মোঃ হায়দার আলী রাজশাহী থেকে।। রাজশাহীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্র, সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে, আমরা জমি পুনরুদ্ধার করব, মরুকরণ রোধ করব এবং খরা সহনশীলতা অর্জন করব। বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, বরেন্দ্র অঞ্চলের যুবক/যুবকদের একটি বৃহৎ সংগঠন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজেনাস নলেজ (বারসিক) যৌথভাবে খরা মোকাবেলায় বন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।
ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ-ইয়েস-এর সাধারণ সম্পাদক ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক সঞ্চালনায়, বরেন্দ্র যুব ফোরামের সভাপতি শেখ তাসনিম জামাল স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
খরা মোকাবেলায় বন্ড কর্মসূচিতে ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ-ইয়াস-এর সভাপতি মিডিয়া কর্মী ড. শামিউল আলীম শাওন বলেন, রাজশাহী ও বরেন্দ্র অঞ্চলে যেভাবে নির্বিচারে গাছ নিধন করা হচ্ছেযেমন প্রকৃতি, পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, পুকুর পুকুরে পরিণত হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে ২০তম পরিবেশ দিবসের প্রাক্কালে আমরা মানববন্ধন করছি। আমাদের সংকীর্ণ অঞ্চল অর্থাৎ রাজশাহীতে যেভাবে তাপ বেড়েছে তা কল্পনাতীত। কেন এই জ্বর? নগর পরিকল্পনাবিদরা এসি রুমে থাকেন। তারা জনসাধারণের মতো রাস্তায় বাস করে না। তারা সবাই এসি রুমে বসে উন্নয়নের পরিকল্পনা করে। ফলে নিজের ইচ্ছানুযায়ী উন্নয়নের পরিকল্পনা করি। পরিকল্পিত এলাকায় একটি পুকুর আছে কি না, শতবর্ষের পুরনো গাছ আছে কি না, কেটে ফেলা হচ্ছে নাকি ভরাট করা হচ্ছে তা আমি দেখতে পাচ্ছি না। ফলে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।”
রাজশাহীতে বসবাসের অযোগ্য শহর রাজশাহীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুকরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি রাজশাহীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে পরিবেশ ও প্রকৃতি নির্মাণ করে বিশ্বের কাছে একটি আদর্শ ও দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান। – বন্ধুত্বপূর্ণ সবুজরাজশাহীর সবুজ নগরীতে শহীদ মিনার।আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি উপেন রবিদাস বলেন, “আমাদের সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও পরিবেশকে অস্বীকার করে কেউ বাঁচতে পারে না। আমরা আমাদের বাংলাদেশকে সবুজ বাংলাদেশ হিসেবে উপস্থাপন করি। যেখানে থাকবে গাছ, পাখি, ফুল, প্রজাপতি, ফায়ারফ্লাই আর মৌমাছি। এমন সুন্দর দেশ আশা করি। আমাদের উন্নয়ন দরকার কিন্তু সেই উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশবান্ধব। সেই উন্নয়ন যেন পরিবেশের ক্ষতি না করে।”
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম বলেন, এই শহরের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের দায়িত্ব হলো নিরাপদ কৃষি পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় উন্নয়ন ও সহযোগিতার অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখা। শহরের মানুষের জন্য খাদ্য এবং খাদ্য সার্বভৌমত্ব, শুধুমাত্র মানুষের জন্য নয়, সমস্ত জীবের জন্য, বরেন্দ্র। এলাকার আদিবাসী কৃষক অবিনাথ মার্ডি ও রবি মার্ডির আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সংকট ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি। খরা সহনশীলতা প্রশমনে কার্যকর ব্যবস্থাবরেন্দ্র অঞ্চলে মরুকরণ ও পানির সংকট।রাজশাহী থিয়েটারের সভাপতি নিতাই কুমার সরকার সংহতি প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যারা মানুষ, আমরা সারাক্ষণ কাঁদি পরিবেশ বাঁচাতে পরিবেশ বাঁচাতে, কৃষককে বাঁচাতে খরাপ্রবণ এলাকা বাঁচাতে। এবং আমরা যারা মহান মানুষ কি? আসুন আমরা পুকুর ভরাট করি, আমরা গাছ কেটে ফেলি, আমরা নদী দখল করি এবং দূষিত করি। তারপর আমার এসি রুমে সেমিনার সিম্পোজিয়াম করবেন”।
বরেন্দ্র যুব ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘রাজশাহী অর্থাৎ বরেন্দ্র অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাই এই অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতে হলে এই অঞ্চলের সংস্কৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”
পরিবেশ আন্দোলন ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাহবুব তুংকু বলেন, মাটি, পানি, বাতাসসহ সব ধরনের পরিবেশ দূষণ বন্ধ করতে হবেআমাদের শুধু মানুষ নয়, সকল জীবের জন্য একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে হবে এবং একই সাথে জলবায়ু ন্যায়বিচারের জন্য স্থানীয়, জাতীয় এবং আঞ্চলিক যৌথ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে”।
অনুষ্ঠানে দাবি তুলে ধরেন বরেন্দ্র যুব ফোরামের সভাপতি শেখ তাসনিম জামাল। দাবিগুলো হলো- বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি জমি রক্ষায় জমি ফিরিয়ে দিতে হবে; বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা সহনশীলতা, মরুকরণ ও পানির ঘাটতি দূর করতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে; বরেন্দ্রের জন্য বিশেষ ‘খরা তহবিল’ গঠন করতে হবেখরায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অঞ্চল এবং ‘খরা ভাতা’ চালু করতে হবে; পুকুর, খাল, খাঁড়ি, নদী, খাল, জলাশয় রক্ষা করা, সেগুলোকে ভরাট, দখল ও দূষণমুক্ত করা এবং ইজারা বাতিল করে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা; প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী গাছসহ সব গাছউন্নয়ন কর্মকান্ডে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করে রক্ষা করতে হবে; শহরে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা, খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে হবে এবং নো সয়েল নীতি থেকে সরে গিয়ে ‘প্রকৃতি ভিত্তিক সমাধান ও উন্নয়ন’-এর উপর বিশেষ জোর দিয়েoo উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতে হবেশহরের উন্নয়ন কর্মকান্ড।মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবু, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, পরিবেশ আন্দোলন ঐক্য পরিষদের মহাব্যবস্থাপক নাজমুল হোসেন রাজু, গ্রিন ভয়েস বিভাগীয় সমন্বয়ক আবদুর রহিম, স্বপ্নচারী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি রুবেল হোসেন মিন্টু প্রমুখঅন্যরা খরা মোকাবেলায় বনধ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন আতিকুর রহমান আতিক।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী