Blog

  • চোখের চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফেরার পথে ৩ জনের মৃত্যু

    চোখের চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফেরার পথে ৩ জনের মৃত্যু

    মোঃ কাউছার উদ্দীন শরীফ,ঈদগাঁওঃ

    চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে কক্সবাজারে আসা প্রায় ২৬ জনের মতো রোগী চোখের চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঈদগাঁও উপজেলায় ৩ জনের মৃত্যু এবং আরও ১০/১৫ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    ২৯ এপ্রিল সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের খোদাই বাড়ী নামক এলাকার মহাসড়কে এঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন,বাঁশখালীর ইলশা এলাকার মনির আহমেদের স্ত্রী হাফসা বেগম, একই উপজেলার রায়ছড়া এলাকার গোলাম সোবহানের ছেলে দুলা মিয়া।অপরজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

    জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা ইসলামাবাদ ইউনিয়নের খোদাইবাড়ি এজি লুৎফুর কবির আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা এলাকার বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ২ জনের মৃত্যু হয়।১০/১৫ জন আহত হয়।আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো ১ জনের মৃত্যু হয় বলে শুনা যায়।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ওসি মোজাম্মেল হক বলেন,ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় কবলিত বাস জব্দ করা হয়েছে।হাসপাতালে নেয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয় বলে শুনলেও পরিচয় পাওয়া যায়নি।

    দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কের দু’পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং যানজন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা।

  • থানচিতে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু হাইমংসিং মারমা, অসহায় পরিবার

    থানচিতে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু হাইমংসিং মারমা, অসহায় পরিবার

    থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ মথি ত্রিপুরা।

    বান্দরবানে থানচিতে বিরল রোগে আক্রান্ত হাইমংসিং মারমা নামে দশ বছর বয়সী এক শিশু। টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না অসহায় পরিবার। বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুটি থানচি সদরে আপ্রুমং পাড়া বাসিন্দা হ্লামংচিং মারমা এর ছেলে। তাঁর বাড়ির পাশেই একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে লেখাপড়া করে সে। শিশু হাইমংসিং মারমা গ্রামের অন্য আট-দশটি শিশুর মতোই খেলাধুলা করতো। 

    কিন্তু সে প্রথমে বুঝতে পারেনি, তার শরীরে অদৃশ্য এক রোগ বাসা বেঁধেছে। তার পিঠে তৈলাক্ত মাংসের জমাট ফোলে ছোট থেকে বড় আকারে দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। মেরুদণ্ডও বেঁকে গেছে। তবে বর্তমানে সে বুঝতে পারে যে, তার বিরল এক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যখনই খেলা কিংবা হাটতে গেলে ব্যাথা অনুভব করতে পেরে বলে বাবা আমায় চিকিৎসা সেবা দাও!

    শিশুটির জন্মগতভাবে শরীরের চামড়া কালো দাগ রয়েছে। জন্মের পর ২ বছরে শিশুর পিঠে তৈলাক্ত মাংসের মতো ছোট আকারে জমাট হতে শুরু করেছিল। প্রথম দিকে শিশুর শরীরের তৈলাক্ত মাংসের না বাড়ঁলেও ৯ বছর বয়সে এসে বাড়ঁতে শুরু করেছে। সেটি এখন বড় আকার ধারণ করে মেরুদণ্ড হাঁড় পর্যন্ত বেঁকে হাটতে ও শরীর বহনে অযোগ্য হয়েছে প্রায়। তাঁর বাবা সংসারে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না শিশুটির পরিবার।

    প্রতিবেশীরা জানান, হাইমংসিং মারমা বিরল এক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সে ছোট থাকতে তৈলাক্ত মাংস জমাট ছিল না, কিন্তু শরীরের চামড়া কালো দাগ ছিল জন্মগতভাবে। চিকিৎসা সেবা নিতে শিশুর পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। 

    এদিকে শিশুর বাবা হ্লামংচিং মারমা বলেন, আমার ছেলে বিরল এক রোগে কাবুতে খুবই কষ্টের দিন কাটছে। শিশুর পিঠে তৈলাক্ত মাংসের জমাট ছোট হতে বড় আকারে ধারণ করেছে, টাকার অভাবে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছি না, ছেলে’র চিকিৎসার জন্য দেশের সরকারি-বেসরকারি ও এনজিও এবং মানবিক সংস্থারসহ জনপ্রতিনিধিদের সকলে কাছে আর্থিক সহযোগিতা চান তিনি।

    বিরল রোগে আক্রান্তে শিশুর মা নুমেসিং বলেন, আমার ছেলে জন্মগতভাবে শরীরের চামড়া কালো দাগ ছিল, কিন্তু রকশক্ত বা তৈলাক্ত মাংসের জমাট ছিল না। প্রায় ২ বছরে মাথায় পিঠে ছোট ছোট শক্তরক মতো জমাট শুরু করে, মাঝখানে কয়েক বছর ভাল হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পরে অর্থাৎ ৯ বছরে এসে ছোট থেকে বড় হতে শুরু হয়। সেটি চলতি বছরের ছোট জমাট তৈলাক্ত মাংসের বড় আকারে ধারণ করে মেরুদণ্ড হাঁড় পর্যন্ত বেঁকে গেছে।

    এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি মা। তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে বিরল এক রোগে আক্রান্ত, সংসারে টাকার অভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে ছেলে’র চিকিৎসার সেবা দিতে পারিনি। আমার একমাত্র ছেলে কি করে বিরল রোগ হতে মুক্তি পাবো? 

    এদিকে শিশুর বড় চাচা (পাড়াপ্রধান) উহ্লাঅং মারমা বলেন, শিশুর শরীরের তৈলাক্ত মাংসের জমাট ও মেরুদণ্ড হাঁড় বেঁকে যাওয়ায় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে অসহায় পরিবার, শিশুকে নিয়ে মালুঘাটসহ চট্টগ্রামে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরছি। বর্তমান শিশু অবস্থা জানতে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে নম্বর হচ্ছে- 01818285372

    তিনি আরো বলেন, বিরল রোগ হওয়ায় মালুঘাটসহ চট্টগ্রামে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার করতে পারছি না। তবে চট্টগ্রামে এভারকেয়ার বেসরকারি হাসপাতালে রির্পোট এর অপেক্ষায় আছি, রাতে বিস্তারিত জানা যাবে। অসহায় পরিবারের পাশে থেকে মানবিকতার সকলে আর্থিকভাবে সহযোগিতায় আবারও শিশুটি সু-চিকিৎসার পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আসতে পারে বলে জানান তিনি।

    চলতি মাসের বান্দরবান ইমানুয়েল মেডিকেল সেন্টারে (জেনারেল সার্জারী বিশেষজ্ঞ) ডঃ উ থেন ক্য চেম্বারে দেখাতে তিনি বলেন, শিশুটি বিরল এক রোগে আক্রান্ত, ব্যায়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদী এই চিকিৎসার। তবে গরীর বাবা-মায়ের পক্ষে শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই বিরল রোগের চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে যোগাযোগ স্থাপনে পরামর্শও দেন তিনি।

  • অবশেষে উচ্চ আদালতের রায়ে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন আরিফ হালদার

    অবশেষে উচ্চ আদালতের রায়ে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন আরিফ হালদার

    মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

    আসন্ন টঙ্গীবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো.আরিফুল ইসলাম হালদার তার প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। আজ
    ২৯ এপ্রিলসোমবার উচ্চ আদালতে আপিল শুনানি শেষে তার প্রার্থীতা বৈধ্য বলে ঘোষণা করেছে উচ্চ আদালত

    গত ২৩ ই এপ্রিল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। পরবর্তী তে জেলা প্রশাসক বরাবর তার প্রার্থীতা ফিরে পেতে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেন তিন।

    গতকাল রোববার এ বিষয়ে আপিল শুনানি শেষে আবারো প্রার্থীতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী তে তিনি প্রার্থীতা ফিরে পেতে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। আজ সোমবার শুনানি শেষে তার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

    এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম হালদার জানান, দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং উপজেলায় সকল প্রার্থীদের আপিল নিস্পত্তি হবে ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এর মধ্যে আজ ২৮ শে এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি করেছে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন। প্রার্থীতা ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

    তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ৩০ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ২ মে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২১ মে।

  • কেশবপুরে মাছের ঘের দখল প্রচেষ্টা, থানায় অভিযোগ

    কেশবপুরে মাছের ঘের দখল প্রচেষ্টা, থানায় অভিযোগ

    কেশবপুর প্রতিনিধিঃ কেশবপুরে মাছের ঘের দখল প্রচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
    অভিযোগে জানা গেছে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আবুল বাসার মোড়েল ছেলে জাহাঙ্গীর আলম জমির মালিক দের সাথে চুক্তি বদ্ধ হয়ে একটি মাছের ঘেরে মাছ চাষ করে আসছিল। নুতন করে আবারো বাংলা ১৪৩৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদে ঘেরটি গ্রহণ করে। ঘেরের ভিতর বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ রয়েছে । ২৮এপ্রিল সকালে ব্রম্মকাঠি গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক খন্দকারের ছেলে ইনতাজ খন্দকার ওরফে নুনু, রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত সদু সরদারের ছেলে আবুল সরদার ও একই গ্রামের মৃত ইনতাজ গাজীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম মাছের ঘেরটি দখলে নেয়ার জন্য জাহাঙ্গীর আলম কে হুমকি দিয়ে আসছিল। রোববার সকালে তারা জোটবদ্ধ হয়ে রামচন্দ্রপুর ব্যাসডাঙ্গা মৌজার ৬৫ বিঘা জমির ঘেরটিতে অনধিকার প্রবেশ করে এবং টোংঘর নির্মাণ করতে থাকে। মাটিকাটা স্কেভেটর ঘেরের ভিতর নিয়ে আসে। দখল প্রচেষ্টাকালীন ঘের মালিককে তারা মারপিট করার জন্য উদ্ধত হয়। নিশ্চিত বিরোধে না জড়িয়ে জাহাঙ্গীর আলম কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

    মোঃ জাকির হোসেন
    কেশবপুর,যশোর

  • কেশবপুরে হিট স্ট্রোকে কৃষকের মত্যু

    কেশবপুরে হিট স্ট্রোকে কৃষকের মত্যু

    কেশবপুর প্রতিনিধিঃ কেশবপুরে হিট স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে জোহর আলী সরদার (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামের বাহের আলী সরদারের ছেলে। মৃত কৃষকের ছেলে জসিম উদ্দিন জানায়, ২৮এপ্রিল সকাল থেকে তার পিতা বিচলী আটি করা ধান কাঁধে নিয়ে বাড়িতে আনছিলেন। বেলা ১১ টার দিকে তিনি বাড়ি আসেন এবং পানি খেতে চান। পানি খাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন ওই কৃষকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে।

  • নড়াইলে মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ উপনির্বাচনে ৫ হাজার ২২ ভোটে চেয়ারম্যান হলেন সফুরা খাতুন বেলি

    নড়াইলে মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ উপনির্বাচনে ৫ হাজার ২২ ভোটে চেয়ারম্যান হলেন সফুরা খাতুন বেলি

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) উপ-নির্বাচনে আনারস প্রতীকে ৫ হাজার ২২ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সফুরা খাতুন (বেলী)। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী মো: জিল্লুর রহমান (টেবিল ফ্যান) প্রতীক পেয়েছেন ২ হাজার ৭৮০ ভোট। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, রোববার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বেসরকারিভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার শামীম আহমাদ।
    এর আগে সকাল ৮টায় শুরু হয়ে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বদ্বিতা করেন। এই ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ৭৬৯ জন।
    উল্লেখ্য, ইউপি চেয়ারম্যান জসীম মোল্যা গত ৫ ফেব্রæয়ারি দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কারণে পদটি শূন্য হলে এই উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই উপ-নির্বাচনে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জসীম মোল্যার স্ত্রী সফুরা খাতুন বেলী (আনারস) প্রতীকে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে ৫ হাজার ২২ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

  • অপরাজিতা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ে   সংসদ সদস্যদের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত

    অপরাজিতা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত

    এস মিজানুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি।। অপরাজিতা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ২৬ এপ্রিল সকাল ১০ টায় বরিশাল হোটেল গ্রান্ট পার্কের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি সংস্থা “রপান্তর” এর আয়োজনের সংলাপের অনুষ্ঠানে নারিনেত্রী অধ্যাপক শাহ সাজেদা সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ সোহরাব হোসেন, বরিশাল -০২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস, আনোয়ার জাহিদ, নজরুল ইসলাম নিলু, এনায়েত হোসেন বাচ্চু, মাহবুবুর রহমান, শিমা আফরোজ, শুভংকর চক্রবর্তী, কোহিনুর বেগম, নার্গিস জাহান, অনিতা অধিকারী প্রমূখ। রুপান্তর এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন এবং নারী নেত্রী ইসরাত জাহান সোনালী উপস্থাপনা করেন।

    সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পানি উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক এবং পিরোজপুর -২ আসনের এমপি মহিউদ্দিন মহারাজ অনপস্থিত ছিলেন।#

  • সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় পানি ও শরবত বিতরণ

    সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় পানি ও শরবত বিতরণ

    জি,এম স্বপ্না,সিরাজগঞ্জ :
    তীব্র তাপদাহে ক্লান্ত পথচারী,ভ্যান চালক,যাত্রী ও শ্রমিকদের মাঝে সুপেয় পানি ও শরবত বিতরণ করা হয়।মানব সেবা মুলক সংগঠন “প্রিয় সলঙ্গার গল্প” ফেসবুক গ্রুপের উদ্যোগে গতকাল দুপুর ২ টায় পিপাসার্তদের মাঝে পানি ও শরবত বিতরণ করা হয়।”প্রিয় সলঙ্গার গল্প” ফেসবুক গ্রুপের চীপ এডমিন শাহ আলমের নেতৃত্বে সংগঠনের উপদেষ্টা,মডারেটর ও এক ঝাঁক তরুণদের নিয়ে সলঙ্গা বাজার স্লুইচ গেট রিক্সা স্ট্যান্ড,নতুন ব্রীজ-ফাজিল মাদ্রাসা মোড়, থানা রোড, নিমগাছী রোড রিক্সা স্ট্যান্ডে ৩ শতাধীক পিপাসার্তদের সুপেয় পানি ও শরবত খাওয়ানো হয়।
    “প্রিয় সলঙ্গার গল্প” ফেসবুক গ্রুপের এমন উদ্যোগকে প্রশংসা ও সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।এক মোটর সাইকেল চালক বলেন,প্রচন্ড রোদে আমরা যারা রাস্তায় চলাচল করছি,প্রচন্ড খরা ও গরমে শরীর থেকে ঘাম আর লবনাক্ত পানি বের হওয়ার কারনে ক্লান্তিবোধ করছি,এ সময় ঠান্ডা শরবত পান করায় আমাদের তৃষ্ণা ফুরে গেল। তাই তাদের ধন্যবাদ জানাই। এক ভ্যান চালক জানান,সলঙ্গার গল্প গ্রুপের নি:সন্দেহে এটি একটি প্রশংসনীয় ও মানবিক কাজ।
    সুপেয় পানি ও শরবত পান করা কয়েকজন সিএনজি যাত্রী গণমাধ্যম কর্মীদের জানান,ভর দুপুরে তীব্র গরমে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পিপাসার্ত পথচারী,শ্রমিক ও যাত্রীদের তৃষ্ণা মেটাতে যারা এমন উদ্যোগ নিয়েছেন আল্লাহ যেন তাদের নেক হায়াত দান করেন।
    শরবত বিতরণে উপস্থিত ছিলেন, “প্রিয় সলঙ্গার গল্প” ফেসবুক গ্রুপের উপদেষ্টা সহকারি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান,মোখলেছুর রহমান, আবদুস ছালাম মাস্টার,মডারেটর শাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য দায়িত্বশীলগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • ঝিনাইদহে সিজারের পর লিভার ও কিডনি ফেল  করে প্রসূতির মৃত্যু তদন্ত চলছে ঢিমেতালে

    ঝিনাইদহে সিজারের পর লিভার ও কিডনি ফেল করে প্রসূতির মৃত্যু তদন্ত চলছে ঢিমেতালে

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের বিভিন্ন ক্লিনিকে সিজারের পর লিভার ও কিডনি ফেল করে প্রসুতি মারা যাওয়ার ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত কাজ চলছে ঢিমেতালে। কচ্ছপ গতিতে চলা এই তদন্ত কর্যক্রম আদৌতেও আলোর মুখ দেখবে কিনা সন্দেহ আছে। এদিকে জেলায় গত এক মাসে সিজার অপারেশনের পর ৬ জন প্রসুতি মারা গেছেন। অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ তারপর প্রসুতির কিডনি ও লিভার অকেজো হয়ে মারা যাচ্ছেন। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে বলা হয়েছে, ঝিনাইদহ শহরের শামীমা ক্লিনিকে দুইজন, কালীগঞ্জের দারুসশেফা ক্লিনিকে একজন, হাসান ক্লিনিকে একজন, আরাপপুর রাবেয়া হাসপাতালে একজন ও হামদহ প্রিন্স হাসপাতালে একজন প্রসুতি কিডনি ও লিভার ফেল করে মারা গেছেন। গত ২৬ মার্চ শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের শারমিন বেগম নামে এক প্রসুতি ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকার রাবেয়া হাসপাতালে ভর্তি হন। তাকে সিজার করা হয়। শিশু ও মা সুস্থ ছিল। কয়েক ঘন্টা পর প্রসুতির অতিরিক্ত রক্তক্ষণ শুরু হয়। রোগি দুর্বল হয়ে পড়ে ও প্রসাব বন্ধ হয়ে যায়। ্এরপর রোগী কোমায় চলে যায়। প্রসুতির স্বামী আল আমিন বলেন, এ্যম্বুলেন্সে করে যশোরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। চার দিন পর মারা যায়। হালিমা খাতুন নামে হণিাকুন্ডু উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের এক প্রসুতিকে ৪ এপ্রিল শহরের প্রিন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার স্বামী হাবিবুর রহমান জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সিজার করা হয়। সিজারের ৪/৫ ঘন্টা পর প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর প্রসুতির কিডনি বিকল হয়ে ঢাকায় মারা যান। গত ৩০ মার্চ হরিণাকুন্ডু উপজেলার তেলটুপি গ্রামের এনামুল কবিরের স্ত্রী লাভলী বেগমকে কালীগঞ্জ শহরের দারুসশেফা হাসপাতালে সিজার করা হয়। সিজারের পর মা ও শিশু সুস্থ ছিল। এরপর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে একই ভাবে মারা যায়। গত ১২ এপ্রিল হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভবিতপুর গ্রামের রিণা থাতুনকে শহরের শামিমা ক্লিনিকে সিজার করা হয়। প্রসুতির স্বামী আনারুল ইসলাম বলেন, দুপুর ১২টার দিকে সিজার করা হয়। এটি ছিল দ্বিতীয় সিজার। প্রসূতি সুস্থ ছিল। তিনি খবারও খান সিজারের ৪/৫ ঘন্টা পর প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হতে থাকে। পাঠানো হয় ঢাকায়। সেখানেই তিনি মারা যান। ১৬ এপ্রিল শামীমা ক্লিনিকে শৈলকুপা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের লিপি খাতুনকে সিজার করা হয়। সিজারের কয়েক ঘন্টার পর তার কিডনি ও লিভার অচল হয়ে মারা যান। ২৫ এপ্রিল ঝিনাইদহ শহরের ডাক্তার হাসানুজ্জামানের ক্লিনিকে সিজারের পর আকলিমা খাতুন নামে এক প্রসুতির মৃত্যু হয়। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের একরামুল হোসেনের স্ত্রী। মৃত প্রসুতির বাবা আকরাম হোসেন জানান, গত বুধবার সকালে তার মেয়েকে ডাঃ হাসানুজ্জামানের ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সিজার করা হয়। সিজারের পর মা ও শিশু ভাল ছিল। কয়েক ঘন্টা পর প্রসুতি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর হাসানুজ্জামান ক্লিনিকের সবাই গাঢাকা দেন। গাইনি চিকিৎসায় অভিজ্ঞ ডাঃ শামীমা সুলতানা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিজার করেন। রোগির কিডনি লিভার ফেল করে মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি। এখন দেখি রোগির শ^াসকষ্ঠও হচ্ছে। তিনি বলেন সিজার কালে ইনজেকশন অক্সিটোসিন, ইনজেকশন ডুরাটোসিন, ট্যাবলেট সাইটোমিস ও স্যালাইন লিবরা দেওয়া হয়। এই সব ওষুধে কোন ভেজাল আছে কিনা এ নিয়ে প্রশান তোলেন তিনি। জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডাঃ রেজা সেকেন্দার বলেন, সিজার করার পর প্রসুতিদের অস্বাভাবিক রক্তরক্ষণ শুরু হচ্ছে। এরপর কিডনি ও লিভার অকেজো হয়ে যাচ্ছে। শুধু ঝিনাইদহে নয়, দেশের আরো কয়েক স্থানে এভাবে সিজারের পর কিডনি ফেল করে প্রসুতির মৃত্যু হচ্ছে বলে তিনি জানান। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাঃ শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, কি কারনে সিজারের পর প্রসুতির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে তা অজানা রয়েছে। তবে রোগিদের যে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে তাতে কোন সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মিথিলা ইসলাম জানান, তাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত ওষুধের ১৭টি স্যাম্পল ঢাকায় পাঠিয়েছি পরীক্ষার জন্য পাঠিিেছ। তাছাড়া ঢাকা ও খুলনার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি জানান, ক্লিনিকে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ শুরু করেছেন।
    ঝিনাইদহে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত
    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    “স্মার্ট লিগ্যাল এইড, স্মার্ট দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। এ উপলক্ষে রোববার সকালে জেলা জজ কোর্ট চত্বরে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এস এম সাইফুল ইসলাম পায়রা এবং বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এরপর শহরে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে আদালত চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় ওই অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আজিম-উল-আহসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা, বলেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে স্মার্ট লিগ্যাল এইড কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।

  • নড়াইলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মৃৎশিল্প

    নড়াইলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মৃৎশিল্প

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মৃৎশিল্প। অ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক ও মেলামাইনের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের মৃৎশিল্প। তবে ভিন্ন চিত্র নড়াইলের ১৫টি গ্রামে। প্রতিকূলতার মাঝেও এসব গ্রামে পাঁচ শতাধিক মৃৎশিল্প পুরনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। এখানকার কুমারদের তৈরি মাটির পাত্র সরবরাহ হচ্ছে যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, ঝালকাঠিসহ বেশ কয়েকটি জেলায়। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা জানান, গ্রামে একসময় হাঁড়ি, কড়াই, বদনা, ঢাকুন, ফুলের টবসহ বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্রের চাহিদা ছিল। কালের বিবর্তনে মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিলের চাহিদা কমেছে। সে বাজার দখল করে নিয়েছে অ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক ও মেলামাইনের পণ্য। অধিকাংশ মৃৎশিল্প বন্ধ হয়ে গেলেও জেলার কুমারডাঙ্গা, চণ্ডীতলা, রতডাঙ্গা, রায়গ্রাম, ছোট কালিয়াসহ অন্তত ১৫টি গ্রামে তা সচল রয়েছে। এ জনপদের পাঁচ শতাধিক কারখানায় এখনো তৈরি করা হয় মাটির জিনিসপত্র। এ পেশায় জড়িত রয়েছে অন্তত ১২ হাজার মানুষ। মৌসুম শুরু হওয়ায় ব্যস্ততাও বেড়েছে তাদের। পুরুষের পাশাপাশি কাজ করছেন নারীরাও। তবে এ কাজে আগের মতো লাভ নেই। পেটের দায়ে এবং বাপ-ঠাকুরদার পেশা টিকিয়ে রাখতে এখনো শিল্পটিকে ধরে রেখেছেন তারা। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার চণ্ডীতলা গ্রামের অসীম পাল জানান, এ গ্রামে মৃৎশিল্পের ইতিহাস শত বছরের। এখানকার কুমারদের তৈরি মাটির জিনিসপত্রের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এখনো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, বাগেরহাট ও খুলনার হাট-বাজারেও বিক্রি হয় মাটির জিনিসপত্র।
    একই গ্রামের রতন পাল জানান, তার বাবা এবং ঠাকুরদা একসময় এ কাজ করে সংসার চালাতেন। তিনিও ছোট বেলা থেকে এ কাজ করেন। ৪৭ বছর ধরে এ কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। তবে তার তিন ছেলের মধ্যে দুজন চাকরি করে। একজন মৃৎশিল্পে কাজ করে।
    সরেজমিন লোহাগড়া উপজেলার মধুমতী পাড়ের কুমারডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মাটির তৈরি জিনিসপত্র বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। বাড়িতে বাড়িতে ঘুরছে চাকা। কেউ মাটিতে পানি মিশিয়ে কাদা নরম করছেন, কেউ মাটির তৈরি জিনিস রোদে শুকানোর কাজ করছেন। কেউ আবার ব্যস্ত এসব পোড়ানোর কাজে। আবার অনেকে পোড়ানো জিনিসপত্রে রংতুলির কাজ করছেন।
    কুমারডাঙ্গা গ্রামের অরবিন্দু পাল জানান, নভেম্বর থেকেই তাদের কাজ শুরু হয়। রোদের তেজ বেশি থাকায় এ সময় কাজ অনেক বেশি হয়।
    রতডাঙ্গা গ্রামের সজীব পাল বলেন, ‘এ পেশায় এখন আর আগের মতো লাভ নেই। অন্য কোনো কাজ জানি না। তাই বাপ-দাদার পেশাকে কোনো রকমে আঁকড়ে ধরে আছি মাত্র। মৃৎশিল্পীরা জানান, প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজার হারিয়েছে মাটির তৈরি পণ্য। বেকার হয়ে পড়েছেন মাটির কারিগররা। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কুমারেরা পেশা পরিবর্তন করেছেন। তাদের কেউ এখন রিকশা-ভ্যান, কেউ দিনমজুরের কাজ করছেন। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও নেই এ শিল্পে। এমনটি চলতে থাকলে অচিরেই সম্পূর্ণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে মৃৎশিল্পের।
    এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) নড়াইলের উপব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার মো. সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘এখানকার মৃৎপাত্রের মান অনেক ভালো। এখন যে কারখানা রয়েছে, তা আরো বড় করার জন্য বিসিক তাদের পাশে থাকবে। মৃৎশিল্পীদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে এ শিল্প টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হবে।