ্গাস, দারি, ককসা, টিলা বা হিরালু, টিলা ককসা, রানি বা বউ মাছ, বেতাঙ্গি, বেটি বা পুতুল মাছ, কালা বাটা, ঘর পোয়া, ঘর পইয়া, ঘোড়া মাছ, এলানগা, কচুয়া পুটি, বোল, চিতল, গজার, টেংরা, রিটা, গাঙ্গিনা বা চাকা মাছ, বট শিং, ঘাউড়া, সাল বাইম। এছাড়া সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে বাও বাইম, চাপিলা, গুতুম, পুঁইয়া, পিয়াসি, জারুয়া বা উট্টি, ছেপ চেলা, গোফি চেলা, বাটা মাছ, নারু মাছ বা গনিয়া, কাচকি, ফলি, শিল বাইলা, বেলে, শিং, আইড়, বোয়াল, তেলি, কুইচ্চা মাছ, বামোস মাছ।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা বলছেন, মাছের প্রজাতি হারিয়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে তিনি প্রথমেই জলাশয় কমে যাওয়াকে দায়ী করেন। “শহর ও গ্রাম দুইখানেই নদী-খালসহ সব ধরণের জলাশয়ের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ কমার সঙ্গে দিনে দিনে কমছে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছের পরিমাণও। “কেবল দেশী জাত ও স্বাদের মাছই নয়, এর সঙ্গে কচ্ছপসহ নানা ধরণের জলজ প্রাণী ও সরীসৃপের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।” সেই সঙ্গে রয়েছে জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, যা বৃষ্টিতে ধুয়ে খাল বিলসহ জলাশয়গুলোতে পড়ে। এর ফলে মাছের মৃত্যু ও প্রজনন হার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আছে কলকারখানার বর্জ্য নিকটস্থ জলাশয়ে ফেলা হয়, তার ফলেও মাছ মরে যায়, বলেন মিজ ফাতেমা। এর সঙ্গে অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, প্রজনন মৌসুমে প্রজনন-সক্ষম মাছ ও পোনা ধরা, কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং মাছের আবাসস্থল ধ্বংস করাকেও কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, বাংলাদেশ মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক হোসেন জানিয়েছেন, বিদেশী মাছের চাষের কারণেও দেশী প্রজাতির মাছ কমে গেছে।
    দেশের বাজারে এক সময় দেশীয় চাষের মাছের আধিক্য দেখা যেতো। “ধরুন এখানে তেলাপিয়া, কার্পজাতীয় মাছ আনা হয়েছে, আবার এক সময় আফ্রিকান মাগুর আনা হয়েছিল। কয়েক বছর আগে আনা হলো পিরানহা–এগুলো দেশী মাছের খাবার ও বাসস্থল দখল করতো। অনেক সময় দেশী মাছ খেয়ে ফেলতো কোন কোন বিদেশী প্রজাতি।” যদিও পরে আফ্রিকান মাগুরের চাষ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তারপরেও বিদেশী মাছের প্রজাতির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে না পেরে অনেক মাছ কমে গেছে। বাংলাদেশে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছের হার কমে যাবার প্রেক্ষাপটে গত দুই দশকে কৃত্রিম প্রজনন ও চাষের মাধ্যমে মাছের সরবারহ বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর সাড়ে ৪২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি মাছ উৎপন্ন হচ্ছে।

    মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক মানুষ এর মধ্যে নদী, বিল ও হাওরসহ উন্মুক্ত জলাশয় থেকে ২৫ শতাংশ, পুকুর, ডোবার মত বদ্ধ জলাশয় থেকে ৫৭ শতাংশ এবং বাকি অংশ সমুদ্র থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে ৮ লাখ হেক্টর বদ্ধ জলাশয়ে মাছ চাষ হয়। বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিসের কর্মকর্তা বলরাম মহালদার জানিয়েছেন, কৃত্রিম প্রজনন ও চাষের মাধ্যমে বাজারে চাহিদা আছে এমন মাছই বেড়েছে। “কিন্তু বাজারে চাহিদা কম এমন মাছ তো চাষ করছে না কেউ, ফলে সেগুলোর অস্তিত্ব সংকট আগের মতই থাকছে। যেমন খলিশা, চাপিলা, মেনি, ফলি, বাও বাইম, গুতুম, কুইচ্চা মাছ, বামোস ইত্যাদি ধরণের মাছ দেখতে পাবেন না।”

    “এখন বাজারে পাবদা বা গুলশা মাছ বা পাঙ্গাস পাবেন আপনি, সেগুলোর চাহিদা আছে। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক না হলে, বিপন্ন মাছের ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।” তবে ফসলি জমি নষ্ট করে দেশে মাছ চাষ করা নিয়ে পরিবেশবাদীদের এক ধরণের বিরোধিতাও রয়েছে।

    তাদের পরামর্শ বিদ্যমান নদী ও পুকুরগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তবে, সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যদিও এখন কৈ, শিং, পাবদা, মাগুর, সর পুটি, চিতলসহ বেশ কয়েকটি প্রজাতির মাছ সহজলভ্য হয়েছে, কিন্তু সেই সব মাছের স্বাদ আগের মত নয়।

    বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে বেশ কয়েক প্রজাতির পরিচিত দেশীয় মাছ বাজার থেকে ‘প্রায় নেই’ হয়ে গেছে। প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন বলছে, এর মধ্যে ‘প্রায় বিলুপ্ত’ হবার পথে বাঘাইর, পিপলা শোল বা বাক্কা মাছ, মহাশোল, নান্দিলা মাছ, চান্দা, ভাঙ্গান বাটা, খরকি মাছ, কালো পাবদা, চেনুয়া মাছসহ বেশ কিছু মাছ রয়েছে।

    ময়মনসিংহে বাংলাদেশের একমাত্র মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক মোস্তফা আলী রেজা হোসেন জানিয়েছেন, এই মুহুর্তে দেশের ১১৮ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। “আইইউসিএন বাংলাদেশের বিপন্ন প্রাণীর তালিকা করার জন্য দুটি জরিপ চালিয়েছিল, ২০০০ সালে প্রথম জরিপে ৫৪ প্রজাতির মাছ বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এরপর ২০১৫ সালে সর্বশেষ জরিপে তাতে আরো ৬৪ প্রজাতির মাছ যুক্ত হয়।”

    এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছর পর মাছের প্রচন্ড আকাল দেখা দেবে।
    সাধারণত জৈষ্ঠ মাসের মধ্য থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্য পর্যন্ত সকল প্রকার দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন মৌসুম। জৈষ্ঠ মাসের মধ্যকালে প্রথম বৃষ্টির পর থেকেই এসকল সাদুপানির মাছ ডিম ছাড়া শুরু করে। যা চলে শ্রাবণ মাসের মধ্য পর্যন্ত। বৃষ্টির পরপরই যখন বিভিন্ন জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, তখন নদ-নদী, খাল-বিল-নালা, হাওড়-বাওড়, ধান ক্ষেতসহ জলাবদ্ধ বিলগুলো জলাজমির সাথে মিশে যায় এবং তখন মুক্ত জলায়শয়ে থেকে ছড়িয়ে যায় মাগুর, শিং, কৈ, টাকী, শৈল, গজাল, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, সরপুঁটি, খলিসা, মলা, বাইন, বোয়াল, গলদা চিংড়ি মাছ। আর তখনই স্থানীয় জনগণ অনুমোদিত ঝাকি জাল, চর পাটা জাল, বেবদি জাল, কারেন্ট জাল, চাইঁ, বরশি, টোটা, কোচ, বর্সাসহ বিভিন্ন রকম হাতে বানানো ফাঁদ পেতে মাগুর, শিং, কৈ, টাকী, শৈল, গজাল, পাবদা, টৈংরা, পুঁটি, সরপুঁটি, খলিসা, মলা, বাইন, বোয়াল, গলদা চিংড়ি এসকল প্রজাতির মাছ নিধন করতে থাকে। যার মধ্যে অধিকাংশ থাকে ডিম ছাড়ার পর্যায়ের ‘মা মাছ’। এসব মা মাছ দেদারসে মারার ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ব্যহত হচ্ছে এবং দিন দিন কমে যাচ্ছে।
    তবে এর বিপরীত চিত্র রয়েছে মৎস্য চাষে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, পুকুর ডোবা বা বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য চাষে গত এক দশকে বিপ্লব ঘটেছে। গত এক দশকে কৃষিপণ্য হিসেবে মাছের উৎপাদন তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রায় বিলুপ্তির মুখ থেকে ফিরে এসেছে এমন দেশি মাছের সংখ্যাও এখন বাড়ছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওয়াহিদা হক বলেন, দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। এর জন্য প্রধানত দায়ী হচ্ছে দেশীয় মাছের উৎস নদী-নালাসহ বিভিন্ন জলাশয় কমে যাওয়া। শহর- গ্রাম সবখানেই নদী-খালসহ সব ধরনের জলাশয়ের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ কমার সঙ্গে দিনে দিনে কমছে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছের পরিমাণও। কেবল দেশী জাত ও স্বাদের মাছই নয়, এর সঙ্গে কচ্ছপসহ নানা ধরনের জলজ প্রাণী অস্তিত্ব হুমকিতে পড়েছে।

    দ্বিতীয়ত কারণ হচ্ছে জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, যা বৃষ্টিতে ধুয়ে খাল-বিলসহ জলাশয়গুলোতে পড়ে। এর ফলে মাছের মৃত্যু ও প্রজনন হার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া কলকারখানার বর্জ্য নিকটস্থ জলাশয়ে মিশে এর ফলেও মাছ মরে যায়। এর সঙ্গে রয়েছে অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, প্রজনন মৌসুমে প্রজনন-সক্ষম মাছ ও পোনা ধরা, কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং মাছের আবাসস্থল ধ্বংস করাকেও কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন সংশ্লিষ্টরা।

    লেখক : প্রধান শিক্ষক, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।
    সহঃ সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী জেলা শাখা,
    রাজশাহী।

  • নড়াইল সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে  খালিশপুর থেকে চোরাই সিএনজি উদ্ধার

    নড়াইল সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে খালিশপুর থেকে চোরাই সিএনজি উদ্ধার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে//

    নড়াইল সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোরাই সিএনজি উদ্ধার। নড়াইল সদর থানার মামলা নং-১০, ধারা-৩৭৯ পেনাল কোড এর চুরি যাওয়া একটি সিএনজি মন্গবার (১৬ জানুয়ারি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার, নড়াইল দিক নির্দেশনায়, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ, সদর থানা, নড়াইল এর নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ শাহ আলম সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কেএমপি খুলনা খালিশপুর থানাধীন আইডিসি রেড ক্রিসেন্ট শ্রমিক অফিসের সামনে থেকে চুরি যাওয়া উক্ত সিএনজি উদ্ধার করেন।

  • ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে ব্যাহত উপকূলের পাইকগাছার জীবনযাত্রা

    ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে ব্যাহত উপকূলের পাইকগাছার জীবনযাত্রা

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা)।।
    পাইকগাছায় ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে ব্যাহত উপকূলের জীবনযাত্রা। মাঘের তীব্র শীতে পাইকগাছাসহ উপকূল এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।শীত জেকে বসেছে প্রকৃতিতে। ফলে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে প্রাণীকূল। রাত থেকে ঘন কুয়াশায় প্রকৃতি ঢাকা পড়ছে। ভোরবেলা যেন ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে। ভোর যেন হয়েও হয় না। সূয্যের আলো দেখা যায় না। সকাল ১১ টার পর সূর্যের ক্ষিন আলো প্রকৃতির উপর আচড়ে পড়তে শুরু করে।কোন কোন দিন সূর্যের আলোও দেখা যাচ্ছে না। ঘন কুয়াশার কারণে প্রতিদিনের কাজকর্ম কিছুটা দেরিতে শুরু হচ্ছে। এতে করে শ্রমজীবি মানুষের কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ায় আয় রোজগার তেমন হচ্ছে না। তাতে সংসারে টানাটানি লেগে আছে। শৈত প্রবাহের বিশেষ করে দরিদ্র ও শ্রমজীবি মানুষ বেশি দূর্ভোগ পোয়াচ্ছেন। আর শীতের বেলা ছোট হওয়ায় সাথে কাজ করে তো এগোনই যাচ্ছে না। সে কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
    মাঘ মাস শুরু হওয়ার পর থেকে তীব্র শীত আর কূয়াশার গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে মানুষ কাবু হয়ে পড়েছে।বিকেলের আলো থাকতেই কুয়াশা শুরু হচ্ছে। রাত বাড়তেই ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে প্রকৃতি। রাত ১১ টার পর থেকে বৃষ্টি পড়ার মতো কুয়াশা পড়া গাছের পাতার পানি পড়তে থাকে সকাল পর্যন্ত। ঘন কুয়াশায় রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহন হেডলাইট চালিয়ে চলাচল করছে। নদীতে ট্রলার নৌকা সহ নৌ জাহান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ঘন কুয়াশায় খেয়া পারাপারে যাত্রীরা বিড়ম্বনার পড়ছে। এতে করে তারা কর্মস্থানে পৌছাতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার প্রভাবে শিশু ও বৃদ্ধরা স্বর্দি জ্বরে,নিউোনিয়া,শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শ্বাস কষ্টের রোগীদের কষ্ট বেড়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়েই রোগ বালাই বাড়ছে।সকাল-বিকাল বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে তীব্র শীতে উষ্ণতা পেতে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে পাইকগাছা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার জানান, শীত ও কুয়াশার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। বেশী প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়া ভাল, গরম কাপড় ব্যবহার করতে হবে এবং ঠান্ডা পানিতে গোসল করা যাবে না। কুয়াশার মধ্যে গরম কাপড় ব্যবহার করে সাবধানে চলাচল করতে হবে।
    তীব্র শীত আর কুয়াশার প্রভাবে শাক সবজি সহ কৃষি কাজ কর্মের উপর প্রভাব পড়েছে। কুয়াশার কারণে আলু ক্ষেত, পান ও বোরো বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। পান গাছ থেকে পান হলুদ হয়ে ঝরে পড়ছে, এতে করে পান চাষীরা ক্ষতি শিকার হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অসিম কুমার দাশ জানান, ঘন কুয়াশায় শাক সবজির কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। বোরো ধানের বীজতলার চারা বড় হয়ে যাওয়ায় তেমন একটা ক্ষতির সম্ভবনা নেই। তবে রোপনকৃত বোরো ক্ষেতের চারা সূর্যের আলো ঠিকমত না পাওয়ায় খাদ্য তৈরী করতে পারছে না। এতে করে চারা হলুদ বর্ণ ধারণ করছে। এব্যাপারে কৃষকদের তীব্র শীতের মধ্যে বোরো চারা রোপন করতে নিষেধ করা হয়েছে। শীত একটু কমলে বোরো আবাদ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ব্লকে কৃষি অফিসের মাধ্যমে কুয়াশার প্রভাব থেকে সবজি ক্ষেত ও বোরো ক্ষেত কুয়াশার প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন প্রকার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সোহেল

    উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সোহেল

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে উপজেলা যুবলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও দেওপাড়া ইউনিয়নের (ইউপি) সফল চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
    স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, তরুণ, মেধাবী পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ সম্পন্ন রাজনৈতিক নেতা বেলাল উদ্দিন সোহেল। তিনি দলীয় মনোনয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দীতার ইচ্ছে প্রকাশ করে নির্বাচনের প্রস্ত্ততি নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন, সামাজিক,সাংস্কৃতিক খেলাধুলা ও সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ডে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
    জানা গেছে, উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে তরুণ, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ ও মেধাবী নেতৃত্ব হিসেবে তার একটা নিজ্বস্ব ব্যক্তি ইমেজ রয়েছে। এদিকে ভোটারদের অধিকাংশ তরুণ,এসব ভোটারদের মানসিকতা ও পচ্ছন্দ বিবেচনা করে তরুণ নেতৃত্ব বেলাল উদ্দিন সোহেলকে নির্বাচনে প্রার্থী করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য সবকিছু তার অনুকুলে রয়েছে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হলে তার বিজয়ের সম্ভবনা অত্যন্ত উজ্জল বলে মনে করছে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। তৃণমূলের অভিমত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল তাকে নিয়ে নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের পরম আশাবাদি করে তুলেছে। উপজেলা জুড়েই তার ব্যাপক সামাজিক পরিচিতি রয়েছে এবং বাল্যকাল থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত।
    এদিকে বেলাল উদ্দিন সোহেল জনসাধারণের কাছে অঙ্গীকার প্রকাশ করে বলেছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তিনি তার সকল যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে সাংসদের সহযোগিতায় উপজেলার অবহেলিত জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবেন। তার পরিবারের সকলেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, মূত্যুর আগে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য এমন কিছু করে যেতে চান। মৃত্যুর পরেও মানুষ যেনো তাকে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন।
    স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণের
    অভিমত, এসব বিবেচনায় আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে তিনি প্রার্থী হলে তার বিজয় প্রায় নিশ্চিত।
    তাকে একজন যোগ্য ও শক্ত প্রার্থী বলে বিবেচনা করছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, তারা চান নৃতৃত্বের বিকাশ ঘটুক। তিনি বলেন, সেই বিবেচনায় এবার তারা তরুণ নেতৃত্ব বেলাল উদ্দিন সোহেলকে বেছে নিয়েছেন।#

  • বাবু স্বর্গীয় চাইহ্লাপ্রু চৌধুরী শিক্ষা বৃত্তি ২০২৪

    বাবু স্বর্গীয় চাইহ্লাপ্রু চৌধুরী শিক্ষা বৃত্তি ২০২৪

    মোঃ শহীদ উল্যাহ
    জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি।

    অদ্য ১৭ জানুয়ারী ২০২৪ ইং খাগড়াছড়ি পান খাইয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বর্গীয় বাবু চাইহ্লাপ্রু চৌধুরী শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মংক্যচিং চৌধুরী সন্মানিত সদস্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। বিশেষ অতিথি জনাব ক্যজরী মারমা সন্মানিত সদস্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব মোঃ ইদ্রিস ইউআরসি কর্মকর্তা জনাব রিন্টু চাকমা ও স্বর্গীয় বাবু চাইহ্লাপ্রু চৌধুরীর সুযোগ্যপুত্র ডাঃ ক্যথোয়াই চৌধুরী প্রমুখ ।
    স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জনাব নুনুপ্রু মারমা প্রধান শিক্ষক পান খাইয়া পড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষা বৃত্তির এ আয়োজন এর সাথে প্রাক প্রাথমিক ছাত্র ছাত্রী দের বরণ ও মা সমাবেশ সহ আজকের আয়োজন ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও চমৎকার। বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে ছাত্র ছাত্রী দের মধ্যে নগদ অর্থ শিক্ষা সামগ্রী ও ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। স্বর্গীয় বাবু চাইহ্লাপ্রু চৌধুরী ছিলেন একজন ভালো শিক্ষানুরাগী। এই মহান ব্যক্তির ঐকান্তিক ইচ্ছা ও ভূমি প্রদানের মাধ্যমে ১৯৫৩সালে এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আগামীতে এ শিক্ষা বৃত্তিকে বড় পরিসরে আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।