Blog

  • পাইকগাছায় অহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছায় অহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
    পাইকগাছায় ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অ লের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রকল্পের অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ কর্মশালার আয়োজন করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু। মূল প্রকল্প প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মনি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অসীম কুমার দাস। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তা ধীমান মজুমদার, ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন, শেখ জিয়াদুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র শেখ মাহাবুবর রহমান রনজু, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান আলী শেখ, খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাসিবুর রহমান, সহকারী প্রোগ্রামার মৃদুল কান্তি দাশ, পল্লী স য় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জয়ন্ত কুমার ঘোষ, সহকারী অধ্যাপক ময়নুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধান, কৃষক মলয় মন্ডল, হারুন ও বেলাল হোসেন। উপস্থিত ছিলেন, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও কৃষক প্রতিনিধিবৃন্দ।

  • কেশবপুরে এক মাদ্রাসার নিয়োগ বোর্ড  স্থগিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

    কেশবপুরে এক মাদ্রাসার নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

    কেশবপুর প্রতিনিধিঃ কেশবপুরের নূতন মূলগ্রাম দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের দাবিতে ৩০জানুয়ারী বিকেলে প্রেসক্লাবের কনপারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলন করেন ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মী পদে আবেদনকারী মোয়াজ্জেম হোসেন ।
    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন নূতন মূলগ্রাম দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় সহসুপার, নিরাপত্তা কর্মী, আয়া ও বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আমি সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মারফত জানতে পেরে নিরাপত্তা কর্মী পদে আবেদন করি। আবেদন করার পর মাদ্রাসার সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আমাকে ১২ লাখ টাকা জোগাড় করতে বলা হয়। নিয়োগ পত্র বাছাইয়ের আগে সুপার জানায়, তার অন্য প্রার্থী ঠিক হয়ে গেছে। আমি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারি প্রতিটি পদের বিপরীতে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সাত্তার নিয়োগ বোর্ড গঠনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। আমাকে সাক্ষাৎকার বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য কোন পত্র দেয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি ওই নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করার দাবি জানাচ্ছি।
    সংবাদ সম্মেলনকালে উপস্থিত ছিলেন নূতন মূলগ্রাম দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ হেল বাকি, আব্দুর রহিম, আব্দুর রহমান ও হাবিবুল্লাহ। তারা জানান, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসায় চারটি পদে যে নিয়োগ দেয়া হবে সে স¤পর্কে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
    অভিযোগের বিষয়ে মূলগ্রাম দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সাত্তার বলেন, আগামী দুই ফেব্রুয়ারি নিয়োগ বোর্ড করার জন্য কাউকে কোন পত্র দেয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে ৪টি পদে যে টাকা নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি মিথ্যা ও বানোয়াট। ষড়যন্ত্রভাবে মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট করার জন্য মোয়াজ্জেম হোসেন ওই সংবাদ সম্মেলন করেছেন।এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন খান বলেন, ওই মাদ্রাসার নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে।

    মোঃ জাকির হোসেন
    কেশবপুর,যশোর।

  • বিশেষ ক্ষমতা আইনে সুজানগর যুবদলের আহ্বায়ক পিন্টু কারাগারে

    বিশেষ ক্ষমতা আইনে সুজানগর যুবদলের আহ্বায়ক পিন্টু কারাগারে

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগরঃ বিশেষ ক্ষমতা আইনে পাবনার সুজানগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জালাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার রাতে পৌরসভার মানিকদীর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। থানা সূত্রে জানা গেছে, গোপন বৈঠকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে ও নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের চেষ্টার পরিকল্পনা করা হয়। এমন অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। এরপর সুজানগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রাজনৈতিক মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দাবি করে পুলিশের হাতে গ্রেফতার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম সেলিম রেজা হাবিব।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি ।।

  • রংপুর কর্তৃক সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালনায় ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

    রংপুর কর্তৃক সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালনায় ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি
    বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর কর্তৃক সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালনায় ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরর জন্য আলামত জব্দ করা হয়েছে।

    অদ্য ৩০.০১.২০২৪ ইং তারিখে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর এর উদ্যোগে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালিত হয়। উক্ত সার্ভিল্যান্স অভিযানে-

    ক) সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালনা করে মামলার জন্য আলামত জব্দ করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ঃ
    ১. মেসার্স বীরগঞ্জ ব্রিকস ফার্ম (ইইঋ), বর্ষা আমতলি, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর
    ২. মেসার্স আর এন ব্রিকস (জঘই), কাশিপুর, বলেয়াহাট, কাহারোল, দিনাজপুর
    ৩. মেসার্স এম কে ব্রিকস (গকই), উত্তর নওগাঁ, জয়নন্দহাট, কাহারোল, দিনাজপুর
    ৪. মেসার্স বি কে বি ব্রিকস (ইকই), জিনোর বকুলতলা, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ৫. মেসার্স লিপা ব্রিকস (খওচঅ), শালের হাট, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ৬. মেসার্স এস এস ব্রিকস (ঝঝই), উত্তর কৃষ্ণপুর, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ৭. মেসার্স এম এন বি ব্রিকস (গঘই), মুরারীপুর, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ৮. মেসার্স এম এস টি ব্রিকস-১ (গঝঞ), কড়ই, সেতাবগঞ্জ, দিনাজপুর
    ৯. মেসার্স এম এস টি ব্রিকস-২ (গঝঞ), হাট রামপুর, সেতাবগঞ্জ, দিনাজপুর
    ১০. মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকস-১ (ঠঠই), আনোরা, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ১১. মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকস-২(ঠঠই), আনোরা, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ১২. মেসার্স আর আর ব্রিকস (জজই), দৌলা, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ১৩. মেসার্স আশিক ট্রেডার্স ব্রিকস, সত্যমানডাঙ্গী, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ১৪. মেসার্স রিপন ব্রিকস (জকউ), আলামপুর, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ১৫. মেসার্স এ এম ব্রিকস (অগই), গরুড়্গ্রাম মঙ্গলপুর, দিনাজপুর
    ১৬. মেসার্স এ এস ব্রিকস (অঝই), মনিপুর, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ১৭. মেসার্স সেতাবগঞ্জ ব্রিকস (ঝ*ই), সেতাবগঞ্জ, দিনাজপুর।
    ১৮. মেসার্স এম আই ব্রিকস(গওই), দেওখড়া, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ১৯. বিবিসিএল অটো ব্রিকস, দেওখড়া, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ২০. মেসার্স মোল্লা ব্রিকস-১ (গই), লক্ষনিয়া, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ২১. মেসার্স মোল্লা ব্রিকস-২(গই), লক্ষনিয়া, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    *২২. মেসার্স জেড ব্রিকস(ত*ই), রামদাসপাড়া, সেতাবগঞ্জ, দিনাজপুর
    ২৩. মেসার্স ডিএন ব্রিকস (উঘই), রামদাসপাড়া, সেতাবগঞ্জ, দিনাজপুর
    ২৪. মেসার্স এম আই এস ব্রিকস(গওঝ), সেনিহারী, সুলতানপুর, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
    ২৫. মেসার্স সেভেন ব্রাদার্স ব্রিকস (৭ই), গড়েয়া, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ২৬. মেসার্স এস বি এস ব্রিকস ফিল্ড (ঝইঝ), ভেমটিয়া, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ২৭. মেসার্স এসবি ব্রিকস ফিল্ড(ঝ*ই), ভেমটিয়া, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ২৮. মেসার্স ডি*আর ব্রিকস (গউজ), গুয়াগাও, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ২৯. মেসার্স বিবিএস ব্রিকস (ইইঝ), উত্তর গুয়াগাও, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ৩০. মেসার্স এবিএস ব্রিকস (মিন্টু), ভেলাতর, দক্ষিণপাড়া, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ৩১. মেসার্স এম বি এন্টারপ্রাইজ (গইই), ভেলাতর ভদ্রপাড়া, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ৩২. মেসার্স এম এ আর ব্রিকস(গঅজ), নোহালী, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ৩৩. মেসার্স এস বি এস ব্রিকস ফিল্ড -১(ঝইঝ), গোদাগাড়ী, সিন্দুর্না, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ৩৪. মেসার্স এম এন এস ব্রিকস (গঘঝ), দস্তমপুর, ৯ নং সেনগাও, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ৩৫. মেসার্স যে আর ব্রিকস ফিল্ড (ঔ*জ), সিন্দুরনা, ৯ নং সেনগাও, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ৩৬. মেসার্স এস বি ব্রিকস ফিল্ড (ঝ*ই), নানুহার, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
    ৩৭. মেসার্স বিএসবি ব্রিকস (ই.ঝ.ই), দৌলতপুর (গোয়ালপাড়া), পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।
    বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের প্রকৌঃ মোঃ জাহিদুর রহমান, সহকারী পরিচালক (সিএম) এর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচাললিত হয়। উক্ত অভিযানটিতে আরোও উপস্থিত ছিলেন প্রকৌঃ জুনায়েদ আহমেদ ও খন্দকার মোঃ জামিনুর রহমান, ফিল্ড অফিসার (সিএম)।

  • আশুলিয়ায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে কুপিয় হত্যা-স্বামীর ঝুলন্ত লা*শ উদ্ধার

    আশুলিয়ায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে কুপিয় হত্যা-স্বামীর ঝুলন্ত লা*শ উদ্ধার

    হেলাল শেখঃ ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন কাইচাবাড়ি এলাকার মোঃ গফুর মন্ডলের বাড়ি থেকে স্বামী স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছেন আশুলিয়া থানা পুলিশ। বাড়ির লোকজন ও পুলিশ জানায়, কাইচাবাড়ি এলাকায় সাবেক স্ত্রী মীম (২১) কে কুপিয়ে হত্যা করার পর তার স্বামী আত্মহত্যা করেছে এমনই ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে নারী ও পুরুষ দুইজনের লাশ উদ্ধার করেছেন পুলিশ।
    মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি ২০২৪ইং) দুপুর ২টার দিকে আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি এলাকার গফুর মন্ডলের বাড়ির ২য় তলা ভবনের একটি কক্ষে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত স্ত্রী মীম এর সাবেক স্বামী মোঃ নাঈম মিয়া (৩০) , সে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানা মকিনপুর এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে এবং তার নিহত স্ত্রী মীম নওগাঁ জেলার বদরগাছী থানার খোকসাবাড়ি এলাকার মোংলা সরদারের মেয়ে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের দাবী এই দম্পতির প্রায় দেড় বছর আগে তালাক হয়।
    পুলিশ জানায়, দেড় বছর আগে মোছাঃ মীম ও নাঈম দম্পতির তালাক হয়েছে। পরবর্তীতে নাঈম আবার মীমকে বিয়ে করার জন্য বারবার চাপ দেয়। প্রায়ই নাঈম তার সাবেক স্ত্রী মীমকে বিরক্ত করতো, একপর্যায়ে নাঈম মঙ্গলবার দুপুরে মীমের ভাড়া বাসায় আসেন। ওই বাসায় তাদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়, একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তালাক দেওয়া সাবেক স্বামী নাইমের মীমের উপর আগে থেকেই ক্ষোভ ছিলো। সেই ক্ষোভের কারণেই মীমকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে নাঈম। এরপর নাইম ফাঁসি নিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হয়।
    নিহত মীম এর রুমমেট মোছাঃ নাতাশা গণমাধ্যমকে বলেন, নাঈম এর আগেও একদিন বাসায় এসেছিলো, তাকে মীম তাড়িয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করে আমাদের রুমে আসে নাঈম। তাদের দুইজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়, একপর্যায়ে নাইম ছুরি দিয়ে মীমকে আঘাত করার চেষ্টা করে, এসময় আমি চিৎকার দিয়ে বাসার নিচে গিয়ে লোকজন জড়ো করি, লোকজন নিয়ে এসে দেখি মীমকে নাঈম মেরে ফেলেছে। নাঈম নিজেও গলায় ফাঁসি দিয়ে মরেছে।
    আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এফ এম সায়েদ গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক ভাবে সুরতহাল করা হচ্ছে, ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি আশুলিয়ার ইউনিক এলাকার দ্বীন মোহাম্মদ এর বাড়ি থেকে ববিতা নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেন আশুলিয়া থানা পুলিশ।

  • সুজানগর অফিসার্স ক্লাবের আধুনিক ব্যাডমিন্টন কোর্টের উদ্বোধন

    সুজানগর অফিসার্স ক্লাবের আধুনিক ব্যাডমিন্টন কোর্টের উদ্বোধন

    এম এ আলিম রিপনঃ পাবনার সুজানগরে আধুনিক ব্যাডমিন্টন কোর্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সুজানগর অফিসার্স ক্লাবের আয়োজনে অফিসার্স ক্লাব চত্বরে নির্মিত আধুনিক এ ব্যাডমিন্টন কোর্টের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি সুখময় সরকারের সভাপতিত্বে এবং অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মনোয়ার হোসেনের স ালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা.মর্জিনা খাতুন,উপজেলা মৎস্য অফিসার নূর কাজমীর জামান খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জিল্লুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার নাজমুল হোসেন, উপজেলা সমবায় অফিসার দেলোয়ার হোসেন বিদ্যুৎ সহ ক্লাবের সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি ।।

  • সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বাঁধা সৃষ্টিকারীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না

    সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বাঁধা সৃষ্টিকারীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না

    হেলাল শেখঃ পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের বন্ধু উল্লেখ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার জনাব হাবিবুর রহমান বলেছেন, প্রকৃত সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের সময় বাঁধা দেয়া হলে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো বাঁধা সৃষ্টিকাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। দেশের যেসকল সম্পাদক ও সাংবাদিকদের উপর হামলা মামলা নির্যাতন করা হয়েছে, সেইসকল ঘটনা ও অপরাধের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ), তিনি বলেন, সাংবাদিকদেরকে ঘায়েল করতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় একটি মহল। সাংবাদিকদের মহান পেশাকে অসম্মান করার অধিকার কারো নেই।
    বিশেষ করে প্রিন্ট প্রত্রিকা-সংবাদপত্র ছাপা ও সাংবাদিকতায় চরম বাধা সৃষ্টি করছে যারা তাদের অপকর্ম, অনিয়ম, দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। অনলাইন পোর্টাল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার ও সাংবাদিকতায় এক পর্যায়ে কাজ করছে কিছু অসাধু লোকজন, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরী, এতে প্রকৃত সাংবাদিক ও সম্পাদক মহোদয়ের সম্মান রক্ষা হবে। অন্যদিকে কাগজপত্র প্লেটের দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণে প্রিন্ট পত্রিকা ছাপানো কঠিন হচ্ছে। মাদক সন্ত্রাস, চোর বাটপার ও খারাপ প্রকৃতির ব্যক্তির কারণে প্রকৃত সাংবাদিকতায় চরম বাঁধা সৃষ্টি করেছে। যা প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য লজ্জাজনক। কিছু অসাধু ব্যক্তির অত্যাচারের কারণে অনেকেই মহান পেশা সাংবাদিকতা ছেড়ে অন্য পেশায় যাচ্ছেন।
    কলম সৈনিক সাংবাদিক দাবিদার নিজেদের মধ্যে যারা শক্রতা সৃষ্টি করছেন তারা বেশিরভাগই সংবাদ লিখতে পারেন না, প্রকৃত সাংবাদিকরা কখনো কারো বদনাম করেন না, নিজেদের মধ্যে শক্রতা সৃষ্টি করেন না, জাতির বিবেক হওয়া এতো সহজ নয়। সাংবাদিকতা একটা মহান পেশা, এই পেশাকে যারা ছোট করে দেখেন, সাংবাদিকদেরকে অপমান করছেন তাদেরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। প্রকৃত সাংবাদিক ও লেখক কখনো কোনো হামলা মামলার ভয় করে না। নেতা বা মেম্বার চেয়ারম্যান, এমপি মন্ত্রী আপনারা যে পেশা থেকেই আসেন না কেন, দয়া করে কেউ সাংবাদিকদের অপমান করবেন না, এমনকি যেকোনো পুলিশ অফিসার সাংবাদিকদের অপমান করার অধিকার রাখেন না। আপনাদের ইতিহাস প্রকৃত সাংবাদিকরাই প্রকাশ করতে পারে। দেশের গণমাধমের প্রকাশক ও সম্পাদকসহ প্রকৃত সাংবাদিকরা আপনাদের অনেকের প্রকৃত চরিত্র ইতিহাস জানেন যে, আপনারা কে কেমন প্রকৃতির মানুষ বা কেমন অপরাধ করেছেন? কে কেমন অপরাধী ? কে কেমন চরিত্রবান। রাজধানী ঢাকা, ধামরাই ও সাভার আশুলিয়াসহ সারাদেশেই একের পর এক প্রকৃত সাংবাদিকদের উপর নৃশংস হামলা-মামলা, হত্যার ঘটনা ঘটেছে, এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতাসহ সচেতন মহল। সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারণেই বিভিন্ন হামলা মামলার শিকার হয়ে থাকেন। প্রকৃত সাংবাদিকদেরকে কেউ ভয় দেখাবেন না, কলমের শক্তি দিয়েই তার জবাব দেয়া হবে। আমরা সাংবাদিকরা কোনো কচু পাতার পানি নয় যে, বাতাসে পড়ে যাবো। অনেকেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে হামলা-মামলায় শিকার হয়ে থাকেন, ভয় করবেন না “বৃহত্তর ঐক্যই আমাদের লক্ষ্য”। সাংবাদিককে অপমান করার অধিকার কারো নেই। সাংবাদিকদের উপর নৃশংস হামলা-মামলা, হত্যার হুমকি’র বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। বিশেষ করে নিউজ লেখতে হবে সকল সাংবাদিকদেরকে সবার সংশ্লিষ্ট মিডিয়ায় তা নিয়মিত ভাবে প্রকাশ করতে হবে। আমরা বলতে চাই ভয় করলে সাংবাদিকতা করা যায় না। নতুনদেরকে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি বইসহ বেশি বেশি বই পড়া জরুরি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকতার মূলধারায় এগিয়ে যেতে হবে। নিজে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরকেও সচেতন করতে প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। কলম সৈনিকরা কখনো কারো মিথ্যা সংবাদ লিখে প্রকাশ করে না। যারা কলম হাতে নিয়ে মিথ্যা কোনকিছু লিখে তা প্রচার করে, এটাকে অপপ্রচার বলা হয়, অপপ্রচারকারী মানুষগুলো দেশ ও জাতির শক্র। দেশের ভেতরে যারা দেশ ও জাতিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হোক বলে দাবী জানান সাংবাদিক নেতারা। নতুন সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার আদর্শলিপি বই পড়া প্রয়োজন, প্রকৃত সাংবাদিকতা করলে তা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল হয়, মিথ্যাচার করলে তা বিপদজনক।
    সাংবাদিকরা না খেয়ে থাকলেও লজ্জায় কারো কাছে হাত পেতে সাহায্য নিতে পারেন না। ৩৬৫ দিনে এক বছর, জীবনে কোনদিন ছুটি নেই সাংবাদিকদের। ৩৬৪ দিন ভালো কাজ করেন আর একদিন একজনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করবেন এতে একটু ভুল হলেই সেই সাংবাদিক খারাপ হয়ে যায়। অপরাধীরা অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধে কোনকিছু লেখা যাবেনা, ১দিন যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ করছেনতো সাংঘাতিক হবেন সাংবাদিক। সাংবাদিক জাতির বিঊেশ, সেই বিবেককে গালি দিয়ে বলা হয় সাংবাদিকরা খারাপ, এটা কোন ধর্ম আর কোন বিচার ?। অনেকেই নিজেদেরকে বড় মনে করেন, নিজেদের স্বার্থের জন্য শক্রতা সৃষ্টি করেন আর একজন অন্যজনের ক্ষয়ক্ষতি করার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন এটা আমাদের ভুল হচ্ছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বয় করে কাজ করার মধ্যে আনন্দ আছে, “বৃহত্তর ঐক্যই আমাদের লক্ষ্য”। আমাদের লেখার মধ্যেও অনেক ভুল হয়। এই জন্য সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার আদর্শলিপি পড়া দরকার। বিশেষ করে “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিক দেশ ও জাতির বিবেক, ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, বিশেষ সম্মান অর্জন করার লক্ষ্যে কাজ করতে গিয়ে সম্মান অর্জন না হয়ে উল্টো বদনাম হচ্ছে আমাদের। সাংবাদিকতা করতে শুধুমাত্র মানুষের সুখ, দুঃখ, আনন্দ বেদনা, দুর্ঘটনাসহ সকল বিষয়ে জাতির কাছে তুলে ধরতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের অবশ্যই চোখ কান খোলা রেখে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেও কারো মনজয় করতে পারেন না কেন? ছোট একটি ভুল করলেই সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা করা হয়, এমনকি হত্যার শিকার হতে হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবাইকে বলা হয় সাংবাদিকদের সহযোগিতা করবেন কিন্তু তার উল্টো দেখা যায়, পুলিশ সাংবাদিক কি কখনো বন্ধু হতে পেরেছেন? কেউ কি খবর নিয়েছেন যে, সাংবাদিকরা কেমন আছেন? কোনো সহযোগিতা লাগবে কি না ?। অনেক সাংবাদিক আজকাল মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জনগণের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকেন সাংবাদিকরা, এর বিনিময়ে কি পাচ্ছেন তারা? নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অনেক সাংবাদিক, হয়রানিমূলক মামলার শিকার হচ্ছেন অনেকেই, যার কোনো হিসাব নেই। দেশে প্রায় ১৮ কোটি জনগণ, সেই তুলনায় আইনশৃঙ্খা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকের সংখ্যা অনেক কম, তবুও আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি। ধন্যবাদ জানাই তাদেরকে যারা মানুষের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। “পুলিশ, সাংবাদিক” আইনজীবি ও জনপ্রতিধিগণ, এই চারটি শব্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলো “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিকতা”। বিশেষ করে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি’র বেশিরভাগ শব্দ আছে যা সাংবাদিকদের জন্য জানা অতি জরুরি-যেমনঃ সংবাদের উৎসহের মত সংবাদের উপাদান কি? মানুষ এবং প্রকৃতি, মানুষের আশা-আকাঙ্খা, আনন্দ, বেদনা, সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনাই সংবাদের মূল প্রতিপাদ্য। এর সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয়ই সংবাদের উপাদান। যেমনঃ কুকুর যদি মানুষকে কামড়ায় তা কোনো সংবাদ নয়, আর মানুষ যদি কুকুরকে কামড়ায় বা অপ্রত্যাশিত কিছু অপকর্ম করে তা সংবাদ হয়। নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটনা, অন্যায় অবিচার, যা মানুষের অধিকারকে হরণ করে, এরকম অনেক বিষয়কে সংবাদ বলা যেতে পারে।
    সাংবাদিকরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, এতে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা সহজ হবে বলে অনেকেরই অভিমত। সাংবাদিককে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি পড়তে হবে, সেই সাথে সর্বশেষ সংশোধনীসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ম্যানুয়েল বই এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বইসহ বেশি বেশি বই পড়তে হবে। অনেকেই জানেন না যে, ১/ সাংবাদিক মানে জাতির বিবেক। ২/ সাংবাদিক মানে দেশ প্রেমিক। ৩/ সাংবাদিক মানে কলম সৈনিক। ৪/ সাংবাদিক মানে জাতির দর্পণ। ৫/সাংবাদিক মানে জাতির সেবক। ৬/সাংবাদিক মানে শিক্ষিত জাতি। ৭/সাংবাদিক মানে স্বাধীনভাবে কাজ করা। ৮/সাংবাদিক মানে সম্মানিত জাতি। ৯/ সাংবাদিক মানে তদন্তকারী। ১০/ সাংবাদিক মানে আইন বিষয়ে জানা। ১১/ সাংবাদিক মানে সিস্টেম পরিবর্তন করা। ১২/ সাংবাদিক মানে সকল তথ্য বিষয়ে জানা। ভয়কে জয় করে সাংবাদিকতা করার মধ্যে দেশপ্রেম আছে। স্বাধীনতা ও সম্মান অর্জন করা অনেক কঠিন-বাকিটা ইতিহাস। সাভার আশুলিয়ায় কিছু পুলিশ সদস্য মাদক সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করলে তাদের নামে থানায় অভিযোগ ও জিডি মামলা করা হয়, আমরা সাংবাদিকরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কেউ বাঁধা দিলে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। পর্ব-১।

  • নড়াইলের বাজারে পর্যাপ্ত শীতকালীন সবজি তবে নিয়ন্ত্রণ নাই দামে

    নড়াইলের বাজারে পর্যাপ্ত শীতকালীন সবজি তবে নিয়ন্ত্রণ নাই দামে

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি//

    নড়াইলের তিনটি উপজেলার হাট-বাজারে শীতকালীন তাজা সবজিতে ভরপুর হলেও দাম অনেক বেশি। ক্রেতারা বলছেন, অন্যান্য বছর শীতের এই সময়ে সবজি হাতের নাগালে থাকলে এবার শীতের কাঁচাবাজারে ছড়িয়েছে উত্তাপ।
    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান,
    মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) জেলার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। শসা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, আলু লাল ৪০ থেকে ৫০,আলু সাদা ৩৫ থেকে ৪৫,টমেটো ৪০ থেকে ৬০, গাজর ৩০, বেগুন ৭০ থেকে ৮০, মুলা ২০ থেকে ৩০, মরিচ ৮০ থেকে ১০০, পেঁয়াজ দেশী নতুন ৯০ থেকে ১০০, পেঁয়াজ কালি ৪০টাকা,ওল ৪০ থেকে ৫০,আদা ২০০ থেকে ২৪০, রসুন ২২০ থেকে ২৫০, পুঁইশাক ৬০ থেকে ৭০, শিম ৬০, বরবটি ৮০ থেকে ১০০, মটরশুঁটি ১০০ থেকে ১২০, সাদা বেগুন ৬৫ থেকে ৭০, করলা ১০০, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০.কাচঁকলা প্রতি হালি ২৫ থেকে ৩০টাকা ও মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

    বিকাশ কুন্ডু নামের এক ক্রেতা বলেন, শীতের সময় সবজির দাম কম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরপুর হলেও সবজি চড়া দাম কেন? এত টাকা দিয়ে সবজি কিনে পরিবার চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে।

    সবজি ক্রেতা রইচ উদ্দীন টিপু বলেন, বাজারে সব কিছু থাকা স্বর্তে ও দাম বেশি। আমদানি আছে কি কারণে জিনিসপত্রের দাম বেশি বুঝতে পারছিনা। তাছাড়া বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ না থাকার কারণে দেশি পেঁয়াজের দাম অনেক বেশি। সব ধরনের সবজির দাম তুলনামূলক বেড়েছে।সাধারণ মানুষের চড়া মুল্যে সবজি কিনতে হিমসিম খাচ্ছে। কৃষক সবজি উৎপাদন করে তারা দাম বেশী পায়না কিন্ত খুচরা বাজারে শাক-সবজির দাম চড়া।

    লোহাগড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ইবাদত শিকদার বলেন, সবজির দাম অন্যবারের তুলনায় বেশি। তবে সরবরাহের বড় কোনো ঘাটতি নেই। তিনি আরও বলেন, আবহাওয়ার কারণে শীতের সবজিতে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এজন্য আগের তুলনায় সবজির দাম একটু বেড়েছে। তবে আশা করছি ৭-৮ দিনের মধ্যে সবজির দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।

  • নড়াইলে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

    নড়াইলে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি//
    নড়াইলে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মো. সফিকুল ইসলাম নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
    জানান, মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার আলা মুন্সীর মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আফরিন জাহান।
    মো.সফিফুল ইসলাম যশোর জেলার বারান্দীপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।

    উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আফরিন জাহান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া চিকিৎসক মো. সফিকুল ইসলাম বিভিন্ন ডিগ্রী ব্যবহার করে রোগি চিকিৎসা করতেন এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার আলামুন্সীর মোড় এলাকায় নুর মদিনা মেডিকেলে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে ভুয়া চিকিৎসক মো. সফিকুল ইসলামকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক খালিদ সাইফুল্লাহ বেলাল ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
    লোহাগড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরিন জাহান বলেন, ওই ব্যক্তি বিভিন্ন ডিগ্রী ব্যবহার করে রোগি চিকিৎসা করতেন। গোপন সংবাদ পেয়ে ওই ভুয়া চিকিৎসককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
    এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাক্তার সাজেদা পলিন বলেন,
    অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনরকম চিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই “বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক” সেজে মনগড়া চিকিৎসা দিয়ে আসছিলো। আজ তাকে গ্রেপ্তার করে ৩ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। সবাই এমন ভন্ড-প্রতারক সম্পর্কে সচেতন থাকবেন এবং আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন।

  • গোদাগাড়ীতে   সরিষা চাষে বিপ্লব,  বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছে কৃষক

    গোদাগাড়ীতে সরিষা চাষে বিপ্লব, বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছে কৃষক

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ফসলের মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ছেঁয়ে গেছে। শীতে হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষকেরা । এক সাথে ফোটা ফল গুলো রোদ ঝলমল আলোয় প্রকৃতির মাঝে অপরুপ সৌন্দর্যর শোভা ছড়াচ্ছে। আর তা দেখতে ভীড় করছেন প্রকৃতি প্রেমীরা ।

    কৃষকরা আগে এসব জমিতে শুধু ইরি-বোরো এক ফসলী আবাদ করে হাজার হাজার হেক্টর জমি পতিত রাখত। কালের বিবর্তনের সাথে সাথে এ অঞ্চলের কৃষকদেরও কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটেছে।

    তারা বিগত দু, যুগ ধরে ইরি-বোরো, আমন, টমেটো করোলা. লাউ, পটল, শীম, ভূট্টা, তরমুজ আবাদের পাশাপাশি সরিষার আবাদেও ঝুঁকেছে। তাই এখন সরিষার হলুদ ফুলে ফুলে ঢাকা গোদাগাড়ীর বিস্তীর্ণ মাঠ। গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়াদহ বিল, বাসুদেবপুরের বিল চড়াইয়ের যে দিকেই তাকাই হলুদ ফুলে চোখ ঝলসে উঠে। ফুলের সাথে লক্ষ লক্ষ মৌমাছি গুঞ্জন কৃষককে মহিত করে তুলেছে। মৌমাছি সরিষার ফুল থেকে মধু আহরণে ব্যস্ত। মধু আরোহনকারীরা মধু আরহনে ব্যস্তসময় পার করছেন। শীতের শিশির ভেজা সকালে সরিষার ফুল ফল দুলছে তো দুলছে সে সাথে দুলছে কৃষকের মন।
    তাই তো তারা দিনের বেশী সময় সরিষার মাঠে সময় পার করছেন। এ বছর গোদাগাড়ীতে বাম্পার সরিষার ফলন আশা করছেন কৃষক।

    ডিসেম্বর শেষ সপ্তাহে শীত বাড়ার সাথে এসব সরিষা ক্ষেতে দেখা দিয়েছে আরও ফুল । শীতের আমেজ বাড়ার সাথে বাড়ে সরিষার ফুলও । এ সময় প্রকৃতি সরিষার ফোটা ফুল ছড়ায় মুগ্ঘতা । দিগন্ত জোড়া হলুদ সরিষার ফসলের মাঠ। যতদুর চোঁখ যায় সরিষার ক্ষেত । আগের বোনা সরিষা গুলি মাড়া শেষ হয়েছে, বিঘা প্রতি ৩ মন থেকে সাড়ে ৪ মন পর্যন্ত হচ্ছে।

    অগ্রহায়ণের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে এক সাথে ফোটা সরিষার ফুল গুলো। আর তা উপর থেকে দেখলে মনে হবে যেন হলুদ গালিচা । ফোটা সরিষা ফুলে ভ্রমর মধু খুঁজে ফিরছে ফুলে ফুলে । মধুমাখা ক্ষণে, প্রকৃতির সনে, সুবাসে মশগুল, সরষে ফুল । বিকেলের বেলাতে, মৌমাছির খেলাতে,গুনগুন তুলে রব,চারিদিকে সৌরভ, কবির লেখা কবিতার মতোই অসাধারণ এ চিত্রপট ফুটে উঠেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বরেন্দ্রাঞ্চলের বিস্তির্ন মাঠে ।

    মাঠ জুড়ে প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য উপভোগ করতে দুর দরান্ত থেকে আসছেন তরুণ তরুণী সহ নানা বয়সী মানুষ । মাঠের চার পাশ ঘুরে দৃষ্টি নন্দন এমন পরিবেশ কে ক্যামেরা ফ্রেমে বন্দি করতে ব্যস্ত দর্শনার্থীরা

    কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ – ২০২২ অর্থবছরে এ উপজেলায় মৌসুমে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২শ’ ৪০ হেক্টর। লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

    গোদাগাড়ী উপজেলায় ২০২০ – ২০২১ অর্থবছরে ৭ হাজর ২শ ১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল। বারি সরিষা-১৪ জাত ২ হাজার ৮শ ৪৫ হেক্টর, বারি সরিষা-১৫ জাত ২ হাজার ৬শ ৯০হেক্টর, বারি সরিষা-১৭ জাত ২শ ৩৫ হেক্টর, এছাড়া বিনা সরিষা সহ স্থানীয় কিছু জাত চাষ হয়েছে।

    রাজশাহী জেলার উপ-পরিচালক মোঃ মোজদার হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা এক ইঞ্চি জমি ফাঁকা ( পতিত) রাখা যাবে না। এ ঘোষনাকে বাস্তবায়ন করার জন্য,স্মার্ট কৃষি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কৃষিক্ষেত্রে বিভন্ন কার্যক্রম গ্রহন করা হয়েছে আজ পর্যন্ত চাষে ও বিনা চাষে সরিষা বপন হয়েছে শুধু মাত্র গোদাগাড়ি উপজেলায় ১৯ হাজার ৫ শ ৪৩ হেক্টর। বিনা চাষে ৫ হাজার ১ শ ২৫ হেক্টর সরিষা চাষ হয়েছে। বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তাগন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজ করছেন, কৃষকদের পরামার্শ দিচ্ছেন। ইনসাল্লাহ সরিষার বাম্পার ফলন হবে।

    এছাড়া প্রতি সরিষা জমি থেকে বাড়তি আয় করতে অনেক বেকার যুবক এবং কৃষকগণ মৌবাক্স স্থাপন করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোদাগাড়ী সকল ধরনের কারিগরী সহযোগিতা করছে। কিছু কিছু জমিতে মধু আহরণের জন্য চাষীরা মধু সংগ্রহের বাক্স বসিয়েছেন। তেল বীজ, মধুর পাশাপাশি কৃষকরা সরিষা থেকে উন্নত গো-খাদ্যও তৈরী করতে পারবে বলে আশাবাদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

    সরিষা প্রধানত আবাদ হয় দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে, বিশেষ করে নদী বিধৌত এলাকায়। কার্তিক-অগ্রাহায়ণ মাসে দু-একটি চাষ বা বিনা চাষেই জমিতে ছিটিয়ে সরিষা বীজ বপন করা হয়। সরিষা চাষে সেচ ও সার লাগে কম। সরিষার পাতা একটি উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। তেল নেয়ার পর অবশিষ্ট অংশ গরুর খৈল হিসেবে খাওয়ানো হয়। এতে প্রচুর পুষ্টি থাকে। জ্বালানী হিসেবে সরিষার গাছ ব্যবহার করা হয়।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার বিলপাতিকলা, দূর্গাদহ বিল, রেলগেট বিল, সুশাডাং, বোগদামারি, কালিদিঘি, পিরিজপুর, প্রেমতলী, সিধনা বিল, গ্রোগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বির্স্তীণ মাঠ সরিষার হলুদে ফুলে ছেঁয়ে গেছে। কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে তেলের চাহিদা মিটাতে গোদাগাড়ী কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমি সরিষা আবাদ করেছি। আশা করছি, সরিষা চাষে লাভবান হতে পারব।

    গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার অতনু সরকার বলেন, সোয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে তেলের চাহিদা মিটাতে কৃষকদের সরিষা চাষে সচেতন করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সরিষা চাষে পরামার্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

    গোদাগাড়ী এলাকার কৃষকরা জানান, কালের প্রেক্ষাপটে আমন ধানের বিকল্প হিসেবে গোদাগাড়ীতে কৃষকরা বোরো ধানের চাষে ঝুঁকে পড়ে। বিল চাড়ায়ের পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে মাঠের কৃষক কখনো সরিষার আবাদ করার কথা ভাবেনি। এখন থেকে ২০ বছর আগে এ বিলের কৃষক সমাজ ভাবতে পারেনি এ জমিতে সরিষা, মুসরি চাষ করার কথা। গত কয়েক বছর বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় এবিলের মাঠে মাঠে সরিষার আবাদ হয়েছে পুরোদমে। বর্তমানে সরিষার গাছে গাছে হলুদ ফুলের সমাহার। প্রায় ফুলেই মৌমাছি বসে মধূ আহরণ করছে। কৃষক আশা করছে কোন রোগ বালাই না হলে এবার গোদাগাড়ীতে সরিষার বাম্পার ফলন হবে।

    গোদাগাড়ী পৌর এলাকার কৃষক আব্দুল মাতিন জানান, এ বছর আমি ৩ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে প্রতি বিঘা জমিতে ৫থেকে ৬ মণ হারে সরিষার ফলন হবে। একই গ্রামের শামসুল আলম জানান, সরিষার আবাদের পরই জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা যায়। এতে জমিতে সার কম লাগে। সরিষার পাতা ও শিকড় সবুজ সারের কাজ করে এবং বোরো ধানের ফলনও বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। অল্পসময়ের মধ্যে ২টি ফসল ঘরে তুলতে পারছে কৃষক।

    ভাজনপুর এলাকার কৃষক দুলুদেব বলেন, বর্তমানে মাঠে সরিষার, ভুট্টা, বিনাচাষে রসুন, ধনিয়া, গমের আবাদ হয়েছে। সরিষার চাষে লাভ বেশী খরচ কম। তাছাড়া সহজেই বিক্রয় করা যায়। সরিষার আবাদ ঘরে তোলার পর ওই জমিতেই সার ছাড়াই বোরো ধানের চাষ করা যায়। সরিষার আবাদ এ অঞ্চলের কৃষককে লাভের মুখ দেখাতে পেরেছে। সরিষার পাশাপাশি এবার ভুট্টার আবাদও হয়েছে ব্যাপক। মাত্র ২ থেকে আড়াই মাসের মধ্যে সরিষা জমি থেকে ঘরে তোলা যায়। সরিষার পাতা ও শিকড় জমিতে জৈব সারের কাজ করে। গাছগুলি জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষককে একের অধিক ফসল ফলানোর জন্য নানাভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া উপসহকারী কৃষি অফিসারগণ সার্বক্ষণিক মাঠে কৃষকের সাথে কাজ করছেন। যাতে কৃষকের কোন প্রকার সমস্যার সৃষ্টি না হয়। আমি আশা করছি, প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয় না ঘটলে এবার বিল চড়াইসহ গোদাগাড়ী সরিষা, গম, পিয়াজের রসুনের বাম্পার ফলনের আশায় স্থানীয় কৃষকদের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী