Blog

  • গাজীপুরে তৃণমূলের কা-ঠগড়ায় ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী

    গাজীপুরে তৃণমূলের কা-ঠগড়ায় ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী

    রাসেল শেখ,
    গাজীপুর প্রতিনিধি:
    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে গাজীপুর জেলা যুবদলের ব্যাপক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর ৩ সংসদীয় আসনের তৃণমূলের কাঠগড়ায় ভাওয়াল মির্জাপুরের তালহা, গেট সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

    মির্জাপুর বাজার নয়াপাড়া সহ আশপাশের এলাকায় লিফলেট বিতরন হয়, বিপুল জনসমাগমে এসব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান মোল্লা গাজীপুর ৩ সংসদীয় আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

    এসময় আরোও উপস্থিত ছিলেন , গাজীপুর সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এমারত হোসেন মুসল্লী সহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি, যুবদল ,ছাত্রদল সহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • নি-খোঁজ হওয়া সেই মুফতি মহিবুল্লাহকে পরিবারের কাছে হ-স্তান্তর

    নি-খোঁজ হওয়া সেই মুফতি মহিবুল্লাহকে পরিবারের কাছে হ-স্তান্তর

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় প্রতিনিধি :

    নিখোঁজ হওয়া সেই মুফতি মহিবুল্লাহকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

    গাজীপুর জেলার টঙ্গী (পূর্ব থানা) এলাকার বিটিসিএল জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মাদানীকে পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৮ টায় টঙ্গী থেকে আসা পরিবার ও প্রতিনিধি সদস্যদের হাতে তাকে তুলে দেয় পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ।

    এর আগে বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৭ টার দিকে তিনি টঙ্গী পূর্ব থানার টিএনটি বার্জা জামে মসজিদের সামনে থেকে নিখোঁজ হন । বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে পঞ্চগড় সদর হেলিপ্যাড এলাকা থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় গাছের নিচে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। 

    এ সময় সংবাদিকদের তিনি জানান তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন ওরা ৫ জন তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে অপহরণ করে । এ সময় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। 

    পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পঞ্চগড় থানা পুলিশের মাধ্যমে তাকে পরিবার ও প্রতিনিধি সদস্যদের হাতে তুলে দেয়া হয়। এ সময় তার দুই ছেলে, টঙ্গি থানার এস আই মেহেদী, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী, মসজিদ কমিটির কয়েক জন সদস্য  সহ পরিবারের লোকেরা উপস্থিত ছিলেন। 

    পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা টঙ্গি থানায় এ বিষয়ে মামলা করবেন বলে জানান।

  • মোংলা উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে  নির্বাচনী জনসভা জনসমুদ্রে প-রিণত

    মোংলা উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে নির্বাচনী জনসভা জনসমুদ্রে প-রিণত

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির।।
    বিশেষ প্রতিনিধি:

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ঘোষিত “রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা” বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে বাগেরহাটের মোংলায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম। সভাপতিত্ব করেন মোঃ এমরান হোসেন সাবেক যুগ্ন আহবায়ক মোংলা পৌর বিএনপি। এবং পরিচালনা করেন সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক মোংলা পৌর যুবদল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমান হোসেন রিপন।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য জনাব মাহবুবুর রহমান মানিক সাধারন সম্পাদক মোংলা পৌর বিএনপি। রামপাল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাবু, মোংলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি আবু হানিফ (কমান্ডার), পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নুর জনি, চাঁদপাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ আলম শেখ।

    অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোংলা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সাইফুল হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শাহজালাল সাব্বির, পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ মতিন পাগলান, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জামাল হোসেন, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম আহবায়ক সঞ্জয় মজুমদার, এবং কেন্দ্রীয় আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের সদস্য এস এম নাসির উদ্দিন।

    প্রধান অতিথি কৃষিবিদ শামীম তার বক্তৃতায় বলেন ।
    বাংলাদেশ আজ এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে আছে। গণতন্ত্র বন্দী, বিচার ব্যাহত, জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা দিয়েছেন, তা কেবল একটি ইশতেহার নয় এটি একটি নতুন বাংলাদেশের নকশা। এই ৩১ দফার প্রতিটি শব্দে নিহিত আছে মুক্তি, ন্যায় ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার।

    তিনি আরও বলেন I
    দেশের মানুষ আজ বিদ্যুৎহীন, দ্রব্যমূল্যের চাপে ক্লান্ত, কৃষক তার ফসলের দাম পায় না, শ্রমিক তার ঘামের মূল্য পায় না। এই অন্যায় শাসন পরিবর্তনের সময় এসেছে। বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীকে ঘরে ঘরে গিয়ে বলতে হবে—ভোটের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে পরাজিত কর, তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন কর।”

    সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারের দমন-পীড়ন, মামলা-গ্রেপ্তার ও হয়রানির পরও জনগণ বিএনপির পক্ষে একতাবদ্ধ। তারা বলেন, “ভয় নয়, ভয়কে জয় করো; অন্যায় নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করো—এই আহ্বান নিয়েই বিএনপি মাঠে নেমেছে।”

    সভা শেষে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ৩১ দফা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র মেরামত ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার স্লোগানধ্বনিতে পুরো মোংলা শহর মুখর করে তোলে।

  • চারঘাটে রাতের আধারে সার পা-চারের সময় জনতার হাতে আ-টক

    চারঘাটে রাতের আধারে সার পা-চারের সময় জনতার হাতে আ-টক

    চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

    রাজশাহীর চারঘাটে রাতের আধারে অবৈধভাবে ৪০ বস্তা সার পাচারের সময় জনতার হাতে আটক। বৃহস্পতিবার গভীররাতে উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের ডাকরা এলাকায় সার আটকের ঘটনা ঘটে।

    সংবাদ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও চলতি দ্বায়িত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাতুল করিম মিজান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে সার গুলো জব্দ করেন।

    এ সময় উত্তেজিত জনতা সার ডিলার জাহাঙ্গীর হোসেনের কঠিন বিচার দাবি করেন।

    জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভায়ালক্ষিপুর ইউনিয়নের সার ডিলার আকাশ এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন কৃত্তিম সার সংকট তৈরী করে এলাকার কৃষকদের সার নেই বলে জানান। তবে গোপনে কৃষকসহ এলাকাবাসী জানতে পারেন জাহাঙ্গীর হোসেন অধিক মুনাফার লোভে অবৈধ ভাবে রাতের আধারে বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের সার পাচার করেন।

    বৃহস্পতিবার রাতে ব্যটারী চালিত দুটি অটো যোগে রাতের আধারে ৪০ বস্তা সার পাচারের সময় স্থানীয় জনতা আটক করেন। এ সময় জাহাঙ্গীর হোসেন পালিয়ে যান। পরে শুক্রবার দুপুরের দিকে চারঘাট উপজেলা চত্বরে ভ্রাম্যমান আদালতে অবৈধ ভাবে সার পাচারের অভিযোগে সার ডিলার জাহাঙ্গীর হোসেনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক সহকারী কমশিনার (ভুমি) রাহাতুল করিম মিজান।

    জব্দকৃত সার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ন্যায্য মুল্যে বিক্রয় করা হয়। বিক্রয়ের টাকা সরকারের কোষাগারে জমা করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান।

    মোঃ মোজাম্মেল হক
    চারঘাট, রাজশাহী।

  • জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে নারী ফুটবলের প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত

    জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে নারী ফুটবলের প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত

    দেলোয়ার হোসেন বাবু স্টাফ রিপোর্টার,জয়পুরহাটঃ

    জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর নারী ফুটবল প্রীতি ম্যাচ।
    বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এই আয়োজন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় পুরো মাঠজুড়ে।

    ২৪ (অক্টোবর) শুক্রবার বিকেল ৪ টার সময় ক্ষেতলাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এই খেলার শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-র রাজশাহী বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ. এইচ. এম. ওবায়দুর রহমান চন্দন।

    সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক এসোসিয়েশনের সদস্য ও জয়পুরহাট জেলা বিএনপি-র আহ্বায়ক মো. গোলজার হোসেন।
    বিশেষ অতিথি ছিলেন এস. এম. শামস মোমিন, সদস্য সচিব জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল

    খেলায় অংশ নেয় জয়পুরহাট জেলা দল বনাম বগুড়া জেলা দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন প্রধান রেফারি রবিউল ইসলাম লিটন এবং সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মোজাফফর ও বাবু।

    খেলাটি দেখতে ক্ষেতলাল পাইলট মাঠে উপস্থিত ছিল অসংখ্য ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক। উচ্ছ্বসিত দর্শকদের করতালি আর উৎসাহে নারী ফুটবল ম্যাচটি পরিণত হয় এক উৎসবমুখর আয়োজনে। তবে নির্ধারিত সময়ের খেলায় কোন পক্ষেই গোল করতে সক্ষম হয়নি।

    নারী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রেরণা যোগাবে— এমনটাই মত অতিথি ও আয়োজকদের।

  • মাদ্রাসার অবৈ-ধ নিয়োগের এমপিওভুক্তিতে ৩০ লাখ টাকার চুক্তি, অ-গ্রিম ১০ লাখ

    মাদ্রাসার অবৈ-ধ নিয়োগের এমপিওভুক্তিতে ৩০ লাখ টাকার চুক্তি, অ-গ্রিম ১০ লাখ

    স্টাফ রিপোর্টারঃ

    ৩০ লাখ টাকার চুক্তিবদ্ধ হয়ে অধ্যক্ষসহ পাঁচ পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হবার আট মাস পর সেই নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্রে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর দেখিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক উপ পরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা আইসিটি অফিসার ও গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

    পটুয়াখালীর সদর উপজেলাধীন মরিচবুনিয়া ইসলামিয়া নেছারিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষসহ পাঁচ পদের নিয়োগে এমন অভিযোগ উঠেছে।

    আট মাস আগে স্থগিত হওয়া এই নিয়োগ পরীক্ষা খাতা কলমে নিয়োগ দেখিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করিয়ে এমপিওভুক্ত করার জন্য ৩০ লাখ টাকার চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন খোদ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদার। এরমধ্যে কোয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে একটি হোটেলে বসে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন অর্থ দেওয়া নিয়োগ প্রত্যাশী অধ্যক্ষ প্রার্থী।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পটুয়াখালীর সদর উপজেলাধীন মরিচবুনিয়া ইসলামিয়া নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার দাতা, অভিভাবক সদস্য ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব পালন নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করার ৮ মাস পর অসম্পন্ন নিয়োগ পরীক্ষা খাতা কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে এবং ব্যাকডেটে স্বাক্ষর দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আর এই জালিয়াতির সাথে জড়িত রয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধদিপ্তরের ডিডি আরিফুর রহমান মজুমদার, পটুয়াখালীর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত আরা জামান উর্মি, মাদ্রাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফাতেমা ইয়াসমিন, মাদ্রাসার সাবেক গভর্নিং বডির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা কাউছার মাহমুদ ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ শাহ মুসাব্বির মিরাজ এই নিয়োগ কার্যক্রমে ৭০ লাখ টাকার ঘুস লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে । এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নিজে ও অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রত্যাশী আলমগীর হোসাইনের সাথে নিয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র অধিদপ্তরে ডকেট (জমা) করেছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২ আগষ্ট নামসর্বস্ব জাতীয় দৈনিক ‘আজকের প্রভাত’ ও স্থানীয় দৈনিক গণদাবী পত্রিকায় অধ্যক্ষ, অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া পদে অতি গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নিয়োগ বোর্ডে ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে মরিচবুনিয়া ইসলামিয়া নেছারিয়া আলিম মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত আরা জামান উর্মির কার্যালয়ে এই নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়। অবৈধ লেনদেন, গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পূর্ব নির্ধারিত প্রার্থী সিলেক্ট করে ড্যামী প্রার্থীদের দিয়ে আবেদন করানো হয়েছে মর্মে অভিযোগ তুলে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে মাদ্রাসাটির জমিদাতা, অভিভাবক সদস্য ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী উপস্থিত হয়ে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করলে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গভর্নিং বডির সভাপতি ইফফাত আরা জামান উর্মি। পরের দিন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে কেন নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছেন তার এক ভিডিও স্বাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বলেন ইউএনও। নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হলে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রেখে নিয়োগ বোর্ডের ডিজি প্রতিনিধিসহ সকল সদস্য স্থান ত্যাগ করেন।

    নিয়োগ পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে স্থগিত করার ঘোষণা দিলেও সম্প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো পাঁচ পদের নিয়োগের কাগজপত্রে ইউএনও প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্যাডে ইউএনও ইফফাত আরা জামান উর্মি স্বাক্ষরিত প্রত্যয়ন পত্রে উল্লেখ করা হয়, “প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইসলামিয়া নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার নিন্মলিখিত (পাঁচ পদে) সৃষ্ট ও শুন্য পদে বিগত ০১ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ খ্রি. তারিখ সকাল ১০ টায় ইউএনওর কার্যালয়ের তাঁর সভাপতিত্বে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি প্রতিনিধির এবং সদস্য সচিবসহ নিয়োগ বোর্ডের অন্যান্য সদস্যগণের উপস্থিতিতে বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়।”

    মাদ্রাসা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলছে, এই নিয়োগ নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় গত জুন (২০২৫) মাসে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল মান্নান, পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোঃ আবুল কালাম তালুকদার অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ইউএনও’র কাছে ফোন করেন। তিনি ইউএনও’র কাছে জানতে চান তিনি ব্যাকডেটে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন কি’না, ইউএনও সে সময় স্থগিত নিয়োগের কোনো কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেননি বলে জানালেও পরবর্তীতে নিয়োগের কাগজ পত্রে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর দিয়ে এবং সঠিক ভাবে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে প্রত্যয়ন পত্র দেন।

    এই নিয়োগ পরীক্ষায় অধ্যক্ষ পদে প্রার্থী হওয়া পটুয়াখালী সদর উপজেলাধীন দক্ষিণ কেওয়াবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও ভোকেশনা ইন্সটিটিউটের সুপার মো. আলমগির হোসাইন, নিয়োগ প্রত্যাশী আবু তাহের, জান্নাতি ও তরিকুল ইসলাম স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষায় তারা নির্বাচিত হয়েছেন দাবি করে এবং দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে নিয়োগ পরীক্ষার দেড় মাস পর অর্থ্যাৎ গত ১৬ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে মহামান্য হাইকোর্টে রীট করেন (রিট পিটিশন নং- ৩১৬২/২০২৫)।

    নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করার এবং দুই মাস অতিবাহিত হলে পুনঃ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ফের নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার বিধান থাকলেও চলতি মাসের শুরুর দিকে আট মাস আগে স্থগিত হওয়া এই নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্রে ব্যাকডেটে নিয়োগ বোর্ডের ডিজি প্রতিনিধি বাদে সকল প্রার্থীর স্বাক্ষর দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এমনকি স্থগিত হওয়া এই নিয়োগে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর না করার কারণে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের ডিজি প্রতিনিধির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রত্যাশী এবং প্রথম নির্বাচিত দাবি করা মো. আলমগীর হোসাইন।

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো ব্যাকডেটে স্বাক্ষরিত স্থগিত নিয়োগের কাগজপত্র ও নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার দেড় মাস পর পদ প্রত্যাশী প্রার্থীরা হাইকোর্টে মামলায় সংযুক্ত করা কাগজপত্রে উঠে এসেছে এই জালিয়াতি। একই ব্যক্তির আদলতে দেওয়া কাগজপত্র একটি এবং মাদ্রাসা অধিদপ্তরে দেওয়া কাগজপত্র আলাদা। এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষা যে স্থগিত হয়েছে তা নিয়োগ পরীক্ষার আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রেফ ব্রিফিংয়ের ভিডিওতে সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে। এছাড়াও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে প্রথম নির্বাচিত দাবি করে মামলা করা তরিকুল ইসলামকে বাদ দিয়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের প্রেরিত কাগজপত্রে ওভার রাইরিং ব্যবহার করে ইসরাত জাহান নামের প্রার্থীকে প্রথম দেখানো হয়েছে।

    ১. স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার নিরাপত্তা কর্মী পদের হাজিরা শিটে (হাইকোর্টে জমা দেওয়া) সব প্রার্থীই উপস্থিত আছেন, অন্যদিকে নিয়োগের আট মাস পরে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হাজিরা শিট তিন নম্বর প্রার্থী অনুপস্থিত।

    ২. স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার আয়া পদের হাজিরা শিটে (হাইকোর্টে জমা দেওয়া) সব প্রার্থীই উপস্থিত আছেন, অন্যদিকে নিয়োগের আট মাস পরে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হাজিরা শিটে দুই নম্বর প্রার্থী অনুপস্থিত।

    ৩. স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদের হাজিরা শিটে (হাইকোর্টে জমা দেওয়া) সব প্রার্থীর তারিখসহ স্বাক্ষর রয়েছে অন্যদিকে নিয়োগের আট মাস পরে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হাজিরা শিটে তারিখ ছাড়া স্বাক্ষর।

    ৪. স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদের হাজিরা শিটে (হাইকোর্টে জমা দেওয়া) সব প্রার্থীই উপস্থিত আছেন, অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হাজিরা শিট দুই নম্বর প্রার্থী অনুপস্থিত।

    ৫. অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে নিয়োগে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর ছাড়াই চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করে মাদ্রাসা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম দেখানো হয়েছে পটুয়াখালী সদর উপজেলাধীন দক্ষিণ কেওয়াবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও ভোকেশনা ইন্সটিটিউটের সুপার মো. আলমগীর হোসাইনকে। এই আলমগীর হোসাইন কেওয়াবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও ভোকেশনা ইন্সটিটিউটের ভোকেশনাল শাখায় ০৪ (চারজন) ল্যাব এসিস্ট্যান্ট পদে ভুয়া ডিজি প্রতিনিধি ও নিয়োগের কাগজপত্র তৈরি করে এবং জাল সনদ দিয়ে নিয়োগ দেন এবং এমপিওভুক্ত করান। পরবর্তীতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (শিক্ষা মন্ত্রনালয় স্বারক নং -ডিআইএ/পটুয়াখালী/৬১-এম/খুলনা ৩৫২ তারিখ ১৪/০৮/২০০৮ ইং) পরিদর্শনে চার জনের এই নিয়োগ জালিয়াতি প্রমাণিত হয় এবং উক্ত ০৪ জন ল্যাব সহকারীদের ইনডেক্স কর্তন করে ও তাদের প্রাপ্ত বেতন ভাতার ৭,৬০,৯৪২/-টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরৎ দেওয়ার নির্দেশ দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় (স্মারক নং শিম / সা:- ১৪/ অবি- ১/১০৫/৪০৮ তারিখ ২২/৭/২০০৯) সুপার আলমগীর হোসাইন কর্তৃক অবৈধ উপায় জাল সনদ দিয়ে নিয়োগ প্রদান করার কারণে তার এমপিও বন্ধের আদেশ প্রদান করেন। তবে আজ অবধি সেই আদেশ বাস্তবায়িত হয়নি। এই আলমগীর হোসেইন মরিচবুনিয়া ইসলামিয়া নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হলেও তাকে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে না মর্মে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও তিনি আজ অবধি দক্ষিণ কেওয়াবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও ভোকেশনা ইন্সটিটিউটের সুপার পদে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই নিয়োগ কমিটির পদাধিকার বলে সদস্য সচিব ছিলেন মাদ্রাসাটির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফাতেমা ইয়াসমিন। গত ২৮ নভেম্বর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে তাকে সহকারী অধ্যাপক পদ থেকে প্রভাষক পদে পদাবনিত করা হয় (যার স্বারক নম্বর- ৫৭.২৫.০০০০.০০২.২৩.০০১.২৮-১০২ তারিখ: ২৮-১১-২০২৪খ্রি)। অন্যদিকে গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোঃ সাইদুর রহমান এর বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার (হাইকোর্টের রায়ের আলোকে) পূর্বক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব প্রদান এবং বেতন/ভাতাদি বিলে স্বাক্ষর প্রদানের বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার পটুয়াখালী সদরকে নির্দেশ প্রদান করেন (যার স্বারক নম্বর ৫৭.২৫.০০০০.০১০.০০৫.২২.৮১৮ তারিখ: ০৪-১২-২০২৪খ্রি. (এই চিঠিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন)। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, মাদ্রাসাটির পাঁচ টি পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে। এ সময়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোঃ সাইদুর রহমান এবং নিয়োগ কমিটির পদাধিকার বলে সদস্য সচিবও তিনি। অথচ নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন ফাতেমা ইয়াসমিন যা বিধিবহির্ভূত।

    জানা গেছে, নিয়োগ পরীক্ষার দিন ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার আগেই তা স্থগিত করা হলেও এই ব্যবহারিক পরীক্ষার ফলাফল দেখানো হয়েছে এবং নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে না থাকলেও ব্যবহারিক পরীক্ষার ফলাফল সীটে পটুয়াখালী সদর উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ শাহ মুসাব্বির মিরাজের স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে (বর্তমানে মোঃ শাহ মুসাব্বির মিরাজ মির্জাগঞ্জ উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন)। নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার আগেই তা স্থগিত হওয়া এবং নিয়োগ বোর্ডে সদস্য না হয়েও কিভাবে স্থগিত পরীক্ষার ফলাফল সীটে স্বাক্ষর করলেন জানতে চাইলে তিনি শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, ঐ দিন পরীক্ষা স্থগিত হয়েছিল আমি ইউএনও’র নির্দেশে ফেব্রুয়ারির শেষে কিংবা মার্চের প্রথম দিকে আমার রুমেই এই পরীক্ষা হয়েছিল।’

    নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল কেউ স্বাক্ষর না দিয়ে কেন্দ্র থেকে চলে আসেন। তাহলে আপনি কিভাবে পরবর্তীতে পরীক্ষা নিয়ে স্বাক্ষর করলেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ইউএনও মহোদয় বললেন সব ঠিক আছে তাই আমি স্বাক্ষর দিয়ে এসেছি। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে বাংলায় ৫০, ইংরেজিতে ৫০ ও আরবিতে ৫০ নম্বরসহ মোট ১৫০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এখানে তিন পদের কোনো প্রার্থীই আরবিতে টাইপিং পারেন না। তাহলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় এত নম্বর কিভাবে পেলেন প্রার্থীরা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলা আর ইংরেজি নিয়েছি আরবি পরীক্ষা নেই নাই।’ তাহলে আরবি পরীক্ষা না নিয়েও ফলাফল শিটে কিভাবে আরবির নম্বর দিয়ে স্বাক্ষর করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারব না এখন ব্যস্ত পরে কথা বলছি।’ এর মিনিটে দশেক পরে তিনি মুঠোফোনে কল করে বলেন, ‘আরবি এক্সপার্ট দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল তিনি এই নম্বর দিয়েছে।’

    মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই নিয়োগ পরীক্ষার অন্যতম কারিগর ছিলেন মাদ্রাসাটির সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা কাওছার ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফাতেমা ইয়াসমিন আর এই কাজে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন ইউএনও ইফফাত আরা জামান উর্মি। স্থানীয়রা জানান, যেহেতু কাওছার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা আর ইউএনও ইফফাত আরা জামান উর্মি আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খানের ভাগ্নী হওয়ায় ও মোটা অংকের অর্থ পাওয়ায় কাওছারকে সহযোগিতা করতে গিয়ে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর করেছেন।

    গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য মো. নুরুজ্জামান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে স্থগিত হওয়া এই নিয়োগ পরীক্ষা খাতা কলমে সম্পন্ন করে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর মজুমদার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রত্যাশী মোঃ আলমগীর হোসাইন ও এই নিয়োগ জালিয়াতি চক্রের সাথে ৩০ লাখ টাকার চুক্তি করে দশ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেছেন। দূর্গা পূজার ছুটিতে মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদার পটুয়াখালীর কুয়াকাটার একটি হোটেলে বসে এই ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। ফলে এই নিয়োগ সম্পন্ন করে এমপিও দিতে তিনিই সবচেয়ে বেশি দৌড়ঝাঁপ করছেন।

    জানতে চাইলে অভিভাবক সদস্য মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, “এই মাদ্রাসার নিয়োগে ব্যাপক অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পক্ষপাতিত্ব করেছেন। অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ অবস্থান নিলে ইউএনও সকল শিক্ষকদের বেতনভাতা বন্ধ করে রেখেছেন। তিনি সব স্বাক্ষর করে দিয়েও যখন এই পাঁচ পদের নিয়োগ সম্পন্ন ও এমপিও করাতে ব্যর্থ হয়েছেন তখন মাদ্রাসা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আরিফুর মজুমদারের সাথে ৩০ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছে এবং পটুয়াখালীর কুয়াকাটার হোটেলে বসে তাকে ১০ লাখ টাকা নগদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই নিয়োগ সম্পন্ন করতে তিনিই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। এই অর্থ অধ্যক্ষ পদে প্রথম হয়েছেন দেখানো আলমগীর হোসাইন দিয়েছেন তাকে।”

    মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক সাইদুর রহমান বলেন, নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে এলাকাবাসীর সম্মুখে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। অবৈধ নিয়োগ নিয়ে অত্র মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রতিবাদ করার কারণে ইউএনও আমাদের বেতন ভাতা বন্ধ করে রেখেছেন। এমনকি তাঁর জন্য কয়েকমাস যাবত মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠন করতে পারছিনা। আমরা এই অবৈধ নিয়োগ কখনোই মেনে নিবো না। নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ইউএনওসহ চারজনের বিরুদ্ধে নিয়োগ জালিয়াতির মামলা হয়েছে। বাকীটা মহামান্য আদালতে ফয়সালা হবে।

    সাইদুর রহমান আরোও বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার একদিন পূর্বে মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে মহামান্য আদালত আমাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করে। উক্ত আদেশ মাদ্রাসার সভাপতি ও ডিজি প্রতিনিধিকে দেখালে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে।

    অভিভাবক সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “যে গভর্নিং বডি গঠন করা হয়েছে সেখানে আওয়ামী লীগের লোকজনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্যাস্টিট দের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন এবং তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাদারীপুরের সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খানের ভাগ্নী। তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করবেন এটাই স্বাভাবিক।”

    নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হলেও অধ্যক্ষ পদে প্রথম নির্বাচিত দাবি করা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা আলমগীর হোসাইন তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সেটা বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে পরে কিভাবে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর করলেন জানতে চাইলে ইউএনও ইফফাত আরা জামান উর্মির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে তিনি স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে বলেন, রাজনৈতিক কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ফলাফল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর যদি সঠিক মনে করে তাহলে নিয়োগ দেবে না হলে বাদ দিবে। ঐ গণমাধ্যম তাকে ‘স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা কিভাবে স্বাক্ষর করে ফাইল পাঠালেন’ জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো সুদত্তর দিতে পারেননি।

    ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ না হয়েও কিভাবে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেলেন এবং নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হলেও আট মাস পর এসে ফলাফল সীটে কিভাবে স্বাক্ষর করলেন জানতে চাইলে ফাতেমা ইয়াসমিন শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, যে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে সেটা নিয়ে কথা বলে কি লাভ। আপনার স্বাক্ষরে আট মাস পরে মাদ্রাসা অধিদপ্তরে ও কোর্টের মামলায় প্রমাণক হিসেবে স্থগিত নিয়োগের স্বাক্ষরিত কাগজপত্র কিভাবে গেলো জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি কোনো কাগজপত্র প্রেরণ করিনি।

    এ বিষয়ে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর মুঠোফোনে কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ডিজি প্রতিনিধি জাকির হোসাইনকে নিয়োগ পরীক্ষা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ ও উক্ত মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠান প্রধান কে হবে এ সংক্রান্ত মামলার রায়ের কপির প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষে এলাকাবাসীর সম্মুখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আমি নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম স্থগিত করি এবং বিষয়টি আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করি। পরবর্তীতে এই নিয়োগ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

    দশ লাখ টাকা ঘুস গ্রহণ করে এই অবৈধ নিয়োগ সম্পন্ন করার অভিযোগ ও ৩০ লাখ টাকার চুক্তি করার প্রসঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর মজুমদার শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নই আসে না। আমি কুয়াকাটা হোটেলে আমার পরিবার নিয়ে গিয়েছিলাম এখানে তাদের কারও সাথে কথা হয়নি।

    মাদ্রাসা অধিদপ্তরে অন্যান্য কর্মকর্তা থাকলেও এই নিয়োগ জালিয়াতির বিষয়ে আপনার বিরুদ্ধেই কেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ গেল প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি পটুয়াখালীতে দুই মাস আগে একটা নিয়োগ পরীক্ষা নিতে গিয়েছিলাম তখন একজন জামায়াত নেতা আমাকে বিষয়টি জানায় এবং কথা বলতে চান। আমি বলি অধিদপ্তরে আসেন। পরে তাদের জোরাজুরিতে তাদের সাথে বসেছিলাম এবং বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম। এখানে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি।

    ইউএনও এই পরীক্ষা স্থগিত করেছিলেন তাঁর ভিডিও আছে সেটা দেখাতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে ভিডিও দেখতে হবে না। ইউএনও নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে মর্মে প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছেন সেটা আমার কাছে আছে আমি সেটা দেখব।

    ব্যাকডেটে স্বাক্ষর দিয়ে জাল জালিয়াতি করা হয়েছে তার কিছু প্রমাণ দেখালে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম দেখলাম। আমাকে কেউ বিষয়টি জানায় নাই।

    ইউএনও যে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছেন সেটা আপনার অধিদপ্তরের আগের মহাপরিচালক আব্দুল মান্নান এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) আবুল কালাম তালুকদার গত জুন মাসে ইউএনওর মুঠোফোনে কল করলে তিনি স্বাক্ষর করেননি মর্মে তাদের কাছে স্বীকার করেন। এ বিষয়টি তার নজরে আনলে তিনি প্রশ্ন করেন, এটা আপনি জানলে কিভাবে? তাদের সাথে কথা না বললে কি জানা যায় ? বললে, তিনি বলেন আমার জানা নেই।

    মরিচবুনিয়া আলিম মাদ্রাসার পাঁচ পদের নিয়োগ প্রসঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) আবুল কালাম তালুকদার শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, মরিচবুনিয়া মাদ্রাসার নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র দুইটা দু ধরনের হওয়ায় আমাদের সন্দেহ হয় এবং ডিজি স্যারের নির্দেশে স্যারের সামনেই ফোন লাউড স্পীকারে দিয়ে ২৪জুন ২০২৫ তারিখে আমি ইউএনও, সদর পটুয়াখালীকে উক্ত মাদ্রাসায় নিয়োগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন স্যার নিয়োগ পরীক্ষাটা ওইদিন হয় নাই। তাহলে নিয়োগের ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করেছেন কীনা তা জিগ্যেস করলে ইউএনও স্বাক্ষর করার বিষয় টি অস্বীকার করেন এবং বলেন ডিজি প্রতিনিধির স্বাক্ষর যেখানে নেই সেখানে আমার স্বাক্ষর করার প্রশ্নই আসেনা। ডিজি স্যারের কাছেও ইউএনও ফলাফলশীটে স্বাক্ষর করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। কথা বলার সময়ে অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ডিজি স্যারের কক্ষে উপস্থিত ছিলো। পরবর্তীতে আমি তার হোয়াটসআপে সকল ডকুমেন্টস পাঠিয়ে দিই। এরপর তিনি নোটেড লিখেন। এরপর তিনি আমাকে আর কিছু জানাননি। ডিজি মান্নান স্যার ডিজি প্রতিনিধিকে ফোন করলে এলাকাবাসীর অভিযোগে নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছিল বলে জানাই।

  • পাবনার ২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল হালিম সাজ্জাদের নেতৃত্বে লিফলেট বিতরণ ও শোভাযা-ত্রা

    পাবনার ২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল হালিম সাজ্জাদের নেতৃত্বে লিফলেট বিতরণ ও শোভাযা-ত্রা

    এম এ আলীম রিপন,সুজানগর :বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের দাবিতে পাবনার ২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন সম্পাদক ও সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল হালিম সাজ্জাদের নেতৃত্বে লিফলেট বিতরণ ও বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৃহস্পতিবার সুজানগর পৌর শহরের কঁাচারিপাড়া স্টেডিয়াম মাঠ থেকে বের হওয়া বিশাল মোটর সাইকেল শোভাযাত্রাটি পাবনা-২ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয় । শোভাযাত্রায় সুজানগর ও বেড়া উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন । এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা দুই আসনে বিএনপির মনোনয়নের প্রত্যাশী আব্দুল হালিম সাজ্জাদ বর্তমান সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে বলে আশা প্রকাশ করে বলেন , শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন তেমনি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিল। তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা ও যুদ্ধই করেনি পরবর্তী সময়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা গণতন্ত্র পুনর প্রতিষ্ঠার জন্যে বাংলাদেশের হাল ধরেন এবং আধুনিক বাংলাদেশ গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে দেশে যখন আবার স্বৈরাচার এর আবির্ভাব হয় তখন দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলন সংগ্রামের পরে দেশে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। গত ১৫-১৬ বছর শেখ হাসিনা দেশে স্বৈরাচার কায়েম করে তখন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যৈষ্ঠ পুত্র আমাদের নেতা তারেক রহমান আন্দোলন সংগ্রাম করেন দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন শেখ পরিবার হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যার পরিবার। আর জিয়া পরিবার হচ্ছে গণতন্ত্রের স্বপক্ষের, লড়াইয়ের, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার পরিবার। সেই পরিবারের সাথে আপনারা আছেন। এখনো কাজ শেষ হয়নি। দেশে জনপ্রতিনিধিত্ব পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে। জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন করতে হবে। যেটি একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে সম্ভব। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অন্য কোন পথ নাই নির্বাচন ছাড়া। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন বর্তমান সরকার এটা আমরা আশা করি।
    আব্দুল হালিম সাজ্জাদ আরো বলেন,পাবনা দুই নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের দুঃশাসনকালে নির্যাতনের শিকার হয়েছি,গ্রেপ্তার হয়েছি, জেল খেটেছি, বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করেছি। নেতাকর্মীদের দলীয় কর্মসূচিতে চাঙা রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছি। আশা করছি, এসব বিষয় মূল্যায়ন করে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
    আমি বিশ্বাস করি, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দলের জন্য আমার সুদীর্ঘ নিরলস পরিশ্রমের মূল্যায়ন করবে। পাবনা দুই নির্বাচনী এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের সাথে আমার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। তৃণমূলের কর্মীরা আমার পাশে আছে। যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে পাবনা দুই নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি মডেল আসন হিসেবে গড়ে তুলব। বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করতে আমি সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই।
    এ সময় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মোল্লা, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান মোল্লা, সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মজিবর রহমান খান, পৌর বিএনপির সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দল বাতেন, উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক বাবু মোল্লা, বিএনপি নেতা রুহুল খান, নুরুজ্জামান শিকদার লালু, হান্নান কাজী, পান্না চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নবী মোল্লা,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ন আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, যুবনেতা মানিক খান, জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি আলম মন্ডল, যুবনেতা আনোয়ার হোসেন আনাই ও আরিফ বিশ্বাস এবং এন এ কলেজ শাখা ছাত্রদল নেতা শাকিল খান প্রমুখ।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর পাবনা প্রতিনিধি।।

  • সুজানগর উপজেলা কৃষকদলের আলোচনা সভা অ-নুষ্ঠিত

    সুজানগর উপজেলা কৃষকদলের আলোচনা সভা অ-নুষ্ঠিত

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগরঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল সুজানগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল সুজানগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শাহজাহান আলী শেখ এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ন আহ্বায়ক টুটুল মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল সুজানগর উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক নায়েব আলী সরদার , উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ন আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম রবি, দুলাল প্রামানিক, আব্দুস সালাম খান, লতিফ সরদার ও জিলাল শেখ প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ, কৃষক বঁাচলে বাংলাদেশ বঁাচবে। ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্যে দিয়ে তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান সেটা উল্লেখ করেছেন। তার এই দিকনির্দেশনায় আমাদের এই তৃণমূল কৃষকের সাথে পথচলা। বক্তারা বলেন সুবিধাবঞ্চিত কৃষকদের বিনামূল্যে ধানের চারা রোপণের রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, কম্বাইন্ড হারভেস্টার, বালাইনাশক, সার ইত্যাদি কৃষকদের দেওয়া হলেও বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া কেউ পায়নি। কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে কৃষি খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে। কৃষক যাতে সহজ সুলভ ন্যায্যমূল্য সার-বীজ কীটনাশক পায়। সময়মতো কৃষকের খেতে পরিচর্যা করতে পারে সে ক্ষেত্রে, আমাদের সকলকে সচেতন থাকতে হবে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • পাইকগাছায় উপজেলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনু-ষ্ঠিত

    পাইকগাছায় উপজেলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনু-ষ্ঠিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ।।
    মহান সংস্কারক পল্লীবন্ধু এরশাদ প্রতিষ্ঠিত ২৩ অক্টোবর উপজেলা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    বৃহস্পতিবার দুপুরে পাইকগাছা উপজেলা ও পৌরসভা জাতীয় পার্টীর আয়োজনে অস্থায়ী কার্যালয়ে উপজেলা জাপার আহবায়ক গাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় জাপার সদস্য ও খুলনা জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জাপার যুগ্ম-সম্পাদক ও উপজেলা সদস্য সচিব শামসুল হুদা খোকন।
    বক্তব্য রাখেন এস,এম,এ রাজ্জাক, গাজী মুজিবর রহমান, আলহাজ্ব শেখ আব্দুল আজিজ, শেখ মাসুদুর রহমান, সরদার ফরিদ আহমেদ, মাফিকুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, দেবাশীষ সানা, আব্দুল অদুদ, রুহুল আমীন, মোস্তফা গাজী ও রেজাউল মোড়ল।

    নতুন কুঁড়ি ২০২৫-এ আধুনিক গানে পাইকগাছা হৃদিষা রায় বৃন্দার সাফল্য

    ইমদাদুল হক,,পাইকগাছা (খুলনা) ।।

    বাংলাদেশ টেলিভিশন ( বিটিভি ) এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান

    শিশু কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর আধুনিক গানের অডিশনের চূড়ান্ত বাছাইপর্বে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে খুলনা জেলার পাইকগাছার মেয়ে হৃদিষা রায় বৃন্দা। তিনি (রেজি. নং: KHU1 101571) হিসেবে অংশ নিয়ে দেশের ৩৫ জন চূড়ান্ত বাছাইপ্রাপ্ত প্রতিযোগীর মধ্যে ৭ম স্থান অর্জন করেন।

    হৃদিষা রায় বৃন্দা খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের দারুণ মল্লিক গ্রামের কন্যা। তিনি রূপালী ব্যাংক পিএলসি’র প্রধান কার্যালয়, ঢাকার সহকারী মহাব্যবস্থাপক দীপঙ্কর রায় ও রমা মন্ডল দম্পতির একমাত্র কন্যা।

    তার এই অসাধারণ সাফল্যে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হৃদিষা রায় বৃন্দাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।তারা বলেন, “হৃদিষার এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের নয়, এটি পুরো পাইকগাছা উপজেলার গর্ব।”হৃদিষা রায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

    ইমদাদুল হক
    পাইকগাছা,খুলনা।

  • বে-সরকারী শিক্ষক কর্মচরীর আ-ন্দোলন প্র-ত্যাহার । ২ বছরে ১৫% বাড়ীভাড়া দেয়ায় বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ

    বে-সরকারী শিক্ষক কর্মচরীর আ-ন্দোলন প্র-ত্যাহার । ২ বছরে ১৫% বাড়ীভাড়া দেয়ায় বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে শিক্ষকদের শতাংশ হারে বাড়ি বৃদ্ধি নিয়ে কাজ শুরু করে গত ১৯ অক্টোবর ৫% হারে বাড়ী ভাড়া প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষকগণ এটাতে প্রাথমিক বিজয় হিসেবে দেখে প্রত্যাক্ষাণ করে ভুখা মিছিল করেছেন। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দিয়েছে সোমবার শহীদ মিনারে ২ লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারীর জমায়েত করে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।
    শিক্ষা উপদেষ্টা সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানিয়ে দেন ৫% পর আধা% বৃদ্ধি করা সম্ভাব নয়।

    এর পর থেকে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতৃবৃন্দ সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন আমরা শিক্ষা উপদেষ্টা, শিক্ষা সচিবের পদত্যাগ চাই। । একে বলে ঢেলার নাম বাবাজি, অবস্থা বেগতিক দেখে শিক্ষা উপদেষ্টা সি. আর. আবরার ইউটার্ন নেন। তিনি নিজেই প্রচার করতে শুরু করেন আমি সব সময় শিক্ষকদের দাবীর প্রতি আন্তরিক, দাবী পূরণে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি চালাচালিতে সময় ক্ষেপন করার অপচেষ্টায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসরকারি শিক্ষক সমাজ। ৫০০ টাকা ও ৫% বাড়ী ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি প্রত্যাখান করে গত ২০ অক্টোবর জাতীয় শহীদ মিনারে শিক্ষক আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্ম বিরোতির বিষয়টি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২ লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারীর উপস্থিতি ঘটানো হয় দেশের ৯৯% শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্ম বিরোতী পালন অব্যাহত রেখে কঠোরভাবে পালনের নির্দেশনা দেন।

    নতুনভাবে দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীন হয়েছে, হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন, বিভিন্ন সেক্টরে সংস্কার কাজ চলছে, বৈষম্য দূর হচ্ছে, বেসরকারী শিক্ষক, কর্মচারী এবং সরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে বাড়ীভাড়া, মেডিকেল ভাতা বেতনের আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে। সুযোগ সুবিধারও অনেক বৈষম্য রয়েছে।

    বিগত বছর গুলিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে এমপিওভুক্ত বেসরকারী শিক্ষক, কর্মচারীগণ জাতীয়করণের জন্য দিনের পর দিন আন্দোলন করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুঁলিয়েছেন, বেশীরভাগ শিক্ষক আন্দোলনে ঢাকায় অবস্থান করছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নি দুর্নীতিবাজ লুটপাটকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার দোসর আমলা ও শিক্ষামন্ত্রীদের কারণে।
    এদিকে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া এবং ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা, ৭৫ ভাগ উৎসব বোনাসের দাবিতে ১২ অক্টোবর রবিবার থেকে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহতভাবে পালন করছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি বলেন, গত ‘রবিবার থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয় এবং জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিব গড়িমসি করায় লাগাতার অবস্থানের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বাত্মক কর্মবিরতি অব্যাহতভাবে পালন চলমান রাখা হয়।

    জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের শিক্ষক সমাবেশে লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত ছিল। ওইদিন শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেসিকের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও ৭৫ % উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

    কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস অতিবাহিত হলেও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ। এমতবস্থায় এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী

    ওই তিনটি দাবীতে অব্যাহতভাবে আন্দোলন করতে থাকেন। এর আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করে পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের এক চিঠির প্রেক্ষিতে বাড়ি ভাড়া ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান শিক্ষক-কর্মচারীরা। পরবর্তীতে বেকায়দায় পড়ে ৫% বাড়ী ভাড়া বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করেন সরকার কিন্তু শিক্ষক কর্মচারি প্রাথমিক বিজয় মনে করেও তা প্রত্যাখান করেন।

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি শাখা থেকে শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ৫০০ টাকা বৃদ্ধি সংক্রান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ভাড়া বৃদ্ধির পরিপত্র রবিবার (৫ অক্টোবর) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। সেটা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করা হয়েছে।

    এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, বাড়িভাড়াসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
    বাড়িভাড়া নির্ধারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেওয়া অর্থ বিভাগের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধিতে অর্থ বিভাগের সম্মতি প্রদান চিঠিতে বলা হয়, সরকারের বিদ্যমান বাজেটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের পাঁচ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) দেওয়া হলো সেটা প্রত্যাখান করেন বেসরকারি শিক্ষক সমাজ। এর আগে গত রবিবার দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে, চলমান আন্দোলন ও শিক্ষকদের দাবি-দাওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার সকালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন এ্যানির নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেন এবং শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবী মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।

    অপর দিকে ভুখা মিছিলে ২ লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারী অংশ গ্রহন করায় ঢাকায় অচল অবস্থা সৃষ্টি হলেও শিক্ষা অধ্যাপক সি আর আবরার এসি রুমে বসে বসে ঘুমাচ্ছেন। টনক নড়ছে না। ৫% বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপনকে শিক্ষকগন বলছেন যে লাউ সেই কদু। বেসরকারি শিক্ষকদের সাথে বার বার প্রতারণা করা হয়েছে যা অব্যাহতভাবে চলছে। অবিলম্বে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের পদত্যাগ দাবী করেছেন শিক্ষক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, পেশাজীবি সংগঠন এর নেতৃবৃন্দ।

    একটি পরিসংখ্য তুলে ধরিঃ দেশে সর্বমোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৫ টি। সরকারি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা: ০০টি।
    সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ৬২৮ টি। সরকারি দাখিল মাদ্রাসার সংখ্যা: ০০টি।
    সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংখ্যা: ৬৩ টি। সরকারি দাখিল অ্যান্ড আলিম মাদ্রাসা: ০০টি। সরকারি কলেজের সংখ্যা: ৫৪ টি।
    সরকারি আলিম মাদ্রাসার সংখ্যা: ০০টি।
    সরকারি ডিগ্রি (পাস)+ অনার্স কলেজের সংখ্যা: ৪৪৬ টি। সরকারি ফাজিল মাদ্রাসার সংখ্যা: ০০টি। সরকারি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কলেজের সংখ্যা: ১৯৮ টি।
    সরকারি স্নাতকোত্তর (কামিল) মাদ্রাসার সংখ্যা : ০৩ টি। একমাত্র সরকারি আলিয়া তিনটি হলো যথাক্রমে- সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, সিলেট, সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা, বগুড়া।

    এ সরকারই পারেন বৈষম্য দূর করতে প্রধান শিক্ষক, সহঃ প্রধানদের মাঝে হতাশা কাটিয়ে সুদিন ফিরিয়ে আন্তে। শিক্ষকগণ নানামূখি সমস্যায় মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। তাদের নুন আন্তে পান্তা ফুরায় অবস্থা। বেসরকারী শিক্ষকদের প্রাণের দাবী, বেসরকারী শিক্ষকদের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষনা হউক, এ কাজ টি করতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা।

    শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড হলে শিক্ষকরা শিক্ষার মেরুদন্ড। কিন্তু আজ শিক্ষক সমাজ অবহেলিত ও বিভিন্নভাবে হয়রানি-নির্যাতনের শিকার। শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক স্বচ্ছলতা, সামাজিক মর্যাদা নেই বলে মেধাবীরা এই পেশায় আসতে চান না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষকরা রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়ে চাকরি হারিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা নেই বলেই আজ শিক্ষার বেহাল অবস্থা।
    শিক্ষাক্ষেত্রে আজ পর্বতসম বৈষম্য বিদ্যমান। সরকারি বেসরকারি স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষক-কর্মচারীদের সমযোগ্যতা ও সমঅভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি স্কুল ও বেসকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেলে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি স্কুল-কলেজের ছাত্রদের যে সিলেবাস বেসরকারি স্কুল-কলেজের ছাত্রদের ও একই সিলেবাসে পড়ানো হয়। কিন্তু তাদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ৫০% উৎসব ভাতা দেওয়া হয়। বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের সাথে ইহা বিমাতাসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ।

    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ১/১/১৯৮০ থেকে জাতীয় বেতনর স্কেলের অন্তুর্ভূক্ত করেন এবং ৫০% বেতন স্কেল প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ ১০%+১০% = ২০% প্রদান করেন। ১৯৯৪ সালের শিক্ষক আন্দোলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০%, ২০০০ সনে আন্দোলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০% এবং সর্বশেষ ২০০৬ সনে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০% বেতন প্রদান করে ১০০% এ উন্নীত করেন। এখন চাকুরী জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই।

    বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আগামী ১ নভেম্বর থেকে সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা করে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে এ ভাতা পাবেন তারা। তবে এ সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি ‍অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসাইন আজিজী। শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রয়োজনে বাজেট সংশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে। কোথায় টাকা আছে আমাদের জানা আছে। প্রশিক্ষন ও গবেষণার নামে লুটপাট করার জন্য যে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা রাখা আছে সেগুলি দিয়ে শিক্ষক কর্মচারিদের তিনটি দাবী পূরণ করা সহজেই সম্ভাব কিন্তু তাদের টনক নড়ছে না কেন? শিক্ষক সমাজ জানতে চাই। যেখানে এনসিপি, গনঅধিকার, জামায়াত, বিএনপিসহ বেশীরভাগ রাজনৈতিক দল, ডাকসুর নির্বাচিত প্যানেল, ধর্মীয় বক্তা, আলোচক, সুশিল সমাজ, সাংবাদিক নেতা বিভিন্ন ভাবে শিক্ষকদের যৌক্তিক তিনটি দাবী মেনে নেওয়ার জন্য বার বার আহ্বান জানিয়েছেন সেখানে সময় ক্ষেপন, নাটক, প্রতারণা তালবাহানা করার প্রয়োজন কি।

    গত রবিবার (১৯ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এ শিক্ষক নেতা বলেন, ‘এ প্রজ্ঞাপন আন্দোলন শুরুর আগেই আমাদের দিতে চেয়েছিল। আমরা তাতে রাজি হ্ইনি। শুরু থেকেই আমাদের চাওয়া ২০ শতাংশ ভাড়ি ভাড়া, ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা ও ১৫০০টাকা মেডিকেল ভাতা।’ সে প্রজ্ঞাপন যতক্ষণ সময় পূরণ না হবে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। এ সময় বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের আশা থাকবে, বিএনপি আমাদের পাশে দাঁড়াবে।’ বিকেল ৩টায় শান্তিপূর্ণভাবে ভূখা মিছিলে অংশ নেওয়ার আহবান জানান তিনি। পরে বিকেল ৩টায় ভূখা মিছিল নিয়ে শহীদ মিনার থেকে থালা-বাটি নিয়ে শিক্ষা ভবনের দিকে যান আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
    কিন্তু পুলিশের বাধার মূখে পড়েন। এনসিপি, গনঅধিকার, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষকদের তিন দফা যৌক্তিক দাবী মেনে পক্ষে অবস্থান করেন। এতে টনক নড়ে সরকার বাহাদুরের।
    তিনটি দফার মধ্যে ১ টি দাবী নিয়ে সরকার বেশী আগ্রহ দেখান। ২০% এর পরিবর্তে ২ বছরে ১৫% বাড়ীভাড়া বৃদ্ধিতে উভয় পক্ষ একমত হন। চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার করেন শিক্ষক কর্মচারী সমাজ।

    দীর্ঘ ১০ দিনের আন্দোলনের পর অবশেষে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ গত ২১ অক্টোবর মঙ্গলবার এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। এতে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বর মাস থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ (৭.৫ শতাংশ) বা ন্যূনতম ২ হাজার টাকা এবং আগামী জুলাই থেকে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বা ন্যূনতম ২ হাজার টাকা হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা দেওয়া হবে। তবে তাদের চিকিৎসা ভাতা (১,৫০০ টাকা) ও উৎসব ভাতা (মূল বেতনের ৫০ শতাংশ) আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।

    এই সিদ্ধান্ত হাতে পেয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের নেতারা গত ২১ অক্টোম্বর মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলন প্রত্যাহার ও বুধবার থেকে শ্রেণিকক্ষে ফেরার ঘোষণা দেন। অর্থ বিভাগ জানিয়েছেন, বাড়ি ভাড়া ভাতা বৃদ্ধির ফলে কোনো বকেয়া সুবিধা প্রযোজ্য হবে না এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম হলে বিল অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন। এছাড়া এমপিও নীতিমালা ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগের শর্তাবলি পূরণ করতে হবে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে দুপুরে তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর হাতে অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্র হস্তান্তর করেন।

    এই সময় শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‌‘বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি বাস্তবসম্মত ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। শিক্ষকরা আমাদের সমাজ ও জাতি গঠনের মূল চালিকা শক্তি, অথচ তাদের বেতন-ভাতা অনেক ক্ষেত্রে অপ্রতুল ছিল।’
    তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্থনৈতিক বাস্তবতা সীমিত হলেও আমরা শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে ছিলাম এবং আছি। ধীরে ধীরে তাদের সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।’

    অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘সরকার ও শিক্ষা উপদেষ্টা আমাদের কথা শুনেছেন, আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আশা করি, উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং বদলি প্রক্রিয়া চালুর বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত হবে।’ শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন প্রতি শনিবার অতিরিক্ত ক্লাস নিচ্ছেন বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ এ জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের দাবি নিয়ে গত কয়েকদিন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উপদেষ্টার সাথে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের দাবি যৌক্তিক বলে মনে করে। তবে বাস্তবতা হলো, ১৫ বছরের সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গতিশীল হলেও এখনই মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির মতো সামর্থ্য অর্থনীতিতে ফেরেনি। তাই সরকারকে বাস্তবতার নিরিখে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, আন্দোলনরত শিক্ষকরা নবউদ্যমে শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে অবদান রাখবেন।

    মানসম্মত শিক্ষা ও মেধাবী জাতি গঠনে জাতীয়করণের বিকল্প নেই। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের তুলনায় শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে আমাদের অবস্থান তলানীতে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা হাস্যরসের খোরাক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

    সর্বোচ্চ পর্যায়ে শিক্ষাখাতকে প্রাধান্য দেয়া, মাধ্যমিক শিক্ষাকে গতিশীল করা, মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাবিকাশে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা চালুকরণ জাতীয়করণ ছাড়া সম্ভব নয়।
    বর্তমানে শিক্ষকতার পেশাটাকে মুখে মুখে সম্মানজনক পেশা বলা হলেও গ্রেড অনুপাতে বেতন, কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডের আচরণ, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা আর সিঁকি উৎসবভাতা কিন্তু অন্যটা প্রমাণ করে। আমরা যে শতভাগ অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার তা কিন্তু এই বেতন ও সামান্য সুবিধা প্রমাণ করে। অন্যান্য চাকরি বঞ্চিত হলে একান্ত বাধ্য হয়ে তারা এ পেশায় এলেও বেতন, ভাতা ও মূর্খ পরিচালনা কমিটি দেখে পড়ানোর মানসিকতা পরিবর্তন করে তারা এটাকে চাকরি হিসেবে বেছে নেয় সেবা হিসেবে নয়। এটা জাতির জন্য অশনিসংকেত।

    অভাবগ্রস্ত শিক্ষকরা মানসিক ভাবেও বিপদগ্রস্ত। অভাব যখন চারদিকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে তখন নিদারুণ কষ্টের ভান্ডার থেকে সৃজনশীল কিছু পাওয়ার চিন্তাই বৃথা। তাই অতিশীঘ্র জাতীয়করণ না হলে এ শিক্ষা ব্যবস্থায় অরাজকতা বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষায় প্রতিযোগিতা আরও কমবে এবং এসব সেক্টরে প্রচন্ড অসন্তুষ্টি দেখা দেবে। আমাদের দেশের চেয়েও অনুন্নত বেশ কয়েকটি এশিয়ান রাষ্ট্রে শিক্ষা খাতে সর্বনিম্ন জিডিপি ৩.৫০ বা ৪ শতাংশ সেখানে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হয়েও আমাদের জিডিপি ২.০৯ শতাংশ। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। দেশের মাধ্যমিক, উচ্চ শিক্ষাসহ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাণবন্ত করতে, আশানুরূপ ফলাফল পেতে জাতীয়করণ একান্ত প্রয়োজন। বিশাল বাজেটের আংশিক এবং প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের আয় জমা নিয়ে জাতীয়করণ করলে শিক্ষক/শিক্ষার্থী/ অভিভাবকগন যেমন উপকৃত হবে তেমনি আমাদের শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মান ও কৌশল অবলম্বন করে বাস্তবিক প্রয়োগ সম্ভব হবে। বেসরকারি শিক্ষকদের হাহাকার নিরসনে এখনই জাতীয়করণের মোক্ষম সুযোগ।

    বেসকারী শিক্ষকদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে বেসরকারী শিক্ষক সমাজের প্রাণের দাবী একটা সেটা হলো, সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষকদের পাহাড়সম বৈষম্য দূর করতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয়করণ করার কিন্তু এ অবস্থায় সম্ভাব না হলে শিক্ষকদের তিনটি দাবী মধ্যে বাড়ী ভাড়া ১৫% মেনে নেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সরকারিদের সমান চিকিৎসা ভাতা ও ৭৫% উৎসব বোনাস ঘোষনার অপেক্ষায় শিক্ষক সমাজ তীর্থের কাঁকের ন্যায় চেয়ে আছেন। কঠিন কাজটি করার জন্য বেসরকারী শিক্ষক পারিবারের লাখ লাখ সদস্য আপনাদের জন্য জায়নামাজে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহ্‌র দরবারে প্রার্থনা করবেন। দেশে বিদেশে বেসরকারী শিক্ষকদের জীবনধারার উন্নয়নের জন্য প্রশাংসিত হবেন। এর জন্য যেটা বিনিয়োগ করবেন সেটা হবে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। সকল সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা। এ ব্যপারে সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নিকট আকুল আবেদন করেছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী সমাজ।

    লেখক: মো. হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, উপজেলা শাখা।