Blog

  • তারাকান্দায় ওসি ওয়াজেদ আলীর মেধায় বালিখাঁর নারী খু*নের আসামী ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার

    তারাকান্দায় ওসি ওয়াজেদ আলীর মেধায় বালিখাঁর নারী খু*নের আসামী ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার

    আরিফ রববানী-ময়মনসিংহ
    ময়মনসিংহের তারাকান্দায় পাওনা টাকা চাওয়া কে কেন্দ্র করে অজুফা বেগম (২৮) নামে এক বিধবা নারীকে খুন হওয়ার ঘটনায় ২৪ঘন্টায় খুনী নুরুন্নবীকে গ্রেফতার করেছে তারাকান্দা থানা পুলিশ।

    জানা গেছে, উপজেলার বালিখাঁ ইউনিয়নের বালিখাঁ পূর্ব মালি ডাংগা গ্রামের মৃত এনামুল হক ওরফে এনার স্ত্রী অজুফা বেগম (২৮) শুক্রবার সকালে ঘাস কাটতে মাঠে গিয়ে নিখোঁজ হয়। বাড়ির লোকজন খোঁজাখুজি কালে মাঠে এক ফিশারীর পুকুরে খুটির সাথে বাধা অবস্থায় লাশ দেখে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

    তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওয়াজেদ আলী জানান, এ ঘটনা একই গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র নুরুন্নবি ওরফে (৩০) নামে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদে পুলিশ কে জানান, এই মহিলা তার নিকট ২০০০টাকা পায় ঘটনার দিন তাকে মাঠে একা পেয়ে পাওনা টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে তর্কতর্কি হয়।

    এক পর্যায়ে ওই নারীকে কারেন্টের ছেকাঁয় গুরুতর আহত করে ফিশারীর পুকুরে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে খুঁটির সাথে বেধেঁ পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে নিহত নারীর মা হাসনা আক্তার (৫৫) বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে।

    পুলিশ রাতেই তদন্তে নামে প্রধান আসামী নুরুন্নবীকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে। নিহত অজুফা বেগম বালিখাঁ গ্রামের মৃত ওয়াজেত আলীর মেয়ে। সে পিত্রালয়ে বসবাস করত।

    এদিকে খুনের ঘটনায় অল্প সময়ের মাঝে আসামী গ্রেফতার করায় তারাকান্দা থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নিহত অজুফা বেগমের পরিবার।

  • সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সমিতি ঢাকা’র উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

    সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সমিতি ঢাকা’র উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, গাইবান্ধা থেকেঃ
    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন উপলক্ষে দুঃস্থ, গরীর ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সমিতি ঢাকা।

    রোববার দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সমিতি ঢাকার উদ্যোগে আমিনা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন সেচ্ছাসেবী সংগঠনটি।

    এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার সাগর।

    সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সমিতি ঢাকা’র সভাপতি সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহফুজার রহমান সরকারের সভাপতিত্বে’ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আনন্দ গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহেল বারী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট সমিতির যুগ্ম-মহাসচিব রফিকুল ইসলাম সুমনের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়া, সহ-সভাপতি শেখ মোঃ খবির উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত ডিডি নবুওয়াত হোসেন সরকার, যুগ্ম-মহাসচিব ও বাপেক্স’র ব্যবস্থাপক আরেফিন আজিজ সরদার সিন্টু, গাইবান্ধা আবাসন ঢাকার চেয়ারম্যান লায়ন মো. আবুল হোসেন, সমিতির সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন প্রমূখ।

    পরে, সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৫০ জন ও ১৫টি ইউনিয়ন থেকে আগত ৪০ জন করে মোট ৬৫০ জন দুঃস্থ, গরীর ও অসহায় মানুষের মাঝে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়

  • উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী  জাহাঙ্গীর আলমের গণসংযোগ

    উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের গণসংযোগ

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আদিবাসি পল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও গণসংযোগ করেছেন।
    জানা গেছে, গতকাল দিনভর
    উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আদিবাসি পল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন এবং অর্জনের চিত্র তুলে ধরে নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা ও তাদের সমর্থন চান। তিনি স্মার্ট গোদাগাড়ী বিনির্মাণ করতে আরো একবার সুযোগ চান। এসময় আদিবাসিরা তাকে সমর্থন ও তার পক্ষে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
    অন্যদিকে উপজেলা নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বোধদয় হয়েছে এটা স্থানীয় নির্বাচন ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়। কাজেই সরকার তথা এমপি সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় ব্যতিত এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। ফলে উপজেলার মানুষ উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে কোনো ব্যক্তি নয়, সরকার সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় চাই।#

  • সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম মাদবর

    সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম মাদবর

    স্টাফ রিপোর্টারঃ সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের ভাদাইল এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শফিকুল ইসলাম মাদবর।
    আশুলিয়া থানার ধামসোনা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম মাদবর বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী সহযোগী সংগঠনের সকল নেতা কর্মী আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। আমি আমার পক্ষ থেকে সাবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। “পবিত্র ঈদ বয়ে আনুক সবার জীবনে অনাবিল সুখ-শান্তি। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক সবার সারাটা জীবন। ত্যাগ ও সিয়াম সাধনার মহান আদর্শে পরিচালিত হোক সবার জীবন। প্রিয় ভাই বন্ধু ও নিজ পরিবার নিয়ে আনন্দঘন মুহুর্তে ঈদ উদযাপন করাই ঈদের স্বার্থকতা। তিনি আরও বলেন, ঈদের দিন সবাই পরিবারকে সময় দিন, দুঃখ, কষ্ট, ব্যথা, বেদনা, হিংসা ভুলে গিয়ে ঈদের দিনে প্রিয়জনদেরকে উপহার দিন, সবাই হাসি-খুশি থাকবেন এই কামনা করি, আবারও সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা-“ ঈদ মোবারক”।

  • সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মক্কা ইলেকট্রনিক্স এন্ড ফার্নিচারের মালিক

    সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মক্কা ইলেকট্রনিক্স এন্ড ফার্নিচারের মালিক

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া মধ্য পাড়া দি-রোজ গার্মেন্টসের পিছনের রোডে অবস্থিত “মক্কা ইলেকট্রনিক্স এন্ড ফার্নিচার” এর মালিক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মোঃ আনারুল ইসলাম (আকাশ) দেশবাসী সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, “ঈদ মোবারক”।
    ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মোঃ আনারুল ইসলাম (আকাশ) বলেন, সবার দুঃখ, কষ্ট, ব্যথা, বেদনা ভুলে গিয়ে সবাই ঈদের আনন্দ ঊপভোগ করুন, ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, সবাইকে ঈদুল ফিতরের ঈদের শুভেচ্ছা-“ঈদ মোবারক”। তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা বিত্তবান ও সামর্থবান আছেন, আপনাদের আশপাশে গরীব, মধ্যবিত্ত যারা বসবাস করেন তাদের অনেকেই লজ্জায় কারো কাছে হাত পেতে সহযোগিতা নিতে পারেন না কিন্তু তাদের বাসা বা ঘরে অবুঝ শিশু ও বুদ্ধ মানুষ আছেন, তাদের খোঁজখবর নিয়ে আপনাদের কিছু খাদ্য ও জিনিসপত্র এবং নগদ অর্থ তাদের মধ্যে বিতরণ করুন, এতে তারা খুশি হয়ে আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন, আল্লাহ আপনাদের প্রতি খুশি হবেন। আবারও সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা-“ঈদ মোবারক” ঈদ মোবারক” ঈদ মোবারক”।

  • উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নাজনীন হক মিনুকে চান বানারীপাড়াবাসী

    উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নাজনীন হক মিনুকে চান বানারীপাড়াবাসী

    নিজস্ব প্রতিবেদক।
    উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে নাজনীন হক মিনুকে দেখতে চায় এলাকাবাসী। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে যদিও দলীয় মনোনয়ন দেবেনা তার পরও উপজেলার চলমান উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিনুকে জনগণ আগামী উপজেলা নির্বাচনে এই পদে দেখতে চায়। তাই তিনিই হচ্ছেন এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলাদের মধ্যে জনপ্রিয় ও হেভিওয়েট প্রার্থী এমন গুঞ্জনই এখন উপজেলার সাধারণ জণগনের মুখে মুখে।

    বানারীপাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ ও মতবিনিময়ে তার অতীত রাজনৈতিক জীবন এবং ভবিষ্যতে এলাকার রাজনীতিতে নিজের অর্জন-পরিকল্পনার কথা জানান দিচ্ছেন নাজনীন হক মিনু। অন্যদিকে,উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মত তাকে ব্যাতিত যোগ্য প্রার্থী নেই বলে দাবি এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।

    এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহকালে জানা যায়, আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একজন জনবান্ধব কর্মী হিসাবে নাজনীন হক মিনুকে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় এখানকার উঠতি ভোটাররা। স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের নেতা-কর্মীদের সাথে আলাপের মাধ্যমে এমন তথ্য জানা গেছে। তাদের মতে মহিলা আওয়ামী লীগ এই নেত্রী এরই মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। মহিলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতে নিজেকে টেনে নিয়ে এসেছেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। বর্তমানে তিনি বানারীপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাইতো নিজ দলীয় কর্মী-সমর্থকসহ এলাকাবাসীর অধিক আগ্রহের কারণেই মনস্থির করেছেন আগামী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবার।

    জানা গেছে, এবারে দলীয় প্রতীক না থাকায় জনতার প্রার্থী হিসেবে নাজনীন হক মিনু উপযুক্ত তাই আওয়ামী লীগের, সাধারণ কর্মীরা তার পক্ষেই একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন।

    উল্লেখ্য নাজনীন হক মিনু আপনাদের কাছে দোয়া ও প্রার্থনা কামনা করেছেন।

  • পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার পেল এক হাজার অসহায় পরিবার

    পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার পেল এক হাজার অসহায় পরিবার

    এম এ আলিম রিপন ঃ মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো.সাহাবুদ্দিন এর উদ্যোগে এবং পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় সুজানগর উপজেলার হত দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সুজানগর পৌর শহরের কদ্দুস কমপ্লেক্স চত্বরে অসহায় মানুষদের মাঝে এসকল ঈদ উপহার সামগ্রী তুলে দেন পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আফসার আলী বিশ^াস, পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ¦ আব্দুল কুদ্দুস ও পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পুলিশ সুপার(এসপি) আসলাম উদ্দিন। এসময় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম তুষার উপস্থিত ছিলেন। পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে এ সময় আবেগাপ্লুত অসহায় মানুষদের অনেকের দুই চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে। এ সময় উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের সৌক্ষেতুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা জাহানারা খাতুন বলেন, সামনে ঈদ, কত মানুষ কত কিছু খাবে। কেউ খোঁজ নেয় না আমাদের মত মানুষদের। আপনারা চাল,ডাল,চিনি,সেমাই, গুড়ো দুধ,সয়াবিন তেল ও ছোলা নিয়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন,ভাবতে পারি নাই। ঈদের দিন এগুলো রান্না করতে পারব, ভাবতে অবাক লাগছে। রাষ্ট্রপতিসহ আপনাদের জন্য পরান ভরে দোয়া করি। আল্লাহ আপনাদের সুখে রাখুক,ভালো রাখুক,শান্তিতে রাখুক। এই ঈদ উপহার না পেলে ঈদের দিন ভালো কিছু রান্না করতে পারতাম না। ঈদ উপহার বিতরণকালে পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি আফসার আলী বিশ^াস,আজীবন সদস্য আলহাজ¦ আব্দুল কুদ্দুস ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পুলিশ সুপার(এসপি) আসলাম উদ্দিন জানান, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভপতি মো.সাহাবুদ্দিন স্যার এর উদ্যোগে এবং পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাবেক রেল সচিব সেলিম রেজা স্যারের পরামর্শক্রমে শনিবার সুজানগর উপজেলার ১২০জন সহ জেলার এক হাজার হত দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের মাঝে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। গরীব অসহায় ও দুস্থ মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ। আমাদের সামর্থ্য দিয়ে কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র মানবিক প্রয়াস বলেও জানান তারা।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • পাইকগাছায় ফিশারিজ কো ম্যানেজমেন্ট মিটিং অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছায় ফিশারিজ কো ম্যানেজমেন্ট মিটিং অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছা উপজেলা পর্যায়ে ফিশারিজ কো-ম্যানেজমেন্ট মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর ও উন্নয়ন সংস্থা এসডিএফ বাস্তবায়িত সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট কম্পোনেন্ট-৩ এর আওতায় রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিটিং এ প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক। বিশেষ ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার, থানার সেকেন্ড অফিসার আজগর হোসেন, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিন্টু, এসডিএফ ক্লাস্টার অফিসার নাসিম আহম্মেদ আনসারী। উপস্থিত ছিলেন, এসডিএফ ক্লাস্টারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীবৃন্দ।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • লবণ পানি উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ, প্রাণ ও প্রকৃতি ধ্বংস করেছে….এমপি রশীদুজ্জামান

    লবণ পানি উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ, প্রাণ ও প্রকৃতি ধ্বংস করেছে….এমপি রশীদুজ্জামান

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রশীদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। এ জন্য এ সরকারের সময়ে দেশের কৃষকরা যেমন ভালো আছে তেমনি কৃষিতে এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। তিনি বলেন, কৃষি হচ্ছে গ্রামীন অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। কৃষি এবং কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এমপি রশীদুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাজ শুরু করেছিলেন। যার সুফল পেয়ে ওই সময় এ অঞ্চলের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। কালের বিবর্তনে আশি’র দশকে এ অঞ্চল গ্রাস করে নেয় লবণ পানি। লবণ পানির আগ্রাসনে এখানকার কৃষি, পরিবেশ, প্রাণ ও প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। যে কোন উপায়ে লবণ পানির অগ্রাসন থেকে এ অঞ্চলের পরিবেশ ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে হবে। তিনি বলেন, কৃষি চাষাবাদে অতিতের সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ঘরে ঘরে স্মার্ট কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরী করতে হবে। ফসলী জমির বহুমুখী ব্যবহার করতে হবে। তিনি আগামী আমন মৌসুমে চিংড়ি ঘেরের এক ইঞ্চি জায়গাও ফেলে না রেখে ধান চাষ করতে সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি রোববার দুপুরে পাইকগাছার গড়ইখালী ইউনিয়নের কানাখালী রাধা গোবিন্দ মন্দির চত্তরে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন। ক্লাইমেট-স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় পাইকগাছা উপজেলায় কৃষির বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের প্রযুক্তির সম্প্রসারণের লক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ কৃষক সমাবেশের আয়োজন করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপিকা ঢালী, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অসীম কুমার দাস, ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আব্দুস সালাম কেরু, সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস, কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিশিত রঞ্জন মিস্ত্রী, কৃষিবিদ ড. ফেরদৌস, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ মন্ডল, আওয়ামী লীগনেতা এসএম আয়ুব আলী, গাজী মিজান, প্রভাষক আব্দুল ওহাব বাবলু, ইউপি সদস্য সরৎ চন্দ্র মন্ডল, আয়ুব আলী সরদার, আক্তার হোসেন গাইন, আব্দুল মোমিন, রমেশ চন্দ্র বর্মণ, নাছিমা আক্তার, গাউস সরদার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শেখ তোফায়েল আহম্মেদ তুহিন, আবুল কালাম আজাদ, আতাউল্লাহ, ফয়সাল আলম, আকরাম হোসেন, সোহাগ হোসেন, ইমরান হোসেন, শরিফুল ইসলাম, সুব্রত দত্ত, এনামুল হক, তাপস সরকার, সুমিত দেবনাথ, মুনিয়া রুবাইয়া, মফিজুল ইসলাম, শামীম আফজাল, দেবদাশ, নাহিদ মল্লিক, সরাজ উদ্দীন, মৃণাল, ময়না বেগম, কৃষক বিজয় কৃষ্ণ রায়, জ্যোতিকা রায়, মলয় মন্ডল, জেলা ছাত্রলীগনেতা মৃণাল কান্তি বাছাড়, স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা রাজিকুজ্জামান সুমন, মৎস্যজীবী লীগনেতা হামিম সানা, ছাত্রলীগনেতা আরিফ আহম্মেদ জয় ও ফয়সাল আলম।

  • গড গিফটেড শিশুর প্রতি সবার সদয় হওয়া উচিৎ

    গড গিফটেড শিশুর প্রতি সবার সদয় হওয়া উচিৎ

    মো: হায়দার আলী।। নতুন শিক্ষাক্রম, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কি অবস্থা, অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা কি পরিমান উপকৃত হচ্ছে অপর দিকে দেদারসে চলছে শিক্ষকদের প্রাইভেট, কোচিং বানিজ্য, রহস্যজনক কারণে প্রশাসন রয়েছে নিরব দর্শকের ভূমিকায়। কিন্তু কোন কোন স্থানে এসব অবৈধ প্রাইভেট কোচিং বানিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন প্রশাসন যা পত্র পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর পাওয়া গেছে। স্মার্ট ফোন, ইন্টারনেটের গতি নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা কতটা সমস্যার মুখে পড়েছে। এ সম্পর্কে লিখার জন্য, তথ্য উপাত্ত নিয়ে ল্যাপটপ ওপেন করলাম। এমন সময় আমার প্রতিবেশী মৃত. ইলিয়াস আলীর ছেলে অটিজম, একবার হারিয়ে গিয়েছিল অনেক খোঁজাখোজি, কান্নাকাটি করে তাকে ২ মাস পর পাওয়া গিয়ে ছিল। তার মা তাকে অনেক কষ্ট করে মানুষ করছেন, ছেলেটা অনেক বড় হয়েছে, দাড়ি, গোফ উঠেছে। তাই তো মা তাকে বাড়ী আটকিয়ে রাখে। সচেতন হলে, সঠিক পরিচর্যা করা হয়ে সে আরও ভাল হত। অভাবের সংসারে নুন আন্তে পান্তা ফুরায় অবস্থা, তাই ভর্তি করতে পারেনি সে ধরণের স্কুলে। ওই ভাবীর কষ্টের কথা চিন্তা করে লিখার থিম পরিবর্তন করে
    অটিজমে আক্রান্ত শিশু সম্পর্কে আল্লাহর নাম নিয়ে লিখা শুরু করলাম।

    মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধির বা পরিপক্বতার হেরফেরের কারণেই একটি শিশু অটিজমে আক্রান্ত হয়। কিন্তু কেন এই হেরফের, তা অজানা। তবে গবেষকরা মনে করেন চারটি কারণেঅটিজমের জন্য প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
    ১. জিনগত সমস্যা. ২.রোগজীবাণুর সংক্রমণ ৩. শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় গোলমাল ৪. পরিবেশগত সমস্যা

    যেহেতু এটি একটি সমষ্টিগত আচরণের সমস্যা, তাই অনেক অটিস্টিক শিশুর সব লক্ষণ থাকে না। তবে ‘অটিজম স্পেকট্রাম অব ডিজঅর্ডার’ বা অটিজমের লক্ষণ গুলোকে তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যেতে পারে: ১. সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে অপারগতা
    অটিজম আছে এমন শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বাভাবিক একটি শিশু যেভাবে বেড়ে ওঠে, যেভাবে সামাজিক সম্পর্কগুলোর সঙ্গে ধীরে ধীরে যোগাযোগ তৈরি করে, সে তা করতে পারে না।
    বাবা-মা বা প্রিয়জনের চোখে চোখ রাখতে, মুখভঙ্গি ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নিজের চাওয়া বা না-চাওয়া বোঝাতে সে অপারগ হয়।
    সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে না। অমিশুক প্রবণতা থাকে।
    কোন ধরনের আনন্দদায়ক বস্তু বা বিষয় সে অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেয় না। যেমন, স্বাভাবিক একটি শিশু কোন খেলনা হাতে পেলে তার দিকে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিন্তু অটিস্টিক শিশুর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোন খেলনার প্রতি তার নিজের কিছু আগ্রহ থাকলেও সেটা নিয়ে কোনো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে না।
    শারীরিক আদর, চুমু দেওয়া এবং চেপে ধরে কোলে নেওয়া তারা মোটেই পছন্দ করে না।
    ২. যোগাযোগের সমস্যা
    আশপাশের পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার ক্ষমতা কমে যায়। তবে মনে রাখতে হবে, কেবল কথা শিখতে দেরি হওয়া মানেই অটিজম নয়।
    কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশুটি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে হয়তো পারে, কিন্তু একটি বাক্য শুরু করতে তার অস্বাভাবিক দেরি হয়। অথবা বাক্য শুরু করার পর তা শেষ করতে পারে না।
    কখনো দেখা যায়, একই শব্দ বারবার সে উচ্চারণ করে যাচ্ছে।
    তিন বছরের কম বয়সী শিশুরা তার বয়সের উপযোগী নানা রকমের খেলা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেরাই তৈরি করে খেলে। কিন্তু অটিস্টিক শিশুরা এ রকম করে না।
    ৩. আচরণের অস্বাভাবিকতা
    একই আচরণ বারবার করতে থাকে।
    আওয়াজ পছন্দ করে না।
    তারা রুটিন মেনে চলতে ভালোবাসে। দৈনন্দিন কোনো রুটিনের হেরফের হলে তারা মন খারাপ করে।
    কোনো কারণ ছাড়াই দেখা যায় তারা হঠাৎ রেগে ওঠে বা ভয়ার্ত হয়ে যায়।
    কোন বয়সে ও কিভাবে অটিজম প্রথম সনাক্ত করা সম্ভব?
    যত দ্রুত অটিজম রোগটি সনাক্ত করা যায়, শিশুর জন্য ততই মঙ্গল। সাধারণত ৩ বছর বয়সের পর শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত কিনা তা দ্ব্যর্থহীনভাবে সনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে মা-বাবারা সচেতন থাকলে ও বাচ্চার আচরণের দিকে ভাল ভাবে লক্ষ্য রাখলে ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই সমস্যাটি আঁচ করতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে যে বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে অটিজম সনাক্তকরণ সম্ভব তা হল:

    শিশুর দেরী করে হাসতে শেখা (সাধারণত শিশু জন্মের ছয় মাসের মধ্যে হাসতে শেখে। কিন্তু অটিস্টিক শিশু ছয় মাসেও হাসে না),
    কথা না বলা বা ঠিকমত না বলা (শিশুরা সাধারণত এক বছর বয়সের মধ্যে কিছু না কিছু শব্দ উচ্চারণ করে, কিন্তু অটিস্টিক শিশুরা এক বছরের মধ্যে মুখে কোনো শব্দ করে না। আঙুল দিয়ে কিছু নির্দেশ করে না, কোনো কিছু চাওয়া বা চাওয়ার ভঙ্গি করে না। ১৬ মাসেও কোনো শব্দ উচ্চারণ না করা। দুই বছরের মধ্যে দুটি শব্দ বলতে না পারা।) কানে না শোনা ( শিশুটিকে নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া)।
    অটিস্টিক শিশুদের বিভিন্ন পর্যায়গুলো কি কি?
    সাধারণত অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের ৪টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। বয়সের সাথে নয় বরং প্রতিটি শিশুর সামর্থের উপর তার পর্যায় নির্ভর করে। প্রথম পর্যায় (আত্মকেন্দ্রিক): এই পর্যায়ে শিশুরা আত্মকেন্দ্রিক থেকে এবং আপন মনে একাকী খেলতে পছন্দ করে। এরা সাধারণত কোন আদেশ-নিষেধ অথবা নির্দেশ বুঝতে পারে না ও পালন করে না।
    দ্বিতীয় পর্যায় (অনুরোধকারী): এই পর্যায়ের শিশুরা শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে খুব কাছের লোকদের সাথে অল্প সময়ের জন্য যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য অনুরোধ করে।

    তৃতীয় পর্যায় (যোগাযোগ স্থাপনকারী ): এই পর্যায়ের শিশুরা কিছু প্রচলিত শব্দ বুঝতে পারে এবং অতি পরিচিত মানুষের সাথে অল্প সময়ের জন্য যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। তারা ছোটখাট আদেশ-নির্দেশ পালন করতে পারে।

    চতুর্থ পর্যায় (সহযোগী): এই পর্যায়ের শিশুরা পরিচিত সমবয়সী শিশুদের সাথে অল্প সময়ের জন্য খেলা করে। ভাষায় দক্ষতা একটু ভালো এবং অন্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়।

    অটিস্টিক শিশুদের যোগাযোগে ভিন্নতা থাকে। যেহেতু তারা প্রচলিত সামাজিকতার বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে না, তাই তারা নিজস্ব পদ্ধতিতে অনুভূতিগুলো প্রকাশ করে। অনেক অটিস্টিক শিশু সারা জীবনেও কথা বলে না। কিছু শিশু প্রথম দিকে মুখ দিয়ে কোনো শব্দ করে (উহ্, আহ্, বাহ্), কিন্তু হঠাৎ তা বন্ধও করে দেয়। কোন কোন শিশু আবার দেরিতে কথা বলে। কেউবা আবার অগোছালো ও অর্থহীন কথা বলে। কোন কোন শিশু একই কথা বা শব্দ বারবার বলতে থাকে। আসলে সে তার অনুভূতি বোঝাতে চায়, কিন্তু পারে না।

    তাই দেখা যায় অটিস্টিক শিশুরা মাথা নেড়ে, হাত নেড়ে, কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গ ভঙ্গিমায় তার মনের ভাব প্রকাশ করে। যেমন হাঁ-বোধক, না-বোধক অনুভূতি মাথা নেড়ে বোঝায় অথবা খিদে পেলে প্লেটের কাছে, ফ্রিজের কাছে, চুলার কাছে অন্যকে টেনে নিয়ে যায়। পেটে হাত দিয়ে বসে থাকে। বাইরে যাওয়ার জন্য দরজার কাছে টেনে নিয়ে যায়, কোনো কিছু চাওয়ার থাকলে চিৎকার করে, রেগে যায়, মন খারাপ করে।

    একটি নিজস্ব রুটিনমাফিক জীবন তারা বেছে নেয়। যেমন একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে উঠে, খায়, ছবি আঁকে ইত্যাদি। কিন্তু এই রুটিনের ব্যত্যয় ঘটলে তারা মানতে পারে না। রেগে গিয়ে জিনিসপত্র নষ্ট করে।

    অটিজম রয়েছে এমন শিশুদের মধ্যে ১০ থেকে ২০ শতাংশ চার থেকে ছয় বছর বয়সের মধ্যে মোটামুটি সুস্থ হয়ে ওঠে এবং সাধারণ স্কুলে স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে পড়ালেখা করতে পারে। আরও ১০ থেকে ২০ শতাংশ শিশু স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে পড়ালেখা করতে পারে না। তারা বাসায় থাকে বা তাদের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষায়িত স্কুল ও বিশেষ প্রশিক্ষণের। বিশেষায়িত স্কুলে পড়ে, ভাষাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা সমাজে মোটামুটি স্বাভাবিক অবস্থান করে নেয়। কিন্তু বাদবাকি প্রায় ৬০ শতাংশ শিশু যাদের অটিজম আছে, তারা সহায়তা পাওয়ার পরও স্বাধীন বা এককভাবে জীবন অতিবাহিত করতে পারে না। তাদের জন্য প্রয়োজন হয় দীর্ঘদিন; প্রায় সারা জীবনের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরতা। তা ছাড়া বিশেষ আবাসন, নার্সিং কেয়ারের প্রয়োজন হয় তাদের। ধৈর্য সহকারে অটিস্টিক শিশুটিকে যে সব বিষয়ে প্রশিক্ষন দিতে হবে তার মধ্যে স্বাবলম্বীতা বিকাশঃ বেঁচে থাকার জন্য যে কাজগুলো করা অবশ্যই দরকার সেগুলো প্রশিক্ষণ দিতে হবে যেমনঃ টয়লেট ও ওয়াশ করা, জামা ও জুতা পরিধান করা, দাঁত ব্রাশ করতে পারা, মাথা আচরাতে পারা, নিজে নিজে খেতে পারা ইত্যাদি। খাওয়ার এবং ঘুমের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে খুব বেশি খেয়ে মুটিয়ে না যায় এবং দিনের বেলা ঘুমিয়ে রাতে নিজে এবং অন্য সকলের ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটায়।

    সংবেদনশীলতার সমম্বয়ঃ
    এই ধরনের শিশুদের সংবেদনশীতা অত্যান্ত প্রখর অথবা অপ্রতুল হওয়াতে তাদের সংবেদনশীলতার সমম্বয় না করা হলে কোন কিছু শিখতে কিংবা মনসংযোগ করতে অনেক বিলম্ব হয়। বর্তমানে এ ধরনের শিশুদের প্রশিক্ষণের জন্য এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হচ্ছে।

    ফিজিও এবং অকুপেশনাল প্রশিক্ষণঃ অনেক অটিষ্টিক শিশুর বিভিন্ন মাংসপেশী, চোখ ও হাতের যথাযথ সমম্বয় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যথাযথভাবে পরিপক্কতা ও পরিপূর্ণতার ঘাটতি থাকে। যথাযথ ফিজিওথেরাপি এবং অকুপেশনাল থেরাপি প্রয়োগ করলে এসব ক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী ফলাফাল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রশিক্ষণের সাথে সাথে এ বিষয়টিকেও গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে।

    কথা ও ভাষা বিকাশঃ
    অটিষ্টিক শিশুদের কথা ও ভাষা প্রশিক্ষণ অন্যান্যদের চেয়ে বেশ কঠিন কারণ তারা চঞ্চল এবং বেশিক্ষণ মনসংযোগ করতে পারে না। কথা ও ভাষা শিক্ষণের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবেঃ শিশুদের সাথে মুখোমুখি এবং একই উচ্চতায় ও চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবে। ঠোঁটের নাড়াচাড়া এবং চোখের ও হাতের সঞ্চালন অনুসরণ করতে সাহায্য করতে হবে। যে কোন কার্যক্রম করার সময় শিশুর সাথে কথা বলে কাজটি করতে হবে এবং শিশুকে দিয়ে করাবার চেষ্টা করতে হবে।
    স্বাভাবিকভাবে শিশুটি কোন শব্দ উচ্চারণ করলে তাকে অর্থপূর্ণ শব্দে রূপান্তর করার চেষ্টা করতে হবে।
    শুরুতে অতি দরকারি কিছু সহজ এবং এক সেলেবলযুক্ত শব্দ নির্বাচন করে সেগুলো শেখানোর চেষ্টা করতে হবে। যেমন মা, বাবা, পানি, ভাত, জামা, জুত, বই, বল ইত্যাদি।
    শেখানো কথাগুলো বার বার এবং প্রতিদিন পুনরাবৃত্তি করতে হবে যাতে কোনভাবেই শিশুটি শিখে ফেলা শব্দগুলো ভুলে যেতে না পারে। সাথে সাথে এক শব্দের সাথে অরেকটি শব্দ যুক্ত করে দুই শব্দের বাক্য শেখানো চেষ্টা করতে হবে। যেমন- পানি খাব, জামা দাও, বই দাও, বল নেব ইত্যাদি।
    শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, ছবির বই, দরকারি জিনিসপত্র ইত্যাদি দেখিয়ে ধীরে ধীরে শেখানোর চেষ্টা করতে হবে।
    কথা বলতে না পারলে তাকে ছবির ভাষা দেয়ার চেষ্টা করতে হবে যেন ছবি দেখিয়ে তার চাহিদা বুঝাতে পারে।
    এরপর ধীরে ধীরে অক্ষর, সংখ্যা, ছড়াগানের ক্যাসেট, ভিডিও ইত্যাদির প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে হবে এবং শেখানোর চেষ্টা করতে হবে।
    যেসব কথাগুলো বলতে পারবে সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবে ব্যবহার করতে এবং অভ্যাস করতে হবে।
    সামাজিকতা ও আচরণগত বিকাশঃ
    অটিষ্টিক শিশুদের প্রয়োজনীয় সামাজিক আচরণ শেখাতে হবে। এক্ষেত্রে যেসব কার্যক্রম করতে হবে তা নিম্নরূপঃ

    সমবয়সী শিশুদের সাথে মিশতে ও ভাবের আদান-প্রদান করতে সহায়তা করতে হবে।
    কখনই একাকী খেলতে দেয়া যাবে না। অন্য কারো সাথে খেলতে দিতে হবে এবং একে অন্যের মাধ্যমে কোন কিছু আদান প্রাদান করা শেখাতে হবে।
    সম্ভাষণ করতে পারা, হাসির জবাবে হাসি, আনন্দ প্রকাশ, করমর্দন সালাম প্রদান, বিদায় সুচক হাত নাড়া, শরীরিক স্পর্শদ্বারা বন্ধুত্ব করতে পারা ইত্যাদি শেখাতে হবে।
    আদান-প্রদানমূলক খেলা যেমন- বল দেয়া-নেয়া, গাড়ি দেয়া-নেয়া ইত্যাদি নিয়ম করে শিশুদের সাথে খেলতে হবে প্রথমে সহজ যেমন লুকোচুরি, টুকি ইত্যাদি থেকে ধীরে ধীরে গঠনমূলক খেলা খেলতে হবে।
    শিশুকে খেলার মাঠে-পার্কে নিয়ে যেতে হবে এবং সহজভাবে চলাফেরা করতে দিতে হবে।
    তত্ত্বাবধানের সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অন্যান্যদের সাথে খেলায় সক্রিয় অংশগ্রহনের জন্য অনুপ্রাণিত করতে হবে।
    শিশুটিকে সকল সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে নিয়ে যেতে হবে। এটা ধরো না, ওটা করো না, সারাক্ষণ এই জাতীয় নিয়ন্ত্রন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
    কেউ যেন শিশুটিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করে, বিরূপ সমালোচনা না করে এবং কোন কঠিন আচরণ না করে তার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

    জরুরী বিষয়গুলো শেখানোর উপায় কি?
    প্রথমেই নিশ্চিত হোন আপনার শিশুটি কি কি জিনিস, বিষয়, খাবার, খেলনা ইত্যাদি খুব পছন্দ করে। এগুলো প্রশিক্ষণ সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। প্রশিক্ষণ সহায়ক বিষয়টিকে শিশুর দৃষ্টিসীমার মধ্যে রেখে তাকে আস্বস্ত করতে হবে যে নির্দেশিত কাজটি করলে তার পছন্দের জিনিসটি দেয়া হবে। এভাবে শিক্ষণীয় কাজটি সে নির্ভুল করে একনাগাড়ে ৩-৫ বার করতে পারলে তার চাহিদা পূরণ করতে হবে এবং তাকে পুরস্কৃত করতে হবে। এছাড়া নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

    কোন প্রকার জোর-জবরদস্তি না করে শিশুটি যা করতে পছন্দ করে তা থেকে তাকে সৃজনশীল কিছু শেখাবার চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই শিশুটির পছন্দ- অপছন্দকে গুরুত্ব দিতে হবে। সে যা দিয়ে খেলছে তাতে যুক্ত হয়ে তাকে শেখানোর চেষ্টা করতে হবে।
    প্রথমে এমন কিছু নির্বাচন করতে হবে যা শিশুটি করতে সক্ষম হয়। সফলতার জন্য তাকে পুরস্কৃত করতে হবে।

    মা–বাবারও প্রয়োজন কাউন্সেলিংঃ অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের সুরক্ষার জন্য একমাত্র মায়েরাই বেশির ভাগ সময় ব্যয় করে থাকেন। তাঁরা অনেক সময় পরিবারের থেকে প্রয়োজনীয় সহানুভূতি আর সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হন। সে কারণেই তাঁরা হতাশা, বিষণ্নতায় ভোগেন। নিজের যত্ন নিতে পারেন না। মনে রাখতে হবে, অন্যকে সুস্থ করার জন্য সবার আগে নিজের সুস্থতা জরুরি। সে কারণে ‘প্যারেন্টস কাউন্সেলিং’ নেওয়াটা বিশেষভাবে জরুরি। এতে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকতে সাহায্য করবে।
    শিশুর প্রশংসার বিকল্প নেই, তুলনা চলবে না
    মা–বাবা বা বাড়ির সবাইকে শিশুদের সব কাজের প্রশংসা করতে হবে। আদর, উৎসাহ আর উদ্দীপনা দিয়ে কাছে টেনে নিতে হবে। ভালোবাসা দেখাতে হবে। হাসিখুশিভাবে তার সামনে থাকতে হবে। টয়লেট ক্লিনিং শেখাতে হবে। নিজের জামাকাপড় নিজেই পরা শেখাতে হবে। কখনোই তাঁর এই শিশুকে অন্য স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। বিধাতার আশীর্বাদ মনে করতে হবে তার এই আজীবনের জন্য জন্মানো নিষ্পাপ সন্তানটিকে। সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। দেখবেন আপনার নিরলস প্রচেষ্টা এবং ইতিবাচক চিন্তার আলোকছটা ওর আচরণে প্রতিফলিত হবে। তাই নিজে উদ্বুদ্ধ হবেন, আপনার পরিবারের সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবেন আপনার সন্তানের যত্ন নিতে এবং সব কাজে তাকেও উৎসাহিত করতে হবে। শুধু পরিবারের সন্তানদের আবদ্ধ করে না রেখে তাদের স্কুলে বা বিভিন্ন সংগঠনে পাঠানো উচিৎ। তাদের জন্য সারা বাংলাদেশে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে রয়েছে বিশেষায়িত সব স্কুল, উন্নয়ন সংস্থা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে শিশুরা লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গঠনমূলক কাজ শেখে, খেলাধুলা করতে পারে। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কী পেতে পারে না। শিক্ষক, পিতামাতার, এলাকাবাসী, সমাজ, প্রতিবেশিসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    মোঃ হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।