আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের পানিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় সহস্রাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বিশেষ করে নিচু ও বিল এলাকার পুকুরগুলো বেশী ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন কৌশলে ঘের দিয়েও পুকুরের মাছ রক্ষা করা যাচ্ছে না। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি ও মৎস্যখাত। এছাড়াও নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত ও রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। এরমধ্যে তানোর পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চলের আমশো তাঁতিয়ালপাড়া, গোকুল মথুরা, তালন্দ, ধানতৈড়, কালিগঞ্জ ইত্যাদি। এছাড়াও উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) বাতাসপুর, শ্রীখন্ডা, হাতিশাইল, কামারগাঁ, গাংহাটি, কচুয়া, মালশিরা, নিজামপুর, হরিপুর, দমদমা ও মাঝিপাড়া। কলমা ইউপির চন্দনকৌঠা, ঘৃতকাঞ্চন, নড়িয়াল, আজিজপুর, অমৃতপুর ও কুজিশহর। চাঁন্দুড়িয়া ইউপির হাড়দহ, জুড়ানপুর, সিলিমপুর, চাঁন্দুড়িয়া ও বেড়লপাড়া। সরনজাই ইউপির কাঁসারদীঘি, তাতিহাটি নবনবী, মন্ডলপাড়া। পাঁচন্দর ইউপির ইলামদহী, চাঁদপুর, চককাজিজিয়া, মোহাম্মদপুর, বানিয়াল, বনকেশর, কোয়েল ও কচুয়া এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকার মানুষ বেশী ক্ষতির মুখে পড়েছে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগের হিসাব মতে, উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানা পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার এবং সরকারি খাসপুকুর রয়েছে প্রায় এক হাজার। গত সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে আশা পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিকাংশ পুকুর তলিয়ে যায়। উপজেলার প্রায় সহস্রাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এসব পুকুরে বিভিন্ন জাতের বড় মাছ ও পোনা ছিল। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা মাছের পরিমাণ প্রায় ছিল ১০ মেট্রিক টন এবং পোনা ছিল প্রায় ১৫ লাখ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,
উপজেলার কামারগাঁ৷ ব্লকে প্রায় ৩০ হেক্টর, মাদারিপুর ৮ হেক্টর, ছাঐড় ১০ হেক্টর, কৃষ্ণপুর ৫ হেক্টর ও পাঁচন্দর ব্লকের মোহাম্মদ পুর ৭ হেক্টর, চাঁদপুর ১০ হেক্টর এবং চান্দুড়িয়া ব্লকের চাঁন্দুড়িয়া-বেড়লপাড়া ১৫ হেক্টর সিলিমপুর ৫ হেক্টর। তানোর পৌরসভায় ১১০ হেক্টর। সব মিলে দুশ’হেক্টর আমনখেত ডুবেছে এর মধ্যে আংশিক ১৫০ হেক্টর ও পুরোপুরি ডুবেছে ৫০ হেক্টর। তবে উপজেলায় বন্যায় কি পরিমাণ আমণখেতসহ অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,তার সুনিদ্রিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি কৃষি বিভাগ। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের (এএও) তারা কাছে পায় না।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, সময়মতই বৃষ্টির পানি হয়েছে। যার কারনে কৃষকরা কোমর বেধে জমি রোপন শুরু করেছেন। এবারে রোপা আমনের লক্ষমাত্রা ২২ হাজার ৫০০ হেক্টর ধরা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমি রোপন হয়েছে। কৃষিতে আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে বলেই অল্প সময়ের মধ্যে জমি চাষ ও রোপন শেষ করতে পারছেন কৃষকেরা। তবে বন্যায় কৃষিখাতে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার সুনিদ্রিষ্ট তথ তিনি জানাতে পারেননি।
এবিষয়ে তানোর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল হোসেন বলেন, ভারী বর্ষণ ও উজানের পানিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু একটানা মুশুলধারে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের জন্য বের হওয়া সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের সংখ্যা নোট করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।#
Blog
-

তানোরে আকর্ষিক বন্যা কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষ*তি
-

তানোরে মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
আলিফ হোসেন, তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে ‘শেখ হাসিনার দর্শন সকল মানুষের উন্নয়ন’ স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলার মাসিক
সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানা গেছে, ১৫ জুলাই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী।
অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান তানভির রেজা ও সোনীয়া সরদার,
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), আব্দুর রহিম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) বার্নাবাস হাসদাক, কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ, উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন, মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফজলুর রহমান, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা, ওয়াজেদ আলী, বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) জামিলুর রহমান, পাঁচন্দর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, কামারগাঁ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলী প্রামানিক, কলমা ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরী, তালন্দ ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন বাবু ও সরনজাই ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক খাঁন প্রমুখ। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন সভায় উপজেলা সেচ কমিটিকে না জানিয়ে গোপণে ৩৮টি সেচ মটরসহ নির্বিচারে বানিজ্যিক মিটারে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়ায় তিব্র সমালোচনা করা হয়। তবে তোপের মুখে পড়ার ভয়ে পল্লী বিদ্যুতের (ডিজিএম) জহুরুল ইসলাম ও এজিএম কামাল হোসেন সভায় উপস্থিত হয়নি।# -

পাইকগাছা থেকে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিকটন চিংড়ি ও মৎস্য উৎপাদন
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
লবণ পানির চিংড়ি চাষ বদলে দিয়েছে উপকূলীয় জনপদ খুলনার পাইকগাছার ৩ লাখ মানুষের জীবনমান। বর্তমানে অত্র উপজেলায় ১৭ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে লবণ পানির চিংড়ি ও অন্যান্য মৎস্য চাষ হচ্ছে। ছোট-বড় ঘেরের সংখ্যা রয়েছে সাড়ে ৮ হাজার। প্রতিবছর অত্র উপজেলা থেকে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিকটন চিংড়ি সহ অন্যান্য মৎস্য উৎপাদন হয়ে থাকে। যার আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। উৎপাদিত মৎস্য স্থানীয় চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করা হয়। এখানকার মৎস্য সম্পদ স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ব্যাপক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাড়িয়েছে এখানকার সাধারণ মানুষ। এখানকার চিংড়ি ও অন্যান্য মৎস্য সম্পদকে ঘিরে প্রসারিত হয়েছে বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা বাণিজ্য। লবণ পানির চিংড়ি চাষ ব্যবস্থাপনা গত ৫ দশকে এ অ লের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করায় এখানকার মানুষ উন্নত জীবনযাপন করার পাশাপাশি চাকুরি ও শিক্ষা ক্ষেত্র সহ সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সূত্র অনুযায়ী ৮০’র দশকে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এ জনপদে লবণ পানির চিংড়ি চাষ শুরু হয়। চিংড়ি চাষ লাভজনক হওয়ায় এ চাষ ব্যবস্থা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা উপজেলায়। শুরুর দিকে চিংড়ি ঘেরগুলো বৃহৎ আয়তনের ছিল। যা ধীরে ধীরে ছোট হয়ে এসেছে। এখন বেশিরভাগ জমির মালিকরা তাদের নিজেদের জমিতে বাঁধ দিয়ে নিজেরাই চিংড়ি সহ অন্যান্য মৎস্য চাষ করছে। ফলে এলাকার প্রায় প্রতিটি মানুষ চিংড়ি চাষ ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত রয়েছে। কেউ সরাসরি চাষের সাথে জড়িত রয়েছে, অনেকে আবার যৌথভাবে চাষ করছে, কেউ কেউ তাদের জমি লিজ দিয়ে হারির টাকা নিয়ে অন্যান্য কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে। অনেকেই আবার পোনা এবং অন্যান্য মৎস্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ৫ দশক আগে শুরু হওয়া চিংড়ি চাষ ব্যবস্থায় মানুষের জীবনমান পরিবর্তন হলেও চাষ ব্যবস্থাপনায় তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি। এখনো অধিকাংশ চিংড়ি চাষীরা সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করছে। ফলে উন্নত পদ্ধতি অনুসরণ ও চিংড়ি চাষের অনুকূল পরিবেশ তৈরী করা গেলে উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেতো এমন ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট চাষী ও মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ। উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী অত্র উপজেলায় বর্তমানে ১৭ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে লবণ পানির চিংড়ি চাষ হচ্ছে। ঘেরের সংখ্যা রয়েছে ছোট-বড় সাড়ে ৮ হাজার। ৭৫ হেক্টরে ২২৫টি গলদা ঘের রয়েছে। পুকুর রয়েছে ২৯১ হেক্টরের ২ হাজার ৫৫৮টি। বাগদা-গলদা, টেংরা, পারশে ও ভেটকি সহ এখানকার মূল্যবান মৎস্য সম্পদের মধ্যে কাঁকড়া অন্যতম। এসব মৎস্য সম্পদের মধ্যে বাগদা-গলদা, কাঁকড়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চিংড়ি এবং সাদা মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বাগদা-গলদা ছাড়া অন্যান্য মৎস্য আলাদাভাবে চাষাবাদ হয় না। সচরাচর চিংড়ি ঘেরের সাথেই টেংরা, পারশে, ভেটকি ও কাঁকড়া সহ অন্যান্য মৎস্য উৎপাদন হয়ে থাকে। অত্র উপজেলা থেকে প্রতিবছর ৫ হাজার ৪৯০ মেট্রিকটন বাগদা চিংড়ি উৎপাদিত হয়। যার বাজারমূল্য প্রতি কেজি ৬শ থেকে ১২শ টাকা। হরিণা, চালি, চাকা সহ অন্যান্য চিংড়ি উৎপাদিত হয় ৬৭০ মেট্রিকটন। যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৬শ থেকে ৮শ টাকা। গলদা উৎপাদন হয় ৪২ মেট্রিকটন, যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা। সাদা মাছ ১২ হাজার ২শ মেট্রিকটন, যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ৮শ টাকা। কাঁকড়া উৎপাদন হয় ৩ হাজার ৩৫০ মেট্রিকটন, যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৩শ থেকে ২ হাজার টাকা। উন্মুক্ত নদী থেকে ৩৩০ মেট্রিকটন মৎস্য আহরণ হয়। পোনা ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন জানান, অত্র উপজেলায় ৫টি হ্যাচারী ৫০টি নার্সিং পয়েন্ট এবং শতাধিক পোনা বিক্রয়ের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ক্ষুদ্র চিংড়ি চাষী ঘোষাল গ্রামের জামিলুর রহমান রানা বলেন, আমার নিজের ৮ বিঘা জমিতে চিংড়ি ঘের রয়েছে। যেখানে আমি ধান এবং চিংড়ি সহ অন্যান্য মৎস্য চাষ করে থাকি। ধানের উৎপাদন একটু কম হলেও মাছের উৎপাদন ভালো হওয়ায় চিংড়ি ঘেরের আয় থেকে পরিবার সহ আমি সুন্দর জীবন যাপন করছি। উপজেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রিপন জানান, ৮০’র দশকে অত্র এলাকায় চিংড়ি চাষ শুরু হয়। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ চিংড়ি সাথের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে। চিংড়ি চাষের কারণে এখানকার মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাড়িয়েছে এখানকার প্রতিটি মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে চিংড়ি চাষ উপযোগী হলেও নানা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চিংড়ি চাষীরা। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতেই পানি উত্তোলন করা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাষ শুরু করা যায় না। চাষীদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান, সরকারি খাল খনন করার মাধ্যমে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ এবং উন্নতমানের পোনা সরবরাহ করা গেলে চিংড়ির উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেতো এবং চাষীরা লাভবান হতো। উপজেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর বলেন, এখানকার উৎপাদিত চিংড়ি ও অন্যান্য মৎস্য সম্পদ স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। চিংড়ি ও মৎস্য খাত রক্ষা করার জন্য গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক জানান, বর্তমানে উপজেলায় ১৭ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হচ্ছে। প্রতিবছর অত্র উপজেলা থেকে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিকটন চিংড়ি সহ অন্যান্য মৎস্য উৎপাদন হচ্ছে। যার আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে চিংড়ি ও মৎস্য চাষীদের সবধরণের সহযোগিতা করা হয় বলে মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট এ কর্মকর্তা জানান। উপকূলীয় এ জনপদের চিংড়ি ও অন্যান্য মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিবেন এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।ইমদাদুল হক
পাইকগাছা, খুলনা। -

র্যাব-১২ সদর কোম্পানির অভিযানে ৯৩০ পিস নে*শাজাতীয় বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনসহ ১ জন মা*দক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
র্যাব-১২ সদর কোম্পানির অভিযানে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানা এলাকা হতে ৯৩০ পিস নেশাজাতীয় বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন, এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী গ্রেফতারে র্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।
১। এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ মারুফ হোসেন বিপিএম, পিপিএম, অধিনায়ক র্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিকনির্দেশনায় এবং র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় অদ্য ১৫ জুলাই ২০২৪ খ্রিঃ বিকাল ১৪.৩০ ঘটিকায় র্যাব-১২’র সদর কোম্পানির একটি চৌকষ আভিযানিক দল “সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানাধীন চান্দাইকোনা গ্রামস্থ পাবনা বাজারের সামনে রংপুর টু ঢাকাগামী মহাসড়কের উপর” একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৯৩০ পিস নেশাজাতীয় বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনসহ ০১ জন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তার সাথে থাকা মাদকদ্রব্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ০১টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১,৮২০/- টাকা জব্দ করা হয়।
২। গ্রেফতারকৃত আসামি ১। মোঃ ওবায়দুল ইসলাম (৩৬), পিতা-মোঃ নুর ইসলাম, সাং-মহারাপাড়া, থানা-হাকিমপুর, জেলা-দিনাজপুর।
৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামি দীর্ঘদিন যাবৎ লোকচক্ষুর আড়ালে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে নেশাজাতীয় বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল।
৪। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানায় মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ধরণের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে র্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।
র্যাব-১২ কে তথ্য দিন – মাদক, অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।
-

গোদাগাড়ীতে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মা*দক ব্যবসায়ীদের বি*রুদ্ধে কঠো*র পদক্ষেপ গ্রহন করার সিদ্ধান্ত
গোদাগাড়ী ( রাজশাহী) উপজেলা সংবাদদাতাঃ ১৫ জুলাই সকাল ১০ টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সন্মেলন কক্ষে আইন শৃঙ্খলা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হায়াতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দীন সোহেল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া খাতুন মিলি, আরও উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ হাসান, বাসুদেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম, গোগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জয়নাল আবেদিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শায়লা শারমিন সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ শাহাদুল হক, ওয়ার্কস পাটি রাজশাহীর সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুলসহ জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, দপ্তরের প্রধানগণ সুধিজন উপস্থিত ছিলেন।
বক্তাগণ গুরুত্বপূর্ন মতামত প্রদান করেন মাদক, সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রম মাথা চাড়া দিতে না পারে এজন্য প্রশাসন, বিজিবি পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, গোদাগাড়ী থানায় ২টি খুন, অপহরন ৪ টি, ধর্ষন ৪ টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৫টি পর্নগ্রাফী আইনে ১ টিসহ মোট ১২৭ মামলা হয়েছে এগুলির মধ্যে বেশীর ভাগই মাদক মামলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হায়াত বলেন, গোদাগাড়ীর বড় সমস্যা মাদক, মাদক ব্যাবসায়ী ১ হাজার পরিবার নষ্ট করে নিজে বাড়ী, গাড়ী, কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলবে একদিন তার পরিবার ধ্বংশ হতে বাধ্য। নিজ নিজ এলাকায় কে কে মাদক ব্যবসা করে তাদের তালিকা করার জন্য চেয়ারম্যান, মেম্বার, মেয়র, কাউন্সিলরদের পরামার্শদেন, সে সাথে পুলিশ, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কাছে যে তালিকা আছে সে তালিকা নিয়ে আমরা বসে পরবর্তী কাজ করবো। মাদক ব্যবসায়ী ছাড়া সাধারণ মানুষ যেন কষ্ট না পায় সে দিকে আমরা সুদৃষ্টি দিব। প্রয়োজনে মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ী চিহ্নিত করে দিব। কেউ যেন তাদের সাথে সম্পর্ক না রাখে।
বিজিবির ক্যাম্পে গরু নিয়ে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়, এটা গরু পালনকারীদের নিকট খুবই কষ্টকর। এটা উদ্ধোর্তন কতৃপক্ষের নিকট আলোচনা করে বিজিবিকে বিষয়টি সুরাহা করার পরামার্শ দেয়া হয়।
গোদাগাড়ীতে যাত্রীছাউনি করার জন্য গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র সাহেবকে পরামার্শদেন। বাল্যবিয়ে, ইফটিজিং, সাপে কাটা রোগির ব্যপারে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।উপজেলা চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দীন সোহেল বলেন, গরু পালনকারীদের গরু ক্যাম্পে নিয়ে নিবন্ধন করতে হয় এটা খুবই কষ্টকর। এব্যপারে গত সভায় আলোচনা করা হয়েছিল। বিজিবির উদ্ধোর্তন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করার কথাছিল কিন্তু হয় নি।
গোদাগাড়ীতে দূর- দূরাত্বের থেকে মানুষ এসে যেন কষ্ট না পাই সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে সুলতানগজ্ঞ মোড়ে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হয় সেখানে একজন ট্রাফিক পুলিশ কে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেন। সাপে কাটা রোগির জন্য যদি আরও এন্টিভেনম লাগে আমি আরও দিব ইনসাল্লাহ। গতকাল রাজশাহী জেলায় আইন শৃঙ্খলা সভায় গোদাগাড়ীর মাদক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গোদাগাড়ী মাদকের জন্য রেড জোন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স নীতি ঘোষনা করেছেন। মাদক প্রতিরোধে সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে। আমাদের এলাকায় কে কে মাদকের ব্যবসা করে আমরা সবাই জানি তাদের তালিকা করে দিব প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।মাদকব্যাবসায়ীদের গ্রেফতার করা হলে, কোন তদবির করা হবে না বক্তরা জানান, প্রধান মন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছেন। এতে প্রমান হয় মাদকের পক্ষে কেউ নেই।
সীমান্ত এলাকায় কাঁটা তারের বেড়া থাকা শর্তেও হেরোইন, ফেনসিডিল, মদসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য আসে কি করে। সবাকে আরও আন্তরিক ও সচেতন আরও হলে কোন মাদকদ্রব্য দেশে আসবে না।উপজেলার বসুদেবপুর, মাদারপুর, গোপালপুর মিষ্টির দোকানের সামনে হিরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিলের কারবার চলে এছাড়া রাজাবাড়ী, প্রেমতলী হাসপাতাল এলাকা, রেলবাজার মনির হোটেল, কসাইপাড়া, মহিশালবাড়ী গরুরহাট, সুলতানগজ্ঞ, ফিরোজচত্তর, সুলতানগজ্ঞ, বাসুদেবপুর, পিরিজপুর, কুমুরপুর, মাদারপুর, শিবসাগর প্রভূতি এলাকায় অবাদে হোরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্নধরের মাদকসেবন, বেচাবিক্রিসহ ছোটবড় অপরাধ হয়। ওই স্থানে অভিযান ও মোবাইল কোর্টসহ মাদকব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।
মোঃ হায়দার আলী।
-

বানারীপাড়া বাল্যবিয়ে নিরোধ কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
এস মিজানুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি।। গতকাল সোমবার সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাল্যবিয়ে নিরোধ কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিতহয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডাক্তার অন্তরা হালদার। সভা আয়োজনকারী সংস্থা ব্র্যাকের জেলা প্রকল্পের সমন্বয়কারী জয়মালা’র উপস্থাপনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দীপিকা রাণী সেন, সাংবাদিক ও উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সম্পাদক এস মিজানুল ইসলাম, সহকারী সমাজ সেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, একডেমিক সুপার ভাইজর জয়শ্রী কর, বানারীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাকসুদা খানম প্রমূখ। সভায় ম্যারেজ রেজিষ্টার, শিক্ষকবৃন্দ বক্তৃতা করেন। সভায় ব্র্যাকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।#
-

মধুপুরে বনবিভাগ কর্মকর্তাদের সাথে আদিবাসীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে বনবিভাগ কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার ১৫ জুলাই দুপুরে কারিতাস আলোক-৩ প্রকল্প মধুপুর উপজেলা ময়মনসিংহ অঞ্চল এর আয়োজনে মধুপুর উপজেলার আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে বনবিভাগ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রসূলপুর জাতীয় উদ্যানের
সহকারী বনসংরক্ষক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ,সহকারী বনসংরক্ষক কর্মকর্তা ট্রেনী ইব্রাহিম সাজ্জাদ, সহকারী বনসংরক্ষক কর্মকর্তা (ট্রেনী), শাহিনুর আলম,রসূলপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মি. ইউজিন নকরেক, সিএমসি কমিটির সভাপতি ও মধুপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস যষ্ঠিনা নকরেক। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউ সি জি এম এর সভাপতি মি. অজয় এ মৃং। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সভাপতি গন সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। -

ধামা বিক্রয়ের সুখ্যাতি থেকেই ধামইরহাট নামের উৎপত্তি
আবুল বয়ান, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
ইতিহাস কোন খন্ডিত বিষয় নয়, প্রকৃত ইতিহাস একটি জাতিকে মেধা ও প্রজ্ঞা সম্পন্ন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নওগাঁ জেলার সীমান্তবর্তী ধামইরহাট উপজেলা। এই উপজেলার নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম বিশেষ আলাপচারিতায় জানিয়েছেন বিভিন্ন না জানা তথ্য-
তিনি বলেন, ‘ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ জনপদ আমাদের জন্মভূমি ধামইরহাট। অসংখ্য নদনদী খালবিল পরিবেষ্টিত শষ্য শ্যামলা কৃষি প্রধান এই এলাকা। প্রাচীনকালে কৃষিপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন কষ্টসাধ্য বিষয় ছিল। কালের বিবর্তনে আদিকালের প্রমত্তা নদী (বর্তমানের ঘুকসী খাল) তীরবর্তী এই স্থানে হাটটি গড়ে উঠে। দূর দূরান্ত থেকে বনিকের দল ছোট বড় নানা ধরনের নৌকায় রবিবার দিনের সাপ্তাহিক এই হাটের ক্রেতাদের জন্য দৈনন্দিন প্রয়োাজনীয় পন্য নিয়ে আসত। ব্যাবসায়িক লেনদেন শেষে বনিকেরা চাহিদামত হাজার হাজার মন ধান চাল সহ অন্যান্য কৃষি পন্য নিয়ে ফিরে যেত নিজ গন্তব্যে।
বলা বাহুল্য যে, উনিশ শতকের শেষ ভাগে সাঁওতাল বিদ্রোহের পর ইংরেজ সৈন্যদের ভয়ে বনজঙ্গলে পালিয়ে থাকা আদিবাসী মানুষেরা জীবন জীবিকার তাগিদে কৃষকের চাহিদা পূরণে বাঁশ ও বেতের ডালা, কুলা, চাঙারী, খইচালা, মাথল, ধামা, ডোল প্রভৃতি গৃহস্থালি উপকরণ তৈরিতে মনোনিবেশ করে কালক্রমে দক্ষ কারিগরের সুখ্যাতি অর্জন করে। অত্যন্ত সুন্দর ও মজবুত ধামা কিনতে দূর দূরান্তের ক্রেতারা ভিড় জমাতো এই হাটে।
প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতে দু’চারটে ধামার প্রয়োজন পড়তো আর অন্য সব পন্য লেনদেন করতেও ধামাই ছিল প্রধান অবলম্বন। এই ধামা কেনা বেচার রবিবার দিনের বিখ্যাত সাপ্তাহিক হাট থেকেই ধামইরহাট নামের উৎপত্তি হয়েছে।
বলা বাহুল্যই যে, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সরকার ও মুদ্রা ব্যাবস্থার ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে জনসাধারণ মুদ্রার পরিবর্তে পন্য বিনিময় ব্যাবস্থার উপর আস্থাশীল ছিল। এছাড়াও সেকালে পাটের বস্তা এবং ওজন পরিমাপের বাট খাড়ার ব্যাপক প্রচলন না থাকায় পন্য বিনিময় পদ্ধতিতে বেতের তৈরি ধামা, দোন ও কাটা’র কোন বিকল্প ছিল না।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, আমাদের উপজেলার নামের বিকৃত উচ্চারণ সকলকে কম বেশি লজ্জিত ও বিব্রত করে। কিন্তু এই বিষয়ে দায়িত্ব¡শীল মহলের কোন ভ্রূক্ষেপ নাই। এই বিব্রতকর অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে ‘ধামা’- কে সকলের সামনে তুলে ধরা হোক।
উদাহরণ স্বরূপ সিঙ্গাপুরে জাতির পূর্বপুরুষেরা ছিল দরিদ্র মৎস্যজীবী। তাদের অতীত ঐতিহ্যের স্মৃতির প্রতি সন্মান প্রদর্শণকল্পে সিঙ্গাপুরের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন ফটকে মৎস্যজীবীদের মাছের ঝুড়ি নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্র তাদের দরিদ্র পূর্বপুরুষের পেশা মৎস্যজীবীদের মাছের ঝুড়ি প্রদর্শন করে গর্বিত জাতির পরিচয় বহন করছে। আসুন আমরাও আমাদের ধামইরহাট নামের ঐতিহ্যের স্মারক ধামাকে স্বগৌরবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরি।’আবুল বয়ান ।।
-

অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কই খানাখন্দে ভরা দেড় লাখ মানুষের ভো*গান্তি চ*রমে
এস এম সাইফুল ইসলাম কবির .বিশেষ প্রতিনিধি:বাগেরহাট জেলা শহরের দেশের প্রথম শ্রেণির বাগেরহাট পৌরসভা অধিকাংশ সড়কই খানাখন্দে ভরা দেড় লাখ মানুষের ভোগান্তি চরমে । পৌরসভার ৭৮ দশমিক ৩০ কিলোমিটার সড়কের ৭০ ভাগই চরম ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এমন অবস্থায় ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে যানবাহনে চলাচল করতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
১৯৫৮ সালে ১৫ দশমিক ৮৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাগেরহাট শহর পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হয়। ১৯৯১ সালে উন্নীত হয় দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভায়। বাগেরহাট পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ১৭টি মহল্লায় বর্তমানে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করে। বাগেরহাট জেলা সদর হওয়ায় ৯টি উপজেলায় মানুষকে তাদের প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত এ শহরে আসতে হয়। বছরের পর বছর বাগেরহাট পৌরসভার ৭৮ দশমিক ৩০ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশই সংস্কার করা হয়নি।সরজমিন দেখা যায়, নূর মসজিদ মোড় থেকে এলজিইডি, রাহাতের মোড় থেকে চানমারী ব্রিজ, পুরাতন বাজার থেকে সম্মিলনী স্কুল, নূর মসজিদ থেকে সরকারি মহিলা কলেজ হয়ে হাড়িখালী মোড়, মুনিগঞ্জ-হাড়িখালী রোড যান চলাচলের অনুপোযগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও বাগেরহাট শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা, খারদ্বার, বাসাবাটী, শাহাপাড়া, দশানী, গোবরদিয়া, সোনাতলা, সরুই এলাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এর উপরে জলাবদ্ধতা। একটু বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় শহরের অধিকাংশ রাস্তা।
শহরের ইজিবাইক চালক আব্দুল জলিল বলেন, শহরের অধিকাংশ সড়ক এখন রিকশা, অটোরিকশা চলাচলের অনুপোযগী হয়ে পড়েছে। আগের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা অনেক কমে গেছে। না পারতে কেউ আর অটোতে উঠতে চায় না। সড়কে বের হলেই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। অটোরিকশা প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে। তারপরেও পেটের টানে বাধ্য হয়ে অটো চালাচ্ছি। মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী সুমন শেখ বলেন, আমি সদর উপজেলার কাড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। জরুরি প্রয়োজনে প্রতিদিনই শহরে আসতে হয়। কিন্তু রাস্তাঘাটের যে অবস্থা তাতে রিকশা, ইজিবাইক তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাফেরা করতেও কষ্ট হয়। বিষয়টি বলারও কেউ নেই, দেখারও কেউ নেই। নরসুন্দর সুনীল বলেন, দু’দিন আগেও এই ভাঙা রাস্তায় ভ্যান উল্টে পড়ে গিয়ে এক গর্ভবতী নারী আহত হয়ে হাসপাতালে গিয়েছে। এমন দুর্ঘটনা এই সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে। রাস্তাঘাট খারাপ হওয়ার কারণে আমার সেলুন ও আশপাশের দোকানগুলোতে কাস্টমারও কমে গেছে। আমরা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই।
বাগেরহাট বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি তালুকদার আব্দুল বাকী বলেন, বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পৌরসভার আওতাধীন। কিন্তু দুঃখের বিষয় দীর্ঘদিন কোনো প্রকার সংস্কার কাজ না করায় টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। আমরা মালিক সমিতি সমস্যা সমাধানে একাধিকবার ইট, বালি দিয়ে ভাঙা স্থান মেরামত করেছি। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার ভাঙা অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে খারাপ অবস্থায় থাকা সড়কগুলো নিয়ে মিডিয়ার সামনে কথা বলতে চান না পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান। তবে দ্রুতই পৌরসভার প্রধান ১১টি সড়কসহ ভাঙাচুরা সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি। -

রাজশাহীর চারঘাটে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর চারঘাটে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদা খানম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুল হাসান মামুন, পৌর মেয়র একরামুল হক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ আহমেদ লনি, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জমেলা বেগম, চারঘাট মডেল থানার (ওসি) এ এস এম সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান আলমাছ, সরদহ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাসানুজ্জামান মধু, উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা, বাশিস চারঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি ইমদাদুল ইসলাম, চারঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবীদের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে তাই মাদক প্রতিরোধে সকলকে সহযোগিতার আহবান জানান।এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনাকরা হয়।
মোঃ মোজাম্মেল হক
চারঘাট, রাজশাহী।