Blog

  • মোরেলগঞ্জে যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্র-স্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

    মোরেলগঞ্জে যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্র-স্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির, বিশেষ প্রতিনিধি:

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিকে সফল করার লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (২২ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল ৫টায় পৌর যুবদলের আয়োজনে মোরেলগঞ্জ পৌর বিএনপি কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান পলাশ।

    সভায় বক্তব্য রাখেন পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম মিঠু, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম মুন্সী।

    অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুবদল নেতা ডালিম মুন্সী, মো. শাহিন বেপারী, জাকির হোসেন, মিজানুর রহমান পাখি, আল আমিন হোসেন রাসেল, ফকির এনায়েত করিম, সোহেল ফরাজী, মহিম কাজী, রফিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম রাজু, লিয়ন তালুকদারসহ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

    বক্তারা বলেন, “আগামী রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের কাজে এগিয়ে আসতে হবে।”

    তারা আরও জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী রক্তদান কর্মসূচি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণসহ জনকল্যাণমূলক নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হবে।

  • গোপালগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে জাতীয় নিরা-পদ সড়ক দিবস উ-দযাপন

    গোপালগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে জাতীয় নিরা-পদ সড়ক দিবস উ-দযাপন

    কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    গোপালগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস – ২০২৫ উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    “মান সম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি” – কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি” – এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ বিআরটিএ ও সওজ -এর যৌথ আয়োজনে এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টায় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্মসচিব) মুহম্মদ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালী বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ফিরে শেষ হয়। উক্ত র‍্যালীতে সকল শ্রেণি- পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় হেলমেট বিহীন বেশ কিছু মোটর সাইকেল চালকদেরকে গাড়ি থামিয়ে সতর্ক করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান ও পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান তাদেরকে নতুন হেলমেট পরিয়ে দেন এবং সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে হেলমেট ব্যবহার করে বাইক চালানোর নির্দেশনা দেন।

    পরে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ “স্বচ্ছতা’য় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফারিহা তানজিন -এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্মসচিব) মুহম্মদ কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. রকিবুল হাসান। এছাড়াও গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুজ কুমার দে, গোপালগঞ্জ বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক জিয়া উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    এসময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আতাউর রহমান, এস এম আমিরুল মোস্তফা, শাহরিয়ার আহমেদ, ওসি হাইওয়ে, গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী রেফাতুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, সুমন কর্মকার, হাফিজ হোসেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক – শিক্ষার্থী, জেলা ট্রাক ও ট্রাঙ্ক লরি চালক সমিতির নেতৃবৃন্দ,
    জেলা পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ-বাস-মিনিবাস ও মাইক্রোবাসের চালকগণ, জেলায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    জাতীয় নিরাপদ সড়ক -২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ কামরুজ্জামান গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চালকদেরকে নিয়ন্ত্রিত গতিতে যানবাহন পরিচালনা, নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, চালকদের নিয়মিত বিশ্রাম নিশ্চিত করা, পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর কেবল বৈধ লাইসেন্স প্রদান করা, ঢাকা -খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন ৭ মার্চ চত্বর প্রশস্ত করনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ওই স্থানকে টিক-টকার ও বাইকার রেস মুক্ত রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা এবং অভিভাবকদেরকে তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদেরকে মোটরসাইকেল না কিনে দেওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়াও তিনি নিরাপদ ও দূষণমুক্ত গোপালগঞ্জ গড়তে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

  • গোপালগঞ্জ – ১ আসনে দুঃস-ময়ের সেলিমুজ্জামানকে প্রার্থী চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা

    গোপালগঞ্জ – ১ আসনে দুঃস-ময়ের সেলিমুজ্জামানকে প্রার্থী চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা

    কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জঃ

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সরব হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জ-১ (কাশিয়ানী- মুকসুদপুর) আসনের রাজনীতি। ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এখন সবচেয়ে আলোচনায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম।

    দলের কঠিন সময়েও অবিচল থাকা, দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার কারণে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন তিনি। বিগত ৩৮ বছর যাবৎ দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। বিগত দিনে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় বিগত স্বৈরাচার এরশাদের ও স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের আমলে, দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধি, বিভিন্ন দাবি আদায়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে, জনসাধারণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দাবি ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা সহ অবৈধ সরকার পতন আন্দোলন কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ বহু কাজ করেছেন তিনি এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাড় এই তিন গুণেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থার কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সুখেদুঃখে পাশে থাকা এবং বিএনপি’র দলের প্রচার প্রচারণার দায়িত্বপূর্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে পুলিশে নিয়ন্ত্রিত ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল এবং দলীয় ইমেজ সমুন্নত রাখায় এখন অনেকেই বলছেন, দুঃসময়ের সেলিমুজ্জামান’ই হতে পারেন কাশিয়ানী- মুকসুদপুরের বিএনপির শক্ত প্রার্থী।

    দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে কাশিয়ানী-মুকসুদপুর এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, মসজিদ- মাদরাসা নির্মাণসহ বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রমের কারণে তিনি জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে নির্বাচনী এলাকায় বিরামহীন গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলার ইউনিয়ন, হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চলে তিনি নিয়মিত উঠান বৈঠক ও কর্মীসভা করছেন। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে, যা তৃণমূল রাজ-নীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।

    ছাত্র রাজনীতির সকল পর্যায়ের নেতৃত্বে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রাজনীতির পথচলা শুরু করেন। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব সামলান। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসন (কাশিয়ানী-মুকসুদপুর) থেকে ভোটের লড়াই করছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও সাংগঠনিক দক্ষতা ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজর কেড়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র রাজনীতির সকল পর্যায়ের নেতৃত্বে থেকে উঠে আশার অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা ও স্থানীয় সংযোগ এই তিনটি উপাদান সেলিমুজ্জামান কে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। যদিও অন্য কয়েকজন প্রার্থীও সক্রিয়, তবে তৃণমূলের আস্থা ও সাধারণ জনগণের সমর্থন তাকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।

    নিজের রাজনৈতিক পথচলা সম্পর্কে সেলিমুজ্জামান বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রাজনীতির পথচলা শুরু করি। এরপর আমি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম। বর্তমানে আমি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।

    তিনি আরও বলেন, দলের দুর্দিনে তারেক রহমানের নির্দেশে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি, যা এখনও চলমান। আমি সবসময় একটি স্বচ্ছ, আদর্শিক ও জনগণমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী।

    মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেয়, তবে জনগণের আস্থা অর্জন করে বিপুল ভোটে বিজয় নিশ্চিত করতে পারব বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

    বঞ্চনার উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি নিজ আসন নিয়ে তিনি বলেন, কাশিয়ানী – মুকসুদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও এই অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পরিবারে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া হবে।

  • ক্ষেতলালে জা-ল সনদে দলিল লেখক নিয়োগ, অ-পসারণ ও তদ-ন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

    ক্ষেতলালে জা-ল সনদে দলিল লেখক নিয়োগ, অ-পসারণ ও তদ-ন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

    মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু, জয়পুরহাট।

    জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় জাল সনদ ব্যবহার করে দলিল লেখক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত সৈয়দ আলী মুর্তজা ওরফে রবিন চৌধুরীর অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ২টার সময় ক্ষেতলাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মিজান চৌধুরী।
    লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, রবিন চৌধুরী জাল সনদ ও প্রভাব খাটিয়ে দলিল লেখক পদে নিয়োগ লাভ করেছেন। তিনি দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। বিষয়টি জানার পর মিজান চৌধুরী জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং বিষয়টির যথাযথ তদন্তের দাবি জানান।
    তবে অভিযোগের পরেও তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ও গড়িমসির অভিযোগ তোলেন তিনি। মিজান চৌধুরী দাবি করেন, “তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নির্ধারিত তারিখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তদন্ত বিলম্বিত করছেন এবং রবিন চৌধুরীর প্রভাব ও প্ররোচণায় তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
    তিনি আরও জানান, রবিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে সি.এস.পি. তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতসহ একাধিক প্রশাসনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবুও অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও প্রশাসনের প্রতি দৃঢ় আহ্বান জানান যাতে এই অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালিত হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
    মিজান চৌধুরী বলেন, “আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুক। যারা জাল সনদ ব্যবহার করে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে, তাদের যেন কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া না হয়।
    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্ষেতলাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • ফুলপুরে দাদীকে হ-ত্যা ও নাতিকে ধ-র্ষণের ঘটনায়  আবুয়া রবিদাসকে গ্রে-ফতার করেছে পুলিশ

    ফুলপুরে দাদীকে হ-ত্যা ও নাতিকে ধ-র্ষণের ঘটনায় আবুয়া রবিদাসকে গ্রে-ফতার করেছে পুলিশ

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ময়মনসিংহের ফুলপুরে দাদীর সামনে নাতিনকে ধর্ষণের সময় দেখে চিৎকার দেওয়ার দাদীকে কুপিয়ে হত্যা ও শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত আবুয়া রবিদাস নামে যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২১অক্টোবর) রাত আনুমানিক তিনটার দিকে জেলার ভালুকা উপজেলার কাশর এলাকা হতে পুলিশ রবিদাসকে (৪০) আটক করেছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর আগে গত রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমুয়াকান্দা খাদ্য গুদাম সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত আবুয়া রবিদাস স্থানীয় কাচ্চু রবিদাসের ছেলে।

    পুলিশ সুত্রে জানা যায়, আমুয়াকান্দা বাজার এলাকার রবিদাস বাড়ির ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করেন আবুয়া রবিদাস। এ সময় ঘটনাটি দেখে প্রতিবাদ করলে ওই শিশুর দাদি ফুলবাশীকে কুপিয়ে আহত করেন আবুয়া। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে ধর্ষণের শিকার শিশুটি বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান-
    , ‘এ ঘটনায় মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে ফুলপুর থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ভালুকার কাশর এলাকা থেকে আসামী আবুয়া রবিদাসকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্রিয়া চলছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

  • মোরেলগঞ্জে যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্র-স্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

    মোরেলগঞ্জে যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্র-স্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির, বিশেষ প্রতিনিধি:

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিকে সফল করার লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (২২ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল ৫টায় পৌর যুবদলের আয়োজনে মোরেলগঞ্জ পৌর বিএনপি কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান পলাশ।

    সভায় বক্তব্য রাখেন পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম মিঠু, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম মুন্সী।

    অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুবদল নেতা ডালিম মুন্সী, মো. শাহিন বেপারী, জাকির হোসেন, মিজানুর রহমান পাখি, আল আমিন হোসেন রাসেল, ফকির এনায়েত করিম, সোহেল ফরাজী, মহিম কাজী, রফিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম রাজু, লিয়ন তালুকদারসহ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

    বক্তারা বলেন, “আগামী রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের কাজে এগিয়ে আসতে হবে।”

    তারা আরও জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী রক্তদান কর্মসূচি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণসহ জনকল্যাণমূলক নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হবে।

  • নলডাঙ্গার “ঠাকুর লক্ষীকোল” ভ্যান ও সাইকেল হাট এখন বিশাল জমজমাটঃ খুশি ক্রেতা ও বিক্রেতার

    নলডাঙ্গার “ঠাকুর লক্ষীকোল” ভ্যান ও সাইকেল হাট এখন বিশাল জমজমাটঃ খুশি ক্রেতা ও বিক্রেতার

    এ,কে,এম,খোরশেদ আলম।
    নাটোর জেলা প্রতিনিধি:

    নলডাঙ্গা উপজেলার ঠাকুর লক্ষীকোল গ্রামে চলমান এই হাট সপ্তাহে দুই দিন রবিবার এবং বুধবার বসে এই হাট। প্রতি হাটে ২০-২৫ টি ভ্যান ও সাইকেল ক্রয় বিক্রয় হয়ে থাকে। নলডাঙ্গার ঠাকুর লক্ষীকোল মাদ্রাসা হাটে ভ্যান ও সাইকেল স্বল্প মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।  কম দামে, কম খরচে প্রতি রবিবার ও বুধবার হাতের নাগালেই ভ্যান ও সাইকেল নিতে আজই চলে আসুন, নলডাঙ্গার ঠাকুর লক্ষীকোল মাদ্রাসা হাটে বলেন বিক্রেতা ও হাট ইজারাদা।

    ক্রেতা ও বিক্রেতাকে সার্বিক সহযোগিতার অঙ্গিকার করেন হাট ইজারাদার পক্ষ। খুশি ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

  • সুজানগরের কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে শীতকালীন সবজির বীজ ও সার বি-তরণ

    সুজানগরের কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে শীতকালীন সবজির বীজ ও সার বি-তরণ

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগরঃ শীতকালীন শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুজানগর উপজেলার কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে সবজির বীজ ও সার বিতরণ ককার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় এই বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বুধবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ জাহিদ হোসেন ।২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় বসতবাড়িতে চাষযোগ্য ৩২৫ জন কৃষক-কৃষাণীকে ৭ ধরনের সবজির বীজ এবং মাঠে চাষযোগ্য ৫০০ জন কৃষক-কৃষাণীকে সার ও বীজ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৯০ জন কৃষককে লাউ, ১৪০জনকে মিষ্টিকুমড়া, ১৪০ জনকে বেগুন এবং ১৩০ জনকে শসার বীজ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রতিজনকে ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আসাদুজ্জামান বলেন, প্রণোদনা কর্মসূচী সরকারের বিশেষ উদ্যোগ। সরকার আগাম শীতকালীন শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের এ বীজ ও সার দিচ্ছে। আপনারা যদি যত্নসহকারে চাষ করেন তাহলে কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং সুজানগর উপজেলায় কৃষি হবে আরও গতিশীল ও উন্নত। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, সরকারের এই সহায়তা সুজানগর উপজেলার কৃষক=কৃষাণীদের শাকসবজি উৎপাদনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর পাবনা।

  • শ্রাবণ মাসেও  পদ্মা নদীতে পানির বড় আ-কাল

    শ্রাবণ মাসেও পদ্মা নদীতে পানির বড় আ-কাল

    রাজশাহী থেকে মো. হায়দার আলী : আশ্বিন মাসেই পদ্মা নদীতে পানির বড্ড আকাল। নদীর কাঁনায় কাঁনায় পূর্ণ হবার কথা খাকলেও সে অবস্থা নেই। তার একমাত্র কারণ মরন বাঁধ ফারাক্কার বিরুপ প্রভাব এবং ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার। ভারত খেয়াল খুশিমত ফারাক্কার খুলে আবার বন্ধ করে আমাদের দেশের সর্বানাশ করে।

    নদীর দেশ বাংলাদেশে বর্তমানে নদীর এমন বেহালদশা। পদ্মা নদীসহ শ শ নদী মরে যাচ্ছে, অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে । দেশে জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে । এখন শুধু ইতিহাসের পাতায় লেখা একটি নদীর নাম পদ্মা । এটা কি নদী ? বিশ্বাস করা যায় না । পদ্মার সেই খরস্রোত নেই কেন ? এমন সব প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে একালের শিশু-কিশোর, ছাত্র-ছাত্রীসহ কোন আগন্তুককে । বিশাল-বিস্তৃত ধুধু বালুচর আর পানির ক্ষীণ বিল কিংবা লেকের মতো পদ্মার ঐতিহ্য অস্তিত্বকে এতটা বিপন্ন করেছে।

    ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মিত হয়েছে আবহমানকাল ধরে প্রবাহিত গঙ্গা-পদ্মা নদীর ভারতের অংশ ফারাক্কায় । ১৯৬৮-১৯৬৯ সালে ফরাক্কা ব্যরেজটি একতরফাভাবে নির্মাণ করে ভারত। কিন্তু ভারত কৌশলগতভাবে ব্যারেজটি তখনই চালু করেনি । তখন পাকিস্থানে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথানের ১৯৭০ সালের জেনারেল ইয়াহিয়া সামরিক শাসন জারি এবং সবশেষে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বধীনতা অর্জনের কাল। তারপরেও ভারত অপেক্ষা করে এবং অবশেষে ১৯৭৫ ইং সালের ২১ এপ্রিল ভারত ফারাক্কা চালু করার পর থেকে অব্যাহতভাবে মরণদশা শুরু হয়েছে ।

    নদী আছে পানি নেই, বালু আছে কিন্তু কোথায় যেন কোন মাটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পদ্মার কোলে জেগে উঠা চরে সবুজ ফসল ফলানো সম্ভাব হচ্ছেনা । প্রতি বছর বালু জমতে জমতে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে । পদ্মার ভয়াবহ রুপ দিনে দিনে হারিয়ে ফেলেছে । বিগত বছরগুলোতে এ নদীর ক্ষীণ স্রোতধারা থাকলেও এ বার তাও নেই । একটা বিলে পরিণত হয়েছে । এখন রেলবাজার ঘাটের সামনে মানুষ সাঁতার দিয়ে নদী পার হতে পারছেন। কয়েক বছর পর নৌকার পরিবর্তে গরুর গাড়ী কিংবা সাইকেলে নদী পার হওয়া যাবে বলে সচেতন মহলের ধারণা।
    ফারাক্কা ব্যরেজের সব কয়টি গেট বন্ধ করে নদী শাসন করে মেরে ফেলা হয়েছে অসংখ্য নদ নদীকে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে পরিবেশ জীবন জীবিকায় নেমে এসেছে প্রচন্ড ধ্বস। দেশের এক তৃতীয়াংশ এলাকা ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে । গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নীচে নেমে যাওযায় উত্তাঞ্চলের বেশীর ভাগ নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায় । দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট । উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবনে অভিশাপ বয়ে এনেছে এই ফারাক্কা ব্যারেজ; এসব এলাকার মানুষ যাকে মরণ ফাঁদ বলে জানে ।

    এ ব্যারেজ চালু হওয়ার সময় বলা হয়েছিল এটি উভয় রাষ্টের কল্যাণের প্রতীক। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভরতের বিমাতাসুলভ আচারণের কারণে আজ এ ব্যারেজ দেশের মানুষের জন্য অকল্যাণ। একতরফা পানি প্রত্যাহার করে ভারত তাদের বন্দর, কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখলেও এদেশের কৃষি, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ, জীবন-জীবিকাকে ঠেলে দিয়েছে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে । বিভিন্ন সময়ে পদ্মার পানি বন্টন নিয়ে অনেক আলোচনা মাপজোঁক আর পর্যবেক্ষণ হয়েছে । চুক্তি হয়েছে, চুক্তি নিয়ে সংসদে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়ছে। কিন্ত বাংলাদেশের ভাগ্যে কখনই চুক্তি মোতাবেক পানি জুটেনি । তবে পানি এসেছে সংসদে, টেলিভিশন, রেডিও, প্রিন্ট মিডিয়া, অন লাইন পত্রিকায়, টেলিফোনে। এর ফলে শুধু পদ্মা নয় অভিন্ন ৫৪টি নদ-নদীর পানি ভারত একতরফা প্রত্যাহার করে চলেছে । ফলে এপারের নদ-নদীগুলো মরে যাচ্ছে ।
    পদ্মা নদী মরে যাওয়ার সাথে সাথে শাখা নদী বড়াল, মরাবড়াল, নারোদ, মুছাখান, ইছামতি, চিকনাই, নাগর, ধলাই, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, হিসলা, কাজলা, চিত্রা, সাগোরখালি, চন্দনা, কপোতাক্ষ মরে যাচ্ছে। কালিগঙ্গা, বেলাবত এসব নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে । বর্ষা মৌসুমে কিছু দিনের জন্য এসব নদীতে পানি থাকলেও প্রায় সারা বছর থাকে পানিশূন্য । তাছাড়া এসব নদী মরে যাওয়ার সাথে সাথে দু পার্শ্ব অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে । সরকারী দলের তথা কথিত যারা বালিখোর, টিআর গোর, টেন্ডার বাজ, সরকারী খাদ্য গুদামে গমখোর, খাস পুকুরখোর, তারা ড্রেজার, টলি, ট্রাক, লরি প্রকাশ্যে নামিয়ে নদী থেকে দেদারসে বালি মাটি নিয়ে গিয়ে ইটভাটা, ভরাটসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজ করায় পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীর পাড়, কোটি কোটি টাকার নির্মিত বাঁধ নষ্ট করে দিচ্ছে যা দেখার যেন কেউ নেই। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলেও তার দোসরগন বিএনপি জামায়াতের অসৎ নেতাদের হাত করে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ কান্ড। এ যেন মূদ্রার এপিট ওপিট। দেশের নদী এতটা বিপন্ন হয়েছে যেন এখন এসব নদীর নাম বইয়ের পাতায় কিংবা মানচিত্রে স্থান পেয়েছে ।

    বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশর কোটি কোটি মানুষ বন্যা, খরা, জলচ্ছাসের কবলে পতিত হয়, সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, দুঃখের সীমা থাকে না । অকালে ঝরে যায় লাখ লাখ মানুষ, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগীর প্রাণ । জলবায়ুর উপর দেখা দেয় বিরুপ প্রভাব। এর অন্যতম প্রধান কারণ মরণ বাঁধ ফারাক্কা । মৃত. মৌলানা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানী ফারক্কা ব্যারেজের বিরুদ্ধে ব্যারেজমূখি ফারাক্কা লং মার্চ করেছিলেন, ব্যরেজটির মারাত্বক পরিণতির কথা বিবেচনা করে ।

    ভারত পানি না দিয়ে বাংলাদেশকে শুকিয়ে মারার ভারতীয় অভিসন্ধির কারণে নদী স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতাধিক ছোট নদী মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। বড় নদীগুলোর অস্তিত্বের সংকটও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। প্রথমেই বলেছি ভাটির দেশ বাংলাদেশ, ভাটির দেশের ক্ষতি হয়, এমন কিছু উজানের দেশের না করার নীতি-বিধানের তোয়াক্কা না করেই ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে পানি সরিয়ে নিচ্ছে।
    গত ৫০ বছরে ফারাক্কা ব্যারাজ বাংলাদেশের নদ-নদীতে যে বিরূপ প্রভাব রেখেছে তার বড় সাক্ষী বাংলাদেশে পদ্মা পাড়ের মানুষ।

    ফারাক্কা পয়েন্টে ভারত পানি সরিয়ে নেওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় মারাত্মক পানি সংকট তৈরি হচ্ছে। এক সময়ের খরস্রোতা প্রমত্তা পদ্মার বুকে বিশাল চর জেগেছে, নদীর গতিপথ সংকীর্ণ হয়ে গেছে, নদীটিই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

    আবার বন্যার সময় সেই ফারাক্কারই সবগুলো গেট খুলে দেওয়া হচ্ছে। এরে ফলে প্রায় প্রতিবছরই গঙ্গা ও পদ্মা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বন্যা ও ভাঙনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পদ্মা নদী। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এ নদীটি উত্তরবঙ্গে রাজশাহী বিভাগ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

    নদী গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের দীর্ঘতম এ নদীর গতিপথ থেকে শুরু করে এর শাখা নদনদীর প্রবাহে মারাত্মক ক্ষতি করেছে ফারাক্কা। ছোট বেলা থেকেই রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করেন মোহাম্মদ রাব্বির হোসেন। পদ্মা নদীতে তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় নদীর পানি কমে যাওয়ায় মাছও অনেক কমে গেছে।

    অতীতে তারা যেসব মাছ পেতেন, এখন আর সে ধরনের মাছ নদীতে ধরা পড়ে না। বর্ষা মৌসুমে কিছু মাছ ধরা পড়লেও বছরের অন্যান্য সময় বড় বড় মাছ এখন নদীতে মিলছে না। অনেকে মাছ ধরা পেশা ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানান রাব্বির হোসেন।

    প্রায় ৩৫ বছর নদীতে থাকার অভিজ্ঞতার স্মৃতি থেকে ইয়াসিন আলী মাঝি বলেন, “পদ্মার অনেক শাখা নদীও গত ৫০ বছরে শুকিয়ে গেছে। আগে পদ্মা কয়েক কিলোমিটার প্রশস্ত ছিল। শুষ্ক মৌসুমে এখন অনেক যায়গায় সরু খালের মতো পানি প্রবাহিত হচ্ছে।”

    রেলওয়ে বাজার এলাকার মোঃ নাজমুল হোসেন বলেন,”যখন স্কুলে পড়ি তখন তো নদীতে সাঁতার দিয়েছি ব্যাপক খরস্রোত ছিল এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। এ নদীর শুকিয়ে যাওয়ার দুটি কারণ। একটা হলো ফারাক্কার বাঁধের জন্য এ নদীতে পানি আসছে কম। নদীটা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আর আরেকটা কারণ হলো এখানে স্লুইচ গেট দিয়ে পানি এদিকে যেতে পারছে না,”

    পুলিশের সাবেক এসআই, মহিশালবাড়ী বাজার কমিটির সদস্য মোঃ সাদেকুল ইসলাম বলেন, আমি প্রতিদিন সকালে নদীর ধারে হাঁটতে যায়। নদীর আগের অবস্থা নেই, হাক ডাক, গর্জন নেই যেন মরা খালে পরিনত হয়েছে। আগের মত রুপালী ইলিশ, বাঘাইড়, পাঙ্গাস, চেলি, রিঠা, বাশপাতা, কৈরি, ভোলা, চিংড়ি, বুয়াল, মলা, উড়ল, রুই, কাতলা, টেংরা, বাঁচা, ঘেড়া প্রভূতি মাছ পাওয়া যায় না। ফলে মৎস্যজীবিরা দিন দিন তাদের পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ বাপ দাদার পেশা উপায়হীন ভাবে ধরে রেখেছেন।

    নদী গবেষকরা জানাচ্ছেন, ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর থেকেই বাংলাদেশে পদ্মা ও শাখানদীগুলোতে পানি সংকট শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ভারত একটি চুক্তি করেছিল ১৯৯৬ সালে যেটা ২০২৬ সালে শেষ হবে– সেই চুক্তির পর আমরা কিছু পানি পেয়েছি। কিন্তু তার আগে ২০ বছরে যে পানি আসে নাই তখন এই নদীগুলো মরে গেছে। গড়াইয়ের মতো নদীগুলো উঁচু হয়ে গেছে। যখন নদীখাত উঁচু হয়ে যায়, তখন পরে পানি দিয়ে খুব বেশি লাভ পাওয়া যায় না।

    চলমান ৩০ সালা চুক্তি বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। আগের চুক্তিতে যতটুকু নিশ্চয়তা ছিল, এ চুক্তিতে তাও নেই। ফলে পানিবঞ্চনা আরো বেড়েছে। এ ব্যপারে বাস্তধর্মী পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী বলে সচেতন মহল মনে করেন।

    মোঃ হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

  • চারঘাটে জাতীয় নি-রাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    চারঘাটে জাতীয় নি-রাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

    “মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি” এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর চারঘাটেও জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে  সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার (২২অক্টোবর) সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‍্যালী বের হয়ে চারঘাটে বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সরকার এনায়েত কবির, চারঘাট মডেল থানার (ওসি) মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ লতিফ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রাহেদুল ইসলাম, চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, চারঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাম্মেল হক ও চারঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাচ্চু।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।

    সভায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক, পথচারী ও যাত্রী সবার সচেতনতা জরুরি। মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার, গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন মেনে চললেই সড়কে মৃত্যুহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

    বক্তারা আরও বলেন, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বেপরোয়া গতি ও অবৈধ যানবাহন চলাচল। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও জনগণের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।

    মোঃ মোজাম্মেল হক
    চারঘাট, রাজশাহী ।।