Blog

  • পীরগঞ্জে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

    পীরগঞ্জে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

    পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাও) প্রতিনিধি ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে “চলবো মোরা এক সাথে, জয় করবো মানবতার” শ্লোগানে উজ্জিবিত হয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও দুইশত গরীব অসহায় ও ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে বনুয়াপাড়া আদর্শ মানব কল্যাণ সংস্থা।
    গতকাল শনিবার আদর্শ মানব কল্যাণ সংস্থার আয়োজনে বালুবাড়ি কেজি স্কুল মাঠে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।
    কম্বল বিতরণ সভায় বক্তব্য দেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আখতারুল ইসলাম, পীরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) বিদ্যুৎ কুমার চৌধুরী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নসরতে খোদা রানা, দৌলতপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা প্রমুখ।

    এন এন রানা
    পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

  • প্রতিপক্ষের জমি নিজের দাবি করে ২০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

    প্রতিপক্ষের জমি নিজের দাবি করে ২০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

    আনোয়ার হোসেন,

    স্বরূপকাঠি(পিরোজপুর) প্রতিনিধি,

    কলাগাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা।দু’টি বাগানের ২০০ কলাগাছ কেটে ফেলেছে প্রতিপক্ষ। প্রতিপক্ষের জমি নিজের দাবী করে বাক বিতান্ডার এক পর্যায়ে কলাগাছ কেটে ফেলে দেয় আহম্মেদ হোসেন শাহরিয়া । সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দিয়ে বুক ফুলিয়ে নিজকে বিএনপির ক্যাডার দাবী করে বলে আমার গাছ আমি কেটেছি তাতে কার কি আসে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে স্বরূপকাঠি উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের সাগরকান্দা গ্রামে।

    এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান নেছারাবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
    থানায় অভিযোগের সূত্রে জানতে পেরে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে আনিসুর রহমান জমির পরিচিতি ও মালিকানা কাগজপত্র দেখান। সাগরকান্দা (মৌজার নাম ছাগলকান্দা) গ্রামের শেষ প্রান্তে রামচন্দ্রপুর মৌজার সীমান্তের ছাগলকান্দা মৌজার ২৪৮ নং দাগে আনিসুর রহমানের রোপিত ২০০ টি কলাগাছ বিবাদী আহম্মেদ হোসেন শাহরিয়া কেটে ফেলেছে। সাংবাদিকরা ছবি তুলছিল। এমন সময় সেখাণে আহম্মেদ হোসেন শাহরিয়া উপস্থিত হয়ে ছবি তুলতে নিষেধ করেন।

    একপর্যায়ে নিজকে বিএনপির ক্যাডার পরিচয় দিয়ে বলেন আমার জমির গাছ আমি কেটেছি তাতে কার কি ? আপনারা ছবি তুরছেন কেন? এসময় বাদী আনিসুর রহমানকেও হুমকি দিচ্ছিলেন। এরপর বাদী জমির ম্যাপ(নকসা) ও মালিকানা রেকর্ডের পর্চায় দেখান যে জমির মধ্যে কলাগাছ রোপন করা তার দাগ নম্বর ২৪৮ যা বাদির পিতা তাজেন মল্লিক ও মাতা জোবেদা কাতুনের নামে বিএস ৭৮ নং খতিয়ানে রেকর্ড ভুক্ত। অপর দিকে এর দক্ষিন পশের জমির মালিক বিবাদীর পিতা আমির হোসেন তালুকদারের নামে বিএস ৪৫ নং খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত।

    এসময় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আইউব আলী তালুকদার বলেন, এ জমি আনিসুর রহমানের পিতা মাতার নামে রেকর্ডভুক্ত। দীর্ঘ দিন ধরে তারা এ জমি ভোগ দখল করে আসছেন। কলাগাছসহ সব ধরনের গাছ পালা আনিসদের লাগানো। শাহরিয়ার জমি এর দক্ষিন পাশের প্লট। যা উভয়ের বিএস রেকর্ডে প্রমান পাবেন। এসময় আহম্মেদ হোসেন শাহরিয়া তাকে উচ্চবাচ্য কথা বলেনএবং দুই ঘন্টার মধ্যে কাগজপত্র দেখাবেন বলে চলে যান। এরপর ৪ ঘন্টা ীতবাহিত হলেও শাহরিয়া কোন কাগজপত্র দেখান নি।
    এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ওসি মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, আমি ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এস আই নুরুল আমিনকে দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে

  • তানোরে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে ময়না

    তানোরে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে ময়না

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না আদর্শিক, পরিক্ষিত, জন ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব হিসেবে সর্ব মহলে প্রশংসিত। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আবারো দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। কারণ এখন পর্যন্ত তার বিপক্ষে প্রতিদন্দীতা করার মতো কারো নাম শোনা যায়নি। তার বিপক্ষে মনোনয়ন চাইবেন এমন সক্ষমতা সম্পন্ন কোনো নেতাও নাই। প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন থাকে, তবে স্বপ্নের পথে পা বাড়ালেই একের পর এক আসতে থাকে নানা প্রতিবন্ধকতা। যে ব্যক্তি এসব প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন তিনিই হন সফল। এমনই একজন সফল জনপ্রতিনিধি ও নেতৃত্ব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। যিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই অনেক বাধা, বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে একজন সফল জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।তিনি রাজনীতিক নেতা হিসেবেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে তারই সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়নে ও গরীব অসহায় মানুষের পাশে থেকেছেন সর্বদায়। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে দলকে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে নিতে নিরলস ভাবে শ্রম দিয়েছেন এখানে দিচ্ছেন। তিনি কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) পরপর দু’বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসবে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি এখানো উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসাবে নিরলস ভাবে জনগণের সেবায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশের যে স্বপ্ন রয়েছে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ময়না তাঁর পরিশ্রম, সাহস, ইচ্ছাশক্তি, একাগ্রতা আর প্রতিভার মধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের সমন্বয়ে এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড সঠিক ও সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তাঁর সময়ে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে (ইউপি) সরকারের বরাদ্দকৃত টিআর, কাবিটা, কাবিখা ও কর্মসৃজন কর্মসূচিসহ প্রতিটি উন্নয়ন কাজ সঠিক ও সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আবারো দলীয় মনোনয়ন পাবার দৌড়ে অন্যদের থেকে যোজন যোজন দুরুত্বে এগিয়ে রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে এবারো তার বিজয় প্রায় নিশ্চিত। আগামী নির্বাচনে আবারও বড় ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এলাকায় তিনি একজন ক্রীড়ামোদী সাদা মনের, উদার মানসিকতা ও দানশীল মানুষ হিসেবে পরিচিত।স্থানীয় বাসিন্দাগণ বলেন, তারা নেতা বা চেয়ারম্যান বোঝেন না। ময়না ভাই একজন ভাল মানুষ, তিনি একজন কর্মঠ ব্যক্তি। তারা বলেন,ময়না ভাই রাজনৈতিক নেতা হিসেবে কতটা সফল বা ব্যর্থ তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতেই পারে, তবে সংগঠন শক্তিশালী করতে তার যে অবদান সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নাই। আবার
    জনপ্রতিনিধি হিসেবে শতভাগ সফল এটা অস্বীকার বা এনিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নাই। একটা সময় উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয় ছিল অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া। কিন্ত্ত তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর বদলে গেছে পুরো উপজেলা পরিষদের চিত্র। এখানো তাদের দু:খ-দুর্দশায় তাঁকে সহজেই পাশে পাওয়া যায়।ইতোমধ্যে তিনি সমাজের সকল মতাদর্শের মানুষের কাছে একজন দক্ষ, পরিশ্রমী, মেধাবী জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। বিগত উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারণায় সময়ে সাধারণ মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে একজন সফল ও জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছেন ময়না। এলাকার গরীব দুঃখী মানুষের পাশে থেকে তিনি সব সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর
    উপজেলার উন্নয়নে মহা- পরিকল্পনা গ্রহন করেন। স্থানীয় সাংসদের সার্বিক সহযোগিতায় গৃহীত পরিকল্পনার আলোকে তিনি একের পর এক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।
    সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিক সেবার অনন্য উদ্যোগ তাকে একজন মানবদরদী ও মহতী মানুষের উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছেন জনগণ। তিনি এলাকার দরিদ্র জনগোষ্টির উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার উন্নয়ন, কালভাট, ব্রীজ স্কুল,মাদ্রাসা,কবরস্থান, মসজিদ ,ঈদগা মাঠ সংস্কার করেছেন। অসহায় গরীব দু:খী মানুষের মাঝে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ইত্যাদি বিতরণ কার্যক্রম দেখভাল করেছেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করছেন।অন্যদিকে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম আদালত কার্যক্রম তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেছেন। এছাড়াও তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়মিত অফিস করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। আগামী দিনে তিনি তার সততা ও কর্মদক্ষতা কাজে লাগিয়ে উপজেলা বাসীকে সেবা দিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে উপজেলাকে স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন।#

  • পাইকগাছা থানা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ- সচীব

    পাইকগাছা থানা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ- সচীব

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোঃ আশরাফুর রহমান সরকারী সফরকালে খুলনার পাইকগাছা থানা পরিদর্শন করেছেন। শনিবার সকালে পাইকগাছা থানা পরিদর্শন কালে অফিসিয়াল দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিদর্শন কালে আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল- আমিন,সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ডি-সার্কেল মোঃ সাইফুল ইসলাম ও থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমান।
    এসময় তিনি থানার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে সকলকে নিষ্ঠার সাথে জনগণেরই কল্যানে কাজ করার নির্দেশনা দেনা।অহেতুক কেউ যেন হয়রাণির শিকার না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার কথা বলেন।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা খুলনা।

  • নড়াইলে চোরাই ইজিভ্যানসহ একাধিক মামলার দুইজন পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার

    নড়াইলে চোরাই ইজিভ্যানসহ একাধিক মামলার দুইজন পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে//
    নড়াইলে চোরাই ব্যাটারি চালিত ইজিভ্যানসহ একাধিক মামলার দুই জন আসামি গ্রেফতার।
    গত (৩০ ডিসেম্বর) নড়াইল পৌরসভাধীন ভওয়াখালী নড়াইল পুরাতন বাস টার্মিনালের রাস্তার উপর থেকে তিনটি ব্যাটারি চালিত ইজিভ্যান অজ্ঞাতনামা চোরেরা কৌশলে চুরি করে চম্পট দেয়। ভুক্তভোগী ভ্যানচালক মোঃ মাহাবুবুর রহমানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নড়াইল সদর থানায় একটি চুরি মামলা করা হয়। মামলা হওয়ার পরপরই মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই (নিঃ) পলাশ কুমার ঘোষ এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের একটি চৌকস টিম চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং চোর গ্রেফতারে মাঠে নামে। নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) পলাশ কুমার ঘোষ ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই (নিঃ) মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ এর নেতৃত্বে একটি চৌকশ টিম (১৮ জানুয়ারি’) চোর চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের হেফাজত হতে তিনটি ব্যাটারি চালিত ইজিভ্যান উদ্ধার করেন। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান,
    জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ মেহেদী হাসান চোর চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে চোর চক্রের সক্রীয় সদস্যদের গ্রেফতার করতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করতে থাকে।এরই ধারাবাহিকতায় জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই(নিঃ) জয়দেব কুমার বসু ও সদর থানার এসআই (নিঃ) পলাশ কুমার ঘোষসহ যৌথ টিম সকালে অভিযান পরিচালনা করে একই চোর চক্রের সদস্য মোঃ ফারুক মোল্যা (২৮) ও সাকিব বিশ্বাস (২০)’দের তাদের নিজ নিজ বাড়ি হতে গ্রেফতার এবং আসামি মোঃ ফারুক মোল্যা (২৮) এর হেফাজত হতে চোরাই একটি ব্যাটারী চালিত ইজিভ্যান উদ্ধার করতে সক্ষম হন। ধৃত আসামি মোঃ ফারুক মোল্যা ৮টি মামলার আসামি নড়াইল জেলার সদর থানাধীন চুনখোলা গ্রামের হবিবর মোল্লার ছেলে এবং সাকিব বিশ্বাস (২০) একই গ্রামের বাবলু বিশ্বাসের ছেলে। আসামিদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • নড়াইলের পল্লীতে পুকুরে থেকে ভাসমান অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধার থানা পুলিশ

    নড়াইলের পল্লীতে পুকুরে থেকে ভাসমান অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধার থানা পুলিশ

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে//

    নড়াইলে পুকুরে থেকে ভাসমান অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। নড়াইল সদর উপজেলায় পুকুরে ভাসমান অবস্থায় ডালিম বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
    বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ইউপি সদস্য (মেম্বার) ভবরঞ্জন রায় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
    ডালিম বেগম সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিন শালিখা গ্রামের ইদ্রিস আলীর স্ত্রী।
    ইউপি সদস্য ভবরঞ্জন রায় জানান, সন্ধ্যায় চারণ কবি বিজয় সরকারের বাড়ির পাশের এক পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে রাতে পুলিশ ডালিম বেগম নামে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।
    ওই নারীর স্বামী ইদ্রিস আলী বলেন, গত পাঁচদিন আগে আমার স্ত্রী বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে যায়। তাকে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাওয়া যাচ্ছিল না। কয়েক মাস আগে স্ট্রোকের কারণে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন তিনি।
    নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের পর নিহতের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • গরুর মাংসের কেজি ৭৫০/  টাকা  কেন? কোন যুক্তিতে

    গরুর মাংসের কেজি ৭৫০/ টাকা কেন? কোন যুক্তিতে

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ মহান ও নিবেদিত পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়।
    এ জন্যই সমাজে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, শিক্ষার্থীরাও যুগে যুগে স্মরণ রাখেন। পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়। আজ কেন? শিক্ষক সমাজ অবহেলিত, লাঞ্চিত হচ্ছে। দিন দিন যেন শিক্ষক সমাজ তলানীতে নেমে যাচ্ছে।
    নতুন শিক্ষাক্রম, শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের কতটা উপকারে আসছে, শিক্ষার গুনগতমান উন্নয়ন, উন্নত বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে কতটা এগিয়ে যাবে এ শিক্ষা ব্যবস্থা। পারিবারিক বস্ততার কারনে বেশ কিছুদিন লিখার সময় নি, তাই

    এব্যপারে লিখার জন্য বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিয়ে ল্যাপটপের সামনে বসলাম, লেখাটি শেষ না হতেই কয়েকজন বন্ধু রিং করে বললেন, গরুর মাংশ লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এ ব্যপারে লিখার জন্য অনুরোধও করেন। তাই থিম পরিবর্তন করে এ বিষয়ে আল্লাহ নাম নিয়ে লিখা শুরু করলাম।

    ঢাকা, বগুড়া, পাবনা, নওগাঁ, চিটাগাং সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গরুর মাংশের দাম কমলেও রাজশাহীতে পেঁয়াজ সিন্ডকেটের মত কসাইগণ ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা কেজি দরে দেদারসে বিক্রি করছেন। গাভী ও মহিষ জবাই করে ষাঁড়/বাছুর গরুর মাংশ বলে বিক্রি করছেন ফলে ক্রেতাসাধারণ প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে হাজার হাজার টাকা, মাংশের দোকানে মূল্য তালিকা ঝুলানোর সরকারী নির্দেশনা থাকলেও সেটা মানা হচ্ছে না। ভোক্তাধিকার, স্থানীয় প্রশাসনের কোন টনক নড়ছে না। এ সুযোগে বীরদাপটে বেশী দামে মাংশ বিক্রি করছেন কসাইগন।

    উত্তর শাজাহানপুর, ঢাকায় গরুর মাংশ ৫৯৫/ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন জাত কসাই মোঃ খলিল ভাই তিনি প্রতিদিন ৪০/৪৫ টি গরু প্রতিদিন বিক্রি করছেন। হাজার হাজার মানুষ সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে মাংশ কিনছেন। কম দামে মাংশ কিনতে পেরে লাখ লাখ মানুষ দোয়া করছেন খলিল ভাইয়ের জন্য। তিনি কম দামে বিক্রি করে রীতিমত ভাইরাল হয়েছেন। তিনি আরও বলছেন, সরকার যদি চামড়ার দাম বৃদ্ধি করেন, তবে আরও ২০/২৫ টাকা কমে মাংশ বিক্রি করতে পারতাম। দেশে এক জোড়া জুতার দাম ৩৫০০/ টাকা থেকে ৭০০০/ টাকা সেখানে গরুর চামড়ার দাম কি করে ৩০০/ ৪০০ হয় এটা আমি বুঝতে পারছিনা।
    কেউ কেউ বলছেন খলিল ভাই বাংলাদেশে অন পিস, তার কারনে গরীব মানুষ মাংশ কিনে খেতে পারছেন। তার জন্য হাজার হাজার মানুষ দোয়া করছেন। খলিল কসাই পারলে দেশের অন্য স্থানের অধিক মুনাফাবাজ কসাইগনসহ রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কসাইগন পারছে না কেন?

    প্রথম শ্রেণীর গোদাগাড়ী ও কাঁকনহাট পৌরসভায় গবাদিপশু জবাই করার পূর্বে ডাক্তারী পরীক্ষা নীরিক্ষা করার কথা থাকলেও তা রহস্যজনক কারনে মানা হচ্ছে না। এ সুযোগে কসাইগণ রাতের আধারে রোগাক্রান্ত, হাড্ডিসার গাভী, বকনা, মহিষ জবাই করে ষাড় গরুর মাংশ বলে বিক্রি করছেন। এ চিত্র জেলার অন্য উপজেলাতেও বলে জানা গেছে। মাংশের মধ্যে সিরিঞ্জ দিয়ে পানি পুশ করে মাংশের ওজন বৃদ্ধি করারও ঘটনা মিডিয়ায় প্রকাশ হয়ে সচেতন মহল দাবী জরুরীভবে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন। সেই যাই হউক,
    মাংস উৎপাদনে যে দেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ, সেই দেশে গরুর মাংসের দাম এত লাগামছাড়া কেন? মাংশের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ সব সময়েই প্রতিবেশী দেশ ভারতের ওপর কমবেশি নির্ভরশীল ছিল। ভারত থেকে গরু আসত সারা বছরই। তবে শয়ে শয়ে, হাজারে হাজারে আসত কোরবানি ঈদের আগে। এ দেশের হাটগুলো ভরে উঠত ভারতীয় গরুতে। কিন্তু ২০১৪ সালে ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে গরু পাঠানোর ব্যাপারে কড়াকড়ি নির্দেশনা আরোপ করেন। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের এক নির্দেশনার পর সে দেশ থেকে বাংলাদেশে গবাদিপশু আসা একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না, ভারত থেকে গরু আসত অনানুষ্ঠানিক উপায়ে, বহু প্রাণের বিনিময়ে।

    ২০১৬ সালে দেশের বেসরকারি থিঙ্কট্যাংক সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ভারতীয় গরু আসা বন্ধের পরের পরিস্থিতি নিয়ে একটি গবেষণা করেন। এর শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক গরু বাণিজ্যের অর্থনীতি: পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চিত্র’। ওই গবেষণায় বলা হয়, ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত ভারত থেকে বাংলাদেশে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে যত গরু আমদানি হতো, বাজারে বছরে এর আর্থিক মূল্য ছিল ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ওই গবেষণায় একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে। তা হলো, ভারত থেকে আসা গরু বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হয় ৭৭ শতাংশ বেশি দামে।

    ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেবার (২০১৫) অনেকে ভেবেছিলেন, বাংলাদেশের অনেক মানুষের কোরবানি করা হবে না। কারণ, গরুর দাম অনেক বেড়ে যাবে। মাংসের কেজি হবে হাজার টাকা। কিন্তু এ দেশের মানুষের সামর্থ্য যতই সীমিত হোক, কখনো কখনো তারা বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবন দিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে। এ ক্ষেত্রেও ছিল তেমনই। ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হয়ে যাওয়া ছিল বাংলাদেশের খামারিদের জন্য আশীর্বাদ।

    সারা বাংলাদেশে, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত, কী সমতলে, কী পাহাড়ে দেশি, বিদেশি, সংকর—সব জাতের গরুর খামার গড়ে উঠতে থাকে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিনিয়োগ শুরু করেন। অনেক তরুণ যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া শেষ করে সেখানে চাকরি না করে দেশে ফিরে গরুর খামার দেন। সমাজে উদাহরণ তৈরি হয়। সংবাদপত্রের পাতায়, টিভি রিপোর্টে, ইউটিউবারদের, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, অন লাইন সংবাদ পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে আসে সাফল্যের কাহিনি।

    তবে ভারত গরু পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ার পর আমাদের টনক নড়া যৌক্তিক হয়নি। প্রয়োজন ছিল আগেই এ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা। কেবল সংকটে পড়লেই আমরা সমাধানে মনোযোগী হব, এটা কোনো কাজের কথা হতে পারে না। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলেই আমরা স্বাবলম্বী হব, এর আগে হব না?

    ২০ জানুয়ারি ২০১৯ সালে প্রথম আলোয় ইফতেখার মাহমুদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারত থেকে গবাদিপশু আসা বন্ধ হওয়ার পর দেশে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে গবাদিপশুর খামার বাড়ছে। ছোট-বড় মিলিয়ে খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। ৩ বছরে (২০১৮-২০) দেশে গরু-ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ লাখ।

    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পশুর উৎপাদন আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩ লাখ ৯৯ হাজার বেড়ে হয় ৫ কোটি ৬৩ লাখ ২৮ হাজার। এর মধ্যে ৪৪ শতাংশ গরু, ৪৫ শতাংশ ছাগল। বাকিগুলো মহিষ ও ভেড়া। দেশে জনপ্রতি মাংসের চাহিদা দৈনিক ১২০ গ্রাম। সে হিসাবে বছরে মাংসের চাহিদা ৭৪ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। দেশে ২০২০-২১ অর্থবছরে মাংসের উৎপাদন ছিল ৮৪ লাখ ৪০ হাজার টন। অর্থাৎ মাংসের উদ্বৃত্ত ১০ লাখ টন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া—সব মিলিয়ে গবাদিপশু উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১২তম।

    গরু লালন–পালন আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ। একসময় এ দেশের গৃহস্থের ঘরে ঘরে গরু ছিল। ঘরের ছেলেমেয়েদের দুধের চাহিদা মেটাতে ও হালচাষের প্রয়োজনে তাঁরা গরু পুষতেন। ধীরে ধীরে যন্ত্রনির্ভর চাষ জনপ্রিয় হওয়ায় গৃহস্থের গোয়াল থেকে গরু কমতে থাকে। আমাদের দেশি গরুগুলো আকারে ছোট হওয়ায় মাংস ও দুধ কম। জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি বড় গরু লালন–পালন জনপ্রিয় হতে থাকে।

    যে দেশে খামার নিয়ে এত ভালো ভালো খবর, মাংস উৎপাদনে যে দেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ, সে দেশের রাজধানীতে গরুর মাংসের কেজি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে জেলা শহরে প্রায় একই দাম। শুক্রবার উত্তরের জেলা পঞ্চগড় শহরে গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৬৫০ টাকা কেজি, আর দক্ষিণের শহর টেকনাফে বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকা। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বিভিন্ন বাজারে মাংশের কেজি বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকা থেকে ৭৮০ টাকায়। গত কোরবানির পর মিয়ানমার থেকে ট্রলারে করে টেকনাফে গরু আসা বন্ধ থাকায় সেখানে অতিমূল্যের একটা কারণ হতে পারে।

    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী বাজরের মুদি দোকান মালিক আব্দুল্লাহ বলেন, পেঁয়াজ, লবন তেল সিন্ডকেটের জন্য আমাদের বদনাম হচ্ছে, ব্যবসা করতে ইচ্ছে হচ্ছে না । কয়েক দফায় ৫৬ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছি। কিছু মালের দাম কমে যাওয়ায় ১০/১২ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। কিছুদিন পূর্বে আমি ভারত থেকে আসলাম, সেখানে মাংশের কেজি ১৫০/১৮০/ কেজি বিক্রি হচ্ছে, গরুর দামও কমেছে। বাংলাদেশের ঢাকা, বগুড়া, চিটাগাংসহ বিভিন্ন স্থানে ৫৫০ থেকে ৫৯০ টাকা কেজি দরে মাইকিং করে, ফেসবুক লাইভ করে মাংশ বিক্রি করছেন। অথচ মহিশালবাড়ী রেলবাজার, গোদাগাড়ীর বিভিন্ন মাংশ ব্যবসায়ীগণ সিন্ডকেট করে ৭৫০/৭৮০ টাকা কেজি দরে মাংশ বিক্রি করছেন, গাভী, মহিষ জবাই করে ষাঁড়ের ( বছুর গরু) মাংশ বলে বিক্রি করছেন। সেখানে ভোক্তা অধিকার, প্রশাসনের কর্মকর্তাগন দেখতে পান না। তারা কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমান অভিযান পরিচালনা করেন না কেন?

    মাংশের বাজারের এমন পরিস্থিতি কেন বা দামের তরতাম্যের কারণ জানতে চাইলে বাজার মনিটরিংকে দায়ী করেন ক্রেতাসাধারণ। তারা বলছেন, বাজার মনিটরিং হয় না, রহস্যজনক কারনে মাংশের বাজারে? কোন অভিযান পরিচালিত হয় না, গরু জবাই করার পূর্বে কতৃপক্ষ কোন খোঁজখবর রাখেন না, কোনও শৃঙ্খলা নেই। যার যেমন ইচ্ছা দাম হাঁকাচ্ছেন। মানুষ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে গরুমাংশের কেজি হবে ১ হাজার টাকা।

    কীভাবে, কোন যুক্তিতে গরুর মাংসের দাম এত বেশি হতে পারে, সে প্রশ্ন তুলতে চাই।
    যখন সীমান্ত পার হয়ে ভারত থেকে গরু আসত, তখন তো এত দাম ছিল না। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের হিসাবে, ঢাকায় ২০১৪ সালে ১ কেজি গরুর মাংসের গড় দাম ছিল ৩০০ টাকা। মাত্র ৫ মাস আগে গত অক্টোবরে গড় দাম ছিল প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কেজিতে বেড়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। শবে বরাতের দিন একলাফে কেজিতে ৫০ টাকা বাড়ানো হয়। আর সংযমের মাস রমজান সামনে রেখে বাড়ানো হয় আরও ৩০ থেকে ৫০ টাকা।

    গত কয়েক বছরে গরু পালন আর প্রান্তিক খামারিদের হাতে নেই। রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংসদসহ বড় বড় ব্যবসায়ীর হাতে চলে গেছে। তাঁরাই এখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন।
    এখন নিজেরা উৎপাদন করে দাম যখন সীমার মধ্যে থাকার কথা, তখন উল্টো অসীমে পৌঁছে গেল! এর আগে সিটি করপোরেশন একাধিকবার গরু ও খাসির মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, কিন্তু কাজ হয়নি তদারকির অভাবে। ব্যবসায়ীরা পাত্তা দেননি।

    প্রশ্ন হচ্ছে, মাংসের দাম কেন নির্ধারণ করে দেওয়া লাগবে? ১ কেজি মোটা চালের দাম ৫৬ টাকা। একজন দরিদ্র মানুষকে ১ কেজি গরুর মাংস কিনতে হলে ১৬ কেজি চালের সমান টাকা পরিশোধ করতে হবে। এক কেজি মাংসে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের বড়জোর দুই বেলা চলে। এর জন্য ৭৫০টি টাকা ব্যয় করা কয়জনের পক্ষে সম্ভব। ধরা যাক, একজন বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষক ২২ হাজার টাকা বেতন পান। তাঁর পক্ষেও অন্যান্য ব্যয় মিটিয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকায় ২ কেজি গরুর মাংস কেনা কত কঠিন। মাংশ ব্যবসায়ীরাই বলছেন, দাম বেশি বলে বিক্রিও কমে গেছে। লোকে এখন গরুর মাংস না কিনে সোনালি মুরগি কিনছেন। তাহলে মনগড়া দাম বাড়িয়ে লাভ কী, বর্তমান সরকারে বেকায়দার ফেলতে সিন্ডিকেটের তৈরী করে অন্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মত গরুর মাংশ ব্যবসায়ীগন কাজ করছেন।

    সাধারন মানুষ কাঁদছে, তুমি মানুষের হয়ে পাশে দাঁড়াও, কে দাঁড়াবে, কয়জন দাঁড়ায় গরীব মানুষের পাশে, আজ থেকে ৩ দশক আগে গরুর মাংসের কেজি ছিল ৪০ টাকা। মনে আছে, যখন স্কুলে পড়তাম, আমার জন্মস্থান রাজশাহী গোদাগাড়ী, মহিশালবাড়ী বাজারে মাত্র ২/১ গরু জবাই হতো। তখন চালের কেজি ছিল ৭ থেকে ৮ টাকা। তখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কম ছিল। এখন ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। সরকারি হিসাবে মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৫১১ ডলার। প্রশ্ন হচ্ছে, ক্রয়ক্ষমতা সামান্য বাড়লেই সবকিছু আগুন দামে কিনতে হবে কেন?

    কেন গরুর মাংসের দাম ৭৫০ টাকা কেজি? মাংস ব্যবসায়ী সমিতি বলছে, হাট কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ইজারা আদায় করছেন। যেমন গাবতলী, রাজশাহীর সিটি হাট, কাঁকনহাট গরুর হাট ইজারা নেওয়ার শর্ত হলো, প্রতিটি গরুর সরকার নির্ধারিত খাজনা হবে ২০০ টাকা। কিন্তু এ শর্ত না মেনে ইজারাদারেরা অবৈধভাবে গরুপ্রতি চার বা পাঁচ হাজার টাকাও আদায় করছেন। এভাবে একটি গরু শহরের ভেতরে তিনটি হাটে স্থানান্তরিত হলেই গরুর দাম বেড়ে যায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এর প্রভাব সরাসরি এসে পড়ে মাংসের দামের ওপর। তাদের কথা, এ চাঁদা কমানো গেলে মাংসের দামও কেজিতে ১০০–১৫০ টাকা কমানো যাবে। প্রভাবশালীদের মন্ত্র, এমপি, মেয়র,চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের ভ্রাতা কিংবা শ্যালক—এই ইজারাদারদের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?

    অপর দিকে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, বাজারে গোখাদ্যের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বেড়ে গেছে গরুর উৎপাদন খরচ। সরকার গোখাদ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ নিলে বাজারে মাংসের দাম কমে আসবে। এর বাইরে রয়েছে পশুর ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি, চামড়ার দাম কমে যাওয়া, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের পরিবহন খরচ বৃদ্ধি। প্রকৃতপক্ষে খামারির কাছ থেকে কসাই পর্যন্ত একটি গরু পৌঁছাতে তিন-চার হাত বদল হয়। প্রতি হাত বদলে বাড়ে গরুর দাম।
    অর্থনীতির ভাষায় বাজার নিয়ন্ত্রন বলে একটি কথা থাকলেও সেটা আমাদের দেশে কাজের কাজ কিছুই হয় না। আর কত চিৎকার করলে উন্নত হবে বাজার ব্যবস্থাপনা?

    আরেকটি তথ্য হচ্ছে, গত কয়েক বছরে গরু পালন আর প্রান্তিক খামারিদের হাতে নেই। রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংসদসহ বড় বড় ব্যবসায়ীর হাতে চলে গেছে। তাঁরাই এখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন।

    বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ দুলাল টেলিফোনে জানালেন, সেখানে গরুর মাংসের কেজি বাংলাদেশি টাকায় ৫৫০ টাকা। প্রথম আলোর লন্ডন প্রতিনিধি তবারুকুল ইসলামের তথ্যমতে, ওই শহরে প্রতি কেজি মাংস ৪ দশমিক ৯৯ পাউন্ডে বিক্রি হচ্ছে, বাংলাদেশি টাকায় যা ৫৬০ টাকা। নিউইয়র্কের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানালেন, সেখানে মাংস, দুধ, ডিমের দাম সব সময় কম থাকে। কারণ, সরকার এসব খাতে প্রচুর ভর্তুকি দেয়। প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৬ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা ৫২০ টাকার মতো। কানাডা থেকে লেখক, গবেষক মোস্তফা চৌধুরী জানান, সেখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ১৩ কানাডীয় ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা ৮৮০ টাকার মতো।

    যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ওমান, কানাডার মানুষের মাথাপিছু আয় কত? আর আমাদের মাথাপিছু আয় কত?

    নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে জাতীয় সংসদে কেবল বিরোধী দলের সদস্যরাই কিছু কথা বলেন। সরকারি দলের সাংসদদের কোনো কথা শোনা যায় না। তারা মুখে মাস্কটা দিয়ে বসে থাকেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ হয়তো এর কারণ। কিন্তু সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কিছু বলতে মানা আছে কি?

    এখনই উদ্যোগ না নিলে গরুর মাংসের কেজি আর ৭৫০ টাকা থেকে নামবে বলে মনে হয় না। এ দেশে কোনো জিনিসের দাম একবার বাড়লে সাধারণত আর কমে না।

    প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম একটি অবদান হচ্ছে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির প্রাণী সরবরাহের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। খুশির খবর হলো, এ বছর চাহিদার তুলনায় কোরবানির জন্য উপযোগী প্রাণীর উৎপাদন বেশি। যেমন এ বছর প্রাণীর চাহিদা হলো ১ দশমিক শূন্য ৪ কোটি, বর্তমানের সরবরাহের সংখ্যা ১ দশমিক ২৫ কোটি। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা প্রায় ৪৮ দশমিক ৪ লক্ষ (ডিএলএস, ২০২৩)।

    বিভিন্ন তথ্য থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের গরুর মাংসের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। যেমন বাংলাদেশে এক কেজি গরুর মাংসের দাম ৬ দশমিক ৯৪ ডলার, মালয়েশিয়াতে ৫ দশমিক ৩৭ ডলার, নেপালে ৪ দশমিক ২৯ ডলার এবং পাকিস্তানে ৩ দশমিক ৬০ ডলার (সূত্র: বাংলাদেশ বিফ প্রাইজ, গ্লোবাল প্রোডাক্ট প্রাইজ ২০২৩, বিফ প্রাইজ, সিপিডি ২০২৩)।

    কাজেই আমাদের দেশে মাংস উৎপাদনের খরচ কমানোর ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশে এখন শিক্ষিত যুবক ও নারীরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গরু পালন করছেন।

    মাংস উৎপাদনের জন্য বর্তমানে শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান সংকর জাতসহ আরসিসি ও দেশি জাতের গরু পালন করা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশে মাংসের দাম আশপাশের দেশ থেকে কেন বেশি, এবং কীভাবে উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব?

    আমরা জানি, উন্নত জাতের গরু দেশীয় জাতের গরুর তুলনায় কম খাদ্যে দ্রুত ওজনে বৃদ্ধি পায়। গরুর জাত বাছাইয়ের ওপর এর উৎপাদন বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ নির্ভর করে। মাংসের দাম কমাতে হলে এর উৎপাদন খরচ কমাতে হবে।

    মাংস বাজারজাতকরণে সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। এ জন্য কোল্ডস্টোরেজ সুবিধাসহ আধুনিক জবাইখানা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পশু পরিবহনব্যয় কমানোর লক্ষ্যে পথের অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা দূর করতে হবে, চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আন্তে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে এবং তাদের কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। ইচ্ছাকৃত দাম বাড়া রোধে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে।

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হলে প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। কাজেই এখন থেকে দীর্ঘমেয়াদি প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন, তথা মাংস উৎপাদনের জন্য অধিক মাংস উৎপাদনশীল গরু পালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করলে এই সেক্টরে প্রত্যাশিত উন্নয়ন সম্ভব।

    এ অবস্থায় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় শিগগিরই সব পক্ষকে ডেকে, ক্যাবকে রেখে একটা সত্যিকারের গণশুনানির আয়োজন করতে পারে। সেখানে সবার কথা শুনে গরু–মহিষসহ সব মাংসের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বিড়ালের গলাই ঘন্টা বাঁধবে কে?

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী জেলা শাখা।

  • শাজাহানপুরে মায়ের শখ পূরুণ করতে ছেলের পালকিতে চড়ে বিয়ে

    শাজাহানপুরে মায়ের শখ পূরুণ করতে ছেলের পালকিতে চড়ে বিয়ে

    মিজানুর রহমান মিলন,
    শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :

    বগুড়ার শাজাহানপুরে হারিয়ে যাওয়া ঔতিহ্য সম্পুর্ন পালকিতে করে এক ব্যতিক্রম ধর্মী বিয়ে সম্পূর্ন হয়েছে । শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৪) উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের পরানবাড়িয়া গ্রামে এই ব্যতিক্রমী বিয়ে দেখতে রাস্তার দুই পাশে অনেক নারী – পূরুষ, শিশুরা সহ আবাল বৃদ্ধ বনিতা দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায় । পরানবাড়িয়া গ্রামের আজিজুর রহমান বাবুর ছেলে কাওছার রহমান লেলিন (২১) সাথে পাশ্ববর্তী আড়িয়া ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের সাকিদার পাড়ার শাজাহান আলী পুটুর মেয়ে সামিরা আরফিন শিলা(১৮) সাথে এই বিয়ে সমপূর্ন হয় । ছেলের বাবা আজিজুর রহমান বাবু জানান, আমার স্ত্রীর অনেক দিনের শখ ছিলো ছেলে বড় হলে পালকিতে করে বিয়ে দিবে । তার ইচ্ছে পূরণ করতেই মূলত এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন । বিয়েতে আসা অতিথিরা নব- দম্পতির জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন ।

  • ইপিজেড থানা পুলিশের অভিযানে ১০০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০১  মাদক ব্যবসায়ী আটক

    ইপিজেড থানা পুলিশের অভিযানে ১০০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০১ মাদক ব্যবসায়ী আটক

    মোঃ শহিদুল ইসলাম
    বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    চট্টগ্রামের সিএমপি ইপিজেড থানাধীন র‌্যাব -০৭ গলি, রুবি সিমেন্ট কলোনীর সামনে পাঁকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে অদ্য ১৯ জানুয়ারী ২০২৪, ১২.৫৫ ঘটিকার সময় এসআই(নিঃ) মোঃ বেলায়েত হোসেন, সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স সহ অভিযান ডিউটি করাকালীন সময় একজন আসামী ও তাহার হেফাজতে থাকা ১০০ (একশত) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম আবু কায়েশ রফিক (৪৩), পিতা-মৃত আরজ আলী, মাতা-আনোয়ার বেগম, সাং-উত্তরাটি নয়া বাড়ী, মজলিশপুর, থানা-কেন্দুয়া, জেলা-নেত্রকোনা, বর্তমানে-হাউজিং কলোনী রোড, টমচম মাঠের দক্ষিণ পার্শ্বে মিজানের বাড়ীর ভাড়াটিয়া, থানা-পতেঙ্গা, জেলা-চট্টগ্রাম।
    গ্রেপ্তার হওয়া মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে উক্ত ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ইপিজেড থানা পুলিশ সূত্র জানা গেছে,

  • এমপির অধীনে দল নয়, দলের অধীনে এমপি: আসাদ

    এমপির অধীনে দল নয়, দলের অধীনে এমপি: আসাদ

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেছেন, সংসদ সদস্যের অধীনে দল নয়, দলের অধীনে সংসদ সদস্য। আওয়ামীলীগ চলবে দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি। এখানে সংসদ সদস্য হিসেবে আমি কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চাইনা। দলীয় অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যানারে তার ছবি ব্যবহার না করে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ছবি দেয়ার আহবান জানান আসাদ।

    তিনি দলীয় নেতাদের প্রতি অনুরোধ রেখে বলেন, বঙ্গবন্ধু ও দলীয় প্রধানের ছবিই থাকবে দলীয় অনুষ্ঠানের ব্যানারে। এখানে যদি এমপির ছবি বড় করে দেন তাহলে দল হয়ে গেলো এমপির অধীনে। এটি কখনোই করবেন না। এমপির অধীনে দল নয়, দলের অধীনে এমপি। অতীতে কী হয়েছে সেটি ভুলে গিয়ে এখন থেকে এটি বাস্তবায়ন করবেন। রাজশাহীর পবায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনত্তর বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান আসাদ এসব কথা বলেন।

    শনিবার দুপুরে উপজেলা হলরুমে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন বর্ধিত সভার আয়োজন করে।
    উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজের সঞ্চালনায় এই সভায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

    সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আমি বরাবরই নিয়ম মেনে রাজনীতি করা মানুষ। আমি চাই আওয়ামীলীগ চালাবেন দলীয় নেতৃবৃন্দ। আমার কাছে সমস্যা নিয়ে বা দলীয় যেকোন বিষয় নিয়ে যে কেউ আসতেই পারেন। কিন্তু দলীয় নেতাদের উপেক্ষা করে আমার কাছে আসবেন না। সামনে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়ে যেকোন সিদ্ধান্ত নিবেন তৃণমূলের আওয়ামীলীগ নেতারা। আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত রাখা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব। এটা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না।

    দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে আসাদুজ্জামান বলেন, এই এলাকার বড় একটি সমস্যা পুকুর খনন। ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর বানানো যাবে না। সরকারী নীতিমালার বাইরে গিয়ে পুকুর খননের বিষয়ে কোন অনুরোধ নিয়ে অনুগ্রহ করে আমার কাছে আসবেন না।

    আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করা যাবে না। গভীর নলকূপ অপারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সুযোগ নেই। অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।