Blog

  • আজমিরীগঞ্জ জলসুখা ইউনিয়ন সেভেন স্টার ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন আকবর হোসেন।

    আজমিরীগঞ্জ জলসুখা ইউনিয়ন সেভেন স্টার ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন আকবর হোসেন।

    হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।
    আজমিরীগঞ্জ জলসূখা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলার আয়োজন করে জলসূখা ইউনিয়নের এক ঝাঁক যুবক।আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭:৩০ ঘটিকায় জলসূখা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে জলসূখা ইউনিয়ন সেভেন স্টার যুবকদের উদ্যোগে ব্যাডমিন্টন খেলার আয়োজন করেন।উক্ত ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও আকবর হোসেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আকবর হোসেন। টুর্নামেন্টে তিনি বলেন, ক্রীড়ার প্রতি আমি আকৃষ্ট, আমি ক্রিকেট,ফুটবল, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন প্রকারের খেলায় অংশগ্রহন করেছি,আপনারা যুবকরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন সব ধরনের সহযোগিতা আমার কাছ থেকে পাবেন। ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করার পর জলসূখা বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে গন সংযোগ ও মতবিনিময় করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকবর হোসেন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সামজিক কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।করোনাকালীন থেকে শুরু করে বন্যাদূর্গতের মাঝে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন।আকবর হোসেন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প,শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরন করেছেন।আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও আকবর হোসেন ফাউন্ডেশনের আকবর হোসেনের জনসংযোগকালে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামান আলী,আওয়ামী লীগ নেতা অনু মিয়া,আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম,কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃসোহাগ মিয়া, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আফসার মিয়া,আকবর হোসেন ফাউন্ডেশনের সদস্য আবদুল গনি,সেচ্ছাসেবক লীগের নেতা সাগর মিয়া, ফাউন্ডেশন সদস্য নাজমুল মিয়া, জলসুখা বাজারের ব্যবসায়ীবৃন্দ সহ অনেক লোকের উপস্থিতি ছিলো। আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও আকবর হোসেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আকবর হোসেন জলসুখা বাজারে গন সংযোগকালে সবার নিকট দোয়া ও আশীর্বাদ চান।

  • নাগেশ্বরীতে কোটি টাকা নিয়ে প্রতারক জাকির ও রাসেল উধাও

    নাগেশ্বরীতে কোটি টাকা নিয়ে প্রতারক জাকির ও রাসেল উধাও

    এম এস সাগর,
    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

    নাগেশ্বরীতে মা কসমেটিক্স ও অভিযাত্রী সুজ প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর কুড়িগ্রাম সওদাগড় পাড়ার বাসিন্দা জাকির হোসেন ও রাসেল মিয়া প্রায় ২০জন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের কাছে কোটি টাকা নিয়ে উধাও!

    কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা-পৌরসভার নাগেশ্বরী ডিএম একাডেমি স্কুল গেট সংলগ্ন মা কসমেটিক্স প্রোঃ জাকির হোসেন এবং নাগেশ্বরী কাজী মার্কেটের অভিযাত্রী সুজ প্রোঃ রাসেল মিয়া প্রায় ৭বছর থেকে ব্যবসা করে আসছেন এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ প্রায় ২০জনের কাছ থেকে এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে কয়েকদিন পুর্বে প্রতিষ্ঠান তালা দিয়ে উধাও হয়ে গেছেন।

    ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন, নয়ন মিয়া, এলিম, আব্দুল খালেক, আব্দুল ওহাব ও কসাই জানান, কুড়িগ্রাম সওদাগড় পাড়া এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের পুত্র জাকির হোসেন ও রাসেল মিয়া (দুই ভাই) দীর্ঘ ৭বছর ধরে নাগেশ্বরী পৌরসভার ডিএম একাডেমি স্কুল গেট সংলগ্ন জাকির হোসেনের “মা কসমেটিক্স” এবং কাজী মার্কেটে রাসেল মিয়ার “অভিযাত্রী সুজ” প্রতিষ্ঠান রুম ভারা নিয়ে ব্যবসা করে আসছেন এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে সুসম্পর্কের ফায়দা নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে বেশি টাকা লাভ দেয়ার লোভ দেখিয়ে টাকা নেন এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করে টাকা আয় করে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেন প্রতারক দুই ভাই।

    অভিযোগদের মধ্যে ফারুক হোসেনের ১লাখ ৫০হাজার, নয়ন মিয়ার ২লাখ ২০হাজার, এলিমের ৫০হাজার, আব্দুল খালেকের ৩লাখ, আব্দুল ওহাবের ২লাখ ও কসাই আলীর ২লাখ ২০হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রতারক জাকির হোসেন ও রাসেল মিয়া। অভিযোগকারীরা ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছে যাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে তাদের দোকানের মালামাল শূণ্য করে রাতারাতি দোকানে তালা দিয়ে উধাও হয়েছেন প্রতারক দুই ভাই। ভুক্তভোগীরা ধারণা করছেন জাকির হোসেন ও রাসেল মিয়া প্রায় এক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন।

    ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন, নয়ন মিয়া, এলিম, আব্দুল খালেক, আব্দুল ওহাব ও কসাই জানান, কুড়িগ্রাম সওদাগড় পাড়া এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের পুত্র জাকির হোসেন ও রাসেল মিয়া (দুই ভাই) কে বিশ্বাস করে আমরা টাকা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন। আমরা সকলেই এখন নিঃস্ব। আমাদের রাস্তার ফকির বানিয়ে চলে গেছেন প্রতারক জাকির হোসেন ও রাসেল মিয়া। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি যাতে তাকে ধরে আমাদের টাকা ফিরিয়ে দেয়।

    এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সওদাগড় পাড়া এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের পুত্র জাকির হোসেন ও রাসেল মিয়া নিজ এলাকায় বিভিন্ন মানুষদের সাথে প্রতারনা করে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে নাগেশ্বরীতে এসে ৭বছর ব্যবসা করে হঠাৎ করেই কোটি টাকা নিয়ে উধাও।

    নাগেশ্বরী বণিক সমিতির সভাপতি ফজলুল হক (ফজলু) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জাকির হোসেন ও রাসেল মিয়া নাগেশ্বরীতে ৭বছর ধরে ব্যবসা করে আসছেন। হঠাৎ করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের কাছে টাকা নেন এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করে টাকা আয় করে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেন প্রতারক দুই ভাই রাতারাতি উধাও হয়েছেন।

    নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ রূপ কুমার সরকার বলেন, অভিযোগ পাওনা যায় নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোঃ রুহুল আমীন বলেন, কুড়িগ্রামে আমরা প্রায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে নানাভাবে মানুষকে সচেতন করছি। কুড়িগ্রাম জেলায় অপরাধ নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • পীরগঞ্জে উপজেলা প্রেসক্লাবের ১০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ১১ বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    পীরগঞ্জে উপজেলা প্রেসক্লাবের ১০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ১১ বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি।।
    স্টাফ রিপোর্টার।।
    ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ শুক্রবার বেলা ৩ ঘটিকায় একমাত্র সুনাম ধন্য সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান পীরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের ১০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ১১ বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত অনুষ্ঠানে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি গীতি গমন চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পীরগঞ্জ উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা এবং সমাজ সেবক জননেতা সাবেক পৌর কমিশনার ও সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃসলেমান আলী,পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার রায়,পীরগঞ্জ উপজেলা আরজেএফ সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক মোঃআব্দুর রহমান,পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃসিরাজুল ইসলাম,৮নং দৌলতপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ চৌধুরী, সাংবাদিক মোঃজোহা,সাংবাদিক মোঃলুৎফর রহমান,সাংবাদিক মোঃরিয়াদ প্রমুখ।

    এছাড়া ও উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    পরিশেষে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি সভাপতিত্বে এবং
    উক্ত অনুষ্ঠান নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শান্তি ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে সমাপ্তি হয়।

    গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি।।
    স্টাফ রিপোর্টার।।

  • আশুলিয়ায় মৎস্য বাজারে মোবাইল কোর্টের অভিযানে নিষিদ্ধ ৪৪০ কেজি ইলিশের জাটকা জব্দ

    আশুলিয়ায় মৎস্য বাজারে মোবাইল কোর্টের অভিযানে নিষিদ্ধ ৪৪০ কেজি ইলিশের জাটকা জব্দ

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন নয়ারহাট মৎস্য আড়ৎ মাছ বাজারে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান/ মোবাইল কোর্টে (১১ মণ ইলিশের জাটকা) জব্দ করেছেন সাভার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা।
    শুক্রবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ইং) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার নয়ারহাট মৎস্য আড়ৎ মাছ বাজারে মোবাইল কোর্ট ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৪৪০ কেজি (১১ মণ জাটকা) জব্দ করেছেন সাভার উপজেলা প্রশাসন ও সাভার উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার কৃষিবিদ মোঃ কামরুল হাসান সরকার। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাভার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সাজেদুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ হারুন-উর রশিদ ও নিরাপত্তায় সহায়তা করেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মালেক সঙ্গীয় ফোর্স।
    ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার কৃষিবিদ মোঃ কামরুল হাসান সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, গত ০১ নভেম্বর -৩০ পর্যন্ত ৮মাস অভিযান চলবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মৎস্য-১ অধিশাখা। জনস্বার্থে জারিকৃত আদেশ কার্যকর করা হচ্ছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে যুগ্মসচিব মোঃ হেমায়েত হোসেনের স্বাক্ষরকৃত একটি অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হয়। তিনি আরো বলেন, জাটকা (১০ ইি , ২৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যরে চেয়ে ছোট ইলিশ) ধরা, পরিবহণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও হেফাজতে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। সতর্ক নজরদারিতে মৎস্য অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও নৌ-পুলিশ আমাদের অভিযানে সহায়তা করছেন। দোষীদের ১-২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড/৫০০০/টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও উভয় দণ্ড প্রযোজ্য। নয়ারহাটে মৎস্য অফিসার ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নিষিদ্ধ জাটকা বিক্রি করা লোকজন পালিয়ে যায়, পরে জব্দকৃত মাছগুলো বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। তিনি দাবি করেন, এর আগে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়া, ৬তলা, আনা মিয়ার মাছ বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে অভিযান করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • দেশের  নদীর একাল সেকাল, পদ্মা এখন মরা খাল

    দেশের নদীর একাল সেকাল, পদ্মা এখন মরা খাল

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ নদীমাতৃক এই বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছিল হিমালয় থেকে ছুটে আসা অসংখ্য নদ-নদীর প্রবাহ থেকে। যে প্রবাহের সাথে বহমান বিন্দু বিন্দু পলিমাটি হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে তুলেছিল পৃথিবীর বৃহত্তম এই ব-দ্বীপ। এ দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা সবকিছুতেই রয়েছে নদীর প্রভাব। একসময় এই নদীর বুকেই ভেসে গিয়েছে বড় বড় বানিজ্যিক জাহাজ। নদীর পাড়ে মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে তৈরী হয়েছে গান, কবিতা, উপন্যাস ও চলচ্চিত্র। মুলত তিব্বতী ভাষায় বঙ্গ অর্থ ভেজা। আবার বাংলায় বঙ্গ শব্দটি বহন এবং ভাঙ্গার সাথে জড়িত। তাই বঙ্গ একসাথে বহন করে উপরের পানি ও পলিমাটি আবার সেটা বিভিন্ন পথে ভাঙ্গনের সৃষ্টি করে। তাই এ দেশের অন্য নাম হল বঙ্গ দেশ।

    তবে সেসব এখন অতীত। বাংলাদেশ এখন নদী বিপর্যয়ের দেশ। দেশের আড়াই শতাধিক ঐতিহ্যবাহী, নান্দনিক নদ নদী মরে গেছে। অনেকগুলো বেদখল হয়েছে। অস্তিত্ব বিপন্ন হয়েছে। এভাবেই দেশের প্রায় ৯৯% নদী তাদের নাব্যতা, গভীরতা, আকার আকৃতি হারাচ্ছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ। হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্য।

    হাজার নদীর দেশ বাংলাদেশ। এককালের পঁচিশ হাজার কিলোমিটারের জলপথের বাংলাদেশ। নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। বিস্তৃত অববাহিকা ও জীবন্ত বদ্বীপ দেশটির ঐতিহ্য, সামাজিকতা, সংস্কৃতিকে নদীময় করে রেখেছে। বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এ নদী। হাজার বছরের বাঙালিয়ানার শিকড় গ্রথিত প্রোথিত গভীরে। ঐতিহ্য বহমান নদীর স্রোতের সাথে। এ দেশের মানুষের যা–কিছু ঐতিহ্য, ঐশ্বর্য ইতিহাস, সংস্কৃতি সবকিছুতেই নদীর আশ্রয়–প্রশ্রয় বিমূর্ত। এদেশের সংস্কৃতির ভাষা, ছন্দ ভাটিয়ালি, পল্লীগীতি, জারি–সারি, প্রভৃতি নদীর নান্দনিকতায় ভরা। এসবে নদী প্রধান, নদী জীবন্ত, বিমূর্ত । নদীর জলে নাওয়া, গাওয়া, খাওয়া, পরিশুদ্ধি, চাষবাস এ দেশের মানুষকে প্রকৃতিবান্ধব করে, প্রকৃতির সন্তানে রূপান্তরিত করে। প্রকৃতির সাথে মিশিয়ে রাখি।
    নদীর তীরে হাট–বাজার, গঞ্জ, নগর, শহর, গড়ে প্রকৃতির ছোঁয়ায় মানুষের সমাজ বিনির্মাণ ও চর্চিত হয়েছে প্রাচীন বাংলার জনপদ থেকে। এদেশের মানুষের আদি পেশা কৃষি। কৃষি এবং মৎস্য শিকারকে সমৃদ্ধ করেছে নদী এবং তার পলি ও পলল ভূমি। নদীর সাথে মানুষের দৈনন্দিন আচার–আচরণ, সংমিশ্রণ, সংশ্লেষণ বাঙালির ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। বেদনায়, তাড়নায়, বিসর্জনে, বিহ্বলতায়, বিপদে–আপদে নদীর আশ্রয় গ্রহণ করেছে মানুষ। পানিতে ভাসা, হৃদয়ে জাগা অবিরাম বৃষ্টিপাত, বন্যা খরায় বিভিন্ন ঋতুতে ক্লান্ত–শ্রান্ত বাংলাদেশ। উজানের নদীবাহিত পলি, ভূমির পুষ্টি আমাদের ঐতিহ্যকে পুষ্টিবান করে। সমতল পলিপৃক্ত মাটির বুক চিরে সোহাগে বয়ে যাওয়া মায়াবী নান্দনিক নদীর দেশ, প্রীতি ও স্মৃতির দেশ বাংলাদেশ।

    বাঙালির নারীর চোখের জল বাংলার নদীর জলের সাথে একাকার হয়ে সকাল–সন্ধ্যায় জীবনের সাথে প্রতিবেশের মহামিলন ঘটে এই ভূখণ্ডে। এই ভূখণ্ডে নদী ও নারী, নদী ও জীবন, নদী ও সংস্কৃতি সে কারণে অবিচ্ছেদ্য, অবিভাজিত, পরিপূরক।

    নদীমাতৃক এই দেশকে, এই দেশের প্রতিবেশ–পরিবেশকে করেছে সমৃদ্ধ, ঐতিহ্যময়, বৈচিত্র্যপূর্ণ। বিচিত্র এ সম্ভার পৃথিবীর আর কোথায় পাওয়া যায়! বিল–ঝিল, হাওড়–বাওর, জলাভূমি, জলমহাল, নদ–নদী, সাগর–মোহনা সবকিছুতেই প্রকৃতির সাথে বাঙালির জীবনের ছুঁয়ে যাওয়া পরশের প্রভাব বিদ্যমান। এভাবেই গড়ে উঠেছে বাঙালিয়ানার হাজার বছরের সাংস্কৃতিক, সামাজিক পরিমণ্ডল, আবহ।

    গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকেই এ দেশে নদী–ঐতিহ্যে সংকটের সূচনা হয়। নদী কমে এসেছে। বিপন্নতার ধারাবাহিকতায় নদীর সংখ্যা এখন হয়েছে সাড়ে চারশত। ৫৭ টি আন্তর্জাতিক নদীই বিপদাপন্ন। বিপদাপন্নতা এখন আন্ত ও আন্তর্জাতিক বিষয়। নাব্যতা শঙ্কা নিয়ে, দখল–দূষণ নিয়ে, অস্তিত্বের সংকট নিয়ে দেশের নদীগুলো চরমভাবে সংকটাপন্ন। দেশের আভ্যন্তরীণ নদীপথ এখন বর্ষা মৌসুমেই সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি নয়। পঁচিশ হাজার কিলোমিটার থেকে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার!

    দক্ষিণের চিত্রা, কীর্তনখোলা, ভৈরব,
    রুপসা,কপোতক্ষ;
    উত্তরের করোতোয়া, ইছামতি, নারোদ, বড়াল, তিস্তা, সুরমা, ব্রহ্মপুত্র, কংস, সোমেশ্বরী দূষণের দখলে দারুণভাবে সংকটাপন্ন বিপদাপন্ন। দখলদার ও ভূমি দস্যুদের দুর্দমনীয় প্রতাপে বিলীন হওয়ার পথে দেশের শতাধিক নদ–নদী।

    পাবনার ইছামতি, কিশোরগঞ্জের নরসুন্দর, বগুড়ার করতোয়া, শাহজাদপুরের বড়াল, ছোট করোতোয়া, নাটোরের নারোদ, তাড়াশের বেহুলা, গাইবান্ধার ঘাঘট, রংপুরের শ্যামাসুন্দরী, নেত্রকোণার সোমেশ্বরী, কুমিল্লা গোমতী, জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী– হালদা, বাঁকখালী বিপন্নতায় বিদিশাগ্রস্ত। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ঐতিহ্য আমাদের নদ–নদী। এদের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেহ লুটপাট হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যে দূষণ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আমাদের জাগতেই হবে।

    নদীর দখলকারীদের চিহ্নিত করে বিশাল তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন প্রকৃতিবাদীরা স্বস্তি পেয়েছে, আশান্বিত হয়েছে। দেশের অনেক নদীকেই একাধিকবার আদালতের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। নদীর দেহ লুণ্ঠনকারী শকুনরা থেমে নেই। পৃথিবীর দেশে দেশে নদীকে আইনি সুরক্ষা দেয়ার প্রক্রিয়া চালু হয়েছে ২০১৭ সাল থেকে।

    আমাদের দেশে নদীসমূহের প্রধান সংকট– দখল, দূষণ, নাব্যতা, প্রতিবন্ধকতা এবং অবৈধভাবে নদীদেহ লুন্ঠন ও সংকোচন। বালি, মাটি উত্তোলন, প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা ।

    অবহেলা, নির্লিপ্ততা আমাদের অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত। কর্ণফুলী আমাদের দেশের অর্থকরী প্রধান নদী।দূষণে, দখলে, উৎপীড়নে নদীটির বিপদাপন্নতা অবর্ণনীয়। আমাদের অভ্যন্তরীণ এবং বহির্বাণিজ্যের শতভাগ সম্পাদন করার প্রধান মাধ্যম এটি। বিগত প্রায় এক দশক যাবত মহাখনন বা ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের নামে নদীটির উপর যে অত্যাচার– উৎপীড়ন চালানো হয়েছে, তা অবর্ণনীয়।

    তিস্তার পানি প্রবাহ এ এযাবতকালের সর্ব নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তিস্তা ব্যারাজ থেকে দেড়শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত নদী এখন মরা গাঙে পরিণত হয়েছে। স্রোত না থাকায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদী। ১৯৭৭ সালে তিস্তার উজানে গজলডোবা নামক স্থানে ভারত একটি ব্যারেজ নির্মাণ করে তিস্তার দূর্বার গতিকে থামিয়ে দেয়। ভৈরব এবং কপোতাক্ষ থেকে বের হওয়া নদীগুলো বর্ষার কয়েক মাস পানি থাকে, বাকি সময়গুলো শুকিয়ে যায়। আর নদী শুকিয়ে যাওয়ায় মানুষ নদীর দু’তীরে দখল করে বসতবাড়ি-মার্কেট তৈরি করছে। পদ্মা নদীর ওপরেই ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করেছিল ব্রিটিশ শাসকরা। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর বোমা বর্ষণের ফলে এর কয়েকটি স্প্যান ধসে পড়েছিল।

    ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ছিল। সেই নৌপথ কমতে কমতে এখন প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটারে নেমেছে। শুষ্ক মৌসুমে আরও কমে হয় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার। এ তথ্যের উত্স বিআইডব্লিউটিএর নদী সংরক্ষণ বিভাগ।ভারতের কূটনৈতিক আচরণের অভিজ্ঞতা দেখে মনে হয়, বাংলাদেশ অংশে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদীর মৃত্যু ঘটবে।আমাদের দেশে আজকাল গ্রামে গ্রামে টিউবওয়েল বা চাপকল ব্যবহার করা হয় খাবার পানির জন্য, কিন্তু গ্রীষ্ম মৌসুমে অনেক কলেই পানি উঠছে না। বাংলাদেশের জন্য পানির সমস্যাটি এখন খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়।সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, নদীমাতৃক দেশ এখন মরুভূমি হতে চলেছে।আমরা এখনো সজাগ না হলে,নদী দেখতে হয় ভারত নয় বইয়ের পাতায় নদী খুজবে আমাদের পরব্তি বংশধরেরা!যে দেশের পরিচয় দিতে গিয়ে প্রথমেই বলা হতো নদীর কথা, যে দেশটিকে বলা হতো নদীমাতৃক দেশ, সেই নদীমাতৃক দেশেই কি না অনেক নদী শুকিয়ে গিয়ে মরুভূমির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন করছে মানুষ। এর প্রভাব পড়ছে নদীগুলোতে। এই যে নদী তার নাব্যতা হারাচ্ছে, এটাও তো মানুষেরই কারণে। নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। ব্যবহারের উপযোগিতা হারাতে হারাতে এখন এ পানিই মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    নদীটি দেশের ব্যবসা ও অর্থকরী মাধ্যম হয়েও চরম অবহেলার শিকারে পরিণত হয়েছে। এভাবে এটি নিজেই ব্যবসার উপাদানে পরিণত হয়েছে। ভূমিদস্যুরা এর দেহ নিয়ে ব্যবসা করছে।

    সংকটের স্বরূপ উদঘাটিত। প্রতিকার নিয়ে নির্লিপ্ততা, নিষ্ক্রিয়তা কিংবা আন্তরিকতার ঘাটতি, সময়োপযোগী পদক্ষেপের অনুপস্থিতি প্রকৃতি পরিবেশ এবং দেশের এই প্রাকৃতিক মূলধনের প্রবাহ নিয়ে আমরা চরমভাবে উদাসীন। আমাদের উদাসীনতা হাজার বছরের এই ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে বসেছে। নদী খোর, নদীর বালি ও মাটিখোরদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
    এখনো সময় আছে, বাংলাদেশের নদীগুলোকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে। মানুষের অত্যাচারও কমাতে হবে। তা না হলে একদিন এমন সবুজ দেশটির জন্য আমাদের আফসোস করতে হবে।

    লেখক : মোঃ হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

  • রাজশাহীতে সংরক্ষিত আসনে পচ্ছন্দের শীর্ষে মর্জিনা

    রাজশাহীতে সংরক্ষিত আসনে পচ্ছন্দের শীর্ষে মর্জিনা

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত হয়েছে সংসদ। এবার সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নির্বাচনের পালা। যাঁরা দলের মনোনয়ন পান, তাঁরাই হন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি। এবার রাজশাহী থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় এক ডজন নেত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হবার আলোচনায় রয়েছেন। তাঁদের অনেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এবার আলোচনা ও পচ্ছন্দের শীর্ষে রয়েছেন মর্জিনা পারভিন। স্থানীয়দের অভিমত, সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মানসিকতা বিবেচনা করে প্রার্থী দেয়া হলে মর্জিনার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত।
    জানা গেছে, সুখী সমৃদ্ধ স্মার্ট স্বছন্দময়ী সদা হাস্যউজ্জল একটি মানুষ । যার নাম মর্জিনা পারভিন । উত্তরবঙ্গের অন্যতম আদর্শিক, পরিক্ষিত ও শ্রেষ্ঠ নারী নেতৃত্ব মর্জিনা পারভিন। রাজশাহীবাসীর প্রাণপ্রিয় নেত্রী রাজপথের লড়াকু ও সাহসী সম্মুখ যোদ্ধা তৃণমূল থেকে তিলে তিলে গড়ে উঠা আদর্শের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত মর্জিনা পারভিন । পারিবারিকভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত । গতানুগতিক রাজনীতির স্রোতে তিনি কখানোই গা-ভাসিয়ে দেননি। সব সময় থেকেছেন মুল ধারার সঙ্গে এখানো রয়েছেন অবিচল। বিগত ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত রাজশাহী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ও ২০০৫ থেকে অদ্যাবধি ২০২৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি পদে আসীন রয়েছেন । তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে এমনকি অনেক জায়গায় তাকে হাসতে হয় । এই হাসির আড়ালে যে কতো কান্না লুকিয়ে আছে কেউকি তা খোঁজে ? চরম অসুস্হতাকে হার মানিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে দলকে সংঘবদ্ধ করার জন্য সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসে দলীয় কর্মসূচি করেছেন, মিছিল-মিটিং আরও কত কী! এসব করতে যেয়েও কতবার অসুস্হ হয়েছেন।এখানে কর্মসূচি ওখানে কর্মসূচি দিন নাই রাত নাই একইভাবে দলের জন্য কাজ করে গেছেন । মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা মনে করে , তার পরিশ্রম বৃথা যাবে না , অবশ্যই আকাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণ হবে । তারুণ্য , পেরিয়ে যৌবনে শুধুই মিছিল আর পিকেটিং এর মধ্যে জীবন কাটিয়ে আজ বার্ধক্যে । অসুস্থ না হলে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি কখনো অনুপস্থিত থাকেনি ।
    বিগত ২০০৮ এর নির্বাচনে রাজশাহী থেকে সংরক্ষিত আসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার তাকে এমপি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয় নি । সে সময় দ্বিতীয় বারের মতো প্রয়াত জিন্নাতুন নেশা তালুকদারকে মনোনয়ন দেওয়া হয় ।
    মর্জিনা পারভীনের মতো আদর্শিক, পরিক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রী এখানকার সময়ে এদেশে খুঁজে পাওয়া বড় কঠিন । যিনি ২৪ ঘন্টায় জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন রাজনীতির কথা ভেবে তিনি সাংসারিক জীবনে যাননি , তিনি কোন চাকরি করেন নি । কখনও নিজের কথা ভাবেননি । কারো মতো লোভ লালসা ও নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য নয় , একনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে মর্জিনা পারভীন রাজশাহীর সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হিসেবে যোগ্য প্রার্থী বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন। ভালোবাসা টানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে একনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য, নিজের জীবনের সুখকে ত্যাগ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নিয়ে এবং জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে একনিষ্ঠভাবে দলের জন্য কাজ করে চলেছেন
    রাজশাহী মহিলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে নেত্রী পর্যায়ের সকলের একই চিন্তাভাবনা দ্বাদশ জাতীয় সংসদের পর রাজশাহী থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে রাজশাহী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন যোগ্য বাক্তি তার বিকল্প নাই বলে নেতাকর্মীরা মনে করেন । তিনি ২০০৫ সাল থেকে এ যাবৎ সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ ছাড়া তিনি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছাড়াও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন ।
    মর্জিনা পারভীনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে জানা গেলো, জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে রাজশাহীর সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার সুযোগ করে দিলে তিনি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। এবং রাজশাহীবাসীর বিবিধ সমস্যা তুলে ধরতে পারবেন।মহিলা আওয়ামী লীগের অনেকেই সংসদে প্রতিনিধিত্ব করে চলেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের টিকিট নিয়ে অনেকেই এমপি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। যারা সরাসরি ভোটে এমপি হতে পারেননি, এমন অনেককে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি করার নজির রয়েছে। অনেকে মন্ত্রীও হয়েছেন। তাই তিনি মনে করেন , দলের নিকট সংরক্ষিত আসনের এমপি, হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন । দলীয় প্রধান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি তাকে যোগ্য মনে করেন ,তাহলে তাকে মনোনয়ন দেবে বলে তিনি আশা রাখেন । তিনি রাজশাহীর সর্বস্তরের মহিলা ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চান । বাংলাদেশের পাশাপাশি রাজশাহী যেন এগিয়ে যেতে পারে তিনি সে লক্ষে কাজ করে যাবেন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রক্ষা করে রাজনীতির পথ পাড়ি দিবেন ।মর্জিনা পারভীনের রাজনীতি শুরু হয় ১৯৮৬ সাল থেকে । তিনি ছাত্রী অবস্থায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার ইউসুফ আলী কলেজ শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন । মজির্না পারভীনের পিতা প্রয়াত আবুল কাশেম ছিলেন একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। মাতা প্রয়াত সালেহা বেগম গৃহিনী। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবাকে পাক হানাদার বাহিনী ক্যাম্পে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করেন এবং হত্যার উদ্দেশ্যে তার পিতাসহ অন্যদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করলেও তিনি সৌভাগ্য ক্রমে বেঁচে যান । পরে সেখান থেকে পালিয়ে এসে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মর্জিনা পারভীনের পিতাকে হত্যা করতে না পেরে তার নানা ও নানার ভাইকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। তার বড় ভাই প্রয়াত কায়েস উদ্দিন ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। মর্জিনা পারভীনের আরেকভাই এ্যাড. আফসার আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। বড় বোন মাতুয়ারা বেগম গোমস্তাপুর উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। সেজো ভাই আব্দুল লতিফ রাজশাহী মহানগর কৃষকলীগের সহ-সভাপতি। ছোট ভাই মনিমুল হক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লীগের সাবেক সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তার অন্যান্য আত্নীয় স্বজন সকলেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।।পরবর্তীতে রাজশাহী শহরে এসে বোয়ালিয়া থানাধীন রাজারহাটা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।রাজশাহী মহিলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার পর তিনি ২০০৫ সাল থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দেশে ২০০৭-২০০৮ সালে জরুরী অবস্থা জারীর সময় তিনি রাজশাহী মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে থাকাই দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবীতে রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন।

  • নড়াইলে পুলিশ পরিদর্শকদের বিদায় সংবর্ধনা জানান এসপি মেহেদী হাসান

    নড়াইলে পুলিশ পরিদর্শকদের বিদায় সংবর্ধনা জানান এসপি মেহেদী হাসান

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে//

    নড়াইলে পুলিশ পরিদর্শকদের বিদায় জনিত ক্রেস্ট প্রদান করছেন এসপি মেহেদী হাসান।
    বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ পরিদর্শক(নিরস্ত্র) শেখ মিজানুর রহমানের অবসর জনিত বিদায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (সশস্ত্র) মোঃ ফজলুল হক এর বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে সম্মাননা স্মারক স্বরূপ ক্রেস্ট দিয়ে বিদায় সংবর্ধনা জানান নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ মেহেদী হাসান। পুলিশ পরিদর্শক (সঃ) মোঃ ফজলুল হক এর চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলী হয়েছে। পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) শেখ মিজানুর রহমান ১৯৮৪ সালে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৭ সালে এএসআই (নিঃ), ২০০৩ সালে এসআই (নিঃ) এবং ২০১৭ সালে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। তিনি চাকরি জীবনে যশোর, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, পিরোজপুর, ডিএমপি এবং জিএমপিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি সর্বশেষ পুলিশ পরিদর্শক(অপারেশনস্) হিসেবে লোহাগড়া থানায় কর্মরত ছিলেন।
    এ সময় মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ); তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্); মোঃ দোলন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), নড়াইলসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • নড়াইলে পুনাকের শীতবস্ত্র বিতরণ ও পুলিশ পরিদর্শকদের বিদায় সংবর্ধনা জানান এসপি মেহেদী হাসান

    নড়াইলে পুনাকের শীতবস্ত্র বিতরণ ও পুলিশ পরিদর্শকদের বিদায় সংবর্ধনা জানান এসপি মেহেদী হাসান

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে//

    নড়াইলে পুনাকের শীতবস্ত্র বিতরণ ও পুলিশ পরিদর্শকদের বিদায় সংবর্ধনা জানান এসপি মেহেদী হাসান।
    পুনাকের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ। পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), নড়াইল জেলা শাখার উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল নড়াইল পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে জেলা পুলিশের সহায়তায় এই শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নড়াইল জেলা পুনাকের সভানেত্রী নাজিয়া খান এর পক্ষে পুনাক, নড়াইলের সহ-সভানেত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস কেয়া ও সহ-সভানেত্রী মোশারত আক্তার শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।
    শিক্ষানবিশ এসআই (নিঃ) সুমা দাশের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত পাঠ করেন পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মোঃ বিলাল হোসেন ও গীতা পাঠ করেন নারী কনস্টেবল রিতা পাল। এ সময় বিশেষ অতিথি পুনাক সহ-সভানেত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস কেয়া বলেন, পুনাকের পক্ষ থেকে সবসময় অসহায় ও দুস্থদের সাহায্য সহযোগিতার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। ভবিষ্যতেও পুনাক অসহায়দের পাশে থেকে সহযোগিতা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পুনাক, নড়াইলের সহ-সভানেত্রী জনাব মোশারত আক্তার বলেন, “পুনাক সবসময় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ায়। মহিলাদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে পুনাক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। নড়াইল জেলায় জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে আগামীতে টিকা প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানান। পরে পুনাক সহ-সভানেত্রীদ্বয় অসহায়, দুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন। উক্ত অনুষ্ঠানে ৬০ জনকে শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়।
    উক্ত অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাঃ মেহেদী হাসানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তারেক আল মেহেদী। এছাড়া জেলার বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসার ও নারী পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে প্রানবন্ত করেন।

  • নড়াইলে শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে তিন মেয়েকে বিষ খাইয়ে পালি বেগমের বিষপান, এক মেয়ের মৃত্যু

    নড়াইলে শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে তিন মেয়েকে বিষ খাইয়ে পালি বেগমের বিষপান, এক মেয়ের মৃত্যু

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইলে শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে তিন মেয়েকে বিষ খাইয়ে পালি বেগমের বিষপান,এক মেয়ের মৃত্যু। নড়াইলের লোহাগড়ায় শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে ৩ মেয়েকে বিষ খাইয়ে, নিজেও খেয়েছেন পলি বেগম। বিষের যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকলে, তা শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতে গোপালগঞ্জের শেখ সোহরা খাতুন মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। ওই রাতেই ছোট মেয়ে দেড় বছরের মিমের মৃত্যু হয়। বাকি দুই মেয়ে আড়াই বছরের আমেনা ও আট বছরের আফসানা এবং পলি বেগম চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের লঙ্কাচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পলি বেগম স্থানীয় টিটো মোল্লার স্ত্রী।

    গোপালগঞ্জের শেখ সায়রা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার রাতে দেখা যায়, পলি বেগমের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলেও কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তার। শিশু ওয়ার্ডের এক বেডে বাবা টিটো মোল্লা মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরা মেজো মেয়ে আমেনাকে কোলে নিয়ে বসে আছেন। পাশের বেডে বসে আট বছর বয়সের আফসানাকে কোলে নিয়ে অক্সিজেন মাস্ক ধরে বসে আছেন তার স্বজন।

    হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের শয্যায় শুয়ে থাকা পলি বেগম জানান, আমি মারা গেলে আমার বাচ্চারা সকলের অযত্ন, অবহেলায় বেঁচে থাকবে। তাই আমার সঙ্গে তাদেরও নিয়ে যেতে চাই। এ দুনিয়া আমার কাছে এখন ভারী হয়ে উঠেছে। আমি আর এ দুনিয়ায় থাকতে চাই না। আমার মেয়েদেরও রাখতে চাই না। এত জ্বালাতন আর সহ্য করতে পারি না।

    পলি বেগম আরও বলেন, তার স্বামী টিটো মোল্লা বাড়িতে থাকেন না, ঢাকায় চাকরি করেন। আর মেয়েদের নিয়ে তিনি গ্রামে থাকেন। তার শাশুড়ি তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সবসময় নির্যাতন করতে থাকেন। স্বামীকে জানালেও তেমন কোনো প্রতিকার হয়নি। তিন দিন আগে পাশের বাজার থেকে জমিতে দেওয়ার কথা বলে বিষ কিনে ঘরে রাখেন। মঙ্গলবার তার শাশুড়ি তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। পরে সন্তানদের বিষ খাইয়ে, নিজেও খেয়ে নেন।

    পলি বেগমের স্বামী টিটো মোল্লা বলেন, আমি ঢাকাতে স্কয়ার কোম্পানিতে চাকরি করি। স্ত্রী তিন মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। তার মা প্রায়ই স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন, স্ত্রী তাকে তা ফোনে জানাতেন। মঙ্গলবার সকালেও তাকে বলেছেন মা তাকে নানাভাবে নির্যাতন করছেন। আমি ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে দুপুরেই রওনা হই। পথে এসে জানতে পারি, আমার স্ত্রী তিন মেয়েকে বিষ খাইয়ে সে নিজেও খেয়েছে। ছোট মেয়ে মারা গেল। অন্য দুই মেয়ের কী হয় আল্লাহই জানেন। আল্লাহ যেন আমার দুই মেয়েকে ও স্ত্রীকে সুস্থ করে দেন।

    গোপালগঞ্জের শেখ সায়রা খাতুন মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিকুন নাহার বলেন, গতরাতে মা ও তিন মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে ছোট মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। অন্য তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। তবে নির্দিষ্ট সময় পার না করা পর্যন্ত বলা যাবে না শঙ্কা মুক্ত কী না।###

  • নড়াইলের কালিয়ায় সরকারি গাড়িতে নারী কলিগ নিয়ে ভ্রমণ, ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষকে শোকজ

    নড়াইলের কালিয়ায় সরকারি গাড়িতে নারী কলিগ নিয়ে ভ্রমণ, ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষকে শোকজ

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ অফিস সময়ের পর সরকারি গাড়িতে নারী মেডিকেল অফিসারকে নিয়ে ভ্রমণে বেরিয়ে শোকজের মুখে পড়েছেন।
    সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শশাঙ্ককে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা সিভিল সার্জন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৭ জানুয়ারি অফিস সময়ের পর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে এক নারী মেডিকেল অফিসারকে নিয়ে কালিয়া উপজেলার বারইপাড়া ঘাটে ব্যক্তিগত কাজে যান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ। সেখানে গাড়ি থামিয়ে এক ব্যক্তি নারী মেডিকেল অফিসারকে লাঞ্ছিত করেন। অফিস সময়ের পর একজন নারী মেডিকেল অফিসারসহ এমন ভ্রমণে যাওয়া শোভনীয় নয় ও অপ্রীতিকর উল্লেখ করেন।
    চিঠিতে অভিযুক্ত চিকিৎসককে উদ্দেশ্য করে আরও বলা হয়, এ ধরনের ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। একজন দায়িত্ববান কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়।
    পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয় ওই চিঠিতে।

    শোকজের অনুলিপি মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিচালক (প্রশাসন) স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালককে পাঠানো হয়েছে।

    অভিযুক্ত ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘সময় মতো আমি আমার জবাব দিবো।’

    এ বিষয়ে নড়াইল জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, ‘কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। কারণ দর্শানোর পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।