Blog

  • পাইকগাছায় জাতীয় ভোটার দিবস পালিত

    পাইকগাছায় জাতীয় ভোটার দিবস পালিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
    পাইকগাছায় ৬ষ্ঠ জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা নির্বাচন অফিস এ কর্মসূচীর আয়োজন করে। শনিবার সকালে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন এর সভাপতিত্বে “সঠিক তথ্যে ভোটার হবো, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো” প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, উপজেলা কৃষি অফিসার অসীম কুমার দাশ, ওসি (অপারেশন) রঞ্জন কুমার গাইন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ছামিউল আলম। সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহতারম বিল্লাহ’র স ালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রভাষক স্বপন কান্তি ঘোষ, আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক আলতাপ হোসেন, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক এম মোসলেম উদ্দীন আহম্মেদ, শিক্ষার্থী আনিকা ও হাওয়া খাতুন।

  • পীরগঞ্জে জাতীয় ভোটার দিবস পালিত

    পীরগঞ্জে জাতীয় ভোটার দিবস পালিত

    পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ‘সঠিক তথ্যে ভোটার হবো, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে জাতীয় ভোটার দিবস পালিত হয়েছে।
    গতকাল শনিবার উপজেলা নির্বাচন অফিসের আয়োজনে র‌্যালী বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা সভা কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রমিজ আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকরামুল হক, নির্বাচন অফিসার আসদুজ্জামান। এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি কর্মকর্তা লায়লা, উপজেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দবিরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার রায়, পীরগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত বিদ্যুৎ কুমার, পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নসরতে খোদা রানা, সাংবাদিক মোকাদ্দেস হায়াত মিলন, বিষ্ণু পদ রায়, লিমন সরকার। আলোচনা শেষে নতুন ভোটারের হালনাগদ তথ্য সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়।

    এন এন রানা
    পীরগঞ্জ, ঠাকরগাঁও

  • ঝিনাইদহ র‌্যাবের হাতে তিন মানব পাচারকারী আটক

    ঝিনাইদহ র‌্যাবের হাতে তিন মানব পাচারকারী আটক

    ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের একটি মানব পাচার মামলার তিন আসামীকে যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার রাতে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শৈলী গ্রাম থেকে তাকের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শৈলী গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদের ছেলে মোঃ রুবেল হোসেন (৩৩), শাহেদ আলীর ছেলে মোঃ মোস্তাক আহমেদ (৪৮) ও ইসমাইল সরদারের ছেলে মোঃ ইমদাদুল হক (৪৭)। শনিবার র‌্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসামীগণ একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার দালাল চক্রের সদস্য। তারা ভিকটিমের নিকটাত্মীয় হওয়ার সুবাদে মালয়েশিয়া পাঠানোর নাম করে সাড়ে চার লাখ টাকা গ্রহন করে। পরবর্তীতে তারা মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে একটি প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দেয়। ওই চক্রটি মালয়েশিয়ায় নিয়ে ভিকটিমকে কোন কাজ না দিয়ে একটি আবদ্ধ কক্ষে আটকে রাখে এবং ওয়ার্ক পারমিট করে দেওয়ার নাম করে আরও ষাট হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ভিকটিমের পিতা সন্তানের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে আসামীরা কোন সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। ভিকটিমের পিতা বারবার চেষ্টা করেও নিজ সন্তানের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় মানব পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ঝিনাইদহ ও যশোরের র‌্যাব যৌথ ভাবে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত আসামীদের গ্রেফতার করে।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।

  • শৈলকুপায় সামাজিক দ্বন্দে দুইজনকে কু*পিয়ে জ*খম

    শৈলকুপায় সামাজিক দ্বন্দে দুইজনকে কু*পিয়ে জ*খম

    ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই সামাজিক দলের কোন্দলের জের ধরে দুইজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার আলফাপুর গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের আলফাপুর গ্রামে আওয়াল বিশ্বাস ও চাঁদ আলী মিয়ার দুইটি সামাজিক দল রয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দুই দলের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। আওয়াল বিশ্বাস স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শিমুল ও চাঁদ আলী বিশ্বাস বিল্ডার্সের মালিক নজরুল ইসলাম দুলালের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। বিরোধের জের ধরে শনিবার সকালে আলফাপুর গ্রামের মাঠে ফসলের ক্ষেতে কাজ করছিলো চাঁদ আলী মিয়ার সমর্থক রাজ্জাক মোল্লা ও মানিক বিশ্বাস। এ সময় আওয়াল বিশ্বাসের নেতৃত্বে শরিফ মিয়া, নয়ন বিশ্বাস, আলামিন হোসেন, মিজান মোল্লাসহ কয়েকজন তাদের উপর হামলা চালায়। তারা রাজ্জাক ও মানিক বিশ্বাসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ব্যাপারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা চাঁদ আলী মিয়া বলেন, আওয়াল বিশ্বাস বিএনপি নেতা হয়ে আওয়ামী লীগের ছত্রচায়ায় থেকে নেতাকর্মীদের উপর হামলা করছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ। স্থানীয় ইউপি মেম্বর তুহিন বিশ্বাস জানান, আহত ও হামলাকারীরা উভয় আওয়ামীলীগ সমর্থিত সামাজিক দলের সদস্য। শৈলকুপা থানার ওসি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সামাজিক দ্বন্দের জের ধরে দুইজনকে মারধর করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। ভুক্তভোগীরা মামলা দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • গোদাগাড়ীতে স্মরণকালের সর্ববৃহত  শোডাউন

    গোদাগাড়ীতে স্মরণকালের সর্ববৃহত শোডাউন

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ মোটরসাইকেল শোডাউন আয়োজন করা হয়েছে।
    জানা গেছে, ২ মার্চ শনিবার গোদাগাড়ী উপজেলা যুবলীগের অর্থ- বিষয়ক সম্পাদক, দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও তরুণ শিল্পপতি বেলাল উদ্দিন সোহেলের নেতৃত্বে এই মোটরসাইকেল শোডাউন আয়োজন করা হয়েছে। এদিন দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শোডাউনের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ ও প্রচারণা শুরু করেছেন বেলাল উদ্দিন সোহেল। আসন্ন গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদন্দিতার ইচ্ছে প্রকাশ করে মাঠে নেমেছেন বেলাল উদ্দিন সোহেল। তিনি তার গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসমর্থন জানান দিতেই এমন জমকালো শোডাউনের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ ও প্রচারণা শুরু করেছেন।
    এদিকে বেলাল উদ্দিন সোহেলের মোটরসাইকেল শোডাউনে নেতা ও কর্মীসমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো। যা ছিল আলোচনার শীর্ষে নজর কেড়েছে, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন বেলাল উদ্দিন সোহেলের নেতৃত্বে গোদাগাড়ীর
    স্থস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে এমন জমকালো শোডাউন তার প্রার্থী হবার পথ অনেকটা সহজ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রমাণ হয়েছে গোদাগাড়ীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বেলাল উদ্দিন সোহেল ভোটারদের মাঝে পচ্ছন্দের শীর্ষে রয়েছেন।
    এদিকে গোদাগাড়ীর রাজনৈতিক অঙ্গনে
    আলোচনায় উঠে এসেছে বেলাল উদ্দিন সোহেলের নেতৃত্বে স্বরণকালের সর্ববৃহৎ মোটরসাইকেল শোডাউন।
    অন্যদিকে বেলালের নেতৃত্বে স্বরণকালের সর্ববৃহৎ এই শোডাউন প্রমাণ করেছে এবার উপজেলা নির্বাচনে তার কোনো বিকল্প নাই। অথচ কদিন আগেও আঁচু-পাঁচু-বগী ও কথিত নেতাকর্মীরা
    বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা কথিত সভা করে বেলালের প্রার্থীতা নিয়ে কটুক্তি করেছিল। এদিন তার নেতৃত্বে স্বরণকালের সর্ববৃহৎ শোডাউন দেখে তাদের স্বপ্ন উবে গেছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান, তরুণ শিল্পপতি ও সমাজসেবক বেলাল উদ্দিন সোহেল বলেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন। তিনি বলেন, তার এই শোডাউনে সাধারণ মানুষের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন ও তার প্রতি তাদের ভালবাসার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তাতে তিনি না চাইলেও এসব মানুষ তাকেই উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।#

  • গোদাগাড়ীতে খাদ্য নিরাপত্তা, ভূমির জটিলতা দূর করার  জন্য মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    গোদাগাড়ীতে খাদ্য নিরাপত্তা, ভূমির জটিলতা দূর করার জন্য মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ “খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে বরেন্দ্র-এর সেচের পানির অধিকার এবং ভূমির জটিলতা দূর করুন” শ্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ীহাট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনসমূহের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৪’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সিসিবিভিও-রাজশাহীর বাস্তবায়নে, ব্রেড ফর দি ওয়ার্ল্ড, জার্মানীর সহায়তায় ও রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির আয়োজনে রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনসমূহের বার্ষিক সাধারণ সভার শুরুতে অনুষ্ঠানিকতার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীতসহ জাতীয় পতাকা ও রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সভাপতি সরল এক্কার সভাপতিত্বে বার্ষিক সাধারণ সভায় উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মো: আব্দুর রশীদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও সিসিবিভিওর সমন্বয়কারী মো: আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সিসিবিভিও’র সভাপতি ও সাবেক রেজিস্ট্রার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর মো: আব্দুস সালাম, সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, রক্ষাগোলা মডেলের গবেষক ও সিসিবিভিওর সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী প্রধান মো.সারওয়ার-ই-কামাল স্বপন, জেলা পরিষদের সদস্য ও গোদাগাড়ী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুর রশিদ, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, বিশিষ্ট সমাজসেবক সুনন্দন দাস রতন, গোদাগাড়ী উপজেলা উরাও দিঘরী রাজা পরিষদের রাজা নিরেন খালকো, মাহলে দিঘরী বাইশি প্রধান সিষ্টি বারে, পাহাড়িয়া বাইশি প্রধান রঘুনাথ পাহাড়িয়া, দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষরেদর চেয়ারম্যান মো: বেলাল উদ্দিন সোহেল, গোদাগাড়ী মহিলা লীগের সম্পাদক কৃষ্ণা দেবি প্রমূখ।

    বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিটি রক্ষাগোলা সংগঠনের প্রতিবেদন-২০২৪ উপস্থাপন করেন সংগঠনসমূহের নেতা-নেত্রীবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন পাথরঘাটা রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের মোড়ল মানিক এক্কা।
    আলোচনা পর্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণ রক্ষাগোলা সংগঠনের মাধ্যমে একতাবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হতে হবে। বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণ সেচের পানি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে তা প্রতিরোধে আন্তরিকতার সহিত প্রচেষ্টা চালাবে এবং গভীরনলকূপ কেন্দ্রিক প্রভাবশালী মহলের দুর্নীতিকে প্রতিহত করবে।”
    অন্যান্য অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, অবহেলিত ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর মানুষগুলো নিজেদের প্রচেষ্টায় রক্ষাগোলা সংগঠন অসামান্য এই দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। তবে এটা সত্য যে, যতদিন বাংলাদেশে এই ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর জনগণের অধিকার কার্যত প্রতিষ্ঠিত না হচ্ছে ততদিন তাদের সার্বিক উন্নয়ন অপূর্ণ রয়ে যাবে। তাই, সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও অধিকার অর্জনের জন্য এসকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনজাতির মানুষকে তাদের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রাম ও ঐক্য অব্যাহত রাখতে হবে। নিজেদের অধিকার নিজেদেরকেই অর্জন করতে হবে; আর এদেশের অধিকাংশ মুক্তমনা মানুষ তাদের পাশে দাঁড়াবেন।
    রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠন সমূহের বার্ষিক সাধারণ সভার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিসিবিভিও-রাজশাহী’র “রক্ষাগোলা মডেল” অনুসরণ করে ৫০টি গ্রামের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তাসহ দারিদ্র দূরীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এই সকল গ্রামের জনগণ গ্রামভিত্তিক সমাজ সংগঠন পুনর্গঠিত করেছে, স্ব-নির্ভর খাদ্য-নিরাপত্তা ব্যাংক ও সামাজিক তহবিল গড়ে তুলেছে, গড়ে তুল্ছে নিজেদের সাংস্কৃতিক উন্নয়নের অবকাঠামো, পরিবেশ রক্ষা, দ্ব›দ্ব ব্যবস্থাপনা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং এর পাশাপাশি স্থানীয় সম্পদ ও সরকারী পরিসেবা প্রতিষ্ঠান সমূহকে কাজে লাগিয়ে ভূমি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে আরো জানানো হয় গোদাগাড়ী উপজেলার সর্বমোট ৫০ টি গ্রামে বর্তমানে ১৮শ ৮৯টি পরিবারে ২৩শ ৯২ জন নারী,২১শ ১৫ জন পুরুষ, ১৫শ ৮২ জন মেয়ে শিশু ও ২০ হাজার ২৬ জন ছেলে শিশু, সর্বমোট ৮ হাজার ১১৫ জন মানুষ সংগঠিত হয়েছে। গ্রামগুলিতে উঁরাও, সান্তাল, রাজুয়াড়, পাহাড়িয়া, মুন্ডা, রায়, হাজরা, মাহালে, গড়াইৎ নৃজাতিগোষ্ঠীর বসবাস। গ্রামগুলোতে এপর্যন্ত সর্বমোট সঞ্চিত চাউলের পরিমাণ ৮৮লাখ ১৯হাজর ৯৪৮ কেজি, ধান ৯৯ হাজার ৯৬১ কেজি । সময় উত্তীর্ণ অতিরিক্ত মুষ্টি চাউল ও ধান বিক্রয়সহ প্রকল্প ভিত্তিক সঞ্চয়ের মাধ্যমে এপর্যন্ত সর্বমোট সামাজিক মূলধণ সঞ্চিত হয়েছে ১কোটি ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৯৫৬ টাকা। জানুয়ারী-ডিসেম্বর’২৩ সময়কালে গ্রামের সকল পরিবারই বছরে কমপক্ষে দুইবার খাদ্য ও অর্থ সহায়তা নিয়েছে যার পরিমাণ চাউল ১৬ হাজার ৭০১ কেজি ও ৪৯ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৫ টাকা যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও পারিবারিকসহ বিভিন্ন কাজের প্রয়োজনে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • রাজশাহীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অভিভাবকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    রাজশাহীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অভিভাবকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহী সরকারী টি.টি কলেজে ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম এন্ড নিউরো -ডেভেলপমেন্টাল ডিজএবিলিটিজ (NAAND) এর আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহঃ প্রধান, অভিভাবকদের নিয়ে এক অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষনের সমাপনি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় কলেজের ৩০৪ নং হলরুমে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শওকত আলী খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আমিনা আবেদিন, NAAND এর সহকারি প্রকল্প পরিচালক মোঃ হযরত আলী।

    কোর্স সমন্বায়ক মোসাঃ জাকিয়া ম্যাডামের সঞ্চলনায় বক্তব্য প্রদান করেন, কলেজ উপাধ্যক্ষ ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী, টিটি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, অধ্যাপক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, প্রতিবন্ধী ছেলের অভিভাবক মোঃ শরিফুল ইসলাম, কদমশহর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাবিনা ইয়াসমিন, রাজাবাড়ীহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মতিয়ার রহমান প্রমূখ।

    প্রশিক্ষন ২৭ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়ে ২ মার্চ শেষ হয়। এ প্রশিক্ষনে গোদাগাড়ী তানোর উপজেলার ৩০ জন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ১০ জন অভিভাবক অংশ গ্রহন করেন।

    বক্তাগণ বলেন, কোন গোষ্ঠী, পিছিয়ে পড়া, বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। যারা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কটু কথা বলে থাকেন তাদের উদ্দেশ্যে বক্তাগণ বলেন, আমাদের দেশ এগিয়েছে কিন্তু কিছু মানুষ এখনও মানসিকভাবে এগুতে পারেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে উদ্যোগ নেওয়ার ফলে বর্তমানে অনেক মেধাবী শারীরিক প্রতিবন্ধীরা ভালো অবস্থানে আছেন। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দেশে ২ লাখ ৪৪ হাজার অটিজম শিশু রয়েছে তাদের কথা চিন্তা করেই, তাদেরকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এসব কার্যক্রম শুরু করেছেন। একটি কুসংস্কার আছে, অটিজম শিশুর জন্মের জন্য মায়েরা দায়ী, ছোট অবস্থায় বিভিন্ন টিকা দেয়ার জন্য হয়ে থাকে। এগুলি সঠিক নয়।

    প্রধান অতিথি আমিনা আবেদিন বলেন, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম এন্ড নিউরো -ডেভেলপমেন্টাল ডিজএবিলিটিজ প্রকল্প কার্যক্রম শুরু করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযৌগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সকল শিশুর অংশ গ্রহন প্রয়োজন। এ সব শিশুদের ভালবাসুন, যত্ন করুন, প্রশিক্ষন নিয়ে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন হাউস ট্রেনিং করে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেন। শিক্ষকগণ একজন শিক্ষার্থীর জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারেন। তার দিক নির্দেশনায় শিক্ষাভবিষ্যৎ

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • নড়াইলে ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায়  মাদরাসা ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা ও শিশু অপহরণের  অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

    নড়াইলে ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় মাদরাসা ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা ও শিশু অপহরণের অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
    নড়াইলে ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করায় মাদরাসা ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা ও শিশু অপহরণের অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ। নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় নিলয় মোল্যা (১৪) নামে এক মাদরাসাছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিলয়ের সঙ্গে থাকা তামিম খান নামে আরেক কিশোর আহত হয়েছে।উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার (১ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার খাশিয়াল ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

    নড়াগাতি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    নিলয় মোল্লা কালিয়া উপজেলার টোনা গ্রামের সাবেক পুলিশ সদস্য সুলতান আহমেদ মোল্যার ছেলে এবং স্থানীয় টোনা দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।
    প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিলয় ও তামিমসহ এলাকার কয়েকজন তালবাড়িয়া গ্রামে ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাদের পথ আটকায়। তারা নিলয় ও তামিমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিলয়কে মৃত ঘোষণা করেন।

    আহত তামিম জানান, দিন পনের আগে তাদের গ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক মেয়ে শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করে শাকিল খান নামে এক তরুণ। নিলয় মোল্যা এর প্রতিবাদ করে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাকিলকে চড় দেন নিলয়। পরে স্থানীয়রা ঘটনাটি মীমাংসা করে দেন। ওই ঘটনার জের ধরে আজকে মাহফিল থেকে ফেরার পথে শাকিল বিড়ি খাওয়ার কথা বলে আমাকে ও নিলয়কে ডেকে নিয়ে রামদা, সেভেন গিয়ার দিয়ে আঘাত করে। আমরা বাঁচার জন্য চিৎকার চেঁচামেচি করলে মাহফিলের লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করে।
    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, খাশিয়াল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজ্জাক খন্দকার বলেন, তারা মাহফিল থেকে ফেরার পথে জানতে পারেন, ব্রাহ্মণপাটনা গ্রামের কামরুল খানের ছেলে শাকিল খানের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন লোক দুটি ছেলেকে কুপিয়ে পালিয়েছে। পরে তাদের উদ্ধার করে আমরা কালিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ডাক্তার নিলয়কে মৃত ঘোষণা করে।

    কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক পার্থ প্রতিম বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নিলয়ের মৃত্যু হয়েছিল। তামিমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাকিল খান বা তার পরিবারের কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

    এ বিষয়ে নড়াগাতি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিলয়ের মরদেহ ময়নাতদন্ত জন্য সকালে (শনিবার) নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার সাথে জড়িতদের সন্ধান করা হচ্ছে। অপদিকে
    নড়াইলে শিশু অপহরণের অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় শিশু অপহরণের চেষ্টার সময় আকিদুল শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে জনতা। পরে তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

    শুক্রবার উপজেলার গোপিনাথপুর এলাকায় ওই ব্যক্তিকে আটক করে স্থানীয়রা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশের হাতে আটক হওয়া আকিদুল শেখ ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার নোয়াপাড়া গ্ৰামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম সেলিম শেখ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আকিদুল শেখ নামে ওই ব্যক্তি লোহাগড়া উপজেলার গোপিনাথপুর গ্ৰামের তবিবর শেখের ভাড়াটিয়া তারিকুল ইসলামের মেয়ে আছিয়া খানম (৫)-কে চেতনানাশক মুখে দিয়ে অপহরণের চেষ্টার সময় স্থানীয়রা দেখে ফেলেন। পরে দৌড়ে পালানোর সময় জনগণ তাকে ধাওয়া করে আটক করে। অতঃপর তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

    এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার রায় বলেন, শিশু অপহরনের চেষ্টার সময় স্থানীয় জনতা এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। আমরা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা কৃষকদের; পাইকগাছায় সূর্যমুখী ফুল চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

    সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা কৃষকদের; পাইকগাছায় সূর্যমুখী ফুল চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    পাইকগাছায় সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছ।সূর্যমুখী ফুলের চাষ ভালো হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখী চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা হলুদ সূর্যমুখী ফুলের সমাহারে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছিরা ছুটছেন মুখরিত হয়ে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে। এটি যেন ফসলি জমি নয়, এ এক দৃষ্টিনন্দন বাগান।এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অবলোকনে শুধু প্রকৃতিপ্রেমীই নয় বরং যে কারো হৃদয় কাড়বে। তবে সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়। মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে।
    সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করতে উদ্যমী কৃষকদের উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার ও বীজ প্রণোদনার মাধ্যমে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হচ্ছে।মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষাবাদের জন্য উপযোগী। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
    বর্তমানে সূর্যমুখী ফুলের সমারোহে মেতে উঠেছে উপজেলার মাঠগুলো। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় কৃষকরা সূর্যমুখী ফুলের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তেল জাতীয় অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখীর চাষ অনেক সহজলভ্য ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা এতে উৎসাহিত হয়ে উঠবেন বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৯৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। সূর্যমুখীর চাষাবাদ কৃষকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে উপজেলারে কৃষকরা এফ-১ (হাইব্রিড) জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা শুরু করেছেন। ফুলের সৌন্দর্য দেখতে খামারে আসছেন দর্শনার্থীরা।অনেকে এটি চাষ করার পরামর্শও নিচ্ছেন। বর্তমানে একঘেয়েমি ধান চাষ করে কৃষকরা তেমন একটা লাভবান হচ্ছেন না। ধান চাষ করতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় সেই টাকার ধান পাওয়া যায় না।
    অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ মণ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ লিটার থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের। এছাড়া সূর্যমুখী ফুলের তেল অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। তাই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য এই তেল অন্যান্য তেলের চেয়ে অনেক উপকারী ও স্বাস্থ্যসম্মত।
    উপজেলার দেলুটি ইউনিয়ানে ৮০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। দেলুটি কৃষক শিবপদ মন্ডল বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় আমি এই প্রথম ২বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। আমার সূর্যমুখী ফুল ভালো হয়েছ। প্রতিটি গাছেই ফুল ধরেছে। আশা করি সূর্যমুখী চাষে সফলতা আসবে ও লাভবান হতে পারব। আমাকে দেখে এলাকার অনেক কৃষকরা সূর্যমুখী ফুলের চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
    পৌর সভার শিববাটিতে প্রায় পাচশতক জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন পুরাকাঠি গ্রামের কৃষক আকবর মোড়ল (৭০)। তিনি বলেন, সূর্যমুখীর ফুল ও ফল ভালো হয়েছে। বিকেল বেলায় অনেকে লোকজন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেখতে আসেন সূর্যমুখী ফুল, জমির পাশে ছবি তুলেন সময় কাটান অনেকেই। তা দেখে আমার খুবই আনন্দ লাগে। শুনছি এটি খুবই লাভজনক একটি ফসল।
    উপজেলার দেলুটি ইউনিয়ানের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুণ্ড বলেন, সূর্যমুখী এক দিকে মনোমুগ্ধকর ফুল অন্যদিকে লাভজনক ফসল। কৃষকদের বিস্তারিত জানিয়ে সূর্যমুখী আবাদ করার পরিকল্পনা করি। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকে সারিবদ্ধভাবে বীজ বপন করা হয়। বীজ বপনের ৯০-১০০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ও দুবার সেচ দিতে হয় এ ফসলে। প্রতি একর জমিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক একর জমির উৎপাদিত বীজ থেকে ৬০-৬৫ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। সূর্যমুখী গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
    উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অসিম কুমার দাশ বলেন, উপকূলের লবনাক্ত এ উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ ভালো হয়েছে। সূর্যমুখীর বীজ থেকে যে তেল উৎপন্ন হয় তা স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন। অলিভ ওয়েলের পরেই সূর্যমুখী তেলের অবস্থান। সয়াবিন ও সরিষা ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরণ করবে সূর্যমুখী তেল। বেশি লাভজনক ফসল সূর্যমুখী। তিনি বলেন, আশা করছি ভালো ফলন হবে। আগামীতে এই উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ ব্যাপক হারে সম্প্রসারিত হবে। কৃষকেরা সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হবেন বলে তিনি আশাবাদী।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা

  • সুজানগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় ভোটার দিবস পালিত

    সুজানগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় ভোটার দিবস পালিত

    এম এ আলিম রিপন ঃ “সঠিক তথ্যে ভোটার হবো,স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো”এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে শনিবার (২ মার্চ) পাবনার সুজানগরে পালিত হয়েছে ষষ্ঠ জাতীয় ভোটার দিবস। এ উপলক্ষ্যে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সকাল ১০টায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণে বের হওয়া বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুখময় সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় ভোটার দিবসের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সুজানগর পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবুল কালাম। আলোচনা সভায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম,সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী মন্ডল, সুজানগর শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনসুর আলী, সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) দিলীপ কুমার, দৈনিক যুগান্তরের সুজানগর উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলিম রিপন, উপজেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আরিফ বিল্লাহ, সুজানগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী বিজন কুমার পাল, পদ্মা সংগীত একাডেমির পরিচালক শ্রী জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, উপজেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী আমিনুর ইসলাম ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে উপজেলায় দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। আলোচনা সভায় ভোটার হওয়ার নিয়ম কানুন এবং ভোট প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, ভোটার হওয়া এবং ভোট দেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই একজন নাগরিক দেশের শাসন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করে থাকে। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তিকে ভোটার হতে হবে,ভোট দিতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সুফল বিষয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমানে আর্থিক ও সামাজিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রকে অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই সকল যোগ্য নাগরিকেরই উচিৎ তাদের বয়স আঠারো বৎসর হলেই স্ব- উদ্যোগে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়া। শেষে কয়েকজন ব্যক্তি নতুন ভোটার হন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি