Blog

  • ঝিনাইদহে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আহত ২১

    ঝিনাইদহে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আহত ২১

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার পোলভাতুড়িয়া গ্রামে শনিবার আওয়ামীলীগ সমর্থিত দুই সামাজিক দলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২১ জন অহত হয়েছেন। ওই গ্রামের ইউপি সদস্য কুরবান আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য কাজি মশিউর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আহত ১১ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল, ৯ জনকে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও ২জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত বর্তমান ইউপি সদস্য কুরবান আলীসহ ৬ জনকে আটক করেছে হরিণাকুন্ডু থানা পুলিশ। আহতরা হলেন, ইসরাইল হোসেনের ছেলে হাশেম কাজী (৩৫), হাশর কাজী (৩০), আব্দুলের ছেলে করিম (৫২), মক্কেলের ছেলে পানু (১৯), আনসার কাজীর ছেলে লতিফ কাজী (৪২), আবু তালেবের ছেলে রাহুল (১৮), সিফাতের ছেলে আব্দুল গণি (৭০), সমশের কাজীর ছেলে নজরুল কাজী (৪৮) মৃত সোহরাবের ছেলে মধু (৪৬), বাসারেতের ছেলে শহিদুল (৫৫), মৃত মজিবারের ছেলে বিল্লাল, মিন্টু ও বজলু (৪০), রেশমা খাতুন (৩৫), জগেশ চন্দ্র (২৮) ও রায়হান(৪২) সহ অজ্ঞাত আরো ১২ জন। আহতদের মধ্যে ৯ জনকে উদ্ধার করে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ইসরাইল কাজীর ছেলে হাসেম কাজীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি ১১ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে বিল্লাল ও মিন্টুর অবস্থার অবনতি হলে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। গ্রামবাসি সুত্রে জানা গেছে, গত ১১মে হরিণঅকুন্ডুর পোলভাতুড়িয়া গ্রামের আজিবর রহমানের বাড়ির বৃষ্টির পানি প্রতিবেশী মশিউর কাজীর উঠান দিয়ে খালে বের করা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয়পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান উভয়পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি মীমাংসা করে দিরেও আজ শনিবার (১৮ মে) সকাল ৯টার দিকে হাশেম কাজী মাঠে ধান কাটতে গেলে প্রতিপক্ষ বর্তমান ইউপি সদস্য কুরবান মেম্বরের দুই ভাই তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এসময় হাশেম কাজী ও হাসর কাজী দায়ের কোপে আহত হন। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় পক্ষের ২১ জন্য আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরাফত দৌলা ঝন্টু বলেন, বৃষ্টির পানি বের করা নিয়ে ঘটনার সুত্রপাত। রেশারেশি থেকে শনিবার আবারো দুই গ্রুপ মারামারিতে লিপ্ত হয়। এতে অনেকে আহত হয়েছেন। সবাইকে উদ্ধার করে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, দু’পক্ষের সংঘর্ষে অনেকে আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইউপি সদস্য কুরবান আলীসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।

  • গোদাগাড়ীতে ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার স্থাপন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

    গোদাগাড়ীতে ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার স্থাপন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ডিজিটাল প্রি-পেইড মিটার আবাসিক বাসা-বাড়ীতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে স্থাপন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি ও এলাকাবাসী। ১৮ মে শনিবার সকাল ১০ টায় গোদাগাড়ী ডাইংপাড়া ফিরোজ চত্ত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত মানববন্ধনে গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, গোদাগাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শান্ত কুমার মজুমদার, গোদাগাড়ী শিশু নিকেতনের সাবেক অধ্যক্ষ এস এম বরজাহান আলী পিন্টু, সাবেক ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুনুর রশিদ, সুশীল সমাজের সদস্য মুশফিকুর রহমান। এছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সাধারণ মানুষগণ এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রি-পেইড মিটারে টাকা রিচার্জের জন্য প্রথমে নগদ বা বিকাশের মাধ্যমে মিটার কোম্পানিতে টাকা পাঠাতে হবে যার জন্য নগদ বা বিকাশে ক্যাশ আউট ফি প্রদান করতে হবে। টাকা পাঠানোর পরে নগদ বা বিকাশ কোম্পানি ২০ ডিজিট এর একটি টোকেন নম্বর দিবে যা আবার মিটারে তুলতে হবে, ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর হওয়ার ফলে নম্বর ভুলের সম্ভবনা থাকে। বাসায় যদি কোন বৃদ্ধ মানুষ থাকে তবে নম্বর দেওয়াটা বড় সমস্যা হতে পারে, নম্বর সঠিকভাবে না দিতে পারলে বিদ্যুৎ আসবে না। প্রতি মাসে ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট এবং মিটার ভাড়া দিতে হবে যা বাধ্যতামূলক। প্রতি হাজারে ২০০ টাকা ডিমান্ড চার্জ, ৪০ টাকা ভ্যাট এবং ৬০ টাকা মিটার ভাড়া হিসেবে টাকা রিচার্জের সাথে সাথে কেটে নেওয়া হবে। আপনি ৫-৭ দিনের জন্য বাসার বাইরে কোথাও গেলেন এমন সময় আপনার বাসার মিটারের টাকা শেষ, বাসায় বিদ্যুৎ নাই এবং আপনার বাসার ফ্রিজে অনেক খাবার আছে তাহলে আপনার বাসায় সমস্ত খাবার নষ্ট হয়ে যাবে। মিটারের মিটার রিডার এখন গ্রাহক নিজেই। তারপরও কেন প্রতি মাসে ডিমান্ড চার্জ নেওয়া হয়। ডিজিটাল প্রি-পেইড মিটার আবাসিক (বাসা-বাড়ী), বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে স্থাপন-বাতিলের দাবি জানানো হয়।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নাকে গণসংবর্ধনা

    উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নাকে গণসংবর্ধনা

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না একটানা পর পর দু’বার বিপুল ভোটের ব্যবধানে
    উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এদিকে মুন্ডুমালা পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নাকে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
    জানা গেছে,গত ১৮ মে শনিবার মুন্ডুমালা পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ও পৌর যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক কাওসার আলী রয়েলের সঞ্চালনায় এবং পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আমির হোসেন আমিনের সভাপতিত্বে প্রকাশনগর উচ্চ বিদ্যালয় চত্ত্বরে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শরিফ খাঁন ও প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য সাংসদ প্রতিনিধি এবং নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না।
    অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম স্বপন, বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি আতাউর রহমান, পাঁচন্দর ইউপি চেয়ারম্যান ইউপি আওয়ামী লীগ (দক্ষিন) সভাপতি আব্দুল মতিন, পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ্যাডঃ সাজেমান আলী, কাউন্সিলর নাহিদ হাসান,সামসুজ্জোহা ডালিম, লাল মোহাম্মদ, যুবলীগ নেতা দুলাল ও মোর্শেদুল মোমেনিন রিয়াদপ্রমুখ।এদিন দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও প্রকাশনগর মহল্লার সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সম্প্রদায়ের কিশোরীরা গানের তালে তালে নেচে উপজেলা চেয়ারম্যানকে বরন করে নেয়। পরিশেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।#

  • আশুলিয়ায় সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা-কুপিয়ে এক যুবক আহত ও নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ

    আশুলিয়ায় সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা-কুপিয়ে এক যুবক আহত ও নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন আশুলিয়া ইউনিয়নের কুমকুমারী এলাকায় সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা-বিবাদী ১। আশিক তার লোকজন নিয়ে মোঃ মনির হোসেনদের বাড়িতে গিয়ে মনিরের বাড়ির শিশুদের মারপিট করে নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে, এসময় মনির হোসেন বাঁধা দেওয়ায় তাকে ঘাঁড়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপ দিলে হাত দিয়ে ঠাকালে হাতে ও ঘাঁড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
    আশুলিয়া থানার অভিযোগ সূত্র ও বাদী মোঃ মনির হোসেন জানায়, গত শুক্রবার (১৭ মে ২০২৪ইং)তারিখ সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমি আমার বাসায় ছিলাম। এসময় স্থানীয় মোঃ দুদু মিয়ার ছেলে আসামী ১। মোঃ আশিক (৪০), মোঃ সুরত আলী মৃধার ছেলে আসামী ২। আহম্মদ আলী (৪২)সহ তাদের লোকজন বিবাদীগণ হাতে দা, ছুরি,লাঠি ইত্যাদি নিয়া আমার বাড়ির ঘরের কেজি গেইট বাইরাইয়া ভাংচুর করিয়া বাড়ির ভিতর অনাধিকার ভাবে প্রবেশ করিয়া ১নং আসামী আমার বাবার নাম ধরিয়া গালিগালাজ করিতে থাকে। আমি তাদেরকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে, তারা আরো ক্ষিপ্ত হয় এবং ক্ষিপ্ত হয়ে বাসায় থাকা শিশুদের মারপিট করে, এসময় আমার স্ত্রীসহ নারীদের উপর হামলা করে নারীদের শ্লীলতাহানি করে, এ ঘটনায় আমার বাড়ির নারী ও শিশুরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে জীবনযাপন করছে, আসামীরা আমাকে হত্যার চেষ্টায় কুপিয়েছে, আমাদের ডাক চিৎকার শুনিয়া আশে পাশের লোকজন জড়ো হইতে থাকিলে বিবাদীরা আমাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি হুমকি প্রদান করিয়া ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যায়, এরপর আমাকে আহত অবস্থায় ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া প্রাথমিক চিকিৎসাকরায়। এ ঘটনার কারণ জানতে চাইলে মানর বলেন, আমাদের এই এলাকার বাড়ি থেকে তারানোর জন্য পাইতারা করছে তারা। এ ঘটনার সাথে জড়িত দোষীদের কঠিনতম শাস্তি দাবী করছি।
    মোছাঃ হ্যাপী বেগম নামের ভুক্তভোগী এক নারী বলেন, ঘটনার দিনগত সন্ধ্যায় আশিক ও আহম্মদ আলীসহ তাদের লোকজন আমাকে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দেয় এবং আঘাত করে, মনির হোসেনকে দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে এবং বাড়িতে থাকা মেহমানসহ নারী ও শিশুদের মারপিট করেছে আসামীরা, এ ঘটনার সাথে জড়িত দোষীদের শাস্তি দাবি করছি। এ বিষয়ে এলাকাবাসী অনেকেই বলেন, বিবাদীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। শনিবার বিকেলে এ বিষয়ে জানতে বিবাদীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও র‌্যাব জানায়, তদন্ত করে দোষীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে, অপরাধী যেইহোক না কেন তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। পর্ব-১।

  • ঝড়-বৃষ্টি আঁধার রাতে, জনগণ আছে শেখ হাসিনার সাথে- প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার

    ঝড়-বৃষ্টি আঁধার রাতে, জনগণ আছে শেখ হাসিনার সাথে- প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার

    আবুল বয়ান, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
    নওগাঁর ধামইরহাটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দিন উচ্চারিত স্লোগান পুনরায় উচ্চারণ করে বলেন ‘ ঝড় বৃষ্টি আঁধার রাতে, দেশের জনগন আছে শেখ হাসিনার সাথে। ধামইরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে গতকাল ১৭ মে বিকেল তিনটায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলদার হোসেনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪৪ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ধামইরহাট উপজেলা আওয়াামী লীগের সহ-সভাপতি উপজেলা পরিষদের ২য় বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো.আজাহার আলী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর মেয়র আমিনুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক সরকার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদ্য সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান আলী, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মুকিত কল্লোল, সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র মুক্তাদিরুল হক, নব-নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী আনজুুয়ারা বেগম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাবিদ হোসেন মৃদ্যু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সুফিয়ান হোসাইন, সম্পাদক আহসান হাবীব পান্নু, সরকারি এম এম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সৌরভ বাবু প্রমুখ।

    আবুল বয়ান
    ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি।।

  • তেঁতুলিয়ায় পুরোনো ইট দিয়ে বাজার সেড নির্মাণ

    তেঁতুলিয়ায় পুরোনো ইট দিয়ে বাজার সেড নির্মাণ

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম,তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ তেঁতুলিয়া উপজেলায় পুরোনো ইট দিয়ে বাজারের ওপেন সেড ও টিন সেডের গাঁথুনির কাজ করা হয়েছে। গত মাসের ২৯ তারিখ সোমবার ও চলতি মাসের ১৩ তারিখ সোমবার উপজেলার ভজনপুর বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখতে ও জানতে পারা যায় গরুর মাংস বিক্রির পুরোনো সেডটির খুলে ফেলা ইট পরিষ্কার করে ওপেন সেড ও মাংস বিক্রির সেডে কাজে লাগানো হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে। তবে কলামে পুরোনো রডের সঙ্গে ল্যাপিং দিয়ে নতুন রড জোড়া দেওয়া হয়েছে বলে অনেকের ধারণা।

    প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, রংপুর ডিভিশন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট অব প্রজেক্ট (আরএডিএআরডিপি) অর্থায়নে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে উপজেলার শিলাইকুঠি ও ভজনপুর বাজার উন্নয়ন লক্ষ্যে ৫৬ লাখ ৪২ হাজার ৮৭৯ টাকা নির্ধারিত সিডিউলে ওপেন ও টিন সেড এবং সেডে বাজারকারীদের জন্য চলাচলের রাস্তা নির্মাণ কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রজেক্টটি মেসার্স শেখ ট্রেডার্স নামে কাগজে কলমে থাকলে নির্মাণাধীন কাজ প্রকল্প ক্রয়কৃত কয়েকহাত ব্যক্তিদের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এদিকে প্রকল্পের ভজনপুর বাজারের কাজটি ক্রয় করে নির্মাণ কাজ করছেন ভজনপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিন। আরোও জানা যায়, চুক্তিতে এই প্রকল্প শুরু হয়েছে গত সালের ২০ জুন এবং প্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল চলতি সালের ২২ মার্চ। অথচ নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে এখন পর্যন্ত প্রকল্প কাজ চলছে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায, যেখানে ১নং ইট ব্যবহার করার কথা সেখানে পুরোনো ইট কাজে লাগানো হচ্ছে এবং বেইজ ঢালাইয়ে ৩/৪ ভাঙা পাথরের কথা থাকলে নরমাল পাথর দিয়ে চলছে নির্মাণ কাজ।
    ভজনপুরে নির্ধারিত বাজারের দিন বাজারকারী ও স্থানীয়রা জানান, ‘এই বাজারের কাজটির চেয়ে শিলাইকুঠি বাজারের কাজটি অনেকগুণ ভালো হয়েছে। আপনারা কিভাবে বুঝতে পারলেন এমন প্রশ্নে তাঁরা(বাজারকারীরা) বলেন, কিছু চোখের আন্দাজে বুঝা যায় কোন জিনিসটি ভালো আর কোনটি খারাপ। পরে শিলাইকুঠি বাজারে গিয়ে দেখা যায় কাজ ভালো হয়েছে তবে যতটুকু রাস্তা হওয়ার কথা তার চেয়ে কম রয়েছে।

    সেডের কাজ চলমানে চেয়ারম্যানের মনোনিত করিম নামে ব্যক্তি জানান, পুরোনো টিন ও এঙ্গেল চেয়ারম্যানের হাওলায় রয়েছে। চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিন বলেন, পুরোনো সেডের টিন ও এঙ্গেল রয়েছে। তবে কথায় রাখা হয়েছে তা জানতে পারা যায়নি। পুরোনো ইট নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জিজ্ঞাসায় কোনো সদুত্তর মিলেনি তবে দেখা করার কথা জানানো হয়েছে।’

    উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলামিন মুঠোফোনে বলেন, ‘পুরোনো ইট কাজে লাগাতে পারবেনা, বিষয়টি দেখতে চেয়েছেন। পুরোনো সেডের টিন ও এঙ্গেল মজুদ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।’

    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর প গড় এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ও পুরোনো ইটের ছবি দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘পুরোনো ইট ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করলে তা আমরা গ্রহণ করবোনা, আমার উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সেখানে পাঠিয়েছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • নড়াইলে বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখির বাসা

    নড়াইলে বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখির বাসা

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইলে বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখির বাসা। সেই চিরচেনা তালগাছে বাঁধা বাবুই পাখির বাসা এখন বিলুপ্তির পথে দেখা দিয়েছে। তালগাছ কেটে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার কারণে এলাকায় এখন আর তেমন দেখা মিলে না বাবুই পাখির বাসা। এক সময় গ্রাম-বাংলার প্রকৃতিতে দেখা মিলত সারি সারি তালগাছ ও খেজুরগাছ। সেখানে সবার নজর কাড়ত নিষ্ঠাবান বুননশিল্পী পাখির বাসা। সেই চিরচেনা তালগাছ আর বাবুই পাখির বাসা দুটোই এখন হাড়াতে বসেছে এ জেলায়। তেমনি হারাতে বসেছে প্রাকৃতিক শিল্পী বাবুই পাখির ভোরবেলার কিচিরমিচির মধুর সুরে ডাকাডাকি। ‘বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে যেকে করো শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে’। বাবুই পাখিকে নিয়ে কবি রজনীকান্ত সেনের লেখা একটি কবিতার এ শব্দ চয়নগুলো বাবুই পাখির জীবনযুদ্ধের জয়গানকেই নির্দেশ করে। গ্রামে বেড়ে ওঠা একজন মানুষ গ্রামীণ প্রকৃতি ও চড়ুই পাখির ডাকাডাকিতে প্রশান্তি পায়। সহজে ভুলতে পারে না এমন দৃশ্য। গ্রাম ও গ্রামীণ জীবনে চিরচেনা রূপের মধ্যে বাবুই পাখির বাসাও অন্যতম। ছেটদের কবিতার বইয়ে স্থান পাওয়া ছোট কবিতাটির প্রতিফলন যেন বাবুই পাখির বাসা। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান,
    ছড়াটি প্রাথমিকের বইয়ের পাঠ্য সূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাঠ্যপুস্তকের কবিতা পড়েই শিক্ষার্থীরা বাবুই পাখির নিপুণ কারুশিল্পের কথা জানতে পারত।নির্বিচারে গাছ উজার আর একশ্রেণির শিকারির কারণে বিলুপ্তির পথে প্রকৃতির এ বুনন শিল্পীরা। বর্তমানে কেশবপুরের কিছু এলাকায় বাবুই পাখির বাসা দেখা যায়। এক সময় গ্রামাঞ্চলে সারি সারি উঁচু তালগাছে বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা দেখা যেত। এখন তা আর সচরাচর চোখে পড়ে না। খড়, তালপাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে বাবুই পাখি বাস্য বাঁধে। এ বাসা দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি মজবুত। । খড়, কুটা, তালপাতা, খেজুর পাতা, ঝাউ ও লতা- পাতা দিয়ে বাবুই পাখি উঁচু তালগাছে তাদের বাসা বাঁধে। জানা গেছে, পুরুষ বাবুই পাখি এক মৌসুমে ৬টি বাসা তৈরি করতে পারে। আমন ধান পাকার সময় হলো বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম। এ সময় সাধারণত তাল ও খেজুর গাছের ডালে বাসা তৈরি করতে ব্যস্ত থাকে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পরপরই বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য স্ত্রী বাবুই খেত থেকে খান সংগ্রহ করে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের আগ্রাসী কার্যকলাপের বিরূপ প্রভাবই আজ বাবুই পাখি ও তার বাসা হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে দেশের গ্রামগঞ্জের কিছু কিছু অঞ্চলের তাল ও খেজুর গাছে এখনও চোখে পড়ে বাবুই পাখির বাসা। তবে তালগাছেই তাদের একমাত্র নিরাপদ জায়গা। সেখানে তারা বাসা বাঁধতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এ বাসা দেখতে যেমন আকর্ষণীয় লাগে, ঠিক তেমনি অনেক মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা ছিঁড়ে নিচে পড়ে না। পুরুষ বাবুই পাখি বাসা তৈরির কাজ শেষ হলে সঙ্গী খুঁজতে বের হয়। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুইকে সাথী বানানোর জন্য পুরুষ বাবুই নিজেকে আকর্ষণীয় করতে খাল, বিল ও ডোবার পানিতে গোসল করে গাছের ডালে ডালে নেচে বেড়ায়। বাবুই পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করতে বাসার ভিতর এক চিমটি গোবর রেখে জোনাকি পোকা ধরে এনে তার ওপর বসিয়ে দেয় এবং সকাল হলে ছেড়ে দেয়। প্রজনন সময় ছাড়া বাবুই পাখির গায়ে ও পিঠে তামাটে কালো বর্ণের দাগ হয়। ঠোঁট পুরো মোসাকার ও লেজ চৌকা। তবে প্রজনন ঋতুতে পুরুষ পাখির রং হয় গাড় বাদামি। অন্য সময় বাবুই পাখির পিঠের পালকের মতোই বাদামি হয়। হাটবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ কুন্ডু বলেন, আমার বাড়ির পাশে তালগাছ ছিল সেখানে শত শত বাবুই পাখি তাদের বাসা বাঁধক। দিনশেষে সন্ধ্যাবেলায় ঝাঁকে ঝাঁকে বাবুই পাখি তাদের নীড়ে ফিরত আর । কিচিরমিচির ডাকে পুরো এলাকা মাতিয়ে তুলত। ভোরবেলাতেও তাদের কিচিরমিচির ডাকে ঘুম ভাঙত। কিন্তু এখন তালগাছ ও খেজুরগাছ কমে যাওয়ায় সবই বিলুপ্তির পথে। কালা দাস বলেন, নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা বাবুই পাখির বাসা চিনে কিনা কিংবা দেখলেও চিনবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। বাবুই পাখিরা এই সাধারণত তালগাছ ও খেজুর গাছেই বাসা তৈরি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। চড়ুই পাখি মানুষের ও বাসাবাড়িতে থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু বাবুই যা পাখি পরিশ্রমী হয় এবং নিজের তৈরি বাসাতে থাকে। এদের বাসাগুলোও দেখতে চমৎকার না এবং মজবুত হয়। বাবুই পাখিই এরকম সুন্দরভাবে বাসা তৈরি করতে পারদর্শী। এজন্যই বাবুই পাখিকে প্রকৃতির নিপুণ কারিগর বল্য হয়। তিনি বলেন, কিছু মানুষ বুঝে না বুঝে তাদের । শিকার করছে। এ ছাড়া দিন দিন তালগাছ ও খেজুরগাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যে কারণে বাবুই পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। বৃক্ষ নিধন ও নির্বিচারে পাখি শিকারের কারণে বাবুই পাখির বাসা এখন খুব একটা দেখা যায় না। পরিবেশ পও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে পাখি নিধন বন্ধ করার পাশাপাশি পাখিরণ্য সৃষ্টি করতে হবে।

  • সাতক্ষীরার তালায় ট্রাক উল্টে ২ শ্রমিক নিহত আহত ১১

    সাতক্ষীরার তালায় ট্রাক উল্টে ২ শ্রমিক নিহত আহত ১১

    মো: আজিজুল ইসলাম(ইমরান)
    সাতক্ষীরার তালায় ট্রাক উল্টে ২ শ্রমিক নিহত হয়েছে। একই সাথে আহত হয়েছে ১১ জন। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে, খুলনা পাইকগাছা সড়কের হরিশ্চেন্দ্র কাটী সরদারবাড়ী বটতলা এলাকায়।
    নিহতরা হলেন কয়রা উপজেলার বগা গ্রামের তালেব গাজীর ছেলে সাইদুল গাজী (৩৮) ও মন্দারবাড়িয়া গ্রামের তোফাজ্ঝেল সরদারের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৩০) । পুলিশ ঘটনা স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করেছে।
    কয়রা এলাকার শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম জানান , কয়রা এলাকা থেকে ১৩ জন শ্রমিক গোপালগঞ্জ এলাকায় ধান কাটতে গিয়েছিলাম মজুরী হিসাবে তারা ২০ থেকে ৩০ মন ধান পায় । ধান নিয়ে (যশোর ট-১১-৩৭৮৫) ট্রাকে বাড়ী ফেরার পথে শনিবার সকালে সড়ক দূর্ঘটনায় সাইদুর ও মনি নিহত হয়। স্থানীয়রা জানান সড়কের দুই ধারের রাস্তার সম্প্রসারনের জন্য রাস্থা খুড়ে রাখার কারণে মুলতঃ এই দূর্ঘটনা ঘটেছে।

    তালা থানার ওসি মোঃ মমিরুল ইসলাম জানান, সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত দুইজনের লাশ উদ্ধার করে পেষ্ট মার্টেমের জন্য পাঠানো হচ্ছে এবং ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।

  • আশুলিয়ায় ২৪ ঘন্টায় পৃথক স্থান থেকে নারীর লাশসহ ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার

    আশুলিয়ায় ২৪ ঘন্টায় পৃথক স্থান থেকে নারীর লাশসহ ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ায় ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন ঘটনায় পৃথকস্থান থেকে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১৭ মে) বিকেলে থেকে শনিবার রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মোট ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আশুলিয়ার বাইপাইল, পলাশবাড়ী, জামগড়া ছয়তলা, কান্দাইল ও কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া থেকে মরদেহ গুলো উদ্ধার করা হয়।

    নিহতরা হলো- কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানার দিয়া ডাঙ্গা গ্রামের আমজাদ হোসেনের মেয়ে রিয়া মনি (১৮), দিনাজপুর জেলার সদর থানার মামুদপুর গ্রামের মোঃ মইনুল রহমানের ছেলে মোঃ মঞ্জরুল (২২), গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার উত্তর হরিপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে মাসুদ (৩২), বগুড়া জেলার শেরপুর থানার কাজর খামারকান্দি এলাকার মাসুম আলীর স্ত্রী সুস্মিতা খাতুন (২৩), টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানার ইসপিনজারপুর এলাকার মোঃ হাবুল মিয়ার মেয়ে মোছাঃ সুরমা আক্তার (২০) ও সিরাজগঞ্জ জেলার শাহাজাদপুর থানার রামখেরা গ্রামের সাচ্চু মিয়ার মেয়ে নুপুর (১৬)।

    শনিবার (১৮ মে) বিকেল ৫ টার দিকে আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল থেকে রিয়া মনি (১৮) এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় নিজের ভাড়াবাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে স্থানীয় তাকে উদ্ধার করে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্ব চিকিৎসা তাকে মৃত ঘোষনা করে।

    এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব সাহা বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সাথে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

    অন্যদিকে শনিবার বিকেল ৩ টার আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ের উত্তরবঙ্গ মুখী কাউন্টারের সামনে থেকে মোঃ মঞ্জরুল (২২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মোঃ মঞ্জরুল (২২) ডিপজল বাস কাউন্টারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা যায়।

    এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোতালেব বলেন, যাত্রী নিয়ে টানাটানির জেরে মারামারির ঘটনায় এক কাউন্টার সহযোগীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটককৃতের বিস্তারিত পরিচয় জানতে পারেননি তিনি।

    এর আগে শনিবার দুপুরে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড় এলাকার পেয়ারলেস হাসপাতালে সামনে থেকে মাসুদ নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, স্টোকজনিত কারনে মাসুদের মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    শনিবার ভোর রাতে আশুলিয়ার কান্দাইল পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে সুস্মিতা খাতুন নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নুপুরে স্বামী মাসুম আলী জানায়, তার স্ত্রী ছোট বেলা থেকেই মানুষিক ভারসাম্যহীন ছিল। গত ৮ রমজান তার বাবা বাসা থেকে বের হয়ে গেলে তার ভারসাম্যহীনতা আরও বেরে যায়। তার বাবাকে এর পর থেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে।

    এর আগে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে আশুলিয়ার সরকার মার্কেট এলাকার নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতাল থেকে মোছাঃ সুরমা আক্তার (২০) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বদিউজ্জামান বলেন, নিহত সুরমা আক্তার শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। তার পরিবারের ধারণ এ কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে। পরিবারের অভিযোগ না থাকায় সুরমা আক্তারের মরদেহ তার স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এছাড়াও শুক্রবার বিকেলে আশুলিয়ার কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে নুপুর (১৬) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    নিহত নুপুরের মামা সুজন বলেন, নুপুর আমার বোনের মেয়ে। তার বাবা মা পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। নুপুর দুই ভাই বোনকে দেখা করার জন্য বাসাতেই থাকতো। পার্শ্ববর্তী মুদী দোকানদার সুজনের দোকানে প্রায়ই যেতো নুপুর। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সুজন নুপুরকে বিয়ে করবে না বলে জানায়। সুজনের এমন খবর পেয়ে আমার ভাগনি গতকাল বিকেলে আত্মহত্যা করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুজন পলাতক রয়েছে। এরপর থেকে আশুলিয়ায় থানায় ঘোরাঘুরি করেও মামলা নেয়নি পুলিশ। আজ ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে আমরা গ্রামে যাচ্ছি। আগামীকাল আমরা কোর্টে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    এব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জোহাব আলী বলেন, সে তো আত্মহত্যা করেছে, আমরা অপমৃত্যু মামলা নিয়েছি। গতকাল থেকে ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দেওয়ার জন্য ঘোরাঘুরি করলেও মামলা না নেওয়ার ব্যাপারে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। আশুলিয়ায় প্রায়ই নারী পুরুষ ও শিশুর লাশ উদ্ধার করেছেন আশুলিয়া থানা পুলিশ, আশুলিয়া এখন সন্ত্রাসী খুনিদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেন।

  • ঢাকা জেলা (উত্তর)ডিবি পুলিশের অভিযানে ফেন্সিডিলসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার

    ঢাকা জেলা (উত্তর)ডিবি পুলিশের অভিযানে ফেন্সিডিলসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার

    হেলাল শেখঃ ঢাকা জেলা (উত্তর) ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ফেনসিডিলসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছেন।

    শনিবার ডিবি পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার,জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান-পিপিএম (বার) মহোদয়ের নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিবি, জনাব মোবাশ্শিরা হাবীব খান, পিপিএম-সেবা মহোদয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জনাব মোঃ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ (বিপ্লব), অফিসার ইনচার্জ, ডিবি (উত্তর), ঢাকা এর নেতৃত্বে এসআই/মোঃ আমিনুল ইসলাম সঙ্গীয় অন্যান্য ফোর্সসহ সাভার থানাধীন হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডস্থ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দক্ষিন পার্শ্বে লালন টাওয়ার সংলগ্ন যমুনা মার্কেট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। মোঃ হাসমত আলী (৪৩) পিতা-বাবুল মিয়া,সাং-হেমায়েতপুর দক্ষিন শ্যামপুর,থানা-সাভার,ঢাকা, ২। মোঃ রফিকুল রানা (৪০), পিতা-আঃ আজিজ,সাং-ফুলতলা,থানা- বালিয়াডাঙ্গী, জেলা-ঠাকুরগাঁও, ৩। ইনতাজুল ইসলাম (২৯), পিতা- মৃতঃ আঃ রউফ, সাং- ছোপড়া,থানা-বালিয়াডাঙ্গী,জেলা-ঠাকুরগাঁও, ৪। মোঃ বুলবুল ইসলাম (৩৮),পিতা- আঃ করিম, সাং-গ্রীলেন্ডপুর,থানা-বালিয়াডাঙ্গীজেলা-ঠাকুরগাঁও দের ৩০ (ত্রিশ) বোতল ফেন্সিডিলসহ ইং- গত ১৭/০৫/২৪ খ্রি. তারিখ সন্ধার দিকে তাদেরকে গ্রেফতার করেন।

    উক্ত আসামীদের গ্রেফতার করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, দীর্ঘদিন যাবত দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা হতে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে মাদক দ্রব্য ফেন্সিডিল সংগ্রহ করিয়া ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রয় করিয়া করে থাকে।

    শনিবার (১৮ মে ২০২৪ইং) ঢাকা জেলা (উত্তর) ডিবি’র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ (বিপ্লব) নিশ্চিত করেন যে, উল্লেখিত আসামীদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় একটি মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে ইনশাআল্লাহ।