Blog

  • রংপুরে সাবেক কালচারাল অফিসার এস এম  আব্দুর রহিম এর ইন্তেকাল বিভিন্ন মহলের শোক

    রংপুরে সাবেক কালচারাল অফিসার এস এম আব্দুর রহিম এর ইন্তেকাল বিভিন্ন মহলের শোক

    রংপুর থেকে বিভাগীয় প্রধান আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন।
    সাফল্য সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবার বাংলাদেশ এর শুভাকাঙ্ক্ষী, গাইবান্ধা জেলা সমিতি, রংপুর এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, রংপুর বেতারের বিশিষ্ট গীতিকার,সাবেক কালচারাল অফিসার ও গীতিকবি সংসদ রংপুর এর প্রথম সভাপতি এসএম আব্দুর রহিম মৃত্যুবরন করেছেন আজ সকাল ১১ ঘটিকায় (ডক্টরস কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে)
    ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
    সাফল্য সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবার বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছেন উপদেষ্টা অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়িতা নাসরিন নাজ, সিনিয়র সহসভাপতি ডাঃ নাজিরা পারভীন রংপুর বিভাগের সভাপতি ইন্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন রংপুরী, সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন,কবি খেয়ালী মোস্তফা, সাবোক মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নূরুন্নাহার বেগম, লেখক সুলতান তালুকদার, কবি বাদল রহমান, কবি মিনার বসুনিয়া,কবি মাসুম মোর্শেদ, রংপুর সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি হাই হাফিজ, বিভাগীয় লেখক পরিষদের সাধারন সম্পাদক জাকির আহমেদ, মোঃ জাকারিয়া, হাকিম আতাউর রহমান লিটন,কবি অহিদুল ইসলাম, প্রাবন্ধিক রাজু আনওয়ারুল, এনটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ এর বিভাগীয় প্রধান সাংবাদিক মাহবুবুল ইসলাম, চ্যানেল আই এর প্রতিনিধি মেরিনা লাভলী, বন্ধু সংস্থা গাইবান্ধা সাধারণ সম্পাদক এস এম আমজাদ হোসেন দীপ্তি, পাশে আছির সভাপতি হেলেন আরা সিডনি, জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন এর প্রতিষ্ঠাতা বেলাল হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা গল্পকার নাহিদা ইয়াসমিন, সুরছন্দ একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী শামসুজ্জামান ভানু, লামিয়া আকতার, কৃষিবিদ শফিকুর রহমান, রংপুর সিটি কর্পোরেশন এর সাবেক সচিব রুহুল মিয়া,সঙ্গীত শিল্পী আলী খান, গাইবান্ধা জেলা সমিতি রংপুর এর সভাপতি কৃষিবিদ শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন সরকার, সহসভাপতি আব্দুল লতিফ সরকার, সদস্য ফরিদুর রহমান, গীতিকবি সংসদ রংপুর এর সভাপতি ছড়াকার খলিল বাবু, সাধারণ সম্পাদক সুনীল সরকার সহ অনন্য সদস্যবৃন্দ সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
    আজ বাদ আসর কেরামতিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এতে তার সহকর্মী সহ রংপুর এর সামাজিক সাহিত্য সংস্কৃতি জগতের শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত ছিলেন।
    উল্লেখ্য এস এম আব্দুর রহিম গাইবান্ধা শহরের খাঁ পাড়া- মাস্টার পাড়া এলাকার বাসিন্দা দীর্ঘদিন থেকে রংপুর শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার হিসেবে অবসরের পর থেকেই সে রংপুর শহরে অবস্থান করছিলেন। তার স্ত্রী বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী রওশন আরা সোহেলী তাদের পরিবারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেন সে পৌছালে আগামী শুক্রবার বাদজুম্মা গাইবান্ধা পৌর গোরস্থান এ তার নামাজে জানাজা শেষে সমাহিত করা হবে।

  • তারাকান্দায় মা-বাবা হারা পলির দায়িত্ব নিলেন ওসি

    তারাকান্দায় মা-বাবা হারা পলির দায়িত্ব নিলেন ওসি

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    পলির বয়স যখন ২ বছর তখন এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় বাবা। এরপর থেকে মায়ের আদরে লালিত হয় সে। পলির বয়স প্রায় ৯বছর। গত ২৯ শে মার্চ এক প্রতিবেশীর হাতে খুন হয় তার মা। নানা নাই, মামা নাই, একমাত্র নানীর আশ্রয়েই তার আশ্রয়। নানীর পটিবারেও অসহায়ত্ব ও সামর্থহীন। এ অবস্থায় বাবা-মা হারা নাতিকে নিয়ে বিপাকে পড়েন পলির নানী। মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে লালন-পালন করেন তিনি।যে কারণে ঈদের আনন্দ বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ছিলো পলি।

    হঠাৎ পলির খোজ নিতেই তার নানীর বাড়ীতে সেমাই, চিনি,নতুন কাপড়সহ ঈদ সামগ্রী নিয়ে হাজির ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ওয়াজেদ আলী।

    সুত্র মতে জানা গেছে- গত ময়মনসিংহের তারাকান্দায় পাওনা টাকা চাওয়া কে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী নবী হোসেনের হাতে নৃশংসভাবে খুম হয় উপজেলার
    বালিখাঁ ইউনিয়নের বালিখাঁ পূর্ব মালি ডাংগা গ্রামের মৃত এনামুল হক ওরফে এনার স্ত্রী অজুফা বেগম (২৮)।
    ঘাস কাটতে মাঠে গিয়ে নিখোঁজ হয় অজুফা। পরে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুজি করে মাঠে এক ফিশারীর পুকুরে খুটির সাথে বাধা অবস্থায় লাশ দেখে পুলিশকে জানালে পুলিশ ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।
    এ ঘটনা একই গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র নুরুন্নবি ওরফে (৩০) নামে এক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ । সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদে পুলিশ কে জানান, এই মহিলা তার নিকট ২০০০টাকা পায় ঘটনার দিন তাকে মাঠে একা পেয়ে পাওনা টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে তর্কতর্কি হয়। এক পর্যায়ে তাকে কারেন্ট শর্টে মৃত্যু নিশ্চিত করে নবী হোসেন। সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারানো ও মায়ের খুন হওয়ার পর একা হয়ে যায় ৯বছরের শিশু পলি। থাকেন নানীর সংসারে।
    কিন্তু অভাবের সংসারে অর্থাভাবে নানীর সাথে এবার বাবা-মা হারা পলির প্রথম ঈদ আনন্দ বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা ছিলো। পরে স্থানীয়দের মুখে শোনেন পলির এমন করুণ কাহিনি। এমন কাহিনি শুনে নিজেকে সামলাতে পারলেন না ওসি। সঙ্গে সঙ্গে পলির ঈদে যত খরচ লাগে তা বহনের দায়িত্ব নেন তিনি। সেই সঙ্গে পলিকে কোলে তুলে নেন ওসি। দেন ঈদ সামগ্রী, নেন পলির লেখাপড়াসহ সকল দায়িত্ব।

    তারাকান্দা থানা পুলিশের ওসি ওয়াজেদ বলেন, আমার চোখের সামনে অর্থের অভাবে এক কন্যার ঈদ আনন্দ বন্ধ হয়ে যাবে তা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। পলিকে মানুষের মতো হতে হলে লেখাপড়া করতে হবে। অর্থের অভাবে কিছুতেই পলির ঈদ আনন্দ ঝরে যেতে পারে না। তাই তার ঈদের খরচসহ লেখাপড়ার সব খরচ আমি নিজে বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া শিশুটির দায়িত্বও নিয়েছি আমি।
    তিনি বলেন- নানা নাই, মামা নাই, একমাত্র নানীর আশ্রয়ই পলির আশ্রয়। এই ঈদে তার পাশে দাড়ানোর মতো কেউ নেই। মনের ইচ্ছা থেকেই আজকে তার বাড়ী গেলাম। একটা মেহেদীর প্যাকেট, দুইটা সাবান, দু প্যাকেট সেমাই আর এক কেজি চিনি, নুডলস প্যাকেট, বিস্কুট এর প্যাকেট, একটা ডায়েরি এবং কলম আর অল্প কিছু নতুন টাকা বাচ্চাটার হাতে তুলে দিলাম। মনে হলো, বাবা মায়ের কাছ থেকে ঈদের সবচেয়ে বড় উপহার পেল পলি।

    তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে পলির মতো কোনো শিশুর স্বপ্ন যেন ঝরে না যায় সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আসুন আমরা সবাই পলির মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, পলিদের দায়িত্ব নিই।

    এদিকে বাবা-মা হারা পলির প্রতি ওসির এমন মানবিকতা বালিখা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনতার নজর কেড়েছে। ওসির মানবতার প্রশংসায় মেতে উঠেছেন বালিখাসহ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।

  • পঞ্চগড়ে টিসিবির পণ্য পাননি প্রায় অর্ধশতাধিক কার্ডধারী – বিতরণে ওজনে কম

    পঞ্চগড়ে টিসিবির পণ্য পাননি প্রায় অর্ধশতাধিক কার্ডধারী – বিতরণে ওজনে কম

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম,তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র পণ্য বিতরণে নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে টিসিবি ডিলার গোলাম সারওয়ারের বিরুদ্ধে। সে প গড় সদর উপজেলার মেসার্স তিশা এন্ড লোটাস এন্টারপ্রাইজ নামীয় প্রতিষ্ঠানের ডিলার। গত রোবাবার, সোমবার ও মঙ্গলবার (৭,৮ ও ৯এপ্রিল) উপজেলার অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।
    সরেজমিনে গিয়ে দেখতে ও জানতে পারা যায়, গত রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি চিনি, দুই কেজি মসুরের ডাল ও দুই লিটার সয়াবিন তেল ৫৪০টাকা প্যাকেজ মূল্যে বিতরণ করা হয়। টিসিবি পণ্য বিতরণ করার সময় পাঁচ কেজি চালে কম দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ৭০০গ্রাম, দুই কেজি মসুরের ডালে ২০০গ্রাম এবং এক কেজি চিনিতে ১২০গ্রাম। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে রাতারাতিই পরিমাপ ঠিক করে পরের দিন সোমবার আবারো টিসিবি পণ্য বিতরণ করেন দুপুর পর্যন্ত। ওই দিন ফ্যামেলি কার্ডধারীদের নিকট প্যাকেজ মূল্যে টিসিবি পণ্য বিতরণের কথা থাকলেও তা বিতরণ করা হয়েছে পরিচিতজন ও কতিপয় ইউপি সদস্যদের কাছে। এরপর কার্ডধারীরা তাদের পণ্য না পেয়ে পরিষদ চত্ত্বরে ডিলারের অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোপ প্রকাশ করতে থাকলে এক পর্যায় টিসিবি ডিলার উপায়অন্ত খুঁজে না পেয়ে তড়িঘড়ি করে পরিষদ ত্যাগ করেন এবং ত্যাগ করার সময় বাদ পড়া কার্ডধারীদের তার পরের দিন টিসিবি পণ্য দিবেন জানিয়ে চলে যান। এরপর মঙ্গলবার পৌণে ১২টার দিকে সাদা কাগজে লিখা ৩৬জন কার্ডধারীদের নামের তালিকা অনুসারে চাল না দিয়ে টিসিবি পণ্য বিতরণ করেন। এরই মধ্যে অনেকেই টিসিবি পাননি আবার অনেকেই ডিলারের অনিয়ম সহ্য করতে না পেরে টিসিবি পণ্য নিতে আর ফিরে আসেননি।

    জানা যায়, ওই ইউনিয়নে উপকারভোগী কার্ডধারীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৩টি।

    কার্ডধারী হয়েও পণ্য নিতে পারেননি নরদেবপাড়া গ্রামের জামাল বলেন, তিনি টিসিবি বিতরণের প্রথম দিন টিসিবি পণ্য নিতে আসলে তাঁর কাছ থেকে ফ্যামেলি কার্ড ও টাকা নিয়ে পরে টিসিবি পণ্য না দিয়ে কার্ড আর টাকা ফেরত দিয়ে দেয়। জামাল বলেন, তিনি সকাল ১১টার দিকে আসলেও তাকে টিসিবি পণ্য দেওয়া হয়নি। পরের দিন আবারও আসলে টিসিবি নেই জেনে বাড়িতে ফিরে যেতে হয়েছে।

    কার্ডধারী ভুক্তভোগী ঠুটাপাকুরী গ্রামের আবুল কাশেমসহ আরও কয়েকজন বলেন, আমরা সোমবার টিসিবি পণ্য নিতে আসলে ডিলার জানাই তাদের কাছে কোনো টিসিবি পণ্য নেই। পরে গন্ডগোলের সৃষ্টি হলে ডিলার মঙ্গলবার ১১টার দিকে টিসিবি দিবে আসতে বলছেন। তবে ডিলারের এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা ক্ষোপ প্রকাশ জানিয়েছেন।

    দক্ষিণ তালমা গ্রামের রেজাউল করিমের মা রেজিয়া আক্তার বলেন, আমার ছেলে রোববার টিসিবি পণ্য নিয়ে আসছে। বাড়িতে নিয়ে এসে দেখি পাঁচ কেজি চালে ৭০০গ্রাম কম, দুই কেজি মসুরের ডালে ২০০ গ্রাম কম এবং এক কেজি চিনিতে ১২০গ্রাম কম বিতরণ করা হয়েছে।
    টিসিবি পণ্য ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চিনিতে ২০০গ্রাম ওজনে কম দেওয়ায় অভিযোগের ভিত্তিতে এবং আমি নিজেও দেখার পর ইউএনও মহোদয়কে অবগত করি এরপর ইউএনও মহোদয় বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানালে চেয়ারম্যান নিজেই ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।

    প্রথমত টিসিবি ডিলার গোলাম সারওয়ারকে মুঠোফোনে পরিচয় দিয়ে কার্ডধারী ভুক্তভোগীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু না বলে কলটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর পরিষদে আসলে আমাকে (সাংবাদিককে) দেখে চড়াও হয়ে উঠেন এবং বলতে থাকেন আপনি কে? আপনি আমার কাছ থেকে জানার কে? আপনি আমাকে চিনেন! আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও আমি দলীয় ব্যক্তিত্ব। তার (ডিলারের) এসব কথায় বললাম ভাই পরিচয় দেওয়ার পরেও যদি আমাকে আপনার সন্দেহ মনে হয় তাহলে যেকোনো সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করতে পারেন। এরপর কিছুটা শান্ত হয়ে বলেন, ভাই ইউনিয়নের একেকজন মেম্বার ১০ থেকে ১২টি করে টিসিবি নেয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। আপনি কেন মেম্বারদের টিসিবি পণ্য দিলেন জিজ্ঞাসায় কোনো সদুত্তোর পাওয়া যায়নি এবং ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেও কোনো সদুত্তোর মিলেনি। পরে অনিয়মে ভরপুর ডিলার তাঁর দেখা করতে বলেন।

    অত্র ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ট্যাগ টীমের আহবায়ক মোঃ নুরুজ্জামান নুরু বলেন, তিনি বিষয়টি ইউএনও মহোদয়ের কাছ থেকে জানতে পারেন। তিনি বলেন, চিনি ও মসুর ডালে ৩০ থেকে ৪০গ্রাম করে কম বিতরণ করা হয়েছে যা ধরার মধ্যে পড়ে না। চালে কম দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানেন না। কার্ডধারীরা টিসিবি পণ্য না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তোর মিলেনি তবে তিনি বলেন, আমাদের কতগুলো মেম্বার রয়েছে তদারকি না করে তাদের চিন্তা করেন।
    এ বিষয়ে ট্যাক টীমের সদস্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগের টেষ্টা করেও যোগাযোগ করার সুযোগ হয়নি।

    এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে প্রাথমিক তদন্ত করে একটি রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। মূলত তদন্ত সাপেক্ষে ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • সুজানগরের এতিম শিশুদের পাশে যুগান্তর স্বজন সমাবেশ

    সুজানগরের এতিম শিশুদের পাশে যুগান্তর স্বজন সমাবেশ

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি ঃ ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সুজানগরের এতিম শিশুদের মাঝে যুগান্তর স্বজন সমাবেশের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়েছে। ঈদ উপহার হিসেবে এ সকল এতিম শিশুদের মাঝে জুব্বা ও পায়জামা বিতরণ করা হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ, পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, যুগান্তর স্বজন সমাবেশ সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ নাদের হোসেন, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম দায়েন, সুজানগর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আরিফ বিল্লাহ, যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি ও স্বজন সমাবেশের উপদেষ্টা এম এ আলিম রিপন,উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান জর্জ, যায়যায়দিন প্রতিনিধি এম মনিরুজ্জামান, পৌর আ.লীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজ, সমাজ সেবক আব্দুল আলিম যতিন, হাফেজ হাসিবুল ইসলামসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিতরণকালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, এতিম শিশুদের যুগান্তর স্বজন সমাবেশের উদ্যোগে নতুন পোশাক দেওয়া হচ্ছে। এটি অত্যন্ত শুভ উদ্যোগ। ঈদের নতুন পোষাক পেয়ে এই এতিম শিশুদের মুখে যে খুশির হাসি দেখছি, তার মূল্য অনেক। পবিত্র রমজানে শিশুদের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা নিতে হবে। শিশুদের কল্যাণে আমাদের সবার একসাথে কাজ করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, ইসলাম ধর্মসহ সব ধর্মে এতিম ও সুবিধাবি ত শিশুদের কল্যাণের কথা বলা হয়েছে। শিশুর শিক্ষা ও উন্নত জীবনের জন্য সরকারের পাশাপাশি নিকটাআত্মীয়,বেসরকারি সংগঠন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সবাই যদি শিশুর কল্যাণে এগিয়ে আসি, তাহলে দেশের কোন শিশু তার অধিকার থেকে বি ত হবেনা। যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সভাপতি অধ্যক্ষ নাদের হোসেন ু জানান, এ ধরণের মানবিক কর্মকান্ড আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি

  • সিংড়ায় ২৫০ অসচ্ছল পরিবারের মুখে হাসি ফোটালো জামিলা ফয়েজ ফাউন্ডেশন

    সিংড়ায় ২৫০ অসচ্ছল পরিবারের মুখে হাসি ফোটালো জামিলা ফয়েজ ফাউন্ডেশন

    মোঃ এমরান আলী রানা নাটোর প্রতিনিধি
    নাটোরের সিংড়ায় ২৫০ অসচ্ছল পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করেছেন জামিলা ফয়েজ ফাউন্ডেশন।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের দুরমল্লিকা গ্রামের ২৫০ পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করেন জামিলা ফয়েজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সিংড়া উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি আরিফা জেসমিন কনিকা।

    ঈদসামগ্রীর মধ্যে ছিলো ৫ কেজি ভাতের চাল, ১ কেজি পোলাও চাল, ১ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি আলু, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি চিনি, ২ কেজি লাচ্ছা সেমাই, ১ কৌটা গুড়া দুধ।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক বকুল, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মহন আলী, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আনিসুর রহমান লিখন, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোল-ই-আফরোজ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি মাসুম আলী, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ইউপি সদস্য বুলেট হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পাপ্পু আহমেদসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    মো. এমরান আলী রানা
    নাটোর প্রতিনিধি।।

  • বাবুগঞ্জ বাসিকে ঈদুল ফিতরের  শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন  মৌরিন আক্তার আশা

    বাবুগঞ্জ বাসিকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মৌরিন আক্তার আশা

    কে এম সোহেব জুয়েল : বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বাবুগঞ্জ উপজেলা বাসিকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও বাবুগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মৌরিন আক্তার আশা।

    তিনি বলেন দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধন ও সংযমের মধ্য দিয়ে রমজানের তাৎপর্য রক্ষা করেছেন সমগ্র দেশের মুসলিম উম্মাহ। তারি ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনের পর সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঘড়ে বয়ে আসছে ঈদুল ফিতরের আনন্দ। আর এই আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে ওই উপজেলার সর্ব স্হরের মানুষকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মৌরিন আক্তার আশা।

    আশা জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের ঐতিহ্য বাহী মিঞা পরিবারের এনামুল হক আনামের এক মাত্র সু-যোগ্য কন্যা ও গ্রাম বাংলা মাধ্যমিকবিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও দরিদ্র ও মেহনতী মানুষের এক মাত্র ভরসা মৌরিন আক্তার আশা। তিনি সমগ্র রমজান মাস জুরে নিরালোস ভাবে অসহায় মানুষের খেজমত করে গেছেন। এছারাও গরীব অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বস্র বিতারনের মধ্য দিয়ে এ সকল পরিবারের মধ্যে ঈদের আনন্দ বয়ে দিতে পেরে নিজকে ধন্য বোধ করছেন মৌরিন আক্তার আশা। এভাবেই ব্যাস্হতার মাঝে পুরো মাসটি কাটিয়ে দিয়েছেন এই নেত্রি। , বাকি জীবনটাও জেন পরোপকারে উৎসর্গ করে দিতে পারেন তিনি এমনই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আশা।

    তািনি পবিত্র ঈদুল ফিতরকে স্বাক্ষী রেখে বলেন, তিনি বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হতে পারলে গরীব অসহায় মানুষকে না খেয়ে না পরে এবং চিকিৎসা অভাবে ধুঁকেধুঁকে মরতে হবেনা । এবং দেশ রত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে অব্যহত রেখে এক যোগে কাজ করে যাবেন মৌরিন আক্তার আশা।

  • দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-শিল্পপতি আইয়ুব আলী ফাহিম

    দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-শিল্পপতি আইয়ুব আলী ফাহিম

    গাজীপুর প্রতিনিধি:

    দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এর অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লতা গ্রুপ অফ কোম্পানির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি আইয়ুব আলী ফাহিম।

    মঙ্গলবার দুপুরে এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, আমি সকলকে জানাই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন এবং ঈদ মোবারক। আমি সকলের অব্যাহত সুখ, শান্তি সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করি।

    শুভেচ্ছা বার্তায় আইয়ুব আলী ফাহিম আরও বলেন, বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহর আনন্দময় দিন ঈদুল ফিতর আমাদের মধ্যে সমাগত। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন পরিব্যাপ্তি লাভ করুক এটাই হোক ঈদ উৎসবের ঐকান্তিক কামনা।

    হাঁসি-খুশি ও ঈদের অনাবিল আনন্দে প্রতিটি মানুষের জীবন পূর্ণতায় ভরে উঠুক। ঈদ এর অর্থটাই হচ্ছে ফিরে আসা। এমন এই দিনকে ঈদ বলা হয়, একে অপরের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ ভুলে এই জন্য যে মানুষ বারবার একত্রিত হয় এবং সাধ্যমতো যার যা উপার্জন তা নিয়েই আনন্দ উৎসব করে। তাই ঈদ দ্বারাই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাকে নিয়ামত কিংবা অনুগ্রহে ধন্য করে থাকেন।

    মহান আল্লাহ পাক মুসলিম উম্মাদের প্রতি নিয়ামত হিসেবেই ঈদ দান করেছে। তাই এই পবিত্র দিনে বাংলাদেশের প্রতিটি গৃহে প্রবাহিত হোক শান্তির অমীয় ধারা। আমি এই কামনা করি। সবাইকে জানাই ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক!

  • উজিরপুরে পুকুরে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু

    উজিরপুরে পুকুরে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু

    মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম, উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুরে পুকুরে ডুবে ২ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায় মঙ্গলবার ৯ এপ্রিল বেলা সাড়ে ৯ টায় উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মাদার্শী ৯ নং ওয়ার্ডের মোঃ স্বপন হাওলাদারের ২ বছরের শিশু মোঃ ইসমাইল বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে নিজ বাড়ির পুকুরে পড়ে ডুবে যায়।

    পরিবারের লোকজন শিশু ইসমাইলকে খোজাখুজি করে না পেয়ে পরে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে তৎক্ষনাৎ উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাফর আহমেদ বলেন ২ বছরের শিশুর মৃত খুবই বেদনাটা। আইনাহত প্রক্রিয়া শেষ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে

    ২ বছরের ফুটফুটে শিশু ইসমাঈলের মৃত্যুতে পুরো এলাকা জুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • সেনবাগে ৫ শতাধিক পরিবারকে ঈদ উপহার বিতরণ করলেন সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন

    সেনবাগে ৫ শতাধিক পরিবারকে ঈদ উপহার বিতরণ করলেন সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন

    রফিকুল ইসলাম সুমন (নোয়াখালী)
    নোয়াখালীর সেনবাগে প্রতিবারের ন্যায় এবার ও ৫(পাঁচ) শতাধিক দু:স্থ ও অসহায় মানুষের হাতে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করলেন সেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন। ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ৫নং অর্জুনতলা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে উক্ত কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার , টপস্টার গ্রুপের এম ডি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর, মানবিক যোদ্ধাখ্যাত লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ।
    এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রিপন, সিলোনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার বিএসসি,সমাজ সেবক আবু ইউসুফ মজুমদার,নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, হারুনুর রশিদ, কুতুব উদ্দিন,ফাউন্ডেশনের আহবায়ক মো: ইসহাক,সদস্য সচিব রমজান আলী মাসুম সহ ফাউন্ডেশনের ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দগন উপস্থিত ছিলেন।

  • রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে  মাংস সমিতি’ বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে, মাংশের দাম বাজার থেকে কম হচ্ছে

    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মাংস সমিতি’ বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে, মাংশের দাম বাজার থেকে কম হচ্ছে

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় গোশত সমিতি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। বাজার থেকে অনেক কমমূল্যে ফ্রেস মাংশ পাচ্ছে মানুষ। এর সাথেযুক্ত বিভিন্ন গ্রামের লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, প্রতিবছর বাড়ছে গোশত সমিতির সংখ্যা। শুধু মাত্র গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় শতাধিক গরু জবাই করা হচ্ছে। গোশত সমিতির প্রত্যেক সদস্য সপ্তাহে ১০০/২০০ টাকা চাঁদা জমা দেন। জমা করা টাকায় গরু কিনে এনে শবে কদরের দিন থেকে শুরু হয় পশু জবাইয়ের কাজ। চলে ঈদের দিন পর্যন্ত। ঈদুল ফিতরের দুই বা এক দিন আগে জবাই করে সদস্যরা গোশত ভাগ করে নেন। এরপর পরের বছরের জন্য তহবিল গঠন করে সমিতির কার্যক্রম চলে।

    গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিশালবাড়ী, শিবসাগর, মাদারপুর, সিএন্ডবি, গড়েরমাঠ, আঁচূয়া, হাটপাড়া, বারুইপাড়া, রেলওয়ে বাজার, সুলতানগঞ্জ, জামায়াতির মোড়, সারাংপুর, শ্রীমন্তপুর এবং উপজেলার রেলগেট, কদমহাজির মোড়, সাবদিপুর, ভাটোপাড়া, হরিসংকরপুর, পিরিজপুর, বিদিরপুর, প্রেমতলী, কুমুরপুর, রাজাবাড়ী, চাঁপাল, বসন্তপুর, গোগ্রাম, কাঁকনহাট, দেলসাদপুর, রিশিকুল, পাকড়ী, বাসুদেবপুর, বালিয়াঘাটা, কামারপাড়া প্রভূতি এলাকায় সমিতি করার প্রবণতা বেশী বলে জানা গেছে।

    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী গোশত সমিতির মূল উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম জানান, সমিতিতে এবার ২৭ জন সদস্য। প্রতি সপ্তাহে সদস্য প্রতি ১০০ টাকা করে অর্থ জমা রাখেন। বছর শেষে রোজার ঈদের আগে জমানো টাকা দিয়ে গরু কিনে আজ ২৯ রমজান জবাই করে সমিতির সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ১ লাখ ২৮ হাজার টাকায় গরু কেনা হয়েছিল চামড়া ১ হাজার টাকা, ভূড়ি ৩৭ টাকা, পাঁ ১৪শ ৫০ টাকা টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। কসাইকে ৩ তিন হাজার টাকা দেয়া হয়েছে ভাগ প্রতি মাংশ হয়েছে ৬ কেজি ৬শ গ্রাম। প্রতি কেজি ষাঁড় গরুর মাংশ পড়েছে ৬ শ ৮৫ টাকা। মহিশালবাড়ী বাজারে সকালে গাভী গরু জবাই করে ষাঁড় গরুর মাংশ বলে ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন দেদারসে। তুলনামূলক বাজার দরের চেয়ে কম দামে এবং একসঙ্গে বেশি পরিমাণ ষাঁড়ের গোশত পেয়ে প্রত্যেকেই খুব খুশি হয়।

    তিনি জানান, ৫ বছর আগে তিনি গ্রামের কয়েক বন্ধুর সঙ্গে উদ্যোগ নিয়ে এ গোশত সমিতি গঠন করেন। সমিতির মাধ্যমে গরু কিনে মাংস ভাগ করায় কম দামে ফ্রেশ মাংস পাওয়ায় গ্রামের লোকজন ব্যাপক উৎসাহিত হয়।

    আমার আর এক বন্ধু শাহাদত শাহর সমিতিতে সদস্য সংখ্যা ৪২ জন্য তারা এ বছর ১ লাখ ৪২ হাজার টাকায় ষাঁড় ক্রয় করেছে। তাদের মাংশ ৬৫০ টাকা কেজি হতে পারে।

    অন্য সমিতির সদস্য রফিকুল ইসলাম বাবলু ও ব্যাংকার আবুল কাশেম জানান, তাদের সমিতিতে সভাপতি, সেক্রেটারি ও ক্যাশিয়ার রয়েছেন। ক্যাশিয়ার বানানো হয়ে থাকে। প্রত্যেক সদস্যকে টাকার হিসেব রাখা হয়। তারা এবার ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় রাজশাহী সিটিহাট থেকে একটি ষাঁড় গরু কিনে এনে জাবাই করেছে, মাংশও বেশ সুবিধা হচ্ছে।

    কলা ব্যবসায়ী মোঃ ইব্রাহিম ও মাহাতাব উদ্দীন জানান, এ বছর সমিতির সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ২টি গরু কেনা হয়েছে । বুধবার জবাই করে সদস্যদের মাঝে মাংশ বন্টন করে দেয়া হবে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মানুষ কমমূল্যে ভাল গরুর মাংশ খেতে পারবে ইনসাল্লাহ। গরুর মাংসের দাম পড়েবে ৬৪০ টাকা।

    রাজাবাড়ী এলাকার মতিয়ার রহমান জানান, তারা সারা বছর ধরে সপ্তাহে সপ্তাহে টাকা জমা দিয়েছেন। এতে বছর শেষে ৬ হাজার টাকা জমা হয়েছিল, তিনি টেরই পাননি। কিন্তু এখন একবারে ৬ হাজার দিয়ে তিনি মাংস কিনতে পারতেন না। এছাড়া এখানে যে দাম পড়ছে সে দামে কসাইরা মাংশ বিক্রি করে না। তাতে ওজনে কম, পানি দেওয়া ও তেল-চর্বি, হাড় দিয়ে ভরা থাকে।

    বিদিরপুর এলাকার একটি সমিতির সদস্য ভ্যানচালক করিম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। ঈদে ছেলেপেলের কাপড়চোপড় কিনে টাকা শ্যাষ অয়া যায়। কোনোমতে তেল-সেমাই কিনি। আবার মাংস কেনব কীভাবে? যখন থেকে সমিতিতে নাম দিয়েছি। ঈদের আগে ৭কেজি মাংস পাইছি।’

    মহিশালবাড়ী মহল্লার প্রভাষক রায়হান জানান, গ্রামের মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তসহ সব শ্রেণির মানুষ এ সমিতিতে সদস্য হয়েছেন। সদস্যরা বছরে অল্প অল্প করে টাকা জমা রাখেন বলে বছর শেষে তারা টেরই পান না যে এত টাকা হয়েছে। এ পদ্ধতি না থাকলে দরিদ্র মানুষের পক্ষে ৫/৬ কেজি মাংস কেনার সাধ্য হত না। অনেক সময় ২/৩ জনে একজন সদস্য হয়ে মাংশ ভাগ করে আনন্দ উপভোগ করছেন।

    এদিকে মাংস বিক্রেতা শামীম রেজা জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তারা আগে যে মাংস বিক্রি করতেন তা এখন অর্ধেকও হচ্ছে না। কারণ গ্রামে গ্রামে একাধিক গোশত সমিতি হয়েছে। সমিতির লোকজন নিজেরাই গরু-মহিষ কিনে জবাই করে মাংস ভাগ করেন।

    তবে কসাইয়ের কাজ করা কিছু ব্যক্তি জানান, গ্রামে গ্রামে সমিতি বেড়ে যাওয়ায় তাদের কাজের চাহিদা বেড়ে গেছে।

    শাহাদত ও রবিউল জানান, তারা গ্রুপে ৪ জন কাজ করেন। গরুপ্রতি ৩/৪ হাজার টাকা ইনকাম করছেন। তাদের ১০ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, এখন গ্রামে গ্রামে অনেক সমিতি গড়ে উঠছে। ফলে এত বেশি সংখ্যক পশু জবাই হচ্ছে যা ঈদুল আজহার চেয়ে কম নয়। একটি গরু প্রসেস করতে তাদের দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগে। তারা গরু প্রসেস করতে ৩-৪ হাজার টাকা মজুরি নেন আর মহিষ ৪-৫ হাজার টাকা নেন। ফলে ঈদ মৌসুমে তাদের জনপ্রতি প্রতিদিন ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় থাকছে।

    গোদাগাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
    ডাঃ শায়লা শারমিন জানান, সুস্থ সবল গরু জবাই করে জনসাধারণ আমিষের চাহিদা মেটাচ্ছেন। ভোক্তারা যেমন উপকৃত হচ্ছেন তেমনি গো খামারিরা ঈদুল ফিতরেও একটি বাজার ধরতে পারছেন। এতে খামারি ও ভোক্তা উভয়েই উপকৃত হচ্ছেন সমিতিগুলোর পরিচালকরা যদি সরাসরি খামার থেকে পশু সংগ্রহ করতে আগ্রহী হন তাহলে তারা অফিস থেকে তাদের সহযোগিতা করবেন বলে জানান এ কর্মকতা। একই মন্তব্য করেন, ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ রিপা রানী ও প্রানিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডাঃ আরিফুল ইসলাম

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।