Blog

  • স্ত্রীর যৌতুক মামলায়, শেষ রক্ষা হয়নি স্বামী রাশেদ ব্যাংক কর্মকর্তা  কারাগারে

    স্ত্রীর যৌতুক মামলায়, শেষ রক্ষা হয়নি স্বামী রাশেদ ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে

    শহিদুল ইসলাম।

    বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    চট্টগ্রামে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী মোঃ রাশেদকে (৩০) গ্রেফতার করেছে বাকলিয়া থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড আসাদগঞ্জ উপ শাখার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
    গ্রেপ্তারকৃত রাশেদ চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন গ্রামের মৃত হাফেজ আহম্মদের ছেলে।

    গত ১০ জুলাই মোঃ রাশেদ এর স্ত্রী নিপা আক্তার তার বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর আদালতে জেলা লিগ্যাল এইড চট্টগ্রামের সহযোগিতায় মামলার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলা রেকর্ড (নথিভুক্ত) করে বিষয়টি তদন্তের জন্য বাকলিয়া থানাকে নির্দেশ দেন। পরদিন বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রেকর্ড হয় এবং একই দিন সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করে।

    মামলার নথি থেকে জানা যায়, মোঃ রাশেদ ২০২১ সালে নিপা আক্তারকে বিয়ে করেন এবং এ পরিবারে তাদের একটি পূত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর সাময়িক সুখে থাকলেও কিছুদিন পরই যৌতুকের দাবিতে শুরু হয় স্ত্রীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল অভিযুক্ত রাশেদ তার স্ত্রী নিপার আক্তারের নিকট ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করে। মোবাইল ফোন কিনে দিলেও টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কাউকে না জানিয়ে শরীয়তপুর থেকে চট্টগ্রাম চলে আসে রাশেদ। এর পর থেকে তালাক নোটিশ পাঠায়, যৌতুক নিয়ে নোটিশ প্রত্যাহার করে। আবার নোটিশ পাঠায়, আবার প্রত্যাহার করে। নোটিশ-প্রত্যাহার, নোটিশ-প্রত্যাহারের ট্রেন চলতে থাকলে হয়রানির চির মুক্তির জন্য ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন স্ত্রী নিপা আক্তার। তার স্ত্রী যেকোন শর্তে সংসার করতে আগ্রহী হওয়ায় পাঁচ লাখ টাকার দেনমোহর না পেয়েও পেয়েছে মর্মে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন স্বামীর বন্ধু এডভোকেট মনির (ভিডিও/অডিও ক্লিপ রয়েছে)। পরে তিনিই আবার এক লক্ষ টাকা দেনমোহরে নতুন কাবিননামা তৈরি করে বিয়ে করান। কয়েক মাস পর দেওয়া হয় পুনরায় তালাক। জানা যায়, শরীয়তপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে শিশুর ভরণপোষণের জন্য আবেদন করলে লিগ্যাল এইড অফিসার প্রতিমাসের জন্য ৫০০০ টাকা ধার্য করে দেন। যা প্রতিবছর ১০% হারে বৃদ্ধি পাবে। এক শিশুর ভরণপোষণের জন্য প্রতি মাসে এ টাকা দিতে পারলে সংসারই করা যায় উল্লেখ করে রাশেদ পুনরায় ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখ ১২ লক্ষ টাকা মোহরানা ধার্য্যে আরেকটি কাবিননামা সম্পাদনা করেন তার বন্ধু মনিরকে দিয়ে এবং বাসা ভাড়া নিয়ে নগরীর কালামিয়া বাজার দু’তলা মসজিদের পাশে আব্দুল খালেকের বাড়িতে একসাথে থাকতে শুরু করে। ৭ মে আবারো ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন রাশেদ। যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর করে ঘুমন্ত স্ত্রীর স্বর্ণালংকার নিয়ে বের হয়ে যান তিনি। এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করতে গেলে থানা আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেন। পরে এই নারী বাধ্য হয়ে আদালতে যান।
    জানা যায়, রাশেদ তার বন্ধু মনিরের সহযোগিতায় কাবিন সম্পাদনা করে উল্টো তিনি নিজেই কাবিন জালিয়াতির মামলা করেন।
    বাদীনি নিপা আক্তার বলেন, আমি যতবারই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি, বিপরীতে তিনি আমাকে হয়রানি করেছেন। আমার বাপের সম্পত্তি বিক্রি করে পুরো পরিবারকে নিঃস্ব করেছেন।

    জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী আহমদ কবির (করিম) বলেন, চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আমাকে বাদীনি নিপা আক্তারের পক্ষে প্যানেল আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর আদালতে আসামী মোঃ রাশেদ এর বিরুদ্ধে বিচারের প্রার্থনায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। নালিশী দরখাস্ত পর্যালোচনায় ও অভিযোগকারী পরীক্ষা করে অভিযোগের বক্তব্য সন্তোষ জনক হওয়ায় জেলা ও দায়রা জজ এর বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ ওসমান গনি অভিযোগটি এজাহার হিসাবে রেকর্ড করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দিতে বাকলিয়া থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন। এই নির্দেশের জন্য আমি বিজ্ঞ বিচারক মহোদয়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে যারা যৌতুক লোভী তারা সতর্ক হবে বলে আশা করি।

    বাকলিয়া থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার বলেন, আসামী রাশেদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • রাজশাহীর বাগমারায় অনলাইন জুয়ার কালো থাবায় নিঃস্ব হচ্ছে তরুণ-যুব সমাজ

    রাজশাহীর বাগমারায় অনলাইন জুয়ার কালো থাবায় নিঃস্ব হচ্ছে তরুণ-যুব সমাজ

    স্টাফ রিপোর্টার:- নিরেন দাস

    দেশে নতুন আতঙ্কের নাম অনলাইন জুয়া। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে জুয়া খেলা বহু পুরনো এবং প্রচলিত এক প্রকার অবসর-বিনোদনের মাধ্যম। প্রযুক্তির ক্রমবিকাশের সঙ্গে জুয়ার অন্যান্য মাধ্যমের চেয়ে অনলাইন জুয়াতেই এখন মানুষের অংশগ্রহণ বেশি। এক ধরনের কৌতূহল থেকে তরুণ প্রজন্ম আকৃষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন জুয়ার সাইটে।

    রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামে অনলাইন জুয়া খেলা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্কুল-কলেজে পড়য়া শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকে পড়ছে এই অনলাইন জুয়ায়। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে চলে এসব জুয়ার আসর। মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ার অ্যাপস ডাউনলোড করে সেই অ্যাপসের লিংক অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে চালানো হয় জুয়া।

    ওয়ানএক্সবেট, বেটবাজডট৩৬৫, ক্রিকেক্স, বেট৩৬৫এনআই ও মসবেটসহ বিভিন্ন জুয়ার সাইটে টাকা পাচার হচ্ছে। প্রথমে অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে শুরু করে খেলা। এক পর্যায়ে লোভে পড়ে খোয়াচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

    বিদেশ থেকে পরিচালিত এসব সাইট পরিচালনা করছে বাংলাদেশের এজেন্টরা। মাঠে-ঘাটে, হাট-বাজারে এমনকি পাড়ার চায়ের দোকানে একপ্রকার প্রকাশ্যেই বসে অনলাইন জুয়ার আসর। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নেই কোনো সুনিদ্দিষ্ট তথ্য।

    উপজেলার বিপ্রকয়া গ্রামের একজন জুয়াড়ি জানান, আমি একজন ভ্যান চালক, লোভে পড়ে ছয় মাস আগে এক বন্ধুর মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সাথে পরিচয় ঘটে। এরপর একে একে বাড়ির গোয়ালে থাকা চারটি গুরু বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা খোয় গেছে সাথে আমর উর্পাজনে মাধ্যম ভ্যানটাও চলে গেছে । এখন বউ ছেলে মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকা দুস্কও হয়ে পড়েছে আমি পুরোপুরি নিঃস্ব।

    উপজেলার ভবানিগঞ্জ কলেজের একজন শিক্ষার্থী বলেন, লোভে পড়ে বিভিন্ন অযুহাতে বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে অনলাইন জুয়া খেলে সব টাকা নষ্ট করে ফেলেছি । একবার আমি (৫০০) পাঁচশত টাকা দিয়ে বেট / বাজি ধরে ৩০০০/= তিন হাজার টাকা জিতি, তারপরে জেতার লোভ আমাকে পেয়ে বসে, য়ার ফলে কলেজের নাম করে বাড়ি হতে অনেক টাকা নিয়ে আমি এখানে বাজি ধরি কিন্তু আর কোন বাজিতে আমি জিতিনি । জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে আমার কিছু বন্ধুরা পা বাড়াচ্ছে অপরাধ জগতে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে। আমার বন্ধুরা সবাই এখন এই অনলাইন জুয়া খেলে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক ও উপজেলার একডালা গ্রামের বাসিন্দা জানান, আমার ছেলে প্রথমে ফ্রী ফায়ার ও পাবজি গেম খেলতো। এখন বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে নিয়মিত জুয়া খেলে খলে। কিছু বলতে গেলে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। তিনি জানান, জুয়ায় আর্থিক লেনদেনের সহজ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বাংলাদেশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট করার সুযোগ রয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও লেনদেন করা যায়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাহেরপুর পৌরসভার তাহেরপুর বাজারের একজন অনলাইন জুয়ার এজেন্ট বলেন , আমার কাছে ভ্যানচালক , কৃষক, দিমজুর ,চাকুরিজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই অনলাইন জুয়ার জন্যে প্রচুর পরিমাণে টাকা লেনদেন করে, আমি বিকাশ নগদের মাধ্যমে এ ধরনের এজেন্ট হিসেবে কাজ করি এতে করে প্রতিদিন আমার কাছ থেকে তাহেরপুর বাজারে কমপক্ষে দিনে গড় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে । এই বাজারে আমার মতো আরো এজেন্ট আছে, আমি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি তবে আমার পরামর্শ এই ধরনের অনলাইন জুয়ায় আসক্ত না হওয়ার ।

    শুধু বাগমারা উপজেলাতে নয় পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে এই অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ থাবা , শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক দিনমজুর ভ্যানচালক,চাকুরিজীবী এমনকি ব্যবসায়ীরাও জড়িয়ে পড়েছে এই অনলাইন জুয়াতে। অল্প সময়ে অধিক পরিমাণ টাকা উপার্জনের জন্যে তারা এই ধরনের অনলাইন অবৈধ ওয়েবসাইট গুলোতে বাজি/জুয়া খেলছে ।

    পুঠিয়া উপজেলার শিলমাঢ়িয়া ইউনিয়নের মঙ্গল পাড়া গোবিন্দ পাড়া গ্রামের একজন জুয়াড়ির সাথে মুঠো ফোনে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সে তাহেরপুর বাজারে এক দোকানে সেলসম্যান এর কাজ করতেন, এক বন্ধুর মাধ্যমে এই অনলাইন জুয়ার ব্যপারে জানতে পারে, প্রথমে সে কিছু টাকা এখান থেকে পেলেও পরবর্তীতে এই লোভে পড়ে তার দোকানের মালিক তাকে ২০০,০০০/= ( দুই লক্ষ টাকা ) ব্যাংকে জমা করতে পাঠিয়ে ছিল, দোকানের সেই টাকা সে ব্যাংকে জমা না করে জুয়ার খেলে ২০০,০০০/= ( দুই লক্ষ টাকা ) সব হেরে যায়, টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সে দীর্ঘদিন এলাকা থেকে পলাতক ।

    শুধু তাই নয় একই গ্রামের ভ্যানচালক মোঃ রবিউল ইসলাম আনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে তার ভ্যান বিক্রি করেছে এবং তার জমি ছিল প্রায় দশ কাঠা সেই জমিও বিক্রি করেছে এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে বর্তমানে তার পরিবারসহ পালাতক।

    এই অনলাইন জুয়ার থাবা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের সর্বত্র তাই সমাজের সকলকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং পরিবারের সদস্যদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে সন্তানরা কোথায় কখন কিভাবে কি করছে মোবাইলে কতটুকু সময় দিচ্ছে এবং সামাজিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমেই হয়তো বা রোধ করা যেতে পারে এই জুয়ার ভয়াবহ থাবা।

    পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট অনুযায়ী, জুয়ার জন্য জুয়ারি তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। মানুষকে শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক সবদিক থেকেই পুঙ্গ করে মেরে ফেলার মতো মানববিধ্বংসী এই মোবাইল জুয়া কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। তাই সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ

    এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। তবে আমি শুনেছি অনলাইন জুয়ার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। আমরা চেষ্টা করছি এজন্টেদেরকে ধরতে। তাদেরকে ধরতে পারলে অনলাইন জুয়ার প্রসার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

  • দোয়ারাবাজারে বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দুইজন আটক

    দোয়ারাবাজারে বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দুইজন আটক

    দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

    সন্ত্রাসী কায়দায় জোরপূর্বক এক অসহায় পরিবারের বসতঘর ভেঙে লুটপাটের অভিযোগে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সহোদর দুই ভাইকে আটক করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার পান্ডারগাও ইউনিয়নের চেঙাইয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। 

    ভুক্তভোগী ঘর মালিক চেংগাইয়া গ্রামের মৃত আছমত আলীর পুত্র ওয়াজিদ আলী বাদী হয়ে একই গ্রামের পাশাপাশি ঘরের বাসিন্দা মৃত ইসকন্দর আলীর পুত্র হারিছ আলী ও সাদক আলীর বিরুদ্ধে দোয়ারাবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। 

    শনিবার (১৩ জুলাই) বিকালে অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ সরেজমিনে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট কারী দুই ভাইকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায় লুটপাট কারী ঘর ভাংচুর কারীরা প্রভাব শালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক বিচার সালিশ হয় না। সবসময় ভুক্তভোগী পরিবারের উপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে।

    ভুক্তভোগী ওয়াজিদ আলী জানান আমি খুবই অসহায় একা মানুষ। আমার বাপ দাদা থেকে শুরু করে এই ঘরে বসবাস করে আসছি। ক্রয় সূত্রে এই বসত ঘরের ভূমির মালিক ও আমার বাবা থেকে আমি হই। দীর্ঘদিন যাবত এই সন্ত্রাসীরা আমাকে মেরে ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করে আসছে। গতকাল শুক্রবার আমার ঘরটি ভাংচুর ও লুট করে নিয়ে যায়। 

    জানতে চাইলে বিবাদী পক্ষ সাদক আলী ও হারিছ আলী জানান, এই বসত ঘরের জায়গার মালিক আমরা চার ভাই। ওয়াজিদ আলীর পিতা আছমত আলী আমাদের নিকট থেকে ঘর চেয়ে থাকতেন। এখানে তাদের কোন জমি নেই। আমদের প্রয়োজনে ঘরের এক অংশ ভেঙেছি আরেকটি অংশ ভেঙে তাদেরকে আমাদের জমি থেকে সরিয়ে দিব।

    এব্যাপারে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি বদরুল হাসান জানান অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

  • ময়মনসিংহ সদর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সম্মেলন, সভাপতি ড.সিরাজুল,তোতা সম্পাদক

    ময়মনসিংহ সদর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সম্মেলন, সভাপতি ড.সিরাজুল,তোতা সম্পাদক

    স্টাফ রিপোর্টারঃ
    ময়মনসিংহের সদরে উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সম্মেলন শনিবার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড.মোঃ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উক্ত সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম সিআইপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান,বঙ্গবন্ধু পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কবি মাহমুদ আল মামুন।

    সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক এডভোকেট মাহবুব আলম মামুন ও সদর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন তোতার যৌথ সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন- ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শওকত জাহান মুকুল, দপ্তর সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু সাঈদ দীন ইসলাম ফখরুল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ময়মনসিংহের আহবায়ক কবি ফরিদ আহমেদ দুলাল,সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট এমএ কাশেম,জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আল আমিন, সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন কবির,বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সরকার প্রমুখ। আলোচনা পর্ব শেষে ড.মোঃ সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি ও দেলোয়ার হোসেন তোতাকে
    সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ সদর উপজেলা শাখার ১০১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল।

  • বাগেরহাটে ফকিরহটে দুই পরিবহনের মুঁখামুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ২০

    বাগেরহাটে ফকিরহটে দুই পরিবহনের মুঁখামুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ২০

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির বিশেষ প্রতিনিধি:
    বাগেরহাটের ফকিরহাটে যাত্রীবাহী দুটি পরিবহনের সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছে। এ সময় উভয় পরিবহনের আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন যাত্রী।

    শনিবার (১৩ জুলাই) সকালের দিকে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের উপজেলার ফলতিতা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শ্রীধর গাঙ্গুলী (৪৫) গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার দেবগ্রামের গিন গাঙ্গুলীর ছেলে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী দোলা পরিবহন ফকিরহাটের ফলতিতা এলাকায় এসে পৌঁছালে বিপরীত দিক দিয়ে আসা বেনাপোলগামী যাত্রীবাহী রাজিব পরিবহন পাশ কেটে যাওয়ার সময় উভয় পরিবহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দোলা পরিবহন সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় রাজিব পরিবহনের যাত্রী শীধর গাঙ্গুলী ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ সময় উভয় পরিবহনের ১২ জন যাত্রী কম-বেশি আহত হন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চায় নদীপাড়ের মানুষ
    মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ নুরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে ঘটনার পর উভয় পরিবহনের চালক ও সহযোগীরা পালিয়ে গেছে। পরিবহন দুটি জব্দ করা হয়েছে।

  • লালমনিরহাটে ফেন্সিডিল অটোসহ গ্রেফতার মনির

    লালমনিরহাটে ফেন্সিডিল অটোসহ গ্রেফতার মনির

    মো. হাসমত উল্লাহ,লালমনিরহাট।।

    লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ  অভিযানে অবৈধ ফেন্সিডিল মিশুক অটো বাইকসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম, এর নের্তৃত্বে  এসআই ফেরদৌস সরকার, এএসআই আব্দুল বারী সরকার,এএসআই শাহজালাল হোসেন, নাজমুল হোসাইন, বদিউজ্জমান, ময়েজ উদ্দিন,সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযানে চালিয়ে জেলার আদিতমারী উপজেলার ০৬ নং ভাদাই ইউপিস্থ বড়াবাড়ী ০৪নং মৌজাস্থ জনৈক মোঃ আব্দুল্লাহ আল @ রুম্মান এর বিল্ডিং বাড়ীর ৩০ হাত পূর্বে অবস্থিত মিলন বাজার হইতে আদিতমারী গামী পাঁকা রাস্তার উপর হইতে ৩০বোতল ফেন্সিডিল ও একটি মিশুক অটো বাইকসহ একজন কে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দা পুলিশ। 

    গ্রেফতারকৃত আসামি মনির হোসেন(৩০), হলে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের আরাজী দেওডোবা গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে।এ বিষয়ে আদিতমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলার রুজু হয়েছে। লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম, জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদিতমারী উপজেলার বড়াবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফেন্সিডিল ও মিশুক অটো বাইকসহ একজন কে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দা পুলিশ। 

    হাসমত উল্লাহ ।

  • নড়াইল জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা ও মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

    নড়াইল জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা ও মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইল জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা ও নড়াইল জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত। নড়াইল জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জুন/ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন মোহাঃ মেহেদী হাসান, সুযোগ্য পুলিশ সুপার, নড়াইল। অপরাধ পর্যালোচনা সভার শুরুতে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও
    অপরাধ চিত্র তুলে ধরেন তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্), নড়াইল মহোদয়।
    অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুলিশ সুপার মহোদয় মামলা তদন্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ওয়ারেন্ট তামিল, গুরুত্বপূর্ণ মামলা সমূহের অগ্রগতি, মামলার রহস্য উদঘাটন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের গ্রেফতার, সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়সহ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
    ব্যাংক বীমাসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জুয়েলার্স দোকানগুলোতে চুরি, ডাকাতি যেন না হয় সেজন্য রাতে টহল জোরদার করতে পুলিশ সুপার নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন গরু, ছাগল যাতে চুরি না হয় সেজন্য চেকপোস্ট জোরদার করতে বলেন। রাত ১২ .টার পর সন্দেহ ঝজনক লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ প্রদান করেন। সাধারণ জনগণ যাতে হয়রানি ছাড়াই তাৎক্ষণিক প্রত্যাশিত আইনী সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে বলেন। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা, উঠান বৈঠক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজনসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রতিটি বিটে ভিলেজ ডিফেন্স পার্টি(ভিডিপি) গঠন করে রাতে পালাক্রমে টহল ডিউটি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রেখে জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সকলকে দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সাথে নিজ নিজ কর্তব্য পালনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন।
    অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ); তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্); মোঃ দোলন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল); কিশোর রায়, সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল); মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পুলিশ সুপার, সিআইডি, নড়াইলসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা বিশেষ শাখার পুলিশ পরিদর্শক, অপরাধ শাখার পুলিশ পরিদর্শক, গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, জেলার
    সকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্প ইনচার্জগণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
    অপরদিকে
    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, নড়াইল জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত
    (বৃহস্পতিবার) সকাল পুলিশ লাইনস্ ড্রিলশেডে জুলাই/২০২৪ খ্রি: মাসের কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কল্যাণ সভায় বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প থেকে আগত বিভিন্ন র্য্যাঙ্কের অফিসার ও ফোর্স এবং পুলিশ লাইনস্ এর অফিসার ও ফোর্স তাদের সামগ্রিক সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। অত্র জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাঃ মেহেদী হাসান পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পরবর্তীতে তিনি তাদের উল্লেখিত সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের নির্দেশ প্রদান করেন। সকল পুলিশ সদস্যকে এক হয়ে জনগণ ও দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করে স্মার্ট পুলিশ গঠনে যথাযথ দায়িত্ব পালত করতে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিয়মমাফিক ছুটি, আবাসন ব্যবস্থা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা, মানসম্মত খাবারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন। থানা, তদন্তকেন্দ্র এবং পুলিশ ক্যাম্প সমূহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতি সপ্তাহে একদিন শনিবার “ক্লিনিং ডে” পালন করায় সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের নিয়মানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ, পিতা-মাতার প্রতি উত্তম আচরণ, নৈতিকতা, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন, অশোভন আচরণ পরিহার করা ইত্যাদি বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
    জুন’২৪ মাসে নড়াইল জেলায় ঈদকে কেন্দ্র করে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্য গ্রেপ্তার করায় নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, এসআই (নিঃ) মোঃ শাহ আলম ও এসআই (নিঃ) মোঃ সাহেব আলীকে মাননীয় আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) অর্থ পুরস্কার প্রদান করেছেন যা পুলিশ সুপার জনাব মোহাঃ মেহেদী হাসান কল্যান সভায় হস্তান্তর করেন।
    জুন মাসের শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে নড়াইল সদর থানার এসআই (নিঃ) শাহ আলম; নড়াইল জেলার শ্রেষ্ঠ এএসআই (নিঃ) হিসেবে লোহাগড়া থানার এএসআই (নিঃ) মোঃ বাচ্চু শেখ; শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) অপু মিত্র; ট্রাফিক শাখার শ্রেষ্ঠ চৌকস অফিসার হিসেবে সার্জেন্ট/ লিপিকা মন্ডল; সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আলী হোসেন ও মোঃ ফিরোজ আহম্মেদদেরকে পুলিশ সুপার মহোদয় অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন। এছাড়া পুলিশ সুপার মহোদয় সাজা পরোয়ানা তামিলকারী শ্রেষ্ঠ অফিসার হিসেবে এএসআই (নিঃ) মোঃ সাহেব আলী, নড়াইল সদর থানার এএসআই (নিঃ) মোঃ সাকের আলী ও এএসআই (নিঃ) মোঃ মিকাইল, লোহাগড়া থানা গণদের অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন। অত্র জেলায় শ্রেষ্ঠ অস্ত্র উদ্ধারকারী অফিসার হিসেবে কালিয়া থানার এসআই (নিঃ) শেখ সোহরাব উদ্দিন ও এএসআই (নিঃ) জিয়াউর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্সদের অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন।
    এছাড়া পুলিশ সুপার ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদক উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করায় জুন/২০২৪ খ্রিস্টাব্দ মাসের শ্রেষ্ঠ গ্রাম পুলিশ হিসেবে নড়াইল সদর থানার মুলদাইড় গ্রামের মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনকে ক্রেস্ট ও অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন।
    পুলিশ লাইনস্ এর এমটি গ্যারেজ, পুকুরপাড় ও আশপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করায় পুলিশ সুপার মহোদয় এএসআই (সশস্ত্র) মোঃ আসাদ, এএসআই (সশস্ত্র) মোঃ আলাউদ্দিন গাজী ও এএসআই (সশস্ত্র) মাহবুব রহমান সহ তাদের টিমকে অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন ।
    কল্যাণ সভায় মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত; জনাব তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্); মোঃ দোলন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল); কিশোর রায়, সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল); সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা বিশেষ শাখার পুলিশ পরিদর্শক, ইন্সপেক্টর ক্রাইম, জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক, কোর্ট ইন্সপেক্টর, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, জেলার সকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্প ইনচার্জগণসহ পুলিশ লাইনসের অফিসার ও ফোর্স এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • তেঁতুলিয়ায় মাদক ব্যবসায়ীকে থানায় সোপর্দ করলেন চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিন

    তেঁতুলিয়ায় মাদক ব্যবসায়ীকে থানায় সোপর্দ করলেন চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিন

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১০পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীকে মডেল থানায় সোপর্দ করেছেন ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিন।

    গত বুধবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে ভেরসা ব্রিজের পূর্বে বামনপাড়া নামক এলাকা থেকে ওই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেন গ্রামপুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টায় ইউপি সদস্য তবিবর রহমান ও গ্রামপুলিশের মাধ্যমে মাইক্রোবাসে থানায় পৌঁছে দেয়া হয়।

    ইউনিয়ন পরিষরে কাছে আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বাবু বগুড়া জেলার দুপচাচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে।

    জানা যায়, বুধবার ভেরসা ব্রিজের পূর্বে হাইওয়ে সড়কের ওপর বামনপাড়া নামক এলাকায় মাতাল অবস্থায় চলাফেরা করলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয় পরে স্থানীয় লোকজন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে অবগত করেন। পরে ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে গ্রামপুলিশের মাধ্যমে তাকে আটক করে পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিষদে নিয়ে যাওয়ার পর তার কাছ থেকে গাঁজা, ১০পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১টি ডায়েরী ও ৪টি বাটন মোবাইল ফোনসহ আনুসঙ্গিক কিছু জিনিসপত্র পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিন বলেন, মাদক সেবন দিন দিন বেড়েই চলছে এতে যুব ও তরুন সমাজ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। যেন তার ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা ও সরবরাহ কেউ করতে না পারে এবং যুব ও তরুন সমাজ ধ্বংসের পথে যেতে না পারে সেই দিক বিবেচনা করেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
    উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে সফিউলের বাড়িতে ওই মাদক ব্যবসায়ী বেড়াতে আসছেন সাক্ষাৎকারে জানতে পারা গেছে। এছাড়াও ওই ইউনিয়নের আরও কয়েকজন ব্যক্তি মাদক ব্যবসায় জাড়িত আছেন জানান আটককৃত বাবু।

    এ ব্যাপারে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরমান আলী বলেন, চেয়ারম্যান কর্তৃক সোপর্দকৃত মাদক কারবারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।

  • পাইকগাছার নতুন বাজারে ৩টি ফার্নিচারের দোকান আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত

    পাইকগাছার নতুন বাজারে ৩টি ফার্নিচারের দোকান আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা(খুলনা)।।
    পাইকগাছায় নতুন বাজারের ৩টি ফার্নিচার দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। কাঠ,তৈরি করা আসবাবপত্র ও মেশিনারিজ জিনিস পুড়ে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
    পাইকগাছা উপজেলার নতুন বাজারে অবস্থিত শামীম হোসেন ও তাকবির হোসেনের ৩টি ফার্নিচারের দোকানে বৃহস্পিতিবার রাত ১২টার পরে আগুন লাগ। প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানীয়রা আগুন নিভানোর চেস্টা করে। পরবর্তীতে তালা উপজেলার থেকে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে ৩ ফার্নিচারের ঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার্বিকভাবে আগুন নেভানোর সহযোগিতা করছেন।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • দুই ব্যবসায়ী কে জরিমানা ; চিংড়ি মাছ জব্দ

    দুই ব্যবসায়ী কে জরিমানা ; চিংড়ি মাছ জব্দ

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিংড়ি ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করার অপরাধে চিংড়ী মাছ জব্দ ও দুই ব্যবসায়ী কে জরিমানা করা হয়েছে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক এর নেতৃত্বে উপজেলা মৎস্য দপ্তর থেকে শুক্রবার সকালে শিবসা ব্রিজ রোডে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিংড়ি ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করার অপরাধে আনুমানিক ২০ কেজি চিংড়ী জব্দ এবং দুই ব্যবসায়ী কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ইমদাদুল হক
    পাইকগাছা খুলনা।