Blog

  • জয়পুরহাট র‍্যাব-৫ এর অভিযানে মাইক্রোবাসে ৬৪ কেজি গাঁজা জব্দ,৩ জন আটক

    জয়পুরহাট র‍্যাব-৫ এর অভিযানে মাইক্রোবাসে ৬৪ কেজি গাঁজা জব্দ,৩ জন আটক

    স্টাফ রিপোর্টার:- নিরেন দাস

    মাইক্রোবাসের সিটের নিচের পাটাতন কেটে বিশেষভাবে তৈরি করা বাক্সে ১৪টি প্যাকেটে লুকানো ছিল ৬৪ কেজি গাঁজা।শুক্রবার (২১ জুন) সকাল ৬টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার ঠ্যাংভাঙার মোড় এলাকায় র‌্যাব-৫-এর একটি দল অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাসের আটকের পর ওই গাঁজা উদ্ধার করে।

    এ ঘটনায় মাইক্রোবাস জব্দসহ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অপরাধে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন, কুমিল্লার কোতয়ালী থানার বসন্তপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (২৮), কুটিশহর গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩৮) ও বড় জ্বালা গ্রামের মো. শাওন (২১)।

    গত শুক্রবার(২১ জনু) সন্ধায় সিপিসি-৩, র‌্যাব-৫-এর জয়পুরহাট ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দৈনিক ঢাকাকে এসব তথ্য জানানো হয়।

    র‌্যাবের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তির সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, কুমিল্লা থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসে করে গাঁজা পরিবহন করে নওগাঁর বদলগাছীর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর ৫ টা থেকে জয়পুরহাট র‌্যাব ক্যাম্পের একটি দল নওগাঁ সদর উপজেলার নওগাঁ-বদলগাছী সড়কের ঠ্যাংভাঙার মোড় এলাকায় অবস্থান নেয়। সকাল ৬টার দিকে নওগাঁ থেকে বদলগাছীগামী একটি মাইক্রোবাস ঠ্যাংভাঙার মোড় এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসটি তল্লাশি করে র‌্যাব সদস্যরা। এ সময় মাইক্রোবাসের সিটের নিচের পাটাতনে কেটে বিশেষভাবে তৈরি করা বাক্সে কাগজ ও স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় ১৪টি প্যাকেটে ৬৪ কেটি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে ওই মাইক্রোবাসে থাকা সাদ্দাম হোসেন, আলমগীর হোসেন ও শাওন নামের ৩ যুবককে আটক করা হয়।

    এবিষয়ে জয়পুরহাট র‌্যাব-৫, ক্যাম্প জানায়, আটক ব্যক্তিরা চিহ্নিত পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তাঁরা দীর্ঘ দিন যাবৎ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে করে মাদক সরবরাহ করে আসছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় আটক তিন যুবকের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং তাঁদেরকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

    নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল হক দৈনিক ঢাকাকে বলেন, গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের আজ বিকেলে আদালতে নেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • শারীরিক অসুস্থতায় দোয়া চেয়েছেন টারমিগান সম্পাদক

    শারীরিক অসুস্থতায় দোয়া চেয়েছেন টারমিগান সম্পাদক

    ডেস্ক রিপোর্ট : শারীরিক অসুস্থতার জন্য আত্মীয় স্বজনসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক টারমিগান পত্রিকার সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম।
    জানা যায়, পারিবারিক বিষয় সম্পত্তি ভাগাভাগি ও ন্যায্য হিস্যা নিয়ে ভাই বোনদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব কলহের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন দৈনিক টারমিগান পত্রিকার সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। এই সুস্থ ফের অসুস্থ অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন তিনি। এমতাবস্থায় গতকাল ২১ জুন শুক্রবার বাদ মাগরিব তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ল্যাব এইডের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোঃ শাখাওয়াত হোসেনের চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজিসহ অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয় পাশাপাশি তাকে সম্পূর্ণ দুঃশ্চিন্তামুক্ত থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।‌ বর্তমানে টারমিগান সম্পাদক ডাঃ শাখাওয়াত হোসেনের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
    উল্লেখ্য, গত কিছুদিন ধরে পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুলতান কোল্ডস্টোরেজের অন্যতম পরিচালক মুহাম্মদ সেলিমের সাথে শেয়ার নিয়ে কোম্পানির অন্যান্য পরিচালকদের ঝামেলা চলছে। অন্যান্য পরিচালকরা তার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে না দিয়ে তাকে কোম্পানি থেকে বের করে দেওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ল্যবএইডে নেওয়া হয়।

    সহসা পারিবারিক ঝামেলা থেকে মুক্তি এবং শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে তিনি যাতে সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেন সেজন্য আত্মীয় স্বজনসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন টারমিগান সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম।

  • তানোরে  পুলিশের  অভিযানে আটক ৩

    তানোরে পুলিশের অভিযানে আটক ৩

    আলিফ হোসেন,
    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তিন জনকে আটক করেছে।
    জানা গেছে, রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) ও সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) দিক-নির্দেশনায়। গত ২১ জুন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তানোর থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করেছেন।
    আটককৃতরা হলো উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের (ইউপি) চিমনা গ্রামের সাইদুর রহমানের পুত্র বাদশা হোসেন(২৪)। তার বিরুদ্ধে তানোর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ একটি মামলা রয়েছে। অপর আসামি উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের (ইউপি) গাল্লা গ্রামের ওয়াজেদ আলীর পুত্র শুভ আহম্মেদ(২৩) তাকে ৭৫ (পঁচাত্তর) লিটার অবৈধ মাদকদ্রব্য দেশীয় চোলাইমদসহ আটক করা হয়েছে। অপর আসামিকলমা ইউনিয়নের (ইউপি) অমৃতপুর গ্রামের নাজিমুদ্দিনের পুত্র কামরুল ইসলাম (৬০)। সে তিন মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্ত (জিআর সাজা পরোয়ানাভুক্ত) কিন্ত্ত দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর যাবৎ পলাতক ছিল। এবিষয়য়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক ২২ জুন শনিবার বিধিমোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।#

  • নড়াইলে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ দেওয়ার অপরাধে বাবাকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

    নড়াইলে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ দেওয়ার অপরাধে বাবাকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইলের কালিয়ায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ দেওয়ার অপরাধে মেয়ের বাবাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার (২১জুন) দুপুরে কালিয়া উপজেলার পেড়লি ইউনিয়নের জামরিলডাংগা গ্রামে পেড়লি ক্যাম্পের আই সি আজিজুর রহমানের সহযোগিতায় সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ্ত রায় (দীপন) এ রায় দেন।
    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়,জামরিলডাংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী (১৫) কে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে বিকেলে বিয়ে বাড়িতে সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পেড়লি ক্যাম্পের ইনচার্জ আই সি আজিজুর রহমান অভিযান চালিয়ে বিবাহ বন্ধ করা হয়। বাল্যা বিবাহ আয়োজন করায় ওই ছাত্রীর পিতা হাসান খন্দকার (৪০)কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
    পেড়লি ক্যাম্পের ইনচার্জ আই সি আজিজুর রহমান জানান, জামরিলডাংগা গ্রামে মেয়ের বিবাহ বাড়ি থেকে মেয়ের বাবা ও চাচাকে আটক করা হয়। পরে সহকারী কমিশনার (ভুমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্যার মেয়ের বাবাকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ও আটকৃত দুজনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেন।
    সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ্ত রায় (দীপন) বলেন,ওই মেয়ের বাবা ও চাচা এ বিয়েতে সহযোগিতা করায় তাদেরকে জরিমানা করাসহ মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবে না এ মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

  • তেঁতুলিয়ায় গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়ায় হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

    তেঁতুলিয়ায় গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়ায় হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম,তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়ায় হোটেল/রেস্তোরাঁ মালিক মনজুর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম একই ইউনিয়নের রাজুগছ গ্রামের রাজুর ছেলে মনজুর বিরুদ্ধে মারধরের এই অভিযোগ করেন।

    শুক্রবার (২১ জুন) জুম্মার নামাযের পর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি বাজার সংলগ্ন শিলাইকুঠি বালাবাড়ি দাখিল মাদরাসার দক্ষিণ পার্শ্বে বাউন্ডারি ওয়ালের বাহিরে কাচা রাস্তার ওপর ‘মনজু হোটেল’ বা রেস্তোরাঁ মালিকের মেচিয়ার শকিল প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের সময় এই ঘটনাটি ঘটে।

    সরে জমিনে গিয়ে জানা যায়, জুম্মার নামায শেষে আরিফুল ইসলাম বাড়ি ফেরার পথে মনজুর মেচিয়ার শাকিলের প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনে বাধা দিলে প্রথমে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এক পর্যায় হোটেল মালিকসহ আরিফুলকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে মফিজার রহমানসহ আরও কয়েকজন বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এলে তাদেরও ওপর চড়াও হয়ে উঠেন হোটেল মালিক মনজু ইসলাম। পরে ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গগণ এ বিষয়ে প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সালিশ ডাকলে হোটেল মালিক মনজু তার কর্মচারী শাকিলকে হাজির করার সময় চেয়েছেন।

    জানা যায়, মনজুর হোটেলে টুনিরহাটের শাকিল নামের ছেলেটি প্রায় বছর খানিক ধরে মেচিয়ারীর কাজ করে আসছেন। শাকিল মাদক সেবনকারী হিসেবেই চিহ্নিত তার একটি ভিডিও পাওয়া গেছে।

    হোটেল মালিক মনজু বলেন, শকিল ৯মাস ধরে তার হোটেলে কাজ করে আসছেন। সে গাঁজা সেবন করেন কথাটি সত্য। আজ (শুক্রবার) গাঁজা সেবনের সময় আরিফুল বাধা দিলে তাদের মধ্যে একটু ধস্তাধস্তি হয়। এই সামান্য বিষয়টি বড় আকার ধারন করে। এরই ফাঁকে কে যেন থানায় জানালে শাকিলকে হোটেল থেকে সটকে দেওয়া হয়। শাকিলকে আপাতত সরিয়ে রাখা হয়েছে প্রয়োজনে হাজির করবেন জানিয়েছেন।

    গাঁজা সেবনে বাধাদানকারী আরিফুল ইসলাম বলেন, গাঁজার গন্ধে মুসল্লিদের অসুবিধা হচ্ছে বা এভাবে গাঁজা খাওয়া যাবেন বাধা দিলে গাঁজা সেবনকারী শাকিল তাকে মারধর করেন। পরে হোটেলে মালিক মনজু ও তার বাবাও তাকে মারধর করেন বলে জানিয়েছেন। আরিফুলের পিতা-মাতা বলেন, গাঁজা সেবনকারীকে আইনের আওতায় আনা সহ হোটেল মালিকের সুষ্টু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

    এলাকাবাসি জানান, প্রকাশ্যে মাদক সেবন এর চেয়ে বড় প্রমাণ কি হতে পারে। তবুও মাদক সেবনকারী ও তার মালিকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেইনি। আমরা মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় যদি অপমান হতে হয় তাহলে বিচার পাব কথায়?
    ইউপি সদস্য আতাউর রহমানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বলেন, যেহেতু গাঁজার বিষয় নিয়ে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে তাই মনজুর কর্মচারী শাকিলকে উপস্থিত থাকতে হবে। শাকিলকে উপস্থিত করতে মনজু শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় চেয়েছেন।

    এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক চন্দ্র বলেন, ‘তিনি আসার আগেই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলে গিয়ে গাঁজা সেবনকারী শাকিলকে খুঁজে পাননি এবং মারধরের শিকার আরিফুলের পরিবারকে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মুুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।

  • নড়াইলে কনস্টেবল ও নায়েকদের ১৭তম দক্ষতা উন্নয়ন কোর্সের উদ্বোধন

    নড়াইলে কনস্টেবল ও নায়েকদের ১৭তম দক্ষতা উন্নয়ন কোর্সের উদ্বোধন

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে কনস্টেবল ও নায়েকদের ১৭তম দক্ষতা উন্নয়ন কোর্সের উদ্বোধন। নড়াইল জেলা পুলিশের আয়োজনে এবং ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, ঝিনাইদহ এর সহযোগিতায় পুলিশ লাইনস্ ড্রিলসেডে সাতদিন মেয়াদী কনস্টেবল/নায়েকদের ১৭তম দক্ষতা উন্নয়ন কোর্সের আয়োজন করা হয়। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, শনিবার (২২ জুন) সকলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ মেহেদী হাসান। পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশ সদস্যদের কর্তব্য কর্মে দক্ষতা অর্জন করানো এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।” তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়নের রিপোর্ট ইন-সার্ভিস ট্রেনিং, ঝিনাইদহে প্রেরণ করা হবে এবং প্রত্যেকের সার্ভিস বুকে লিপিবদ্ধ করা হবে। তিনি পুলিশ সদস্যদের ড্রেস-আপ এবং সঠিকভাবে ডিউটি পালন করতে নির্দেশনা প্রদান করেন। পরিশেষে পুলিশ সুপার ডিউটিতে অমনোযোগী ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে পুলিশ সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি এই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে ট্রেনিংয়ের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময়ে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত; তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্), নড়াইল সহ জেলা পুলিশের অন্যান্য পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • সুন্দরগঞ্জে “জাগো বাহে” এর ঈদ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন

    সুন্দরগঞ্জে “জাগো বাহে” এর ঈদ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন

    গাইবান্ধা থেকেঃ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সাহিত্য সংসদ’র ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘জাগো বাহে’ ঈদ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের মিলনায়তনে এ উপলক্ষ্যে সাহিত্য সংসদের সভাপতি নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কুশল রায়ের সঞ্চালনায় সাহিত্য আসর ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা ড. শফিউল ইসলাম ভূঁইয়া, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান মিঞা, সবুজ শিক্ষালয়ের পরিচালক একরামুল হক, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, সাংবাদিক আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন, সাংবাদিক আনিসুর রহমান আগুন, সংগঠক ফয়সাল সাকিদার আরিফ, প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিক, জাগো বাহে’র নির্বাহী সম্পাদক সুদীপ্ত শামীম, সংগঠক এরশাদুল আলম প্রমূখ।

    কবিতা ও ছড়া পাঠ করেন সরকার হোজায়ফা হাবিব, আল আমিন মোহ, আব্দুর রাজ্জাক আল রোহান, সাবরিনা জাহান সুমি, ফাইয়াজ ইসলাম ফাহিম, সাইফুল ইসলাম তারাপুরী, আলমগীর আকন্দ কাব্যকীট, মোহাম্মদ হাসান, জান্নাতুল ফেরদৌসি জিনাত, মোরসালিন সুলতানা মিম প্রমূখ।

    এর আগে সুন্দরগঞ্জ সাহিত্য সংসদ’র ত্রৈমাসিক প্রকাশনা ‘জাগো বাহে’ এর ঈদ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

  • উজিরপুরে  সড়ক দুর্ঘটনায় রাজমিস্ত্রি নিহত

    উজিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় রাজমিস্ত্রি নিহত

    উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুরে থ্রি-হুইলারের (মাহেন্দ্র) ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ধানক্ষেতে উল্টে পড়েছে। এতে মাহেন্দ্র’র যাত্রী রাজমিস্ত্রি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অপর যাত্রীর নিহতের ছোট ভাই বলে উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. তৌহিদুজ্জামান জানান।
    নিহত মোস্তফা খান (৪৫) উজিরপুর উপজেলার বারৈকাঠি এলাকার মো. আতাহার আলীর ছেলে। আহত অবস্থায় তার ছোট ভাই নজরুল ইসলাম বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
    পরিদর্শক তৌহিদুজ্জামান জানান, সকালে কাজের উদ্দেশ্যে দুই ভাই মাহেন্দ্রতে রওনা দেয়। উপজেলার নারায়নপুর ও সাইনবোর্ড এলাকার মাঝখানে মাহেন্দ্রর ব্রেক ফেল হওয়ায় চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে রাস্তার পাশে ধানক্ষেতে উল্টে পড়ে। এতে দুইভাই গুরুতরভাবে মাথায় আঘাত পায়। দুই জনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
    হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্য এসআই বিজয় মন্ডল জানান, হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মোস্তফাকে মৃত ঘোষনা করেন। আহত নজরুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
    এসআই বিজয় আরো জানান, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ বিনা ময়না তদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ভেসে আসা পলিব্যাগে মিলল নারীর ২ বিচ্ছিন্ন কবজি

    ভেসে আসা পলিব্যাগে মিলল নারীর ২ বিচ্ছিন্ন কবজি

    স্টাফ রিপোর্টার:- নিরেন দাস

    বগুড়ায় করতোয়া নদীর পার থেকে এক নারীর দুই হাতের কবজি উদ্ধার করছে পুলিশ। শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের মাটিডালি এলাকা থেকে পলিথিনের ভেতর কাপড়ে মোড়ানো কবজি দুটি উদ্ধার করা হয়।

    বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, শহরের মাটিডালি এলাকায় করতোয়া নদীর বেইলি ব্রিজের নিচে একটি পলিথিনের ব্যাগ নদীতে ভেসে যাচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ব্যাগটি পারে তুলে খুলে দেখতে পায় লাল রঙের কাপড়ে মোড়ানোর ভেতর হাতের দুটি কবজি। পরে পুলিশ খবর পেয়ে কবজি দুটি উদ্ধার করে।

    শাহিনুজ্জামান আরও জানান, কবজি দুটি কোনো নারীর। এটি দুই–তিন দিন আগের হতে পারে। কার হাতের কবজি তা শনাক্তের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়া হয়। কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্টে পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এ জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচয় শনাক্তের জন্য সিআইডির একটি টিম ঢাকা থেকে রওনা করেছে। কবজি দুটি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • গোদাগাড়ীতে কুরবানীর মাংশ নিয়ে বিপাকে, হঠাৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

    গোদাগাড়ীতে কুরবানীর মাংশ নিয়ে বিপাকে, হঠাৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের জোহরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম বাড়িতে ফ্রিজভর্তি কোরবানির মাংস। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ এলই না। তারা খোঁ খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, এলাকায় যে সৌরবিদ্যুতের প্ল্যান্ট ছিল, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ আর আসবেই না। তাই দুপুরের পর থেকে অনেকে পদ্মানদীর এপারে বস্তায় করে মাংশ নিয়ে এসে ফ্রিজে রাখছেন, অনেক বাড়ির নারীরা ফ্রিজ থেকে মাংশ বের করে রান্না শুরু করেন।

    গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চর কানাপাড়া গ্রামে এক প্রায়মারী স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, বিদ্যুৎ নেই, আসার সম্ভাবনা নেই, নষ্ট হওয়ার ভয়ে ২৫ কেজি মাংশ ফ্রিজ থেকে বের করে নানী দাদীদের মত পরানো পদ্ধিতে মাংশ জাল দেয়া শুরু করেছি, কি যে কষ্ট আপনাদের বলে বুঝাতে পারবো না। ঈদের পর একটু ঘুরাঘুরি করবো কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি, একই অবস্থা অন্য পরিবারের নারী সদস্যদের মাঝে ।
    শুধু কুরবনীর মাংশ নয়, মোবাইল চার্জ, টিভি, ফ্যান সবকিছু বন্ধ হয়ে পড়ে। চরের মানুষের জীবণ জীবিকায় নেমে আসবে প্রতিবন্ধকতা। পদ্মা নদীর ডান তীরে ভারতীয় সীমান্ত লাগোয়া এই ইউনিয়ন সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছিল প্রায় ৯ বছর আগে। সরকারের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) কারিগরি সহযোগিতায় চর আষাড়িয়াদহে সৌরবিদ্যুতের প্ল্যান্ট স্থাপন করেছিল বেসরকারি সংস্থা আভা। প্ল্যান্টটির নাম দেওয়া হয়েছিল আভা মিনি-গ্রীড প্রজেক্ট। কোনো ঘোষণা ছাড়াই বৃহস্পতিবার এই গ্রিডটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের জোহরুল মেম্বার বলেন, ‘প্রথম দিকে ২৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। বছর দু-এক থেকে শুধু দুপুরে জোহরের নামাজের সময় ১ ঘণ্টা, আসরের নামাজের সময় ৩০ মিনিট, মাগরিবের নামাজের সময় থেকে রাত ১০টা, রাত ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ দেওয়া হতো। এতে কোনোরকমে ফ্রিজটা চলত। কাল থেকে একেবারেই বন্ধ। ফ্রিজের ভেতর প্রায় ৪০ কেজি মাংস ছিল। এগুলো বের করে রান্না করা হচ্ছে। খাওয়া যাবে কি-না জানি না।’

    ভুবনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, আগে মোবাইলে চার্জ দিতে পদ্মা নদী নৌকায় পার হয়ে ওই পারে যেতে হতো। এতদিন সেই সমস্যা ছিল না কিন্তু গত বৃহস্পতি থেকে প্লান্টটি বন্ধ করায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে হচ্ছে। সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পেয়ে আলো জ্বালানো যেত, টিভি দেখতে পারি আর ফ্যানের বাতাস তো পাওয়া যায়। রাতে ছেলেমেয়েরা বিদ্যুতের আলোয় পড়ালেখা করতে পারে। এখন আর হবে না।

    কানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলেয়া বানু বলেন, বিদ্যুৎ আসার পরে গ্রামের অনেক পরিবর্তনই হয়েছে। এখন তো বন্ধ হয়ে গেল।

    আভার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্গম চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে সৌর বিদ্যুৎ দিতে ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর এ প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। এরপর চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের আষাড়িয়াদহসহ পানিপার, ভুবনপাড়া, কানপাড়া, হনুমন্তনগর ও নওশেরা গ্রামের প্রায় ১ হাজার ৩০০ পরিবারকে সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। প্রি-পেইড মিটারে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য গ্রাহককে দিতে হতো ৩০ টাকা। এরপরও লোকসান হচ্ছিল বলে আভার দাবি।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এই প্ল্যান্ট স্থাপনে প্রণোদনাও দেয়। আর কারিগরি সহায়তা করে সরকারের আরেক সংস্থা ইডকল। এই সংস্থাটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সমীক্ষাও করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, প্ল্যান্টটি চালালে প্রতি মাসে ১৫ লাখ টাকা করে লাভ করতে পারবে আভা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত লাভের মুখ দেখা যায়নি।

    এই প্ল্যান্টে মোট ৫৯৪টি সৌর বিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন করা আছে। এগুলোর বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বলা হয়েছিল ১৪৮ দশমিক ৫০ কিলোওয়াট। প্যানেলের কার্যক্ষমতা কমে বর্তমানে মাত্র ৬০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। এই বিদ্যুতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটারে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে বৃহস্পতিবার এই গ্রিডটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিদ্দিকুর রহমানের গ্রামেই এই গ্রিডটি স্থাপন করা হয়। শুক্রবার দুপুরে এই ইউপি সদস্যকে কল করা হলে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই বলে প্রতিবেশীর নিজস্ব সৌর বিদ্যুতে মোবাইল চার্জ দিয়েছিলাম। হঠাৎ করে ঈদের পর এভাবে বিদ্যুতের প্ল্যান্ট বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি। ফ্রিজের কোরবানির মাংস বের করে রান্না করতে হচ্ছে। চরের বেশির ভাগ মোবাইল চার্জের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্রিজ-টিভিগুলোর এখন কি হবে কেউ জানে না। প্রায় ৫ হাজার টাকা দিয়ে বাড়িতে বাড়িতে মিটার নিতে হয়েছে। সেটাও এখন লস।’

    জানা গেছে, আভা মিনি-গ্রীড প্রজেক্টের প্ল্যান্ট ব্যবস্থাপক হিসেবে শুরু থেকেই কর্মরত ছিলেন মিল্লাত হোসেন। এ ছাড়া আরও দুজন কর্মচারী সেখানে থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার মিল্লাত হোসেন এই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে প্ল্যান্ট বন্ধ করে চলে আসেন। যোগাযোগ করা হলে মিল্লাত হোসেন বলেন, ‘চাহিদা ১২০ কিলোওয়াটের। আর আমরা সরবরাহ করতে পারছিলাম মাত্র ৬০ কিলোওয়াট। সে কারণে প্ল্যান্ট বন্ধ করে চলে এসেছি।’

    সৌর বিদ্যুৎ ২-আভা মিনি গ্রীড প্রজেক্ট
    সৌর বিদ্যুৎ ২-আভা মিনি গ্রীড প্রজেক্ট।
    আভার মহাব্যবস্থাপক শালেউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘চাকরি ছাড়তে হলে অন্তত এক মাস আগে জানাতে হবে। তাহলে কর্তৃপক্ষ সেখানে নতুন লোক দেবে এবং কার্যক্রম চালু রাখবে। কিন্তু মিল্লাত চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েই প্ল্যান্ট বন্ধ করে চলে এসেছেন।’

    তিনি বলেন, চাহিদামতো বিদ্যুৎ দিতে না পারার কারণে লোকজন মন্দ কথা বলতেন। তাই হয়তো মিল্লাত চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

    শালেউদ্দীন আহমেদ আরও বলেন, ‘এই প্ল্যান্টটি আসলে চালানো সম্ভব না। ২৪ ঘণ্টার ভেতরে ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিয়েও প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ টাকা লোকসান হচ্ছিল। অথচ কার্যক্রম শুরুর আগে ইডকল যাদের দিয়ে সমীক্ষা করিয়েছিল, তারা বলেছিল মাসে ১৫ লাখ টাকা লাভ হবে। লাভ তো দূরের কথা, পরিবেশবান্ধব এই প্ল্যান্টে সৌরবিদ্যুৎ ছাড়াও ডিজেল দিয়ে জেনারেটর চালিয়েও চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি। বিষয়টি স্রেডা এবং ইডকলও জানে।’

    তিনি বলেন, ‘সবকিছু পর্যালোচনা করে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় দুই বছর আগে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) সঙ্গে আভার চুক্তি হয়েছে। কথা ছিল, সাব-মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে নেসকো পদ্মার ওপারের চরে বিদ্যুৎ নিয়ে যাবে। তারপর তারাই চরবাসীকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ দেবে। আর সৌর প্ল্যান্টে যেটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে সেটা আভা নেসকোর কাছে বিক্রি করবে। কথা ছিল, এই চুক্তির ছয় মাসের মধ্যে নেসকো তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত নেসকো কার্যক্রম শুরু করেনি।’

    গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল বলেন, ‘কালকেই আমি শুনেছি যে আভা তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। এতে চরের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত যেন এ প্ল্যান্ট চালু করা হয় তার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। সাব-মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে যদি বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে সেটাও যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন করা হয়। তা না হলে চরের জীবন-জীবিকা আবার থমকে যাবে।’

    নেসকোর নির্বাহী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ স্থায়ী সমাধান নয়। এটি যুগ যুগ চলবেও না। দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যুৎ দিতে সরকারের অগ্রাধিকার ছিল বলে নেসকো বিনা মূল্যেই আভাকে নানা সহযোগিতা করেছে। কিন্তু নদী পার করে সাব-মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়া সহজ কাজ নয়। আভার সঙ্গে এ রকম কোন চুক্তিও ছিল না। আভা সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিলে আমাকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তারপর দেখি কী করা যায়!’

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।