Blog

  • উজিরপুরে জ্ঞানের পাঠশালার আয়োজনে বসন্ত উৎসব পালিত 

    উজিরপুরে জ্ঞানের পাঠশালার আয়োজনে বসন্ত উৎসব পালিত 

    মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম, উজিরপুর প্রতিনিধিঃ

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের ডহরপাড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের পাঠশালার ব্যাপক আয়োজনে  বসন্ত উৎসব ও মনোজ্ঞ  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

     সামাজিক মূল্যবোধ ও অবক্ষয় রোধে দেশীয় সাংস্কৃতির মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্য ধরে রাখতে ও কুসংস্কার মুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে উজিরপুরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক ঝাঁক  তরুণ তরুণী মিলে গড়ে তুলেছে ব্যতিক্রমধর্মী জ্ঞানের পাঠশালা নামক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান।

    তারই ধারাবাহিকতায়,
    প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নির্বাহী সদস্য রাইসা রহমান উর্মি ও  প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্য  মোঃ আরিফ মোল্লা এর পরিচালনায় ও সার্বিক সহযোগিতায় ১৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকাল ৪ টায় ডহরপাড়া  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে   প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি  লামিয়া রহমান ডালিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ লোকমান হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী সাইফুদ্দিন ওয়ালিদ, দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক ও গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক  সভাপতি মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির, বরিশাল আব্দুর রব সেনিয়াবাত টিচার ট্রেনিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় গোলদার,গুঠিয়া আইডিয়াল ডিগ্রী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে জাহান আরা ইরানি, ডহরপাড়া সামাদিয়া দারুল উলুম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  মোঃ রফিকুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক খালিদুর রহমান খান, উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আঃ রহিম সরদার,যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মাহফুজুর রহমান মাসুম,দপ্তর সম্পাদক মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম,  গুঠিয়া সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার মাসুদ পারভেজ,সরকারি বাবুগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক দেবাশীষ হালদার, মেহের নিগার বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি  লায়লা মাহমুদা লিলি, ডহরপাড়া সামাদিয়া দারুল উলুম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান, কাজী আফিফা আক্তার, ডহরপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি  আনিসুল হক খান,সরকারী শিক্ষক আরজু মিয়া,  অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আ.ন.ম. লুৎফুর রহমান ও প্রমুখ।

  • গোদাগাড়ীসহ উত্তরাঞ্চল থেকে বসন্তের রুপকন্যা শিমুল গাছ বিলুপ্তপ্রায়

    গোদাগাড়ীসহ উত্তরাঞ্চল থেকে বসন্তের রুপকন্যা শিমুল গাছ বিলুপ্তপ্রায়

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কালের বিবর্তনে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলা আগুন ঝরা ফাগুনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত বসন্তের রুপকন্যা শিমুল বিলুপ্তপ্রায়। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে অনেক ফুল ফোটলেও এখন আর তেমন চোখে পড়েনা রক্তলাল নয়নাভিরাম শিমুল ফুল। বিগত ২যুগ আগেও রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে কানাচে বা রাস্তার পাশে অনেক শিমুল গাছ দেখা গেলেও এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না। এক সময় প্রতিটি গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুলই স্মরণ করিয়ে দিতো বসন্তের আগমন।

    শীতের পরেই ঋতুরাজ বসন্ত আগমনের সাথে সাথে প্রকৃতিতে লেগেছে তার ছোঁয়া। প্রতিটি গাছেই আসতে শুরু করেছে নতুন পাতা। প্রকৃতিতে দক্ষিণা বাতাসে আম্রমুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণে মুগ্ধ চারিদিক। কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতালে ফাগুনের উত্তাল বাসন্তী হাওয়া দিচ্ছে দোলা। গাছে গাছে জেগে উঠেছে সবুজ পাতা। মুকুল আর শিমুল ফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে এসেছে ফাগুন।

    শিমুল গাছের শাখাগুলো বসন্তের আগমনে লাল শাড়ির ঘোমটা পরা গ্রাম্য নববধূর সাজে সজ্জিত হতে দেখা যায়, যা দর্শনে হতাশ প্রেমিকের মনেও জাগিয়ে তোলে আশা। অন্যান্য গাছের তুলনায় শিমুল গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় বহু দূর থেকে এ মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। জোয়ার এনে দেয় কবির কল্পনার জগতে। কেবল সৌন্দর্যই বিলায় না শিমুল গাছের রয়েছে নানা উপকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব।

    প্রাকৃতিক ভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ। এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজগুণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা এখনো নানা রোগের চিকিৎসায় এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে। শিমুল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম “বোমবাক্স সাইবা লিন”। এটি বোমবাকাসিয়াক পরিবারের উদ্ভিদ। বীজ ও কান্ডের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। রোপণের ৫-৬ বছরের মধ্যে শিমুল গাছে ফুল ফোটে। ৯০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। সেই তুলনায় বেশ মোটাও হয় । নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে শিমুল গাছ দেড়শ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। শীতের শেষে পাতা ঝরে পড়ে।

    বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সাথে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। অন্যান্য গাছের মত এ গাছ কেউ শখ করে লাগায় না। নেওয়া হয়না কোন যত্ন। অযত্ন আর অনাদরে প্রাকৃতিকভাবেই গাছ বেড়ে ওঠে। এ গাছের প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর ছাল, পাতা ও ফুল গবাদিপশুর খুব প্রিয় খাদ্য। বালিশ, লেপ ও তোষক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই। অথচ বর্তমানে মানুষ এ গাছকে তুচ্ছ মনে করে কারণে অকারণে কেটে ফেলছে। অতীতে ব্যাপকহারে নির্মাণ কাজ, টুথপিকসহ নানা ধরনের প্যাকিং বাক্স তৈরি ও ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি। ফলে আজ বিলুপ্তির পথে। শিমুল গাছ উজাড় হওয়ার ফলে পরিবেশের উপরে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।

    এ গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় কাক, কোকিল, চিল, বকসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি বাসা বেঁধে বসবাস করত। এ গাছ উজাড় হওয়ার ফলে এসব পাখিরা আবাসস্থল হারিয়ে পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। গাছ না থাকায় আবাসস্থলের অভাবে ধীরে ধীরে এসব পাখিরাও হারিয়ে যাচ্ছে।

    গোদাগাড়ী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মহিশালবাড়ী মহল্লার প্রবীণ সোলেয়মান আলী বলেন, গ্রামে প্রচুর শিমুল গাছ ছিল। এই শিমুল ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিষফোঁড়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে এ গাছের মূল ব্যবহার করত। একই মহল্লার আলহাজ্ব আফসার আলী বলেন, ‘একটি বড় ধরনের গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে ৫-১০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আগের তুলনায় এখন শিমুলের তুলার দাম অনেক বেড়ে গেছে। এর পরও এই গাছ নিধন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।’

    রাজাবাড়ী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ সেলীম রেজা বলেন, এ গাছের প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর ছাল, পাতা ও ফুল গবাদি পশুর খুব প্রিয় খাদ্য। বালিশ, লেপ ও তোষক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই। অথচ বর্তমানে মানুষ এ গাছকে তুচ্ছ মনে করে কারণে অকারণে কেটে ফেলছে। অতীতে ব্যাপক হারে নির্মাণ কাজ, টুথপিকসহ নানা ধরনের প্যাকিং বাক্স তৈরি ও ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি।
    শিমুল গাছ রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে এক সময় উপকারী গাছের তালিকা থেকে এ গাছটি হারিয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না বাংলার মাটিতে শিমুল নামের কোন গাছ ছিল। এগাছ রক্ষায় সরকারিভাবে পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী। একই মন্তব্য করেন, দেওপাড়া ইউপির সফল চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দিন সোহেল ও গুনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শরিফুল ইসল।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • গ্লোবাল টিভির কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধির মেয়ে এমবিবিএস পরিক্ষায় উত্তীর্ণ

    গ্লোবাল টিভির কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধির মেয়ে এমবিবিএস পরিক্ষায় উত্তীর্ণ

    কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ তরিকুল ইসলাম তরুন,

    কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার গাংচর গ্রামের মৃত আব্দুল বারী মাস্টারের ছেলে গ্লোবাল টেলিভিশন এর জেলা প্রতিনিধি আবুল খায়ের আশিকের একমাত্র মেয়ে জিনান আল-আবরার এমবিবিএস মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষায় -২০২৩-২০২৪’এ সুনামের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। সরকারি ৩৭টি মেডিকেল কলেজের ৫হাজার ৩৮০ আসনের বিপরীতে ৩৯৫৬তম মেধা তালিকায় সাতক্ষীরা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তীর্ণ হয়। রবিবার প্রকাশিত ফলাফলে তার এই সফলতার খবর পেয়ে আনন্দিত তার বাবা মা আত্মীয়-স্বজন সহ জিনানের বাবার কর্মস্থল গ্লোবাল টিভির পরিবার। জিনান আল-আবরারের যাত্রা শুরু হয় কুমিল্লা জেলার চান্দিনা অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে। জিনান অক্সফোর্ডে ক্লাস টু পর্যন্ত পড়াশোনা করে এবং সেই সময় বিভিন্ন বৃত্তি পরীক্ষা দিয়ে সে বৃত্তি পায়। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো দেখে মেয়েকে আরো ভালো স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করানোর জন্য জিনানের বাবা-মা তাকে ২০১২ সালে ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় নিয়ে এসে প্রথমে শনির আখড়ায় অবস্থিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ‘গ্রিন লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ’এ স্ট্যান্ডার্ড টুতে ভর্তি করায়। সেখানেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিক্ষায় সে অত্যন্ত ভাল রেজাল্ট ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অনেকবার পুরস্কার পায়।তখন শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে আরো ভালো রেজাল্ট করতে জিনানকে ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ’এ ক্লাস ফোরে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ানো হয় এই ভর্তি পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্বের সাথে ‘সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ’ এ ক্লাস ফোরে ভর্তির সুযোগ পায়। শুরু হয় সফলতার সাথে জীবনের ছোট ছোট প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে যাওয়ার নতুন এক গল্প। ২০১৫ সালে পিএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, ২০১৮ সালেও জেএসসি পরীক্ষায় একইভাবে গোল্ডেন এ প্লাস এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস এবং ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস সহ বৃত্তি পায় জিনান আল-আবরার। ভাল রেজাল্ট এর ধারাবাহিক সফলতায় তাকে নিয়ে সবসময়ই পরিবারের প্রত্যাশা এবং দোয়া ছিল অনেক বেশি।

    ২০২৪ সালে ৯ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয় এবং ‘সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ’এ পড়ার সুযোগ পেয়ে সফলতার ধারা অব্যাহত রাখে। জিনান আল-আবরারের বাবা সাংবাদিক আবুল খায়ের আশিক জানান,প্রথম সন্তানকে ডাক্তার বানানোর আশা বুকে নিয়ে বিয়ে করেছিলেন জিনানের বাবা।বিয়ের তিন বছর পর তার সংসার আলোকিত করে জন্ম নেয় কন্যা সন্তান জিনান আল-আবরার। এরপর থেকেই মেয়েকে ডাক্তার বানানোর সপ্ন বাস্তবায়নে সংগ্রাম শুরু করেন জিনানের বাবা আবুল খায়ের আশিক ও মা সেলিনা আক্তার। নিজের মেয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে বাবা আবুল খায়ের আশিক আবেগাপ্লুত কন্ঠে বলেন,আমার মেয়ের সকল সফলতার পিছে সবচাইতে বেশি অবদান আমার স্ত্রী সেলিনা আক্তারের। তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষের সাস্থ সেবা দিতে নিজের সন্তানকে ডাক্তার বানাতে তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।বাবা-মায়ের সপ্ন পূরণ করতে জীবনের যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত বলেও জানান জিনান আল-আবরার।

  • রাঙ্গাবালীতে বাসেদ সিমনের আগমনে এলাকাবাসীর আনন্দ মিছিল ও শুভেচ্ছা বিনিময়

    রাঙ্গাবালীতে বাসেদ সিমনের আগমনে এলাকাবাসীর আনন্দ মিছিল ও শুভেচ্ছা বিনিময়

    রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি.
    পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে বাসেদ সিমনের আগমনে এলাকাবাসীর আনন্দমিছিল ও শুভেচ্ছা বিনিময়।
    রাঙ্গাবালী উপজেলার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট শিল্পপতি সবুজছায়া আবাসন প্রকল্পের চেয়ারম্যান,কেন্দ্রীয় আওয়ামী বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক,বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বাসেদ সিমনের আগমনে এলাকায় আনন্দ মিছিল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন স্থানীয় জনগণ। ইতিমধ্যেই তিনি আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে নিজের নাম ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আজ সকালে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসেন। এ সময় তাকে শুভেচ্ছা যানাতে লঞ্চঘাটে ভির করেন বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ। পরে তিনি লঞ্চথেকে নেমে সবার উদ্দ্যেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। এসমায়ে তিনি বলেন আমি আপনাদের সন্তান আমি চাই আপনাদের ভালবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে। আমাকে আপনারা নির্বাচিত করলে আমি আপনাদের সাথে নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করব। পরে মটরসাইকেল যোগে তার বাসভবন প্রিয়ন্তি রিসোর্ডে এসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি নির্বাচিত হলে উপজেলার বিভিন্ন অসমাপ্ত উন্নয়ন মূলক কাজকে মাননীয় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান মহিব এর সাহায্য নিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। এ সমায়ে উপস্থিত ছিলেন বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন, বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির পহলান, বাসেদ সরদার টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান যুবরাজ, রাঙ্গাবালী উপজেলা যুবলীগ নেতা ডিউক মল্লিক, ইউপি সদস্য আবু জাফর মৃধা, এছাড়াও আওয়ামীলীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগসহ বিভিন্ন অংঙ্গসংগঠণের নেতাকর্মীরা।

  • বরগুনায় এনসিটিএফ’র শিশুদের দুই দিন ব্যাপি প্রশিক্ষন কর্মশালর সমাপনী অনুষ্ঠিত

    বরগুনায় এনসিটিএফ’র শিশুদের দুই দিন ব্যাপি প্রশিক্ষন কর্মশালর সমাপনী অনুষ্ঠিত

    খাইরুল ইসলাম মুন্না

    বরগুনায় এনসিটিএফ’র সদস্যদের নিয়ে শিশু অধিকার, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও নেতৃত্ব বিষয়ক
    দুই দিন ব্যাপি প্রশিক্ষন কর্মশালর সমাপনী অনুষ্ঠিত।

    ১৫ ই ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৪ ঘটিকায় আরডিএফ ট্রেনিং সেন্টারে সিবিডিপি ওয়াই মুভস প্রজেক্ট এর আয়োজনে ও প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় পাথরঘাটা,বরগুনা সদর, তালতলী উপজেলা এনসিটিএফ এর ৩০ জন সদস্যদের নিয়ে দুই দিন ব্যাপি প্রশিক্ষন কর্মশালর আজ সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।

    তালতলী উপজেলা এনসিটিএফ এর সভাপতি মোঃ তাওহীদ এর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জসিমউদ্দীন।

    ওয়াই-মুভ্স প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা মো: আবু ইউসুফ সাঈদ এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন , সিবিডিপি নির্বাহী কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন শীল, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট মোস্তফা কাদের, সিবিডিপি নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মিরাজ, লোকবেতার পরিচালক মনির হোসেন কামাল প্রমুখ।

    কমিউনিটি বেজ্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (সিবিডিপি), ২০২০ সাল থেকে প্লান্ট ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় বরগুনা জেলার ৬টি উপজেলা এবং দুর্যোগ কবলিত নলটোনা ইউনিয়নে এনসিটিএফ সদস্যদের নিয়ে কাজ করে আসছে।

  • পশ্চিম গৈড়লা লোকনাথ সেবা সংঘের ৫ম প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালিত

    পশ্চিম গৈড়লা লোকনাথ সেবা সংঘের ৫ম প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালিত

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি।। পটিয়া পশ্চিম গৈড়লা ধরপাড়া সার্বজনীন লোকনাথ বাবা সেবা সংঘের ৫ম তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

    গত বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে লোকনাথ বাবার স্মরণে গীতাপাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা বাবু সমীর ধরের সভাপতিত্বে ও বাবু শ্যামল বনিক মাষ্টারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী পলাশ ধর। উদ্বোধক ছিলেন সমাজসেবক বাবু বমকিম ধর।

    অন্যান্যদের মধ্যে আরো এতে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য আবু সায়েদ মল্ল, শ্রীমতি সীমা ভট্টাচার্য, বাবু অশোখ ধর, বাবু সুমন ধর, মিল্টন ধর, অমিত ধর, রাজিব ধর, শুভ ধর, অর্পণ বনিক, সুকুমার ধর,লিটন ধর,সুজন নাথ,রিমন ধর, শ্রীধাম ধর, রাজন ধর, রিকু ধর, আশীষ ধর, ধীমান ধর,রন্জন ধর প্রমুখ।
    এসময় প্রধান অতিথি শ্রী পলাশ ধর বলেন, জীবনের পথে কোনও সমস্যা এলে অনেকেরই এই বাণীটি মনে পড়ে- – ‘রণে বনে জঙ্গলে, যেখানেই বিপদে পড়িবে, আমাকে স্মরণ করিও, আমি রক্ষা করিব’।

    বাবা লোকনাথের এই বাণী স্মরণ করে অনেকে কঠিন পরিস্থিতি ও দুর্গম পথও অতিক্রম করে এসেছেন। খুব সহজেই প্রসন্ন হন বাবা লোকনাথ। ভক্তদের সাহায্যের জন্য সর্বদা এগিয়ে থাকেন তিনি।লোকনাথ বাবার পুজোর পাশাপাশি তাঁর প্রণাম মন্ত্র জপ করলে সুফল পাওয়া যায়। ব্যক্তি জীবনের সমস্ত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারে। আড়ম্বর নয়, বরং শ্রদ্ধা ও ভক্তি ভরে মন থেকে বাবা লোকনাথকে স্মরণ করা উচিত। এর ফলে ব্যক্তির সমস্ত আশা, আকাঙ্খা পূর্ণ হয়। বিজ্ঞপ্তি।।

    ছবির ক্যাপশন: পটিয়ার পশ্চিম গৈড়লা লোকনাথ সেবা সংঘের ৫ম প্রতিষ্টা বার্ষিকীতে অতিথিরা।

  • আগৈলঝাড়ায় বাশাইল সহ সকল কেন্দ্রে নকল মুক্ত পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা

    আগৈলঝাড়ায় বাশাইল সহ সকল কেন্দ্রে নকল মুক্ত পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা

    বি এম মনির হোসেনঃ-

    বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নকল মুক্ত পরিবেশে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি বোর্ড ও মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫ফেব্রুয়ারী
    বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছে ২ হাজার ২শ ৫৬জন শিক্ষার্থী। মোট অনুপস্থিত ছিল ৮জন। সংশ্লিষ্ঠ একজনে বলেন আগৈলঝাড়া উপজেলায় সাধারণ বোর্ডের আওতায় ৬টি কেন্দ্র, একটি কারিগরি কেন্দ্র এবং একটি মাদ্রাসা কেন্দ্রের অধীনে ২হাজার ২শ ৫৬জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছে। অনুপস্থিত রয়েছে সাধারণ শাখায় ৭জন এবং মাদ্রসা বোর্ডে ১জনসহ মোট ৮জন। সূত্র মতে, বরিশাল বোর্ডের অধীনে ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমী কেন্দ্রে ২৭৩ জন, শ্রীমতি মাতৃমঙ্গল বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৬৩জন, বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪২৫জন, বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৮৭জন, গৈলা সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৩১জন ও বাগধা মাধ্যমিক বিদ্যলয় কেন্দ্রে ৩১৩জন। এরমধ্যে গৈলা কেন্দ্রে ৩জন, বারপাইকা কেন্দ্রে ১জন এবং বাগধা কেন্দ্রে ৩জনসহ ৬জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে।এদিকে গৈলা দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১৫৯জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। সেখানে দেয় অনুপস্থিত ছিল ১জন। কারিগরি বোর্ডের অধীনে শ্রীমতি মাতৃমঙ্গল বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছে ১১২জন শিক্ষার্থী। উপজেলা বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পরীক্ষা কেন্দ্রর সভাপতি ফারিহা তানজিন, উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে ইমামা বানিন, আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলম চাঁদ, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহাবুবুর রহমান, আগৈলঝাড়া থানার (সেকেন্ড অফিসার) এস আই মোঃ মনিরুজ্জামান। বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ এনায়েত হোসেন নান্নু মিয়া ও প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল হক মিয়া সাংবাদিক বি এম মনির হোসেনকে বলেন বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪২৫জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সুন্দর ভাবে সবাই পরীক্ষা দিয়েছে সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।

  • সুজানগরে ইউএনওর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে টাকা দাবি

    সুজানগরে ইউএনওর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে টাকা দাবি

    এম এ আলিম রিপন ঃ পাবনার সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) সুখময় সরকারের সরকারি মোবাইল নম্বর ক্লোন করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কল দিয়ে টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। বুধবার(১৪ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে মোবাইল নম্বর ক্লোন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুখময় সরকার। জানাযায়, বুধবার দুপুর ২টার দিকে প্রতারক চক্রের সদস্য নিজেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের কাছে ফোন করেন। ফোনে ইউএনও পরিচয় দিয়ে জানানো হয় আমি সরকারি বরাদ্দের কয়েক টন চাল বিক্রি করব আপনি নিতে চাইলে আপনার অনেক লাভ হবে । এর কিছুক্ষণ পর প্রতারক চক্র ০১৭৪৪-৭৩০৬৫৯ মোবাইল নম্বর দিয়ে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলেন। এরপরই বিষয়টি সন্দেহ হলে ওই যুবলীগ নেতা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেন। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান জানান, যেহেতু ইউএনও স্যারের মোবাইল নম্বর আমার মোবাইলে সেভ করা ছিল তাই বিষয়টি প্রথমে তেমন সন্দেহ হয়নি। কিন্তু এর আগে গত বছরে একইভাবে ইউএনও এর সরকারি ফোন নম্বর ক্লোন করে প্রতারণা করে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা প্রতারক চক্র হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জানা থাকায় আমার কাছে টাকা চাওয়ার বিষয়টিও প্রতারণা বলে মনে হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে আমি ইউএনওকে অবগত করি। এদিকে এদিন একই সময়ে উপজেলার একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ইউএনও পরিচয়ে টাকা চাওয়া হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্দেশ্যে সর্তকতামূলক বার্তা প্রদান করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুখময় সরকার জানান, এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া সবাইকে তথ্য আদান-প্রদান ও লেনদেনের বিষয়ে সর্তক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি ।।

  • ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাচনে ভোটের মাঠে আ’লীগ নেতারা

    ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাচনে ভোটের মাঠে আ’লীগ নেতারা

    আতিকুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    দলীয় বিভেদ ও বিশৃংখলাপুর্ন ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রার্থীর পরাজয়ের পর একে একে ঝিনাইদহ পৌরসভা ও সর্বশেষ ঝিনাইদহ-২ আসনেও নৌকার ভরাডুবি ঘটে। এতে চাপের মুখে পড়ে নেতারা। ধারাবাহিক নৌকার এই পরাজয়ে কর্মীরা হতাশ হয়েছেন। অনেক নেতাকর্মী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ অবস্থায় সামনে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে দলের মধ্যে প্রকাশ্যে কোন কোন্দাল দেখা না গেলেও নেতৃত্বের দ্বন্দ নিয়ে নেতাদের মধ্যে রেশারেশি শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনের দিনক্ষন বা সম্ভভ্য তারিখ ঘোষিত না হলেও আওয়ামী লীগের সম্ভব্য প্রার্থীরা গনসংযোগ শুরু করেছেন। শহর বা গ্রামের মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের ব্যানার ও প্লাকার্ড। উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলে খেলা জমে উঠতে পারে। ইতিমধ্যে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম সরওয়ার খাঁন সউদ, সাবেক পৌরসভার চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা আনিছুর রহমান খোকা, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জে এম রশিদুল আলম, জেলা যুবলীগের আহবায়ক আশফাক মাহমুদ জন, যুবলীগ নেতা নুরে আলম বিপ্লব ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) রাশিদুর রহমান রাসেল। প্রার্থীদের মধ্যে নবীন ও প্রবিন নেতা এবারের ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন। এই নামের বাইরেও আরো অনেকে প্রার্থী হতে পারেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম সরওয়ার খাঁন সউদ দলের একজন পরীক্ষিত নেতা। তিনি কোন নির্বাচনে মনোনয়ন চাননি। এই বৃদ্ধ বয়সে তিনি দলীয় ভাবে মুল্যায়ন চান। এ জন তিনি প্রার্থী হিসেবে শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ঝুলিয়েছেন। তিনি বলেন, সারা জীবন পরিচ্ছন্ন ভাবে রাজনীতি করেছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে কত দুর্বিসহ দিন কাটিয়েছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই জয়ী হতে পারবো। সাবেক পৌরসভার চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা আনিছুর রহমান খোকার রয়েছে ব্যক্তিগত পরিচিতি। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ডাকসাইটে সাংবাদিক ছিলেন। নিজের সম্পাদনায় একাধিক পত্রিকা বের করেছেন। এখনো বলা যায় লেখালেখির মধ্যেই আছেন। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে তার রয়েছে অনেক ভক্ত ও গুনগ্রাহী। তিনি প্রার্থী হলে হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের দুর্দিনের কান্ডারী জে এম রশিদুল আলম রাজনীতিতে একটি সফল নাম। তিনি দাপদের সংঙ্গে দল পরিচালনা করে গ্রামে গ্রামে ব্যক্তিগত ইমেজ গড়ে তুলেছেন। তিনি এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। ঝিনাইদহ শহরের মোড়ে মোড়ে তার বড় বড় সাইনবোর্ড শোভা পাচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলা যুবলীগের আহবায়ক আশফাক মাহমুদ জন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আলোচনায় থাকলেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের উপর অবিচল। দল যদি মনোনয়ন দেন তবে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। তরুণ এই নেতা ইতিমধ্যে সারা জেলায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরী করেছেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তার গ্রহনযোগ্যতা তৈরী হয়েছে। যুবলীগ নেতা নুরে আলম বিপ্লব ইতিপুর্বে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট করে ৬৮ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। তার ব্যক্তিগত ও দলীয় একটা ইমেজ আছে। রয়েছে তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক। প্রার্থী হলে প্রতিপক্ষের জন্য তিনি ফলাফলের দিক থেকে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। নুরে আলম বিপ্লব জনপ্রতিনিধি না হলেও নানা ধরণের সমাজসেবামুলক কাজে জড়িত আছেন। এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে ব্যাপক সুপিরিচিত। অতিশয় ভদ্র, বিনয়ী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) রাশিদুর রহমান রাসেল। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট করে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হন। উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ আব্দুর রশিদ ইন্তেকাল করলে তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বেশ ভালো ভাবেই। তার পিতা এ্যাড আজিজুর রহমান ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সে হিসেবে রাসেলের রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য। নিজের ইমেজ ছাড়াও পিতার প্রভাব প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে রাসেল ইতিমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন। স্বতন্ত্র বা দলীয় সে ভাবেই হোক প্রার্থী হলে তিনি জয়ী হয়ে আসতে পারবেন বলে জানান। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বয়সে তরুণ এই নেতার জেলা জুড়ে রয়েছে বিশাল বন্ধু মহল। সব মিলিয়ে তার গ্রহনযোগ্যতা দলীয় অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে কম নয় বলে অনেকে মনে করেন। এদিকে বিএনপি বা জামায়াত আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হলে সেক্ষেত্রে জেলা আওয়ামীলীগ কি সিদ্ধন্ত নিতে পারে তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সদর উপজেলার সাধারণ মানুষ।

    ঝিনাইদহ
    আতিকুর রহমান

  • তানোরে এমপির নির্দেশনা মানছেন না গভীর নলকুপ অপারেটরেরা

    তানোরে এমপির নির্দেশনা মানছেন না গভীর নলকুপ অপারেটরেরা

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকুপ অপারেটরদের বিরুদ্ধে কৃষক শোষণের অভিযোগ উঠেছে। সেচের কাজে নিয়োজিত গভীর নলকূপ অপারেটররা জমিদারের উমেদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কৃষকদের শোষণ করছে। বিগত ২০২২ সালের মার্চে সেচ না পেয়ে গোদাগাড়ি উপজেলায় দুজন কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে। চলতি আলু ও বোরো মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় গভীর নলকূপ অপারেটররা কৃষকদের জিম্মি করে সেচের চার্জ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। গভীর নলকূপ অপারেটরদের বেপরোয়া সেচ বাণিজ্যের কবলে পড়ে কৃষকদের অবস্থা এখন শোচনীয়। কৃষকদের কষ্টের ফসলের বড় অংশই চলে যাচ্ছে গভীর নলকূপ অপারেটরদের পেটে। সরকারের সেচ ভর্তুকি সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। এক সময় গভীর নলকূপগুলো ডিজেল চালিত হলেও এখন চলে বৈদ্যুতিক মোটরে। ফলে কৃষকের সেচ খরচ অনেক কম হওয়ার কথা। কিন্তু কৃষকরা সেই সুবিধা মোটেও পান না। সেচের নীতিমালায় আছে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকা চার্জ নেওয়া যবে। কিন্তু নলকূপ অপারেটররা ঘণ্টার বদলে ফসল মৌসুমের জন্য কৃষকদের কাছ থেকে অগ্রিম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করছে। কোনো কৃষক অপারেটরের শর্তে রাজি না হলে তার জমিতে সেচ দেওয়া বন্ধ রাখা হচ্ছে।
    বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, সেচ সুবিধা নিশ্চিতে প্রতিটি গভীর নলকূপে কমিশন ভিত্তিতে একজন অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়। কৃষকরা প্রি-পেইড সেচ কার্ড নিয়ে অপারেটরদের কাছে গেলে কোনো পানি পান না। ১ ঘণ্টা সেচের জন্য ১২৫ টাকা মূল্যের প্রি-পেইড কার্ড লাগে। অথচ ১ ঘণ্টার জন্য অপারেটরদের দিতে হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। অনেক অপারেটরের অধীনে একাধিক নলকূপও থাকে। এমনকি এ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন লোকজনও ঘুসের বিনিময়ে একাধিক নলকূপ অপারেটর হয়েছেন
    এদিকে বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর নজরে আসে। তিনি সমিতির মাধ্যমে গভীর নলকুপ পরিচালনা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে স্কীমভুক্ত কৃষকের মতামতের ভিত্তিতে ১৫ থেকে ২০ সদস্যর কমিটি গঠন করতে বলা হয়। কমিটি গভীর নলকুপ পরিচালনা করবেন এবং অপারেটর সমিতির একজন কর্মচারী হিসেবে কাজ করবেন। কিন্ত্ত দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অধিকাংশ গভীর নলকুপে এখানো সমিতি গঠন করা হয়নি। আবার যে দু’একটার সমিতি গঠন করা হয়েছে সেখানেও শুভঙ্করের ফাঁকি। অপারেটর তার অনুগত ভুয়া কৃষকের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করেছে। এমনকি স্কীমে জমি নাই, তার পরেও কমিটিতে তাদের নাম দেয়া হয়েছে।
    সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় গভীর নলকূপ রয়েছে বিএমডিএ’র ৫৩৬টি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৬টি মোট ৫৫২টি এবং অগভীর বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র রয়েছে ৪১১টি। উপজেলায় আবাদ যোগ্য জমি রয়েছে প্রায় ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর। এর মধ্যে সেচের আওতায় জমি রয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর। এবিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, গভীর নলকূপের প্রকারভেদে ঘণ্টাপ্রতি ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকা সেচ চার্জ ধার্য করা আছে। কোনো অপারেটর এই নিয়ম লঙ্ঘন করে কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপারেটর অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত অর্থ চাইলে ভুক্তভোগীরা যেন অভিযোগ দেন-পরামর্শ দেন তিনি।