আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে পৃথক ঘটনায় ৩ জনের অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তানোর থানায় পৃথক ৩টি ইউডি মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন বৃহস্প্রতিবার সকালে তানোর পৌর সদরের প্রফেসারপাড়া মহল্লায় নির্মানাধীন বিল্ডিং এর কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে রাজমিস্ত্রী বনকেশর গ্রামের মৃত সানাউল্লাহর পুত্র সমশের আলীর (৪০)’ মৃত্যু হয়েছে।
অপরদিকে গত বুধবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরের তীরের সঙ্গে গলাই ফাঁস দিয়ে আত্নহত্য করেছে সরনজাই ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য দোলন চাপার স্বামী ও সরনজাই খাঁ পাড়া গ্রামের মৃত খোকনের পুত্র মুনসুর আলী(৬৫)।
অন্যদিকে গত বৃহস্প্রতিবার সকালে বাড়ির পার্শ্বের পুকুরে পড়ে তানোর পৌর সদরের গুবির পাড়া মহল্লার মৃত মাসুদ রানার স্ত্রী রোজী বেওয়ার (৪০) মৃত্যু হয়েছে।
এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, এসব পৃথক পৃথক মৃত্যুর ঘটনায় তানোর থানায় পৃথক ৩টি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোন বিষয়ে কারো কোন অভিযোগ না থাকায় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।#
Blog
-

তানোরে পৃথক ঘটনায় ৩ জনের অপমৃত্যু
-

বানারীপাড়ায় দেশীয় মাছ শামুক সংরক্ষণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলেদের মাঝে উপকরণ বিতরণ
বানারীপাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধি:
বরিশালের বানারীপাড়ায় ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকরী ছাগল, খোয়াড়,খাদ্য ও ঔষধ উপকরণ বিতরণ করা হয়। ১৩ জুন বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাঃ অন্তরা হালদার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রাণী ডাক্তার খায়রুল ইসলাম, প্রতুল জোদ্দার,মৎস্য অফিসের মাঠ সহকারী পলাশ প্রমূখ।
এসময়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন রজনীর সভাপতিত্বে বানারীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার নিবন্ধিত ২০ জন জেলেদের মাঝে ২টি বকরী ছাগল, ৮ কেজি শুকনো খাবার ও ঔষধ উপকরণ বিতরণ করা হয়।আব্দুল আউয়াল
বানারীপাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধি: -

বানারীপাড়ায় সমাজসেবার লোন সমর্কিত বিষয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
এস মিজানুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি।। বৃহস্পতিবার ১৩ জুন বানারীপাড়া উপজেলা সমাজসেবার উদ্যোগে একদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে লোন প্রদান এবং আদায় সম্পর্কে প্রশিক্ষকগণ বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষক ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অন্তরা হালদার, সমাজসেবার উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান তালুকদার, সহকারী জাবির আহম্মেদ, ওসি(তদন্ত) মবিন আহম্মদ প্রমূখ।
প্রশিক্ষণে ২৫ জন গণ্যমান্য ও সদস্যবৃন্দ অংশ নেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উপস্থাপনায় ছিলেন উপজেলা সমাজেবা কর্মকর্তা পার্থ সারথী দেউড়ি।# -

১৪ বছর পরও রাকিন কর্তৃক নির্মান কাজ শেষ না করায় বিজয় রাকিন সিটির ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের তীব্র ক্ষোভ
সুমন খান:
রাজধানী মিরপুর ১৩-০৬-২০২৪ তারিখে বিকেল ৫.৩০ মিনিটে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ, ফারুকুল আলমের সভাপতিত্তে বিজয় রাকিন সিটিতে বিট নং ০৭ এর অধীন বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক বক্তব্যে বলেন যে নির্মাণ কাজ ২০১৬ সালে রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি কর্তৃক শেষ করার চুক্তি থাকলেও ১৪ বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও নির্মাণ কাজ শেষ করতে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্বেও বিভিন্ন তালবাহানা করে নির্মাণ কাজ এই ডেভলপার কোম্পানি শেষ করতে না পারায় সিটির ২য় গেট নির্মিত না হওয়ায় যথন তখন বহিরাগত যে কেহ সিটির ভিতর ঢুকে অসামাজিক কাজের পাশাপাশি চুরি,মাদকসেবন, ছিনতাইয়ের মত ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। অপরদিকে রাকিন নির্মাণ কাজ শেষ করার দিকে মনোনিবেশ না দিয়ে রাকিন হতে ক্রয় সূত্রে গুটি কয়েক জামাত পন্থী কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী ব্যক্তিদের সাথে যোগসূত্র রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনষ্ট করতে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণ স্থগিতের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নানান কটুক্তির করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করাসহ সিটিতে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারদেরকে উস্কিয়ে দিয়ে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। ফলে সিটির মধ্যে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সবসময় বিরাজমান রয়েছে।ইহা ছাড়াও রাকিন সিটির অসমাপ্ত নির্মাণ কাজ শেষ না করায় সিটিতে বসবাসরত বাসিন্দারা নানান দুর্ভোগের মাঝে বসবাস করার প্রেক্ষিতে বাসিন্দাদের মাঝে দিন দিন ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে, ফলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষে রাকিনের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে এরুপ পরিস্থিতিতে কোন উপায়ন্তর না দেখে নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে ভুক্তভোগী বাসিন্দা কর্তৃক মানববন্ধন কর্মসূচি গ্রহণসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে,ইহাতেও রাকিন দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় বক্তারা তাদের বক্তব্যে বিস্ময় ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ আরও জানান আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে এবং ভুক্তভোগীদের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করতে স্হানীয় পুলিশ প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করেন,সেই আলোকে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ সভার সভাপতি ফারুকুল আলম তিনি জানান আমরা থানার সকল কর্মকর্তাসহ মিরপুর জুনের এসি স্যার,এডিসি স্যার,ডিসি স্যারসহ পুলিশের অনেক উর্দ্ধতন স্যাররা বিজয় রাকিন সিটির বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি অবগত রয়েছেন এবং আমরা বিজয় রাকিন সিটির ভুক্তভোগী বাসিন্দাদেরকে সকল প্রকার দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণে সবসময় পাশে রয়েছি ও ভবিষ্যতেও থাকবো,এ লক্ষে ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের পাশে থেকে দুর্ভোগ সৃষ্টিকারী রাকিনের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তা সমাধানের ব্যপারে চাপ প্রয়োগ করবেন এবং যে কোন সমস্যা হলে তা থানায় জানালে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহণের আশ্বাস পাওয়া যায় । এই সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ ছাত্র লীগ নেতা ও ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ ই আলম, ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেহেরুন্নেছা মেরী,সোসাইটির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু, সাহিদ হোসেন,পরিদর্শক অপারেশন আব্দুল বাতেন,বিট পুলিশিং ইনচার্জ এস আই আনিসুর রহমান ও স্হানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
-

পাইকগাছায় কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে হাতুড়ির টুং টাং শব্দে মুখর কামারপাড়া
ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা)।।
কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পাইকগাছার কামারপাড়া হাতুড়ির টুং টাং শব্দে মুখরিত হয় উটেছে। কর্মব্যস্ত সময় পার করছে কামার শিল্পীরা। সারাদিন তপ্ত লোহা ও ইস্পাত গলিয়ে চলছে, দা, চাপাতি, বটি, ছুরি তৈরির কাজ।কাঁকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মকান্ড।মূল কারিগরের সাথে একজন ভারী হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন আগুনরাঙ্গা লোহার দন্ড। চললে হাঁপর, পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। কেউ পোড়া দা ও ছুরিতে দিচ্ছেন শান। ম্যাশিনের সাহায্যে কেউবা হাঁপর টেনে বাতাস দিচ্ছেন। দিন-রাত সমান তালে লোহার টুং-টাং শব্দ আর হাফরের ফুঁসফাঁস শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার প্রতিটি কামারশালা। হারিয়ে যেতে বসা বাংলার প্রাচীন কামারশিল্প যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
আর কয়েক দিন পর ঈদুল-আযহা। উপজেলা পৌর সদর, নতুন বাজার, গদাইপুর, আগড়ঘাটা, কপিলমুনি বাঁকা, চাঁদখালী, কাটিপাড়া, বোয়ালিয়ার মোড়সহ বিভিন্ন হাট বাজার এবং কামার শালায় কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের ছোরা, চাপাতি, চাকু, দা, বটি, কুড়াল সহ বিভিন্ন সরজ্ঞাম তৈরি করছে কামার শিল্পীরা। সারা বছর টুক-টাক কাজ থাকলেও কুরবানির ঈদের সময় কামার শিল্প মুখরিত হয়ে ওঠে। নতুন বাজারে কামারের দোকানে দুই তিনজন কারিগর কাজ করছে।তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ সময় দোকানে পুরাতন ও নতুন ধারালো অস্ত্র বানানো ও মেরামত করার ভীড় শুরু হয়। ঈদের আগের দিন র্পযন্ত এই ব্যস্ততা থাকে। বর্তমানে আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে কামার শিল্পে। বৈদ্যুতিক সান দিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম সান দেওয়া হয় ও হাফর বা জাতা দিয়ে বাতাস দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে মটর।
উপজেলার গদাইপুর গ্রামের সন্তোস কর্মকার, রজ্ঞন কর্মকার, নতুন বাজারের বিশ্ব কর্মকার জানান, কোরবানি ঈদে তারা প্রতিবছর দা, ছুরি, চাপাতিসহ কোরবানি বিভিন্ন উপকরণ তৈরি ও মেরামত করা হয।তবে এ বছর কাজ কিছুটা হম হচ্ছে। কামার শিল্পী বিমল র্কমকার ও সুপম কর্মকার বলেন, লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে গেছে। সাধারণ লোহা ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা ও গাড়ীর পাতি ৮০ টাকা দরে প্রতি কেজি ক্রয় করতে হয়। পশু জবাই করার ছোট-বড় বিভিন্ন সরজ্ঞাম সাইজের উপর দাম নির্ভর করে। বিমল কর্মকার বলেন, অর্ডার দিয়ে তৈরী করা নতুন চাপাতি তৈরীর মুজুরী ৫শ টাকা থেকে ৭শ টাকা, জবাই করা ছোরা ৩শ টাকা। আর তৈরী করা ছোট চাপাতি ৫শত টাকা, বড় চাপাতি ৭ শত থেকে ৮ শত, বড় ছোরা ৩ শত থেকে সাড়ে ৩ শতটাকা, চাকু ৫০ টাকা থেকে দেড় শত টাকা, বটি আড়াই শত থেকে ৩ শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
হরি গোপাল কর্মকার জানান, এই পেশায় আমরা খুব অবহেলিত। বর্তমান দ্রব্যমূল্য বেশী হলেও সেই অনুযায়ী দাম পাই না। ফলে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। সারা বছর তেমন কাজ না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পৈতৃক এই পেশা পরিবর্তন করছে।
উপজেলার বিভিন্ন কামারের দোকান ঘুরে দেখা যায়, দা, ছুরি, চাপাতি, চাকু ও বটির বেচাকেনা বেড়েছে। পৌর বাজারে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কিনতে আসা ক্রেতা আব্দুল করিম জানান, অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু, বটির দাম একটু বেশি। কোরবানি ঈদের কয়েক দিন বাকি। তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার জন্য এসেছি।লোহা ও কয়লার দাম অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি।কামার শিল্পীদের আশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।ইমদাদুল হক,
পাইকগাছা, খুলনা। -

নড়াইলে মোটরসাইকেল-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলছাত্র নিহত
উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
নড়াইলে মোটরসাইকেল-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলছাত্র নিহত। নড়াইল সদর উপজেলায় দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে রিয়ান হাসান মাহফুন (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছেন। এসময় মোটরসাইকেলে থাকা অপর আরোহী খায়রুজ্জামান (১৬) গুরুতর আহত হন। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, বুধবার (১২ জুন) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার নড়াইল-যশোর মহাসড়কের চাঁচড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তুলরামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত রিয়ান হাসান মাহফুন নড়াইল সদরের তুলারামপুর গ্রামের রিপন খানের ছেলে। সে চাঁচড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং আহত খায়রুজ্জামান একই এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে। ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার রাত ৮ টার দিকে সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল মহাসড়কের চাঁচড়া এলাকায় যশোর থেকে নড়াইল অভিমুখে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল মাহফুন। পথিমধ্যে চাঁচড়া বাজার পার হয়ে তুলরামপুর হাইওয়ে থানা এলাকায় পৌঁছালে নড়াইল থেকে যশোরগামী ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাহফুনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী খায়রুজ্জামানের বাম পা ও ডান হাত ভেঙ্গে গেছে। তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নড়াইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মাসুদ রানা জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অপরজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে তুলরামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের বিষয়টি জেনেছি। এ ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। -

পাইকগাছা উপজেলা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম এর অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
পাইকগাছা উপজেলা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম এর অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস মিলনায়তনে উন্নয়ন সংস্থা এ্যাওসেড এর অল্টার প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফোরামের সভাপতি প্রাক্তন অধ্যক্ষ রমেন্দ্রনাথ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ বিষ্ণুপদ বিশ^াস, এ্যাওসেড এর প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবুর রহমান, অধ্যক্ষ রাজিব বাছাড়, সাংবাদিক এন ইসলাম সাগর, শ্যামাপদ মন্ডল, অখিল কুমার মন্ডল, মানিক ভদ্র, রাজিব গাঙ্গুলী, বিশ^নাথ ভট্টাচার্য, লিয়াকত আলী, জুলি শেখ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্মিতা মন্ডল, জয়ন্ত কুমার দাস, অনুপ কুমার দাশ, সাবিনা ও সাহিদা আক্তার।ইমদাদুল হক,
পাইকগাছা, খুলনা। -

উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র ভূমি সেবা সপ্তাহের কার্যক্রম পরিদর্শন
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
পাইকগাছায় ভূমি সেবা সপ্তাহের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন। তারা বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে সপ্তাহ ব্যাপি আয়োজিত ভূমি সেবা সপ্তাহের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় আগত সাধারণ মানুষকে ভ‚মি সেবা প্রদান করেন ইউএনও মাহেরা নাজনীন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, ওসি ওবাইদুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান আলী শেখ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, সমবায় কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী প্রোগ্রামার মৃদুল কান্তি দাশ, একাডেমিক সুপার ভাইজার মীর নূরে আলম সিদ্দিকী ও ভ‚মি অফিসের প্রধান সহকারী আব্দুল বারি। উল্লেখ্য, গত ৮ জুন থেকে উপজেলা ভ‚মি অফিস এবং ৬টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভ‚মি সেবা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। সেবা সপ্তাহের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অনলাইনে হোল্ডিং এন্ট্রি, ই নামজারী, হাটবাজার পেরিফেরি ভুক্ত সম্পত্তি ডিসিআর প্রদান, অর্পিত সম্পত্তি ডিসিআর প্রদান ও ভ‚মি উন্নয়ন কর আদায় সহ বিভিন্ন ধরণের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ১৪ জুন সপ্তাহ ব্যাপী অয়োজিত ভ‚মি সেবা সপ্তাহ সম্পন্ন হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।পাইকগাছায় যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
পাইকগাছায় যায়যায়দিন পত্রিকায় ১৯ বছরে পদার্পন ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে যায়যায়দিন ফ্রেন্ডস ফোরাম কেক কাটা, আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার সকালে পাইকগাছা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিনিধি এসএম আলাউদ্দিন সোহাগ এর সভাপতিত্বে ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডঃ এফএমএ রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন, মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, ওসি ওবাইদুর রহমান, সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সমরেশ রায়, নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান স ম আব্দুল ওয়াহাব বাবলু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অনিতা রানী মন্ডল, প্রাক্তন অধ্যক্ষ হরেকৃষ্ণ দাশ, উপাধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, প্যানেল মেয়র শেখ মাহাবুবর রহমান রনজু, কাউন্সিলর আব্দুল গফফার মোড়ল, প্রাক্তন অধ্যাপক জিএমএম আজাহারুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, জিএ গফুর, সহ-সভাপতি তৃপ্তি রঞ্জন সেন, সাধারণ সম্পাদক এম মোসলেম উদ্দীন আহম্মেদ, সহকারী অধ্যাপক ময়নুল ইসলাম, ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি জিএম শুকুরুজ্জামান, হাবিবুর রহমান, সাংবাদিক এন ইসলাম সাগর, এসএম বাবুল আক্তার, আলাউদ্দীন রাজা, প্রমথ রঞ্জন সানা, বি সরকার, আব্দুর রাজ্জাক বুলি, কৃষ্ণ রায়, আবুল হাশেম, বদিউর জামান, শাহরিয়ার কবির, খোরশেদ আলম, উজ্জ্বল দাশ ও মামুনুর রশীদ। -

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জরুরী সাড়াদান পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
পাইকগাছায় উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের এসওডি এর আলোকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জরুরী সাড়াদান পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ বিষয়ক দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ঢাকা এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি ছিলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) নাহিদ সুলতানা মল্লিক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, ওসি ওবাইদুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার, রিপন কুমার মন্ডল, কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন, জিএম আব্দুস সালাম কেরু, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পারভীন আক্তার বানু, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী প্রোগ্রামার মৃদুল কান্তি দাশ, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মৌলুদা খাতুন, একাডেমিক সুপার ভাইজার মীর নূর আলম সিদ্দিকী, জনস্বাস্থ্যের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহাদাৎ হুসাইন, মুক্তিযোদ্ধা রনজিৎ সরকার, প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, শংকর বিশ^াস, পুলকেশ রায়, প্রভাষক মোমিন উদ্দীন, রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা ইলিয়াস শাহ, উত্তরণ কর্মকর্তা নাজমুল বাশার ও ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি জিএম শুকুরুজ্জামান। -

টেকসই বেড়িবাঁধ, সুপেয় পানি নিশ্চিত ও লবণ পানি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে….. সংসদে এমপি রশীদুজ্জামান
ইমদাদুল হক, পাইকগাছা(খুলনা)।।
টেকসই বেড়িবাঁধ, সুপেয় পানি নিশ্চিত, লবণ পানি নিয়ন্ত্রণ করে কৃষির উন্নয়ন এবং জলবায়ু ঝুকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, উপকূলীয় জনগণকে প্রকৃতির সাথে নিরন্তর যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই যুদ্ধ কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই উপকূলের জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সুদৃষ্টি জরুরি।
জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়েএসব কথা বলেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি আরো বলেন, কৃষি আমাদের প্রধান উপজীব্য ও চালিকা শক্তি হলেও উপকূলের কৃষি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর প্রধান কারণ লবন পানিতে বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষ। অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষের কারণে এলাকার ভূমিহীন কৃষক, নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী কৃষি পেশা হারিয়ে অন্য পেশা খুঁজে নিতে বাধ্য হয়েছে। এই ঢাকা শহরেও দৈনিক দিনমজুর খেটে জীবিকা নির্বাহ করছে পাইকগাছা-কয়রার কয়েক হাজার মানুষ। অথচ তারা যে এলাকার মানুষ সেখানেই এক-সময় ধানের ফসল ফলতো। সেই ধান কাটার জন্য বাহিরে থেকে শ্রমিক নিতে হতো। এখন চিংড়ি চাষের কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে।
এমপি রশীদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে চিংড়ি চাষ আগের মতো অর্থকারী নেই। অনেকেই নিরুৎসাহী হয়ে চিংড়ি চাষ বন্ধ করে কৃষির দিকে ঝুকেছে। এবারের তরমুজ ফসল পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলাতে বাম্পার ফলন হয়েছে। আড়াই মাসের ফসলে যে তরমুজ পেয়েছে, সেগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এবার প্রায় ২৫০ কোটি টাকা তরমুজ ক্ষেতের থেকে বিক্রয় হয়েছে। তরমুজ ক্ষেতে কাজ করে নারী শ্রমিকেরা এই মৌসুমে প্রত্যেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করেছে। তরমুজের পাশাপাশি একই জমিতে বছরের অন্য সময়ে আরো ফসল ফলানোর সুযোগ আছে। ওই জমিতে মিষ্টি পানিতে সকল প্রকার মাছ চাষ সম্ভব হচ্ছে। যা লবণ পানিতে চিংড়ি চাষের থেকে অনেক বেশি লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব। চিংড়ি চাষের লভ্যাংশ মালিক, অর্থাৎ এককেন্দ্রীক থাকে। আর কৃষি কাজ থেকে প্রাপ্ত অর্থ শুধু কৃষকই নয়, অনেকে ভোগ করতে পারে। যা বেকারত্ব দুরীকরণে সহায়ক। তিনি আরো বলেন, ওই অঞ্চলের নদী-নালা, খাল আশংকজনক ভাবে ভরাট হয়ে গেছে। তাই কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে লবণ পানির প্রবেশ বন্ধ করে এলাকার ভরাটকৃত খালগুলো পুন:খনন করে মিষ্টি পনির আধার তৈরী করতে হবে। কৃষকরা যেন শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ব্যবহার করতে পারে।
সুপেয় পানির সংকটের কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য রশীদুজ্জামান বলেন, সুপেয় পানির অভাবে পাইকাগাছা-কয়রাসহ সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ হাহাকার করছে। এখানে ধনী, দরিদ্রের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। বর্তমানে সকল পানির আধার লবণ পানিতে ভর্তি, যা পানের অযোগ্য। একমাত্র ভরসা বৃষ্টির পানি। বছরে চার মাস বৃষ্টি হতে পারে, বাকি আট মাসের পানি সঞ্চয় করে না রাখতে পারলে পানির হাহাকার বেড়ে যাবে। পানি সঞ্চয় করে রাখার জন্য সকল পরিবারে পানির ট্যাংকি সরাবরাহ করা অতীব জরুরি। তাই আমার দাবি হয় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দনি, না হয় সাগরের লবণাক্ত পানি পান করে বেঁচে থাকার উপায় বের করে দিন।
আওয়ামী লীগ নেতা রশীদুজ্জামান বলেন, প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে আমার নির্বাচনী এলাকা কয়রা ও পাইকগাছা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের মধ্যে শত শত মানুষ নিয়ে কাজ করেও বাঁধ রক্ষা সম্ভব হয়নি। চোখের সামনে ভেসে গেছে বাঁধ ভেঙ্গেছে, রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্ষেতের ফসল, মাছের ঘের সবকিছুই। ক্ষতির একটি তাৎক্ষণিক তালিকা দাখিল করেছি। কিন্তু আঙ্কিক হিসেবে এই ক্ষতি নিরুপন করা সম্ভব নয়। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী কয়রা উপজেলাতে গিয়েছিলেন। তিনি দু’উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা গ্রহণ করেছেন। নেত্রীর সাথে আলোচনা করে সমাধান করবেন বলে প্রতিশ্রæতিও দেন। জনগণ দ্রæত প্রতিশ্রæতির বাস্তবায়ন চায়।
সরকার দলীয় ওই সংসদ সদস্য বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুরে্যাগ নিত্য দিনের সঙ্গী। এর থেকে রক্ষা পাওয়ার অন্যতম অবলম্বন টেকসই বেড়িবাঁধ। সেই বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী বরাদ্দ দিয়েছেন, কিন্তু কাজের অগ্রগতি নেই। ষাটের দশকে যে ওয়াপদার বাঁধ তৈরি হয়েছিলো, সেই বাঁধ আর সংস্কার হয়নি। মাটি ক্ষয় হয়ে দিনে দিনে বাঁধ নিচু হয়েছে, আর নদীর বুকে পলি জমে জমে পানির উচ্চতা বেড়েছে। ফলে এবারের জলোচ্ছ¡াসে পানি ছাপিয়ে পাইকগাছা ও কয়রার বহু জায়গায় বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে। আপাততঃ দৃষ্টিতে টেকসই বেড়িবাঁধের বিকল্প নেই। বাঁধের তলদেশ দিয়ে পানি সরাবরাহের পাইপ থাকলে বেড়িবাঁধ টেকসই সম্ভব হবে না। কোন পাইপ ছাড়াই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
এমপি রশীদুজ্জামান বলেন, ২০০৯ সালের আইলা থেকে ২০২৪ সালের রেমাল পর্যন্ত সকল ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে সুন্দরবন লন্ডভন্ড হয়েছে। সুন্দরবন নিজে বিপর্যস্ত হয়ে ঝড়ের গতিকে দুর্বল করে দিয়েছে। অতীতের সরকারগুলো সেই সুন্দরবন লুটপাট করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার সূদুর প্রসারী পদক্ষেপে সুন্দরবনের লুটপাট বন্ধ হয়েছে, সুন্দরবনের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। বন্যপ্রাণিদের নিরাপদে বেঁচে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার দাবি, সুন্দরবন অভন্তরে প্রত্যেকটা দ্বীপে বন্যপ্রাণির উপযোগী আশ্রয়কেন্দ্র করে দেওয়া হোক। আপদকালীন সময়ে তারা যেন সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। তিনি আরো বলেন, সুন্দরবন আমাদের অক্সিজেন ফ্যাক্টরী। এক শ্রেণির দুস্কৃতিকারীরা চুরি করে বনের গাছ কাটে, বিষ দিয়ে মাছ ধরে এবং সুযোগ পেলে বাঘ মারে ও হরিণ ধরে। এদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
আওয়ামী লীগ নেতা রশীদুজ্জামান বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র নারীদের জীবিকার জন্য চিংড়ি ঘেরে লবণ পানিতে কাজ করতে হয়। শ্যাওলা ভরা লবণ পানিতে ঘন্টার পর ঘন্টা শরীর ডুবিয়ে রাখার জন্য তাদের শরীরে বাসা বাঁধে নানা রকম দুরারোগ্য ব্যাধি। তাদের চেহারা নষ্ট হয়ে যায়, চর্মরোগ এবং ক্যান্সার সহ বহুবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এক শ্রেণির নারীরা নদীতে ঘন্টার পর ঘন্টা গলা সমান পানিতে ঠেলা জাল ঠেলে বাগদা চিংড়ির পোনা আহরণ করায় তারা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই মানবেতর পেশার পরিবর্তে ওই সকল দরিদ্র নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জোর দাবি জানাচ্ছি।