Blog

  • নড়াইলের রুপা বাবার সন্ধানে পথে পথে

    নড়াইলের রুপা বাবার সন্ধানে পথে পথে

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইলের রুপা বাবার সন্ধানে পথে পথে। তখন আমার বয়স চার বছর। বাবা সবজি বিক্রি করতে খুলনায় যান। এরপর আর ফেরেননি। তাঁর কোনো ছবি নেই। চেহারাও পরিষ্কার মনে নাই। বাবার কথা যখন কেউ জিজ্ঞেস করে কলিজা ছিঁড়ে যায়। শ্বশুর বাড়িতে বাবার প্রসঙ্গ উঠলেই কটু কথা শোনায়। অথচ বাবা আমাদের সাথেই ছিলেন। নানা বাড়ি এলাকায় থেকে ব্যবসা করেছেন। কত মানুষ চেনে তাঁকে। সব সময় তার কথা মনে পড়ে। নানা কারণে তাঁর খোঁজ করা হয় নাই। ইদানিং খুব বেশি মনে পড়ছিল। তাই বাবাকে খুঁজতে চাটমোহরে এসেছি। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নড়াইল থেকে আসা রূপা খাতুন (২৫)। গত মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিকেলে উপজেলা গেট এলাকায় দেখা যায় তাকে। রুপা নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ছোট কালিয়া এলাকায় নানার বাড়িতে থাকেন। তাঁর বাবার নাম নুর ইসলাম মোল্লা।
    জানা গেছে, ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর আগে তাঁর বাবা চাটমোহরের নুর ইসলাম মোল্লা কালিয়ার শুক্তগ্রামে যান। সেখানে গফফার আলী নামে এক ব্যক্তির আশ্রয়ে ছিলেন। পরে ছোট কালিয়া গ্রামের আলতাব মোল্লার মেয়ে রহিমা বেগমকে (রুপার মা) বিয়ে করেন। বিয়ের পর আলতাব মোল্লার বাড়িতে স্ত্রীসহ বসবাস করছিলেন। এলাকায় একটি কাঁচা মালের (সবজী) দোকান দেন। বড় কালিয়া এলাকায় ছয় শতাংশ জমিও কেনেন। নুর ইসলাম মোল্লা এবং রহিমা বেগমের সংসারে রুপা খাতুন এবং নুরজাহান নামে দুই সন্তানের জন্ম হয়। ভালই কাটছিল তাদের দিন। চৌদ্দ থেকে পনেরো বছর বসবাসের পর রুপার তখন চার বছর বয়স। একদিন পাতা কপি বিক্রি করতে খুলনায় যান নুর ইসলাম মোল্লা। এরপর আর ফেরেননি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ করেও রুপার মা, মামারা তাঁর সন্ধান পাননি।
    অভিমানে রহিমা বেগমও কখনও স্বামীকে খুঁজতে আসেননি চাটমোহরে। শুধু এটুকু শুনেছেন নুর ইসলাম মোল্লার বাড়ি চাটমোহরের দিয়ার বা দিয়ারা নামের কোনো গ্রামে। রহিমা বেগম তার মেয়ে রুপা ও নুরজাহানকে নিয়ে ভাইয়ের আশ্রয়ে রয়েছেন। দুই মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন। রুপা বলেন, তার বাবার বয়স এখন ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হবে। পাঁচ ফিট ছয় ইঞ্চি লম্বা। মুখে হালকা চাপ দাড়ি ছিল। বাবার কোন ছবিও নেই তাদের কাছে। বাবা মা–মামাকে তার বাড়ি চাটমোহরে বলেছিলেন। এটা সত্য না মিথ্যা জানা নেই। তিনি বেঁচে আছেন না কি মরে গেছেন তাও জানি না। শুনেছি আমার দাদার নাম আব্দুল মোল্লা। বাবাকে খুঁজে না পেলে কষ্ট পাব। রুপা তার বাবাকে খুঁজে পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

  • আম নিয়ে কিছু কথা।

    আম নিয়ে কিছু কথা।

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ আম একটি সুমিষ্টি ফল, আম ভাল লাগে এমন মানষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম হলে তো কথায় নেই। আমের ইতিহাস, প্রকারভেদ, বিভিন্ন আমের নামকরণ, বাংলাদেশে আমের রাজধানী সম্পর্কে লিখার জন্য তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে লিখা শুরু করলাম।

    আমের বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা, সংস্কৃতে আম্র, বাংলায় আম, ইংরেজিতে ম্যাংগো, মালয় ও জাভা ভাষায় ম্যাঙ্গা, তামিল ভাষায় ম্যাংকে এবং চীনা ভাষায় ম্যাংকাও। আম অর্থ সাধারণ। সাধারণের ফল আম। রসাল বা মধু ফলও বলা হয় আমকে। রামায়ণ ও মহাভারতে আম্রকানন এবং আম্রকুঞ্জ শব্দের দেখা মেলে। ধারণা করা হয়। আম প্রায় সাড়ে ৬০০ বছরের পুরনো।

    আমের জন্মস্থান নিয়ে রয়েছে নানা তর্ক-বিতর্ক। বৈজ্ঞানিক ‘ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা’ নামের এ ফল ভারতীয় অঞ্চলের কোথায় প্রথম দেখা গেছে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আমাদের এ জনপদেই যে আমের আদিবাস এ সম্পর্কে আম বিজ্ঞানীরা একমত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭-এ আলেকজান্ডার সিন্ধু উপত্যকায় আম দেখে ও খেয়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন। এ সময়ই আম ছড়িয়ে পড়ে মালয় উপদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ ও মাদাগাস্কারে।

    চীন পর্যটক হিউয়েন সাং ৬৩২ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এ অঞ্চলে ভ্রমণে এসে বাংলাদেশের আমকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করেন। ১৩৩১ খ্রিস্টাব্দ থেকে আফ্রিকায় আম চাষ শুরু হয়। এরপর ১৬ শতাব্দীতে পারস্য উপসাগরে, ১৬৯০ সালে ইংল্যান্ডের কাচের ঘরে, ১৭ শতাব্দীতে ইয়েমেনে, উনবিংশ শতাব্দীতে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে, ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইতালিতে আম চাষের খবর জানা যায়। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মাটিতে প্রথম আমের আঁটি থেকে গাছ হয়। এভাবেই আম ফলটি বিশ্ববাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়।

    জানা যায়, মোগল সম্রাট আকবর ভারতের শাহবাগের দাঁড়ভাঙায় এক লাখ আমের চারা রোপণ করে উপমহাদেশে প্রথম একটি উন্নত জাতের আম বাগান সৃষ্টি করেন। আমের আছে বাহারি নাম বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদ। ফজলি, আশ্বিনা, ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ, মোহনভোগ, জিলাপিভোগ, লক্ষণভোগ, মিছরিভোগ, বোম্বাই ক্ষীরভোগ, বৃন্দাবনী, চন্দনী, হাজিডাঙ্গ, সিঁদুরা, গিরিয়াধারী, বউভুলানী, জামাইপছন্দ, বাদশভোগ, রানীভোগ, দুধসর, মিছরিকান্ত, বাতাসা, মধুচুসকি, রাজভোগ, মেহেরসাগর, কালীভোগ, সুন্দরী, গোলাপবাস, পানবোঁটা, দেলসাদ, কাটিমন, কালপাহাড়সহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাওয়া যায় প্রায় ৩০০ জাতের আম। তবে অনেকগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়।

    বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ হিসেবে আম গাছকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জাতীয় বৃক্ষ হিসেবে আম গাছকে নির্বাচন করা হয়। সবচেয়ে দামি ও জনপ্রিয় আমের নাম আলফানসো। ভারতে উৎপাদিত এ জাতের এক কেজি আমের দাম প্রায় ৪০০ রুপি। জাপানের মিয়াজাকি আম সব চেয়ে বেশি দাম, প্রতি কেজি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মিয়ানমারের জনপ্রিয় আম রাঙ্গু দেখতে আকর্ষণীয়, খেতে সুস্বাদু। ভারতের আম গবেষকরা ১৯৭৮ সালে দশহরি ও নিলাম এ দুটি আমের মধ্যে সংকরায়ণের মাধ্যমে পৃথিবীর বিস্ময়কর জাতের আম উদ্ভাবন করেন; যার নাম আম্রপালি
    আম্রপালি: আম্রপালি আমকে অনেকেই আম রুপালি হিসেবে চিনে। আসলে এই আমটির আসল নাম আম্রপালি। ভারতের গবেষকরা পৃথিবীর বিস্ময়কর এক আম সৃষ্টি করেছেন। এই সেই আম্রপালি। ভারতের শ্রেষ্ঠ নর্তকীর নাম ছিল আম্রপালি।
    এই জাতের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত আমাদের দেশের আবহাওয়ার কারণে উন্নত জাতের আম এক গাছে এক বছর ফলে পরের বছর ফলে না। কিন্তু আম্রপালি প্রতিবছর ফলে।
    বাংলাদেশের মানুষ গ্রীষ্মের দুঃসহ গরম, দরদর ঘাম, সব কিছুর পরেও এ ঋতুর জন্য আমজনতার অপেক্ষার অন্যতম কারণ আম। ফজলি থেকে ল্যাংড়া, গোলাপখাস থেকে হিমসাগর- বাংলার এই বিপুল আমসাম্রাজ্য বহু শতক ধরে বয়ে আনছে এর আভিজাত্য। যেমন গন্ধ, তেমনই তার স্বাদ। কিন্তু জানেন কি, প্রত্যেক আমের নামকরণের নেপথ্যে ঠিক কী ইতিহাস লুকিয়ে আছে?

    ১৮০০ সালে মালড় দহঢ়জেলার কালেক্টর রাজভেনশ এই আমের নামকরণ করেন ‘ফজলি’। কথিত, ফজলি বিবি নামক এক প্রৌঢ়া বাস করতেন স্বাধীন সুলতানদের ধ্বংসপ্রাপ্ত গৌড়ের একটি প্রাচীন কুঠিতে। তাঁর বাড়ির উঠোনেই ছিল একটি আমগাছ। ফজলি এই গাছটির খুব যত্ন নিতেন। এলাকার ফকির বা সন্ন্যাসীরা সেই আমের ভাগ পেতেন।
    কালেক্টর রাজভেনশ একবার ফজলি বিবির কুঠিরের কাছে শিবির স্থাপন করেন। তাঁর আগমনের খবর পেয়ে ফজলি বিবি সেই আম নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। রাজভেনশ সেই আম খেয়ে খুবই তৃপ্ত হন। জানতে চান, সেই নামের নাম। কিন্তু ইংরেজি না বুঝে শুধু ‘নেম’ শুনেই নিজের নাম বলে দেন ফজলি বিবি। সেই থেকেই এই আমের নাম হয় ‘ফজলি’।

    ল্যাংড়া:
    মুঘল আমলে দ্বারভাঙায় এই প্রকারের আম চাষ শুরু হয়। কিন্তু তখন কেউ এর নাম নিয়ে মাথা ঘামায়নি। পরে আঠারো শতকে এক ফকির খুব সুস্বাদু এই আমের চাষ করেন। সেই ফকিরের পায়ে কিছু সমস্যা ছিল। সেই থেকেই নাকি ওই আমের নাম হয়ে যায় ‘ল্যাংড়া’।

    লক্ষ্মণভোগ ও গোপালভোগঃ ইংরেজ বাজারের চন্ডীপুরের বাসিন্দা লক্ষ্মণ একটি আম গাছ রোপণ করেন। স্বাদে-গন্ধে সেই আম ছিল তুলনাহীন। লক্ষ্মণ চাষির নাম থেকেই লক্ষ্মণভোগ আমের উৎপত্তি। ইংরেজ বাজারে নরহাট্টার গোপাল চাষির নামে আবার নাম হয় গোপালভোগের।

    গোলাপখাস: এ আম বিখ্যাত তার গন্ধের জন্য। মিষ্টি গোলাপের গন্ধ বহন করে বলে এই আমকে এই নামে ডাকার চল শুরু হয়ে যায়। প্রাচীন বাংলার আমগুলোর মধ্যে গোলাপখাস অন্যতম। এই আমের গায়ে গোলাপের রঙের লালচে আভা থাকে।

    গুটি ও আশ্বিনা: চেহারায় ছো়ট এক প্রকারের আম খেয়ে সেই আঁটি নিজের বাগানে পুঁতেছিলেন মালদহের এক দরিদ্র কৃষক। সেই আঁটি থেকেই জন্ম নিয়েছিল আরেক আমগাছ। কাঁচা অবস্থায় টক। কিন্তু পাকলে খুব মিষ্টি। আঁটি বা গুটি থেকে গাছটি জন্মায় বলে আমের নামও হয়ে যায় ‘গুটি’। এ দিকে আশ্বিন মাসে পাকে যে আম তাকে ‘আশ্বিনা’ বলে চেনে বাংলাদেশের মানুষ।

    কথিত আছে, স্বয়ং গৌতম বুদ্ধকে একটি আম্রকানন উপহার দেওয়া হয়েছিল যেন তিনি তার ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারেন। প্রাচীনকালে আমের কদর আর গুরুত্ব বোঝাতে সংস্কৃতে এর নামকরণ করা হয় আম, যার অর্থ মজুদ খাদ্য বা রসদ। বাংলাদেশে আম একটি জনপ্রিয় ফল। বহু বছর ধরে আভিজাত্য বহন করছে আমের এই অদ্ভুত নামগুলো। কিন্তু প্রত্যেকটি আমের নামকরণের পেছনে রয়েছে ইতিহাস। আসুন জেনে নেই এমন নামের কারণ।

    দশেরি আম: উত্তর প্রদেশের আমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাদশাহি খানদানের ইতিহাস৷ যেমন আমের রাজা দশেরির কথাই ধরা যাক৷ উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষৌ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা পার হলে পড়ে মালিহাবাদ নামে একটা জায়গা৷ উন্নত প্রজাতির আম দশেরির জন্য এই এলাকা চিহ্নিত৷ এখানে ৩৫ হাজার হেক্টর জমি জুড়ে আছে আমের বাগান৷ রাজ্যের মোট আমের ফলনের ১২.৫ শতাংশ আম এই মালিহাবাদেই হয়৷ তাই মালিহাবাদকে বলা হয় ‘‘আমের রাজধানী”৷
    স্থানীয় লোকজনদের মতে অবশ্য মালিহাবাদ এবং দশেরি আম নিয়ে নানা গল্পকথা আছে৷ কেউ কেউ বলেন, প্রায় ২০০ বছর আগে ফকির মহম্মদ খান ওরফে গয়া মালিহাবাদির নেতৃত্বে একদল আফ্রিদি পাঠান ভাগ্যান্বেশনে আফগানিস্তানের সীমান্তে খাইবার গিরিপথের এক গ্রাম থেকে পেশাওয়ার হয়ে হিন্দুস্থানে আসে৷ প্রথমে তাঁরা আসে উত্তর প্রদেশের ফারুকাবাদে৷ সেখান থেকে অবধ-লক্ষৌ-এ৷ মহম্মদ খানের বীরত্ব এবং যুদ্ধ বিদ্যার নৈপূণ্য দেখে অবধের নবাব খুশি হন৷ বকশিস হিসেবে মহম্মদ খান ফলের বাগান করার অনুমতি প্রার্থনা করেন নবাব বাহাদুরের কাছে৷ সঙ্গে সঙ্গে তা মঞ্জুর হয়৷ কথিত আছে, মহম্মদ খান প্রথম মালিহাবাদে আমের চারা রোপণ করেন৷
    তবে দশেরি আম বাগান সবই এককালে ছিল নবাবদের৷ পরে অন্যান্যের ইজারা দেয়া হয়৷ বাংলায় আমের খ্যাতি এককালে ছিল মুর্শিদাবাদের নবাব আমলে৷

    এদিকে জানা গেছে, আম্রপলি আমের মিষ্টতার পরিমাণ ল্যাংড়া বা হিমসাগরের চেয়ে বেশি। গাছ বামন আকৃতির। ফলনও বেশি। পাঁচ হাত দূরত্বে এক হেক্টর জমিতে এক হাজার ৫০০ আম্রপালির চারা রোপণ করা যায়। আমের আকার লম্বাটে। আষাঢ় মাসে পাকে। গড় মিষ্টতার পরিমাণ ২৩ শতাংশের বেশি। আঁটি সরু। সুস্বাদু আঁশবিহীন। ১৯৯০ সালে প্রথম আমাদের দেশে আম্রপালির চারা আসে। বর্তমানে দেশে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় আম্রপালির চারা কিনতে পাওয়া যায়। যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা জেলায় আম্রপালির অনেক বড় বড় বাগান রয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য এলাকায়ও এখন প্রচুর পরিমাণে আম্রপালি চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে ১৬ মেট্রিক টন আম্রপালি ফলে। আম্রপালি অনেকটা সবজির মতো। প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ সার দেওয়া প্রয়োজন। ১২-১৪ বছর বয়স হলে গাছ কেটে নতুন চারা লাগালে ভালো হয়। এর কারণ হচ্ছে, বয়সী আম্রপালি গাছের ফল ছোট হয় ও ফলন কমে যায়। আম্রপালি অতুলনীয় মিষ্টি স্বাদযুক্ত একটি আম। এর রং ও গন্ধ অসাধারন। এই আম সাইজে কিছুটা লম্বা ও ছোট। আম রুপালি ওজনে ৭৫ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। কম আঁশ যুক্ত এই আমটির খোসা পাতলা এবং আঁটিও পাতলা। আম্রপালি সাধারনত ফজলি আমের পরে আসে।

    হাড়িভাঙ্গা আম: বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জমিদার বাড়ীর বাগানে প্রজাবাৎসল, উদারমনা ও সৌখিন রাজা তাজ বাহাদুর শিং এর আমলে আমদানিকৃত ও রোপিত বিভিন্ন প্রজাতির সুগন্ধিযুক্ত ফুল ও সুস্বাদু ফলের বাগান ছিল যা ১৯৮৮ সালের বন্যা ও ভাঙ্গনে যমুনেশ্বরী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ১নং খোরাগাছ ইউনিয়নের তেকানী গ্রামের মৃত নফল উদ্দিন পাইকার, পিতা মৃতঃ তমির উদ্দিন পাইকার আমের ব্যবসা করতেন। তিনি জমিদারের বাগানসহ অন্য আম চাষীদের আম পদাগঞ্জসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতেন। জমিদার বাগানের আমদানীকৃত আমের মধ্যে একটি আম অত্যন্ত সুস্বাদু, সুমিষ্ট ও দর্শনীয় হওয়ায় তিনি উহার একটি কলম (চারা) নিয়ে এসে নিজ জমিতে রোপন করেন। বরেন্দ্র প্রকৃতির জমি হওয়ায় শুকনো মৌসুমে গাছের গোড়ায় পানি দেয়ার সুবিধার্থে একটি হাড়ি বসিয়ে ফিল্টার পদ্ধতিতে পানি সেচের ব্যবস্থা করেন কিন্তু অল্পদিনের ব্যবধানে কে বা কারা ওই হাড়িটি ভেঙ্গে ফেলেন। কালের বিবর্তনে বৃক্ষটি ফলবান বৃক্ষে পরিণত হয়। মৃত নফল উদ্দিনের পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও ভোক্তাবৃন্দ ওই গাছের আম খাওয়ার পর এত সুস্বাদু আমের উৎস সম্বন্ধে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, কে বা কারা যে গাছটির হাড়ি ভেঙ্গে দিয়েছিল এটি সেই গাছেরই আম। গাছকে সনাক্তকরণের লক্ষ্যে নফল উদ্দিন কর্তৃক উচ্চারিত বা মুখ নিঃসৃত হাড়িভাঙ্গা কথার সূত্র ধরেই পরবর্তীতে এটি “হাড়িভাঙ্গা” নামে পরিচিত লাভ করে।
    হাড়িভাঙ্গা আম গাছের চেহারা লক্ষ্যণীয় ও আকর্ষণীয়। ডগা বা ছায়ন পূষ্ট ও বলিষ্ঠ। উহার ছায়ন দ্বারা গ্রাফটিং করলে বা ডালে জোড়কলম লাগালের গাছ অতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অল্প দিনের মধ্যে ডালপালা বিস্তৃত হয়ে গাছের পরিধি লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়ে যায়। চারা রোপনের পরবর্তী বছরেই মুকুল আসে, তবে প্রথম বছরে মুকুল ভেঙ্গে দিলে গাছের ডগার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ও বলিষ্ঠ হয়ে ওঠে। হাড়িভাঙ্গা আম গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো গাছের ডালপালা উর্ধ্বমূখী বা আকাশচুম্বী হওয়ার চেয়ে পাশে বেশী বিস্তৃত হতে দেখা যায়। ফলে উচ্চতা কম হওয়ায় ঝড়-বাতাসে গাছ উপড়ে পড়েনা এবং আমও কম ঝড়ে পড়ে। আমটির উপরিভাগ বেশী মোটা ও চওড়া, নিচের অংশ অপেক্ষাকৃত চিকন। আমটি দেখতে সুঠাম ও মাংসালো, শ্বাস গোলাকার ও একটু লম্বা। আমের তুলনায় শ্বাস অনেক ছোট, ভিতরে আঁশ নেই। আকারের তুলনায় অন্য আমের চেয়ে ওজনে বেশী, গড়ে ৩টি আমে ১ কেজি হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে একটি আম ৫০০/৭০০ গ্রাম হয়ে থাকে। পুষ্ট আম বেশী দিন অটুট থাকে। চামড়া কুচকে যায় তবুও পঁচে না। ছোট থেকে পাকা পর্যন্ত একেক স্তরে একেক স্বাদ পাওয়া যায়। তবে আমটি খুব বেশী না পাঁকানোই ভাল। এছাড়াও অনেক নামে আম আছে তাঁর নামকরণের সঠিক ইতিহাস আমাদের জানা নেই। তবে অনুসন্ধান চলছে এইসব আমের নামের সঠিক ইতহাস জানা থাকলে আমাদের জানাতে পারেন, আমরা তা তুলে ধরবো বিশ্ব দরবারে। যেমনঃ- খিরসা, অরুনা, মল্লিকা, সুবর্নরেখা, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, কাঁচামিঠা, আলফানসো, বারোমাসি, তোতাপূরী, কারাবাউ, কেঊই সাউই, গোপাল খাস, কেন্ট, সূর্যপূরী, পাহুতান, ত্রিফলা, ছাতাপরা, গুঠলি, লখনা, আদাইরা, কলাবতী ইত্যাদি।
    আমাদের দেশে যেসব ফল উৎপন্ন হয় তার মধ্যে আমের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। আমের নানাবিধ ব্যবহার, স্বাদণ্ডগন্ধ ও পুষ্টিমাণের জন্য এটি একটি আদর্শ ফল হিসেবে পরিচিত। তাই আমকে ফলের রাজা বলা হয়। বাংলাদেশের মাটি, জলবায়ু, আবহাওয়া সবই আমচাষের উপযোগী। দেশের প্রায় সব জেলায়ই আম ফলে। এমনকি উপকূলীয় লবণাক্ত ভূমিতেও এখন মিষ্টি আমের চাষ হচ্ছে। পার্বত্য জেলার জুমচাষ এলাকায়ও উন্নত জাতের আম ফলছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা,সাতক্ষীরা, যশোর আমচাষের শীর্ষে অবস্থান করছে।
    বড় আম বাজার: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় রয়েছে অনেক আম বাজার। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে মহানন্দা নদীর ধারে পুরাতন বাজার, গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর বাজার ও শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট বাজার অন্যতম ৩টি বড় বাজার। কানসাট হচ্ছে জেলার সবচেয়ে বড় আম বাজার। এখানে রয়েছে ছোট বড় প্রায় ২৫০টি আমের আড়ত।
    সমম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমান্স কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘রফতানি যোগ্য আম উৎপাদন বৃদ্ধির আধুনিক কলাকৌশল এবং সংগ্রহত্তোর ব্যবস্থাপনা এবং আম ও আমজাত পণ্যের রফতানি সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আম গবেষক ও কৃষিবিদদের উপস্থাপিত প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রডিউসার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ওই কর্মশালার আয়োজন করে। প্রতি বছর ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন আম উৎপাদন করে বিশ্ব আম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম স্থানে। এক কোটি ৬৩ লাখ ৩৭ হাজার টন আম উৎপাদন করে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। তালিকায় চীনের অবস্থান দ্বিতীয় এবং ৪র্থ অবস্থানে আছে পাকিস্তান। ভারত, চীন ও পাকিস্থান থেকে বিপুল পরিমাণ আম ও আমজাত পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। সে তুলনায় বাংলাদেশ থেকে রফতানির পরিমাণ খুবই কম। মালয়েশিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, হংকংসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাসায়নিক মুক্ত আম ও আমজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত, চীন ও পাকিস্তান থেকে প্রচুর আম রফতানি হয়। কিন্তু শর্ত পূরণ করতে না পারার কারণে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ আম রফতানি করা যাচ্ছে না। আশার কথা, রফতানি উপযোগী আম চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের গবেষকগণ। সারা দেশে যে আমের চাহিদা তার বেশির ভাগ উৎপাদিত হয় রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৩ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার। আর রাজশাহী জেলায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে ১০ লাখ আম গাছ। কিন্তু আম সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার কোনো সুযোগ না থাকায় চাষিরা আমের ন্যায্য দাম প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অঞ্চলে আম ভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন এবং আম সংরক্ষণ ও বিদেশে রফতানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।
    আম রপ্তানির সম্ভাবনা এদেশের মাটি, জলবায়ু ও ভৌগলিক অবস্থান উপযোগী হওয়ায় এবং শ্রমিকের সহজলভ্যতা থাকায় গুণগতভাবে উৎকৃষ্ট আম উৎপাদন সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারে আমের স্থায়ী রপ্তানি বাজার রয়েছে এবং এথনিক ও নিচি মার্কেটের সুবিধাও রয়েছে। বিধায় বর্তমানে বিদেশে আম রপ্তানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আমদানি রপ্তানি ব্যুরো এবং হর্টেক্স ফাউন্ডেশনকে সক্রিয় হতে হবে। আম রপ্তানির জন্য নিচের বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ-
    রাসায়নিকের ব্যবহার এবং রফতানিযোগ্য আমের জাতের অভাব ছাড়াও আম রফতানির ক্ষেত্রে আরো অনেক বাধা রয়েছে বাংলাদেশে। যেমন-আমের সীমিত প্রাপ্তিকাল, গরমপানি শোধন ব্যবস্থার অভাব, অপর্যাপ্ত সংগ্রহত্তোর ব্যবস্থাপনা- বিশেষ করে অনুন্নত প্যাকেজিং ও পরিবহন ব্যবস্থা, আম উৎপাদকারী ,
    ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া, প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের অভাব, বিদেশী আমদানিকারকদের সাথে সুসম্পর্কের অভাব, ফাইটো স্যানেটারি সার্টিফিকেট নিতে ঝামেলা ইত্যাদি। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে মাত্র তিন হাজার ১৫০ মেট্রিক টন আম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে, যা উৎপাদনের তুলনায় অত্যন্ত কম। বাংলাদেশ থেকে ল্যাংড়া, ফজলি, হিমসাগর এবং আশ্বিনা জাতের আম রফতানি হয়ে থাকে। বারি আম-২ ও বারি আম-৭ বিদেশে রফতানির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আম আমদানিকারক দেশগুলো হলো যুক্তরাজ্য, জার্মানী, ইটারী, সৌদিআরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান। উল্লিখিত দেশগুলির প্রবাসী বাংলাদেশীরাই প্রধানত এসব আমের ক্রেতা। আশার কথা বর্তমানে বেশ কিছু সংখ্যক কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে কাঁচামাল হিসেব আম সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব শিল্প করাখানর মধ্যে রয়েছে প্রাণ, একমি, ড্যানিশ, বিডি ফুড, সেজান, আকিজ গ্রুপ উল্লেখযোগ্য। এসব শিল্প কারখানায় আমের শাঁস ও কাঁচা আম সংরক্ষণ করা হয়, যা থেকে পরবর্তীতে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে বাজারজাত করা হয়। আম থেকে উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ম্যাগুজুস, আচার, চাটনী, আমসত্ত্ব, জ্যাম, জেলি, ক্যান্ডি ইত্যাদি। আমের জুস ও ফ্রুট ড্রিংকস স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে বিশ্বের বহু দেশে। প্রতি বছর আমের জুস রফতানি হচ্ছে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন এবং এর মাধ্যমে বছরে আয় হচ্ছে বছরে ১০ কোটি ডলারের ওপর। শুধু প্রক্রিয়াকরণের অভাবেই দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২৭ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়, পাকিস্তানে এর পরিমাণ শতকরা ৪০ শতাংশ। কৃষি বিভাগ হতে জানা যায়, দেশে উৎপাদিত আমের শতকরা ০.৫০ ভাগ প্রক্রিয়াজাত করা হয়। যেখানে ভারতে এ হার শতকরা ২ ভাগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে ৭০ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৮৩ শতাংশ, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে এই হার ৭৩ শতাংশ।

    চাপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদনের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন। অদূর ভবিষ্যতে সহজ পদ্ধতিতে কীটনাশক মুক্ত আম উৎপাদন করা যাবে। এতে কীটনাশকের ব্যবহার যেমন কমবে, তেমনি স্বাস্থ্য সম্মত আম খেতে পারবে ভোক্তা সাধারণ। পরিবর্তিত আবহাওয়া উপযোগী আমের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং সম্ভাবনাময় বিশেষ করে পাহাড়ী ও উপকূলীয় অঞ্চলে আমের চাষ সম্প্রাসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।
    এ ছাড়া তাপ ও খরা সহিষ্ণু জাতগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, সে বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন দেশের উদ্যানতত্ত্ববিদগণ। দেশে আমের উৎপাদন ও রফতানি বাড়াতে হলে- সরকারি পর্যায়ে উচ্চ ফলনশীল ও রফতানি উপযোগী বিভিন্ন প্রকার আমের জাত উদ্ভাবন করে আম চাষিদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। চাঁপাই নবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুরসহ বিশেষ আম উৎপাদন অঞ্চলে আম সংরণ ও প্রক্রিয়াকরণ শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হবে। আম উৎপাদনকারী ,ব্যবসায়ী ও রফতানিকারদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আম উৎপাদনকারী চাষিদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আম উৎপাদনকারী প্রতিবেশী দেশগুলির উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানির অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদেরকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশে আরো জার্ম প্লাজম সেন্টার ও মাতৃ বাগান সৃষ্টি করে আমের উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা নিতে হবে। বেসরকারি পর্যায়ে আরো অধিক নার্সারী স্থাপন করে গ্রাম পর্যায়ে বসতভিটাতে উন্নত জাতের আম গাছ রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে আমের উৎপাদন বাড়তে হবে। রাস্তার দু’ধারে, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে উন্নত জাতের আমের চারা রোপণ ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। গরম পানিতে আম শোধনের জন্য আধুনিক হট ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করতে হবে। আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্যাকিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বিদেশে আম রফতানির ব্যাপারে সরকারি তৎপরতা ও সহায়তা আরো বাড়াতে হবে।
    আয়ুর্বেদি ও ইউনানি পদ্ধতির চিকিৎসায় পাকা ফল ল্যাকজেটিভ, রোচক ও টনিক বা বলকারকরূপে ব্যবহৃত হয়। রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে পাকা আম এমনকি কাঁচা আম মহৌষধ। আমগাছের কচি পাতার রস দাঁতের ব্যথা উপশমকারী। আমের শুকনো মুকুল পাতলা পায়খানা, পুরোনো আমাশয় ও প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা উপশম করে। জ্বর, বুকের ব্যথা, বহুমূত্র রোগের জন্য আমের পাতার চূর্ণ ব্যবহার করা হয়।
    বাংলাদেশের সর্বত্র আমের ফলন হয়। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও ও রংপুর জেলায় ভালো জন্মে। ফল হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি আম থেকে চাটনি, আচার, আমসত্ত্ব, মোরব্বা, জ্যাম, জেলি ও জুস তৈরি হয়।
    ফলের রাজা ‘আম’ এবং আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবার প্রিয় ফল ‘আম’ এর অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে অন্যান্য শিল্পের মতো অগ্রাধিকার প্রদান করে সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে আম শিল্পের বিকাশে এখনই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই শিল্পে নানাবিধ সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে

    মো: হায়দার আলী সভাপতি জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, গোদাগাড়ী উপজেলা শাখা,
    প্রধান শিক্ষক
    মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।
    তারিখঃ ০৫/০৭/২০২৪ ইং

    পরিসংখ্যান বিভাগের এক হিসাব অনুযায়ী দেশে ৩২ হাজার হেক্টর অর্থাৎ ৭৮ হাজার ১৯৫ একর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। প্রতিবছর ফলন হচ্ছে আট লাখ দুই হাজার ৭৫০ টন। বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়। আর আম চাষের এলাকা তো প্রতিবছরই বাড়ছে। উৎপাদনও বাড়ছে। আর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের মাথাপিছু আম উৎপাদনের পরিমাণ দেড় কেজির মতো। ভারতে মাথাপিছু ১১ কেজি, পাকিস্তানে ৬ কেজি, মেলঙ্কাতে ৯ কেজি, ফিলিপাইনে ৬ কেজি, তানজানিয়ায় ৭ কেজি, সুদানে সাড়ে ৭ কেজি, জায়ারে ৫ কেজি এবং হাইতিতে ৫৫ কেজি।

    মোঃ হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

  • তানোর গ্রামীণ  ব্যাংক ঋণগ্রহীতাদের জিম্মি করে চারা বাণিজ্যঃতোলপাড়

    তানোর গ্রামীণ ব্যাংক ঋণগ্রহীতাদের জিম্মি করে চারা বাণিজ্যঃতোলপাড়

    আলিফ হোসেন, তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে গ্রামীণ ব্যাংক ম্যানেজার রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে গাছের চারা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঋণ গ্রহীতাদের জিম্মি ও তাদের কাছে গাছের চারা বিক্রি করে প্রায় ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এলাকার হতদরিদ্র ঋণ গ্রহীতা গ্রাহকদের জিম্মি করে তাদের গাছের চারা কিনতে বাধ্য করা হয়েছে।এঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়। অন্যদিকে নোবেল বিজয়ী এই প্রতিষ্ঠানের চরম ইমেজ সংকট দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছে চারা কিনে গ্রাহকদের কাছে মাথা পিছু দুটি গাছের চারা দিয়ে একশ’ টাকা করে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। অথচ বাজারে এসব চারা গাছের মুল্য সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ টাকা।
    জানা গেছে, তানোর গ্রামীণ ব্যাংকের (সদর) শাখায় গ্রাহক রয়েছে প্রায় তিন হাজার। গত বৃহস্প্রতিবা সরেজমিন দেখা গেছে, ঋণ গ্রহীতা প্রতিটি গ্রাহককে দুটি করে গাছের চারা কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রতিটি চারার দাম নেয়া হচ্ছে ৫০ টাকা করে। এসময় দেখা যায় কয়েকজন গ্রাহক সকাল থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত বসে আছেন। গাছের চারা না নেয়ায় তাদের ঋণ দেয়া হয়নি।তারা বলেন, ৫০ টাকা সঞ্চয় বকেয়া থাকলে ঋণ দেয়া হয়না, তাহলে গাছ কেনো কিনতে হবে ? তানোর পৌর সদরের একাধিক গ্রাহক জানান, গাছ না কিনলে ঋণ দিবে না, আমরা অসহায় মানুষ পেটের দায়ে ঋণ নিচ্ছি। আর তারা সুযোগ বুঝে গাছের চারা বিক্রি শুরু করেছেন। যদি গাছের চারা প্রতি ২০ টাকা মুনাফা করা হয় তাহলে তিন হাজার গ্রাহকের কাছে ৬০ হাজার টাকা বানিজ্যে করা হচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংক নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠান। ফলে তাদের এমন চারা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের ভাবমুর্তিক্ষুন্ন ও ইমেজ সংকটের সৃষ্টি করেছে।
    এবিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণ ব্যাংক তানোর শাখা (ম্যানেজার) ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম জানান, জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবের কারনে দেশে ব্যাপক তাপমাত্রা বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। এ জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বৃক্ষ রোপণের শুভ উদ্বোধন করে সকলকে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সেই মোতাবেক গ্রাহকদের মাঝে গাছ বিক্রি করা হচ্ছে। গাছ না কিনলে কোনভাবেই ঋন দিচ্ছেন না জানতে চাইলে তিনি জানান, বাধ্য করা হচ্ছে কথা সঠিক নয় তাদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণ ব্যাংকের এরিয়া ম্যানেজার শুভঙ্কর বলেন, আমরা গাছ রোপণের জন্য গ্রাহকদের উদ্বুদ্ধ করতে বলেছি, গাছের চারা বিক্রি করতে বলিনি। তিনি বলেন, এবিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #

  • গোদাগাড়ীতে দংশন করা  রোগি এন্টিভেনম  নিয়ে এখন ভাল আছে

    গোদাগাড়ীতে দংশন করা রোগি এন্টিভেনম নিয়ে এখন ভাল আছে

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঝিকরাপাড়া গ্রামে সাধন কুমার নামে ব্যক্তিকে সাপে দংশন করে। জৈনক আব্দুর রহমান তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রেমতলীতে সাপসহ নিয়ে এনে ভর্তি করেন।

    গতকাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল ইসলাম এন্টিভেনম নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন সেখানে প্রেমতলী হাসপাতালের ইউএইচএফপিও নাম্বার দেওয়া হয়েছিল। সেই সুবাদে সাপে কাটা রোগীর স্বজনেরা যোগাযোগ করেন, যার ফলে হাসপাতাল কতৃপক্ষ রোগী পৌঁছার পূর্বেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন এবং রোগী পৌছা মাত্রই তার সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। রোগী এখন সুস্থ আছেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আলী মাজরুই রহমান বলেন, রোগির আত্নীয়স্বজন আমার নাম্বারে মোবাইল করে জানান, একজনকে সাপে দংশন করেছে তাকে দ্রুত হাসপাতালে আনার কথা বলি রোগী পৌঁছার পূর্বেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয় এবং রোগী পৌঁছা মাত্রই তার সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার ফলে রোগি এখন ভাল আছে। সরকার ৯ টি এন্টিভেনম দিয়েছেন।
    একটি সাপে কাটা রোগির জন্য ৫/৮টি সাপের “অ্যান্টিভেনম প্রয়োজন হতে পারে। তাই উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দীন সোহেল স্যার গোদাগাড়ীবাসীর কথা বিবেচনা করে আমাদের হাসপাতালে ১০০ টি এন্টিভেনম হস্তান্তর করার পরের দিনই রোগির উপকারে এসেছে। এটা একটি মহৎ কাজ। আপনাদের সবাইকে রাসেল’স ভাইপার হতে সাবধানতা অবলম্বন ও সচেতন থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। সাপে দংশন করলে কিংবা জরুরী প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন:-০১৭০১২৪৮৬৮৫, ০১৭১২৫৬৭৩৮৩
    ও সাপে কাটা রোগীকে দ্রুত আপনার নিকটস্থ হাসপাতালে প্রেরণ নিশ্চিত করুন।

    এ প্রসঙ্গে মোঃ বেলাল উদ্দীন সোহেল বলেন, শুনে ভাল লাগল যে, আমার দেয়া এন্টিভেনম রোগির কাজে এসেছে। বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার, জনবান্ধব ও উন্নায়নমূখী সরকার। এ সময় সাপ মানুষকে বেশী কামড় দেয়। আর রাসেল’স ভাইপার সাপ নিয়ে গোদাগাড়ীর মানুষ বেশী আতঙ্কিত পড়ে পড়েছিল। তাদের কথা বিবেচনা করে নিজস্ব অর্থায়নে ১০০ টি এন্টিভেনম সরবরাহ করেছি। কালকে কৃষকদের গামবুট দিয়েছি। মানুষকে সচেতন, সাবধানতা আবলম্বন করে রাস্তাঘাট, মাঠে চলাচল করতে হবে। আতঙ্কিত হবার কোন কারন নেই।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • পুঠিয়ায় স্কুল ছাত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

    পুঠিয়ায় স্কুল ছাত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

    পুঠিয়া (রাজশাহী)  প্রতিনিধিঃ

    পুঠিয়ায় মেঘলা (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেছে। শুক্রবার (৫ জুলাই) আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে এ আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। নিহত মেঘলা উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ধোপাড়াপাড়া চেয়ারম্যান পাড়ার কাবিল উদ্দিনের মেয়ে এবং ধোপাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ শ্রেণীর ছাত্রী। এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, গত কয়েক দিন থেকে মেঘলা তার বাবার কাছে একটি এন্ড্রয়েড ফোন কেনার জন্য বায়না ধরে। কিন্তু তার বাবা ফোনটি কিনে না দেওয়ায় সে অভিমান করে থাকে। শুক্রবার কাবিলের বাড়ির পাশের এক বয়স্ক মহিলা মারা গেলে বাড়িতে মেঘলা ছাড়া সবাই তাকে দেখতে যায়। বাড়িতে মেঘলা একলা থাকার সুযোগে ঘরের তীরের সাথে ওড়নায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করে। পরে সকাল ১০টার দিকে বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা ফিরে এসে ঘরের ভিতর থেকে দরাজা বন্ধ দেখে মেঘলাকে ডাকাডাকি শুরু করে। এসময় মেঘলার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে ঘরের মধ্যে মেঘলাকে তীর সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশ মেঘলার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করি। তবে মেঘলার আত্মহত্যার বিষয়ে কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।#

    মাজেদুর রহমান (মাজদার) 
    পুঠিয়া, রাজশাহী। 

  • গ্রামীন ব্যাংক মাধনগর নাটোর শাখার উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ

    গ্রামীন ব্যাংক মাধনগর নাটোর শাখার উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ

    এ,কে,এম,খোরশেদ আলম
    নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ

    “গাছে গাছে ভরবো দেশ,আসবে দেশে সবুজ ছায়ার পরিবেশ”এই স্লোগানকে সামনে রেখে গ্রামীণ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে চলতি বছরে বর্ষা মৌসুমে দেশব্যাপী ধারাবাহিকভাবে কয়েক কোটি ফলজ-বনজ-ওষুধী চারা রোপন করবে।

    নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা গ্রামীন ব্যাংক মাধনগর নাটোর শাখার উদ্যোগে, গ্রামীন ব্যাংক মাধনগর শাখা কার্যালয় চত্বরে নারী-পুরুষের মাঝে তের হাজারের অধিক বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছ বিতরণ করা হয় এবং বিভিন্ন কেন্দ্র প্রধানদের মাঝে বৃক্ষ বিতরন করা হয়।

    এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,মাধনগর গ্রামীন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক নাজমুল হুদা,
    সেকেন্ড অফিসার ইমতিয়াজ মাসরুম,অফিসার আতাউর রহমান,অফিসার আনোয়ার হোসেন,সিঃকেন্দ্রঃব্যবস্থাপনা নুরুল ইসলাম,অফিসার নাজমা খাতুন,কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মহব্বত হোসেন,মনির হোসেন, শাওন ইসলামসহ প্রমূখ। কর্মকতারা উপস্থিত সদস্যের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেন এবং সকল সদস্য সহ উপস্থিত সকলকে বেশি বেশি করে গাছের চারা লাগানোর আহবান জানান।

    এ,কে,এম,খোরশেদ আলম
    নাটোর।

  • যশোরের বাগআঁচড়া বাগুড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পশু চিকিৎসক নিহত

    যশোরের বাগআঁচড়া বাগুড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পশু চিকিৎসক নিহত

    আজিজুল ইসলামঃ যশোরের শার্শার বাগআঁচড়া বাগুড়ী মুড়ির মিলের সামনে শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আলমগীর কবির (৪০) নামে এক পশু চিকিৎসক নিহত হয়েছে। সে কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের কিসমত ইলিশপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ গাজীর ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, আলমগীর কবির মোটরসাইকেল চালিয়ে বাগআঁচড়া বাজার থেকে বাগুড়ীর নিজ বাড়ি যাওয়ার পথে বাগুড়ী মুড়ির মিল এলাকায় পৌঁছালে সাতক্ষীরা থেকে ছেড়ে আসা (খুলনা মেট্রো জ ১১-০১৫৫) নম্বারের একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে মোটরসাইকলের মুখোমুখি সংঘর্ষে হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় তার মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুছড়ে যায়। 

    নাভারণ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়ন্ত কুমার জানান, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে, বাসের চালক পালিয়ে গেছে, তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো জানান, নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে  মরাদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর নগরভিটা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী যুবকর মৃত্যু

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর নগরভিটা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী যুবকর মৃত্যু

    গীতি গমন রায় গীতি।।
    স্টাফ রিপোর্টার।।
    ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নাগরভিটা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়েছে।

    জানাযায়,ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নাগরভিটা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মোঃরাজু মিয়া (২৮) নামে এক বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়েছেন।
    নিহত রাজু বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের গড়িয়ালী গ্রামের হবিবর আলীর ছেলে।

    এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ কবির বলেন,ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নগরভিটা সীমান্তের পিলার নম্বর ৩৭৬/৫ এস নামক স্থানে ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে গরু চোরাকারবারি করতে গেলে গুলিবিদ্ধ হন রাজু। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।তার মরদেহ বিএসএফের কাছে রয়েছ।

    তবে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃতানজীর আহম্মদ বলেন,আমরা ঘটনা শুনেছি।তবে তিনি বাংলাদেশি নাকি ইন্ডিয়ান নিশ্চিত হতে পারিনি।পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে আহ্বান করেছি।বৈঠকের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • বৃষ্টিতে ভিজে ভাবখালীতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পিআইও’র উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন

    বৃষ্টিতে ভিজে ভাবখালীতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পিআইও’র উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন

    স্টাফ রিপোর্টার :
    কাজের বেলায় কেতাদুরস্ত থাকার বেশ একটা অভ্যাস নেই ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু সাঈদ। ছাত্রজীবন থেকে একজন মানব উপকারী ও কর্মপাগল ব্যক্তি তিনি। ছিলেন উপজেলার সিরতা ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান।গত ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তার কাজের পরিধি যেন আরো বেড়ে গেলো। সময় পেলেই নেমে পড়েন কাজে। ঝড় আর বৃষ্টি নেই ছুটে চলছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। গতকাল শুক্রবার সকালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় হেঁটে বেড়ালেন উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের ভাবখালী নতুন বাজার,নারায়ণপুরসহ কয়েকস্থানে। পরিদর্শন করলেন চলমান কয়েকটি উন্নয়ন আর সংস্কার কাজ।

    এর আগে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ভাবখালী ইউনিয়নের কাচারী বাজার সংলগ্ন বায়তুল আতিক জামে মসজিদ নির্মাণ কাজ এর উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় তার উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজা।

    জানা গেছে, ৫জুলাই শুক্রবার। আকাশ থেকে তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ঝরছে। মাথায় ছাতা আর জুম্মার নামাজের প্রস্তুতি মাথায় টুপি পরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু সাঈদ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজা তদারকি করছেন চলমান উন্নয়ন আর সংস্কার কাজ। কাচারী বাজার এলাকা থেকে নারায়ণপুর সহ ভাবখালী পুরাতন বাজার পয়েন্ট। কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জরাজীর্ণ ও খানাখন্দে ভরা চলাচলের অনুপযোগী দেখে সংস্কার করার প্রয়োজনী আশ্বাস দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু সাঈদ। কাজের বেলায় তাকে বরাবর পরিশ্রমী দেখা গেছে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় উপজেলা পরিষদের ব্যস্ততা ছিলো না। তাই ঘুম ভাঙতেই বেরিয়ে পড়েন কাজ তদারকিতে। বৃষ্টিভেজা দিনে স্বাচ্ছন্দ্যে সেই কাজ সারতে তিনি বেছে নিয়েছিলেন বাঙালির পায়জামা-পাঞ্জাবি। শুক্রবার বন্ধের দিন সকালে গ্রাম-গঞ্জের এমন পরিবেশে উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দেখে অনেকে হতবাক হয়েছেন। অনেকেই তাদের তারিফ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উচ্চপদে আসীন ব্যক্তিদের এই ধরণে চিরায়ত পোশাকে দেখলে আমাদের মনে ভিন্ন মন্তব্য আসে। কিন্তু কাজের বেলা থাকুক না কিছু ব্যতিক্রম। এসময় অন্যান্যদের মাঝে ভাবখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নারী আইটি সেবাদাতা ক্যাটাগরির ১৬০ প্রশিক্ষণার্থী কে ল্যাপটপ প্রদান

    প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নারী আইটি সেবাদাতা ক্যাটাগরির ১৬০ প্রশিক্ষণার্থী কে ল্যাপটপ প্রদান

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির,বিশেষ প্রতিনিধি:বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নারী আইটি সেবাদাতা ক্যাটাগরির ১৬০ প্রশিক্ষণার্থী কে ল্যাপটপ প্রদান।বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুন নাহার বলেছেন, “হার পাওয়ার” প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের নারীদের প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর কর্মসংস্থান ও যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে শক্তিশালী ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বিকালে মোংলা উপজেলা মিলনায়তনে হার পাওয়ার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত মোংলা উপজেলার নারী আইটি সেবাদাতা ক্যাটাগরির মোট ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে ল্যাপটপ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য বলেন আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি দেব।নেপোলিয়নের উক্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নারীদের ৬০% কোটা নির্ধারণের বঙ্গবন্ধুকন্যার যুগান্তকারী একটা সিদ্ধান্ত আমাদের সমাজে নারীদের সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠার চিত্র বদলে দিয়েছে। যে সমাজে নারীদেরকে বোঝা মনে করা হতো, সে সমাজে নারীদের সম্মান প্রতিষ্ঠা হয়েছে, যৌতুক ব্যাধি থেকে নারী সমাজ মুক্ত হয়েছে এবং একইসাথে নারীদের সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক অধিকারও প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

    মোংলার মানুষ এখন শুধু মৎস্য সম্পদ রপ্তানি করেই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে না, হার পাওয়ার প্রকল্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের মেয়েরা নিজেদের মেধা ব্যবহার করেও এখন বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। আমরা বিশ্বাস করি বিশ্বজয়ের হাতিয়ার কম্পিউটার ও মেধাবী তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে এই তারুণ্যের মেধা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমরা ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না’র সভাপতিত্বে এসময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, ভাইস-চেয়ারম্যান মো: জামাল হোসেন, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান মিসেস কামরুন নাহার হাই, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তারিকুল ইসলাম, সহকারী প্রোগ্রামার (উপজেলা আইসিটি অফিসার) সৌমিত্র বিশ্বাস, চাঁদপাই ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা মো. তারিকুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জেলা আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে আগাই মাসের আউটসোর্সিং-এর নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এই শিক্ষার্থীদের।

    এর আগে বিকাল ৩টায় উপজেলা পরিষদের বাস্তবায়নে ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সহযোগিতায় জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং সহযেগিতার প্রতীক হিসেবে জাইকার অর্থায়নে মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাধ্যমিক পর্যায়ের ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মোট ১৫৫ জোড়া উঁচু-নিচু বেঞ্চ বিতরণ করেন বাগেরহাট-৩ আসনের (মোংলা-রামপাল) সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুন নাহার।

    এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার’র সভাপতিত্ব সহকারি পুলিশ সুপার ( মোংলা-রামপাল সার্কেল ) মুশফিকুর রহমান তুষার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামাল হোসেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস কামরুন্নাহার হাই, সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) মোঃ তারিকুল ইসলাম, থানা অফিসার ইনচার্জ কে এম আজিজুল ইসলাম,জাইকা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুল ইসলামসহ আরো অনেকে।অপর দিকে মোরেলগঞ্জে নারী প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে স্মার্ট উপহার হিসেবে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (৪) জুলাই উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ৮০ জন নারী প্রশিক্ষনার্থীকে ল্যাপটপ উপহার হিসেবে প্রদান করেন।

    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অধিনে হার পাওয়ার প্রকল্পের আওতায় ৮০ জন নারীকে কম্পিউটার ল্যাবে ৬ মাস মেয়াদি ফ্রিল্যান্সার বিষয়ে প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম তারেক সুলতানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. লিয়াকত আলী খান, বিশেষ অতিথি ছিলেন- ভাইস চেয়ারম্যান মো. রাসেল হাওলাদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আজমিন নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.বদরুদ্দোজা।

    অনন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সালেহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী আইসিটি কর্মকর্তা ত্রিদিপ সরকার ।