Blog

  • ময়মনসিংহের সদরের নতুন ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রিন্সের যোগদান

    ময়মনসিংহের সদরের নতুন ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রিন্সের যোগদান

    স্টাফ রিপোর্টারঃ
    ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেছেন মো.আরিফুল ইসলাম প্রিন্স। রবিবার (৭জুলাই ) বিকালে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার ইউনুস নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মো: আরিফুল ইসলাম প্রিন্সকে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেন।

    মো.আরিফুল ইসলাম প্রিন্স ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন)-এর একজন কর্মকর্তা। ময়মনসিংহ সদরে যোগদানের পূর্বে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি
    বরিশালের গৌড়নদী উপজেলায় সহকারী কমিশনার(ভূমি) ছিলেন। পরে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে সেখান থেকে তাকে প্রথমে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় ও পরে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার নিজ জেলা বরগুনা।

    নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আরিফুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, সকলের সহযোগিতায় বিভাগীয় ময়মনসিংহের গুরুত্বপুর্ণ এ উপজেলাকে আরো সমৃদ্ধ করতে সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করব। ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসনকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলবো। এছাড়া আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে এ উপজেলার মানুষের পাশে থাকবো । এজন্য জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম কর্মীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।

    যোগদানের প্রথম দিন তাকে ফুলের শুভেচ্ছায় বরণ করেন সহকারী কমিশনার ভূমি আসাদুজ্জামান রণি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজা, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন,শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন,সমাজ সেবা অফিসার মাকসুদা খাতুন,প্রশাসনিক আব্দুস সালাম,অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক জাকির হোসেন সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

  • ‘মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাভাবনা’

    ‘মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাভাবনা’

    প্রেরক – আরিফ রব্বানী।

    – মনিকা পারভীন
    উপজেলা শিক্ষা অফিসার,ময়মনসিংহ সদর

    কলাম–
    শিক্ষা- মনের বন্ধ দরোজাগুলো উন্মোচন করে, আচরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে সত্যিকার মানুষ তৈরি করে। আধুনিক ,স্মার্ট ও সভ্য জাতির এগিয়ে যাওয়ার মূল নির্দেশিকা হলো গুনগত শিক্ষা। জীবন আলোকিত করার পাশাপাশি অভিষ্ঠ উন্নয়ন লক্ষ্য ( SDG) পূরণে শিক্ষা অন্যতম অবলম্বন। মেধা- মননে আধুনিক ও চিন্তা-চেতনায় অগ্রসর একটি সুশিক্ষিত জাতিই পারে একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রণীত ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে সরকারের একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সব বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে হবে। আর প্রাথমিক শিক্ষাই হচ্ছে শিক্ষার প্রথম সোপান। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষার দর্শন ও বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষা একই সুতোয় গাঁথা। তিনি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবনা শুরু করেছিলেন, যেহেতু প্রাথমিক শিক্ষাই শিক্ষার মূল ভিত্তি। তাই এই শিক্ষা নিয়ে ভাবনা শুরু করেন। ১৯৭১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি প্রেস নোটের মাধ্যমে জানানো হয় যে, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই পাবে। বঙ্গবন্ধু ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন এবং তারই সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আপাদমস্তক একজন শিক্ষানুরাগী। তিনি জাতিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাভাবনা ছিল তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তিমূল। বঙ্গবন্ধুর ভাবনা ও দর্শনকে ধারণ করে যেকোনো জাতি একটি আধুনিক কর্মমুখী এবং বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। বাংলাদেশ উত্তরোত্তর যে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যার মাধ্যমে আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা যাবে এবং সোনার বাংলা বিনির্মাণ সহজতর হবে। দক্ষ মানব সম্পদ বা সোনার বাংলা গড়তে আমাদের শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। আর এই শিক্ষার ভিতই হলো প্রাথমিক শিক্ষা। বঙ্গবন্ধু শিক্ষা দর্শন অনুসরণ করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আবশ্যক। জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ১৭টি অভীষ্টকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। ১৭টি অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সঙ্গে ১৬৯টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও ৩৩২টি পরিমাপক রয়েছে। যার মধ্যে ৪ নং অভীষ্ট হলো মানসম্মত শিক্ষা (অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমাজতান্ত্রিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, সবার জন্য আজীবন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা।) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে দক্ষ জনসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই। তাই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। গুণগত শিক্ষার অনেক অপরিহার্য পূর্বশর্তের মধ্যে একটি হচ্ছে অধিক বিনিয়োগ। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দ অপর্যাপ্ত। এ কথাও অনস্বীকার্য, বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অনেক ক্ষেত্রেই সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে খরচ করা হয় না, যা অনভিপ্রেত ও অনাকাক্সিক্ষত। দেশে শিক্ষা খাতে প্রকৃত বিনিয়োগ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। সার্কভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মাত্র ০.৯২ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষা উপ-খাতে বরাদ্দ মাত্র ০.১২ শতাংশ, যা সার্কভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ভারত ও নেপালে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মোট জিডিপির তুলনায় যথাক্রমে ৪.৫ ও ৩.৫ শতাংশ। উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বর্তমান জাতীয় বরাদ্দ ০.৯২ থেকে ক্রমান্বয়ে ২০২৬ সালের মধ্যে ২ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ শতাংশে উন্নীত করা আবশ্যক। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের বর্তমান বরাদ্দ ৮ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাও জরুরি। : ভিশন-৪১ নির্বাচনী ইশতেহার এবং নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে মনিটরিং এবং মেন্টরিংয়ের কয়েকটি আকর্ষণীয় দিক হতে পারে:
    ১. *ডিজিটাল মনিটরিং* – *ই-মনিটরিং সিস্টেম:* শিক্ষার অগ্রগতি ট্র্যাক করার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা, যেমন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, মূল্যায়ন, এবং শিক্ষকের কর্মক্ষমতা। – *অনলাইন ড্যাশবোর্ড:* শিক্ষকদের, অভিভাবকদের, এবং প্রশাসকদের জন্য একটি ড্যাশবোর্ড, যেখানে তারা শিক্ষার বিভিন্ন সূচকের তথ্য দেখতে পারে।
    ২. *নিরীক্ষণ সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তি* – *স্মার্ট ক্লাসরুম:* শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সিসিটিভি, ইন্টারেক্টিভ বোর্ড, এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার। – *ডেটা অ্যানালিটিক্স:* শিক্ষার্থীর পারফরম্যান্স এবং উপস্থিতির ডেটা বিশ্লেষণ করে সমস্যাগুলি সনাক্ত এবং সমাধান করা।
    ৩. *পারফরম্যান্স মূল্যায়ন* – *আন্তঃক্ষেত্র মূল্যায়ন:* বিভিন্ন সূচক, যেমন ছাত্রের ফলাফল, শিক্ষার মান, এবং ছাত্র-শিক্ষক মিথস্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার গুণমান মূল্যায়ন। *ব্যক্তিগত উন্নয়ন পরিকল্পনা:* শিক্ষকদের জন্য শিক্ষার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রদান।
    ৪. *মেন্টরিং প্রোগ্রাম* – *পিয়ার মেন্টরিং:* শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক মেন্টরিং চালু করা, যেখানে অভিজ্ঞ শিক্ষকরা নতুন শিক্ষকদের সাহায্য করেন। – *মেন্টর অ্যাসাইনমেন্ট:* শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত মেন্টর নিয়োগ, যারা শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক, এবং একাডেমিক সমর্থন প্রদান করবে।
    ৫. *ক্লাসরুম অবজারভেশন* – *রেগুলার ক্লাসরুম ভিজিট:* শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার কার্যকারিতা মূল্যায়ন। – *শিক্ষক-পর্যালোচনা:* শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সাক্ষাৎকার এবং আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার মান পর্যালোচনা করা।
    ৬. *ফিডব্যাক এবং প্রতিবেদন* – *প্রতি মাসের ফিডব্যাক:* নিয়মিত ফিডব্যাক সেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি এবং শিক্ষকের কর্মক্ষমতা পর্যালোচনা। – *প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া:* অগ্রগতি এবং সমস্যার উপর ভিত্তি করে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি এবং তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে শেয়ার করা।
    ৭. *অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা* – *অভিভাবক-শিক্ষক সভা:* নিয়মিত অভিভাবক-শিক্ষক সভার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের ব্যাপারে মতামত সংগ্রহ। – *ডিজিটাল যোগাযোগ:* শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের তথ্য দ্রুত এবং সহজে অভিভাবকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার।
    ৮. *শিক্ষাগত গবেষণা এবং উদ্ভাবন* – *পাইলট প্রকল্প:* নতুন শিক্ষণ পদ্ধতি এবং প্রযুক্তির জন্য পাইলট প্রকল্প চালু এবং ফলাফল মূল্যায়ন। – *গবেষণা সহযোগিতা:* শিক্ষামূলক গবেষণা এবং উদ্ভাবনের জন্য স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে সহযোগিতা।
    ৯. *শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত উন্নয়ন* – *নিয়মিত প্রশিক্ষণ:* নতুন শিক্ষণ কৌশল, ICT ব্যবহারের দক্ষতা, এবং শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক সমর্থনের উপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
    ১০. *পেশাগত উন্নয়ন:* শিক্ষকদের ব্যক্তিগত এবং পেশাগত উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং সমর্থন। এই কৌশলগুলি Vision 2041, নির্বাচনী ইশতেহার, এবং নতুন পাঠ্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং এগুলো প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।কোয়ালিটি অ্যান্ শিওর করতে হলে শিক্ষার্থীর কাছে ফিরতে হবে শিক্ষার্থীর উন্নয়নের ভূমিকা রাখতে হবে পরীক্ষা পদ্ধতির না থাকলেও তাদের মূল্যায়ন থাকতে হবে কারণ শিশু কাজটি সঠিক করছে নাকি ভুল করছে।সেটি যাচাই প্রয়োজন। ইউনেসকোর সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ৭ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। শিক্ষা মানব সম্পদ উন্নয়নের প্রধানতম উপায় হলেও দেশে শিক্ষায় অর্থায়ন এখনও হতাশাব্যঞ্জক। ইউনেসকো গঠিত ‘একবিংশ শতাব্দীর জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা কমিশন’ তথা ইউনেসকো গঠিত দেলরস কমিশন প্রতিবেদনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রাপ্ত বৈদেশিক সহায়তার ২৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে (১৯৯৭) এ সম্পর্কে হতাশা ব্যক্ত করে বলা হয়েছে, জাতীয় উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে মানব সম্পদের সার্বিক উন্নয়ন। জাতীয় উন্নয়ন অর্জন করতে হলে উৎপাদন শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রধান উপাদান। বর্তমানে যে পরিমাণ অর্থ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা হয়, তা অপ্রতুল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মাথাপিছু বার্ষিক বিনিয়োগের পরিমাণ বাংলাদেশে ৫ ডলার, শ্রীলঙ্কায় ১০ ডলার, ভারতে ১৪ ডলার, মালয়েশিয়াতে ১৫০ ডলার ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৬০ ডলার। গুণগত শিক্ষা কোনো একটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে অর্জনের আশা করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন অনেক উপাদানের সমন্বিত এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও কর্মকা-। গুণগত শিক্ষার জন্য যেসব উপাদানের যথাযথ সমন্বয় সাধন করতে হয় সেগুলো হচ্ছে-আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম, পর্যাপ্তসংখ্যক যোগ্য ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক, প্রয়োজনীয় শিক্ষাদানসামগ্রী ও ভৌত অবকাঠামো, যথার্থ শিক্ষণ-শিখন পদ্ধতি, উপযুক্ত মূল্যায়ন পদ্ধতি, ধারাবাহিক পরিবীক্ষণ ইত্যাদি। শিক্ষার সব স্তরে গুণগত মান অর্জনের লক্ষ্যে নিম্নবর্ণিত সুপারিশগুলোর আলোকে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণ করা যেতে পারে। আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের বিষয় নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে অভিভাবক, বিদ্যালয় বা শিক্ষকদের ইচ্ছা এবং পছন্দ মোতাবেক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত। কোন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে কী হতে চায়, কিংবা কোন বিষয় নিয়ে পড়তে চায়, এ বিষয়ে শিক্ষার্থীর পছন্দ বা মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক। এতে তার পঠিতব্য বিষয় সম্পর্কে শ্রদ্ধা জাগবে; ফলে সে পাঠে মনোযোগী হবে, শিক্ষাগ্রহণ করে পরিতৃপ্ত হবে এবং আশানুরূপ ফলাফল করবে। প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার নতুন ভবন নির্মাণ করছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠগ্রহণ করতে সক্ষম হবে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সমাবেশ আয়োজন করে শিক্ষার সঙ্গে সমাজকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার মনোন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকারের গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে। বছরের শুরুতে প্রতিটি স্কুলে ক্যাচমেন্ট এলাকাভিত্তিক শিশু জরিপপূর্বক ভর্তি নিশ্চিত করা। নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ, মা সমাবেশ, উঠান বৈঠক, হোম ভিজিট কার্যক্রম, এসএসসি ও পিটিএ সভা বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই বিতরণ, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম গ্রহণ, উপবৃত্তি প্রদানসহ মাসিক কার্যক্রমে মাঠ প্রশাসন আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণের ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উৎকর্ষ সাধিত হবে। টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে রূপকল্প ২০২১, ২০৪১ ও ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার আধুনিকায়ন অত্যাবশ্যক।
    পরিশেষে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত উৎপাদনমুখী অভিযোজনে সক্ষম, সুখী ও বৈশ্বিক নাগরিক গড়ে তোলার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে আমাদের শিক্ষা পরিবারের সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

  • এমপি শেখ সারহান নাসের তন্ময় প্রিয় নেতার সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা

    এমপি শেখ সারহান নাসের তন্ময় প্রিয় নেতার সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির,বিশেষ প্রতিনিধি:বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের নতুন ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ ইমরুল হাসান।
    শনিবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে বাগেরহাট যাওয়ার পথে প্রিয় নেতার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার জন্য উপজেলার কাঠালতলা মোড়ে উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা রাস্তা ঘিরে দাড়ান।
    এরপর তিনি গাড়ি থেকে নেমে ফকিরহাট কাঠালতলা মোড়ে শেখ ইমরুল হাসানের অফিসে যান। সেখানে তার সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেন ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের নতুন ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ ইমরুল হাসান। এদিকে সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়কে কাছে পেয়ে স্লোগানে স্লোগানে মূখরিত করে তোলে উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা। মতবিনিময়ে এসময় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।#############ছবি সংযুক্ত।

  • বরগুনার তালতলীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ; মাছের ঘেরের বাঁধ কেটে দিল প্রতিপক্ষরা

    বরগুনার তালতলীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ; মাছের ঘেরের বাঁধ কেটে দিল প্রতিপক্ষরা

    মংচিন থান বরগুনা প্রতিনিধি।।
    বরগুনার তালতলীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাছের ঘেরের বাঁধ কেটে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এতে ৬০ লাখ টাকার মাছ পানির সঙ্গে নেমে গেছে বলে দাবি করেছেন ঘের মালিক সোহেল রানা।

    শনিবার (৬ জুলাই) উপজেলার মেনিপাড়া গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।

    সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মেনিপাড়া গ্রামে প্রায় ৬ একর জমি নিয়ে স্থানীয় যুবক সোহেল রানার মাছের ঘের। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই ঘেরে তিনি মাছ চাষ করে আসছেন। ওই ঘেরের মালিকানা দাবি নিয়ে স্থানীয় আল-আমিন, খলিল হাওরাদার, জয়নাল, শাহজাহান, সঙ্গে বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুড়ে হঠাৎ ঘেরের বাঁধ কেটে পানি নামিয়ে দিয়ে ঘের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাঁধ কেটে দেওয়ায় পানি নোমার সাথে সাথে মাছ নামতে থাকে। পানির সাথে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার মাছ নেমে গেছে আমাকে নিঃস্ব করে দিল ওরা এমন দাবি ঘের মালিক সোহেল রানা।

    স্থানীয়দের অভিযোগ স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নিয়ে খলিল হাওলাদার ও আল আমিন গংরা ভয়-ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে মাছের ঘেরটি দখলে নেয়ার জন্য বাঁধ কেটে দিয়েছেন।

    বাঁধ কাটার কথা স্বীকার করে খলিল হাওলাদার ও আল আমিন জানান, এই ঘেরের মধ্যে তাদের জমি আছে। সোহেল রানা ও তার বাবা সোহরাফ হাওলাদার তাদের সঙ্গে সমঝোতা না করে ঘের ভোগদখল করে আসছিল। আমাদের জমি আমরা বুঝ চাইলে তারা বুঝ দিতেছে না। এখন চাষাবাদের সময় তাই আমাদের জমি আমরা নিজেরা বুঝ করে নিচ্ছি। তবে ঘেরে কোনো মাছ ছিল না।

    এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম খান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়েছে । অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    মংচিন থান
    বরগুনা প্রতিনিধি

  • উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন এর কোষাধ্যক্ষ জাহিদ হাসানের শশুরের ইন্তেকাল

    উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন এর কোষাধ্যক্ষ জাহিদ হাসানের শশুরের ইন্তেকাল

    মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম, উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন এর কোষাধ্যক্ষ মোঃ জাহিদ হাসানের শশুর মোঃ হারুন হাওলাদার (৬৪) ইন্তেকাল করেছেন।

    ৬ শনিবারজুলাই সকাল ৮ টায় উজিরপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারনে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে ২ ছেলে ১ মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

    তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বরিশাল ২ (উজিরপুর বানারীপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস, উজিরপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু, উজিরপুর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ গিয়াস উদ্দিন বেপারি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম জামাল হোসেন, উজিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সিপন মোল্লা,
    উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সকল সাংবাদিক সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক মহল।এশার নামাজ বাদ মরহুমের জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে।

  • ইউপি সদস্যের পেটে মসজিদ উন্নয়নের টাকা- থানায় অভিযোগ

    ইউপি সদস্যের পেটে মসজিদ উন্নয়নের টাকা- থানায় অভিযোগ

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি সদস্য(মেম্বার) লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে মসজিদ উন্নয়নের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) চকপ্রভুরাম গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। গত ৩ জুলাই এ ঘটনায় চকপ্রভুরাম গ্রামের আব্দুস সাত্তার বাদি হয়ে ইউপি সদস্য (মেম্বার) লুৎফর রহমান ও মসজিদ কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিনসহ ১১ জনের নামে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
    এদিকে গ্রামবাসি জানান, এই মেম্বারের বিরুদ্ধে হেরিংবন্ড রাস্তা ও মসজিদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে ইয়াহিয়া আলী লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা এলজিইডি অফিসের এসও শাহিন সালাম তদন্ত আসেন। তারপর থেকেই টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি প্রকাশ পায়। কিন্তু সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে পড়েন মেম্বার লুৎফর রহমান ও তার অনুসারীরা।
    অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে গ্রাম প্রধান শেরশাহ ঘোষণা দেন, ২৯ জুন শনিবার এশার নামাজের পর মসজিদের আয় ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বসা হবে, কমিটির সকলকে উপস্থিত থাকার আহবান জানান। ঘোষণা মোতাবেক শনিবার এশার নামাজের পর ফয়েজের বাড়িতে হিসাব নেয়ার জন্য গ্রামের লোকজন উপস্থিত হন। এ সময় মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ শহিদুল মাস্টার ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত হিসাব দেয়। কিন্তু সরকারি অনুদানের টাকা পাননি বলে অবহিত করেন। এ অবস্থায় মসজিদ কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন উপস্থিত গ্রামবাসীকে জানায় ২০২৩ সালে সরকারি অনুদানের ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০২৪ সালে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মেম্বার লুৎফর রহমানসহ আমি উত্তোলন করি। উপস্থিত গ্রামবাসী সেই টাকা চাইলে মোবাইলে মেম্বারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্ত্ত মেম্বার তার অনুসারীদের পাঠিয়ে উপস্থিতদেরসহ
    গ্রাম প্রধানকে গালমন্দ করে ও রেজুলেশন খাতা ছিড়ে ফেলসহ নানা ধরনের হুমকি ধামকি দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুত্র জানায় ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশে লুৎফর মেম্বার এসব টাকা তুলে ইউপি কার্যালয়ে একটি এসি দান করে বাঁকি টাকা হজম করেছে।সুত্র বলেন, চেয়ারম্যানের মদদ ব্যতিত সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নাই। এবিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আগামী রোববার গ্রামে বসে মিমাংসা করা হবে। এবিষয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেম্বার লুৎফর রহমান বলেন, মসজিদের টাকা আত্মসাত করা হয়নি। তার পরেও আমি মসজিদে দেড় লাখ টাকা দিতে চেয়েছি। আপনি হিসাব নিকাশে উপস্থিত না হয়ে পালিয়ে যান জানতে চাইলে তিনি জানান আমি পালায়নি যে অভিযোগ করেছে তারাই পালিয়েছে। এবিষয়ে অভিযোগকারী আব্দুস সাত্তার বলেন, গ্রামের লোকজন ভোট দিয়ে মেম্বার বানিয়েছেন, মেম্বার হয়ে মসজিদের টাকা আত্মসাত করছেন। এর চেয়ে লজ্জার আরকি হতে পারে। আমিসহ গ্রামবাসীর দাবি অভিযোগটি আমলে নিয়ে মেম্বারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। যাতে মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাত করতে কেউ সাহস না পায়। এবিষয়ে তানোর থানার এসআই মজিবুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে গিয়ে মেম্বারসহ গ্রামের লোকজন বসে মিমাংসা করবে বলেছে এবং আগামী রবিবার ও সোমবার পর্যন্ত সময় নিয়েছেন।#

  • দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে  নিতে কৃষির বিকল্প নেই- মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি

    দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কৃষির বিকল্প নেই- মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি

    মহিউদ্দীন চৌধুরী, পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি॥ দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কৃষির কোন বিকল্প নেই। আমরা এক সময় ছোট বেলায় পাটের উপর রচনা লিখতাম। পাটকে বলা হতো বাংলাদেশের সোনালী আঁশ। এই সোনালী আঁশ আজকে পলিথিন সিন্ডিকেটের কারনে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গেছে। বাজার থেকে পাটের ব্যাগ হারিয়ে গেছে। কৃষক, শ্রমিক, খামার, কুমার সবাইকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু এ দেশ স্বাধীন করে ছিলেন। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাভলম্বী করা। আজ দেশে কোন মঙ্গা হয়না, সারের দাবিতে কৃষককে প্রাণ দিতে হয়না। এবারের কোরবানি ঈদুল আজহার ঈদে দেশীয় গরু দিয়ে বেশিরভাগ কোরবানী দেওয়া হয়েছে। কোরবানির পর আরো গরুর উদ্বৃত্ত রয়েছে। খামারীর সংখ্যাও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকার কৃষকদের ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছেন।
    শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় খরিপ-২ মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পটিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বিনামূল্যে আমন বীজ, সার ও নারিকেল চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি এসব কথা বলেন।
    এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলাউদ্দীন ভূঞা জনী’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল আলম দিদার, ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ এমদাদুল হাসান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী কমল কান্তি পাল, নাছির উদ্দীন, সিরাজুল ইসলাম মাস্টার, চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম খান টিপু ও জাহাঙ্গির আলম প্রমুখ।
    অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১২০০ জন কৃষকের মাঝে নারিকেল চারা, বীজ ধান ও সার বিতরণ করা হয়। একই দিন উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কারিগরী সহায়তায় জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ১৩টি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় উচু, নিচু ৯৯ জোড়া বেঞ্চ বিতরণ করা হয়।

  • সুজানগরের পদ্মায় তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে শত শত বিঘা ফসলি জমি

    সুজানগরের পদ্মায় তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে শত শত বিঘা ফসলি জমি

    এম এ আলিম রিপন ঃ পাবনার সুজানগর উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকা ও চরা লে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার ভায়না,সাতবাড়িয়া,মানিকহাট,নাজিরগঞ্জ ও সাগরকান্দি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান,বসতভিটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। নদীর পানি বৃদ্ধি ও পানি কমতি এবং পদ্মা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন নদী ভাঙনের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নদীপাড়ের বাসিন্দারা। উপজেলার সাতবাড়িয়া অ ল থেকে শুরু করে নদীর পশ্চিম ও পূর্ব দিকের কয়েকটি গ্রামের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে নদী ভাঙনে প্রতিদিন বিলিন হয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা চাষযোগ্য কৃষি জমি। এ কারণে নদী পাড়ের জমিতে আবাদকৃত অপরিপক্ক চিনাবাদাম ও তিল উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কৃষকেরা। চর সুজানগর গ্রামের কৃষক মোতাহার আলী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় কৃষকেরা চিনাবাদাম ও তিলের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক ফসল পনির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া চরে ভাঙনের ফলে উঁচ জমিতে লাগানো তিল ও চিনাবাদাম ফসলের ক্ষেত ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীর বুকে। নদী ভাঙনে ফসলি জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ভাঙনে সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর মাঝে বিরাজ করছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। স্থানীয় সাতবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আম্বিয়া খাতুন জানান, প্রতিনিয়ত ভাঙনের কারণে নিঃস্ব হচ্ছেন তারা। যেভাবে ভাঙছে এতে বসতবাড়ি নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে পদ্মাপারের বাসিন্দাদের। সময় থাকতে এই নদী ভাঙন ঠেকাতে যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তবে হারিয়ে যাবে তাদের মাথা গোঁজার শেষ ঠিকানা। কৃষকেরা জানান, ভাঙন প্রতিরোধে সরকারি কোন ব্যবস্থা না থাকায় চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে নদীর পারের মানুষ। এ থেকে তারা পরিত্রাণ চায়। তাই তাদের দাবি আশ^াস নয় নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের। এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির,উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড(বাপাউবো) পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভাঙন রোধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • নড়াইলের মধুমতী নদীর ভাঙ্গনে দিশেহারা কয়েকশ পরিবার

    নড়াইলের মধুমতী নদীর ভাঙ্গনে দিশেহারা কয়েকশ পরিবার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নে মধুমতী নদীর ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কয়েকশ পরিবার। তীব্র ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে আবাদি জমি, ভিটেমাটিসহ সহায় সম্পদ। এমনকি ভাঙ্গনে বিদ্যুৎ সরবারাহ লাইনের খুঁটিও নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন কবলিত এসব এলাকার মানুষেরা প্রতিনিয়ত আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, শনিবার (সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় ভাঙ্গনের এই ভয়াবহ চিত্র।
    স্থানীয়রা জানান, একাধিকবার মধুমতী নদীর ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন ওই এখানকার মানুষ। গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড ইউনিয়নের শিয়রবর গ্রামের ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ফেললেও এবার ভাঙ্গনে ভেসে যাচ্ছে সেগুলো। ফলে আবারও ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে কয়েকশ পরিবার। তাই ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধান চাই এলাকাবাসী।

    স্থানীয় তোতা মিয়া, সাদ্দাম, আলাউদ্দিন, বালাম, চুন্নুমিয়া, আফজাল মোল্যা, হুমায়ুন কবির, আরফিন মোল্যা, ওসমান মুন্সী জানান, মধুমতী নদীর ভাঙ্গনে তাদের বাড়ি বারবার ভেঙ্গে গেছে নদীগর্ভে। নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে নিঃস্ব হয়ে গেছেন তারা। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আবারও নদীর কিনারে চলে এসেছে তাদের বসতভিটা। যেভাবে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে তাতে করে বসতভিটা কখন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় এ নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। এবার বাড়ি ভাঙ্গলে মাথা গোঁজার ঠাই থাকবে না তাদের।

    ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামের তোতা মিয়া জানান, তাদের ৫ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত ৩ বার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন তিনি। এবারও ভাঙ্গনের দাঁড়প্রান্তে দাঁড়িয়ে। কি করবেন ভেবেই পারছেন না তিনি। তিনি ভাঙ্গন প্রতিরোধে দ্রুত কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।

    বৃদ্ধ আরফিন মোল্যা জানান, বসতভিটা ছাড়াও তাদের আবাদি জমি, সুপাড়ি বাগান, পুকুরসহ ভাঙ্গনে ৫ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজার ঠাই হারিয়ে অন্যের জমিতে বসতঘর তৈরি করে বসবাস করছেন তিনি। সেটিও ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে। এরপর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোথায় থাকবেন সে ঠিকানাও নেই তাদের। এ কথা বলতে বলতেই কেঁদে ফেলেন এই বৃদ্ধ। বালাম মোল্যার স্ত্রী তহমিনা জানান, ইতোপূর্বে ২ বার তাদের বসতভিটা নদীগর্ভে ভেঙ্গে গেছে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিকুল আলম জানান, মধুমতী নদীর ভাঙ্গনে বসতবাড়ি, আবাদি জমি,
    মাদরাসা, মসজিদ ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে নদী গর্ভে পুরো এলাকা বিলীন হয়ে যাবে। তিনি মধুমতী নদীর ভাঙ্গন রোধে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নড়াইল – ২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    এ বিষেয়ে নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘লোহাগড়া উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামের ভাঙ্গনরোধে আপাতত কোন বরাদ্দ নেই, এ কারণে কোনো ধরণের কাজ করতে পারছি না’। তবে বরাদ্দ পেলে আগামীতে ওই এলাকায় ভাঙ্গন রোধে কাজ করা হবে।

  • বিদ্যালয়ে নেই ব্যবসায় শিক্ষা শাখা তেঁতুলিয়ায় কম্পিউটার শিক্ষক এখন ব্যবসায় শিক্ষার সহকারী শিক্ষক

    বিদ্যালয়ে নেই ব্যবসায় শিক্ষা শাখা তেঁতুলিয়ায় কম্পিউটার শিক্ষক এখন ব্যবসায় শিক্ষার সহকারী শিক্ষক

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়াস উদ্দিন নামে এক সহকারী কম্পিউটার শিক্ষক তার পদ পরিবর্তন করে অবৈধ ভাবে ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষক পদে নিয়োগ ও বেতনভাতা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে।

    তবে ওই শিক্ষকের এমন কর্মকান্ডের বিভিন্ন ভাবে অভিযোগ উঠলেও নীরব ভূমিকায় বিদ্যলায় কর্তৃপক্ষ, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ স্থানীয় প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে ওই শিক্ষক বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন।

    জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিন ওই বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক পদে দীর্ঘ দিন ধরে চাকরি করে আসছেন। তবে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর ২০১৮ সালের নীতিমালা অনুযায়ী কম্পিউটার বা আইসিটি শিক্ষক পদে যোগ্যতা ৩ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার কোর্সের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই শিক্ষকের সেই যোগ্যতা না থাকায় তিনি তদবির করে ব্যবসায় শিক্ষায় সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেছেন বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

    ওই বিদ্যালয়ে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, গিয়াস উদ্দিন নামে ওই শিক্ষক ২০০৫ সালের পহেলা মার্চ তেঁতুলিয়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার শিক্ষক) পদে যোগদান করেন। যোগদানের প্রায় দেড় বছর পর ২০০৬ সালের জুলাই মাস থেকে তিনি নিয়মিত বেতন ভাতা পেতে শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে সেই পদেই তিনি ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন। এমপিও ভুক্তি থেকে জাতীয়করণের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের স্ব-স্ব পদে যোগদান করলেও গিয়াস উদ্দিন নামে ওই সহকারী শিক্ষক গত ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর কম্পিউটার শিক্ষক পদের পরিবর্তে ব্যবসায় শিক্ষায় সহকারী শিক্ষক পদে নতুন করে তিনি যোগাদান করেন। ২০২৩ সালে যোগদান করে ২০২৪ সালের প্রকাশিত গেজেটের অজুহাতে বর্তমানে তিনি ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষক পদে বেতন ভাতা উত্তোলনের করছেন। অথচ সেই বিদ্যালয় ব্যবসা শাখা চালুই নেই।

    এদিকে বিদ্যালয়ে কম্পিউটার পদে যোগদান করে দীর্ঘ দিন চাকরি করার পর হঠাৎ করে ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষক বনে যাওয়ায় এলাকায় রীতিমতো চা ল্যতা সৃষ্টি হয়েছে। সেই বিদ্যালয়ে তিনি ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষক পদে যোগদান বা নিয়োগ পেলেও সেই বিদ্যালয়ে নেই ব্যবসা শাখা বা বিভাগ।

    বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ের মানবিক ও বিজ্ঞান শাখায় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে। যার কারণে শিক্ষার্থীদের ফলফলও সন্তোজনক নয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ে শতাধিক কম্পিউটার ও ল্যাপটপসহ একটি আইসিটি ল্যাব রয়েছে। ফলে শিক্ষক সংকটের ফলে সেটিও ব্যবগত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের বিপরীতে ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা দেখা দিচ্ছে।

    এদিকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালায়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, গিয়াস উদ্দিন নামে ওই শিক্ষক কম্পিউটার শিক্ষক পদে যোগদান করে দীর্ঘ দিন ধরে চাকরি করলেও বিদ্যালয়টি বর্তমানে জাতীয়করণ হওয়ায় সেই পদে নিয়োগ পেতে হলে ৩ বছরের ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার কোর্স ও কম পক্ষে দ্বিতীয় বিভাগ উত্তীর্ণ যোগ্যতা উল্লেখ্য থাকায় সেই শিক্ষকের সেই যোগ্যতা নেই। ফলে তিনি তার যোগদান করার স্ব-পদের পরিবর্তে তদবির করে ব্যবসায় শিক্ষায় সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করেছেন। তার নেই শিক্ষক নিবন্ধন তাই বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ব্যবসা শাখা না থাকা সত্বেও বর্তমানে তিনি ব্যবসায় শাখায় শিক্ষক পদে যোগদান করে বেতন বিল উত্তোলন করছে।

    এ বিষয়ে কথা হয় অভিযুক্ত শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের সাথে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ দিন ধরে কম্পিউটার শিক্ষক পদে চাকুরী করে আসছি। পরে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হওয়ায় আমার ব্যবসায় শিক্ষায় যোগ্যতা ও বি কম পাশের সনদ থাকায় আমাকে ব্যবসায় শিক্ষায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দিয়েছেন, তাই আমি এখন বেতন বিল উত্তোলনের জন্য আমার কাগজপত্র সাবমিট করেছি। তবে ওই শিক্ষক বলেন, ২০২৪ সালে প্রকাশ হওয়া গেজেটের নির্দেশ অনুযায়ী আমি যোগদান করেছি। তবে তিনি ২০২৪ সালের গেজেট দেখিয়ে বেতন উত্তোলন করলেও তিনি যোগদান করেন ২০২৩ সালে।

    এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, গিয়াস উদ্দিন কম্পিউটার শিক্ষক। বিদ্যালয থেকে শিক্ষকের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সময় তার কম্পিউটার শিক্ষক পদে তালিকা পাঠানো হলেও তিনি কিভাবে ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। কম্পিউটার শিক্ষক হয়েও কিভাবে ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষক পদে বেতনভাতা উত্তোলনের বেতনসিটে স্বাক্ষর করেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় যেহেতু তাকে ব্যবসায় শিক্ষায় নিয়োগ চূড়ান্ত করছে তাই তিনি স্বাক্ষর করে বলে জানান তিনি।

    এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তেঁতুলিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ফজলে রাব্বি জানান, গিয়াস উদ্দিন নামে ওই শিক্ষকের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে। তবে ইউএনওর নির্দেশে বিষয়টির তথ্য জানতে ওই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের কাছে প্রায় ঘন্টা খানিক বসা হলে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও গণমাধ্যমকে কোন সুষ্ঠু জবাব দিতে পারেননি।

    এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শওকত আলী বলেন, আমি বিষয়টি প্রথমে জানতাম না। পরে বিষয়টি জানার পরে ওই শিক্ষকের কাগজপত্র দেখি। যেহেতু মন্ত্রণালয় তাকে ব্যবসায় শিক্ষক পদে নিয়োগ দিয়েছে সেক্ষেত্রে আমাদের করণীয় আর কিছুই করার নেই।

    মুুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।